সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চাটুজ্জে বনাম যাদব

সাদা জীবনের কালো কথায় বহু ভালো কথা, বহু জীবনের কথা, লিখে ফেললাম আমি। যে সব কথা কারুর কাছে বড়ই সুখপাঠ্য হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন আমায়। আবার কারুর কাছে সুখের আবেশে মোড়ানো কোনো ভালো অভিজ্ঞতা নয় এই লেখা। যা হয়ত অনেকেই আমায় বলছেন কখনও ব্যক্তিগত উদ্যোগে মোবাইলে হোয়াটস অ্যাপের মেসেজ করে। কিংবা সরাসরি আমায় ফোন করে।
আসলে যাই হোক ভালো অভিজ্ঞতা বা খারাপ অভিজ্ঞতা এই অভিজ্ঞতা তো একদম আমার নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। যার জন্যে শুধু মাত্র আমিই সেই সব পুরোনো ঘটনার সাক্ষী। আর তাই তো রাতদুপুরে ঘুম ভেঙে উঠে পড়ে সেই সাক্ষী লিখতে বসে যায় আপনমনে বেখেয়ালে কিছুটা সেই জ্বর হওয়া রোগীর মত। শুধু মনে হয় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে আমার  জীবনের সময়। তাই হয়তো দ্রুত গতিতে লিখে ফেলতে চাই কিছু মনের অব্যক্ত কথা। যে কথা অকথিত আছে আজও অনেকের কাছেই। 


তেমন সব জীবনের পাওয়া আর না পাওয়ার কথা, মান আর অভিমানের অভিজ্ঞতার কথা। যা সঞ্চয় হয়ে আছে এই আমার ক্ষুদ্র সাংবাদিক জীবনের কুলুঙ্গিতে একদম চুপটি করে। ঘাপটি মেরে সে বসে আছে চোখ বুজে। যেমন করে সাপুড়ে তার ঝাঁপি থেকে সাপ বের করে তেমন ঝাঁপি খুলে বের করা। যাদেরকে নথিবদ্ধ করে রাখতেই আমার এই আঁকাবাঁকা লেখা।আঁকিবুঁকি অক্ষরে কিছু লেখা লেখা খেলা।

