সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শুরু হলো পৌষমেলা ১৪৩১

দুর থেকে সেই মেলামাঠের অন্ধকার নাগরদোলায় হঠাৎ করেই কেমন আলো জ্বলে উঠলো। আর সেই থেমে থাকা নাগরদোলা কেমন করে যেনো ঘুরতে শুরু করলো ধীরে ধীরে আমার চোখের সামনে। মনটা আমার আনন্দে নেচে উঠল একদম ছোট্ট শিশুর মতই এই বুড়ো বয়সেও, এই পৌষের হিম মাখা কম শীতের সন্ধ্যায়। এই আলোকোজ্জ্বল নাগরদোলার সামনে ঠিক একবছর আগেই তো দেখা হয়েছিল আমার আর প্রসেনের সাথে দুজনের বহুদিন পরে, বহুবছর পরে। হাজার ভীড় আর ঠেলাঠেলির মাঝে বহুদিন পর দেখা হওয়া দুই কলেজের দুই বন্ধুর। বহুদিন পর এই মেলা মাঠেই খুঁজে পাওয়া একে অপরকে কলেজ জীবনের দুই বন্ধুর। আসলে এটাই তো মেলার আসল মাহাত্ম্য দুরকে কাছে এনে মিলিয়ে দেওয়া একে অপরের সাথে। মেলা যে এইভাবেই মিলিয়ে দেয় আমাদের সকলকে। 

আমাদের কলেজ জীবনের সেই বেশ গুছিয়ে কথা বলা, হিসেব নিকেশ করে  মেপে পা ফেলে চলা, কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদে কাজ করা সেই হাসিমুখের প্রসেনজিৎ সেনগুপ্ত। সেই উত্তরপাড়ার সখেরবাজারের বিপিএমবি সরণীর বাসিন্দা প্রসেনজিৎ সেনগুপ্ত। সেই ওর গম্ভীর মুখের রাশভারী বাবা যিনি ইউকো ব্যাংকের ব্যাংক ম্যানেজার ছিলেন, সেই ওর হাসিখুশি মা যিনি ওদের বাড়িতে গেলেই  আমায় সুন্দর ফুল ছাপ প্লেটে করে সাদা গরম লুচি খেতে দিতেন আর সাথে দিতেন নরম তুলতুলে বেগুন ভাজা, যে বেগুন ভাজার তেল সাদা প্লেটে গড়াগড়ি খেত কেমন হাসিমুখে ওদের সুন্দর গোছানো জীবনের মতই , আমি প্রসেনজিৎ এর বউকে বলেছি একদিন এমন গরম সাদা লুচি খেতে যাবো ওদের কলকাতার বাড়িতে। সঙ্গে সঙ্গেই হ্যাঁ বলেছে ওর বউ। কিন্তু গ্রাম ছেড়ে শহরে যাওয়া যে খুব কঠিন কাজ। 

সেই সুন্দর ওদের বাড়ি, সুন্দর সেই ভারী পর্দা দেওয়া ড্রয়িং রুম, পর্দা ভেদ করে জানলার ফাঁক গলে হলুদ রোদ্দুরের লুটোপুটি, সেই একতলার ঘরের আড্ডা, সেই ওদের ছাদে সুন্দর ফুলের বাগান, সেই সুন্দর নতুন চেহারার ওপেন কিচেন যা সবে বাজারে এসেছে মাত্র, সেই আমরা দুজন নতুন ব্যবসা করবো বলে বি এস ট্রেডার্সের বোস আর সেনগুপ্ত ট্রেডার্সের প্যাড ছাপিয়ে ফেলা, সেই একসাথে বোলপুরে গ্রামে জমি কেনা হবে,শহুরে জীবন ছেড়ে থাকা হবে বলে নানা প্ল্যান করা আমাদের দুজনের। সেই নিয়ে ঘণ্টার পর ঘন্টা আলোচনা করে হাত ফসকে যাওয়া সস্তার গ্রামের জমি, এমন কত যে পরিকল্পনা করা হলো এই আমাদের দুজনের জীবনে তার কোনও ঠিক নেই আর। 

 প্রসেনজিত এর বউ আর আমরা তিনজন মিলে এই নাগরদোলাকে পিছনে রেখেই তো সেই এক বছর আগে ১৪৩০ সালে ছবি তুলেছিলাম সবাই মিলে। একটি বছর আগে এই পৌষ মেলার মাঠে। আসলে পৌষের মেলা তো এইভাবেই বোধহয় দুরকে কাছে টেনে নিয়ে এসে হাজির করে এই মেলার শিশির ভেজা কুয়াশামাখা মাঠে একে অপরের কাছে। এই মেলা তো তাই বহু মানুষের কাছেই হারিয়ে যাওয়া জীবনের স্মৃতি, সেই নানা হারিয়ে যাওয়া মানুষকে ফিরে পেয়ে কাছ থেকে দেখার এক মিলন মেলা। যে মেলা আমাদের প্রাণে, মনে, আত্মায় মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় এই পৌষের হিম মাখা সন্ধ্যায় পুরোনো কৌলিন্য ছেড়ে আধুনিকা হয়ে শিফন শাড়ি পরে। 

