সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সেলফির স্মৃতি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ শুধু সেলফি তোলার কথা। এই সেলফির এখন খুব চল হয়েছে। আজ সেলফি তোলা এক গল্পের দুই বন্ধুর বন্ধুত্বের নানা অজানা কথা। আসলে এই সেলফি তো শুধু মাত্র একটা নিজের উপস্থিতির প্রমাণ করা নয়। এই সেলফি একদম চুপ চাপ দুজনে দুজনকে আশ্লেষে জড়িয়ে ধরে নিগূঢ় বন্ধনে বাঁধা থেকে সেলফি তুলে ভবিষ্যতের জন্য ধরে রাখার কথা। যার জন্য আমিও একটু অবাক হয়েছিলাম দুর থেকে ওদের দুজনকে দেখে।

ভরা হাটে একজন অপর জনকে ডেকে নিয়ে ছবি তুলছে আপন মনে হাসিমুখে। কেমন যেনো কোনো দিকে নজর নেই ওদের দুজনেরই। যেনো কত দিনের পুরোনো চেনা সম্পর্ক ওদের। সত্যিই তো জীবনের এই সব ছোটো ছোটো ঘটনা ঘটে যায় আমাদের সবার চোখের সামনে। কিন্তু সেই সব ঘটনার পেছনে লুকিয়ে থাকে হাসি, কান্না, সঙ্কোচ, বেদনা আর বিহ্বলতা। সেই রকম ভাবেই ওরা ছবি তুলে ধরে রাখলো দুজনে দুজনকে জড়িয়ে ধরে। 

আজকাল তো পটাপট মোবাইল ফোনে আনলিমিটেড ক্যামেরার লেন্সে চোখ রেখে কেমন যেন একটা ছবি তোলার হিড়িক পড়েছে সর্বত্র। সে পাহাড় থেকে হোক, ট্রেনের দরজা থেকে ঝুলতে ঝুলতে হোক, কিম্বা জঙ্গলের গহন বনে চাঁদনী রাতে হাঁটতে হাঁটতে হোক, পাহাড়ী ঝর্ণার নিচে দাঁড়িয়ে দু হাত তুলে ধরে হোক, বিপদসঙ্কুল সমুদ্রের ঢেউ দেখতে দেখতে পা ভিজিয়ে ব্যালেন্স হারিয়ে ভেজা বালিতে পড়ে যেতে যেতে হোক এমন কি প্রিয়জনকে হারিয়ে তাঁকে শেষ বিদায় বেলায় হোক সেলফি কিন্তু মাস্ট। চাই চাই, আর সেটা না হলে সেই কবিতার লাইন এর মত বিদ্যে বোঝাই বাবু মশাই এর জীবনের মত ষোলো আনাই বৃথা এ পোড়া জীবন। 
জীবনের সুখে, দুঃখে, যন্ত্রণায়,আবেগে ভেসে যেতে যেতেও সেলফি কিন্তু চাই চাই। আসলে এটা যে এখন জীবনের অন্যতম অঙ্গ হয়ে গেছে সেটা ভুলে গেলে চলবে কি করে আমাদের। জীবনের সাথে এর সম্পর্ক এখন যে কত গভীর। তাই আজ সেলফি কথা লিখবো বলেই আমি ঠিক করলাম আমার এই সাদা জীবনের কালো কথায় আঁকাবাঁকা অক্ষরে আঁকিবুঁকি ব্লগে। 

সত্যিই বলতে কি জানেন তো আমিও আপনাদের মতই সেলফি তুলে রাখার অনেক সুযোগ পেয়েছিলাম একসময়। সেই সময় আমি কলকাতায় আকাশবাণীতে সাংবাদিকতার কাজের সুত্রে এই সব সুযোগ পেয়ে ছিলাম একসময়। আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর বা তার আগে এই সেলফি তোলার সুযোগ পেলে যার সাথে একটিবার সেলফি তুলে রাখতাম তিনি অবশ্যই সেই যে বিশ্ব সুন্দরী সুস্মিতা সেন। 

