সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস

আজ বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস। কোনো কিছুরই আর দিন পালন বা দিবস পালন এর বাকি রইলো না। সারা বিশ্ব জুড়েই ষোলো অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস। যে শিরদাঁড়া নিয়ে এত হৈ চৈ আর হুল্লোড়। কথায় কথায় আমি অনেকের কাছেই শুনি, না না দাদা আমি সব বেচে দেবো রাজা হরিশচন্দ্রের মত। কিন্তু ওই  জিনিসটা আমি কিন্তু বেচতে পারবো না আমি কিছুতেই। বউ, বাচ্চা, বাবা, মা, শ্বশুড় শ্বাশুড়ী সব বিক্রি করতে পিছপা হব না কোনো সময় কিন্তু ওই যার জন্য দাঁড়িয়ে আছি হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটছি না সেটাকে বন্ধক রেখে দিয়ে চলতে পারব না আর বিক্রি করা তো দুরস্ত।

 এই বিশেষ দ্রোহকাল আর আন্দোলনে ভেসে যাওয়া শহরে এই শিরদাঁড়া এখন হট কেক এর মতো বিকোচ্ছে, অলিতে গলিতে দুপুর বেলায় বা সকাল বেলায়। এই তো সেদিন দেখলাম ঝুড়ি করে এক ফেরিওলা হাঁকতে হাঁকতে যাচ্ছে ওই ঠিক বৌবাজার এর ভূপতি চরণ এর দোকানের সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে শিরদাঁড়া নেবে গো শিরদাঁড়া। আমি ওই ভীড় এর পূজো দেখতে নেবু তলা পার্ক থেকে বেরিয়ে দেখলাম বিভিন্ন সাইজের শিরদাঁড়া বিক্রি আছে ওর কাছে। 

আমি ওকে ডাকলাম বললাম তুমি এই শিরদাঁড়া কিনেছো কোথা থেকে ভাই। হালকা হেসে করিম চাচা অবাক চোখে আমার দিকে দেখলো। বললো, সেকি কথা বাবু আপনে জানেন না কোথায় এটি পাওয়া যায়। আমি বললাম না গো সত্যিই বলছি আমি জানিনা কোথায় পাওয়া যায় শিরদাঁড়া। আর দেখিনি এই জিনিস বাজারে কাউকে ফেরি করতে।  করিম হেসে বলল বাবু সেই বহুদূর থেকে আমি আসছি সেই অজ গা থেকে। গ্রামে বাবু তো কোনো কাজ কাম নাই। আর মাঠে চাষবাস এর অবস্থাও খুব ভালো নয় যে। আর এদিকে শহরে শুনলাম নাকি শিরদাঁড়ার ভালো চাহিদা আছে। যে যাকে পারছে শিরদাঁড়া উপহার দিতে ব্যস্ত আছে সবাই। 

কেউ পুলিশকে হাসতে হাসতে শিরদাঁড়া উপহার দিচ্ছে, কেউ অফিসের কোনো কর্মী তার পাশের একসাথে কাজ করা বন্ধু রূপী শত্রুকে বলছে এই নে তোর জন্য নিয়ে এলাম বাজার থেকে কিনে। এটা পড়ে নে তুই বলে শিরদাঁড়া উপহার দিচ্ছে একজন অন্যজনকে হাসতে হাসতেই। রাজনীতি করা লোকদের বাড়িতেও নাকি মাঝে মাঝে শিরদাঁড়ার দরকার পড়ছে আজকাল আর তাই অনেক ভেবে চিন্তে খুঁজে পেতে এই ব্যবসা করবো বলে কিছু নকল শিরদাঁড়া জোগাড় করে শহরে চলে এলাম যা দু একটা বিক্রি হয় এই আর কি। 

আমি তো করিম এর কথা শুনে থ। সেকি তুমি তাহলে, আমার কথা শেষ করতে না দিয়ে করিমের উত্তর বাবু ওই জিনিসটা কি আর আসল আপনি খুঁজে পাবেন কোথাও মনে হয় না সেটা আর আপনে পাবেন না।
আমি একটু ওর এই কথা শুনে ঝুঁকে পড়লাম ওর দিকে। দেখলাম ও বিকেল বেলায় নরম রোদ এর আলো মেখে খালি পায়ে হাঁকতে হাঁকতে গলির বাঁকে মিলিয়ে গেলো শিরদাঁড়া নেবেগো কেউ শিরদাঁড়া নেবে বলে। আমিও ধীরে ধীরে হেঁটে ভীড় কাটিয়ে নিজের শিরদাঁড়ার জোরে বাড়ী ফিরে এলাম। 

