সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমাদের সবার মিল্টনদা

“স্মৃতি ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হবে। নতুন স্মৃতির পলি পড়বে। কোনও একদিন যক্ষের মতো কোনও এক নির্জন ঘরে সিন্দুকের ডালা খুলব। ক্যাঁচ করে শব্দ হবে। ভেতরে দেখব থরে থরে সাজানো আমার জীবনের মৃতঝরা মুহূর্ত। মাকড়সার ঝুলে ঢাকা, ধূসর। তখন আমি বৃদ্ধ; হাত কাঁপছে, পা কাঁপছে। চুল সাদা। চোখদুটো মৃত মাছের মতো। এই তো মানুষের জীবন, মানুষের নিয়তি। এই পথেই সকলকে চলতে হবে। বর্তমানের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকতে না পারলে, অতীত বড় কষ্ট দেয়।”
― সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় , লোটাকম্বল

হ্যাঁ, সত্যিই তো, অতীত বড়ো কষ্ট দেয় আমাদের এই রাত বিরেতে। দু চোখের পাতা এক হয় না কিছুতেই। রাত কেটে ভোর হয়, আলো ফোটে তবু সিন্দুকের ডালা খুলে বেরিয়ে আসে নানা স্মৃতি, নানা মুখ, নানা চরিত্র, নানা ঘটনা। হ্যাঁ, আজ আমার এই সাদা জীবনের কালো কথায় হুগলীর বিখ্যাত দাপুটে সাংবাদিক মিল্টন সেন এর কথা। ওর সেই হাসি খুশি মিষ্টি ভদ্র ব্যবহার, সব সময় মুখে ভালো কথা। আমার মত খারাপ বদনাম নেই ওর কোথাও। সবার সাথে নেতা, মন্ত্রী, পুলিশ অফিসার সবার সাথে ভালো সম্পর্ক রেখে এগিয়ে চলা মিল্টন এর বড়ো প্লাস পয়েন্ট।

 সে যাক প্রথম ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল ব্যানার্জী কেবিন এর দোতলায়। ইটিভির একজন চুঁচুড়া সদর শহরে ক্যামেরাম্যান লাগবে। নিজের ক্যামেরা চাই সাথে চাই দু চাকার মোটর সাইকেল। খুব সম্ভবত সাবির আলীকে বলেছিলাম আমি। কংগ্রেস নেতা সাবির দা সেটা মইনুল কে বলে। মইনুল হোসেন কংগ্রেস এর নেতা। দেখলাম মিল্টন এর দাদা গৌতম সেন বিরাট চেহারা নিয়ে আর ওর ভাইকে নিয়ে সোজা হাজির চুঁচুড়ার ব্যানার্জী কেবিন এর দোতলায়। মিল্টন সেই দু হাজার সালেও বেশ সুন্দর সেজে গুজে হাজির। হাতে একটা বালা। গলায় সোনার চেন। ওর দাদাকে বললাম ঠিক আছে।

একটা ক্যাসেট নিয়ে যে ক্যামেরা নিয়ে এসেছিল খুব সম্ভবত সেই সোনি তিনহাজার পাঁচশো মডেল সেটা দিয়ে একটু ছবি করে দিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে ভি এইচ এস এর সেই ফিতে ক্যাসেট কিনে আনল ওরা। আর সেই দোতলা থেকে তোলা হলো চুঁচুড়া শহরের বিখ্যাত সেই ঘড়ির মোড়ের ঘড়ির ছবি। ব্যস হয়ে গেল পরীক্ষায় পাশ ওর। মিল্টন সেন হয়ে গেলো আমার চুঁচুড়া শহরের ক্যামেরাম্যান সেইদিন থেকেই। বড় রাজদূত হাঁকিয়ে দাদা ভাইকে নিয়ে এসেছিল ওরা চলে গেলো আমরাও ফিরে এলাম শ্রীরামপুর খুব সম্ভবত সৌরভের সাথে ওর মোটর বাইক করে। সেই দু হাজার সালে মিল্টন আপনি সম্বোধন করে কথা বলতে শুরু করেছিল। আর এই সেদিন দুপুরে দু হাজার চব্বিশ সালে বহুদিন পরে ফোন করলো মিল্টন। কথা হলো ওর সাথে বহুদিন পরে। সেদিনও আপনি সম্বোধন করে কথা বলেছিল। এটা বেশ ভালো ব্যাপার। দাদা, পাঁচু মরে গেলো। শুনলাম ওর ও শরীর খারাপ হয়েছিল। চেন্নাই গেছিলো চিকিৎসা করতে। ফিরে এসেছে এখন একটু ভালো আছে ও। 

