সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পল্লীডাকের গল্প


সাদা জীবনের কালো কথায় আজ আর কোনো ব্যক্তি মানুষের কথা নয়। কোনো বিশেষ চরিত্রের স্মৃতিচারণ করা নয়। আজ এমন এক ছোটো পত্রিকার কথা বলবো, যাকে ঘিরে হাজারো মানুষের ভীড় উপচে পড়েছে সারাদিন ধরেই নানা ভাবে নানা রূপে। সেই ছোটো হুগলী জেলার এই পত্রিকার অফিসে নিয়ম করে হাজির হতেন জেলার ছোটো,বড়ো, মেজো, সেজো, নানান মাপের আর নানা ধরনের এলিট শ্রেণীর সব সাংবাদিক থেকে শুরু করে জেলার ডেঙো ডোঙলারাও। যাদের সাধারণভাবে কেউ পাত্তা দিত না কোনোদিন জেলায় তথাকথিত সাংবাদিক এর দল।

 এই পল্লী ডাক পত্রিকার অফিসে আসতেন রাজনীতির কেউকেটারা, কেস্টবিষ্টুরা, থানার বড়ো বাবু, মেজো বাবুরা, সিপিএম এর জোনাল কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে  নানা মাপের নেতারা, আবার সদ্য গজিয়ে ওঠা প্রোমোটার সেও হাসি মুখে হাজির হতেন এই পল্লীডাক এর অফিসে হাসি মুখে। কেউ কেউ এই সংবাদের পেশায় টিকে থাকার জন্য খবরের জন্য ছুটে আসতেন এখানে। আর সঠিক খবর পাবার আশায় হাজির হতেন এখানে। এবেলা ওবেলা হাজির দিত তারা প্রতিদিন। আবার কেউ কেউ এই পেশায় প্রবেশ করার ছাড়পত্র পেতে ইট পাতার জন্য এই পত্রিকার অফিসে হাজির হতেন হাসি মুখে একটু কৃপা লাভের আশায় দাঁড়িয়ে থাকতেন তারা। আর সবাইকে কড়া নজরে জরিপ করে দেখে নিয়ে নিকশ কালো কষ্টি পাথরে ঠোক্কর মেরে দেখে যাচাই করে তবেই তাদের এখানে প্রবেশের অনুমতি দিতেন এই পত্রিকার সম্পাদক আমাদের সবার আপাত রাশভারী কিন্তু রসিক মানুষ প্রবীরদা। সেই প্রবীর মুখোপাধ্যায়। ইন্দুভুষণ মুখোপাধ্যায় এর বড়ো ছেলে।


 বাবার তৈরি সেই কাগজ আর প্রেস এর দায়িত্ব পালন করেই সারাটা জীবন কাটিয়ে দিলেন তিনি হাসি মুখে আর কিছু না করেই একবারে বিন্দাস জীবন আর কি। হ্যাঁ, শ্রীরামপুর স্টেশনের নিকটে গোপাল ফার্মেসী ওষুধের দোকান এর পাশের আর সেই আর কে স্টুডিও যে স্টুডিও আজ উঠে গেছে নেই গোপাল ফার্মেসীও তার পাশ দিয়ে ছোটো গলি পেরিয়ে ছোটো ঘুপচি অন্ধকার একটা স্যাঁতসেঁতে একটা ঘর। সেই ঘরের একদিকে সেই কথা বলতে গেলে আটকে যাওয়া আমাদের সবার প্রিয় সেই দুলালদা। কলের ঠাণ্ডা জল এনে সাংবাদিকদের যে দুপুর বেলায় খাওয়াতো হাসি মুখে। এই তো সেদিন দুলালদার সাথে দেখা হলো আমার স্টেশনের সামনে। কেমন বুড়ো হয়ে গেছে দুলাল দা। আজও সেই মুখের হাসিটা লেগে আছে তার।

