সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

যা দেখি…প্রতিদিন মনে পড়ে কত… স্মৃতির পথ ধরে হাঁটি… লিখি…

সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

আজ গৌতমের গল্প

রবিবার সকাল বেলায় হঠাৎ প্রবীরদার ফোন এলো আমার কাছে। আজকাল অবশ্য ফোন আসা একদম কমেই গেছে প্রায়। তবু ধরলাম কী ব্যাপার বললেন একজন দাঁড়িয়ে আছে তোর ফ্ল্যাটের নিচে কাগজ দেবে বলে। ওপর থেকেই ব্যাগ ফেলে দিলাম আমি। বললাম ফ্ল্যাট এর একচিলতে বারান্দা থেকে ঘাড় উঁচিয়ে সেই ঠিক কবিতার মোরগের মত ভালো আছো তুমি। বললো না বুঝতে পারছিনা একবার নীচে আসবেন। আসলে এই সব বাড়ীর বারান্দা থেকে কপিকলে বালতি ঝুলিয়ে কুয়ো থেকে জল তোলার মত ঝপ করে ব্যাগ ফেলে দেওয়া আর দরকারী জিনিস নামিয়ে দেওয়া বা তুলে নেওয়া এটাই রীতি যে এই ফ্ল্যাট কালচারের। তবু যখন বললো নামলাম আমি ওর কথা শুনেই। আরে এতো আমার চেনা মুখ। নামটা বলতেই মনে পড়ে গেলো যে সেই গৌতম। ওর ভালো নাম গৌতম দত্ত।  সেই পল্লীডাক এর প্রেসে সেই গলিতে এসে সাইকেলটা হেলান দিয়ে রাখতো। তারপর এসে দাঁড়াতো সে চুপ করে কথা কম বলতো। আর তারপরে কাগজ বের হয়েছে জেনে কাগজ ব্যাগে পুড়ে ওর চলে যাওয়া। এই ছবিটা আমার আজও মনে আছে। পল্লীডাক কাগজ ঘুরে ঘুরে পৌঁছে দেওয়া তাঁর কাজ। কম করে ৩৩ বছর বা তার বেশী হবে এটা করছে সে। সত্তর বছরের কাগজ এটি। সেকথা কালকেই লিখ...

আরেফুল, আবদূল আর অভিজিৎ এর গল্প

আরেফুল এর স্মৃতি ধীরে ধীরে ঝাপসা হচ্ছে আমার। তবু মাঝে মাঝেই ওর কথা মনে পড়ে যায় আমার এই ভোটের বাজারে। সেই কত যে কথা হতো আমার আর ওর সেই গ্রামে সিপিএমের অত্যাচার এর খবর দিতো ও ফোন করে তখন ওর পকেটে মোবাইল ছিলো না। এদিক ওদিক থেকে ফোন ঘুরিয়ে সাহায্য করতে চাইতো গরীব মানূষকে এটাই ওর একমাত্র নেশা। আর আজ সেই মানুষটাই নেই। যে কারুর বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধা করতো না কোনোও সময়। আমি হিন্দু ও মুসলমান এই সব নিয়ে কিছুই ভাবনা আসতো না কারুরই। একটাই কথা ও মানুষ আর আমিও মানুষ এটাই যে শেষ কথা একমাত্র।  আরেফুল আর অভিজিৎ আমরা বেশ ভালই জুটি ছিলাম সেই পুরোনো দিনের মিডিয়া যখন খবর করতে পারতো সব সময়। সেই আরামবাগ এর অনিল বসু, বিনয় দত্ত, গোপাল কচ আর সেই বিখ্যাত মোজাম্মেল হোসেন এঁদের বাম আমলে খবর করেও রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো যেতো আমাদের। একটু আরেফুল কে গাল শুনতে হতো হয়তো পার্টি অফিস গেলে। আর আমায় বলতো আরে মমতার লোক এরা সব। আজকাল যেমন যে কোনোও ভাবেই মাথা উঁচু করে খবর করাই দায় বেশ এই বঙ্গের মিডিয়ায়। হয় এই পক্ষের লোক বলবে না হলে বলবে ওই পক্ষের দালাল। জানিনা আরেফুল আলম থাকলে আজ ওর কী অবস্হা ...

