সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পল্লীডাকের গল্প


সাদা জীবনের কালো কথায় আজ আর কোনো ব্যক্তি মানুষের কথা নয়। কোনো বিশেষ চরিত্রের স্মৃতিচারণ করা নয়। আজ এমন এক ছোটো পত্রিকার কথা বলবো, যাকে ঘিরে হাজারো মানুষের ভীড় উপচে পড়েছে সারাদিন ধরেই নানা ভাবে নানা রূপে। সেই ছোটো হুগলী জেলার এই পত্রিকার অফিসে নিয়ম করে হাজির হতেন জেলার ছোটো,বড়ো, মেজো, সেজো, নানান মাপের আর নানা ধরনের এলিট শ্রেণীর সব সাংবাদিক থেকে শুরু করে জেলার ডেঙো ডোঙলারাও। যাদের সাধারণভাবে কেউ পাত্তা দিত না কোনোদিন জেলায় তথাকথিত সাংবাদিক এর দল।

 এই পল্লী ডাক পত্রিকার অফিসে আসতেন রাজনীতির কেউকেটারা, কেস্টবিষ্টুরা, থানার বড়ো বাবু, মেজো বাবুরা, সিপিএম এর জোনাল কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে  নানা মাপের নেতারা, আবার সদ্য গজিয়ে ওঠা প্রোমোটার সেও হাসি মুখে হাজির হতেন এই পল্লীডাক এর অফিসে হাসি মুখে। কেউ কেউ এই সংবাদের পেশায় টিকে থাকার জন্য খবরের জন্য ছুটে আসতেন এখানে। আর সঠিক খবর পাবার আশায় হাজির হতেন এখানে। এবেলা ওবেলা হাজির দিত তারা প্রতিদিন। আবার কেউ কেউ এই পেশায় প্রবেশ করার ছাড়পত্র পেতে ইট পাতার জন্য এই পত্রিকার অফিসে হাজির হতেন হাসি মুখে একটু কৃপা লাভের আশায় দাঁড়িয়ে থাকতেন তারা। আর সবাইকে কড়া নজরে জরিপ করে দেখে নিয়ে নিকশ কালো কষ্টি পাথরে ঠোক্কর মেরে দেখে যাচাই করে তবেই তাদের এখানে প্রবেশের অনুমতি দিতেন এই পত্রিকার সম্পাদক আমাদের সবার আপাত রাশভারী কিন্তু রসিক মানুষ প্রবীরদা। সেই প্রবীর মুখোপাধ্যায়। ইন্দুভুষণ মুখোপাধ্যায় এর বড়ো ছেলে।


 বাবার তৈরি সেই কাগজ আর প্রেস এর দায়িত্ব পালন করেই সারাটা জীবন কাটিয়ে দিলেন তিনি হাসি মুখে আর কিছু না করেই একবারে বিন্দাস জীবন আর কি। হ্যাঁ, শ্রীরামপুর স্টেশনের নিকটে গোপাল ফার্মেসী ওষুধের দোকান এর পাশের আর সেই আর কে স্টুডিও যে স্টুডিও আজ উঠে গেছে নেই গোপাল ফার্মেসীও তার পাশ দিয়ে ছোটো গলি পেরিয়ে ছোটো ঘুপচি অন্ধকার একটা স্যাঁতসেঁতে একটা ঘর। সেই ঘরের একদিকে সেই কথা বলতে গেলে আটকে যাওয়া আমাদের সবার প্রিয় সেই দুলালদা। কলের ঠাণ্ডা জল এনে সাংবাদিকদের যে দুপুর বেলায় খাওয়াতো হাসি মুখে। এই তো সেদিন দুলালদার সাথে দেখা হলো আমার স্টেশনের সামনে। কেমন বুড়ো হয়ে গেছে দুলাল দা। আজও সেই মুখের হাসিটা লেগে আছে তার।