মিস ইউনিভার্স হয়ে প্রথম কলকাতায় এলেন যেদিন গড়িয়াহাটে তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতে। আকাশবাণীর তরফে সেদিন সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে অত কাছ থেকে বিশ্ব সুন্দরীকে দেখে ওই তার পেলব সুন্দর ঠোঁট, টানা টানা চোখ আর মাখনের মত গায়ের রং দেখেও যে সেলফি তোলা হয়নি আমার সেদিন। আসলে সেই সময় কি আর এসবের চল ছিল। না কোথায় সেলফি জোন আর কোথায় মোবাইলের এত দাপট ছিল সেই সময়। তাই আমার সেই দুঃখ আজও রয়ে গেছে সেই আমার স্বপ্নকন্যা বিশ্ব সুন্দরীর সাথে যদি একটা সেলফি তুলে রাখতে পারতাম। তাহলে বোধহয় আমার এই পাঁশুটে জীবনটা একটু এই বুড়ো বয়সে এসে বেশ ভালো লাগতো। 

নোনতা স্বাদহীন‌ জীবনে কেমন একটা সুন্দর স্বাদ পেতাম আজ আমিও। সবাইকে বেশ হাসি হাসি মুখে বলতে পারতাম যে আমিও এদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি এক সময়, দেখো দেখো তোমরা সবাই। কিন্তু কই কোনো সাবুদ নেই যে আমার কাছে। তাহলে কি করে বলব। 

আর সেই যে যেদিন সানন্দার অফিসে সাক্ষাৎকার নেবো বলে দরজা ঠেলে ঠাণ্ডা ঘরে ঢুকলাম যখন বুকটা কেঁপে উঠেছিল একটু। ঘরে ঢুকে দেখলাম চোখে কালো রোদ চশমা পরে বসেছিলেন সেই বিখ্যাত অভিনেত্রী সুন্দরী অপর্ণা সেন। যে সেই সিনেমায় যেমন করে অপেক্ষা করেছিলেন, ট্রেন ধরে চলে যাবার সময় যে দৌড়ে এসে ছিলেন রিক্সা করে হন্তদন্ত হয়ে সৌমিত্রের জন্যে প্ল্যাটফর্মে। তারপর ট্রেন ছেড়ে চলে যাবার পর টলটলে দু চোখের কোল ভেসে যাচ্ছিল তার। সৌমিত্রর ডাকে যার সম্বিৎ ফেরে। সেই ডাক সাইটে অভিনেত্রী একমনে আমায় দেখে বুঝলেন, না এর জন্য এত চড়া লিপস্টিক আর এত সাজ না করলেই হতো বোধহয়। সেই বিখ্যাত অপর্ণা সেনের সাথেও যে একটাও সেলফি তোলা হয়নি আমার সেদিনও ওই সাদা বাড়ির ওই ঠাণ্ডা ঘরে বসে সাক্ষাৎকার নেবার পর। 

আসলে সেই আমলে তো আর এমন কলি যুগের মত সেলফি যুগ হাজির হয়নি খুব একটা। যে যুগে একদিন সকাল বেলায় অসুস্থ অভিনেতা অনিল চট্টোপাধ্যায়কে দেখতে এলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ গাড়ি নিয়ে সেই টালিগঞ্জের বাড়িতে। একটা সোফায় বসে জিজ্ঞাসা করলেন কেমন আছেন অনিল জেঠু। সেই সকালে তো আমিও হাজির ছিলাম সেদিন ওই বাড়িতেই। চুপ করে দাঁড়িয়ে দেখলাম সেই ছায়াছবির সেই দুই নায়কের মিলন দৃশ্যও কিন্তু ছবিতে ধরে রাখতে পারিনি সেই মুহূর্তও। আজ এসব ভাবলে বড়ো আফশোষ হয় আমার। 