আমার মনে পড়ে গেলো সেই ওদের ব্যান্ডেল আম বাগানের বাড়িতে যেতাম কাজের সুত্রে। ওর মার কথা, ওর দিদির কথা, ওর দাদা গৌতম দার কথা। ওর দাদার সাথে মাঝে মাঝেই কথা হয় এখনো। সেই একবার আমার জ্বর হলো সেই সময় মিল্টন সেন আমার রিষড়ার বাড়ী চলে এলো একগাদা আপেল আর নানা ফল নিয়ে। আমার সেই টালির ঘরে। হই হই ব্যাপার একটা। ওর এই ব্যাপারটা আছে। দেবাঞ্জনদার সাথে ঘুরে ঘুরে খবর করতো। চুঁচুড়া সদর শহরে ওই ছিল সব। আমি এলেই ও গাড়ি নিয়ে ষ্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকতো। ওর দাদার সাথে সব সাংবাদিকের সু সম্পর্ক আছে। 

তবে কাজের সূত্রে ওদের সেই ব্যান্ডেল আমবাগানের বাড়ির সেই স্মৃতি আমার আজও মনে পড়ে যায়। সেই রাস্তা, সেই সুন্দর ছোটো ছোটো গাছ, সেই ওদের রেলের কোয়ার্টার। ওদের বাড়ি গেলেই ওর মা আর দিদি কিছু না কিছু খেতে দেবেই। আমার বেশ অস্বস্তি হতো কিন্তু সেটা না খেয়ে এলে ওনারা কষ্ট পাবেন তাই খেতাম। কিছুদিন পর মিল্টন সেন আকাশ বাংলাতে চলে গেলো। ইটিভির কাজ ছেড়ে। সেই ক্যামেরাম্যান বাবলুদা ছিল আকাশ বাংলাতে। সম্পূর্ণ হুগলীর বস হয়ে। কিন্তু তারপর থেকে আমার ওর সেই দাদা আপনি ভালো আছেন তো। সেই সম্পর্কটা আজও ভালই আছে। ওর নতুন বাড়িতে আমি যাইনি কোনোদিন। ওর মা নেই আজ। গৌতম সেনদার সাথে চন্দননগর স্টেশনে দেখা হলো টিকিট কাউন্টারে কি খাতির না করলেন তিনি। একবার হাওড়া স্টেশনে কাজ করার সময় গৌতমদার সঙ্গে কি একটা দরকারে কথা বললাম বস হয়ে যাবে কোনো সমস্যা নেই জানালো গৌতম দা। 

সেই মিল্টন এর আমলেই বোধহয় সেই চম্পাকলি ছিল কৃষি সম্প্রসারণ নিয়ে ইটিভির অন্নদাতার অনুষ্ঠান করতো ঘুরে ঘুরে মিল্টন এর সাথে। সে বেশ মিল্টন সেন কে পছন্দ করত। হিরো সুপার হিরো রিপোর্টার বলে বোধহয়। সেই নিয়ে আমরা ওকে কত রাগাতাম। বলতাম মিল্টন ওই যে চম্পাকলি আসছে। আর ও বলতো দাদা ডেঞ্জারাস দাদা ওর কথা আর বলবেন না আপনি। শীতের সকালে ওর মোটরসাইকেল করে চারিদিকে ঘুরতাম। সেই গটু গ্রাম, সেই কাঠকুন্তি নদী, সেই নিমাই জানার এলাকায় ময়ূরদের গ্রাম, সেই মইনুলদের বাড়ী যাওয়া, সেই উপেন এর বাড়ীর রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো, এইভাবেই দিন কেটে যায় আমাদের। বহুদিন পড়ে মিল্টন সেন এর কথা ওঠায় এইসব কিছু মনে পড়ে গেলো। সেই নীলুদা, রথীন দা, মিল্টন, বিধান, উপেন, পাঁচু, সন্তু, কিট্টু, সেই ছোটু, চিরঞ্জীব , গৌতম আস, সেই বিশ্বনাথ, সেই নির্মল ঘোষ, আর ও কত যে সবাই একসাথে কাজ করতাম আমরা সেই সময় নাম মনে পড়ছে না আর বুড়ো হয়ে গেছি যে আমি। তাই নাম বাদ পড়লে ইচ্ছা করে নয় কিন্তু মার্জনা করবেন আপনারা।  

