সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সেলফির স্মৃতি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ শুধু সেলফি তোলার কথা। এই সেলফির এখন খুব চল হয়েছে। আজ সেলফি তোলা এক গল্পের দুই বন্ধুর বন্ধুত্বের নানা অজানা কথা। আসলে এই সেলফি তো শুধু মাত্র একটা নিজের উপস্থিতির প্রমাণ করা নয়। এই সেলফি একদম চুপ চাপ দুজনে দুজনকে আশ্লেষে জড়িয়ে ধরে নিগূঢ় বন্ধনে বাঁধা থেকে সেলফি তুলে ভবিষ্যতের জন্য ধরে রাখার কথা। যার জন্য আমিও একটু অবাক হয়েছিলাম দুর থেকে ওদের দুজনকে দেখে।

ভরা হাটে একজন অপর জনকে ডেকে নিয়ে ছবি তুলছে আপন মনে হাসিমুখে। কেমন যেনো কোনো দিকে নজর নেই ওদের দুজনেরই। যেনো কত দিনের পুরোনো চেনা সম্পর্ক ওদের। সত্যিই তো জীবনের এই সব ছোটো ছোটো ঘটনা ঘটে যায় আমাদের সবার চোখের সামনে। কিন্তু সেই সব ঘটনার পেছনে লুকিয়ে থাকে হাসি, কান্না, সঙ্কোচ, বেদনা আর বিহ্বলতা। সেই রকম ভাবেই ওরা ছবি তুলে ধরে রাখলো দুজনে দুজনকে জড়িয়ে ধরে। 

আজকাল তো পটাপট মোবাইল ফোনে আনলিমিটেড ক্যামেরার লেন্সে চোখ রেখে কেমন যেন একটা ছবি তোলার হিড়িক পড়েছে সর্বত্র। সে পাহাড় থেকে হোক, ট্রেনের দরজা থেকে ঝুলতে ঝুলতে হোক, কিম্বা জঙ্গলের গহন বনে চাঁদনী রাতে হাঁটতে হাঁটতে হোক, পাহাড়ী ঝর্ণার নিচে দাঁড়িয়ে দু হাত তুলে ধরে হোক, বিপদসঙ্কুল সমুদ্রের ঢেউ দেখতে দেখতে পা ভিজিয়ে ব্যালেন্স হারিয়ে ভেজা বালিতে পড়ে যেতে যেতে হোক এমন কি প্রিয়জনকে হারিয়ে তাঁকে শেষ বিদায় বেলায় হোক সেলফি কিন্তু মাস্ট। চাই চাই, আর সেটা না হলে সেই কবিতার লাইন এর মত বিদ্যে বোঝাই বাবু মশাই এর জীবনের মত ষোলো আনাই বৃথা এ পোড়া জীবন। 
জীবনের সুখে, দুঃখে, যন্ত্রণায়,আবেগে ভেসে যেতে যেতেও সেলফি কিন্তু চাই চাই। আসলে এটা যে এখন জীবনের অন্যতম অঙ্গ হয়ে গেছে সেটা ভুলে গেলে চলবে কি করে আমাদের। জীবনের সাথে এর সম্পর্ক এখন যে কত গভীর। তাই আজ সেলফি কথা লিখবো বলেই আমি ঠিক করলাম আমার এই সাদা জীবনের কালো কথায় আঁকাবাঁকা অক্ষরে আঁকিবুঁকি ব্লগে। 

সত্যিই বলতে কি জানেন তো আমিও আপনাদের মতই সেলফি তুলে রাখার অনেক সুযোগ পেয়েছিলাম একসময়। সেই সময় আমি কলকাতায় আকাশবাণীতে সাংবাদিকতার কাজের সুত্রে এই সব সুযোগ পেয়ে ছিলাম একসময়। আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর বা তার আগে এই সেলফি তোলার সুযোগ পেলে যার সাথে একটিবার সেলফি তুলে রাখতাম তিনি অবশ্যই সেই যে বিশ্ব সুন্দরী সুস্মিতা সেন। 