আসলে করিম বোধহয় ঠিক কথাই বলেছে সত্যিই তো আসল শিরদাঁড়া ওই বা পাবে কোথায়। আর যারা সব কথায় কথায় শিরদাঁড়া সোজা রেখে চলা মানুষ আমি কারুর কাছে বিকিয়ে যেতে পারিনি বলে জীবনে কিছুই করতে পারিনি বলে চিৎকার করে আর বলে আমি ওই ঝাঁকের মরশুমের ইলিশ মাছ নই তারা কি সত্যি সত্যিই শিরদাঁড়া সোজা করেই চলে সারাটা জীবন কে জানে। মনে পড়ে গেলো সেই বিখ্যাত লাইন এর কথা, তুমিও মানুষ, আমিও মানুষ তফাৎ শুধু শিরদাঁড়ায়।

 হ্যাঁ, বাংলায় এখন একটাই কথা খুব চলছে সেটা হলো শিরদাঁড়া বিক্রি নেই। দু হাজার বারো সাল থেকেই চলছে বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস পালন। দিন দিন এই শিরদাঁড়ার রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যা দ্রুত হারে বাড়ছে। আর তার জন্য এই বছর এই দিবসের থিম হলো,সাপোর্ট ইয়োর স্পাইন। নিজের মেরুদণ্ডকে ভালো রাখতে সুস্থ রাখতে তাকে সাপোর্ট দিতে হবে।

 এই তো আমার বন্ধু ভজন শিরদাঁড়ার রোগ নিয়ে গত দেড় বছর ধরে বিছানায় শুয়ে আছে। কত কিছু চিকিৎসা করছে কিন্তু কিছুতেই কি হয়েছে কেনো সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না সে সেটাই ধরা যাচ্ছে না আর দেড় বছর ধরে। শুধু দৌড়ে বেড়ানোই সার হয়ে গেছে ওর।  দেখতে দেখতে দেড় বছর সে ঘরবন্দী জীবন কাটিয়ে যাচ্ছে সে। কি যে হলো ওর কে জানে।  শিরদাঁড়া বড়ো বিষম বস্তু একবার বিগড়ে গেলে বড়ই যন্ত্রণা আর কষ্টদায়ক যে। 

আসলে মেরুদণ্ডস্বল্পতা এই শব্দটি একটু অচেনা কিন্তু এটাই এখন আমাদের মনের ভেতর এই শব্দ ঘুরপাক খায় মাঝে মাঝে। আমাদের দেহে নানা ধরনের উপাদান আছে। তার যে কোনো একটি জিনিস কমে গেলে আমরা তাকে বলতে স্বল্পতা যোগ করি।আর তাই মেরুদণ্ড একটু দুর্বল হলে কিন্তু মেরুদণ্ড স্বল্পতা বলতে পারি না আমরা। এটা একটা বৈষম্য মনে হয় আমার।  

এই প্রাণীজগতের দুটি ভাগ একটি মেরুদণ্ডী অন্যটি অমেরুদণ্ডী। পুরো প্রাণীজগতের সিংহভাগ প্রাণীই হচ্ছে অমেরুদণ্ডী প্রাণী। একটু বইপত্র ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে সাতানব্বই শতাংশ প্রাণী অমেরুদণ্ডী প্রাণী। মেরুদণ্ডী প্রাণীর প্রজাতির সংখ্যা মোট ষাট হাজার। আর তার উল্টোদিকে প্রায় অমেরুদণ্ডী প্রাণীর প্রজাতির সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ লাখ থেকে প্রায় তিন কোটি। তার মানে এই যে এত শিরদাঁড়া, শিরদাঁড়া করে হৈ চৈ হুল্লোড় হাটে মাঠে ঘাটে, অফিস আদালত ট্রেন বাস সব জায়গায় সারা বিশ্বে মেরুদণ্ডীদের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। 

কিন্তু আমরা এই মানুষ যারা সবাই দু পেয়ে হোমো সেপিয়ান্স এর অন্তর্ভুক্ত জীব তারা সবাই জন্ম থেকেই এই একটি মেরুদণ্ড আমরা বিনামূল্যে পেয়ে যাই সবাই। কিন্তু সেই বিনে পয়সায় পেয়ে যাওয়া শিরদাঁড়া নিয়ে কি সারা জীবন সোজা রেখে চলা যায়। নাকি জীবনের নানা ঘাত, প্রতিঘাত আর সংঘাতে সেই শিরদাঁড়া অভিযোজিত হতে হতে, বিবর্তিত হয় আর তার দৈর্ঘ্য ধীরে ধীরে ছোটো হতে থেকে কারণে আর অকারণে। কিছুটা নিজেদের স্বার্থে আর বাঁচার সুবিধার্থে। কে জানে এই দিবসে এই প্রশ্ন আমার মনের মাঝে ঘুরপাক খায় বারবার।

