সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চাটুজ্জে বনাম যাদব

সাদা জীবনের কালো কথায় বহু ভালো কথা, বহু জীবনের কথা, লিখে ফেললাম আমি। যে সব কথা কারুর কাছে বড়ই সুখপাঠ্য হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন আমায়। আবার কারুর কাছে সুখের আবেশে মোড়ানো কোনো ভালো অভিজ্ঞতা নয় এই লেখা। যা হয়ত অনেকেই আমায় বলছেন কখনও ব্যক্তিগত উদ্যোগে মোবাইলে হোয়াটস অ্যাপের মেসেজ করে। কিংবা সরাসরি আমায় ফোন করে।
আসলে যাই হোক ভালো অভিজ্ঞতা বা খারাপ অভিজ্ঞতা এই অভিজ্ঞতা তো একদম আমার নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। যার জন্যে শুধু মাত্র আমিই সেই সব পুরোনো ঘটনার সাক্ষী। আর তাই তো রাতদুপুরে ঘুম ভেঙে উঠে পড়ে সেই সাক্ষী লিখতে বসে যায় আপনমনে বেখেয়ালে কিছুটা সেই জ্বর হওয়া রোগীর মত। শুধু মনে হয় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে আমার  জীবনের সময়। তাই হয়তো দ্রুত গতিতে লিখে ফেলতে চাই কিছু মনের অব্যক্ত কথা। যে কথা অকথিত আছে আজও অনেকের কাছেই। 


তেমন সব জীবনের পাওয়া আর না পাওয়ার কথা, মান আর অভিমানের অভিজ্ঞতার কথা। যা সঞ্চয় হয়ে আছে এই আমার ক্ষুদ্র সাংবাদিক জীবনের কুলুঙ্গিতে একদম চুপটি করে। ঘাপটি মেরে সে বসে আছে চোখ বুজে। যেমন করে সাপুড়ে তার ঝাঁপি থেকে সাপ বের করে তেমন ঝাঁপি খুলে বের করা। যাদেরকে নথিবদ্ধ করে রাখতেই আমার এই আঁকাবাঁকা লেখা।আঁকিবুঁকি অক্ষরে কিছু লেখা লেখা খেলা।

 আজ ঠিক তেমনি একুশের শহীদ দিবসের মঞ্চের ভীড়ে একদম একা একা অনেক দূরে দাঁড়িয়ে এক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ সৈনিকের মনকথা বা মনোবেদনার কথা। যে কথায় মান, অভিমান, অপমান, স্বাভিমান সব কিছুই হয়তো তাকে পীড়া দেয় জীবনের এতগুলো বছর কাটিয়ে দেবার পর। তবু তো সেই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গিয়েও, বিদ্ধ হয়েও বার বার ছুটে যাওয়া হারিয়ে যাওয়া ওই ভিড়ের মাঝে। জনতার স্রোতে মিশে যাওয়া অভ্যাস বসত। 
দুর থেকে সব কিছুকে তুচ্ছ করে দাঁড়িয়ে থাকা আর মনে মনে ভাবা জীবনের সবচেয়ে ভালো সময় হারিয়ে ফেলে যে সময় শুধু এই রাজনৈতিক দলের সন্ন্যাস নিলেন তিনি। মনে মনে জীবনের প্রথম প্রেমের মতো জড়িয়ে ধরলেন সেই রাজনীতির কঠিন কঠোর কন্টকময় জীবনকে সব কিছু ভুলে। সেই সব কিছুর সমান মর্যাদা কি পেলেন তিনি এতদিনে। থ্রি টায়ার মঞ্চের একটা তলায় বসার ডাক পেলেও চিঠি পেলেও তো তিনি সেই ভীড় ঠেলে মিছিল করেই আজও সমান ভাবেই জনগণের সাথেই বৃষ্টির জলে ভিজে ডুব দিলেন সেই স্মৃতির রাস্তায় মিছিলের ভীড়ে। যে রাস্তা একদিন তাকে পথ দেখিয়েছিল। সেই পথের নানা ঘটনা আজ বড়ই মনে পড়ে যায় তার এই দুর মঞ্চের দিকে তাকিয়ে কেনো যে তখন এত রিস্ক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে নানা ঘটনায় পুলিশের তাড়া খেয়েও আন্দোলন করতে পিছপা হননি তিনি কে জানে। 
ধর্মের মত তাহলে রাজনীতিও কি আফিম মেশানো থাকে কে জানে সেটা তার জানা নেই। একবার নেশা ধরলে আর সেই নেশা ছাড়ার উপায় নেই কোনো। আসলে এই নেশার টানেই যে জীবনের যৌবন কাটিয়ে আজ বার্ধক্যের দোরগোড়ায়। হারিয়ে যাওয়া জীবনের সবচেয়ে ভালো সময়ে এই ভাবেই যে নেশার ঘোরে ভালো করে প্রেম, ভালোবাসা, সংসার কিছুই করা হলো না তার। এই নিয়ে যে বউ এর কাছে তাকে মাঝে মাঝেই কথা শুনতে হয় টিপ্পনী শুনতে হয় সেটা সে ভালই বুঝতে পারে। কিন্তু উপায় কি রাজনীতির ময়দানের নেশা হলো আসলে ঠিক ওই ঘোড় দৌড়ের রেসের মাঠের নেশার মতই। যাকে একবার ধরে ছাড়া মুসকিল হয়। সেই নেশার টানেই তো সে কাটিয়ে দিলো এত গুলো বছর এই ময়দানের একজন সাধারণ খেলোয়ার হয়ে। 