মিস ইউনিভার্স হয়ে প্রথম কলকাতায় এলেন যেদিন গড়িয়াহাটে তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতে। আকাশবাণীর তরফে সেদিন সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে অত কাছ থেকে বিশ্ব সুন্দরীকে দেখে ওই তার পেলব সুন্দর ঠোঁট, টানা টানা চোখ আর মাখনের মত গায়ের রং দেখেও যে সেলফি তোলা হয়নি আমার সেদিন। আসলে সেই সময় কি আর এসবের চল ছিল। না কোথায় সেলফি জোন আর কোথায় মোবাইলের এত দাপট ছিল সেই সময়। তাই আমার সেই দুঃখ আজও রয়ে গেছে সেই আমার স্বপ্নকন্যা বিশ্ব সুন্দরীর সাথে যদি একটা সেলফি তুলে রাখতে পারতাম। তাহলে বোধহয় আমার এই পাঁশুটে জীবনটা একটু এই বুড়ো বয়সে এসে বেশ ভালো লাগতো। 

নোনতা স্বাদহীন‌ জীবনে কেমন একটা সুন্দর স্বাদ পেতাম আজ আমিও। সবাইকে বেশ হাসি হাসি মুখে বলতে পারতাম যে আমিও এদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি এক সময়, দেখো দেখো তোমরা সবাই। কিন্তু কই কোনো সাবুদ নেই যে আমার কাছে। তাহলে কি করে বলব। 

আর সেই যে যেদিন সানন্দার অফিসে সাক্ষাৎকার নেবো বলে দরজা ঠেলে ঠাণ্ডা ঘরে ঢুকলাম যখন বুকটা কেঁপে উঠেছিল একটু। ঘরে ঢুকে দেখলাম চোখে কালো রোদ চশমা পরে বসেছিলেন সেই বিখ্যাত অভিনেত্রী সুন্দরী অপর্ণা সেন। যে সেই সিনেমায় যেমন করে অপেক্ষা করেছিলেন, ট্রেন ধরে চলে যাবার সময় যে দৌড়ে এসে ছিলেন রিক্সা করে হন্তদন্ত হয়ে সৌমিত্রের জন্যে প্ল্যাটফর্মে। তারপর ট্রেন ছেড়ে চলে যাবার পর টলটলে দু চোখের কোল ভেসে যাচ্ছিল তার। সৌমিত্রর ডাকে যার সম্বিৎ ফেরে। সেই ডাক সাইটে অভিনেত্রী একমনে আমায় দেখে বুঝলেন, না এর জন্য এত চড়া লিপস্টিক আর এত সাজ না করলেই হতো বোধহয়। সেই বিখ্যাত অপর্ণা সেনের সাথেও যে একটাও সেলফি তোলা হয়নি আমার সেদিনও ওই সাদা বাড়ির ওই ঠাণ্ডা ঘরে বসে সাক্ষাৎকার নেবার পর। 

আসলে সেই আমলে তো আর এমন কলি যুগের মত সেলফি যুগ হাজির হয়নি খুব একটা। যে যুগে একদিন সকাল বেলায় অসুস্থ অভিনেতা অনিল চট্টোপাধ্যায়কে দেখতে এলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ গাড়ি নিয়ে সেই টালিগঞ্জের বাড়িতে। একটা সোফায় বসে জিজ্ঞাসা করলেন কেমন আছেন অনিল জেঠু। সেই সকালে তো আমিও হাজির ছিলাম সেদিন ওই বাড়িতেই। চুপ করে দাঁড়িয়ে দেখলাম সেই ছায়াছবির সেই দুই নায়কের মিলন দৃশ্যও কিন্তু ছবিতে ধরে রাখতে পারিনি সেই মুহূর্তও। আজ এসব ভাবলে বড়ো আফশোষ হয় আমার। 

