দয়ালকে আমরা ভুলেই গেছি প্রায় অনেকেই। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতো দয়াল। সেই বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান দয়াল। একদম দিদির খুব কাছের লোক সে। একদম নানা সময়ের নানা মুডের ছবি ধরে রেখেছে সে তাঁর ক্যামেরায়। দিদির ঘরের লোক দয়াল। সেই কলকাতা টিভির আর চ্যানেল টেন এ কাজ করেছে সে মনে হয়। সেই পুরোনো দিনের নানা ঘটনার আর রাজনীতির সাক্ষী সে। সেই দয়াল যাঁর সাথে আমিও কাজ করেছি একসাথে এক চ্যানেলে না হলেও। কত যে গতিময় ছিলো সেই জীবন আর কি বলি আমি।
তবুও বহুদিন হলো এই দয়াল এর কথা মনে পড়ে গেলো আজ। সেই কালীঘাট এর বাড়ীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বসে আছেন দয়াল। সেই মহাকরণে মন্ত্রীর ঘরে প্রেস কনফারেন্স এর রুমে দয়াল। সেই বারন্দায় দাঁড়িয়ে মমতার ছবি আঁকা। আর দয়াল এর মুগ্ধ হয়ে দেখা সেই দৃশ্য আর তাকে ধরে রাখা তার সেই সব ছবি। সেই ক্যামেরায় লেন্সে চোখ লাগিয়ে তার ছবি তুলে নানা মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখা। একদম নতুন নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে এগিয়ে চলা তাঁর এই চিত্র সাংবাদিকের পেশায়। খুব যে আমার সাথে ওর আলাপ, স্মৃতি, গল্প করা সেই সব না হলেও আমাদের সেই মহাকরণে বসে সেই সময়ে সাংবাদিকতার জীবন যাপন এর সময়ে ও কিন্তু ছিল বেশ উজ্জ্বল হয়েই। একটা বড়ো ব্যাপার হয়েই। যেহেতু মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ঘনিষ্ঠ সে।
কিন্তু তারপর ও কোথায় হারিয়ে গেল কে জানে। আমি হায়দরাবাদ চলে গেলাম। দয়াল এই পেশায় আর নেই মনে হয়। দু একবার মেসেঞ্জার এর মাধ্যমে কথা হয়েছে আমার সাথেও। ওই টুকটাক কথা আর কী। কিন্তু সেই ওর ঝাঁ চকচকে ক্ষমতার কাছে থাকা এই মিডিয়ার জীবন ছেড়ে আজ সে অনেক দুরেই চলে গেছে যে। যার জন্য আমি হা হুতাশ করছি এই বর্ণময় মিডিয়ার কাজ ছেড়ে অভিজ্ঞতা ছেড়ে ওর সেই অনুভূতি নিশ্চয় হয় মনে হয়। এই যে এত বড় রাজনীতির লোকের কাছে থাকা তাঁর ছবি তোলা আর তারপরে কেমন করে দুরে সরে যাওয়া। এটা কম কষ্টের নয় যে। ক্ষমতায় থাকা, মিডিয়ায় থাকা, আর না থাকা এই দুই এর ফারাক অনেক যে।
এই সব পুরোনো দিনের নানা ছবি দেখে ওর নিশ্চয়ই বেশ ভালোই লাগে। মনে মনে ও ফিরে যায় সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি চারণায়। সেই কাজের ছবি, সেই মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছবি, সেই নানা বিখ্যাত জনের ছবির থেকে আজ সে অনেকটাই দূরে সরে গেছে। আমার তো। বুড়ো বয়সে এসেও স্মৃতির ঝাপটা লাগে ওর নিশ্চয়ই তেমন মনে হয় আজও। সেই মহাকরণের বারান্দা সেই মিডিয়ার কাজ সেই জীবন যাপন এর কথা। কে জানে অনেকে মেনে নিতে পারে আর কেউ কেউ সেটা পারে না একদম। আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আজ সেই দয়াল এর কথা লিখে ফেললাম আমি আজ। ভালো থেকো তুমি দাদা।
ক্যামেরাম্যান দয়াল এর কথা - অভিজিৎ বসু।
আঠারো ফেব্রুয়ারি দু হাজার ছাব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন