সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কুপন

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ একটা কুপনের গল্প। আসলে কি জানেন তো প্রতিদিন তো আমি নানা গল্প খুঁজি। জীবনের মাঝে ছড়িয়ে থাকা, জড়িয়ে থাকা কিছু গল্প। যে গল্প গাছের পাতায় লুকিয়ে থাকা গিরগিটির মত রং বদলায় না। জীবনের মেঠো পথে উজ্জ্বল হয়ে জ্বল জ্বল করে। আর সেই সব অজানা, অচেনা মানুষ যারা পথের মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে তাদের সাথে পরিচয় না থাকলেও যে কেমন করে আপন হয়ে যায় তারা কে জানে। আমার এই আপাত এলোমেলো এলেবেলে জীবনে কেমন করে যে আপন হয়ে যায় তারা কে জানে। আসলে জীবন বোধহয় এমনই। যে চেনা মুখ চেনা মানুষ কেমন অচেনা হয়ে যায় কত দূরে চলে যায়। আর অজানা অচেনা মানুষ কত যে চেনা পথের পথিক হয়ে যায় কে জানে। আসলে সেই শীর্ষেন্দুদার সেই বিখ্যাত লাইন অভিজিৎ, জীবনকে দেখো জীবনই হলো সব থেকে বড় শিক্ষক। আর তাই তো জীবন দেখার নেশায় বুঁদ আমি এই বুড়ো বয়সেও।
এবার আসি কুপনের গল্পে। শনিবার আজ তো সেই আমার হাটবার। তাই শুক্রবার রাত কেটে শনিবার এলেই কেমন যেন আনন্দ লাগে আমার। আকাশের নিচে, গাছের নিচে বসে থাকার আনন্দ। বেচাকেনা না হোক একটা বেশ মুক্তির আনন্দ মেলে যে। তাই শনিবার সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে চললাম মা কঙ্কালীতলায় হাটে বসতে। সাইকেল করে একঘন্টা সময়ে বোলপুর থেকে পৌঁছে গেলাম মা কঙ্কালীতলার মন্দিরে। আসলে এটা ঠিক উইকএন্ড কাটানোর মতো বিষয় আর কি। বেচাকেনা না হলেও একটু ঘুরে আসা আর কি। 
আজ চড়া রোদ মাথার ওপর। ঘেমে নেয়ে একশা হয়ে সাইকেল চালিয়ে পৌঁছলাম মন্দিরে বেলা বেশ বেড়ে গেছে। সেই সব চেনা মুখ, চেনা মানুষ গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে তারা। সব এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে তারা। আমিও বসে পড়লাম ওদের মাঝে। ভাদ্র মাসের প্রথম দিন শনিবার মন্দিরে বেশ ভিড় জমিয়েছেন পুণ্যার্থীর দল। লাইন পড়েছে পূজো দেবার। ঢং ঢং ঘণ্টার আওয়াজ, ধূপের গন্ধে মনটা বেশ ভালো হয়ে গেলো। একে শনিবার তার ওপর নিজের সময় খারাপ যাওয়া সব মিলিয়ে ভক্তিভরে মাকে প্রণাম করলাম। যদি সময় ভালো হয় এই আশায়।
 শুনলাম আজ দু জায়গায় খাবার দেওয়া হবে দুপুর বেলায়। এই বলে একটা কুপন দিলো সিপ্পু আমায়। সিপ্পুর সাথে বন্ধুত্বটা বেশ জমে গেছে আমার। দুই অসম বয়সী মানুষের বন্ধুত্ব কিন্তু কেমন একটা কত দিনের যেনো পরিচয় আমাদের। বেশ সুন্দর করে মধ্যাহ্ন ভোজনের কুপন দেখালো। কে দিয়েছে এটা আজ। বললেন মামুদ ভাই দিয়েছেন। ওই দিকে শিব মন্দিরে খাওয়া দেবে আজ। বেশ খুশি মনে বললো সিপ্পু। আর কঙ্কালীতলার মন্দিরের এদিকেও খাওয়াবে আজ।আপনার কুপন লাগবে রেখে দিন। আমি বললাম না লাগবে না আমার কুপন। দাও একটু ছবি তুলে রাখি।
 কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েত এর উপপ্রধান এই মামুদ ভাই। সামনে থেকে  তাঁকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি আমার। কিন্তু দু একবার ফোনে কথা বলে বেশ ভালই লেগেছে বেশ। নেতা হলেও অন্ততঃ সাধারণ মানুষের ফোন ধরেন, কথা বলেন, সাহায্যো করেন এটাই বা কটা লোক কজন নেতা আজকাল করেন। ভাবলাম যাক তাহলে ভালই হলো আজ দুপুরের খাবারের আয়োজন করেছে এরা। চিন্তা কি তাহলে আর।আসলে পেট বড়ো বালাই যে কি বলেন। একঘন্টা সাইকেল চালিয়ে এসে দুটো ভাত খেতে পাবো এটাই যে অনেক বড় কথা। একবেলা পেট পুরে একটু খেতে পেলে যে বর্তে যেতে হয়।  
বেলা বারোটার পর থেকেই দেখলাম দুর থেকে বসে কেমন সব লাইন পড়ে গেলো খাবারের জন্য। সত্যিই তো লাইনে দাঁড়িয়ে হলেও ভাত তো মিলবে। আজকের মেনু বেশ ভালো ভাত, পোলাও, ছানার তরকারি, পায়েস, চাটনি, পাঁপড়, সাথে আবার দশ টাকার জলের বোতল। ভাবলেও কেমন অবাক হলাম বেশ গুছিয়ে আয়োজন। 
সতী পিঠ মা কঙ্কালীতলায় মার মন্দিরে বসে ভাবছিলাম আমি এই জন্য তো এত দৌড়, এত লড়াই, এত ঠেলাঠেলি, এত হুড়োহুড়ি। মনটা বেশ খুশিতে গদগদ হয়ে গেলো আমার। হাটের কত লোক যে আমায় এসে জিজ্ঞাসা করলো আমি খেতে গেছি কি না  বেশ ভালো লাগলো ওদের এই জিজ্ঞাসা শুনে। আমার সামনের গ্রামের মেঠো মহিলা যে সকাল হলেই জামা কাপড় নিয়ে চলে আসে সেও বললো মামুদদার কুপন আছে  দিয়ে গেছে আপনি যান খেয়ে আসুন কাকা। আমি হাসি মুখে ওদের বললাম না না এই তো ঠিক আছে। বাড়ী ফিরে ভাত খাবো আমি। 
এরা সব আমার আত্মীয় স্বজন, পরিজন, বন্ধু বান্ধব রক্তের সম্পর্কের নয় কেউই কিন্তু কেমন একটা গাছের ডালে, পাতায় জড়িয়ে যাওয়া সম্পর্ক যেনো তৈরি হয়েছে এই কদিনেই ওদের সাথে। বেশ একটা ভালো লাগা বোধ নিজেকে জড়িয়ে ধরলো এই ভাদ্র মাসের নিদাঘ কাঠফাটা দুপুরে আমায়। বসে বসে দেখলাম আমি গাছ থেকে নেমে মাটিতে চুপ করে থেকে ওই গিরগিটিও কেমন রং না বদলে বসে আছে আনমনে চুপটি করে। মাটির কাছে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে জল রংয়ের ফড়িং দুপুরের রোদ কড়া রোদ গায়ে মেখে। 
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো। না এসব ভাবতে ভাবতে বাড়ী ফেরার সময় হয়ে এলো আমার। এদিক ওদিক আশপাশে তাকিয়ে  দেখলাম খেয়ে এসে সবাই কেমন খুশি মনে বসে আছে সবাই মিলে। দূরে হার দুল বিক্রি করা ভাই বোনের মোবাইল নিয়ে গলা জড়িয়ে গেম খেলা, বৃদ্ধার জলের বোতল হাতে ঘরে ফেরা, খাওয়া শেষে বেঁচে যাওয়া পায়েস নিয়ে প্লাস্টিকে বেঁধে হাসি মুখে ঘরে ফেরা দেখে মনে মনে ভাবলাম সত্যিই তো মানুষ কত অল্পতে যে কত খুশি হয় কে জানে। এই খুশির স্বাদই আলাদা। মনে মনে ধন্যবাদ জানালাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মামন ভাইকে। এইটুকু পেট পুরে খাবার প্রাপ্তিতে কত যে আনন্দ তাদের ভাবলেও মনটা বড়ো ভালো হয়ে যায়। 
সত্যিই কত কম চাহিদা মানুষের দুবেলা না হোক এক বেলা পেট পুরে একটু খেতে পেলেই কি খুশি হয় লোকজন, আমিও খুশি হই। কিন্তু সেটা জোগাড় করতেই যে হিমশিম অবস্থা সাধারণ দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের একদম কাহিল অবস্থা। তার মাঝে সপ্তাহের সাতদিনের দু এক যদি এমন হঠাৎ কুপন জুটে যায় খারাপ কি। স্বাধীনতার এত বছর পরেও যে একবেলা পেট ভরাতে কাহিল অবস্থা দেশের প্রায় অর্ধেক এর বেশি মানুষের। সত্যিই তো জীবনের এই শুধু একবেলা পেট পুরে খাওয়া পাওয়া যাবে, একটু কাজের সুযোগ পাওয়া যাবে, একটু আর্থিক রোজগার করা যাবে এটাই তো আসল কথা। কিন্তু কোথায় সেই সব প্রতিশ্রুতি যে প্রতিশ্রুতি দিল্লীর লালকেল্লা থেকে শুনতে পাইনা আর বহুদিন। শুধু একটু ভালো দিনের প্রতিশ্রুতি। 