আর তাই হঠাৎ করেই টাইম ঘড়ির কাঁটাকে নিজের হাতে ঘুরিয়ে পিছনে টেনে এনে ফোন করে ফেললাম আমি প্রসেনকে। বললাম সেই এক বছর আগে তোদের সাথে আমার দেখা হয়েছিল এই নাগর দোলার সামনে।  ফোনের ওপর প্রান্ত থেকে ওর উচ্ছাসহীন গলার আওয়াজ শুনলাম আমি তাই নাকি।  তোরা মেলায় আজ তো মেলা শুরুই হয়নি রে। আসলে এই শুরু, আর শুরুর আগের এই ফাঁকা মাঠে সেজে ওঠা মাঠে ঘুরে বেড়াতে আমার বেশ মজা লাগে। 

মেলার মাঠের খুট খাট আওয়াজ, সস্তায় জিনিস কেনার নেশায় অন্ধকার মাঠে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানো ক্রেতার দল, সেই মাটিতে চট বিছিয়ে বসে থাকা বৃদ্ধ আর বৃদ্ধার হার আর চুড়ি বিক্রি করা, সেই টাকা দিয়ে স্টল নিয়ে কাল থেকে বিক্রির আশায় তাড়াতাড়ি রান্না করে মেলা মাঠে কাপড় টাঙিয়ে খেয়েদেয়ে শুয়ে পড়া, সেই মাঠের মাঝে এদিক ওদিক ভাপা পিঠের গন্ধগোকুল ছড়িয়ে পড়া, সেই আদিবাসী মহিলার একটি সুতির শাড়ি পরে বেতের বোনা ধামা কুলো নিয়ে চুপটি করে বসে থাকা গেটের সামনে, এর জন্যেই তো ছুটে আসা আমার এই মেলার উদ্বোধন এর আগেই ৬ ই পৌষ এর সন্ধ্যায়। 

সেই মেলা মাঠের বাইরে বাবা মাকে সাহায্য করা রুটি তৈরি করা এক পরিবারের দুই শিশু একজন ক্লাস টু তে পড়ে বোন স্কুল যায়না এখনো। যেমন গরম রুটি তৈরি হলেই সেটাকে ভরে রাখছে অন্য এক পাত্রে পরম যত্নে পরম মমতায় দাদা আর বোন। এই জীবন দেখার নেশা যে আমায় তাড়িয়ে বেড়ায় সারাটা জীবন ধরেই। সেই জীবনকে দেখো জীবন হলো আসল শিক্ষক। 

সেই বুদ বুদ ছাড়া জীবন এর খেলনা বেচা রামপুরহাটের মোক্তার, সেই নদীয়ার চাকদা থেকে আসা মেলা মাঠের বাইরে পুলিশ লাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির আপন মনে ঢোল বাজানো। যে জানেই না রাতে সে শোবে কোথায়। আগের বছর নয় হাজার টাকা খরচ করে মেলার ভিতর স্টল নিলেও সেই টাকা ওঠেনি মেলায় বিক্রি করে আগের বছর। এইবার আর তাই সে রিস্ক নিতে পারেনি কিছুতেই। তাই মাঠের বাইরে অন্ধকার রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর। যদিও পুলিশ বলে গেছে এইভাবে দাঁড়ানো যাবে না আর কাল থেকে, আর ঢোল বাজানো যাবে না আর কোনও মতেই। কি করবে সে নিজেও জানে না যে। ঘরে ফিরবে কি এইবারেও খালি হাতেই এই মেলা মাঠ থেকে। লাভ আর ক্ষতির হিসেব না মেলাতে পেরে। সত্যিই তো এই মেলার টানেই যে ছুটে আসা আমার। 

 রাত পোহালেই ৭ই পৌষ ভোর থেকে বৈতালিক এর পরেই শুরু হয়ে যাবে পৌষ মেলা ১৪৩১। আসলে  কি জানেন তো এই মেলার শুরুর আগের সন্ধ্যায় আমিও কেমন যেন একটু ওয়ার্ম আপ করে নিলাম বাকি কদিনের জন্য। বুটাকে নিয়ে, সোমাকে নিয়ে। আর আমার এলোমেলো এলেবেলে জীবনকে নিয়ে।

 যে জীবনের চারিধারে শুধুই কুয়াশার ঘনও সাদা আস্তরণ। সেই সাদা আস্তরণ পার হয়ে পৌষের সন্ধ্যায় আমরা তিনজন মিলে সেই আলোর খোঁজে অন্ধকার নাগরদোলার কাছে চলে এলাম হাঁটতে হাঁটতে। আর কেমন হঠাৎ করেই জ্বলে উঠল আলো। ঘুরতে থাকলো থেমে থাকা নাগরদোলা আপনমনে, আপন ছন্দে, আপন খেয়ালে। আমরা তিনজনেই কেমন আনন্দে ছোট্টো শিশুর মতো উচ্ছল হয়ে উঠলাম। আমাদের তিনজনের মেলা যে শুরু হয়ে গেলো উদ্বোধনের একদিন আগেই। 

শুরু হলো পৌষ মেলা ১৪৩১ - অভিজিৎ বসু।
তেইশ ডিসেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি নিজস্ব মোবাইল ফোনে তোলা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...