সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চোদ্দ অক্টোবর ভোর বেলার সেই ফোন।

নোবেল কমিটি আজকে তাদের টুইটারে এই সেই বিখ্যাত ছবিটা তুলে ধরেছে আবার। হ্যাঁ, সাইকেল নিয়ে লাল মাটির রাস্তা ধরে আপনমনে ছুটে চলেছেন সেই নোবেল জয়ী বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। এই  আজকের মত সেদিনও এক ১৪ অক্টোবর ১৯৯৮ সালে কাকভোরে বেজে উঠেছিল অমর্ত্য সেনের ফোন। তিনি এই ফোনটা ধরার আগে ভেবে নিয়ে ছিলেন নির্ঘাত একটা খারাপ খবর অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য। হয় পরিচিত কেউ অসুস্থ হয়েছেন তাই ফোন এসেছে তাঁর কাছে,অথবা কিছু একটা খারাপ ঘটনা ঘটেছে বলে এত ভোরে তাঁর কাছে ফোনটা এসেছে৷ এই কথা ভাবতে ভাবতেই সেই ভোরবেলার ফোনটা তিনি ধরে ফেলেন। কিন্তু না, কোনো খারাপ খবর আসেনি সেদিন সেই ভোরবেলায় তাঁর কাছে৷ তিনি জানতে পারলেন অ্যাকাডেমি অর্থনীতিতে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে৷ সেই দিনটা হলো আজকের সেই চোদ্দ অক্টোবর। 

যে তাঁর এই বিখ্যাত ছবিটা আজ এতদিন পরেও নোবেল কমিটি তাদের সেই টুইটারে তুলে ধরেছে। সেই বিখ্যাত মানুষ যিনি শান্তিনিকেতনে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন লাল মাটির রাস্তা দিয়ে তার সেই দু চাকার প্রিয় সাইকেল করে। যে ছবিতে লেখা আছে যে তাঁর এক সহকারীকে যখন গ্রামের কোনো শিশু কামড়ে দেয় তাদের ওজন নেওয়ার সময়। সেই সময় তাঁর সহকারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি নিজেই সাইকেল করে সেই শিশুদের ছেলে ও মেয়ে তাদের সঠিক পুষ্টি তারা পায় কি না। তাদের সঠিক পুষ্টি পেয়ে ওজন ঠিক মত তাদের হচ্ছে কি না বয়স অনুপাতে সেটা মাপতে তিনি বেরিয়ে পড়েন এই দু চাকার সাইকেল যান করে।

 
ঘুরে বেড়ান এদিক থেকে ওদিক এই গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। আর সেই গ্রাম ঘুরে বেড়ানো, গ্রামের মেঠো রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়ে গ্রামের প্রান্তিক মানুষের সাথে দেখা হওয়া, তাদের জীবনের সুখ আর দুঃখের কথা জানা, তাদের ঘরের ভাতের অভাবের কথা জানা সেটাই বোধ হয় তাঁকে এই একসময় নোবেল পুরষ্কার এনে দিলো। যিনি মাত্র নয় বছর বয়সে ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর দেখেছিলেন। যে দুর্ভিক্ষে মারা গেছিল প্রায় ত্রিশ লক্ষ মানুষ। যা সেই ছোটবেলায় তাঁর মনে গভীর রেখাপাত করেছিল। পড়ে বড়ো হয়েও সেই ছোট বেলার দুর্ভিক্ষের স্মৃতি ভুলতে পারেননি তিনি।

যিনি বুঝেছিলেন এই দেশে ভারতবর্ষে যে দুর্ভিক্ষ তিনি প্রত্যক্ষ করেছিলেন সেটা দেখে তাঁর এই গবেষণার সূত্রপাত হয়। তিনি সাইকেল করে ঘুরে ঘুরে শান্তিনিকেতনের আশেপাশে বাস করা মানুষদের জীবনযাত্রা আর নানা তথ্য সংগ্রহ করতেন। সেই সব মানুষদের আয় কত, চালের দাম কত, এইসব জানতেন তিনি গ্রামে ঘুরে ঘুরে। 