ধীর পায়ে হাঁটতে হাঁটতে গেলাম সেই শিব মন্দিরে যেখানে খাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। এদিকে তো খাওয়া হচ্ছিলো মায়ের ভোগের মন্দিরেও। দেখলাম লেখা আছে পঞ্চায়েতের গায়ে শিব মন্দিরের কাছে একমুঠো অন্নের কথা। কবে কি খেতে দেওয়া হবে তার তালিকাও আছে দেয়ালের গায়ে। একজন পঞ্চায়েতের নিরাপত্তা কর্মী বললেন দাদা ভালো করে ছবি তুলে নিন আপনি। দেখুন সাত দিন কবে কি দেওয়া হবে তার তালিকাও দেওয়া আছে কিন্তু।
 একসময় যখন রিপোর্টার ছিলাম এই ভাবেই ছবি তুলতে গেলে কত লোক যে আমায় এই ভাবে বলে দিত দাদা এইসব ছবি তুলে নিয়ে যান, এগুলো দেখাবেন কিন্তু। বেশ ভালো লাগলো এদিনও ছবি তুলে। কিন্তু সেটা যে শুধু নিজের জন্যে ছবি তোলা কোনো চ্যানেলের জন্য নয়। এসব না বলে তাকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম আজ তো মামন ভাই এই সব খাবারের আয়োজন করেছেন মন্দিরে। বললেন হ্যাঁ উনি করেছেন। দেখলাম মন্দিরের পাশে তাঁর অফিস। তার টীম কাজ করে চলেছেন এই ভাবেই। বাহ ভালো ব্যবস্থা তাহলে।
সাইকেলে উঠতে যাবো দেওয়ালের গায়ে লেখা, সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই। চণ্ডীদাস। চোখ আটকে গেলো আমার। দাঁড়িয়ে পড়লাম আমি। সত্যিই তো কতদিন আগে যে এই কথা লিখেছিলেন কবি। তাহলে এই যে এত সাম্প্রদায়িক শক্তি নিয়ে আলোচনা,  তাকে রক্ষার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা, দেশকে টুকরো না করতে দেওয়ার জন্যে প্রাণপণ চেষ্টা, দেশের তাবড় তাবড় নেতাদের মাতব্বরি। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি জাগিয়ে রাখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করা। 
সেখানে তো এই ভাবেই একটি হিন্দু মন্দিরে পেট পুরে দুটো ভাত এর ব্যবস্থা করলেন একজন মানুষ। যার আর কোনো পরিচয় নেই। যারা পেট পুরে দুটো ভাত খেতে পেলেন তারাও যে ভগবানের সৃষ্টির মানুষ। তাহলে কিসের এত হিসেব নিকেষ, কিসের এত রাজনীতি, কিসের এত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য মাথা খোঁড়াখুঁড়ি। এই ভারতবর্ষই তো আমার আসল ভারতবর্ষ। যার ছবি আমরা সেই কবে থেকে দেখি। 
যে কথা আমরা শুনি, জানি মন্দিরে ঘণ্টার আওয়াজ, মসজিদে আজানের আওয়াজ যেখানে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। তার জন্যে তো কোনো কসরৎ করতে হয়না আমাদের। তাহলে কিসের জন্য এত মাথাব্যথা। ধীর পায়ে সাইকেলে প্যাডেলে চাপ দিলাম আমি। আকাশ ঝেঁপে বৃষ্টি নেমে এলো। বহুদিন পর বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ঘরে ফিরলাম। একবুক টাটকা বাতাস নিয়ে। মনে মনে প্রণাম জানালাম আমি ভগবানকে। সালাম জানালাম আল্লাকে। 

