সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রামকিঙ্কর বেইজ এর জন্মদিন

রামকিঙ্কর বেইজ এর জন্মদিন -

রামকিঙ্কর বেইজ ২৫ মে ১৯০৬ সালে আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেন বাঁকুড়ার যুগীপাড়ায়। তিনি ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি ভাস্কর। তিনি আধুনিক ভারতীয় ভাস্কর্যকলার অন্যতম অগ্রপথিক ছিলেন। রামকিঙ্কর ছিলেন প্রথম ভারতীয় শিল্পী যিনি আধুনিক পাশ্চাত্য শিল্প অধ্যয়ন করে সেই শৈলী নিজের ভাস্কর্যে প্রয়োগ করেন। 

রামকিঙ্কর পোস্টার, থিয়েটারের সিন ,এমনকি পুতুল তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। চরম দারিদ্রের সাথে লড়াই করেছেন তিনি। বিশিষ্ট সাংবাদিক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের নজরে পড়েন তিনি। তাকে নিয়ে আসা হয় শান্তিনিকেতনের কলাভবনে। ১৯ বছরের রামকিঙ্করের কাজ দেখে মুগ্ধ হন নন্দলাল বসু। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে নন্দলালের ছাত্র হয়ে রামকিঙ্কর ঢুকলেন শান্তিনিকেতনের কলাভবনে থাকলেন একটানা ৪৬ বছর। অবসর নেন ভাস্কর্য বিভাগের প্রধান হয়ে।