এই জনকল্যাণকর অর্থনীতি এবং গণদরিদ্রের অন্তর্নিহিত এই কার্যকারণ বিষয়ে তাঁর এই গবেষণা। এই গবেষণার জন্যই তাঁর নোবেল পুরষ্কার পাওয়া। যে পুরস্কার পেলেন তিনি তাঁর এই দু চাকার সাইকেল করে গ্রাম আর গ্রামের অর্থনীতির সরেজমিন পরিদর্শন করে। এই একটা ছোট দু চাকার সাইকেল তাঁর নোবেল জয়ের অন্যতম বড় ব্যাপার হয়ে ওঠে একদিন। সেই চির পরিচিত ছবিটা আজ আবার নোবেল কমিটি আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে এই আজকের দিনে। যে দিন অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। 

অমর্ত্য সেনের মা অমিতা সেন ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অত্যন্ত স্নেহধন্য। অমর্ত্য'র নামকরণ করেছেন রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং। তাই ঠাকুর বাড়ীর সাথে তাঁর ছোট কাল থেকেই একটা গভীর সম্পর্ক ছিল। তাঁর সেই ছোটবেলায় এই আশ্রমে পড়াশোনার শুরু। তারপর ধীরে ধীরে একের পর এক হার্ডেল টপকে তাঁর এগিয়ে চলা।  ভারতবর্ষের ইতিহাসে সম্ভবত তিনি সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি যিনি মাত্র ২৩ বছর বয়সে যাদবপুর বিশ্ব বিদ্যালয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান হওয়ার বিরল সম্মান অর্জন করেছেন। যা সত্যিই খুব গর্বের বিষয়। 

এরপর তিনি ট্রিনিট্রিতে ফেলোশিপ অর্জন করায় চার বছরের জন্য নিজের পছন্দসই যে-কোনও বিষয় নিয়ে পড়াশুনোর সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। অমর্ত্য সেন যে বিষয় বেছেছিলেন সেটা হলো দর্শন। এই বিষয় পরে তাঁর গবেষণার কাজে অনেক সাহায্য করেছে এই দর্শন শাস্ত্র৷ অবশ্য প্রেসিডেন্সিতে পড়ার সময় থেকেই দর্শনের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল৷ সেখানে নিয়মিত দর্শন চর্চা এবং বিতর্কে অংশগ্রহণ করতেন তিনি। তর্কে তুখোড় দক্ষতা ছিল তাঁর। আর এই দর্শন শাস্ত্র তাঁকে আরও নানা ভাবে তাঁর এই দুর্ভিক্ষ আর মানুষের ক্ষুধা নিয়ে কাজ করতে সাহায্য করে। 

অমর্ত্য সেন  এর জন্ম 3 নভেম্বর, 1933 সালে শান্তিনিকেতনে। তিনি হলেন একজন ভারতীয় অর্থনীতিবিদ যিনি কল্যাণ অর্থনীতি এবং সামাজিক পছন্দ তত্ত্বে অবদানের জন্য এবং সমাজের দরিদ্রতম সদস্যদের সমস্যায় তাঁর আগ্রহের জন্য অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। সেন দুর্ভিক্ষের কারণগুলির উপর তার কাজের জন্য সর্বাধিক পরিচিত, যা খাদ্যের বাস্তব বা অনুভূত ঘাটতির প্রভাব প্রতিরোধ বা সীমিত করার জন্য ব্যবহারিক সমাধান গুলির বিকাশের দিকে পরিচালিত করেছিল তাঁকে।