কুপন - অভিজিৎ বসু।
আঠারো আগস্ট, দু হাজার চব্বিশ।

মন্তব্যসমূহ

  1. যাঁর দেখার চোখ আছে তিনি প্রতিদিনের সাধারণ বলে মনে করা ঘটনাবলীর মধ্যেই অসাধারণত্ব দেখতে পান। হিন্দু মন্দিরে এক মুসলিম ধর্মাবলম্বীর ভোগ দান, গরীব মানুষের পেটপুরে খাওয়া, সবার উপরে মানুষ সত্যের যে ছবি লেখক একেছেন তা এককথায় অসাধারণ।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জায়গার বড়ই অভাব

এই পৃথিবীতে জায়গার বড়ই অভাব। এই ধূ ধু করছে ফাঁকা জায়গা। যেখানে আপনি স্বচ্ছন্দে ঘুরতে পারেন, বেড়াতে পারেন। হেঁটে চলে আনন্দে মশগুল হয়ে গল্প করতে পারেন। এমনকি খোস গল্পও করতে পারেন। খেলতে পারেন। বসতে পারেন। লিখতে পারেন। সবকিছুই করতে পারেন।  আবার কিছুক্ষণের মধ্যে সেই জায়গা আর আপনার জন্যে বরাদ্দ নেই। আপনি জেনে গেলেন ওই ফাঁকা জায়গা আর আপনার নেই। যা একটু আগেও কয়েক ঘণ্টা আগেও আপনার ছিল সেটা এখন অন্য কারুর হয়ে গেছে। যে জায়গায় আপনি দিব্যি হেঁটে চলে ঘুরে বেড়িয়ে হাসতে হাসতে সময় কাটিয়েছেন সেটা আর আপনার নেই। অন্য কারুর দখলে চলে গেছে। বেশ ভালই ব্যাপারটা কিন্তু।  যদিও জীবনে কারুর কিছুই স্থায়ী জায়গা নয়। গোটা জীবন যখন স্থায়ী নয় তখন আর এত জায়গা নিয়ে ভাবনা চিন্তা কেনো। স্পেস বিষয়টি বেশ মজার। এই আপনার কাছে অন্য একজনের জন্য স্পেস আছে। আবার পরক্ষনেই সেই স্পেস নেই। এই জায়গা থাকা আর পরক্ষণেই জায়গা চলে যাওয়া বেশ মজার কিন্তু কি বলেন। হঠাৎ মনে হলো এটা। কেনো যে এমন হয় জীবনে কে জানে।  যদিও আমি বরাবর ফাঁকা জায়গায় পছন্দ করি। কার...

ইকড়া গ্রামের শ্রীকান্ত

এই শ্রীকান্ত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত চরিত্র শ্রীকান্ত নয়। এই শ্রীকান্ত হলো বীরভূমের ইকড়া গ্রামের শ্রীকান্ত চ্যাটার্জী। সেই যখন বোলপুর থেকে সিউড়ি যাবার পথে গড়গড়িয়া বাস স্টপেজ আসে তখন ওকে ফোন করে ফেলি আমি সব সময়। আর ও হাজার ব্যস্ততা আর কাজের মাঝে ফোন ধরে বলে দাদা বলুন কোথায় যাচ্ছেন, চলে আসুন দাদা আমাদের বাড়ী। কোথায় চললেন দাদা আপনি।  এই শ্রীকান্ত চাষ করে, এই শ্রীকান্ত পূজো করে, এই শ্রীকান্ত গ্রামে গ্রামে ঘুরে গ্রামের মানুষের বাড়ী জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে, এই শ্রীকান্ত আবার পাড়ার ক্লাবে সবাই মিলে হাসিমুখে নাটক করে। এই শ্রীকান্ত যে কোনও মানুষের বিপদে আপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর এই শ্রীকান্ত আমায় বলেছে বুড়ো বয়সে আমায় গ্রামে ফাঁকা নিরিবিলিতে একটা থাকার ব্যবস্থা করে দেবে। যেটা কেউ বলতেই পারে না খুব সহজে। রক্তের সম্পর্ক হলেও নয় সেখানে ও তো আমার কোনও সম্পর্কের বন্ধনে বাঁধা নয়। এমন নানা কাজে কর্মে হাসিমুখে কাজ করে ও। যদিও আমি গ্রামে থাকতে হয়তো পারবো না তবুও ও বলে তো আমায় এটাই অনেক বড়ো ব্যাপার।  আসলে কিছু কিছু মানুষের সাথে ...

