সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আকাশবাণীর মনোজ কর

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ শুধু আকাশবাণীর সেই মনোজদার কথা। হ্যাঁ সেই মনোজ কর এর কথা। কলকাতা অল ইন্ডিয়া রেডিওর বিজ্ঞান বিভাগের মনোজ কর। দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের সাংবাদিক জীবনে নানা মানুষের সাথে কাজ করার সুযোগ হয়েছে আমার  নানা রঙের, নানা জীবনের সান্নিধ্যে আসতে পেরেছি আমি। যাদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আমার এই জীবনে জড়িয়ে আছেন তাদের আর ভোলা যায়না কিছুতেই। 
সেই পুরোনো স্মৃতি, সম্পর্ক, যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে গেলেও মনে হয় এমন একজন মানুষ যে শুধু সারা জীবন দৌড়ে কাটিয়ে দিলো একটা কাজকে গভীর ভাবে ভালোবেসে। সরকারি গণ মাধ্যমের এমন একজন অস্থায়ী কর্মী হয়েও কেমন করে যে এই ভাবে অস্থায়ী একটা জীবন কাটিয়ে দিলো কে জানে। কি করে যে কোনো দিকে না তাকিয়ে শুধু বিজ্ঞানের ইতিহাস তার নানা জানা অজানার মাঝে নিজের গোটা জীবনটা ডুবিয়ে দিলো কে জানে।
 কিছু কিছু মানুষ বোধহয় এমনই হয়। যারা শুধু কাজ ভালোবাসে। মুখ বুজে সব কিছু সহ্য করে হাসি মুখে কাজ করে যায়। সব কিছুর সামাল দেয়। দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত না হলেও সব কিছুর মাঝে তাঁকেই লাগে না হলে যে অচল হয়ে যায় গোটা দপ্তরের কাজ। যাকে নিয়ে এত কথা, এত গল্প সেই মনোজদার সাথে আমার আলাপ পরিচয় হয় খুব সম্ভবতঃ ঊনিশ শো বিরানব্বই সালে। আজ থেকে প্রায় বত্রিশ বছর আগে। তখন সবে আমি সাংবাদিক হবো বলে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছি।আনন্দবাজারের বিখ্যাত সাংবাদিক স্যার কাজী গোলাম গউস সিদ্দিকী আমায় বলেছেন একবার আকাশবাণীতে যেতে। বিজ্ঞান বিভাগের স্বাতী চট্টোপাধ্যায় এর সাথে দেখা করতে। 
তার আগে যদিও একবার আমি যুববানীতে গেছিলাম সেই বিখ্যাত মানস মিশ্রর সাথে দেখা করেছি। একটা অনুষ্ঠান করেছি গ্রাম থেকে বলছি। ভজন আর আমি একটা টেপ রেকর্ডার নিয়ে গ্রামে ঘুরে বেড়ানো আর গ্রামের লোকের কথা শোনা। সেই বিখ্যাত দিয়ারার গোবিন্দপুর গ্রাম থেকে বলছি যেদিন প্রচার হলো রেডিওতে কি যে আনন্দ হয়েছিল সেটা আপনাদের বলে বোঝাতে পারবো না। প্রথম অভিজিৎ বসুর নাম শুনলাম রেডিওতে। পেলাম আড়াইশো টাকার চেক। কিন্তু সেই গ্রাম ছেড়ে সোজা বিজ্ঞানের জগতে প্রবেশ। দেখা করলাম স্বাতী চট্টোপাধ্যায় এর সাথে। 