ফিরে এলো অমল

নতুন বছরের সকালে এ এক অন্যরকম একটা অনুভুতি হলো আমার আজ। শ্রীরামপুর কলেজের সেই ১৯৮৯ এর কলেজের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নতুন বছরের একটি শুভেচ্ছা বার্তা দেখে আমার চোখ আটকে গেলো হঠাৎ করেই আজ ভোরবেলায়। যেখানে বিভাস প্রতিদিন গুড মর্নিং জানায়। আমি যদিও এইসব থেকে একটু দূরেই থাকি আজকাল। সেই ১৯৮৯ এর পর দেখাই হয়নি ওর সাথে। সেই ধূলি ধূসর স্মৃতির পাতায় আজ সেই একটি ছবি দেখেই মনে হলো আরে এটা অমল নয়। সেই রোগা লম্বা মজা করে জীবন যাপন করা একটি ছেলে। সেই ব্যান্ডেল লাইনে ভদ্রেশ্বর বা মানকুন্ডূতে ওর বাড়ী। সেই ক্লাস শেষ হলেই গান করতো মাঝে মাঝে একদম প্রাণবন্ত এক যুবক। সেই কমল ঢালি, কৌস্তুভ, সেই তপতী যদিও আজ আর নেই আমাদের মাঝে। সেই ব্যান্ডেল লাইনের দিক থেকে ট্রেন ধরে ওদের শ্রীরামপুর কলেজে পড়তে আসা। বায়ো সায়েন্স পড়ে কি করবো জানতাম না আমরা কেউই সে সময় পড়তে হবে বলে কলেজে পড়া। লাভ কি হবে হনার্স না পেয়ে পাশ কোর্সে ভর্তি হয়ে যাওয়া। কোনরকমে স্নাতক হয়ে নিজের পিঠে গ্রাজুয়েট ছাপ মেরে নেওয়া। তখনো কলেজে এমন রাজনীতির ছোঁয়া লেগে যায়নি।  আর সেই আমাদের স্কুল জীবন ছেড়ে সেই ইতিহাস এ...

খানাকুলের যোদ্ধা শৈলেন সিংহ

ভোটের বাজারে ডিজিট্যাল যোদ্ধারা এখন ভোটের কারিগর। যোদ্ধা নামিয়ে বাজার দখলের প্রানান্তকর চেষ্টা সব রাজনৈতিক দলের। আসল যোদ্ধা সেই টুম্পা সোনা মার্কা বা আগমার্কা তৃণমুল আর বিজেপির কোথায়। যে যোদ্ধারা হার্মাদদের বিরুদ্ধে সত্যিই অসাধারণ যুদ্ধ করে এই রাজ্যে বিরোধী দলের শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেই সব রক্তে লেখা রক্তে ভেজা রাস্তায় যোদ্ধারা একে একে হারিয়ে গেছে। আজ এই ভোটের ময়দানে তাই শুধুই নকল যোদ্ধার হুঙ্কার শোনা যায় চারিদিকে।  বহুদিনের পর হঠাৎ করেই খানাকুলের একটি লেখায় আমি একটা জায়গার নাম ভুল লিখেছি আর তাই সেটা বলতেই দেখলাম খানাকুল এর শৈলেন সিংহ দা ফোনে কল করেছেন তিনি আমায়। অনেক বেলায় ঘুম থেকে উঠে আমার তাঁর সাথে কথা হওয়া বহুদিনের পর। নানা কথা নানা রাজনীতির মাঠে কেমন করে এই যুদ্ধ করে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছিলেন সেই সব কথা শুনলাম আমি। সেই তৃণমূলের প্রথম দিন এর জন্মলগ্নের কথা। সেই সব দিনগুলোর কথা বলতে গেলেই এই বয়সেও এতো অসুস্থ শরীরেও কেমন তেজ প্রকাশ পায় তাঁর গলায়।  আর আমিও কেমন করে যে এই গল্প শুনতে শুনতে ভাবি সত্যিই সেই আশির দশকে কংগ্রেসের যোদ্ধা থেকে সেই...

বসন্তে বন্দী দোল

চারিদিক জুড়ে শুধুই লাল, সবুজ, নীল, এর গা ঘষাঘষি করে জড়িয়ে থাকা আর জুড়ে থাকা আর লেপ্টে থাকার এক উৎসব চলছে জোর কদমে। কাঁচের জানলায় ঠক ঠক করে রোজ ভোরে আসা সেই বুলবুলি পাখিটা। আনমনে উচাটন হয়ে কাকে খোঁজে ও কে জানে এই বসন্তের হিমেল ভোরে একা একাই চলে আসে সে প্রতিদিন। সেই বুলবুলিতে ধান খেয়ে যায় গান শুনে ঘুমিয়ে পড়ে শিশু মায়ের কোলে নিশ্চিন্তে, নিরাপদে।  সেই বুলবুলির ধান খাওয়ার দিন শেষ হয়েছে কবেই। ফেসবুকের দুনিয়ায় আজ শুধুই চিত্রায়িত রঙের হুল্লোড় আর রংবাজির ছবি ধরা পড়ে চারিদিক জুড়ে। শুধুই দেখনদাড়ির মিষ্টি অন্তরঙ্গ বহিঃপ্রকাশ।  সেই পলাশের পদাবলী মাখা গান, সেই ঘেঁটু ফুলের গন্ধ, বাঁশ পাতার সরসর আওয়াজ,সেই চাঁদের আলোর মিস্টি নরম রূপ আর চেনা মেয়ের অচেনা রঙিন রূপ দেখে মনটা বড্ড ভালো লাগে যে এই বসন্তের দুপুরেও। আজ যে রঙিন হবারই দিন। আজ যে রাঙিয়ে নেবার দিন।  আর তারপরেই তো শুরু হবে যুদ্ধ, একদিকে সেই বিদেশে আকাশপথে চলেছে যুদ্ধ আর একদিকে সেই আবার ক্ষমতায় ফেরার যুদ্ধ দেশের মাটিতে। দুই যুদ্ধের গা ঘষাঘষি চলে জোর কদমে এই রঙের দিনেও।  একদিকে পরিবর্তনের ডাক অ...