 আজ ঠিক তেমনি একুশের শহীদ দিবসের মঞ্চের ভীড়ে একদম একা একা অনেক দূরে দাঁড়িয়ে এক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ সৈনিকের মনকথা বা মনোবেদনার কথা। যে কথায় মান, অভিমান, অপমান, স্বাভিমান সব কিছুই হয়তো তাকে পীড়া দেয় জীবনের এতগুলো বছর কাটিয়ে দেবার পর। তবু তো সেই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গিয়েও, বিদ্ধ হয়েও বার বার ছুটে যাওয়া হারিয়ে যাওয়া ওই ভিড়ের মাঝে। জনতার স্রোতে মিশে যাওয়া অভ্যাস বসত। 
দুর থেকে সব কিছুকে তুচ্ছ করে দাঁড়িয়ে থাকা আর মনে মনে ভাবা জীবনের সবচেয়ে ভালো সময় হারিয়ে ফেলে যে সময় শুধু এই রাজনৈতিক দলের সন্ন্যাস নিলেন তিনি। মনে মনে জীবনের প্রথম প্রেমের মতো জড়িয়ে ধরলেন সেই রাজনীতির কঠিন কঠোর কন্টকময় জীবনকে সব কিছু ভুলে। সেই সব কিছুর সমান মর্যাদা কি পেলেন তিনি এতদিনে। থ্রি টায়ার মঞ্চের একটা তলায় বসার ডাক পেলেও চিঠি পেলেও তো তিনি সেই ভীড় ঠেলে মিছিল করেই আজও সমান ভাবেই জনগণের সাথেই বৃষ্টির জলে ভিজে ডুব দিলেন সেই স্মৃতির রাস্তায় মিছিলের ভীড়ে। যে রাস্তা একদিন তাকে পথ দেখিয়েছিল। সেই পথের নানা ঘটনা আজ বড়ই মনে পড়ে যায় তার এই দুর মঞ্চের দিকে তাকিয়ে কেনো যে তখন এত রিস্ক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে নানা ঘটনায় পুলিশের তাড়া খেয়েও আন্দোলন করতে পিছপা হননি তিনি কে জানে। 
ধর্মের মত তাহলে রাজনীতিও কি আফিম মেশানো থাকে কে জানে সেটা তার জানা নেই। একবার নেশা ধরলে আর সেই নেশা ছাড়ার উপায় নেই কোনো। আসলে এই নেশার টানেই যে জীবনের যৌবন কাটিয়ে আজ বার্ধক্যের দোরগোড়ায়। হারিয়ে যাওয়া জীবনের সবচেয়ে ভালো সময়ে এই ভাবেই যে নেশার ঘোরে ভালো করে প্রেম, ভালোবাসা, সংসার কিছুই করা হলো না তার। এই নিয়ে যে বউ এর কাছে তাকে মাঝে মাঝেই কথা শুনতে হয় টিপ্পনী শুনতে হয় সেটা সে ভালই বুঝতে পারে। কিন্তু উপায় কি রাজনীতির ময়দানের নেশা হলো আসলে ঠিক ওই ঘোড় দৌড়ের রেসের মাঠের নেশার মতই। যাকে একবার ধরে ছাড়া মুসকিল হয়। সেই নেশার টানেই তো সে কাটিয়ে দিলো এত গুলো বছর এই ময়দানের একজন সাধারণ খেলোয়ার হয়ে। 
না, এক এক সময় তার আফসোস হলেও আবার হাসি মুখে সেই অভিব্যক্তিকে বিদায় জানিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজের জগতে। যে কাজে মানুষের জীবনের উপকার হয় সেই কাজেই নেমে পড়ে সে আবার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। এই তো সেদিনের ঘটনা মনে পড়ে যায় তার সিঙ্গুরের জমিতে দলের ঝান্ডা আটকাতে গিয়ে পুলিশ এর তাড়া খাওয়া। সেই হুগলীর বিখ্যাত পুলিশ অফিসার অসিত পাল এর কাছে। যিনি সাংবাদিকদের কাছে অ্যাসিড পাল নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন তিনি। পুলিশের তাড়া খেয়ে জলে ঝাঁপ দেওয়া। গায়ের লাল জামা খুলে খালি গায়ে লুকিয়ে পুলিশকে বোকা বানিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে পালিয়ে যাওয়া। সত্যিই তো নেশা ছিল বলেই বোধ এসব সম্ভব হয়েছে তার জীবনে। না হলে কি আর এই অসাধ্য কাজ করতে পারত সে। 
সত্যিই তো এই সব ভাবলে বুকটা কেমন গর্বে ভরে যায়। কে আর শুনবে এই সব গল্প কথা। বলবে দুর এসব পাগলে বলে। আজকাল পুরোনোদের কোনো দাম নেই তারা সব ব্যাকডেটেড। আর সেই যে ঘটনা মৃতদেহ আটকে রেখে দলের নেতার হাতে তুলে দেওয়ার গল্প। সেদিনও তো দল তার কাছেই আত্ম সমর্পণ করেছিল সেদিন। উল্টে যাওয়া বাসের যাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ নিয়ে চলে যাবে জোর করে। 
কিন্তু সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন দিলীপ যে করে হোক বডি আটকাতে হবে। মুকুল যাচ্ছে। বাস দিদির কথা শুনেই আবার চেপে বসলো নেশা তার। ডিএমকে জোর গলায় আঙুল তুলে বলে দিলেন ডিএম সাহেব আপনি যাদব আমিও যাদব এক জঙ্গলে যেমন দুটো বাঘ থাকতে পারে না তেমন এক জেলায় দুই যাদব থাকতে পারে না। দাপুটে সেই যাদব ডিএম পিছপা হলেন এই আওয়াজ শুনে। মৃতদেহ আটকে রেখে সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মুকুল রায় এর কাছে নিজের স্ট্রাইকার এর খেলা খেলে পয়েন্ট তুলেছিলেন হুগলী জেলার এই যাদব নামের নেতা। 