খুব লম্বা, রোগা, গম্ভীর নয় বেশ হাসি মুখে বললেন ও কাজী দেখা করতে বলেছে তোকে। ঠিক আছে কি কাজ করেছি জানতে চাইলেন আমার কাছে। ছোট্ট একটা কোনের ঘর, ফাইলের মধ্য ডুবে আছেন তিনি প্রায়। ফাইল থেকে মাথা তুলে বললেন ওই যে মনোজ আছে ওর সাথে যোগাযোগ করিস কিছু হলে ওই খবর দেবে। দেখলাম ঘরের এক কোণে চেয়ারে বসে আছেন হাই পাওয়ার এর চশমা পরা একজন। আমি বললাম অভিজিৎ আমার নাম। হেসে বললেন হ্যাঁ ঠিক আছে এসো মাঝে মাঝে কিছু খবর হলে বলে দেবো আমি।
 সেই শুরু আমার আকাশবাণীর আকাশ পথে বিচরণ করা একটু একটু করে। ধীরে ধীরে দেখলাম এই বিজ্ঞান বিভাগের আসল অফিসার সেই সময় স্বাতীদি হলেও। সেই গম্ভীর মুখের দত্তদা এই দপ্তরে কাজ করলেও যে নিজের ছেলে মেয়ের প্রশংসা বেশি করতে ভালোবাসতেন। এই দপ্তরের নাড়ী নক্ষত্র কিন্তু সব জানে ওই মনোজদা। দপ্তরের আসল চাবি ওই মনোজ দার হাতেই। কে কোন বিষয়ে বলবেন, কাকে বুকিং করতে হবে সব তার নখদর্পণে। মনোজ কর ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের চাকা পাংচার হবার অবস্হা।
আমি  নিজে কোনো রকমে পাশ করে বিজ্ঞানে স্নাতক হয়ে এই বিভাগেই স্বাতীদির দৌলতে অস্থায়ী কর্মীর কাজের সুযোগ পেলাম হঠাৎ করেই। আউটডোর কাজ করতে পারলেও স্টুডিওতে দাঁড়িয়ে এডিটিং করা সেই কঠিন কাজ হাতে ধরে যে মানুষটা দিনের পর দিন হাতে ধরে শিখিয়ে দিলেন আমায় সেটা সেই মনোজ কর। স্টুডিওতে ডাক্তারদের রেকর্ডিং করা, অডিও ঠিক আছে কি না সেটা বলে দেওয়া, পুল আর রেকর্ডিং এর ফিতে ঠিক করে মেশিনে জড়িয়ে আটকাতে পারলাম কি না ঠিক  করে। সব কিছুই কেমন হাসি মুখে দেখিয়ে দিত ওই মনোজ দা। ভুল করলেও কোনো দিন কোনো রাগ বা বিরক্তি প্রকাশ করেননি তিনি আমাদের ওপর।
 আসলে এটাই বোধহয় ওনার জীবনের সবথেকে বড়ো প্লাস পয়েন্ট। আর তাই বোধ হয় শুধু বিজ্ঞান বিভাগের নয় যে কোনো বিভাগে কিছু কাজ এর দরকার হলেই ডাক পড়তো মনোজ কর এর। আকাশবাণীর সেই লম্বা করিডোর ধরে প্লাস্টিক এর চটি পরে কেমন হাসি মুখে সব কাজের সামাল দিয়ে অফিসারদের মুখে হাসি ফুটিয়ে দিতেন। আর তাই যে কোনো কঠিন কাজ মনোজদা হাসি মুখে উৎরে দিত। একজন অস্থায়ী কর্মী হিসেবে যে ছয়দিনের বুকিং পেতেন সেটা নিয়েই। এর জন্য কিছু বাড়তি আয় হয়নি তার কোনো দিনই।