সেই বাড়ীর আমগাছ

কিছু ছবি আর কিছু মুহূর্ত জীবনের সবচেয়ে সাদা জীবনের কালো কথাকে মনে করিয়ে দেয় আমায়। জীবনের মেঠো পথে আঁকিবুঁকি দাগ কেটে যায় সে জলছবির মতই। যে দাগ সেই দূরের আকাশে চাঁদের নরম আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে গ্যালাক্সির পথ পেরিয়ে হাজার হাজার আলোকবর্ষের দূরত্ব পার করে এই ধূলিধুসর পাগলামি করা জীবনে এসে পৌঁছে যায় আচম্বিতে। আজকাল এই বসন্তের একটা অদ্ভুত মায়াময় গন্ধ বয় যেনো চারিদিকে। ওই যে কী একটা গান আছে না, ধীরে ধীরে ধীরে বয়, সে যে উতল হাওয়া। যে উতল হাওয়ায় বনানীতে যে মিস্টি গন্ধ বয় বেশ নাকে লাগে আমার এই বুড়ো বয়সেও বসন্তের উতল হাওয়া। বহুদিনের পর বাড়ী যাওয়া আমার। আসলে এই ফাঁকা মা হীন বাড়ীতে যেতে আর ভালো লাগে না একদমই আমার। আজকাল তাই ঘর ছেড়ে দূরে থাকা আমার। সেই মায়াময় ভালবাসা আর দু চোখের প্রশ্রয়ে বড় হয়ে যাওয়ার স্মৃতির মাটির গন্ধ আজ কেমন পানসে লাগে আমার এতদিন পড়ে ঘরে ঢুকেই। সেই অগোছালো কাঠের চৌকি, সেই ফাঁকা ঘর। সেই শুধুই ছবি আর ছবির ভীড় চারিদিক জুড়েই তাকিয়ে আছে আমার দিকে যেনো কেউ। কার নির্বাক চাওনি আমায় গিলে খেতে চায় যেনো। আর বাড়ি গেলেই আমি এই মায়ের প্...

টিনের নৌকো দর্শন

কদিন আগেই শ্রীরামপুরে ক্ষেত্র শা এর মেলায় গিয়ে ঘুরতে ঘুরতে সেই ছোটবেলার টিনের ভটভটি নৌকা না দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেছিলো আমার বেশ। সেকথা আমি লিখেছি আমার আগের লেখায়। হারিয়ে গেছে সেই ছোটবেলার স্মৃতি এই গলিপথে সেই ছবির কথা লিখে বেশ মন খারাপ হয়েছিলো আমার। কিন্তু আমার লেখা পড়ে সেই উত্তম বাবু, উত্তম সাহা এই ক্ষেত্র মোহন সাহা বাড়ীর একজন প্রতিনিধি মেলার অন্যতম আয়োজক তিনি সেই টিনের নৌকা দেখতে পেয়ে আমায় মোবাইল ফোনে তার ছবি তুলে পাঠিয়ে দেন। বলেন আপনার সেই টিনের নৌকো এসেছে মেলায় পাওয়া যাচ্ছে।  এই কথা শুনে আবার আমার মেলায় যাওয়া। ওনার কথা মত সেই নৌকোকে খুঁজে পাওয়া। মাটির উপর একটি গামলায় জলের উপর ভেসে বেড়াচ্ছে সে আপন মনে। সেই চেনা আওয়াজ আর সেই চেনা স্মৃতির ঝাপটা গায়ে মেখে নিলাম আমি আলতো করে চাঁদনী রাতের সন্ধ্যা বেলায়। ছবি তুলে নিলাম আমি। দাম করলাম কত। দোকানদার বললেন গম্ভীর গলায় পঞ্চাশ টাকা তো বটেই। কম হবে না দাম একদম। শুনে একটু থমকে গেলাম আমি আর আমার শৈশব। আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে কত আর দাম ছিলো এই টিনের ভুটভুটি নৌকোর। পাঁচ টাকা হবে কী নাকি আ...