কল্যাণ অর্থনীতি সম্প্রদায়ের কল্যাণে তাদের প্রভাবের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক নীতিগুলি মূল্যায়ন করতে চায়। অমর্ত্য সেন, যিনি তার কর্মজীবনকে এই ধরনের বিষয়গুলিতে উৎসর্গ করেছিলেন, তাকে "তাঁর পেশার বিবেক" বলা হয়। তাঁর প্রভাবশালী মনোগ্রাফ কালেক্টিভ চয়েস অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার (1970)-যা ব্যক্তি অধিকার, সংখ্যাগরিষ্ঠ শাসন এবং স্বতন্ত্র অবস্থার তথ্যের প্রাপ্যতার মতো সমস্যাগুলিকে সম্বোধন করে- গবেষকদের মৌলিক কল্যাণের বিষয়ে তাদের মনোযোগ দিতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

তিনি দারিদ্র্য পরিমাপের একটা পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন যা দরিদ্রদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির জন্য দরকারী তথ্য দেয়। উদাহরণস্বরূপ, অসমতার উপর তার তাত্ত্বিক কাজ একটি ব্যাখ্যা প্রদান করে যে কেন কিছু দরিদ্র দেশে পুরুষদের তুলনায় নারীদের সংখ্যা কম, যদিও পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি জন্মগ্রহণ করে এবং পুরুষদের মধ্যে শিশুমৃত্যুর হার বেশি। তিনি দাবি করেছেন যে এই তির্যক অনুপাতটি সেইসব দেশের ছেলেদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্য চিকিত্সা এবং শৈশবকালীন সুযোগের ফলে।

দুর্ভিক্ষের প্রতি তাঁর আগ্রহ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। একটি নয় বছর বয়সী বালক হিসাবে, তিনি 1943 সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ প্রত্যক্ষ করেছিলেন তিনি। যেখানে ত্রিশ লক্ষ লোক মারা গিয়েছিল। এই বিস্ময়কর জীবনহানি অপ্রয়োজনীয় ছিল বলেই তাঁর মনে হয়েছিল এক সময়ে।  তিনি বিশ্বাস করতেন যে সেই সময়ে ভারতে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ ছিল কিন্তু এর বন্টন বাধাগ্রস্ত হয়েছিল কারণ বিশেষ গোষ্ঠীর লোক - এই ক্ষেত্রে গ্রামীণ শ্রমিকরা - তাদের চাকরি হারিয়েছিল এবং তাই তাদের খাদ্য ক্রয়ের ক্ষমতা কমে গেছিলো।

 তার দারিদ্র্য এবং দুর্ভিক্ষ: এনটাইটেলমেন্ট অ্যান্ড ডিপ্রাইভেশন (1981) বইতে , তিনি প্রকাশ করেছেন যে দুর্ভিক্ষের অনেক ক্ষেত্রে খাদ্য সরবরাহ উল্লেখ যোগ্যভাবে হ্রাস পায়নি। পরিবর্তে, মজুরি হ্রাস, বেকারত্ব, ক্রমবর্ধমান খাদ্য মূল্য এবং দুর্বল খাদ্য-বন্টন ব্যবস্থার মতো সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলির একটি সংখ্যা সমাজের নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে অনাহারের দিকে পরিচালিত করে। আর যে কারণে দেশে শুরু হয় দুর্ভিক্ষ।

খাদ্য সংকট পরিচালনাকারী সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি তাঁর এই কাজের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। তার মতামত নীতিনির্ধারকদের শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক দুর্ভোগ কমানোর জন্য নয় বরং দরিদ্রদের হারানো আয় প্রতিস্থাপনের উপায় খুঁজে বের করার জন্য-উদাহরণস্বরূপ, পাবলিক-কাজ প্রকল্পের মাধ্যমে-এবং খাদ্যের জন্য স্থিতিশীল মূল্য বজায় রাখার দিকে মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করেছিল।