সেদিন কথায় কথায় বললাম সোনাঝুড়ি হাটে এই একটু দরকার বুঝলে। দাদা কোনো চিন্তা নেই আপনি নাম বলুন কাকে বলতে হবে ফোন নম্বর দিন আমি এখুনি এসপি বা ডিএমকে বলে দিচ্ছি । আমি হয়তো সেটা লজ্জায় ওকে দিতে পারিনি একটা ছোট কাজ সেটা আবার পুলিশ প্রশাসনকে বলবো আবার। এটার জন্য সাহায্য নেবো ওর কাছে। কিন্তু ওর এই ঝাঁপিয়ে পড়া কারুর জন্য এটা বেশ ভালো লাগে আমার। যেটা আজকাল কেউ আর করতে চায়না। ওর সেই ডিরেক্টর হয়ে যাওয়া, চ্যানেলের উচ্চপদে চলে যাওয়া, সেই সত্যম রায় চৌধুরীকে ধরে আজকালের ভালো পজিশন এ কাজ করা, ত্রিপুরা গিয়ে কাজ করা কিন্তু সব সময় ফোন করলেই হাসি মুখে বলেছে ফোন ধরে দাদা বলুন। এটাই ওকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দিয়েছে। 

নানা জন নানা কিছু বলে সেই হুগলী জেলায় দু দুটো প্রেস ক্লাব নিয়ে। সেই চুঁচুড়া বনাম শ্রীরামপুর এর কার্তিক ঠাকুরের লড়াই নিয়ে। সেই পুলিশ এর খেলার সময় চুঁচুড়া লোকদের আধিপত্য নিয়ে। ওর সেই এলাকায় দাপুটে মনোভাব নিয়ে। কিন্তু ওর এই সবকিছুর মাঝে ওকে আমি কিছু বললেই ও বলেছে দাদা আপনি ছেড়ে দিন আমি দেখে নিচ্ছি ব্যাপারটা। দাদা আপনাকে এটা নিয়ে আর ভাবতে হবে না। এই দীর্ঘ পঁচিশ বছর পরেও এক ভাবেই আমায় সম্মান জানিয়ে গেছে ও। আজ এই আমার এলোমেলো এলেবেলে টোটো চালকের জীবন জুড়ে শুধুই নানা ধরনের অপমান আর যন্ত্রণার মাঝে এই সব স্মৃতি কিছুটা হলেও দখিনা বাতাসের মত। তাই রানা, মিন্টে, সুব্রত যশ, সৌরভ হাজরার কথা লেখার পর ভাবছিলাম আমি মিল্টন সেন এর কথাও লিখবো আমার সাদা জীবনের কালো কথায়। আজ সেটা ভোরবেলায় লিখে ফেললাম। 

ও কথা হলেই বারবার বলে দাদা আসুন আপনি চুঁচুড়া সদর শহরে। হ্যাঁ, আমার ইচ্ছা হয় একবার যাই আবার সেই ব্যানার্জী কেবিন এর দোতলায় গিয়ে বসি। সেই দই পরোটা আর পুডিং খাই দুজন মিলে গল্প করতে করতে। ওর সেই দু চাকার গাড়ি করে ছুটে বেড়াই আবার পোলবা , মগরা, হারিট, বলাগড়, সেই চরকৃষ্ণবাটির সবুজদ্বীপ। সেই গাছ কাটার খবর পেয়ে চলে যাই আবার দৌড়ে দুজন মিলে। কোনো আপস ছাড়া, কারুর সাথে এডজাস্টমেন্ট ছাড়াই খবর করে বুঝিয়ে দি আমি, যে আজও বুড়ো হলেও আমি ফুরিয়ে যাইনি আজও। এই খবরের দুনিয়ায় টোটো চালক হলেও। 