 আর ছাপার হরফ এক এক করে হাতে করে বসিয়ে সেট করে দেওয়া সেই বিজলী দিদি। ছাপাখানার সেই পুরোনো শহরের ইতিহাসকে বুকে আগলে ঘটাং ঘটাং করে ছাপা হচ্ছে গরম চার পাতার কাগজ। কি সুন্দর সেই গরম ছাপা কাগজের কালির গন্ধ এখনও যেনো নাকে লেগে আছে। আর মেসিন ঘরের সামনের বারান্দায় গোল ঘোরানো টেলিফোন নিয়ে বসে আছেন প্রবীরদা। বেশ গম্ভীর মুখে। একটাকা দিয়ে তিন মিনিটের ফোন করা যাবে। সেই খুচরো পয়সা রাখার বাটি। গুনে গুনে একটা একটা করে পয়সা রাখা। মোটা ফ্রেমের চশমা পরে সেই কাগজের প্রুফ দেখে দুলাল দাকে ফেরত দেওয়া। এই নাও দুলাল ঠিক করে দিলাম। আবার নতুন করে কাগজ ছাপা হতো।

একটা ছোট জেলার সাপ্তাহিক কাগজের এত রমরমা বেশ ভালই লাগত আমার দেখে। কবে যে কি করে যে এই পল্লীডাক এর অফিসে হাজির হলাম কার হাত ধরে সেটা ঠিক মনে পড়ে না আজ আমার। খুব সম্ভবত তরুণদার হাত ধরেই ভয়ে ভয়ে এখানে হাজির হয়েছিলাম একদিন সেই হাওয়াই চটি পড়ে সাইকেল নিয়ে। প্রবীরদা বলেছিলেন প্রথম দিন এসো ভাই কিছু খবর হলে দেবো। দুর থেকে আমায় খইনি ডলতে ডলতে একমনে জরিপ করলো সে। নামটা পরে জেনেছিলাম তার ফাল্গুনীদা। খাসখবরের বিখ্যাত সাংবাদিক। সেই পল্লীডাক এর অন্দরে প্রবেশ আমার সাল তারিখ কিছুই মনে নেই আর।



 তারপর কতগুলো বছর কেটে গেলো যে এই খবরের কাগজের অফিসে কাটালাম আমরা সব হুগলী জেলার সাংবাদিকরা। কত খবর পেলাম। কত খবর এর জন্যে বিখ্যাত হলাম তার ঠিক নেই। একদিন রাতে ফর্সা গায়ের রঙ একজন সাংবাদিক কলকাতা থেকে এসেছে নতুন জেলায় কাজ করতে প্রবীরদা বললেন তুই ওনাকে রিষড়াতে বাড়ী ফেরার সময় নিয়ে যাস। ও রিষড়াতে যাবে ওর নাম পুলকেশ। সেই বর্তমান কাগজে নাম ছাপা একজন সাংবাদিককে হাতের নাগালে পেলাম। তাকে আমি গাইড করে নিয়ে যাবো এটা তো আমার কাছে যেনো হাতে চাঁদ পেলাম আর কি। পরে বহুবার পুলকেশদার সাথে দেখা হয়েছে নানা জায়গায় এই গল্প দুজনে করেছি আমরা।

