সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সেলফির স্মৃতি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ শুধু সেলফি তোলার কথা। এই সেলফির এখন খুব চল হয়েছে। আজ সেলফি তোলা এক গল্পের দুই বন্ধুর বন্ধুত্বের নানা অজানা কথা। আসলে এই সেলফি তো শুধু মাত্র একটা নিজের উপস্থিতির প্রমাণ করা নয়। এই সেলফি একদম চুপ চাপ দুজনে দুজনকে আশ্লেষে জড়িয়ে ধরে নিগূঢ় বন্ধনে বাঁধা থেকে সেলফি তুলে ভবিষ্যতের জন্য ধরে রাখার কথা। যার জন্য আমিও একটু অবাক হয়েছিলাম দুর থেকে ওদের দুজনকে দেখে।

ভরা হাটে একজন অপর জনকে ডেকে নিয়ে ছবি তুলছে আপন মনে হাসিমুখে। কেমন যেনো কোনো দিকে নজর নেই ওদের দুজনেরই। যেনো কত দিনের পুরোনো চেনা সম্পর্ক ওদের। সত্যিই তো জীবনের এই সব ছোটো ছোটো ঘটনা ঘটে যায় আমাদের সবার চোখের সামনে। কিন্তু সেই সব ঘটনার পেছনে লুকিয়ে থাকে হাসি, কান্না, সঙ্কোচ, বেদনা আর বিহ্বলতা। সেই রকম ভাবেই ওরা ছবি তুলে ধরে রাখলো দুজনে দুজনকে জড়িয়ে ধরে। 

আজকাল তো পটাপট মোবাইল ফোনে আনলিমিটেড ক্যামেরার লেন্সে চোখ রেখে কেমন যেন একটা ছবি তোলার হিড়িক পড়েছে সর্বত্র। সে পাহাড় থেকে হোক, ট্রেনের দরজা থেকে ঝুলতে ঝুলতে হোক, কিম্বা জঙ্গলের গহন বনে চাঁদনী রাতে হাঁটতে হাঁটতে হোক, পাহাড়ী ঝর্ণার নিচে দাঁড়িয়ে দু হাত তুলে ধরে হোক, বিপদসঙ্কুল সমুদ্রের ঢেউ দেখতে দেখতে পা ভিজিয়ে ব্যালেন্স হারিয়ে ভেজা বালিতে পড়ে যেতে যেতে হোক এমন কি প্রিয়জনকে হারিয়ে তাঁকে শেষ বিদায় বেলায় হোক সেলফি কিন্তু মাস্ট। চাই চাই, আর সেটা না হলে সেই কবিতার লাইন এর মত বিদ্যে বোঝাই বাবু মশাই এর জীবনের মত ষোলো আনাই বৃথা এ পোড়া জীবন। 
জীবনের সুখে, দুঃখে, যন্ত্রণায়,আবেগে ভেসে যেতে যেতেও সেলফি কিন্তু চাই চাই। আসলে এটা যে এখন জীবনের অন্যতম অঙ্গ হয়ে গেছে সেটা ভুলে গেলে চলবে কি করে আমাদের। জীবনের সাথে এর সম্পর্ক এখন যে কত গভীর। তাই আজ সেলফি কথা লিখবো বলেই আমি ঠিক করলাম আমার এই সাদা জীবনের কালো কথায় আঁকাবাঁকা অক্ষরে আঁকিবুঁকি ব্লগে। 

সত্যিই বলতে কি জানেন তো আমিও আপনাদের মতই সেলফি তুলে রাখার অনেক সুযোগ পেয়েছিলাম একসময়। সেই সময় আমি কলকাতায় আকাশবাণীতে সাংবাদিকতার কাজের সুত্রে এই সব সুযোগ পেয়ে ছিলাম একসময়। আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর বা তার আগে এই সেলফি তোলার সুযোগ পেলে যার সাথে একটিবার সেলফি তুলে রাখতাম তিনি অবশ্যই সেই যে বিশ্ব সুন্দরী সুস্মিতা সেন। 