রাজনৈতিক স্বাধীনতার একজন জোরালো রক্ষক, তিনি বিশ্বাস করতেন যে কার্যকর গণতন্ত্রে দুর্ভিক্ষ ঘটে না কারণ তাদের নেতাদের অবশ্যই নাগরিকদের দাবির প্রতি আরও প্রতিক্রিয়াশীল হতে হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য , তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, সামাজিক সংস্কার - যেমন শিক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতি - অবশ্যই অর্থনৈতিক সংস্কারের আগে হওয়া উচিত এটাই ছিল তাঁর অভিমত।

 
সহজ কথায়, দীর্ঘস্থায়ী অনুমান যে কোনো প্রদত্ত আয় বৃদ্ধির ফলে একজন দরিদ্র ব্যক্তি ধনী ব্যক্তির চেয়ে বেশি অতিরিক্ত সন্তুষ্টি অর্জন করবে। সামাজিক নীতির স্তরে, এর অর্থ হল ধনী থেকে দরিদ্রে সম্পদ পুনঃবণ্টনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু সেটা আজ হচ্ছে কোথায়। ধনী আরও ধনবান হচ্ছে। গরীব আরও দরিদ্র হচ্ছে। যেমন প্রগতিশীল আয়করের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সন্তুষ্টির যোগফলকে বাড়ানো যায় না। 

অর্থনৈতিক নীতি বিচার করার জন্য তখন একটি নতুন এবং আরও সীমিত মাপকাঠি তৈরি করা হয়েছিল: একটি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে অন্যের চেয়ে উচ্চতর বিচার করা হয়েছিল শুধুমাত্র যদি অন্তত একজন ব্যক্তিকে অন্য কাউকে খারাপ না করে উন্নত করা হয়। বিকল্পভাবে, একটি অর্থনৈতিক অবস্থা পূর্ববর্তী একটি থেকে উচ্চতর বিচার করা যেতে পারে যদিও কিছু ভোক্তাদের খারাপ করা হয়েছিল যদি লাভকারীরা ক্ষতিপূরণ দিতে পারে এবং এখনও আগের চেয়ে ভাল হতে পারে। 

যাইহোক, বেশ কয়েকটি বিকল্পের মধ্যে বিচার করার কোন উপায় থাকবে না যার মধ্যে সবাই এই শর্তটি পূরণ করেছে। তাঁর এই দুর্ভিক্ষ, মানব উন্নয়ন তত্ত্ব,জনকল্যাণ অর্থনীতি ও গণ দারিদ্রের অন্তর্নিহিত কার্যকারণ বিষয়ে গবেষণা এবং উদারনৈতিক রাজনীতিতে অবদান সারা বিশ্ব মনে রাখবে। যিনি শুধু নোবেল পুরস্কার নয় তিনি ভারতরত্ন পান। কিন্তু তিনি বিশ্বনাগরিক হয়েও নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি তিনি। তাই মাঝে মাঝেই তিনি ছুটে আসেন তাঁর সেই প্রিয় শান্তিনিকেতনে, সেই প্রিয় তাঁর বাড়ী প্রতীচিতে। হয়তো সেই বাড়ির বারান্দায় বসে ভাবেন তিনি, লালমাটির এই রাস্তা ধরে দু চাকার সাইকেল নিয়ে যদি আবার বেরিয়ে পড়া যেতো গ্রাম দেখতে, গ্রামের মানুষদের জীবন বদলেছে কিনা দেখতে। 