 আমরা কি তাই হাসিমুখে কেউ বলতে পারি আমার একটু মেরুদণ্ডস্বল্পতা আছে। তাই তোমার মতই ঋজু মেরুদণ্ড আমার নয়। তুমি কিন্তু সত্যি স্যালুট যোগ্য একজন। না, এটা কোনো ভাবেই শোনা যাবে না। এটা যেনো আকাশকুসুম কল্পনা মাত্র। চারিদিকে তো মেরুদণ্ড হারিয়ে যাওয়া দেখছি আমরা। অফিসে সেই মেরুদণ্ড হারানো জি হুজুর মার্কা লোক দিন দিন বাড়ছে। যাঁরা সবসময় জি ছাড়া আর কোনোদিন না বলতে পারেন না। সে যাকগে এই বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবসের দিনে ভঙ্গুর দ্রুত ছোটো হয়ে আসা শিরদাঁড়া নিয়ে রাতদুপুরে টানাটানি করে কি লাভ বলুন তো।

 কিন্তু স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান বলছে শিরদাঁড়া রোগে আক্রান্ত পিঠে ব্যথ্যা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে সারা বিশ্বে। আর তাই এই দিন পালন করা। চিকিৎসা ব্যবস্থা বলছে এই শিরদাঁড়ার রোগের এখন চিকিৎসার অনেক অগ্রগতি হয়েছে। প্রথমে ছিল এক্সরে। তারপর  উনিশশো আশির দশকে এল সিটি স্ক্যান, এম আর আই এসেছে। সারা বিশ্বে প্রায় এক বিলিয়ন মানুষ এই শিরদাঁড়ার রোগে ভুগে কষ্ট পাচ্ছেন। আর যারা ব্যাথা কমে যাবে ভেবে মুঠো মুঠো পেন কিলার খাচ্ছেন তারাও কিন্তু ভুল করছেন। কারণ ব্যাথা কমাতে পেনকিলার খাওয়া ঠিক নয় একদম। তাহলে সমস্যা আরও বাড়বে। 


চিকিৎসকদের কথা সারাদিন মোবাইল দেখুন সেই নেশা তো ছাড়বে না আমাদের। কিন্তু ঘাড় কাঁধ বেঁকিয়ে মোবাইল এর দিকে তাকানো বা ল্যাপটপে কাজ করা এড়িয়ে চলতে হবে আমাদের। আর খাবার এর মধ্য ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, শরীরের হাড় মজবুত করে এমন খাবার খেতে হবে বেশি করে। এত গেলো নানা ভাবে শিরদাঁড়া সোজা করে রাখার টোটকা।

 কিন্তু ওই যে কলকাতা টিভির হুগলী জেলার রিপোর্টার সৌমেন রায় চৌধুরী যে সত্যিই শিরদাঁড়া সোজা রাখা একজন মানুষ হয়ে কেমন হাসি মুখে নিজের কর্ম ক্ষেত্রের সেই চেনা চ্যানেলের এক বিরাট মাতব্বরকে তার লোগো জমা দিয়ে হাসতে হাসতেই বাড়ী ফিরে এলো। বর্তমানে সে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আপনমনে গাড়ি নিয়ে রাত বিরেতে জলে ভিজে হাসি মুখে। এটাই তো আসল শিরদাঁড়া সোজা রেখে হাসি মুখে চলা আর বেঁচে থাকা। যার জন্য আমার গর্ব হয়। ওই ভাবে কেউ কিছু বলার আগেই টেবিল এর ওপর লোগো জমা দিয়ে হাসতে হাসতে বাড়ী চলে আসা। 

আর ওই যে কবে থেকে আমি শুধু দাদার আমলের লোক বলে এক দিদির কাছে কথা শুনলাম,  দাদার আমলে যা করেছ ওসব ভুলে যাও। আমি সেই বিখ্যাত দিদিকে টোটো চালাবো বলে কিছু না ভেবেই নিজের শিরদাঁড়ার জোর দেখিয়ে আর কলজের জোর দেখিয়ে কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে এলাম বিন্দাস এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে ঘুরে বেড়াবো বলে কেমন হাসি মুখে কাজ ছেড়ে চলে এলাম। এটাই বোধহয় সত্যিই করেই শিরদাঁড়া সোজা রেখে চলা জীবনে। 