মিস ইউনিভার্স হয়ে প্রথম কলকাতায় এলেন যেদিন গড়িয়াহাটে তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতে। আকাশবাণীর তরফে সেদিন সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে অত কাছ থেকে বিশ্ব সুন্দরীকে দেখে ওই তার পেলব সুন্দর ঠোঁট, টানা টানা চোখ আর মাখনের মত গায়ের রং দেখেও যে সেলফি তোলা হয়নি আমার সেদিন। আসলে সেই সময় কি আর এসবের চল ছিল। না কোথায় সেলফি জোন আর কোথায় মোবাইলের এত দাপট ছিল সেই সময়। তাই আমার সেই দুঃখ আজও রয়ে গেছে সেই আমার স্বপ্নকন্যা বিশ্ব সুন্দরীর সাথে যদি একটা সেলফি তুলে রাখতে পারতাম। তাহলে বোধহয় আমার এই পাঁশুটে জীবনটা একটু এই বুড়ো বয়সে এসে বেশ ভালো লাগতো। 

নোনতা স্বাদহীন‌ জীবনে কেমন একটা সুন্দর স্বাদ পেতাম আজ আমিও। সবাইকে বেশ হাসি হাসি মুখে বলতে পারতাম যে আমিও এদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি এক সময়, দেখো দেখো তোমরা সবাই। কিন্তু কই কোনো সাবুদ নেই যে আমার কাছে। তাহলে কি করে বলব। 

আর সেই যে যেদিন সানন্দার অফিসে সাক্ষাৎকার নেবো বলে দরজা ঠেলে ঠাণ্ডা ঘরে ঢুকলাম যখন বুকটা কেঁপে উঠেছিল একটু। ঘরে ঢুকে দেখলাম চোখে কালো রোদ চশমা পরে বসেছিলেন সেই বিখ্যাত অভিনেত্রী সুন্দরী অপর্ণা সেন। যে সেই সিনেমায় যেমন করে অপেক্ষা করেছিলেন, ট্রেন ধরে চলে যাবার সময় যে দৌড়ে এসে ছিলেন রিক্সা করে হন্তদন্ত হয়ে সৌমিত্রের জন্যে প্ল্যাটফর্মে। তারপর ট্রেন ছেড়ে চলে যাবার পর টলটলে দু চোখের কোল ভেসে যাচ্ছিল তার। সৌমিত্রর ডাকে যার সম্বিৎ ফেরে। সেই ডাক সাইটে অভিনেত্রী একমনে আমায় দেখে বুঝলেন, না এর জন্য এত চড়া লিপস্টিক আর এত সাজ না করলেই হতো বোধহয়। সেই বিখ্যাত অপর্ণা সেনের সাথেও যে একটাও সেলফি তোলা হয়নি আমার সেদিনও ওই সাদা বাড়ির ওই ঠাণ্ডা ঘরে বসে সাক্ষাৎকার নেবার পর। 

আসলে সেই আমলে তো আর এমন কলি যুগের মত সেলফি যুগ হাজির হয়নি খুব একটা। যে যুগে একদিন সকাল বেলায় অসুস্থ অভিনেতা অনিল চট্টোপাধ্যায়কে দেখতে এলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ গাড়ি নিয়ে সেই টালিগঞ্জের বাড়িতে। একটা সোফায় বসে জিজ্ঞাসা করলেন কেমন আছেন অনিল জেঠু। সেই সকালে তো আমিও হাজির ছিলাম সেদিন ওই বাড়িতেই। চুপ করে দাঁড়িয়ে দেখলাম সেই ছায়াছবির সেই দুই নায়কের মিলন দৃশ্যও কিন্তু ছবিতে ধরে রাখতে পারিনি সেই মুহূর্তও। আজ এসব ভাবলে বড়ো আফশোষ হয় আমার। 