 এই পল্লীডাক এর অফিসে দেখা যেতো প্রণব মন্ডল, গৌতম বন্দোপাধ্যায়, তরুণ মুখোপাধ্যায়, ফাল্গুনী বন্দ্যোপাধ্যায়, নাজিমুদ্দিন মন্ডন, তারক কর্মকার, নীলরতন কুন্ডু, দেবাঞ্জন দাস, সমৃদ্ধ দত্ত যে এখন দিল্লির বিখ্যাত সাংবাদিক, কিংশুক যে এখন আর বেঁচে নেই। সেই মুরলী চৌধুরী, বসন্ত মিশ্র, সেই তারাপুকুর থেকে আসা পিন্টু। যার সাংবাদিক হবার প্রবল বাসনা ছিল। সেই পয়সা নিয়ে ম্যাজিক দেখানো ছেলেটি  যার নাম মনে নেই, সেই সুন্দর টিপটপ সেজেগুজে থাকা সমীর সাহা, সুন্দর দাড়ি রাখা মৃণাল দত্ত, সেই বাপি, তাপস, সৌগত, সৌরভ, মিন্টে, প্রকাশ, প্রদীপ যারা অনেক পরে হাজির হয় জেলায়।সেই উপেন, কিট্টূ, মিল্টন সেন -  এমন হাজারো মানুষের ভিড়ে গমগম করতো এই পল্লীডাক অফিস। 

যেখানে একদিন ভয়ে ভয়ে পা দিয়েছিলাম যে কোনো ভাবেই হোক প্রবীরদা বেশ পছন্দ করতে শুরু করলেন আমায়। আমার বাড়ির গল্প শুনলেন। মার কথা শুনলেন। বাবা কি করেন জানলেন। ধীরে ধীরে আমিও কেমন করে সবার সাথে মিশে গেলাম সাংবাদিক পরিচয়ে। যদিও তার আগের কঠিন কঠোর সংগ্রামের দিনগুলো প্রবীরদার আমায় সাহায্যে করা ভুলবো কেমন করে। সেই পুলিশে কাজ করা মেঘলালদার বাড়ী থেকে রেশনের চাল এর ব্যবস্থা করে দেওয়া। সাইকেল নিয়ে মহেশ এর সেই পুলিশ কোয়ার্টার থেকে  চাল নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফেরা। সেই প্রবীরদা নগার বাড়ী থেকে নিজের গাছ থেকে পেড়ে আনা টাটকা এচড় এনে দিয়ে বলা মাকে দিস রান্না করে খাবি। 

সেই শিয়াখালা থেকে তরুণ পান এর আলু নিয়ে এলে বলা অভিজিৎ ব্যাগে আলু রাখা আছে বাড়ীতে নিয়ে যাস মাকে দিস। এই তরুণ পান আজ আর বেঁচে নেই যে জঙ্গলপাড়া তে প্রচার করতে গিয়ে সিপিএমের হাতে মার খেয়েছিলেন গাছে বেঁধে রেখে দিয়েছিল তাকে। সেই ভজা প্লাস্টিক চটি পরে একমুখ হেসে এসে বলতো প্রবীরদা ভালো আছেন আপনি। সেই দিলীপ মাস্টার পাঁচ টাকার বাদাম এনে লুকিয়ে প্রবীরদাকে দিয়ে মন নেবার চেষ্টা করতো। যা দেখে ফাল্গুনীদা বলত ওই এলো মাস্টার। সেই রিষড়ার কংগ্রেসের শেখ রশিদ। তারকেশ্বর এর স্বপন সামন্ত। পাণ্ডুয়ার আনিসুল ইসলাম। সেই পোলবার সাধন সাঁতরা। উত্তরপাড়ার দিলীপ যাদব। আকবর আলী খোন্দকারের ডান হাত। 