সেই মিন্টে, সৌরভ ব্যানার্জী, সৌরভ হাজরা, রানা, সুব্রত, ও মিল্টন এর সুখের সংসার যদি আবার জেলায় একবার ফিরে আসতো একটি বার কি ভালো যে লাগতো কে জানে। জানি সেটা আর আসবে না কোনোদিনই। তবু এই বুড়ো বয়সে এসে, শেষ সময়ে স্বপ্ন দেখতে কার না ভালো লাগে বলুন। আমার আঁকিবুঁকি ব্লগে তাই ভোরবেলায় আমি সেই স্বপ্ন দেখি। যে অতীত দিনের কথা মনে পড়ে যায়। আমি আমার স্মৃতির ঝাঁপিকে দুই হাত দিয়ে আগলে রাখি সযত্নে। স্মৃতি যতই আমায় দুঃখ দিক, কষ্ট দিক, যন্ত্রণা দিক স্মৃতি তো সতত সুখেরই। 

আমাদের সবার মিল্টন দা - অভিজিৎ বসু।
ছাব্বিশ অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

সুসমীর ও আমি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ আমার কলেজের বন্ধু সুসমীর এর কথা। ওর ভালো নাম সমীর ঘোষ। ওর বাড়ী শ্রীরামপুরে। আমার সাথে ওর আলাপ শ্রীরামপুর কলেজে পড়ার সময়। সেটা আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর আগের কথা হবে। আসলে কলেজের বেঞ্চিতে বসে ওর গলার গান শুনে মুগ্ধ হয়েছি আমরা সবাই। ছেলে মেয়ে সবাই ওর গানের ভক্ত হয়ে গেলাম একদিন ওর গান শুনেই। মেয়েরা তো ওর ফ্যান হয়ে গেলো ওর গানের জন্য।  পরে আমাদের কলেজ জীবন শেষ করে আমরা এদিক ওদিক টুকটাক কাগজে লেখার জগতে দুজনেই প্রবেশ করেছি আমরা। একদিন খুব সম্ভবত বর্তমান কাগজে বিজ্ঞানের পাতায় দেখলাম সুসমীর দাস নামে এক জনের লেখা বেরিয়েছে।সেই সময় বিজ্ঞানের পাতা দেখতেন বর্তমানের রূপকুমার বসু। আমার সাথেও পড়ে রূপদার আলাপ হয়েছিল এই লেখার সূত্রেই।  মনে পড়ে প্রতি লেখায় পঞ্চাশ টাকা দিত বর্তমান‌ কাগজ সেই সময়। সমীর তখন বিজ্ঞান নিয়ে লিখছে, আকাশবাণী তে নানা অনুষ্ঠান করছে। এরপর তারা নিউজ ডেস্ক এর কাজে যোগদান করে সে। দীর্ঘ দিন তারা নিউজ এর কাজ করেছে সে। এই হলো সুসমীর এর জীবনের রেখাচিত্র।  কিন্তু আমার সাদা জীবনের এমন এক সাদা মানুষের ...

ভূত চতুর্দশীর সেই রাত

জীবনে আলো নেই, এদিকে ঘরে টুনি লাইট লাগাচ্ছি আর স্টাইল করে ছবি তুলছি। সত্যিই কত বিচিত্র আয়োজন আর বিচিত্র জীবন। ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যার আলোকজ্বল এই অমলিন, ঝাপসা, ম্রিয়মান এই ছবিটা ধরা থাকলো আমার জীবনের টাইমলাইনের ফেসবুকের পাতায় আলতো করে।  ঘরের দুয়ারে বাতি দিয়ে অন্ধকারের রাজ্যে চলে যাওয়া। আর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া আমার আত্মীয়দের পথ দেখালাম আমি। হ্যাঁ, যে পথ ধরে আমাদের ছেড়ে যাওয়া মানুষজন এসেছিলেন তাঁরা সেই মহালয়ার পুণ্য প্রভাতে। তাঁদের তর্পণ করে স্বাগত জানিছিলাম আমরা সবাই। এতদিন ধরে এই উৎসবের আনন্দে আলোকমালায় কেমন ঘুরে বেড়ালেন তাঁরা খুশি মনে। আজকের রাত তাঁদের আবার সেই ফিরে যাওয়ার রাত। যে রাতে ঘুম আসেনা কিছুতেই। যে রাতের অন্ধকারে কত কিছুই যে ঘটে যায়।   যাঁরা এতদিন এই পৃথিবীর টানে, আপনজনদের টানে পৃথিবীর কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই তাঁরাই আজ আমাদের ছেড়ে প্রিয়জনদের সবাইকে ছেড়ে ধীরে ধীরে চলে যাবেন দূরে,অনেক দূরে। আর আমরা তখন ঘরের দুয়ারে, উঠোনে তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালিয়ে সেই তাঁদের যাত্রাপথকে সুগম করবো আলোক সজ্জা দিয়ে। এটাই হলো ভূত চতুর্দশীর সেই আল...