না, এক এক সময় তার আফসোস হলেও আবার হাসি মুখে সেই অভিব্যক্তিকে বিদায় জানিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজের জগতে। যে কাজে মানুষের জীবনের উপকার হয় সেই কাজেই নেমে পড়ে সে আবার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। এই তো সেদিনের ঘটনা মনে পড়ে যায় তার সিঙ্গুরের জমিতে দলের ঝান্ডা আটকাতে গিয়ে পুলিশ এর তাড়া খাওয়া। সেই হুগলীর বিখ্যাত পুলিশ অফিসার অসিত পাল এর কাছে। যিনি সাংবাদিকদের কাছে অ্যাসিড পাল নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন তিনি। পুলিশের তাড়া খেয়ে জলে ঝাঁপ দেওয়া। গায়ের লাল জামা খুলে খালি গায়ে লুকিয়ে পুলিশকে বোকা বানিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে পালিয়ে যাওয়া। সত্যিই তো নেশা ছিল বলেই বোধ এসব সম্ভব হয়েছে তার জীবনে। না হলে কি আর এই অসাধ্য কাজ করতে পারত সে। 
সত্যিই তো এই সব ভাবলে বুকটা কেমন গর্বে ভরে যায়। কে আর শুনবে এই সব গল্প কথা। বলবে দুর এসব পাগলে বলে। আজকাল পুরোনোদের কোনো দাম নেই তারা সব ব্যাকডেটেড। আর সেই যে ঘটনা মৃতদেহ আটকে রেখে দলের নেতার হাতে তুলে দেওয়ার গল্প। সেদিনও তো দল তার কাছেই আত্ম সমর্পণ করেছিল সেদিন। উল্টে যাওয়া বাসের যাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ নিয়ে চলে যাবে জোর করে। 
কিন্তু সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন দিলীপ যে করে হোক বডি আটকাতে হবে। মুকুল যাচ্ছে। বাস দিদির কথা শুনেই আবার চেপে বসলো নেশা তার। ডিএমকে জোর গলায় আঙুল তুলে বলে দিলেন ডিএম সাহেব আপনি যাদব আমিও যাদব এক জঙ্গলে যেমন দুটো বাঘ থাকতে পারে না তেমন এক জেলায় দুই যাদব থাকতে পারে না। দাপুটে সেই যাদব ডিএম পিছপা হলেন এই আওয়াজ শুনে। মৃতদেহ আটকে রেখে সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মুকুল রায় এর কাছে নিজের স্ট্রাইকার এর খেলা খেলে পয়েন্ট তুলেছিলেন হুগলী জেলার এই যাদব নামের নেতা। 
কিন্তু আজ এত দিন পরে সেই পয়েন্টের কোনো দাম তো দল দিলো না তাকে। বিধায়ক, সাংসদ, মন্ত্রী হবার কোনো সুযোগ পেলো না সে। এমনকি সিঙ্গুরের জমি আন্দোলন নিয়ে যে সব বই লেখা হলো যে নিজের প্রাণ বিপন্ন করে প্রথম পতাকা উত্তোলন করে দিলো নিজের ক্ষমতা আর সাহসের জোরে। যে টাটার কর্মীদের ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করলো তার নামের উল্লেখ করা হলো না কোনো সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের বইতে। ভাবলে এই বুড়ো বয়সে একটু বুকের বাঁ দিকটা একটু চিনচিন করে এই আর কি। এই ফাঁকা সভার রাস্তায় একা একা দাঁড়িয়ে সে কথাই ভাবছিল সে আনমনে।
একা একদম একা হলেও। কত যে মুখ এসে দাদা ভালো আছেন বলে প্রনাম জানালো তাকে। এটাই বা কম পাওয়া কি। সেই যে সময় জেলার এক এক করে দলের পার্টি অফিস গুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতির একটি দল। যে সময় দলের সামনের সারির সব নেতারা ঘরে ঢুকে পড়েছে। ভয়ে কেউ ফোন বন্ধ করে রেখে দিয়ে দায় এড়িয়ে গেছে। সেই সময়ে আবার সেই চেনা ফোন। দিলীপ একটু দেখ তুই। বাস আর কি ঝাঁপিয়ে পড়ে একে একে ফের সেই দলের কার্যালয়ের তালা খুলে নিজের দলের ঝান্ডা উড়িয়ে নিজের জাত ফের বুঝিয়ে দিতে কসুর করেন নি এই যাদব নামের নেতা সেদিনও।