আর যার কথা বলতেই হয় আমাদের শেওড়াফুলির সেই অমিয় মুখোপাধ্যায়। যার ডাক নাম থাকো দা। সারাজীবন কংগ্রেস করে হাসি মুখে জিতে গেলেন গড় বাগানের পতিতা পল্লী এলাকায়। নিজের জন্য কিছু না করে হাসি মুখে পরোপকার করে গেলেন তিনি সারা জীবন। বাজার করতে গিয়ে বাজারের টাকা লোককে দিয়ে ঘরে ফিরলেন শুন্য হাতে হাসতে হাসতে। পুরসভার বেতন নেই মেথর এর দল হাজির তাঁর কাছে বাড়িতে সকাল বেলায়। ঘর থেকে কুড়ি টাকা করে দিয়ে বললেন তিনি এই তোরা আর কাউকে বলিস না কিন্তু বাবা। কিন্তু একে এক সবাই জেনে গেলো সেই কথা হাজির তাঁর কাছে সাহায্য চাইতে। হাসি মুখে সবাইকে সাহায্য করলেন তিনি। সেই শেওড়াফুলির গড়বাগানের চামেলী, রত্না আর চম্পাদের কাছে ভগবান ছিলেন এই অমিয় দা ওরফে থাকো দা। আসলে রাজনীতির এই দ্রুত বদলে যাওয়া দিনে এই সব মানুষদের কথা খুব মনে পড়ে যায়। সাংবাদিক হবার সুবাদে আমি যাদের খুব কাছ থেকে দেখেছি। এই অমিয়দা পল্লী ডাক প্রেসে এসে বসতেন সন্ধ্যা বেলায়। সেই ধুতি আর আধময়লা পাঞ্জাবি পরে হাসিমুখে। আমরা বলতাম অমিয় দা আমি যাবো ওই পতিতা পল্লীর একটু খবর করবো। বলতেন এসো এসো কোনো রকম অসুবিধা হবে না তোমাদের। আমরা গেলে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে খবর করিয়ে দিতেন তিনি। 

এমন হাজার মানুষের ভীড় উপচে পড়তো এই ছোটো পত্রিকার অফিসে। সেই সিপিএমের জোনাল নেতা পীযূষ দার এসে পান খেয়ে বসে থাকা। এই ভাবেই যে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে জেলার নানা প্রান্তের মানুষের সাথে যোগাযোগ। তখন তো আর এত মোবাইল ফোনের রমরমা ছিল না। ফোন ঘুরিয়ে ধরা যেতো না জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের সেই মানুষকে। কিন্তু গ্রাম থেকে ঠিক খবর চলে আসতো এই প্রেসে ঘোরানো ডায়াল করা লাল ফোনে। 26521196 এই নম্বরে। হুগলী জেলার সাংবাদিকদের কাছে এই পল্লীডাক এর অফিস কাঠের টুল, সেই হলদে বাল্বের অনুজ্জ্বল আলোয় বসে সন্ধ্যা হলেই কপি লেখার তাড়া। তারপর এক দৌড়ে ফ্যাক্স সেন্টার এ গিয়ে ফ্যাক্স কার্ড দেখিয়ে ফ্যাক্স করা। পরে যদিও এখানেও এই ফ্যাক্স মেশিন বসে। 

এইভাবেই তো যে পল্লীডাক কাগজে একদিন সেই ছোটবেলায় নেতাজি পাঠাগার এর স্বাধীনতা দিবসের দিনে পতাকা উত্তোলন করায় নাম ছাপা হয়েছিল আমার। যে নাম লুকিয়ে লুকিয়ে কত বার যে দেখেছি। সেই ছোটো বেলায় সেই পত্রিকার নাম ছাপা অফিসে কেউকেটা সাংবাদিক হিসেবে প্রবেশ করতে পারলাম আমি তরুণ দার হাত ধরেই। যদিও এলিট শ্রেণীর না হলেও ইটিভির চাকরির দৌলতে আমিও কেমন করে এই পল্লীডাক এর সদস্য হয়ে গেলাম। সেই সাত সকালে ঠান্ডায় কাঁথা মুড়ি দিয়ে কাঁপতে কাঁপতে এসে প্রেস খুলতাম, ঝাঁট দিতাম। সেই দিলীপদার চায়ের দোকান থেকে একটা চা আর বাসনা বিস্কুট খেতাম। সেই সব দিনের কথা কি আর ভোলা যায়। সেই সন্ধ্যা বেলায় বর্তমান কাগজে ছবি বেরিয়েছে এটা দেখাতে গুটি গুটি পায়ে প্রেসে হাজির হতো সুদীপ ঘোষ। কিন্তু শুধু মুখে কি আর কাগজে নাম ছাপা হয় সেটা বলে বড়ো রসগোল্লা এনে সুদীপদার খাওয়ানো সেটা কি ভোলা যায় কখনো। 