কুণাল ঘোষের বার্তা ও টোটো চালকের কিছু কথা

কুণাল দার সাথে কাজ করিনি আমি কোনোদিন। বাংলা সংবাদের জগতে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত সাংবাদিক আছেন। যাঁদের নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে এই বাংলার মিডিয়ায়। আজ সেই কুণাল ঘোষ সংবাদ প্রতিদিন কাগজ থেকে কনসাল্টিং এডিটর পোস্ট থেকে সরে গেলেন। একদিকে তাঁর বিধায়ক হয়ে যাওয়া সরকার এর বদল হয়ে যাওয়া। আর তাই তিনি প্রতিদিন কাগজের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন তেমন এক বার্তা দিলেন তিনি নিজেই।  কুণাল ঘোষ এর সাথে আমার আলাপ বিশেষ নেই। সেই মহাকরণে করিডর দিয়ে তিনি হেঁটে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের দিকে। তাঁর আগে পিছে সংবাদ মাধ্যমের কাজ করা রিপোর্টারদের ভীড় তাঁকে ঘিরে ভীড় করে আছেন আমিও দূরে আছি দাঁড়িয়ে। সেই বহু বছর আগে হাফ শার্ট পরে বিকেলের দিকে মদন মিত্রের অফিসে আসতেন। ২৪ চৌরঙ্গী রোড এর অফিসে ধর্মতলার কাছে। সান্ধ্য প্রতিদিন কাগজ পকেটে নিয়ে। রণজিৎ থাকতো সেই সময়। সেই সব দিন এর কথা মনে পড়ে যায় আজ আমার। সেই কঠিন বাম আমলে তাঁকে কাজ ছেড়ে চলে যেতে হয়নি একদমই। আর আজ সরকার বদলের সাথে সাথেই দিকে দিকে কাজ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেছে যে চারিদিক জুড়েই এই বাংলার মিডিয়ায়।  ইটিভির কাজের স...

রক্তাক্ত আমি

অর্থহীন, শব্দহীন,জীবনের অপমান বড়ই যন্ত্রণার। জীবনের অনুরণনে অপমানের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, শুনতে শুনতে ধীর পায়ে এগিয়ে চলা। ছিপখান ডিঙ্গি নৌকা বেয়ে নিজের মত করে অন্তরীণ হয়ে ভেসে বেড়ানো, এদিক থেকে ওদিক পানে। শঙ্খচিলের ডানায় তখন, রামধনুর সাত রঙ এর স্বপ্নের ঘুম জড়ানো ভোরের আস্তরণ। শালিকের ভেজা পায়ে, জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দের বাঙময় অব্যক্ত ধাক্কা। যে ধাক্কায় দ্বিখণ্ডিত হয় জীবনের অর্থ, অনর্থ, সৃষ্টি, অনাসৃষ্টি, সুখ, অসুখ,ভালোবাসা, ঘৃণা আরও কত কি।  চোখ খুলে দেখি বদলে গেছে, জীবনের উপল উপত্যকার ঢেউ খেলানো রাস্তার, সোজাসাপ্টা সেই বহু চেনা গলিপথ। যে গলিপথের চেনা রাস্তায় হাঁটতে নেমে রক্তাক্ত হই আমি বার বার। তবু রাতের আঁধার গায়ে মেখে রক্তাক্ত আমি ঘুরে, বেড়াই এদিক থেকে ওদিক। হাতড়ে খুঁজে বেড়াই রামধনুর রং মাখা ভোর। রক্তাক্ত আমি - অভিজিৎ বসু। ষোলো জুন, দু হাজার চব্বিশ।