রামকিঙ্করের ভাস্কর্য গুলি আকৃতিতে বেশ বড়। তিনি চোখের সামনে যা দেখেন তাই হয় মডেল। তার উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্য হল সাঁওতাল রমণী, সাঁওতাল পরিবার ,গান্ধীজি ইত্যাদি। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তি বানিয়েছিলেন। তাকে ভারতীয় শিল্পে আধুনিকতার জনক ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী মনে করা হয়। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পদ্মভূষণ উপাধি লাভ করেন।
মধ্যকৈশোরে রামকিঙ্কর অসহযোগ আন্দোলনে বা নন্- কোঅপারেশন (ইংরেজিতে) অংশগ্রহণকারী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ছবি আঁকতেন। মেট্রিক ক্লাস (বর্তমানে যা মাধ্যমিকের সমতুল্য) পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর ষোলো বছর বয়সে তিনি বাঁকুড়ার বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং প্রবাসী পত্রিকার সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের নজরে পড়ে যান। তিনি তাঁকে শান্তিনিকেতনে নিয়ে আসেন। 
চার বছর পরে তিনি শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বভারতী বিদ্যালয়ে চারুকলার ছাত্র হিসেবে যোগ দেন। আচার্য নন্দলাল বসু ছিলেন তার শিক্ষক। রমেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায় প্রমুখকে সহপাঠী হিসাবে পেয়েছিলেন। চারুকলায় ডিপ্লোমা অর্জন করে তিনি বিশ্বভারতীর ভাস্কর্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের পদে বৃত হন। ১৯৭১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী জহর দাশগুপ্ত, শঙ্খ চৌধুরী ছিলেন তার ছাত্র।
এই বিখ্যাত মানুষের জীবন কাহিনী নিয়ে তার জীবনকথা নিয়ে সাহিত্যিক সমরেশ বসু (কালকূট) 'দেখি নাই ফিরে' নামে বৃহদায়তন উপন্যাস রচনা করেন। যার চিত্রাংকন করেছিলেন শিল্পী বিকাশ ভট্টাচার্য। সেই দেখি নাই ফিরে তে রামকিঙ্কর এর চরিত্র চিত্রায়ন করেন লেখক সমরেশ বসু। নতুন রূপে নতুন ভাবে উপস্থাপিত হন সেই ভুবনডাঙার কিঙ্কর। যার মুখের সেই হাসি মাখা মুখ দেখে বোঝার উপায় নেই যে হাজার দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণাকে নিয়ে তিনি বেঁচে আছেন শিল্পের নেশায় বুঁদ হয়ে।
ভুবনডাঙার সেই কিঙ্কর। রামকিঙ্কর বেইজ। যার কাছে খড় কেনার পয়সা নেই, তাই ঘরের ভাঙা চাল ঢাকতেন তিনি নিজের তৈরি ক্যানভাসে। এমন মানুষের হাতেই তৈরী হয়েছে অসধারণ সব ভাস্কর্য। একবার তো তাঁর তৈরি এক মুর্তি নিয়ে তুলকালাম শান্তিনিকেতনে। তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং। কবির ডাক পেয়েই কিঙ্করের মনে হয়েছিল, এই বুঝি তাঁকে শান্তিনিকেতনের ছেড়ে যেতে হবে এইবার। বড়ো গন্ডগোল কিছু করে ফেলেছেন তিনি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জিজ্ঞাসা করলেন, কিসের মুর্তি এটি। চুপ করে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। তারপর ধীর স্বরে বললেন আমার স্বপ্নে এসেছিল এই মুর্তি তাই গড়েছি আমি। কবির কথায় এটা যেনো একটা মেয়ের মুর্তি দেখছি, মুখটা একটু নামানো। কিঙ্কর চুপ করে দাঁড়িয়ে আছেন কি বলবেন তিনি। ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে তার। মুখে কোনো কথা নেই। মেয়েটি যে চুমো খাচ্ছে। 
কিঙ্করের কানে বাজছে মাস্টারমশাই নন্দলালের সেই কথা।— ‘‘রাতের স্বপ্নগুলোকে মনে রেখো কিঙ্কর। ভুলে যেও না। তেমন হলে, স্বপ্ন ভেঙে গেলে, উঠে স্বপ্নের কথা লিখে রাখবে। কোনও স্বপ্নই ভুলে যেও না। স্বপ্নে ছবি আসে কিঙ্কর, প্রতিমা আসে। স্বপ্ন আঁকবে!’’ সেতো তার স্বপ্নে আসা সেই মেয়ের মূর্তি গড়েছে। তাহলে এত হৈ চৈ কেনো এই মুর্তি নিয়ে। রবীন্দ্রনাথ একদিন ভোরবেলায় নিজেই সেই মুর্তি দেখে এলেন তিনি। কিন্তু কিছুই আর বললেন না তিনি তার আদরের কিঙ্করকে। 
বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী, দেশ পত্রিকার প্রাক্তন  সম্পাদক সাগরময় ঘোষ লিখেছেন সেই কথা, ‘‘রবীন্দ্রনাথ রামকিঙ্করকে ডেকে বললেন, শোন, কাছে আয়। তুই তোর মূর্তি আর ভাস্কর্য দিয়ে আমাদের সবখানে ভরে দে। একটা শেষ করবি আর সামনে এগিয়ে যাবি— সামনে।’’ এর পর আর কখনও ফিরে দেখেননি কিঙ্কর। হাওয়ার উজানে এগিয়েছেন তিনি। আর এগোতে গিয়েই নিয়ত তাঁকে দুঃখ-দহনে পুড়তে হয়েছে! তবু তিনি একের পর সেই অনন্য ভাস্কর্য সৃষ্টি করে গেছেন।এই হলো রামকিঙ্কর বেইজ যিনি নিত্য নতুন তৈরি করেছেন সেরা সেরা শিল্প।
 খুব অল্প বয়সেই রামকিঙ্কর মূর্তি গড়া শিখেছিলেন কুমোরপাড়ার অনন্তজ্যাঠাকে দেখে দেখে। দু’চার আনার বিনিময়ে নিষিদ্ধ পল্লির রমণীদের মূর্তি গড়তে গড়তেই তাঁর ভাস্কর্যের এই সহজপাঠ। এই সময়ই স্বদেশি মেলায় তেল রঙে জাতীয় কংগ্রেসের পোস্টার এঁকেও হাত পাকিয়েছেন তিনি। শিল্পের প্রতি অপার নিষ্ঠার মনটি সেই তখনই তৈরি হয়ে গিয়েছিল তাঁর ছোটোকাল থেকেই।
১৯২৫-এ বাঁকুড়ার যোগীপাড়া থেকে ম্যাট্রিক না দিয়েই ‘প্রবাসী’ পত্রিকার সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে শান্তিনিকেতন চলে এলেন কিঙ্কর। পিছনে পড়ে রইল বাঁকুড়ায় তাঁর বাল্যস্মৃতির গাঁ-ঘর, দারিদ্রে দীর্ণ‎ পরিবার-পরিজন আর কাদামাটির সেই কুমোরপাড়া। যেখানে তাঁর শিল্পের হাতে খড়ি। 

