সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

যা দেখি…প্রতিদিন মনে পড়ে কত… স্মৃতির পথ ধরে হাঁটি… লিখি…

সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

বসন্তে বন্দী দোল

চারিদিক জুড়ে শুধুই লাল, সবুজ, নীল, এর গা ঘষাঘষি করে জড়িয়ে থাকা আর জুড়ে থাকা আর লেপ্টে থাকার এক উৎসব চলছে জোর কদমে। কাঁচের জানলায় ঠক ঠক করে রোজ ভোরে আসা সেই বুলবুলি পাখিটা। আনমনে উচাটন হয়ে কাকে খোঁজে ও কে জানে এই বসন্তের হিমেল ভোরে একা একাই চলে আসে সে প্রতিদিন। সেই বুলবুলিতে ধান খেয়ে যায় গান শুনে ঘুমিয়ে পড়ে শিশু মায়ের কোলে নিশ্চিন্তে, নিরাপদে।  সেই বুলবুলির ধান খাওয়ার দিন শেষ হয়েছে কবেই। ফেসবুকের দুনিয়ায় আজ শুধুই চিত্রায়িত রঙের হুল্লোড় আর রংবাজির ছবি ধরা পড়ে চারিদিক জুড়ে। শুধুই দেখনদাড়ির মিষ্টি অন্তরঙ্গ বহিঃপ্রকাশ।  সেই পলাশের পদাবলী মাখা গান, সেই ঘেঁটু ফুলের গন্ধ, বাঁশ পাতার সরসর আওয়াজ,সেই চাঁদের আলোর মিস্টি নরম রূপ আর চেনা মেয়ের অচেনা রঙিন রূপ দেখে মনটা বড্ড ভালো লাগে যে এই বসন্তের দুপুরেও। আজ যে রঙিন হবারই দিন। আজ যে রাঙিয়ে নেবার দিন।  আর তারপরেই তো শুরু হবে যুদ্ধ, একদিকে সেই বিদেশে আকাশপথে চলেছে যুদ্ধ আর একদিকে সেই আবার ক্ষমতায় ফেরার যুদ্ধ দেশের মাটিতে। দুই যুদ্ধের গা ঘষাঘষি চলে জোর কদমে এই রঙের দিনেও।  একদিকে পরিবর্তনের ডাক অ...

সেই বাড়ীর আমগাছ

কিছু ছবি আর কিছু মুহূর্ত জীবনের সবচেয়ে সাদা জীবনের কালো কথাকে মনে করিয়ে দেয় আমায়। জীবনের মেঠো পথে আঁকিবুঁকি দাগ কেটে যায় সে জলছবির মতই। যে দাগ সেই দূরের আকাশে চাঁদের নরম আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে গ্যালাক্সির পথ পেরিয়ে হাজার হাজার আলোকবর্ষের দূরত্ব পার করে এই ধূলিধুসর পাগলামি করা জীবনে এসে পৌঁছে যায় আচম্বিতে। আজকাল এই বসন্তের একটা অদ্ভুত মায়াময় গন্ধ বয় যেনো চারিদিকে। ওই যে কী একটা গান আছে না, ধীরে ধীরে ধীরে বয়, সে যে উতল হাওয়া। যে উতল হাওয়ায় বনানীতে যে মিস্টি গন্ধ বয় বেশ নাকে লাগে আমার এই বুড়ো বয়সেও বসন্তের উতল হাওয়া। বহুদিনের পর বাড়ী যাওয়া আমার। আসলে এই ফাঁকা মা হীন বাড়ীতে যেতে আর ভালো লাগে না একদমই আমার। আজকাল তাই ঘর ছেড়ে দূরে থাকা আমার। সেই মায়াময় ভালবাসা আর দু চোখের প্রশ্রয়ে বড় হয়ে যাওয়ার স্মৃতির মাটির গন্ধ আজ কেমন পানসে লাগে আমার এতদিন পড়ে ঘরে ঢুকেই। সেই অগোছালো কাঠের চৌকি, সেই ফাঁকা ঘর। সেই শুধুই ছবি আর ছবির ভীড় চারিদিক জুড়েই তাকিয়ে আছে আমার দিকে যেনো কেউ। কার নির্বাক চাওনি আমায় গিলে খেতে চায় যেনো। আর বাড়ি গেলেই আমি এই মায়ের প্...