 কেমন যেনো একটা নেশার ঘোরে কাজ করে যেতো মনোজ দা। কিন্তু কোনো দিন কোনো ভাবে নিজের দুঃখ কষ্টের কথা কাউকে বলতে শুনিনি তাকে। আকাশবানীর সেই সময় স্বর্ণ যুগ। স্বাতীদি,কৃষ্ণশর্বরী দি, নুরুল দা, সমরেশ দা, অঞ্জন দা, জামাল দা, হীরক দা, অমর দা, বাসবী দি, অনেক পরে স্বপ্নময় দা, মানস প্রতিম দা, দেবাশীষ পাল দা, বার্তা সম্পাদক সুনিত চক্রবর্তী, অরিজিৎ দাশগুপ্ত, স্টেশন ডিরেক্টর বিখ্যাত মানুষ ড অমিত চক্রবর্তী। এই সব মানুষের মেলা তখন আকাশবাণীর অন্দরে। যেখানে নানা অনুষ্ঠান, আউটডোর, ইনডোর এর কাজ সামলে দেয় একঝাঁক তরতাজা ছেলে মেয়ে। যারা অস্থায়ী তকমা নিয়ে ক্যাজুয়াল কর্মী হয়ে অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে কাজ করে যায় এই বিখ্যাত গণ মাধ্যমে সকাল থেকে রাত অবধি। তাদের একজন এই মনোজ কর।
 কবে যে যাত্রা শুরু করে মনোজদা ঠিক জানি না আমি সেটা। তার কবে কত সালে এই কাজের জগতে প্রবেশ সেটাও জানি না আমি। কত সালে আকাশবাণীর দরজায় পা রাখে কে জানে। তবে প্রায় চল্লিশ বছর না হলেও পঁয়ত্রিশ বছর বা তার বেশি সময় ধরে আজও মনোজ দা সেই বিজ্ঞান বিভাগের অস্থায়ী কর্মী হিসেবে  কাজ করে চলেছেন একভাবেই। একদম একভাবে, একরূপে সেই মুখে হাসি নিয়েই কাজ করছেন তিনি আজও। মাঝে মাঝেই আমার কথা হয় মনোজ দার সাথে।
 কোনো বিপদে পড়লে বিজ্ঞানের এই বিষয় নিয়ে কে ভালো বলতে পারবেন জানতে চেয়ে ফোন করলে মনোজদা এক বাক্যে বলে দেন উনি হলেন সব থেকে ভালো লোক এই বিষয়ে। বলে তার নম্বর বলে দেন আমায়। সেই তো শুনেছি আমি লকডাউন এর সময় যখন একটু একটু করে ট্রেনে ওঠার অনুমতি মিলেছে যাত্রীদের। সেই সময় নিজে ট্রেনে উঠে সারা সপ্তাহের বিজ্ঞান বিভাগের কি অনুষ্ঠান এর টেপ জমা দিতে হবে সেটা ডিউটি রুমে জমা দিয়ে সব দায়িত্ব সামলে হাসি মুখে বাড়ী ফিরে যেতেন তিনি। আমি মাঝে মাঝে ভাবি এমন অস্থায়ী একজন কর্মীর জন্য বোধহয় বিজ্ঞান দপ্তরও গর্বিত।
 আসলে কি জানেন সাদা জীবনের কালো কথায় আঁকা বাঁকা অক্ষরে আমার এই আঁকিবুঁকি ব্লগে এমন একজন মানুষের কথা না লিখলে বোধহয় ঠিক করতাম না। একজন সংবাদ মাধ্যমের কর্মী হয়ে তাহলে বোধহয় সেটা অপরাধ করতাম আমি। মনোজদা না থাকলে হয়তো আকাশবাণী কলকাতা স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ দপ্তরে, বিজ্ঞান বিভাগে কাজ করতেই পারতাম না আমি। পরে সেই আকাশবাণীতে আমি নানা এন্টারটেনমেন্ট এর কাজ করেছি বিখ্যাত সেই সুরকার অসীমা মুখোপাধ্যায় এর সঙ্গে। যিনি আজ আর নেই। যে গল্প আমি লিখেছি।