কিন্তু আজ এত দিন পরে সেই পয়েন্টের কোনো দাম তো দল দিলো না তাকে। বিধায়ক, সাংসদ, মন্ত্রী হবার কোনো সুযোগ পেলো না সে। এমনকি সিঙ্গুরের জমি আন্দোলন নিয়ে যে সব বই লেখা হলো যে নিজের প্রাণ বিপন্ন করে প্রথম পতাকা উত্তোলন করে দিলো নিজের ক্ষমতা আর সাহসের জোরে। যে টাটার কর্মীদের ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করলো তার নামের উল্লেখ করা হলো না কোনো সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের বইতে। ভাবলে এই বুড়ো বয়সে একটু বুকের বাঁ দিকটা একটু চিনচিন করে এই আর কি। এই ফাঁকা সভার রাস্তায় একা একা দাঁড়িয়ে সে কথাই ভাবছিল সে আনমনে।
একা একদম একা হলেও। কত যে মুখ এসে দাদা ভালো আছেন বলে প্রনাম জানালো তাকে। এটাই বা কম পাওয়া কি। সেই যে সময় জেলার এক এক করে দলের পার্টি অফিস গুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতির একটি দল। যে সময় দলের সামনের সারির সব নেতারা ঘরে ঢুকে পড়েছে। ভয়ে কেউ ফোন বন্ধ করে রেখে দিয়ে দায় এড়িয়ে গেছে। সেই সময়ে আবার সেই চেনা ফোন। দিলীপ একটু দেখ তুই। বাস আর কি ঝাঁপিয়ে পড়ে একে একে ফের সেই দলের কার্যালয়ের তালা খুলে নিজের দলের ঝান্ডা উড়িয়ে নিজের জাত ফের বুঝিয়ে দিতে কসুর করেন নি এই যাদব নামের নেতা সেদিনও।
 কিন্তু কালীঘাটের গঙ্গাপাড়ের এই দল বোধ হয় একটু ছুঁতমার্গ করে বাছ বিচার করেই চলে। না হলে কি আর এত পরীক্ষার পর সেই পুড়শুড়াতেই তাকে পরীক্ষা দিতে পাঠায় বিধানসভার টিকিট দিয়ে। যে আসনে নিশ্চিত হার জেনেও। এটাও বোধ হয় নতুন করে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে পারো কি না পরখ করে দেখার জন্যই করা হলো। তাই নিশ্চিত আসন থেকে অনেক দূরের আসনে টিকিট দিয়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলো নিজের দলের কিছু নেতা সব জেনেই। কিন্তু সেই হেরে যাওয়া পরীক্ষায় তাকে হারতেই হলো অবশেষে। যেটা আগে থাকতেই পিকের টীম এই সাজানো নাটক করে রেখেছিল বলে কান পাতলে শোনা যায় এমন কথা। 
তাই এসব ভেবে আর কোনো অনুশোচনা নয়। শুধু সারাজীবন নেশার ঘোরে দৌড়ে যাওয়া একটা মানুষ বাকি জীবনটা এই ভাবেই দৌড়ে যেতে চায়। এই ফাঁকা একুশের মঞ্চের দিকে তাকিয়ে এই সব কথা ভেবে বুকটা মুচড়ে ওঠে তার ফের। আবার শক্ত হয়ে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে সে, রাজনীতি তো শুধু উপরে উঠে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা নয়। নিজের জীবনের সবচেয়ে ভালো সুবিধা ভোগ করা নয়।শুধুই অর্থ রোজগার নয়। রাজনীতির এই পাঠশালায় শুধুই পদ পাওয়া, আর ক্ষমতা পাওয়া নয়। সাংসদ,বিধায়ক হয়ে ঠাণ্ডা ঘরে ঢুকে বসে থাকা নয়। এই ময়দানের নেশা আসলে  হলো সাধারণ মানুষের কথা ভেবে  কিছু কাজ করে যাওয়া। যা কাজের সুযোগ এসেছে তার সদ্ব্যবহার করা সঠিক ভাবে। 
আর সেই কাজ দলের প্রতিষ্ঠা এনে দেয় নিজের প্রতিষ্ঠা নাই বা হলো কিছু। দলের বিপদের দিনে তো সে ঝাঁপিয়ে পড়তে পেরেছিল একদিন। এটা ভেবেই মনে মনে আত্মপ্রসাদ লাভ করে ষাটোর্ধ্ব এই নেতা। ধীর পায়ে একাই একুশের মঞ্চ ছেড়ে ঘরের পথে ফিরে আসে সে। এই বল ভরসা নিয়ে আবার যদি কোনোদিন ডাক পড়ে খেলতে নামার। সেদিন আবার সে এই বুড়ো বয়সে এসেও সে বুঝিয়ে দেবে নতুন প্রজন্মের ঝাঁ চকচকে খেলোয়াড়দের এর থেকে সেও কম ভালো প্লেয়ার নয় সে।
 রাজনীতির ময়দানের ঘাস মাটি তার সব চেনা। শুধু সে চাটুজ্জে, বাড়ুজ্জে, আর মুখুজ্জেদের ভীড়ে সে শুধু একটু যাদব হয়ে গেছে এই আর কি। এটাই তার বড় আফশোষ। না, হলে সেও হয়তো অন্য অনেক মাঠে খেলতে না পারা খেলোয়াড় এর মতই অতি সাধারণ মানের প্লেয়ার হলেও ভালো পুরস্কার পেতো দলের কাছে। এই ভাবে বউ এর কাছে কথা শুনতে হতো না।
ক্ষতি কি এই যেটুকু পাওয়া গেছে সেটা নিয়েই না হয় বাকি জীবন এইভাবে দৌড়ে কেটে যাবে তার। এভাবেই নিজের চেনা শহরে,চেনা মানুষদের কাছে কাটিয়ে দেবে সে বাকি জীবনটা। ধীর পায়ে একা একা ঘরে ফিরে আসে সে বৃষ্টিতে ভিজে। চোখের জল আর বৃষ্টির জলে ভেসে যায় তার দীর্ঘ রাজনীতির জীবনের পথ, ঘাট, প্রান্তর, গ্রামের মেঠো রাস্তা, চেনা শহরের গলি পথ সব কিছু। কলকাতার রাজপথ ছেড়ে সে আবার নিজের চেনা শহরে ফিরে আসে সে। একবুক আশা নিয়ে, আবার যদি কোনোদিন ডাক পড়ে খেলতে হবে তাহলে এই বুড়ো বয়সেও আবার ভেলকি দেখাবে সে। 