 আর ছাপার হরফ এক এক করে হাতে করে বসিয়ে সেট করে দেওয়া সেই বিজলী দিদি। ছাপাখানার সেই পুরোনো শহরের ইতিহাসকে বুকে আগলে ঘটাং ঘটাং করে ছাপা হচ্ছে গরম চার পাতার কাগজ। কি সুন্দর সেই গরম ছাপা কাগজের কালির গন্ধ এখনও যেনো নাকে লেগে আছে। আর মেসিন ঘরের সামনের বারান্দায় গোল ঘোরানো টেলিফোন নিয়ে বসে আছেন প্রবীরদা। বেশ গম্ভীর মুখে। একটাকা দিয়ে তিন মিনিটের ফোন করা যাবে। সেই খুচরো পয়সা রাখার বাটি। গুনে গুনে একটা একটা করে পয়সা রাখা। মোটা ফ্রেমের চশমা পরে সেই কাগজের প্রুফ দেখে দুলাল দাকে ফেরত দেওয়া। এই নাও দুলাল ঠিক করে দিলাম। আবার নতুন করে কাগজ ছাপা হতো।

একটা ছোট জেলার সাপ্তাহিক কাগজের এত রমরমা বেশ ভালই লাগত আমার দেখে। কবে যে কি করে যে এই পল্লীডাক এর অফিসে হাজির হলাম কার হাত ধরে সেটা ঠিক মনে পড়ে না আজ আমার। খুব সম্ভবত তরুণদার হাত ধরেই ভয়ে ভয়ে এখানে হাজির হয়েছিলাম একদিন সেই হাওয়াই চটি পড়ে সাইকেল নিয়ে। প্রবীরদা বলেছিলেন প্রথম দিন এসো ভাই কিছু খবর হলে দেবো। দুর থেকে আমায় খইনি ডলতে ডলতে একমনে জরিপ করলো সে। নামটা পরে জেনেছিলাম তার ফাল্গুনীদা। খাসখবরের বিখ্যাত সাংবাদিক। সেই পল্লীডাক এর অন্দরে প্রবেশ আমার সাল তারিখ কিছুই মনে নেই আর।



 তারপর কতগুলো বছর কেটে গেলো যে এই খবরের কাগজের অফিসে কাটালাম আমরা সব হুগলী জেলার সাংবাদিকরা। কত খবর পেলাম। কত খবর এর জন্যে বিখ্যাত হলাম তার ঠিক নেই। একদিন রাতে ফর্সা গায়ের রঙ একজন সাংবাদিক কলকাতা থেকে এসেছে নতুন জেলায় কাজ করতে প্রবীরদা বললেন তুই ওনাকে রিষড়াতে বাড়ী ফেরার সময় নিয়ে যাস। ও রিষড়াতে যাবে ওর নাম পুলকেশ। সেই বর্তমান কাগজে নাম ছাপা একজন সাংবাদিককে হাতের নাগালে পেলাম। তাকে আমি গাইড করে নিয়ে যাবো এটা তো আমার কাছে যেনো হাতে চাঁদ পেলাম আর কি। পরে বহুবার পুলকেশদার সাথে দেখা হয়েছে নানা জায়গায় এই গল্প দুজনে করেছি আমরা।

 এই পল্লীডাক এর অফিসে দেখা যেতো প্রণব মন্ডল, গৌতম বন্দোপাধ্যায়, তরুণ মুখোপাধ্যায়, ফাল্গুনী বন্দ্যোপাধ্যায়, নাজিমুদ্দিন মন্ডন, তারক কর্মকার, নীলরতন কুন্ডু, দেবাঞ্জন দাস, সমৃদ্ধ দত্ত যে এখন দিল্লির বিখ্যাত সাংবাদিক, কিংশুক যে এখন আর বেঁচে নেই। সেই মুরলী চৌধুরী, বসন্ত মিশ্র, সেই তারাপুকুর থেকে আসা পিন্টু। যার সাংবাদিক হবার প্রবল বাসনা ছিল। সেই পয়সা নিয়ে ম্যাজিক দেখানো ছেলেটি  যার নাম মনে নেই, সেই সুন্দর টিপটপ সেজেগুজে থাকা সমীর সাহা, সুন্দর দাড়ি রাখা মৃণাল দত্ত, সেই বাপি, তাপস, সৌগত, সৌরভ, মিন্টে, প্রকাশ, প্রদীপ যারা অনেক পরে হাজির হয় জেলায়।সেই উপেন, কিট্টূ, মিল্টন সেন -  এমন হাজারো মানুষের ভিড়ে গমগম করতো এই পল্লীডাক অফিস। 