আসলে একজন সাংবাদিক এর জীবন সেই জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা নানা ধরনের আর নানা রকমের মানুষজনকে নিয়েই তো আমাদের বেঁচে থাকা। যে বেঁচে থাকার মধ্য রয়ে যায় নানা সাদা কালো ছবির মত কিছু ঘটনা। যে ঘটনায় আমাদের জীবনে দাগ কেটে যায়। মনে থেকে যায় সেটা ভালো বা খারাপ দুই হতে পারে। সেই নন্দী মাঠের ইটিভির অফিসে মেয়ের হাতে খড়ির দিন প্রবীরদার আসা। সেই আমার রিষড়ার বাড়ীতে মার হাতে সেই সবাই মিলে লুচি, ডাল আর আলুর দম খাওয়া। সেই ওনার মেয়ের বিয়েতে আমরা জেলার বহু সাংবাদিক হাজির হয়ে আনন্দ করা। বৌদির জিজ্ঞাসা করা খবর নেওয়া তোমরা সব ভালো আছো তো। প্রবীর দার মার চলে যাওয়া। সেই ওনার ছেলের বিয়েতে রাস্তায় যানজটে বরের গাড়ি আটকে যাওয়ায় ফিরহাদ হাকিম এর গাড়ি করে বিয়ের আসরে বর এর পৌঁছে যাওয়া। সেই খবর আর ছবি প্রতিদিন কাগজে বের হওয়া। 

আমার সেই মার খেয়ে আক্রান্ত হবার খবর পেয়ে সেই পল্লীডাক কাগজে আমার নামে লিখে দেওয়া যে টিআরপি বাড়ানোর জন্য আমি মার খেতে ভালবাসি বারবার। সেই কাগজটা আজও আমি রেখে দিয়েছি যত্ন করে আজও। আবার কিছুদিন আগেই লোকসভা ভোটে পর পর দুটো সম্পাদকীয় কলমে এই পত্রিকায় আমার নিজের নামে লেখা প্রকাশ করা। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছের লোক হলেও পরে তাঁর কাজের সমালোচক হয়ে যাওয়া। এমন সাদা কালো ছবি নিয়েই তো জীবন। জীবনের বেঁচে থাকা। যে বেঁচে থাকার অনেকটা জুড়েই রয়ে গেছে এই পল্লীডাক পত্রিকা। যে প্রবীর দার আজ বয়স হয়েছে। মাঝে মাঝেই অসুস্থ হয়ে বলেন অভিজিৎ আর বাঁচবো না রে ফুটে যাবো, খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি বলি না না সব ঠিক হয়ে যাবে দেখবেন। এইভাবেই আমার সাদা জীবনের কালো কথা আঁকাবাঁকা অক্ষরে জীবনের নানা চড়াই আর উৎরাই পেরিয়ে পথ অতিক্রম করে। আঁকিবুঁকি ব্লগে সেই কথাই লিখে রাখি আমি। 

পল্লীডাকের গল্প - অভিজিৎ বসু।
আটাশ সেপ্টেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ্যাপি বার্থডে রনজিৎ দা