 কিন্তু সেই মনোজ কর এর কাছে কাজ শিখেই তো বিজ্ঞান মেলায় টেপ রেকর্ডার নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি চারিদিকে নানা জেলায়। গ্রামে শহরে বিজ্ঞান নিয়ে সচেতন মূলক নানা কর্মকান্ডকে তুলে এনে সেটা প্রচার করেছি আমরা। আর মাসের শেষে ছয় দিনের বুকিং দিয়ে যাতে আমরা ঠিক সময়ে চেক পাই তার ব্যবস্থা করে দিয়েছে এই আমাদের সবার মনোজদা। আমরা একসময় হয়তো ভেবেছিলাম যে এই অস্থায়ী জীবনে একটু স্থায়ীত্ব আসবে। তাই ক্যাজুয়াল কর্মী হলেও মাঝে মাঝে আশা ভরসা করতাম যদি ভালো কিছু হয় আকাশবাণীতে। এখানেই যদি জীবনের বাকি দিন গুলো কেটে যায় আমাদের। হয়তো মনোজদাও সেই স্বপ্ন দেখতো মনে মনে আমাদের মত। কিন্তু আমি মনোজদাকে সেই কথা কোনোদিন বলতে শুনিনি।
 আশ্চর্য একজন মানুষ যে সারা জীবন মুখ বুজে একটা দপ্তরে বিজ্ঞান নিয়ে প্রচার এর জন্য সব কিছু উজাড় করে দিলো হাসি মুখে। আমি জানিনা মনোজদা বিজ্ঞান নিয়ে পড়েছেন কি না। জানি না বিজ্ঞানের প্রতি এই প্রেম ভালোবাসা কি করে হলো তাঁর। কিন্তু সে যাই হোক এই মানুষটা নিজের কথা ভাবলো না কোনোদিন যে তার কি হলো এই জীবনে। সেই চক্ররেল ধরে বাবুঘাটের কাছে ইডেন গার্ডেন্স স্টেশনে নেমে হেঁটে অফিস আসা। আর সন্ধ্যা বেলায় সেই এক জায়গা থেকে ট্রেন ধরে ঘরে ফেরা। আর সেই ছোটো টিফিন বক্সে রুটি আর তরকারি নিয়ে আসা। কাজের চাপে চারটে বেজে যেত টিফিন খেতে তার। কিন্তু আমায় বলতেন অভিজিৎ নাও খাও। আমি বলতাম না না তুমি খাও।
 এমন হাসি মুখে একটা গোটা জীবনের প্রায় বেশির ভাগ সময় কাটিয়ে দিলো শুধু বিজ্ঞান বিভাগের প্রচার করে। সত্যিই কি অসাধারন এই বিজ্ঞানময় অস্থায়ী জীবন। এই জীবন হয়তো কোনো দিন প্রচারের আলোয় আসবে না। আর কয়েক বছর পরে তাঁর ষাট বছর হলেই হয়তো মনোজদাকেও কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়মে আর অস্থায়ী কাজের সুযোগও দেওয়া হবে না তাকে আর। কোনও বুকিং মিলবে না আর তার। 
কিন্তু আকাশবাণীর বহু অস্থায়ী কর্মীর মাঝে বিজ্ঞান বিভাগের এই মনোজ কর, আমাদের সবার কাছে কিন্তু উজ্বল হয়েই থাকবেন। বিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞান আন্দোলনের এই প্রচারের একজন স্থায়ী সদস্য হয়ে আজীবন বেঁচে থাকবেন এই মনোজ কর। হয়তো কোনো ভাবেই কোনো দিন তাঁর এই কথা খাতায় কলমে কিছু লেখা থাকবে না, কিন্তু তাঁর এই অবদান মনে রাখবে আকাশবাণীর সকলেই। আর বিজ্ঞানকে ভালোবাসা মানুষজন। স্যালুট মনোজ কর। 

আকাশবাণীর মনোজ কর - অভিজিৎ বসু।
পঁচিশে আগস্ট, দু হাজার চব্বিশ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ্যাপি বার্থডে রনজিৎ দা