আসলে কি করবো আমাদের সেই সব দিনগুলোতে যে এমন করে সেলফির ঝড় ঝাপটা আসেনি আমাদের জীবনে এখনকার মত। তাহলে কি আর হাতের সামনে সেই ডিস্কো ড্যান্সার এর জন্যে বিখ্যাত মিঠুন চক্রবর্তীকে হাতের নাগালে পেয়েও কেউ একসাথে হাসি মুখে ছবি না তুলে ছেড়ে দেয় পার্ক হোটেলের ঘরে বসে একা একা শুধু নতুন বছরের শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে অফিস ফিরে আসে। কি করবো বলুন তো সেই সুযোগ ছিল না যে সেদিন। 

বহু পড়ে যখন আমি কাজের সূত্রে নানা চ্যানেলে কর্মরত হলাম হাতে মোবাইল পেলাম, ছবি তোলার সুযোগ পেলাম। না, সেদিনও তো সেই নানা বিখ্যাত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে হাসি হাসি মুখ করে সেলফি তুলে নিজেকে কেউকেটা মাতব্বর ভাবতে পারিনি আমি। উল্টে কিছুটা যেনো সঙ্কোচ আর কিছুটা নিজের কাছে নিজের জড়তা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে পারিনি হাল আমলের দেব, জিৎ বা ঋতুপর্ণার কাছে। এমনকি মহাকরণে লাইন দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে হাতে রাখী পড়ে তার ছবি তুলে ধরে রাখার দিনেও কেমন যেনো গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে গেছিলাম আমি। আসলে কেমন যেনো লজ্জা পেয়ে ছিলাম আমি সেদিনও কিছুটা দ্বিধাও ছিল। 

আসলে এক ছোটো অতি ক্ষুদ্র জীবন এর সাথে এক বৃহৎ অতি বৃহৎ জীবনের এই ভাবে ছবি তুলে ধরে রাখা কেমন যেন বেমানান লাগে আমার। আজকাল অবশ্য এটাই নিয়ম। তোমার কার সাথে পরিচয় আছে সেটা নির্ণয় হয় তার সাথে কটা ছবি তোলা আছে তোমার মোবাইলে সেটার ওপর নির্ভর করে সেই ব্যক্তির গুরুত্ব কতখানি সমাজে তার কি স্ট্যাটাস সেটার ওপর। তোমার মোবাইলের পর্দায় সেই সব বিখ্যাত ব্যক্তির ছবি জ্বল জ্বল করছে। এটাই তো হল আসল কথা। কিন্তু সেসব কিছুই করা হয় নি যে আমার এই জীবনে। তাই বোধহয় আমি পিছিয়ে পড়েছি এই আধুনিক সেলফির যুগে। সে যাকগে পিছিয়ে পড়ি তাতে আমার কোনো দুঃখ নেই।

 কিন্তু যে জন্য এত কথা বললাম সেই দুজনের দুই মহিলার দিনে দুপুরে হাটের মাঝে সেলফি তোলার হিড়িক দেখে চমকে গেলাম একটু। আমি হয়তো তাদের সেই দুজন মহিলার কোনো ছবি তোলার চেষ্টা করিনি কিছুটা ভয় আর সঙ্কোচে। কিন্তু অনেক পরে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করলাম আমার পাশে বসা সেই মহিলাকে ছবি তুললেন কেনো অমন করে দুজনে মিলে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে। একদম আদি অকৃত্রিম হাসি হেসে সোজা সাপটা জবাব তাঁর। ও আমার বহু পুরোনো দিনের বন্ধু। বহু দিনের বন্ধু ও জানেন। সেই কবেকার বন্ধুত্ব আমাদের দুজনের। কিন্তু জানেন তো ওর হার্টের রোগ ধরা পড়েছে। কানেরও সমস্যা আছে। অপারেশন করতে হবে। ডাক্তার বলেছে খুব ভালো নেই ও। তাই আজ হাটে এসে আমায় দেখতে পেয়ে বলল চল দুজন মিলে মজা করে এই খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে অর্জুন গাছকে সাক্ষী রেখে আমরা দুজন একটা সেলফি তুলি। আমি যখন থাকবো না তখন তুই এই ছবিটা দেখবি। আর আমার কথা মনে করবি, ভাববি। মনে পড়বে তোর আমার কথা। 