টিনের নৌকো দর্শন

কদিন আগেই শ্রীরামপুরে ক্ষেত্র শা এর মেলায় গিয়ে ঘুরতে ঘুরতে সেই ছোটবেলার টিনের ভটভটি নৌকা না দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেছিলো আমার বেশ। সেকথা আমি লিখেছি আমার আগের লেখায়। হারিয়ে গেছে সেই ছোটবেলার স্মৃতি এই গলিপথে সেই ছবির কথা লিখে বেশ মন খারাপ হয়েছিলো আমার। কিন্তু আমার লেখা পড়ে সেই উত্তম বাবু, উত্তম সাহা এই ক্ষেত্র মোহন সাহা বাড়ীর একজন প্রতিনিধি মেলার অন্যতম আয়োজক তিনি সেই টিনের নৌকা দেখতে পেয়ে আমায় মোবাইল ফোনে তার ছবি তুলে পাঠিয়ে দেন। বলেন আপনার সেই টিনের নৌকো এসেছে মেলায় পাওয়া যাচ্ছে।  এই কথা শুনে আবার আমার মেলায় যাওয়া। ওনার কথা মত সেই নৌকোকে খুঁজে পাওয়া। মাটির উপর একটি গামলায় জলের উপর ভেসে বেড়াচ্ছে সে আপন মনে। সেই চেনা আওয়াজ আর সেই চেনা স্মৃতির ঝাপটা গায়ে মেখে নিলাম আমি আলতো করে চাঁদনী রাতের সন্ধ্যা বেলায়। ছবি তুলে নিলাম আমি। দাম করলাম কত। দোকানদার বললেন গম্ভীর গলায় পঞ্চাশ টাকা তো বটেই। কম হবে না দাম একদম। শুনে একটু থমকে গেলাম আমি আর আমার শৈশব। আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে কত আর দাম ছিলো এই টিনের ভুটভুটি নৌকোর। পাঁচ টাকা হবে কী নাকি আ...

ভোট আসছে বঙ্গে

বসন্ত এসেছে সাথে ভোট আসছে। শাসক দলের ড্রপবক্স ভরছে প্রার্থী হতে আবেদন করে। পাড়ায় পাড়ায় নেতারা বেরিয়ে পড়েছেন সবাই হাসি হাসি মুখ করে হাতজোড় করে সেজে গুজে তিনি যে ভাতার লাইনে নয় ভোটের লাইনে আছেন সেটা জানাতে। কেউ রাস্তায় বেড়িয়ে পাড়া বৈঠক করে বলছেন মশা কামড়ায় তাদের মানে মশাদের তো এখানে হাতির মত শুড় যেনো, কী অবস্থা ভাবুন পরিষ্কার হয়না একদম নালা আর নর্দমা। কেউ জেল থেকে বেড়িয়ে গম্ভীর মুখে বলছেন ভোটের আগে ভাতা দেওয়াটা ভালো কাজ কিন্তু কর্মসংস্থান এর দরকার আরও বেশী রাজ্যে। যদিও একসময়ে তিনিই শিল্প মন্ত্রী ছিলেন বটে আর কেউ বলছেন আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দিন কিন্তু আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন ঘরে বসে থাকবেন না আপনারা বিজেপির নতুন সভাপতির গলায় এ এক অন্য কবিতার সুর যেনো।  আর এর মাঝেই বিধায়কের কাজে কতটা খুশী বলে হাতের মোবাইল ফোনে মেসেজ ভেসে ওঠে আশ্বিনের শারদ প্রাতে সেই মাঝরাতে। বিধায়কের হাসি সুন্দর মুখ। হয়তো ছবি এ আই এর তৈরী করা ছিল সেটাও। ঝকঝকে গ্রাফিক্স এর কার্ড। যাঁকে সামনে দেখলে এতটা সুন্দর ঝকঝকে তকতকে দেখায়না একদম। বেশ এই তিনটি মাস ভালো কাটবে কিন্তু...

মুকুলদা ভালো থাকবেন

ভোররাতে মোবাইল এর মাধ্যমে জানতে পারলাম তিনি আর নেই। সেই বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য সেই মুকুল রায় দীর্ঘ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর তিনি মারা গেলেন। সেই খবর পেলাম এই ভোরবেলায় মোবাইল ঘাঁটতে ঘাঁটতেই। বাংলায় এর মধ্যে সেই তাঁর চলে যাবার খবর দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। একটা ইতিহাস এর শেষ হলো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের আন্দোলন। মমতা আর মুকুল রায় এর জুটি। তারপর সেটা ভেঙে যাওয়া। আর এই বাংলায় সেই একজন এর ক্ষমতার উচ্চ শিখরে পৌঁছে যাওয়া শুধুই নিজের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করে।  জেলার প্রতিটা কোণে তাঁর নিজের লোক তৈরি করে সিপিএমের সাথে টক্কর দেওয়ার সেই কারিগর আজ আর নেই। সেই রেলমন্ত্রী মুকুল রায়। সেই মুখে হাসি লেগে আছে তাঁর। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী। সেই ভীড় উপচে পড়ছে তাঁর গাড়ীর সামনে। আর শেষের কটি দিন খুব কষ্টে কাটলো তাঁর। ২০২৬ এর নির্বাচনের আগেই তাঁর চলে যাওয়া। তৃণমুল না বিজেপি বিধানসভায় যখন এই নিয়ে দড়ি টানাটানি হচ্ছে। তখন তাঁর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পড়ে থাকা বেঘোরে।  আজ কত স্মৃতি, কত ছবি, কত ঘটনা মনে পড়ে যা...