আমার মোবাইলে নম্বরটা আজও সেভ করা আছে রনজিৎ মদন দা নামেই। কবে, কোথায় ওর সাথে দেখা হয়েছিল আজ আর সেটা স্মরণে নেই আমার। হয়তো সেই ২৪ চৌরঙ্গী রোডের অফিসে বা ভবানীপুরের সেই বিখ্যাত অফিসে দেখা হয়েছিল একদিন। ডাকাবুকো কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র তখন প্রিয়রঞ্জন‌ দাসমুন্সীর লোক। একদম ফর্সা গায়ের রং। চোখে রোদ চশমা, সাদা প্যান্ট সাদা জুতো পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক আর ওদিক। আর সেই কিছু দরকার পড়লেই রনজিৎ রনজিৎ বলে ডাক দিচ্ছেন তিনি দরকারে আর অদরকারে।  রনজিৎ হলো মদনদার সেই পুরোনো দিনের একমাত্র সঙ্গী আর ছিল সেই স্বপন মাইতি বর্তমানে তিনি আর বেঁচে নেই। এস এস কে এম এ গেলেই স্বপনদা কে দেখতাম আমরা। কিন্তু সেই জাদুঘর এর ফুটপাথ ধরে বিকেলের কাগজ বের হলে পট পরিবর্তন আর অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়ে চলে যেতাম আমরা দুজন। বর্তমানে একজন তৃণমূলের মুখপাত্র অনেক বড় মাপের সাংবাদিক ও রাজনীতির লোক। দলের অন্দরে অনেক দূর অবধি তাঁর হাত বিস্তৃত। অন্যদিকে আর একজন ৩৫ বছর এই বাংলা মিডিয়াতে কাজ করে এখন বাতিলের দলে টোটো চালক হয়ে গেছে আর কি।  যাক সেই রনজিৎ এর আজ জন্মদিন। মনে পড়ে গেলো আমার...

ইটিভি ও অম্বরীষ‌ দা।

সাদা জীবনের কালো কথায় এমন একজনের কথা লিখবো আজ যার কথা অনেক আগেই লেখা উচিত ছিল আমার। ইটিভির কর্ণধার রামোজি রাও এর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির কথা লেখার সময় যার কথা আমার এক লাইন হলেও লেখা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যা আমায় মনে করিয়ে দিলেন একজন প্রাক্তন ইটিভির সহকর্মী। তার কথা শুনে মনে হলো ঠিক তো চেয়ারম্যান স্যার কে হারিয়ে আমরা সবাই ইটিভির কর্মীরা মিলিত হলাম এক নিমেষে এক ছাতার তলায়। কিন্তু যার জন্য আমরা সবাই তাঁর কাছে এই ইটিভির কোম্পানি তে কাজ এর সুযোগ পাই তাঁর কথা উল্লেখ করা দরকার ছিল বোধ হয়। কিন্তু আমি লিখি নি বা হয়তো ভুলে গেছিলাম সেই মানুষটার কথা বলতে। সেই ব্যক্তির কথাই আজ বলবো কিছুটা। না হলে সেটা ঠিক কাজ হবে না কিছুতেই।  যে মানুষটার জন্য আমরা প্রায় সবাই এই ভাবে সব একসাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কেউ পশ্চিমবাংলায় কাজ করেছি আবার কেউ কেউ হায়দরাবাদ এর সেই পাঁচিল ঘেরা রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যে কাজ করেছি। কিন্তু বাংলা মিডিয়ার সেই ছোট্টো চারা গাছের যে বীজ রামোজি রাও বপন করেছিলেন সেই সময় আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। এই মানুষটার হাত ধরেই লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল স...

বিশ্ব সাইকেল দিবস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস এর কথা। এই দু চাকার যানকে নিয়ে যে কত অম্ল মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে সবার জীবনেই তা বলে শেষ করা যাবে না বোধ হয়। আর আজ সেই সাইকেল উদযাপনের একটি আন্তর্জাতিক দিন। এই বিশ্ব সাইকেল দিবস প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় এই দিনটি।  ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে সাইকেলের দীর্ঘ জীবনকাল এবং বহু কাজে ব্যবহৃত হওয়ার প্রশংসা করা হয়। সঙ্গে প্রায় দুই শতক কাল এর সাধারণ,কম খরচ, বিশ্বাসযোগ্যতা, এবং পরিবেশের জন্য উপযুক্ত যানবাহনের মাধ্যম হিসাবে সাইকেলের উল্লেখ করা হয়েছিল। সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মূলতঃ এই দিবস উদ্‌যাপন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়েই। বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ তাই সবার কাছেই জানা একটা বিষয়। কিন্তু যে সাইকেল নিয়ে এত কথা সেই লাল টুকটুকে সাইকেল পেয়েছিলাম আমি স্কুল জীবনে ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠে। সময়টা যত দুর মনে পরে শীতকাল ডিসেম্বর মাস। মেজমামা আমায়...