আসলে কি করবো আমাদের সেই সব দিনগুলোতে যে এমন করে সেলফির ঝড় ঝাপটা আসেনি আমাদের জীবনে এখনকার মত। তাহলে কি আর হাতের সামনে সেই ডিস্কো ড্যান্সার এর জন্যে বিখ্যাত মিঠুন চক্রবর্তীকে হাতের নাগালে পেয়েও কেউ একসাথে হাসি মুখে ছবি না তুলে ছেড়ে দেয় পার্ক হোটেলের ঘরে বসে একা একা শুধু নতুন বছরের শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে অফিস ফিরে আসে। কি করবো বলুন তো সেই সুযোগ ছিল না যে সেদিন। 

বহু পড়ে যখন আমি কাজের সূত্রে নানা চ্যানেলে কর্মরত হলাম হাতে মোবাইল পেলাম, ছবি তোলার সুযোগ পেলাম। না, সেদিনও তো সেই নানা বিখ্যাত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে হাসি হাসি মুখ করে সেলফি তুলে নিজেকে কেউকেটা মাতব্বর ভাবতে পারিনি আমি। উল্টে কিছুটা যেনো সঙ্কোচ আর কিছুটা নিজের কাছে নিজের জড়তা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে পারিনি হাল আমলের দেব, জিৎ বা ঋতুপর্ণার কাছে। এমনকি মহাকরণে লাইন দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে হাতে রাখী পড়ে তার ছবি তুলে ধরে রাখার দিনেও কেমন যেনো গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে গেছিলাম আমি। আসলে কেমন যেনো লজ্জা পেয়ে ছিলাম আমি সেদিনও কিছুটা দ্বিধাও ছিল। 

আসলে এক ছোটো অতি ক্ষুদ্র জীবন এর সাথে এক বৃহৎ অতি বৃহৎ জীবনের এই ভাবে ছবি তুলে ধরে রাখা কেমন যেন বেমানান লাগে আমার। আজকাল অবশ্য এটাই নিয়ম। তোমার কার সাথে পরিচয় আছে সেটা নির্ণয় হয় তার সাথে কটা ছবি তোলা আছে তোমার মোবাইলে সেটার ওপর নির্ভর করে সেই ব্যক্তির গুরুত্ব কতখানি সমাজে তার কি স্ট্যাটাস সেটার ওপর। তোমার মোবাইলের পর্দায় সেই সব বিখ্যাত ব্যক্তির ছবি জ্বল জ্বল করছে। এটাই তো হল আসল কথা। কিন্তু সেসব কিছুই করা হয় নি যে আমার এই জীবনে। তাই বোধহয় আমি পিছিয়ে পড়েছি এই আধুনিক সেলফির যুগে। সে যাকগে পিছিয়ে পড়ি তাতে আমার কোনো দুঃখ নেই।

 কিন্তু যে জন্য এত কথা বললাম সেই দুজনের দুই মহিলার দিনে দুপুরে হাটের মাঝে সেলফি তোলার হিড়িক দেখে চমকে গেলাম একটু। আমি হয়তো তাদের সেই দুজন মহিলার কোনো ছবি তোলার চেষ্টা করিনি কিছুটা ভয় আর সঙ্কোচে। কিন্তু অনেক পরে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করলাম আমার পাশে বসা সেই মহিলাকে ছবি তুললেন কেনো অমন করে দুজনে মিলে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে। একদম আদি অকৃত্রিম হাসি হেসে সোজা সাপটা জবাব তাঁর। ও আমার বহু পুরোনো দিনের বন্ধু। বহু দিনের বন্ধু ও জানেন। সেই কবেকার বন্ধুত্ব আমাদের দুজনের। কিন্তু জানেন তো ওর হার্টের রোগ ধরা পড়েছে। কানেরও সমস্যা আছে। অপারেশন করতে হবে। ডাক্তার বলেছে খুব ভালো নেই ও। তাই আজ হাটে এসে আমায় দেখতে পেয়ে বলল চল দুজন মিলে মজা করে এই খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে অর্জুন গাছকে সাক্ষী রেখে আমরা দুজন একটা সেলফি তুলি। আমি যখন থাকবো না তখন তুই এই ছবিটা দেখবি। আর আমার কথা মনে করবি, ভাববি। মনে পড়বে তোর আমার কথা। 