যেখানে একদিন ভয়ে ভয়ে পা দিয়েছিলাম যে কোনো ভাবেই হোক প্রবীরদা বেশ পছন্দ করতে শুরু করলেন আমায়। আমার বাড়ির গল্প শুনলেন। মার কথা শুনলেন। বাবা কি করেন জানলেন। ধীরে ধীরে আমিও কেমন করে সবার সাথে মিশে গেলাম সাংবাদিক পরিচয়ে। যদিও তার আগের কঠিন কঠোর সংগ্রামের দিনগুলো প্রবীরদার আমায় সাহায্যে করা ভুলবো কেমন করে। সেই পুলিশে কাজ করা মেঘলালদার বাড়ী থেকে রেশনের চাল এর ব্যবস্থা করে দেওয়া। সাইকেল নিয়ে মহেশ এর সেই পুলিশ কোয়ার্টার থেকে  চাল নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফেরা। সেই প্রবীরদা নগার বাড়ী থেকে নিজের গাছ থেকে পেড়ে আনা টাটকা এচড় এনে দিয়ে বলা মাকে দিস রান্না করে খাবি। 

সেই শিয়াখালা থেকে তরুণ পান এর আলু নিয়ে এলে বলা অভিজিৎ ব্যাগে আলু রাখা আছে বাড়ীতে নিয়ে যাস মাকে দিস। এই তরুণ পান আজ আর বেঁচে নেই যে জঙ্গলপাড়া তে প্রচার করতে গিয়ে সিপিএমের হাতে মার খেয়েছিলেন গাছে বেঁধে রেখে দিয়েছিল তাকে। সেই ভজা প্লাস্টিক চটি পরে একমুখ হেসে এসে বলতো প্রবীরদা ভালো আছেন আপনি। সেই দিলীপ মাস্টার পাঁচ টাকার বাদাম এনে লুকিয়ে প্রবীরদাকে দিয়ে মন নেবার চেষ্টা করতো। যা দেখে ফাল্গুনীদা বলত ওই এলো মাস্টার। সেই রিষড়ার কংগ্রেসের শেখ রশিদ। তারকেশ্বর এর স্বপন সামন্ত। পাণ্ডুয়ার আনিসুল ইসলাম। সেই পোলবার সাধন সাঁতরা। উত্তরপাড়ার দিলীপ যাদব। আকবর আলী খোন্দকারের ডান হাত। 