দিদির নিদান

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ চুরি না করার নিদান। সেই ছোটো বেলায় পড়েছিলাম বইতে মাসীর সাবধান বাণী। চুরি করে কি অবস্থা হলো। শেষে মাসীর কান কামড়ে দিল বালক। মাসীর সাবধান বাণী না শুনে। আজ এই এক ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আমার সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো হঠাৎ করেই। আচ্ছা সত্যিই কি এই কড়া নিদান দিয়ে চুরি রোখা যায়। কথায় বলে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। মুখ্যমন্ত্রীর একদম সোজা সাপটা এই বর্জ নির্ঘোষ কথা শুনে আমার এমন মনে হলো আজ। যে কথার উত্তর দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই কারুর।  সে দলের যে নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, বা পুরসভার চেয়ারম্যান হোক। চুপ করে বসে হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ উত্তর দিলেই বিপদ বাড়বে বই কমবে না। একদম সোজা সাপটা তীরবিদ্ধ আক্রমন এর সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা। করে খাবার জায়গা নয় তৃণমূল দল। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নিজের পেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতি আর নয়, অনেক হয়েছে।  সত্যিই তো রাজনীতির আঙিনায় এই সব কিছুকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। কত কষ্ট করে মাটি তৈরি করে, জল দিয়ে এই ছোটো দুটি জোড়...

আমাদের চেনা বিখ্যাত ঝিলম

বাংলা মিডিয়ার নানাজনের সাথে দীর্ঘ সময়ে আমার কাজে অকাজে নানা সাংবাদিকের সাথে আলাপ থাকলেও। এই সাংবাদিকের সাথে ঠিক যেনো রোদ আর বৃষ্টির টক ঝাল মিষ্টি সম্পর্ক। এই হাসিঠাট্টা মশকরা করা দুজনের, আবার এই সিরিয়াস হয়ে গিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে যাওয়া একে অপরের সাথে। এই নানা বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য তাঁর সাথে আলোচনা হওয়া দুই সহজ পুরোনো বন্ধুর মতো। আবার যেনো খুব ক্ষুদ্র কোনো কারনেই মতান্তর আর মনান্তর হয়ে যাওয়া কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই ব্লগ লেখার কথা আমায় বহুদিন আগেই ও বলেছিল একদিন। আজ সেই ব্লগ লেখার পাগলামো কিছুটা তো তাঁর অনুপ্রেরণায় এটা অস্বীকার করা যায় না আজও কিন্তু । যেটা নিয়ে তাঁর সাথে আমার কথাও হয়েছে বহুবার।  বাংলা মিডিয়ার এই শিক্ষিত পড়াশোনা করে সাংবাদিক হতে আসা, এই রিপোর্টার ইন্টারভিউ বোর্ডে পরীক্ষকের জ্ঞান অনুসন্ধানে ব্যাপৃত হতেও পিছপা হয় না কিছুতেই। কোনও পরোয়া না করে আর ভয় না পেয়ে। সে হায়দরাবাদ এর বিখ্যাত বিরিয়ানী এলাকার বস হোক, কিম্বা কাগজের দাপুটে দাড়িওলা বস হোক। বা যে কেউ বস হোক। আসলে এটাই ওর চিরকালের নেচার। যার থেকে আজও বোধহয় বের ...