আমি এই সব কথাগুলো শুনে কেমন যেনো চুপ করে স্থবির হয়ে গেলাম একটু । সত্যিই তো কেমন অকপটে সেলফি তোলার আসল উদ্দেশ্য কি সেটা বলে দিলো আমায় ওই হাটে বসা গ্রাম্য মহিলা। যে হাসতে হাসতে বলে দিলো জীবনের ডাক কার কখন আসে কে জানে। তাই তো দুজন মিলে একসাথে ছবি তুলে রেখে দেওয়া। আমি কি আর বলব চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম সেই নাম না জানা ওই গ্রাম্য মহিলার সামনে। যে আমায় বলে দিলো কত অবলীলায় কার ডাক কখন আসে কে জানে। তাই তো একটু ছবি তুলে রাখা দুজনের। ডাক্তার তো আমার বন্ধুকে বলে দিয়েছে ওর শরীর ভালো নেই তাই একটু ছবি তুলে রাখা।
এই অবস্থায় সেলফি তুলে দুজন দুজনকে হারিয়ে ফেলে একে অপরের সাথে থেকে যাওয়া ওই মোবাইলের মাধ্যমে। আর যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে এত বছরে সেই সম্পর্ককে জাগিয়ে রাখা এই বুকের মাঝে। এই বলে কেমন যেন একটা মায়াময় দৃষ্টি দিয়ে আমায় বলল কি করবো বলুন ডাক্তার যে ওকে বলে দিয়েছে ওর শরীর ভালো নেই অবস্থা ভালো নয় ওর। এমন কেউ বলে বলুন আপনি। 

আমার মুখ থেকে কোনো কথা নেই। চুপ করে মাথা নিচু করে সেই মহিলার কথা শুনলাম আমি। দুই ছেলে, বড় ছেলে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে সামনের বছর। স্বামী কলকাতায় রান্নার কাজ করে অল্প টাকা আয় করে। সংসারের খরচ চালানোর প্রয়োজনে সে এই হাটে এসে বসেছে কঙ্কালীতলায়। ছেলে দুটোকে তো মানুষ করতে হবে বলুন। আমি চুপ করে শুনছিলাম ওর কথা। 

আমি যেনো সাদা জীবনের কালো কথা লিখতে হবে বলে এমন কথা আমায় লিখতে হবে বলে ভাবিনি কোনো দিন আমি। এমন একটা চরম সত্য, নির্মম সত্য কথা জেনেও হাসি মাখা মুখে কেমন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে সেলফি তুলে রাখা। একজন অন্য জনকে ছেড়ে চলে গেলে, হারিয়ে গেলে এক বন্ধু যেনো দেখতে পায় অন্য বন্ধুকে। সত্যিই এমন সেলফিও হয় তাহলে। কে জানে হয়তো হয়। আমার জানা ছিলো না।

 জীবনকে গভীর ভাবে জড়িয়ে ধরে রাখার সেলফি। যে জীবনের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে সুখ, দুঃখ, ভালোবাসা,যন্ত্রণা, বন্ধুত্বের নানা অজানা অচেনা সম্পর্কের হাজারো গভীর গোপন কথা। যেগুলোকে ধরে রাখতেই এই বন্ধুত্বের সেলফি। যে সেলফির স্মৃতি, তার স্বাদ একদম আলাদা। যে সেলফির মধ্যে লুকিয়ে আছে গভীর নিখাদ ভালোবাসা।