আসলে কি করবো আমাদের সেই সব দিনগুলোতে যে এমন করে সেলফির ঝড় ঝাপটা আসেনি আমাদের জীবনে এখনকার মত। তাহলে কি আর হাতের সামনে সেই ডিস্কো ড্যান্সার এর জন্যে বিখ্যাত মিঠুন চক্রবর্তীকে হাতের নাগালে পেয়েও কেউ একসাথে হাসি মুখে ছবি না তুলে ছেড়ে দেয় পার্ক হোটেলের ঘরে বসে একা একা শুধু নতুন বছরের শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে অফিস ফিরে আসে। কি করবো বলুন তো সেই সুযোগ ছিল না যে সেদিন। 

বহু পড়ে যখন আমি কাজের সূত্রে নানা চ্যানেলে কর্মরত হলাম হাতে মোবাইল পেলাম, ছবি তোলার সুযোগ পেলাম। না, সেদিনও তো সেই নানা বিখ্যাত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে হাসি হাসি মুখ করে সেলফি তুলে নিজেকে কেউকেটা মাতব্বর ভাবতে পারিনি আমি। উল্টে কিছুটা যেনো সঙ্কোচ আর কিছুটা নিজের কাছে নিজের জড়তা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে পারিনি হাল আমলের দেব, জিৎ বা ঋতুপর্ণার কাছে। এমনকি মহাকরণে লাইন দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে হাতে রাখী পড়ে তার ছবি তুলে ধরে রাখার দিনেও কেমন যেনো গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে গেছিলাম আমি। আসলে কেমন যেনো লজ্জা পেয়ে ছিলাম আমি সেদিনও কিছুটা দ্বিধাও ছিল। 

আসলে এক ছোটো অতি ক্ষুদ্র জীবন এর সাথে এক বৃহৎ অতি বৃহৎ জীবনের এই ভাবে ছবি তুলে ধরে রাখা কেমন যেন বেমানান লাগে আমার। আজকাল অবশ্য এটাই নিয়ম। তোমার কার সাথে পরিচয় আছে সেটা নির্ণয় হয় তার সাথে কটা ছবি তোলা আছে তোমার মোবাইলে সেটার ওপর নির্ভর করে সেই ব্যক্তির গুরুত্ব কতখানি সমাজে তার কি স্ট্যাটাস সেটার ওপর। তোমার মোবাইলের পর্দায় সেই সব বিখ্যাত ব্যক্তির ছবি জ্বল জ্বল করছে। এটাই তো হল আসল কথা। কিন্তু সেসব কিছুই করা হয় নি যে আমার এই জীবনে। তাই বোধহয় আমি পিছিয়ে পড়েছি এই আধুনিক সেলফির যুগে। সে যাকগে পিছিয়ে পড়ি তাতে আমার কোনো দুঃখ নেই।

 কিন্তু যে জন্য এত কথা বললাম সেই দুজনের দুই মহিলার দিনে দুপুরে হাটের মাঝে সেলফি তোলার হিড়িক দেখে চমকে গেলাম একটু। আমি হয়তো তাদের সেই দুজন মহিলার কোনো ছবি তোলার চেষ্টা করিনি কিছুটা ভয় আর সঙ্কোচে। কিন্তু অনেক পরে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করলাম আমার পাশে বসা সেই মহিলাকে ছবি তুললেন কেনো অমন করে দুজনে মিলে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে। একদম আদি অকৃত্রিম হাসি হেসে সোজা সাপটা জবাব তাঁর। ও আমার বহু পুরোনো দিনের বন্ধু। বহু দিনের বন্ধু ও জানেন। সেই কবেকার বন্ধুত্ব আমাদের দুজনের। কিন্তু জানেন তো ওর হার্টের রোগ ধরা পড়েছে। কানেরও সমস্যা আছে। অপারেশন করতে হবে। ডাক্তার বলেছে খুব ভালো নেই ও। তাই আজ হাটে এসে আমায় দেখতে পেয়ে বলল চল দুজন মিলে মজা করে এই খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে অর্জুন গাছকে সাক্ষী রেখে আমরা দুজন একটা সেলফি তুলি। আমি যখন থাকবো না তখন তুই এই ছবিটা দেখবি। আর আমার কথা মনে করবি, ভাববি। মনে পড়বে তোর আমার কথা। 