ইটিভির বিখ্যাত অ্যাঙ্কর অয়ন

সেই গম্ভীর মুখে ইটিভি বাংলার বিখ্যাত খবর আমার বাংলার সেই খবর পড়া বিখ্যাত অয়ন। সেই দৌড়ে ঝাঁপিয়ে নিউজ এইট্টিন এর পর্দায় খবর পড়া বাংলার বিখ্যাত দাপুটে অ্যাঙ্কর সেই হাসিমুখের অয়ন। সেই বারাসাত এর সরকারী এসি বাসে উঠে এয়ারপোর্ট থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত অফিস আসার সময় ওকে দেখে আমার উচ্ছলতা আর প্রগলভতা বেড়ে যাওয়া সেই অয়ন। আর আমি ওকে ভয়ে ভয়ে ডাকার চেস্টা করা আর ওর ঘাড় ঘুরিয়ে গম্ভীর গলায় বলা, কী খবর ভালো তো। ব্যাস তারপর বাস থেকে নেমে দুজন দু পথে চলে যাওয়া সেই অয়ন।  সেই হায়দরাবাদ এর বিখ্যাত আমার বাংলা খবরের উত্তম কুমার আর সুচিত্রার জুটি সেই অয়ন ভট্টাচার্য্য আর কাকলী গোস্বামী। সেই খুব সম্ভবতঃ ফোকাস বাংলা অফিসে সিভি দিতে গিয়ে একঝলক ওকে দেখতে পাওয়া সেই বড়ো পদে চাকরী করা খুব সম্ভবতঃ অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর সেই অয়ন। বাংলা মিডিয়ার নানা ঝড় ঝাপটা সামলে একদম রাহুল দ্রাবিড় স্টাইলে বুক চিতিয়ে ঠিক করে ব্যাট করে নট আউট হয়ে হাসিমুখে দীর্ঘদিন ধরে ক্রিজে টিকে থাকা সেই অয়ন।  আজও সেই ভয় নিয়ে দুরু দুরু বুকে শুধু সেই ইটিভির আমার বাংলার খবর এর ...

কে ভূল আর কে ঠিক

গরীব মানুষের হয়ে লড়াই করা, মেহনতী মানুষের জন্য লড়াই করা, শ্রমিক, কৃষক খেটে খাওয়া মানুষের জন্য লড়াই করা ছিলো এক সময় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের আসল সহজপাঠ। আজ দলবদল করে ফুল বদল করে তাঁর আসল লড়াই এর শত্রু এখন দেশের বিজেপি সরকার। আর তাই নিজের নীতি, আদর্শ, শিরদাঁড়া সোজা রেখে চলা সব কিছুকে ওই কলার খোসার সামনে পা দিয়ে পা পিছলে হড়কে পড়ে গিয়ে একদম সোজা মা মাটি আর মানুষের ঘরে চলে গেলেন তিনি। সেই রক্ত গরম করা বক্তৃতা। সেই ঘাম এর গন্ধ, সেই ঘরে পান্তা খেয়ে মাঠের মানুষের কাছে কাস্তে তারা হাতুড়ি নিয়ে লড়াই করা। যে লড়াই তাঁর জন্মগত অধিকার। যে লড়াই করেই তাঁর বেঁচে থাকা আর বেড়ে ওঠা। যার জন্য তাঁর লাল পার্টির দলে এত কদর ছিল এতদিন।  আসলে রাজনীতির এই বৃত্তে এখন দেওয়া আর নেওয়া। দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে মহামানবের সাগর তীরে এই স্লোগান মুখ্য হয়ে উঠেছে যে। তাই আজ সেই চোয়াল শক্ত করে তৃণমুল এর বিরূদ্ধে লড়াই করা এক যুবকের এই ২০২৬ এ ভোল বদল দেখে আমার কেমন যেন ভয় হয়। তাহলে সত্যিই কী দিনকাল খারাপ খুব। আদর্শ, নীতি, তার সহজ পাঠ এর ধারাপাত বদলে গেলো কী। কে জানে আজকাল আম...