আমার মোবাইলে নম্বরটা আজও সেভ করা আছে রনজিৎ মদন দা নামেই। কবে, কোথায় ওর সাথে দেখা হয়েছিল আজ আর সেটা স্মরণে নেই আমার। হয়তো সেই ২৪ চৌরঙ্গী রোডের অফিসে বা ভবানীপুরের সেই বিখ্যাত অফিসে দেখা হয়েছিল একদিন। ডাকাবুকো কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র তখন প্রিয়রঞ্জন‌ দাসমুন্সীর লোক। একদম ফর্সা গায়ের রং। চোখে রোদ চশমা, সাদা প্যান্ট সাদা জুতো পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক আর ওদিক। আর সেই কিছু দরকার পড়লেই রনজিৎ রনজিৎ বলে ডাক দিচ্ছেন তিনি দরকারে আর অদরকারে।  রনজিৎ হলো মদনদার সেই পুরোনো দিনের একমাত্র সঙ্গী আর ছিল সেই স্বপন মাইতি বর্তমানে তিনি আর বেঁচে নেই। এস এস কে এম এ গেলেই স্বপনদা কে দেখতাম আমরা। কিন্তু সেই জাদুঘর এর ফুটপাথ ধরে বিকেলের কাগজ বের হলে পট পরিবর্তন আর অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়ে চলে যেতাম আমরা দুজন। বর্তমানে একজন তৃণমূলের মুখপাত্র অনেক বড় মাপের সাংবাদিক ও রাজনীতির লোক। দলের অন্দরে অনেক দূর অবধি তাঁর হাত বিস্তৃত। অন্যদিকে আর একজন ৩৫ বছর এই বাংলা মিডিয়াতে কাজ করে এখন বাতিলের দলে টোটো চালক হয়ে গেছে আর কি।  যাক সেই রনজিৎ এর আজ জন্মদিন। মনে পড়ে গেলো আমার...

ইটিভি ও অম্বরীষ‌ দা।

সাদা জীবনের কালো কথায় এমন একজনের কথা লিখবো আজ যার কথা অনেক আগেই লেখা উচিত ছিল আমার। ইটিভির কর্ণধার রামোজি রাও এর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির কথা লেখার সময় যার কথা আমার এক লাইন হলেও লেখা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যা আমায় মনে করিয়ে দিলেন একজন প্রাক্তন ইটিভির সহকর্মী। তার কথা শুনে মনে হলো ঠিক তো চেয়ারম্যান স্যার কে হারিয়ে আমরা সবাই ইটিভির কর্মীরা মিলিত হলাম এক নিমেষে এক ছাতার তলায়। কিন্তু যার জন্য আমরা সবাই তাঁর কাছে এই ইটিভির কোম্পানি তে কাজ এর সুযোগ পাই তাঁর কথা উল্লেখ করা দরকার ছিল বোধ হয়। কিন্তু আমি লিখি নি বা হয়তো ভুলে গেছিলাম সেই মানুষটার কথা বলতে। সেই ব্যক্তির কথাই আজ বলবো কিছুটা। না হলে সেটা ঠিক কাজ হবে না কিছুতেই।  যে মানুষটার জন্য আমরা প্রায় সবাই এই ভাবে সব একসাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কেউ পশ্চিমবাংলায় কাজ করেছি আবার কেউ কেউ হায়দরাবাদ এর সেই পাঁচিল ঘেরা রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যে কাজ করেছি। কিন্তু বাংলা মিডিয়ার সেই ছোট্টো চারা গাছের যে বীজ রামোজি রাও বপন করেছিলেন সেই সময় আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। এই মানুষটার হাত ধরেই লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল স...