সেলফির স্মৃতি - অভিজিৎ বসু।
ঊনত্রিশ জুলাই, দু হাজার চব্বিশ

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো থাকবেন শঙ্খ শুভ্র বাবু

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক পুলিশ অফিসার এর কথা বলবো। বহুদিন পর আজ যার সাথে আচমকাই কথা হলো আমার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের লেখার মাধ্যমে বহু দিন, বহু কাল পরে। আচ্ছা আপনি কি সত্যিই টোটো চালান। তাঁর সরাসরি প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে আমি বললাম, না।  আসলে সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার বহু বছর আগে এস ডি পি ও শ্রীরামপুর হিসেবে কাজ করতেন আমার নিজের হুগলী জেলায় নিজের শহরে শ্রীরামপুরে। যে জেলায় আমিও একসময় দাপিয়ে ঘুরে কাজ করেছি একসময় এই জেলার সাংবাদিক হিসেবে। যদিও সেই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে বেঁচে থাকার অভ্যাস আমার নেই একদমই। সেটা কোনো কালেই ছিল না। যেহেতু আজ বহুদিন পর তাঁর সাথে একটু যোগাযোগ হলো তাই তাঁর কথা লিখতে ইচ্ছা হলো আমার। সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার হলেন শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী। একদম হিরো স্টাইল এর পুলিশ অফিসার। মারকুটে এই পুলিশ অফিসার। মস্তানদের ধরে রাস্তায় ফ্যাশন প্যারেড করানো সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার শঙ্খশুভ্র বাবু। যে কারণে হুগলী জেলায় মস্তান আর ডনদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে খবরের কাগজের পাতায় প্রতিদিন খবরে থাকতেন তিনি সেই সময়।  যার সময় খবর...

বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দোপাধ্যায়

এই বাংলার রাজনীতি। বিরোধী দল। বিরোধী দল নেতা। সেই আমলে সিপিএমের দোর্দণ্ড প্রতাপ দাপট। সেই দাপটেও একা কুম্ভ রক্ষা করে নকল বুঁদি গড়।‌ আর একটা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এর সন্ধান পাওয়া। যিনি সেই দলের ক্রাইসিসে, দলের দুর্দিনে যখন খুব খারাপ অবস্হা। আশংকাজনক অবস্থায় দল যখন এ পজিটিভ রক্তের এর অভাবে ভুগছে রক্তল্পতায়। দৌড় ঝাঁপ করছে, এদিক ওদিক ঘুরছে সেই অবস্থায় কেমন একাই সব সামলে দিয়েছেন তিনি দলকে নানা বিপদ থেকে উৎরে দিয়েছেন হাসিমুখেই। কাউকে কিছু টের না পেতে দিয়ে।  আর আবার তিনিই যখন সারারাত জেগে গোবিন্দপুর বস্তি আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হচ্ছে সবাই যখন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে রাত জাগছেন আর গলা ছেড়ে কেউ কেউ গান ধরছেন দিদিকে খুশী করতে। সেই সময় দিব্যি তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আর সত্যিই রাত জেগে অন্দোলন হচ্ছে কী না সত্যি না মিথ্যে কথা সেটা দেখতে বর্তমান তৃণমুলের এক বর্ষীয়ান সাংসদের স্ত্রী যিনি আজ আর বেঁচে নেই তিনি দেখতে ছুটে এসেছিলেন তাঁর অধ্যাপক স্বামীকে সেই রাতে গোবিন্দপুর বস্তির এলাকায়। আর এতো ঘটনা ঘটলেও তিনি ফোন বন্ধ করে গভীর নিদ্রায...

ঝড়

ভালোবাসার ভীড়ে ভরে উঠবে শহর থেকে গ্রাম। থিক থিকে ভীড়ে উড়বে ধুলোর কনা চারিদিকে। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যাবে শরীর, মন, প্রাণ। ধুলোর ঝড়ে হারিয়ে যাবে মনের মানুষ। হারিয়ে যায় গোটা জীবন।  জীবনের ছায়া মায়া মাখা পথে একা ঘুরে বেড়াই আমি। ভালোবাসার ভীড়ে আত্মাদের সাথে গা ঢাকা দিয়ে,  লুকিয়ে হাঁটি একা, একা। দেখি অন্ধকারের পথ জুড়ে শুধুই, ভালবাসার অভিনয় করা মানুষের ভীড়। মসৃণ রাস্তায় সরীসৃপের মত এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ায় তারা সন্তর্পনে। পায়ে পা মেলাই ধুলোর ঝড় গায়ে মেখে আনমনে,  ধুলি ধুসরিত হয়ে।  ঠিক যেনো ছাতিমের ডালে বসা ছাতারের মত। ঘোলা চোখের ধুলো মাখা দৃষ্টিতে, দুর পানে তাকিয়ে দেখি।  সূর্যের মিঠে আলোয়, ধুলোর কনা গায়ে মেখে  গোপন অভিসারে মত্ত প্রজাপতির দল। অভিনয়ের অভিসার নয়,  সত্যিই কারের ভালোবাসার অভিসার। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যায় আমার শরীর,মন, প্রাণ। ঝড় - অভিজিৎ বসু।