আমি এই সব কথাগুলো শুনে কেমন যেনো চুপ করে স্থবির হয়ে গেলাম একটু । সত্যিই তো কেমন অকপটে সেলফি তোলার আসল উদ্দেশ্য কি সেটা বলে দিলো আমায় ওই হাটে বসা গ্রাম্য মহিলা। যে হাসতে হাসতে বলে দিলো জীবনের ডাক কার কখন আসে কে জানে। তাই তো দুজন মিলে একসাথে ছবি তুলে রেখে দেওয়া। আমি কি আর বলব চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম সেই নাম না জানা ওই গ্রাম্য মহিলার সামনে। যে আমায় বলে দিলো কত অবলীলায় কার ডাক কখন আসে কে জানে। তাই তো একটু ছবি তুলে রাখা দুজনের। ডাক্তার তো আমার বন্ধুকে বলে দিয়েছে ওর শরীর ভালো নেই তাই একটু ছবি তুলে রাখা।
এই অবস্থায় সেলফি তুলে দুজন দুজনকে হারিয়ে ফেলে একে অপরের সাথে থেকে যাওয়া ওই মোবাইলের মাধ্যমে। আর যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে এত বছরে সেই সম্পর্ককে জাগিয়ে রাখা এই বুকের মাঝে। এই বলে কেমন যেন একটা মায়াময় দৃষ্টি দিয়ে আমায় বলল কি করবো বলুন ডাক্তার যে ওকে বলে দিয়েছে ওর শরীর ভালো নেই অবস্থা ভালো নয় ওর। এমন কেউ বলে বলুন আপনি। 

আমার মুখ থেকে কোনো কথা নেই। চুপ করে মাথা নিচু করে সেই মহিলার কথা শুনলাম আমি। দুই ছেলে, বড় ছেলে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে সামনের বছর। স্বামী কলকাতায় রান্নার কাজ করে অল্প টাকা আয় করে। সংসারের খরচ চালানোর প্রয়োজনে সে এই হাটে এসে বসেছে কঙ্কালীতলায়। ছেলে দুটোকে তো মানুষ করতে হবে বলুন। আমি চুপ করে শুনছিলাম ওর কথা। 

আমি যেনো সাদা জীবনের কালো কথা লিখতে হবে বলে এমন কথা আমায় লিখতে হবে বলে ভাবিনি কোনো দিন আমি। এমন একটা চরম সত্য, নির্মম সত্য কথা জেনেও হাসি মাখা মুখে কেমন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে সেলফি তুলে রাখা। একজন অন্য জনকে ছেড়ে চলে গেলে, হারিয়ে গেলে এক বন্ধু যেনো দেখতে পায় অন্য বন্ধুকে। সত্যিই এমন সেলফিও হয় তাহলে। কে জানে হয়তো হয়। আমার জানা ছিলো না।

 জীবনকে গভীর ভাবে জড়িয়ে ধরে রাখার সেলফি। যে জীবনের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে সুখ, দুঃখ, ভালোবাসা,যন্ত্রণা, বন্ধুত্বের নানা অজানা অচেনা সম্পর্কের হাজারো গভীর গোপন কথা। যেগুলোকে ধরে রাখতেই এই বন্ধুত্বের সেলফি। যে সেলফির স্মৃতি, তার স্বাদ একদম আলাদা। যে সেলফির মধ্যে লুকিয়ে আছে গভীর নিখাদ ভালোবাসা।

সেলফির স্মৃতি - অভিজিৎ বসু।
ঊনত্রিশ জুলাই, দু হাজার চব্বিশ

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...