আর যার কথা বলতেই হয় আমাদের শেওড়াফুলির সেই অমিয় মুখোপাধ্যায়। যার ডাক নাম থাকো দা। সারাজীবন কংগ্রেস করে হাসি মুখে জিতে গেলেন গড় বাগানের পতিতা পল্লী এলাকায়। নিজের জন্য কিছু না করে হাসি মুখে পরোপকার করে গেলেন তিনি সারা জীবন। বাজার করতে গিয়ে বাজারের টাকা লোককে দিয়ে ঘরে ফিরলেন শুন্য হাতে হাসতে হাসতে। পুরসভার বেতন নেই মেথর এর দল হাজির তাঁর কাছে বাড়িতে সকাল বেলায়। ঘর থেকে কুড়ি টাকা করে দিয়ে বললেন তিনি এই তোরা আর কাউকে বলিস না কিন্তু বাবা। কিন্তু একে এক সবাই জেনে গেলো সেই কথা হাজির তাঁর কাছে সাহায্য চাইতে। হাসি মুখে সবাইকে সাহায্য করলেন তিনি। সেই শেওড়াফুলির গড়বাগানের চামেলী, রত্না আর চম্পাদের কাছে ভগবান ছিলেন এই অমিয় দা ওরফে থাকো দা। আসলে রাজনীতির এই দ্রুত বদলে যাওয়া দিনে এই সব মানুষদের কথা খুব মনে পড়ে যায়। সাংবাদিক হবার সুবাদে আমি যাদের খুব কাছ থেকে দেখেছি। এই অমিয়দা পল্লী ডাক প্রেসে এসে বসতেন সন্ধ্যা বেলায়। সেই ধুতি আর আধময়লা পাঞ্জাবি পরে হাসিমুখে। আমরা বলতাম অমিয় দা আমি যাবো ওই পতিতা পল্লীর একটু খবর করবো। বলতেন এসো এসো কোনো রকম অসুবিধা হবে না তোমাদের। আমরা গেলে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে খবর করিয়ে দিতেন তিনি। 

এমন হাজার মানুষের ভীড় উপচে পড়তো এই ছোটো পত্রিকার অফিসে। সেই সিপিএমের জোনাল নেতা পীযূষ দার এসে পান খেয়ে বসে থাকা। এই ভাবেই যে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে জেলার নানা প্রান্তের মানুষের সাথে যোগাযোগ। তখন তো আর এত মোবাইল ফোনের রমরমা ছিল না। ফোন ঘুরিয়ে ধরা যেতো না জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের সেই মানুষকে। কিন্তু গ্রাম থেকে ঠিক খবর চলে আসতো এই প্রেসে ঘোরানো ডায়াল করা লাল ফোনে। 26521196 এই নম্বরে। হুগলী জেলার সাংবাদিকদের কাছে এই পল্লীডাক এর অফিস কাঠের টুল, সেই হলদে বাল্বের অনুজ্জ্বল আলোয় বসে সন্ধ্যা হলেই কপি লেখার তাড়া। তারপর এক দৌড়ে ফ্যাক্স সেন্টার এ গিয়ে ফ্যাক্স কার্ড দেখিয়ে ফ্যাক্স করা। পরে যদিও এখানেও এই ফ্যাক্স মেশিন বসে। 

এইভাবেই তো যে পল্লীডাক কাগজে একদিন সেই ছোটবেলায় নেতাজি পাঠাগার এর স্বাধীনতা দিবসের দিনে পতাকা উত্তোলন করায় নাম ছাপা হয়েছিল আমার। যে নাম লুকিয়ে লুকিয়ে কত বার যে দেখেছি। সেই ছোটো বেলায় সেই পত্রিকার নাম ছাপা অফিসে কেউকেটা সাংবাদিক হিসেবে প্রবেশ করতে পারলাম আমি তরুণ দার হাত ধরেই। যদিও এলিট শ্রেণীর না হলেও ইটিভির চাকরির দৌলতে আমিও কেমন করে এই পল্লীডাক এর সদস্য হয়ে গেলাম। সেই সাত সকালে ঠান্ডায় কাঁথা মুড়ি দিয়ে কাঁপতে কাঁপতে এসে প্রেস খুলতাম, ঝাঁট দিতাম। সেই দিলীপদার চায়ের দোকান থেকে একটা চা আর বাসনা বিস্কুট খেতাম। সেই সব দিনের কথা কি আর ভোলা যায়। সেই সন্ধ্যা বেলায় বর্তমান কাগজে ছবি বেরিয়েছে এটা দেখাতে গুটি গুটি পায়ে প্রেসে হাজির হতো সুদীপ ঘোষ। কিন্তু শুধু মুখে কি আর কাগজে নাম ছাপা হয় সেটা বলে বড়ো রসগোল্লা এনে সুদীপদার খাওয়ানো সেটা কি ভোলা যায় কখনো। 


আসলে একজন সাংবাদিক এর জীবন সেই জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা নানা ধরনের আর নানা রকমের মানুষজনকে নিয়েই তো আমাদের বেঁচে থাকা। যে বেঁচে থাকার মধ্য রয়ে যায় নানা সাদা কালো ছবির মত কিছু ঘটনা। যে ঘটনায় আমাদের জীবনে দাগ কেটে যায়। মনে থেকে যায় সেটা ভালো বা খারাপ দুই হতে পারে। সেই নন্দী মাঠের ইটিভির অফিসে মেয়ের হাতে খড়ির দিন প্রবীরদার আসা। সেই আমার রিষড়ার বাড়ীতে মার হাতে সেই সবাই মিলে লুচি, ডাল আর আলুর দম খাওয়া। সেই ওনার মেয়ের বিয়েতে আমরা জেলার বহু সাংবাদিক হাজির হয়ে আনন্দ করা। বৌদির জিজ্ঞাসা করা খবর নেওয়া তোমরা সব ভালো আছো তো। প্রবীর দার মার চলে যাওয়া। সেই ওনার ছেলের বিয়েতে রাস্তায় যানজটে বরের গাড়ি আটকে যাওয়ায় ফিরহাদ হাকিম এর গাড়ি করে বিয়ের আসরে বর এর পৌঁছে যাওয়া। সেই খবর আর ছবি প্রতিদিন কাগজে বের হওয়া। 

আমার সেই মার খেয়ে আক্রান্ত হবার খবর পেয়ে সেই পল্লীডাক কাগজে আমার নামে লিখে দেওয়া যে টিআরপি বাড়ানোর জন্য আমি মার খেতে ভালবাসি বারবার। সেই কাগজটা আজও আমি রেখে দিয়েছি যত্ন করে আজও। আবার কিছুদিন আগেই লোকসভা ভোটে পর পর দুটো সম্পাদকীয় কলমে এই পত্রিকায় আমার নিজের নামে লেখা প্রকাশ করা। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছের লোক হলেও পরে তাঁর কাজের সমালোচক হয়ে যাওয়া। এমন সাদা কালো ছবি নিয়েই তো জীবন। জীবনের বেঁচে থাকা। যে বেঁচে থাকার অনেকটা জুড়েই রয়ে গেছে এই পল্লীডাক পত্রিকা। যে প্রবীর দার আজ বয়স হয়েছে। মাঝে মাঝেই অসুস্থ হয়ে বলেন অভিজিৎ আর বাঁচবো না রে ফুটে যাবো, খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি বলি না না সব ঠিক হয়ে যাবে দেখবেন। এইভাবেই আমার সাদা জীবনের কালো কথা আঁকাবাঁকা অক্ষরে জীবনের নানা চড়াই আর উৎরাই পেরিয়ে পথ অতিক্রম করে। আঁকিবুঁকি ব্লগে সেই কথাই লিখে রাখি আমি। 

পল্লীডাকের গল্প - অভিজিৎ বসু।
আটাশ সেপ্টেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো থাকবেন শঙ্খ শুভ্র বাবু

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক পুলিশ অফিসার এর কথা বলবো। বহুদিন পর আজ যার সাথে আচমকাই কথা হলো আমার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের লেখার মাধ্যমে বহু দিন, বহু কাল পরে। আচ্ছা আপনি কি সত্যিই টোটো চালান। তাঁর সরাসরি প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে আমি বললাম, না।  আসলে সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার বহু বছর আগে এস ডি পি ও শ্রীরামপুর হিসেবে কাজ করতেন আমার নিজের হুগলী জেলায় নিজের শহরে শ্রীরামপুরে। যে জেলায় আমিও একসময় দাপিয়ে ঘুরে কাজ করেছি একসময় এই জেলার সাংবাদিক হিসেবে। যদিও সেই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে বেঁচে থাকার অভ্যাস আমার নেই একদমই। সেটা কোনো কালেই ছিল না। যেহেতু আজ বহুদিন পর তাঁর সাথে একটু যোগাযোগ হলো তাই তাঁর কথা লিখতে ইচ্ছা হলো আমার। সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার হলেন শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী। একদম হিরো স্টাইল এর পুলিশ অফিসার। মারকুটে এই পুলিশ অফিসার। মস্তানদের ধরে রাস্তায় ফ্যাশন প্যারেড করানো সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার শঙ্খশুভ্র বাবু। যে কারণে হুগলী জেলায় মস্তান আর ডনদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে খবরের কাগজের পাতায় প্রতিদিন খবরে থাকতেন তিনি সেই সময়।  যার সময় খবর...

বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দোপাধ্যায়

এই বাংলার রাজনীতি। বিরোধী দল। বিরোধী দল নেতা। সেই আমলে সিপিএমের দোর্দণ্ড প্রতাপ দাপট। সেই দাপটেও একা কুম্ভ রক্ষা করে নকল বুঁদি গড়।‌ আর একটা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এর সন্ধান পাওয়া। যিনি সেই দলের ক্রাইসিসে, দলের দুর্দিনে যখন খুব খারাপ অবস্হা। আশংকাজনক অবস্থায় দল যখন এ পজিটিভ রক্তের এর অভাবে ভুগছে রক্তল্পতায়। দৌড় ঝাঁপ করছে, এদিক ওদিক ঘুরছে সেই অবস্থায় কেমন একাই সব সামলে দিয়েছেন তিনি দলকে নানা বিপদ থেকে উৎরে দিয়েছেন হাসিমুখেই। কাউকে কিছু টের না পেতে দিয়ে।  আর আবার তিনিই যখন সারারাত জেগে গোবিন্দপুর বস্তি আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হচ্ছে সবাই যখন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে রাত জাগছেন আর গলা ছেড়ে কেউ কেউ গান ধরছেন দিদিকে খুশী করতে। সেই সময় দিব্যি তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আর সত্যিই রাত জেগে অন্দোলন হচ্ছে কী না সত্যি না মিথ্যে কথা সেটা দেখতে বর্তমান তৃণমুলের এক বর্ষীয়ান সাংসদের স্ত্রী যিনি আজ আর বেঁচে নেই তিনি দেখতে ছুটে এসেছিলেন তাঁর অধ্যাপক স্বামীকে সেই রাতে গোবিন্দপুর বস্তির এলাকায়। আর এতো ঘটনা ঘটলেও তিনি ফোন বন্ধ করে গভীর নিদ্রায...

ঝড়

ভালোবাসার ভীড়ে ভরে উঠবে শহর থেকে গ্রাম। থিক থিকে ভীড়ে উড়বে ধুলোর কনা চারিদিকে। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যাবে শরীর, মন, প্রাণ। ধুলোর ঝড়ে হারিয়ে যাবে মনের মানুষ। হারিয়ে যায় গোটা জীবন।  জীবনের ছায়া মায়া মাখা পথে একা ঘুরে বেড়াই আমি। ভালোবাসার ভীড়ে আত্মাদের সাথে গা ঢাকা দিয়ে,  লুকিয়ে হাঁটি একা, একা। দেখি অন্ধকারের পথ জুড়ে শুধুই, ভালবাসার অভিনয় করা মানুষের ভীড়। মসৃণ রাস্তায় সরীসৃপের মত এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ায় তারা সন্তর্পনে। পায়ে পা মেলাই ধুলোর ঝড় গায়ে মেখে আনমনে,  ধুলি ধুসরিত হয়ে।  ঠিক যেনো ছাতিমের ডালে বসা ছাতারের মত। ঘোলা চোখের ধুলো মাখা দৃষ্টিতে, দুর পানে তাকিয়ে দেখি।  সূর্যের মিঠে আলোয়, ধুলোর কনা গায়ে মেখে  গোপন অভিসারে মত্ত প্রজাপতির দল। অভিনয়ের অভিসার নয়,  সত্যিই কারের ভালোবাসার অভিসার। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যায় আমার শরীর,মন, প্রাণ। ঝড় - অভিজিৎ বসু।