ফাল্গুনী দা ও আমি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক বর্ণময় সাংবাদিকের কথা। যে বিখ্যাত সাংবাদিক খবরের কাগজ, টিভি চ্যানেলে সব জায়গায় দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করেছেন হুগলী জেলায়। ইংরাজি মাধ্যমের কাগজে লিখে বেশ নাম করেছেন তিনি। যার তারকেশ্বর এর নতুন ফ্ল্যাটের দরজায় বড়ো করে দরজায় লেখা আছে পিতলের নেমপ্লেটে জার্নালিস্ট। বহুদিন আগে গিয়ে দেখেছিলাম সেটা দরজায় লেখা। শুনেছি প্রতিদিন সেই নেম প্লেট পরিষ্কার করেন তিনি নিজে খুব যত্ন করেই।  সেই বর্ণময়, একদম রঙিন উজ্জ্বল সাংবাদিক হলেন আমাদের সবার সেই ফাল্গুনীদা। ফাল্গুনী বন্দোপাধ্যায়। তারকেশ্বর মন্দির পাড়ার সবার সেই অতি আদরের বিখ্যাত বুচুন বন্দোপাধ্যায়। যার এই নাম শ্রীরামপুরের পল্লীডাক পত্রিকার বিখ্যাত দাপুটে জাঁদরেল সাংবাদিক বঙ্গলোক কাগজে লিখেছিলেন একবার একটি  নিজের লেখা রিপোর্টে। যেখানে মন্দির পাড়ায় হৈ চৈ পড়ে গেছিল সেই রিপোর্ট পড়ে মন্দির পাড়ার সর্বত্রই। আর কি যে উত্তেজনা সেদিন দেখেছিলাম আমরা শুধু একটাই কথা পি এম এটা কি ঠিক হলো রে। হ্যাঁ প্রবীর দাকে পি এম নামেই ডাকতো ফাল্গুনী দা।  সে যাই হোক সাদা জীবনের একদম সাদা সোজা সাপটা কথার হাসিখুশি ...

নিঃশব্দে ক্ষমতার পালাবদল

সাদা জীবনের কালো কথায় এক লড়াই করা এক অতি সাধারণ পরিবারের মেয়ের অনমনীয় জেদ আর লড়াই এর গল্প কথা। যে জেদ আর সাহসকে সম্বল করে সেই কবে ছোটো বেলা থেকে লড়াই করছে সেই মেয়েটি। যে বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরোনো স্মৃতিময় কিছু সাদা কালো ছবি দেখে মনে পড়ে গেলো অনেক পুরোনো দিনের কথা। অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে,অনেক মার খেয়ে বাংলার একমাত্র লড়াকু নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই সিপিএম এর 34 বছরের জমানা উঠে যায় এই বাংলা থেকে। যা একসময় মনে হয়েছিল এমন আর হবে না কোনো দিন। এত লড়াই আন্দোলন করেও সেই পুরোনো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেখে মনে পড়ে যায় কত কী। আর সেই ছবির মাঝে লুকিয়ে আছে এমন এক ছবি যে ছবির মধ্যে লুকিয়ে আছে এই সারা জীবনের জন্য লড়াই করা জীবনকে বাজি রেখে বেঁচে থাকার নানা গল্পকথা আর মিথ। কিন্তু সেই বাজিগর নিজের হাতেই তার নিজের আপন মানুষের কাছে তুলে দিলেন ক্ষমতার চাবি কাঠি খুব সহজেই সবার সামনে।  সবাইকে সাক্ষী রেখেই নিঃশব্দে পালা বদল হয়ে গেলো তৃণমূল দলের ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের প্রধান যোদ্ধার। 29 জন নতুন সংসদের স...