দিদির নিদান

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ চুরি না করার নিদান। সেই ছোটো বেলায় পড়েছিলাম বইতে মাসীর সাবধান বাণী। চুরি করে কি অবস্থা হলো। শেষে মাসীর কান কামড়ে দিল বালক। মাসীর সাবধান বাণী না শুনে। আজ এই এক ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আমার সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো হঠাৎ করেই। আচ্ছা সত্যিই কি এই কড়া নিদান দিয়ে চুরি রোখা যায়। কথায় বলে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। মুখ্যমন্ত্রীর একদম সোজা সাপটা এই বর্জ নির্ঘোষ কথা শুনে আমার এমন মনে হলো আজ। যে কথার উত্তর দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই কারুর।  সে দলের যে নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, বা পুরসভার চেয়ারম্যান হোক। চুপ করে বসে হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ উত্তর দিলেই বিপদ বাড়বে বই কমবে না। একদম সোজা সাপটা তীরবিদ্ধ আক্রমন এর সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা। করে খাবার জায়গা নয় তৃণমূল দল। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নিজের পেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতি আর নয়, অনেক হয়েছে।  সত্যিই তো রাজনীতির আঙিনায় এই সব কিছুকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। কত কষ্ট করে মাটি তৈরি করে, জল দিয়ে এই ছোটো দুটি জোড়...

বিশ্ব সাইকেল দিবস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস এর কথা। এই দু চাকার যানকে নিয়ে যে কত অম্ল মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে সবার জীবনেই তা বলে শেষ করা যাবে না বোধ হয়। আর আজ সেই সাইকেল উদযাপনের একটি আন্তর্জাতিক দিন। এই বিশ্ব সাইকেল দিবস প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় এই দিনটি।  ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে সাইকেলের দীর্ঘ জীবনকাল এবং বহু কাজে ব্যবহৃত হওয়ার প্রশংসা করা হয়। সঙ্গে প্রায় দুই শতক কাল এর সাধারণ,কম খরচ, বিশ্বাসযোগ্যতা, এবং পরিবেশের জন্য উপযুক্ত যানবাহনের মাধ্যম হিসাবে সাইকেলের উল্লেখ করা হয়েছিল। সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মূলতঃ এই দিবস উদ্‌যাপন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়েই। বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ তাই সবার কাছেই জানা একটা বিষয়। কিন্তু যে সাইকেল নিয়ে এত কথা সেই লাল টুকটুকে সাইকেল পেয়েছিলাম আমি স্কুল জীবনে ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠে। সময়টা যত দুর মনে পরে শীতকাল ডিসেম্বর মাস। মেজমামা আমায়...

ইটিভির রবি দা

কিছু কিছু মানুষের হাসি মাখা মুখটা মনে পড়লেই কেমন মনটা ভালো হয়ে যায় যেনো এই পৌষের কুয়াশা মাখা সকাল বেলায়। কতদিন যে সামনাসামনি দেখা হয়নি তার সাথে। কতদিন যে একসাথে পথ হাঁটা হয়নি আর। কতদিন যে গলা শোনা হয়নি তার। কি রে কি খবর তোর। এই বলেই পিঠের ওপর হাতটা নিয়ে চাপড়ে দেওয়া। ভাবটা এমন ভয় নেই কোনও তোর কাজ করে যা তুই।  হ্যাঁ, যে প্রথম আমায় ভোটের সময় ইটিভির জেলা থেকে কলকাতায় ডিউটির সময় কলকাতা অফিসে সারাদিন বসিয়ে না রেখে কলকাতা শহরে প্রথম লাইভ করার সুযোগ করে দেয়। সেই হায়দরাবাদ থেকে আসা বড়ো ওবি ভ্যান দিয়ে বলে যা লাইভ করে আয় তুই। যদিও ভোটের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব পালন করা আশপাশের কর্তা ব্যক্তিরা সেটা শুনে খুব একটা খুশি হয়নি সেই দিন। কারণ হয়তো আমি দেখতে খারাপ বলে। কিন্তু কিছু বলতেও পারেনি তার মুখের ওপর। সেই দক্ষিণ কলকাতায় তথাগত রায়কে নিজে বলে দিয়ে এক ভোটকেন্দ্র থেকে লাইভ করানো। সালটা ২০০২ হবে বোধহয় খুব সম্ভবত।  সেই জেনারেটর দিয়ে ওবি চলা। রাস্তায় কালীঘাট থানার পুলিশের এসে বলা গাড়ি দাঁড় করানো যাবে না এইভাবে। আর তার মাঝেই ধুতি...