 কিন্তু কালীঘাটের গঙ্গাপাড়ের এই দল বোধ হয় একটু ছুঁতমার্গ করে বাছ বিচার করেই চলে। না হলে কি আর এত পরীক্ষার পর সেই পুড়শুড়াতেই তাকে পরীক্ষা দিতে পাঠায় বিধানসভার টিকিট দিয়ে। যে আসনে নিশ্চিত হার জেনেও। এটাও বোধ হয় নতুন করে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে পারো কি না পরখ করে দেখার জন্যই করা হলো। তাই নিশ্চিত আসন থেকে অনেক দূরের আসনে টিকিট দিয়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলো নিজের দলের কিছু নেতা সব জেনেই। কিন্তু সেই হেরে যাওয়া পরীক্ষায় তাকে হারতেই হলো অবশেষে। যেটা আগে থাকতেই পিকের টীম এই সাজানো নাটক করে রেখেছিল বলে কান পাতলে শোনা যায় এমন কথা। 
তাই এসব ভেবে আর কোনো অনুশোচনা নয়। শুধু সারাজীবন নেশার ঘোরে দৌড়ে যাওয়া একটা মানুষ বাকি জীবনটা এই ভাবেই দৌড়ে যেতে চায়। এই ফাঁকা একুশের মঞ্চের দিকে তাকিয়ে এই সব কথা ভেবে বুকটা মুচড়ে ওঠে তার ফের। আবার শক্ত হয়ে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে সে, রাজনীতি তো শুধু উপরে উঠে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা নয়। নিজের জীবনের সবচেয়ে ভালো সুবিধা ভোগ করা নয়।শুধুই অর্থ রোজগার নয়। রাজনীতির এই পাঠশালায় শুধুই পদ পাওয়া, আর ক্ষমতা পাওয়া নয়। সাংসদ,বিধায়ক হয়ে ঠাণ্ডা ঘরে ঢুকে বসে থাকা নয়। এই ময়দানের নেশা আসলে  হলো সাধারণ মানুষের কথা ভেবে  কিছু কাজ করে যাওয়া। যা কাজের সুযোগ এসেছে তার সদ্ব্যবহার করা সঠিক ভাবে। 
আর সেই কাজ দলের প্রতিষ্ঠা এনে দেয় নিজের প্রতিষ্ঠা নাই বা হলো কিছু। দলের বিপদের দিনে তো সে ঝাঁপিয়ে পড়তে পেরেছিল একদিন। এটা ভেবেই মনে মনে আত্মপ্রসাদ লাভ করে ষাটোর্ধ্ব এই নেতা। ধীর পায়ে একাই একুশের মঞ্চ ছেড়ে ঘরের পথে ফিরে আসে সে। এই বল ভরসা নিয়ে আবার যদি কোনোদিন ডাক পড়ে খেলতে নামার। সেদিন আবার সে এই বুড়ো বয়সে এসেও সে বুঝিয়ে দেবে নতুন প্রজন্মের ঝাঁ চকচকে খেলোয়াড়দের এর থেকে সেও কম ভালো প্লেয়ার নয় সে।
 রাজনীতির ময়দানের ঘাস মাটি তার সব চেনা। শুধু সে চাটুজ্জে, বাড়ুজ্জে, আর মুখুজ্জেদের ভীড়ে সে শুধু একটু যাদব হয়ে গেছে এই আর কি। এটাই তার বড় আফশোষ। না, হলে সেও হয়তো অন্য অনেক মাঠে খেলতে না পারা খেলোয়াড় এর মতই অতি সাধারণ মানের প্লেয়ার হলেও ভালো পুরস্কার পেতো দলের কাছে। এই ভাবে বউ এর কাছে কথা শুনতে হতো না।
ক্ষতি কি এই যেটুকু পাওয়া গেছে সেটা নিয়েই না হয় বাকি জীবন এইভাবে দৌড়ে কেটে যাবে তার। এভাবেই নিজের চেনা শহরে,চেনা মানুষদের কাছে কাটিয়ে দেবে সে বাকি জীবনটা। ধীর পায়ে একা একা ঘরে ফিরে আসে সে বৃষ্টিতে ভিজে। চোখের জল আর বৃষ্টির জলে ভেসে যায় তার দীর্ঘ রাজনীতির জীবনের পথ, ঘাট, প্রান্তর, গ্রামের মেঠো রাস্তা, চেনা শহরের গলি পথ সব কিছু। কলকাতার রাজপথ ছেড়ে সে আবার নিজের চেনা শহরে ফিরে আসে সে। একবুক আশা নিয়ে, আবার যদি কোনোদিন ডাক পড়ে খেলতে হবে তাহলে এই বুড়ো বয়সেও আবার ভেলকি দেখাবে সে। 

চাটুজ্জে বনাম যাদব - অভিজিৎ বসু।
তেইশে জুলাই, দু হাজার চব্বিশ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...