চোদ্দ অক্টোবর ভোর বেলার সেই ফোন - অভিজিৎ বসু।

ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ্যাপি বার্থডে রনজিৎ দা

আমার মোবাইলে নম্বরটা আজও সেভ করা আছে রনজিৎ মদন দা নামেই। কবে, কোথায় ওর সাথে দেখা হয়েছিল আজ আর সেটা স্মরণে নেই আমার। হয়তো সেই ২৪ চৌরঙ্গী রোডের অফিসে বা ভবানীপুরের সেই বিখ্যাত অফিসে দেখা হয়েছিল একদিন। ডাকাবুকো কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র তখন প্রিয়রঞ্জন‌ দাসমুন্সীর লোক। একদম ফর্সা গায়ের রং। চোখে রোদ চশমা, সাদা প্যান্ট সাদা জুতো পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক আর ওদিক। আর সেই কিছু দরকার পড়লেই রনজিৎ রনজিৎ বলে ডাক দিচ্ছেন তিনি দরকারে আর অদরকারে।  রনজিৎ হলো মদনদার সেই পুরোনো দিনের একমাত্র সঙ্গী আর ছিল সেই স্বপন মাইতি বর্তমানে তিনি আর বেঁচে নেই। এস এস কে এম এ গেলেই স্বপনদা কে দেখতাম আমরা। কিন্তু সেই জাদুঘর এর ফুটপাথ ধরে বিকেলের কাগজ বের হলে পট পরিবর্তন আর অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়ে চলে যেতাম আমরা দুজন। বর্তমানে একজন তৃণমূলের মুখপাত্র অনেক বড় মাপের সাংবাদিক ও রাজনীতির লোক। দলের অন্দরে অনেক দূর অবধি তাঁর হাত বিস্তৃত। অন্যদিকে আর একজন ৩৫ বছর এই বাংলা মিডিয়াতে কাজ করে এখন বাতিলের দলে টোটো চালক হয়ে গেছে আর কি।  যাক সেই রনজিৎ এর আজ জন্মদিন। মনে পড়ে গেলো আমার...

ইটিভি ও অম্বরীষ‌ দা।

সাদা জীবনের কালো কথায় এমন একজনের কথা লিখবো আজ যার কথা অনেক আগেই লেখা উচিত ছিল আমার। ইটিভির কর্ণধার রামোজি রাও এর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির কথা লেখার সময় যার কথা আমার এক লাইন হলেও লেখা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যা আমায় মনে করিয়ে দিলেন একজন প্রাক্তন ইটিভির সহকর্মী। তার কথা শুনে মনে হলো ঠিক তো চেয়ারম্যান স্যার কে হারিয়ে আমরা সবাই ইটিভির কর্মীরা মিলিত হলাম এক নিমেষে এক ছাতার তলায়। কিন্তু যার জন্য আমরা সবাই তাঁর কাছে এই ইটিভির কোম্পানি তে কাজ এর সুযোগ পাই তাঁর কথা উল্লেখ করা দরকার ছিল বোধ হয়। কিন্তু আমি লিখি নি বা হয়তো ভুলে গেছিলাম সেই মানুষটার কথা বলতে। সেই ব্যক্তির কথাই আজ বলবো কিছুটা। না হলে সেটা ঠিক কাজ হবে না কিছুতেই।  যে মানুষটার জন্য আমরা প্রায় সবাই এই ভাবে সব একসাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কেউ পশ্চিমবাংলায় কাজ করেছি আবার কেউ কেউ হায়দরাবাদ এর সেই পাঁচিল ঘেরা রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যে কাজ করেছি। কিন্তু বাংলা মিডিয়ার সেই ছোট্টো চারা গাছের যে বীজ রামোজি রাও বপন করেছিলেন সেই সময় আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। এই মানুষটার হাত ধরেই লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল স...

বিশ্ব সাইকেল দিবস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস এর কথা। এই দু চাকার যানকে নিয়ে যে কত অম্ল মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে সবার জীবনেই তা বলে শেষ করা যাবে না বোধ হয়। আর আজ সেই সাইকেল উদযাপনের একটি আন্তর্জাতিক দিন। এই বিশ্ব সাইকেল দিবস প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় এই দিনটি।  ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে সাইকেলের দীর্ঘ জীবনকাল এবং বহু কাজে ব্যবহৃত হওয়ার প্রশংসা করা হয়। সঙ্গে প্রায় দুই শতক কাল এর সাধারণ,কম খরচ, বিশ্বাসযোগ্যতা, এবং পরিবেশের জন্য উপযুক্ত যানবাহনের মাধ্যম হিসাবে সাইকেলের উল্লেখ করা হয়েছিল। সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মূলতঃ এই দিবস উদ্‌যাপন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়েই। বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ তাই সবার কাছেই জানা একটা বিষয়। কিন্তু যে সাইকেল নিয়ে এত কথা সেই লাল টুকটুকে সাইকেল পেয়েছিলাম আমি স্কুল জীবনে ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠে। সময়টা যত দুর মনে পরে শীতকাল ডিসেম্বর মাস। মেজমামা আমায়...