হ্যাপি বার্থডে টু ইউ

আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আমি তো অনেক সাংবাদিককে নিয়েই লিখি আমি। অনেকে বলেন কী বা হবে এই টোটো চালকের লেখা লিখে বলুন আপনারা এইসব আর কি বা পড়ে। কতজন এর সাথেই তো কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার এই দীর্ঘ ৩৫ বছরে। তবে এই অঙ্গীরা ব্যানার্জীর জন্মদিন গেলো সদ্য সদ্য। তাঁকে নিয়ে লিখতে গেলে একটু ভয়ই হয় বটে। যদি কিছু ভাবেন তিনি আর তাঁর সাথে জেলার সাংবাদিক হিসেবে কাজের সুযোগ ঘটেনি বলে। এক সময়ে সেই মুম্বাইয়ের এর তাজ হোটেলে জঙ্গী আক্রমণের সময়ে টিভির পর্দায় দেখেছি আমরা তাঁকে। সেই খুব সম্ভবতঃ ২৪ ঘণ্টার পর্দায় দেখেছি তাঁকে। কী দাপটে কাজ করেছেন তিনি সেই সময়।  সে এক ভয়ঙ্কর কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর এই সাংবাদিকতার জীবনে। আরও অনেক বড় বড় ঘটনার সাক্ষী সে। কলকাতাতে প্রয়াত অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিমে কাজ করেছে সে ক্রাইম বিটে সে বেশ বিখ্যাত দাপুটে রিপোর্টার ছিলেন তিনি সেই সময়ে। দিল্লী আর কলকাতা তে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। এই দিন কয়েক আগেই দেখলাম বহু দিনের পর দেশে এসেছেন তিনি দুবাই থেকে। বেনারস ভ্রমণে। টুক টাক কথা হলো যে তাঁর সাথে ফেসবুকের দুন...

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে তিনি থাকতেন একসময়। বর্তমানে গ্রাম ছেড়ে শহরে সল্টলেকে থাকেন তিনি বর্তমানে। আনন্দবাজার কাগজের প্রথম পাতায় তাঁর লেখা পড়ে আর নানা এক্সক্লুসিভ খবর পড়ে মুগ্ধ হতাম আমি একসময়ে। মনে মনে ভাবতাম যদি একবার এই বিখ্যাত রিপোর্টারকে তাঁকে দেখতে পেতাম একবার। তাহলে যেনো জীবন সার্থক হতো মোর। শুধু দু চোখের দেখা আর কিছুই নয়।  অবশেষে দর্শন হলো তাঁর সাথে আমার মহাকরণের প্রেস কর্নারে। সেই পল্লীডাক প্রেসে কত যে তাঁর নাম শুনতাম সেদিনের কাগজে তাঁর নামে লেখা বের হলেই তাঁর প্রসঙ্গ আসতো। সেই তারকেশ্বরের ফাল্গুনীদার কাছে শুনতাম। সেই টেলিগ্রাফের তারক এর মুখে শুনতাম। আর সেই তাঁকেই নিজের চোখে দেখলাম প্রেস কর্ণারের ভিতর। ইটিভির দীপক এর সাথে বেশ ভালই আলাপ দেখলাম। একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে। একদম সাদামাটা চেহারা। দেখতে খুব যে ঝাঁ চকচকে সেটা নয়। আনন্দবাজার এর ছাপ আছে কিন্তু সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। একবার এই মন্ত্রীর ঘর তো আবার অন্য মন্ত্রীর ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি সবসময়।  আর আমি আমার নিজের জেলার এহেন সাংবাদিককে দেখেই প্রথম দর্শন...