চাটুজ্জে বনাম যাদব - অভিজিৎ বসু।
তেইশে জুলাই, দু হাজার চব্বিশ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হারিয়ে যাওয়া চিঠি

আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় শুধু চিঠি আর চিঠি। হ্যাঁ, সেই সাদা কালো অক্ষরে লেখা নানা ধরনের চিঠির কথা। খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে একদম হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই বয়সেও তিনি বেশ বুকে সাহস নিয়ে আর সহজ সরল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে খোলা চিঠি প্রেরন করেছেন। সত্যিই এই কাজকে অসাধারণ বলতে কিন্তু লজ্জা নেই কোনও।রাজনীতির ময়দানে এই মানুষটাকে যত দেখি ততো যেনো মুগ্ধ হয়ে যাই।  এমন একটা সময়ে তিলোত্তমা খুনে দোষীদের শাস্তি চেয়ে ও জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর কাছে বামফ্রন্টের এই খোলা চিঠি। জানা নেই এই ফ্রন্ট এখনও কতটা সক্রিয় হয়ে ফ্রন্টফুটে ব্যাট করতে সক্ষম এই কঠিন পিচে। তবুও সেই বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু রাহুল দ্রাবিড় বা সুনীল গাভাস্কার এর মত বাউন্সার বল সামলে পত্রবোমা ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে। তিনি জানেন না এর ফল পাল্টা অভিঘাত কি হবে।  আসলে এই খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন করা আর অনশন করা চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ত...