হ্যাপি বার্থডে টু ইউ

আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আমি তো অনেক সাংবাদিককে নিয়েই লিখি আমি। অনেকে বলেন কী বা হবে এই টোটো চালকের লেখা লিখে বলুন আপনারা এইসব আর কি বা পড়ে। কতজন এর সাথেই তো কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার এই দীর্ঘ ৩৫ বছরে। তবে এই অঙ্গীরা ব্যানার্জীর জন্মদিন গেলো সদ্য সদ্য। তাঁকে নিয়ে লিখতে গেলে একটু ভয়ই হয় বটে। যদি কিছু ভাবেন তিনি আর তাঁর সাথে জেলার সাংবাদিক হিসেবে কাজের সুযোগ ঘটেনি বলে। এক সময়ে সেই মুম্বাইয়ের এর তাজ হোটেলে জঙ্গী আক্রমণের সময়ে টিভির পর্দায় দেখেছি আমরা তাঁকে। সেই খুব সম্ভবতঃ ২৪ ঘণ্টার পর্দায় দেখেছি তাঁকে। কী দাপটে কাজ করেছেন তিনি সেই সময়।  সে এক ভয়ঙ্কর কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর এই সাংবাদিকতার জীবনে। আরও অনেক বড় বড় ঘটনার সাক্ষী সে। কলকাতাতে প্রয়াত অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিমে কাজ করেছে সে ক্রাইম বিটে সে বেশ বিখ্যাত দাপুটে রিপোর্টার ছিলেন তিনি সেই সময়ে। দিল্লী আর কলকাতা তে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। এই দিন কয়েক আগেই দেখলাম বহু দিনের পর দেশে এসেছেন তিনি দুবাই থেকে। বেনারস ভ্রমণে। টুক টাক কথা হলো যে তাঁর সাথে ফেসবুকের দুন...

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে তিনি থাকতেন একসময়। বর্তমানে গ্রাম ছেড়ে শহরে সল্টলেকে থাকেন তিনি বর্তমানে। আনন্দবাজার কাগজের প্রথম পাতায় তাঁর লেখা পড়ে আর নানা এক্সক্লুসিভ খবর পড়ে মুগ্ধ হতাম আমি একসময়ে। মনে মনে ভাবতাম যদি একবার এই বিখ্যাত রিপোর্টারকে তাঁকে দেখতে পেতাম একবার। তাহলে যেনো জীবন সার্থক হতো মোর। শুধু দু চোখের দেখা আর কিছুই নয়।  অবশেষে দর্শন হলো তাঁর সাথে আমার মহাকরণের প্রেস কর্নারে। সেই পল্লীডাক প্রেসে কত যে তাঁর নাম শুনতাম সেদিনের কাগজে তাঁর নামে লেখা বের হলেই তাঁর প্রসঙ্গ আসতো। সেই তারকেশ্বরের ফাল্গুনীদার কাছে শুনতাম। সেই টেলিগ্রাফের তারক এর মুখে শুনতাম। আর সেই তাঁকেই নিজের চোখে দেখলাম প্রেস কর্ণারের ভিতর। ইটিভির দীপক এর সাথে বেশ ভালই আলাপ দেখলাম। একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে। একদম সাদামাটা চেহারা। দেখতে খুব যে ঝাঁ চকচকে সেটা নয়। আনন্দবাজার এর ছাপ আছে কিন্তু সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। একবার এই মন্ত্রীর ঘর তো আবার অন্য মন্ত্রীর ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি সবসময়।  আর আমি আমার নিজের জেলার এহেন সাংবাদিককে দেখেই প্রথম দর্শন...