শান্তিনিকেতনের কলাভবনে তাঁর কাজের নমুনা দেখে নন্দলাল প্রথম দিনই বললেন, ‘‘তুমি সবই জানো, আবার এখানে কেন?’’ একটু ভেবে তারপর বলেন, ‘‘আচ্ছা, দু-তিন বছর থাকো তো।’’ সেই থেকে গেলেন কিঙ্কর। নাগাড়ে সাড়ে পাঁচ দশক শান্তিনিকেতনে কাটিয়ে মৃত্যুর কিছু দিন আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘‘সেই দু-তিন বছর আমার এখনও শেষ হল না!’’
কলাভবনে কিঙ্করই প্রথম অয়েলে কাজ করেছেন। সে নিয়েও বিতর্কের শেষ ছিল না। প্রথমে আপত্তি করলেও পরে নন্দলাল মেনে নেন ছাত্রের যুক্তি। রামকিঙ্কর রঁদা, সেজান ও পরবর্তী কিউবিস্ট ছবির সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। তাঁর কাজে কিউবিস্ট প্রভাব নিয়েও নন্দলালের সঙ্গে বিরোধ ছিল কিছুটা। সে বিরোধ‎ মিটেও যায় পরে।

রং-তুলি-কাঁকড়ে কাজ শিখতে শিখতে একদিন কলাভবনের পাঠ শেষ হল। শুরু করলেন স্বাধীনভাবে শিল্পের সাধনা। স্বপ্ন থেকে আসা সে সব সৃষ্টির উল্লাসে, মিশিয়ে দিলেন নিজের গোপন-গহন উল্লাস!
নিত্য ভাঙা-গড়ার খেলায় তাঁর সহজিয়া জীবন নিয়ে ক্রমশই জলঘোলা হল শান্তিনিকেতনে।

একবার, দিল্লি যাওয়ার পথে এক আদিবাসী রমণীর যৌবনের দুর্মর আহ্বানের কাছে নতজানু হয়ে তাঁর সঙ্গে নেমে গেলেন অজানা স্টেশনে। হারিয়ে গেলেন যেন। কোনো খবর নেই বহুকাল! হঠাৎ করে শান্তিনিকেতনে এসে পৌঁছল ঠিকানাবিহীন এক টেলিগ্রাম।

 তাতে কিঙ্কর জানালেন, ‘I lost myself, search myself.’ এই হলেন শিল্পী রামকিঙ্কর। যার জীবনের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে নানা কাহিনী। রতনপল্লীর সেই ভাঙাচোরা ঘরে হাজারো সৃষ্টি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এদিক ওদিক। অগোছালো জীবন, অগোছালো ঘর। শুধুই শিল্পী রামকিঙ্কর সৃষ্টির নেশায় বুঁদ হয়ে আছেন ওই ভাঙা ঘরের ভেতর। 

’৭৫ সাল। ঋত্বিক ঘটক শান্তিনিকেতন গিয়ে ১৬ মি.মি. রঙিন একটি তথ্যচিত্র করলেন কিঙ্করকে নিয়ে। অসুস্থ, তবু গেলেন তিনি। প্রতি ফ্রেমে নিজের মতো করে ভেঙেচুরে দেখালেন ভাস্করকে। গোড়ার দিকে একটি ফ্রেমে ক্লোজআপে দেখা গেল বুদ্ধের মুখ। ব্যাকড্রপে পাখোয়াজ।

একটু পরেই ফ্রেমে ঢুকল অদূরে ক্ষীণ কটি, দীর্ঘাঙ্গী বনবালা— সুজাতা। ইউক্যালিপটাসের ছায়া সুনিবিড় পথে মাথায় পায়েসের রেকাব নিয়ে সে যেন হেঁটে চলেছে ধীরে ধীরে।

মাদল আর বাঁশির আবহে কোপাই নদীর ধারে আদিবাসী গ্রাম, অনম্র বুক— সুঠাম আর ভারী কোমরের সাঁওতাল মেয়ে— ফ্রেমের পর ফ্রেমজুড়ে ঋত্বিক যেন কিঙ্করের রোদছায়া মাখা আদুল ক্যানভাস এঁকে চলেছেন। একটি ফ্রেমে ধরা দিলেন দুই শিল্পী এইভাবেই। তাঁর সাদা কালো জীবনের মতই ঋত্বিক ঘটক ধরে রাখলেন এই শিল্পীকে তাঁর ক্যামেরায়।