ভোরের গন্ধ

ভেঙে ফেলা আস্ত একটা বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে চোখের আঙিনায়, কেমন দাঁত মুখ বের করে ছন্নছাড়া হয়ে, অতীতকে সযত্নে জড়িয়ে, আঁকড়ে। বাড়ির গাড়ি বারান্দার নিচে জমে থাকা সাইকেলের চাকায়, সুতো জড়িয়ে থাকার মতো কত মানুষের জীবন জড়িয়ে ছিল, এই পুরোনো বাড়িতে। বাড়ির শ্যাওলা পড়া দেওয়ালে সেই জীবনের সোঁদা গন্ধ, ঘাম এর দাগ এখনো লেগে আছে এদিক ওদিক। খুঁজলে হয়তো মিলবে আরও দু চার আনার স্মৃতির অকেজো সব তামাটে পরশ পাথর। আসলে মাটি উপড়ে,স্মৃতির উত্তাপ কে মুছে দিয়ে নতুন করে বিচিত্র সব রোজগারির, অপচেষ্টা আর কি। যে লাভের, লোভের, চেষ্টার গলায় লাগাম আর পরাবে কে। দুর থেকে জানলা দিয়ে দেখি শুকনো কলাপাতার ওই ম্রিয়মান নিষ্ফলা হাসি। বট ফলের আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা, যজ্ঞি ডুমুর গাছের পাতায় পিছলে পড়া স্মৃতির নরম উত্তাপ। যে উত্তাপে আজও জারিত হই আমি অনায়াসেই প্রতিদিন সকাল হলেই। ভোরের বেলায় পাখির ডাক শুনে ঘুম জড়ানো চোখে ওদের মন কেমন করা কথা শুনতে পাই না আর। বোধহয় ওরাও বুঝে গেছে তাদের গলায় লাগাম পড়েছে এবার আচমকাই। তাই পথ ভুলে তারাও আসেনা আর কিছুতেই  এদিক পানে। পশ্চিমী হাওয়া ঠেল...

ইটিভির বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য

কত দিন ধরেই তো খুঁজে বেড়াচ্ছি আমি বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যকে। সেই কোথায় যে হারিয়ে গেলো কে জানে সেই বিখ্যাত সাংবাদিকটি। সেই কেমন হাসিখুশি জীবন নিয়েও হাজারও বড়ো অ্যাসাইনমেন্টে গিয়েও কত কুল থাকা যায় সেটা আমি বিশ্বজিৎদাকে দেখে শিখলাম আর কী। সেটা সেই জঙ্গলে মাওবাদী নেতাদের সাথে কথা বলতে যাওয়া হোক বা তাঁদের কোনোও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার নেওয়া হোক। কিম্বা আলিমুদ্দিন স্ট্রীট এর অফিসে গিয়ে বিমান বসুর সাথে একান্তে কথা বলা হোক। কিম্বা অনিল বিশ্বাসের মুখোমুখি হয়ে কথা বলা হোক। কিম্বা সেই মূখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বন্যাদুর্গত এলাকা আরামবাগ মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতি দেখতে হাজির হয়েছেন। খুব সম্ভবত বিশ্বজিৎ দা হাজির আকাশ বাংলা চ্যানেল থেকে সেই সময়। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কথা বলছেন গ্রামের মানুষদের সঙ্গে একটু দূরে। রিপোর্টার আর ক্যামেরাম্যানকে আটকে দিয়েছে পুলিশ। যাতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমরা কেউ যেতে না পারি। আমি উত্তেজিত কিন্তু আমার পাশে দাঁড়িয়ে একদম নির্বিকার হাসিমুখ বিশ্বজিৎদার কথা ছাড় তো, আমাদের যেতে না দিলে আমরা কি করবো। প্রচার হবে না ওদেরই। একটু পরেই সেটা বুঝত...