আমি এই সব কথাগুলো শুনে কেমন যেনো চুপ করে স্থবির হয়ে গেলাম একটু । সত্যিই তো কেমন অকপটে সেলফি তোলার আসল উদ্দেশ্য কি সেটা বলে দিলো আমায় ওই হাটে বসা গ্রাম্য মহিলা। যে হাসতে হাসতে বলে দিলো জীবনের ডাক কার কখন আসে কে জানে। তাই তো দুজন মিলে একসাথে ছবি তুলে রেখে দেওয়া। আমি কি আর বলব চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম সেই নাম না জানা ওই গ্রাম্য মহিলার সামনে। যে আমায় বলে দিলো কত অবলীলায় কার ডাক কখন আসে কে জানে। তাই তো একটু ছবি তুলে রাখা দুজনের। ডাক্তার তো আমার বন্ধুকে বলে দিয়েছে ওর শরীর ভালো নেই তাই একটু ছবি তুলে রাখা।
এই অবস্থায় সেলফি তুলে দুজন দুজনকে হারিয়ে ফেলে একে অপরের সাথে থেকে যাওয়া ওই মোবাইলের মাধ্যমে। আর যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে এত বছরে সেই সম্পর্ককে জাগিয়ে রাখা এই বুকের মাঝে। এই বলে কেমন যেন একটা মায়াময় দৃষ্টি দিয়ে আমায় বলল কি করবো বলুন ডাক্তার যে ওকে বলে দিয়েছে ওর শরীর ভালো নেই অবস্থা ভালো নয় ওর। এমন কেউ বলে বলুন আপনি। 

আমার মুখ থেকে কোনো কথা নেই। চুপ করে মাথা নিচু করে সেই মহিলার কথা শুনলাম আমি। দুই ছেলে, বড় ছেলে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে সামনের বছর। স্বামী কলকাতায় রান্নার কাজ করে অল্প টাকা আয় করে। সংসারের খরচ চালানোর প্রয়োজনে সে এই হাটে এসে বসেছে কঙ্কালীতলায়। ছেলে দুটোকে তো মানুষ করতে হবে বলুন। আমি চুপ করে শুনছিলাম ওর কথা। 

আমি যেনো সাদা জীবনের কালো কথা লিখতে হবে বলে এমন কথা আমায় লিখতে হবে বলে ভাবিনি কোনো দিন আমি। এমন একটা চরম সত্য, নির্মম সত্য কথা জেনেও হাসি মাখা মুখে কেমন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে সেলফি তুলে রাখা। একজন অন্য জনকে ছেড়ে চলে গেলে, হারিয়ে গেলে এক বন্ধু যেনো দেখতে পায় অন্য বন্ধুকে। সত্যিই এমন সেলফিও হয় তাহলে। কে জানে হয়তো হয়। আমার জানা ছিলো না।

 জীবনকে গভীর ভাবে জড়িয়ে ধরে রাখার সেলফি। যে জীবনের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে সুখ, দুঃখ, ভালোবাসা,যন্ত্রণা, বন্ধুত্বের নানা অজানা অচেনা সম্পর্কের হাজারো গভীর গোপন কথা। যেগুলোকে ধরে রাখতেই এই বন্ধুত্বের সেলফি। যে সেলফির স্মৃতি, তার স্বাদ একদম আলাদা। যে সেলফির মধ্যে লুকিয়ে আছে গভীর নিখাদ ভালোবাসা।