নারী পুরুষের জীবন। জীবনের সাথে মিশে যাওয়া। যেখানে যৌনতা ছাড়া আর কি কিছু আছে। ভালোবাসা না যৌনতা কোনটা বেশি দরকার। রামকিঙ্কর এর কথায়, তাঁর জীবন দর্শনে যৌনতা জীবনের অন্যতম আকর্ষণ। একে বাদ দিয়ে কিছুই হয় না। না জীবন। না শিল্প সৃষ্টি। 

তাই বার বার তাঁর জীবনে বহু নারী এসেছে। সে কলাভবনের ছাত্রী থেকে শুরু করে বহু আদিবাদী নারী। শেষ জীবনে সেই রাধা তাঁর সাথে থেকে যায়। যা নিয়ে অনেক আপত্তি উঠেছিল বিশ্বভারতীর তরফে। কিন্তু তিনি কোনো দিন এসব নিয়ে মাথা ঘামান নি। রাধা তাঁর কাছে থেকে যায় শেষ জীবনে অবিচ্ছেদ্য ভাবে। কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় এর সাথেও তাঁর ছিল গভীর বন্ধুত্ব।
আর মৃত্যু সম্পর্কে তিনি ছিলেন সব সময়ই বড়ো উদাসীন। একজন শিল্পী যতক্ষণ সৃষ্টির নেশায় মাতাল হয়ে থাকেন, ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যু কোনও ভাবেই তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না এটাই ছিল তাঁর কথা। তাই তিনি বলতেন আমার কেউ নেই। আমার সবাই মারা গেছে বাবা, মা, দাদা, বোন। জীবন আর মৃত্যুর এই যুদ্ধকে তিনি এইভাবেই দেখতেন। রবীন্দ্রনাথেরও পোর্ট্রেট করছিলেন তিনি। তাঁর এই সৃষ্টি ছিল অসাধারন।

রামকিঙ্কর শেষ বয়সে একদম বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। আঁকতে পারেন না। হাত চলে না আর। শরীরে আর সেই ক্ষমতা নেই মুর্তি গড়ার। চোখে দেখতে পান না আর ভালো করে। কিন্তু সেই সময় তিনি বিড় বিড় করে বলতেন আমি মনে মনে আঁকছি। হ্যাঁ, সেই মনেই মনেই স্বপ্নে আসা ছবি আঁকতেন তিনি শেষ বয়সে। আর আপনমনে হাসতেন এই ভবভোলা মানুষটি।

 রবীন্দ্রনাথের মতো রামকিঙ্করও চাননি শেষ সময় কলকাতায় চিকিৎসার জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়া হোক। কিন্তু তাঁকেও নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতায়। যাবার সময় তিনি বলেছিলেন আর ফিরবেন না এই শান্তিনিকেতনে কোনো দিন। সেটাই সত্যি হলো ১৯৮০ সালের ২৩ শে মার্চ তাঁকে পি জি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি প্রোস্টেট গ্রন্থির রোগে ভুগছিলেন। ২ আগস্ট, ১৯৮০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 
শেষ হলো এক শিল্পী জীবনের অধ্যায়। শিল্পী রামকিঙ্কর বেইজ বেঁচে থাকবেন সারাজীবন। তাঁর অনন্য শিল্প সৃষ্টির মধ্য দিয়ে। আজকের দিনে তাঁর জন্মদিনে এই শ্রদ্ধাঞ্জলি। 

রামকিঙ্কর বেইজ এর জন্মদিন - অভিজিৎ বসু।
পঁচিশে মে, দু হাজার চব্বিশ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জয় মা মঙ্গলচন্ডী