দিদির নিদান

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ চুরি না করার নিদান। সেই ছোটো বেলায় পড়েছিলাম বইতে মাসীর সাবধান বাণী। চুরি করে কি অবস্থা হলো। শেষে মাসীর কান কামড়ে দিল বালক। মাসীর সাবধান বাণী না শুনে। আজ এই এক ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আমার সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো হঠাৎ করেই। আচ্ছা সত্যিই কি এই কড়া নিদান দিয়ে চুরি রোখা যায়। কথায় বলে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। মুখ্যমন্ত্রীর একদম সোজা সাপটা এই বর্জ নির্ঘোষ কথা শুনে আমার এমন মনে হলো আজ। যে কথার উত্তর দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই কারুর।  সে দলের যে নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, বা পুরসভার চেয়ারম্যান হোক। চুপ করে বসে হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ উত্তর দিলেই বিপদ বাড়বে বই কমবে না। একদম সোজা সাপটা তীরবিদ্ধ আক্রমন এর সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা। করে খাবার জায়গা নয় তৃণমূল দল। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নিজের পেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতি আর নয়, অনেক হয়েছে।  সত্যিই তো রাজনীতির আঙিনায় এই সব কিছুকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। কত কষ্ট করে মাটি তৈরি করে, জল দিয়ে এই ছোটো দুটি জোড়...

আমাদের চেনা বিখ্যাত ঝিলম

বাংলা মিডিয়ার নানাজনের সাথে দীর্ঘ সময়ে আমার কাজে অকাজে নানা সাংবাদিকের সাথে আলাপ থাকলেও। এই সাংবাদিকের সাথে ঠিক যেনো রোদ আর বৃষ্টির টক ঝাল মিষ্টি সম্পর্ক। এই হাসিঠাট্টা মশকরা করা দুজনের, আবার এই সিরিয়াস হয়ে গিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে যাওয়া একে অপরের সাথে। এই নানা বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য তাঁর সাথে আলোচনা হওয়া দুই সহজ পুরোনো বন্ধুর মতো। আবার যেনো খুব ক্ষুদ্র কোনো কারনেই মতান্তর আর মনান্তর হয়ে যাওয়া কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই ব্লগ লেখার কথা আমায় বহুদিন আগেই ও বলেছিল একদিন। আজ সেই ব্লগ লেখার পাগলামো কিছুটা তো তাঁর অনুপ্রেরণায় এটা অস্বীকার করা যায় না আজও কিন্তু । যেটা নিয়ে তাঁর সাথে আমার কথাও হয়েছে বহুবার।  বাংলা মিডিয়ার এই শিক্ষিত পড়াশোনা করে সাংবাদিক হতে আসা, এই রিপোর্টার ইন্টারভিউ বোর্ডে পরীক্ষকের জ্ঞান অনুসন্ধানে ব্যাপৃত হতেও পিছপা হয় না কিছুতেই। কোনও পরোয়া না করে আর ভয় না পেয়ে। সে হায়দরাবাদ এর বিখ্যাত বিরিয়ানী এলাকার বস হোক, কিম্বা কাগজের দাপুটে দাড়িওলা বস হোক। বা যে কেউ বস হোক। আসলে এটাই ওর চিরকালের নেচার। যার থেকে আজও বোধহয় বের ...