সেলফির স্মৃতি - অভিজিৎ বসু।
ঊনত্রিশ জুলাই, দু হাজার চব্বিশ

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ্যাপি বার্থডে রনজিৎ দা

আমার মোবাইলে নম্বরটা আজও সেভ করা আছে রনজিৎ মদন দা নামেই। কবে, কোথায় ওর সাথে দেখা হয়েছিল আজ আর সেটা স্মরণে নেই আমার। হয়তো সেই ২৪ চৌরঙ্গী রোডের অফিসে বা ভবানীপুরের সেই বিখ্যাত অফিসে দেখা হয়েছিল একদিন। ডাকাবুকো কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র তখন প্রিয়রঞ্জন‌ দাসমুন্সীর লোক। একদম ফর্সা গায়ের রং। চোখে রোদ চশমা, সাদা প্যান্ট সাদা জুতো পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক আর ওদিক। আর সেই কিছু দরকার পড়লেই রনজিৎ রনজিৎ বলে ডাক দিচ্ছেন তিনি দরকারে আর অদরকারে।  রনজিৎ হলো মদনদার সেই পুরোনো দিনের একমাত্র সঙ্গী আর ছিল সেই স্বপন মাইতি বর্তমানে তিনি আর বেঁচে নেই। এস এস কে এম এ গেলেই স্বপনদা কে দেখতাম আমরা। কিন্তু সেই জাদুঘর এর ফুটপাথ ধরে বিকেলের কাগজ বের হলে পট পরিবর্তন আর অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়ে চলে যেতাম আমরা দুজন। বর্তমানে একজন তৃণমূলের মুখপাত্র অনেক বড় মাপের সাংবাদিক ও রাজনীতির লোক। দলের অন্দরে অনেক দূর অবধি তাঁর হাত বিস্তৃত। অন্যদিকে আর একজন ৩৫ বছর এই বাংলা মিডিয়াতে কাজ করে এখন বাতিলের দলে টোটো চালক হয়ে গেছে আর কি।  যাক সেই রনজিৎ এর আজ জন্মদিন। মনে পড়ে গেলো আমার...

ইটিভি ও অম্বরীষ‌ দা।

সাদা জীবনের কালো কথায় এমন একজনের কথা লিখবো আজ যার কথা অনেক আগেই লেখা উচিত ছিল আমার। ইটিভির কর্ণধার রামোজি রাও এর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির কথা লেখার সময় যার কথা আমার এক লাইন হলেও লেখা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যা আমায় মনে করিয়ে দিলেন একজন প্রাক্তন ইটিভির সহকর্মী। তার কথা শুনে মনে হলো ঠিক তো চেয়ারম্যান স্যার কে হারিয়ে আমরা সবাই ইটিভির কর্মীরা মিলিত হলাম এক নিমেষে এক ছাতার তলায়। কিন্তু যার জন্য আমরা সবাই তাঁর কাছে এই ইটিভির কোম্পানি তে কাজ এর সুযোগ পাই তাঁর কথা উল্লেখ করা দরকার ছিল বোধ হয়। কিন্তু আমি লিখি নি বা হয়তো ভুলে গেছিলাম সেই মানুষটার কথা বলতে। সেই ব্যক্তির কথাই আজ বলবো কিছুটা। না হলে সেটা ঠিক কাজ হবে না কিছুতেই।  যে মানুষটার জন্য আমরা প্রায় সবাই এই ভাবে সব একসাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কেউ পশ্চিমবাংলায় কাজ করেছি আবার কেউ কেউ হায়দরাবাদ এর সেই পাঁচিল ঘেরা রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যে কাজ করেছি। কিন্তু বাংলা মিডিয়ার সেই ছোট্টো চারা গাছের যে বীজ রামোজি রাও বপন করেছিলেন সেই সময় আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। এই মানুষটার হাত ধরেই লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল স...