কুড়ি থালা দশ টাকা আর রসিক মুলুর জীবন

নাম মুলু হাঁসদা। বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানার চরিচা গ্রাম পঞ্চায়েত এর চর ইচ্ছা রঘুবরপুরের বাসিন্দা মুলু। আজ মুলুর জীবন কথা। গ্রামের নামটা ভারী অদ্ভুত। চর ইচ্ছা রঘুবরপুর। যে গ্রাম অন্য পাঁচটা গ্রামের মতই।সাদামাটা এই গ্রামে দারিদ্র্য, অপুষ্টি আর কর্মহীন জীবনের জলছবি সুস্পষ্ট। আর সেই গ্রামের মহিলারা নিজেদের সংসার রক্ষা করতে গাছের পাতাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। গাছের পাতা মুলুদের জীবনের জিয়ন কাঠি। যে জিয়ন কাঠিতে তারা ভোর হতেই পেটের টানে চলে যায় জঙ্গলে। খস খস শব্দ করে পায় হেঁটে তারা পাতা তোলে। গাছ থেকে টুপ টাপ করে ঝড়ে পড়া পাতাকে একটা একটা করে নিজের শাড়ির আঁচলে ভরে নেয়। তার পর সব পাতাকে বস্তায় ভরে ঘরে ফেরে।  ঠিক যেভাবে তারা পুকুরে নেমে শামুক গেঁড়ি আর গুগলি তোলে। যে ভাবে তাদের উদর পূর্তি হবে বলে। আর এই পাতাও যে তাদের পেট ভরায়। একটা একটা পাতাকে নিজের সন্তানের মতো আলগোছে ছুঁয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায় মুলু, বলে তোরা না থাকলে কি করতাম কে জানে। মাথার ওপর শাল সেগুনের বিশাল আকারের গাছগুলো চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে আর তারা চুপ করে শোনে মুলুর কথা।  একে অপ...

আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলা

আঁকাবাঁকা পথ ধরে আমার এগিয়ে চলা। এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে এগিয়ে চলা। যে জীবনে আবাহন আর বিসর্জন নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই কোনোদিন। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে সুখ আবার দুঃখও। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে নতুন কিছু পাওয়ার আশায় আনন্দে উদ্বেলিত হওয়া। আবার আমার এই সাদা জীবনের কালো কথা বা কালো জীবনের সাদা কথার ছোপ ছোপ দাগ। সেই বাঘের গায়ে ডোরা কাটা দাগ নিয়ে বেঁচে থাকা আমার। একদম নিজের মতো করেই যেখানে কারুর কাছে কোনোভাবেই তাঁর বশ্যতা মেনে নিয়ে নয় যেটা আমি পারলাম না কোনোভাবেই কোনওদিন।  তবুও জীবন যাপন তো করতেই হয় আমাদের। যে জীবনের বাঁশবনের ছায়ায় বসে দেখতে হয় বাঁশপাতার মাঝে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফিঙের নাচন। সেই ঝিরিঝিরি পাতার ফাঁকে মিষ্টি রোদের নরম আলো ছায়ার খেলা। যে খেলা দেখতে আমার বেশ ভালই লাগে আজকাল। যে খেলায় কত চেনা মুখের অচেনা ছবি যে ধরা পরে যায় হঠাৎ করেই কে জানে। আমি সেই ছবির ভীড়ের মাঝে কেমন বেঁহুশ হয়ে নিজেই হারিয়ে যাই এদিক, ওদিক, সেদিক। চেনা অচেনার পথ ধরে বাঁশবনের ছায়া মেখে হারিয়ে যাওয়া সেই জীবন। যে জীবনে সাদা কালো কত কিছুই না থেকে যায় দাগ র...