মা মঙ্গলচণ্ডী, যাঁহার নাম মধুর ও মনোহর, যাঁহার হস্তে বর ও অভয় মুদ্রা, যিনি দ্বিভুজা ও গৌরবর্ণা, যিনি রক্তপদ্মাসনে উপবিষ্টা ও মুকুট দ্বারা উজ্জ্বলরূপে ভূষিতা, যিনি রক্তবর্ণ কৌষেয় (চেলির) বস্ত্র পরিধান করিয়া আছেন, যিনি সহাস্যবদনা, সুন্দরাননা ও নবযৌবনা, যিনি সুন্দরাঙ্গী ও মধুর লাবণ্যযুক্তা, তিনিই হলেন দেবী মঙ্গলচণ্ডী। বিশ্বের মূল স্বরূপা প্রকৃতিদেবীর মুখ হ’তে মঙ্গলচণ্ডী দেবী উৎপন্না হয়েছেন। তিনি সৃষ্টিকার্য্যে মঙ্গলরূপা এবং সংহারকার্য্যে কোপরূপিণী, এইজন্য পণ্ডিতগণ তাঁকে মঙ্গলচণ্ডী বলিয়া অভিহিত করেন।” “দক্ষ অর্থে চণ্ডী এবং কল্যাণ অর্থে মঙ্গল। মঙ্গলকর বস্তুর মধ্যে দক্ষ বলে তিনি মঙ্গলচণ্ডী নামে প্রসিদ্ধ। প্রতি মঙ্গলবারে তাঁহার পূজা বিধেয়। মনু বংশীয় মঙ্গল রাজা নিরন্তর তাঁহার পূজা করিতেন।” জৈষ্ঠ্যমাসের প্রতি মঙ্গলবারে মা চণ্ডীর আরাধনা করা হয় বলে এই ব্রতের নাম মঙ্গলচণ্ডী ব্রত। জীবনে শ্রেষ্ঠ মাঙ্গল্যের প্রতিষ্ঠার জন্যই এ ব্রতের অনুষ্ঠান। মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের নানা রূপ আছে। কুমারীরা যে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের আচরণ করে, তা অতি সহজ ও সংক্ষিপ্ত। দেবী অপ্রাকৃত মহিমার প্রশস্তিগীতি ব্রতের ছড়ায় এস...

সজল গ্রাম হলো মহুলী

গ্রামের নাম মহুলী। বোলপুর থেকে মেরে কেটে পাঁচ কিলোমিটার হবে। সিয়ান গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এই গ্রাম। এমন মিস্টি নামের গ্রাম শুনে ইচ্ছা হলো কিছু লেখার। কিন্তু কি লিখবো। গ্রামের কথা আর নতুন করে লেখার কি আছে। এই সুজলা সুফল শস্য শ্যামলা গ্রাম তো সব এক রকমের। তাহলে মহুলী গ্রাম যা আবার বের গ্রামও তাই। আবার ইকড়াও একই ধরনের গ্রাম।   সেই সবুজ মাঠ। সুন্দর মন ভালো করা ক্ষেত। আলু বোনা হয়েছে মাঠে। সর্ষে ক্ষেতের হাসি মাখা মুখ। কেমন পুকুরের কালো টলটলে জল। সবই তো এক রকম ফারাক আর কোথায়। আর এই মহুলী গ্রামে মাত্র একশো ঘরের আদিবাসীর বাস। তারা সবাই চারটে পাড়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে এদিক ওদিক জড়াজড়ি করে বাস করছে মংলা, টুসুরাণী, রতন হাঁসদা, কালু সোরেন থেকে শুরু করে আরও অনেকেই। তাহলে নতুনত্ব তো কিছুই নেই। এই সব দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের জীবনে কোনও নতুনত্ব আর কোনো বিশেষত্ব নেই। গ্রামের মিঠে বাতাস গায়ে মেখে, শীতের উত্তুরে হাওয়ায় কাঁপন অনুভব করেই দিন কাটে এদের।  কিন্তু আজ যেন দুপুর থেকেই কেমন সাজ সাজ রব মহুলী গ্রামের বাসিন্দাদের। গ্রামের মাঠের ধারে যেতে...

হতাশার জীবন ও তিতাসের গল্প

শিবুদাই একমাত্র ভরসা। আপনার জীবনের হাজার সমস্যার সমাধান করতে পারবেন পাড়ার শিবুদা। আপনার হতাশার জীবন। আপনার সন্দেহের জীবন। আপনার মোবাইল ফোনের আসক্তির জীবন। বউ এর কাছে গাল খাওয়ার জীবন, প্রেমিকার কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠার চমকপ্রদ সুন্দর মসৃণ তেল চকচকে জীবন, শুধুই দৌড়ে বেড়ানো আর ছুটে বেড়ানোর জীবন। যে জীবনে শুধুই পিছিয়ে যাওয়া নয় একদম সঠিক ভাবে সঠিক পথ ধরে এগিয়ে যাওয়া আর কি।  আর সেই সব কিছুর পরেও যদি কাজ না হয় , হতাশা না কাটে, সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে অর্থ মূল্য ফেরত দেওয়ার সদর্পে ঘোষণা। রাস্তায় পুরোনো দেওয়ালে, ট্রেনের কামরায়,বন্ধ সিনেমার টিকিট কাউন্টারের গায়ে, রেলের টিকিট কাটার সেই ছোট্টো ঘুলঘুলির মাঝে কেমন ঝুলে থাকে এই সব কিছুই বাঁকা চাঁদের নরম আলো গায়ে মেখে চুপটি করে কিছুটা একা একাই।  চোখে পড়ে যায় আমার আপনার সবার। আর ঠিক তখনই বুকের মাঝে চেপে বসে হতাশার খানাখন্দে ভরা সংসার আর তার ক্যাঁচড় কোঁচড় মৃদু আওয়াজ। চোখের সামনে ঝুলে থাকা বিজ্ঞাপন দেখে মনে মনে শিবুদাকে খুঁজি আমি আকুল হয়ে। যে আমার জীবনের সব সমস্যার সমাধান করতে পারে এ...