দিদির নিদান

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ চুরি না করার নিদান। সেই ছোটো বেলায় পড়েছিলাম বইতে মাসীর সাবধান বাণী। চুরি করে কি অবস্থা হলো। শেষে মাসীর কান কামড়ে দিল বালক। মাসীর সাবধান বাণী না শুনে। আজ এই এক ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আমার সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো হঠাৎ করেই। আচ্ছা সত্যিই কি এই কড়া নিদান দিয়ে চুরি রোখা যায়। কথায় বলে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। মুখ্যমন্ত্রীর একদম সোজা সাপটা এই বর্জ নির্ঘোষ কথা শুনে আমার এমন মনে হলো আজ। যে কথার উত্তর দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই কারুর।  সে দলের যে নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, বা পুরসভার চেয়ারম্যান হোক। চুপ করে বসে হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ উত্তর দিলেই বিপদ বাড়বে বই কমবে না। একদম সোজা সাপটা তীরবিদ্ধ আক্রমন এর সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা। করে খাবার জায়গা নয় তৃণমূল দল। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নিজের পেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতি আর নয়, অনেক হয়েছে।  সত্যিই তো রাজনীতির আঙিনায় এই সব কিছুকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। কত কষ্ট করে মাটি তৈরি করে, জল দিয়ে এই ছোটো দুটি জোড়...

বিশ্ব সাইকেল দিবস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস এর কথা। এই দু চাকার যানকে নিয়ে যে কত অম্ল মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে সবার জীবনেই তা বলে শেষ করা যাবে না বোধ হয়। আর আজ সেই সাইকেল উদযাপনের একটি আন্তর্জাতিক দিন। এই বিশ্ব সাইকেল দিবস প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় এই দিনটি।  ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে সাইকেলের দীর্ঘ জীবনকাল এবং বহু কাজে ব্যবহৃত হওয়ার প্রশংসা করা হয়। সঙ্গে প্রায় দুই শতক কাল এর সাধারণ,কম খরচ, বিশ্বাসযোগ্যতা, এবং পরিবেশের জন্য উপযুক্ত যানবাহনের মাধ্যম হিসাবে সাইকেলের উল্লেখ করা হয়েছিল। সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মূলতঃ এই দিবস উদ্‌যাপন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়েই। বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ তাই সবার কাছেই জানা একটা বিষয়। কিন্তু যে সাইকেল নিয়ে এত কথা সেই লাল টুকটুকে সাইকেল পেয়েছিলাম আমি স্কুল জীবনে ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠে। সময়টা যত দুর মনে পরে শীতকাল ডিসেম্বর মাস। মেজমামা আমায়...

ইটিভির রবি দা

কিছু কিছু মানুষের হাসি মাখা মুখটা মনে পড়লেই কেমন মনটা ভালো হয়ে যায় যেনো এই পৌষের কুয়াশা মাখা সকাল বেলায়। কতদিন যে সামনাসামনি দেখা হয়নি তার সাথে। কতদিন যে একসাথে পথ হাঁটা হয়নি আর। কতদিন যে গলা শোনা হয়নি তার। কি রে কি খবর তোর। এই বলেই পিঠের ওপর হাতটা নিয়ে চাপড়ে দেওয়া। ভাবটা এমন ভয় নেই কোনও তোর কাজ করে যা তুই।  হ্যাঁ, যে প্রথম আমায় ভোটের সময় ইটিভির জেলা থেকে কলকাতায় ডিউটির সময় কলকাতা অফিসে সারাদিন বসিয়ে না রেখে কলকাতা শহরে প্রথম লাইভ করার সুযোগ করে দেয়। সেই হায়দরাবাদ থেকে আসা বড়ো ওবি ভ্যান দিয়ে বলে যা লাইভ করে আয় তুই। যদিও ভোটের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব পালন করা আশপাশের কর্তা ব্যক্তিরা সেটা শুনে খুব একটা খুশি হয়নি সেই দিন। কারণ হয়তো আমি দেখতে খারাপ বলে। কিন্তু কিছু বলতেও পারেনি তার মুখের ওপর। সেই দক্ষিণ কলকাতায় তথাগত রায়কে নিজে বলে দিয়ে এক ভোটকেন্দ্র থেকে লাইভ করানো। সালটা ২০০২ হবে বোধহয় খুব সম্ভবত।  সেই জেনারেটর দিয়ে ওবি চলা। রাস্তায় কালীঘাট থানার পুলিশের এসে বলা গাড়ি দাঁড় করানো যাবে না এইভাবে। আর তার মাঝেই ধুতি...