ফিরে এলো সেই গ্রাম

সবুজ গ্রাম, সবুজ বাংলা,বেশ চোখের দৃষ্টিতে আরাম এনে দেয় আমাদের। শহুরে জীবনের ছোঁয়া ছেড়ে গ্রামের সহজ সরল অনাড়ম্বর জীবনের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে গভীর ভালোবাসা, মমত্ব বোধ। চেনা মানুষদের থেকেও অচেনা অজানা মানুষরা কত অল্প সময়ে কাছের মানুষ হয়ে ওঠে। আসলে শহুরে স্বার্থপর জীবনের মোরাম রাস্তায় দিন যাপন করে ক্লান্ত আমি, শেষ জীবনে তাই গ্রামেই ফিরতে চাই আমি। মিশতে চাই সহজ সরল করে গ্রামের মানুষের সাথে।  যে মানুষদের সাথে জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়ে। কর্ম জীবনের বহু বছর কাটিয়েও তাদের বুঝে উঠতে পারলাম না, ঠিক করে চিনতে পারলাম না আজও। সেই সব মানুষদের থেকে দূরে, অনেক দূরে সরে গিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে চাই। যে স্বপ্ন দেখে আচমকা মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে উঠে বসতে হবে না আর আমায়। বেশ সুখ নিদ্রা দিয়ে সকালে ঘুম থেকে আড়মোড়া ভেঙে উঠে আলু ক্ষেত দেখা যাবে মাথা ঘুরিয়ে। মাঠের মাঝে সর্ষে ফুল এর মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে থাকা দেখে সকাল গড়িয়ে দুপুর হবে। আদিগন্ত বিস্তৃত ধানের সবুজ ক্ষেতকে দেখে ভালবেসে সন্ধ্যার মেঘমালাকে বুকে চেপে রেখে আবার ঘুমোতে যাওয়ার কথা ভাবতে পারবো আমি নিশ...

খেজুরির সেই বিখ্যাত সাংবাদিক

বাংলা মিডিয়ার সেই বিখ্যাত সাংবাদিক কখনও কাগজে আবার কোনো সময় টিভিতে দেখা যায় তাঁকে। আবার কোনো সময় খেজুরির গ্রামে ঘুরতে দেখা যায় জল জঙ্গল নদী পেরিয়ে হাসিমুখে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র এর মন্দিরে সাদা ফতুয়া পড়ে। আবার কোনো সময় নবান্নে আর কোনোও সময় ধর্মতলায় অনশন মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে লাইভ করতে দেখা যায় তাঁকে হাসিমুখে।  সেই খেজুরি টু বর্তমানের সেই সাদা বাড়ী। সেই খেজুরি টু সেক্টর ফাইভের কলেজ মোড় এর সেই বিখ্যাত এনকে বাংলার অফিস। সেই বর্তমান থেকে উত্তরবঙ্গে ট্রান্সফার হয়ে যাওয়া সেই বিখ্যাত সাংবাদিক। আর সেই গৌহাটির নতুন চ্যানেল একদিন আসার আগে কোথা থেকে আমার নম্বর নিয়ে ফোন করা আমায়। আর সেই গৌহাটির চ্যানেলে কাজ করতে পারে এই কথা ভেবে মালিকের সামনে তাঁকে ইন্টারভিউতে হাজির করিয়ে দেওয়া আমার। তারপর হাসতে হাসতেই চাকরি হয়ে যাওয়া তাঁর।  বেশ ভালই লাগলো আমার একজনকে বাইরে যেতে হলো না আর পরিবার ছেড়ে। যেমন অনেক পরিচিত জন কাজ পেয়েছে সেই ভাবেই কাজ হয়ে যাওয়া তাঁরও। আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় সেই আমার আঁকিবুঁকি ব্লগে সেই বিখ্যাত সাংবাদিক...