কারুর কাছে মাথা নত না করে, কারুর পা না ধরে , একদম বুকের জোরে একা একাই বেঁচে থাকার চেষ্টা করা। হাসি মুখে কষ্টকে বুকের মাঝে চেপে রেখে  সবাইকে টোটো চালক বলে ঘুরে বেড়ানো। তাহলে বোধহয় ওই রাস্তায় শিরদাঁড়া বিক্রি বলে ঘুরে বেড়ানো লোকটা ওই করিম চাচা ঠিক কথাই বলেছিল। বাবু আসল সোজা শিরদাঁড়া আর পাবেন কোথায় সব যে নকল শিরদাঁড়াতে ভরে গেছে বাবু।



 আমারও কেমন এই রাতের অন্ধকারে একা একা শিরদাঁড়া নিয়ে লিখতে লিখতে মনে হলো দ্রুত পৃথিবীতে কমে যাওয়া এই শিরদাঁড়া সোজা রেখে বেঁচে থাকা লোকের সংখ্যা বোধহয় খুব কমে যাচ্ছে দিন দিন। না, হলে কি আর এত হৈ চৈ হুল্লোড় এর মাঝে শিরদাঁড়া নিয়ে এত রিসার্চ করা লোকজন এর মাঝে এই বিশ্ব স্পাইন দিবস পালনের দিনে, সত্যিই বোধহয় আসল  শিরদাঁড়ার জোরে বেঁচে থাকা মানুষের বড়ই অভাব। জয় শিরদাঁড়ার জয়। 

বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস - অভিজিৎ বসু।
ষোলো অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি - সৌজন্য গুগল

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

সুসমীর ও আমি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ আমার কলেজের বন্ধু সুসমীর এর কথা। ওর ভালো নাম সমীর ঘোষ। ওর বাড়ী শ্রীরামপুরে। আমার সাথে ওর আলাপ শ্রীরামপুর কলেজে পড়ার সময়। সেটা আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর আগের কথা হবে। আসলে কলেজের বেঞ্চিতে বসে ওর গলার গান শুনে মুগ্ধ হয়েছি আমরা সবাই। ছেলে মেয়ে সবাই ওর গানের ভক্ত হয়ে গেলাম একদিন ওর গান শুনেই। মেয়েরা তো ওর ফ্যান হয়ে গেলো ওর গানের জন্য।  পরে আমাদের কলেজ জীবন শেষ করে আমরা এদিক ওদিক টুকটাক কাগজে লেখার জগতে দুজনেই প্রবেশ করেছি আমরা। একদিন খুব সম্ভবত বর্তমান কাগজে বিজ্ঞানের পাতায় দেখলাম সুসমীর দাস নামে এক জনের লেখা বেরিয়েছে।সেই সময় বিজ্ঞানের পাতা দেখতেন বর্তমানের রূপকুমার বসু। আমার সাথেও পড়ে রূপদার আলাপ হয়েছিল এই লেখার সূত্রেই।  মনে পড়ে প্রতি লেখায় পঞ্চাশ টাকা দিত বর্তমান‌ কাগজ সেই সময়। সমীর তখন বিজ্ঞান নিয়ে লিখছে, আকাশবাণী তে নানা অনুষ্ঠান করছে। এরপর তারা নিউজ ডেস্ক এর কাজে যোগদান করে সে। দীর্ঘ দিন তারা নিউজ এর কাজ করেছে সে। এই হলো সুসমীর এর জীবনের রেখাচিত্র।  কিন্তু আমার সাদা জীবনের এমন এক সাদা মানুষের ...

ভূত চতুর্দশীর সেই রাত

জীবনে আলো নেই, এদিকে ঘরে টুনি লাইট লাগাচ্ছি আর স্টাইল করে ছবি তুলছি। সত্যিই কত বিচিত্র আয়োজন আর বিচিত্র জীবন। ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যার আলোকজ্বল এই অমলিন, ঝাপসা, ম্রিয়মান এই ছবিটা ধরা থাকলো আমার জীবনের টাইমলাইনের ফেসবুকের পাতায় আলতো করে।  ঘরের দুয়ারে বাতি দিয়ে অন্ধকারের রাজ্যে চলে যাওয়া। আর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া আমার আত্মীয়দের পথ দেখালাম আমি। হ্যাঁ, যে পথ ধরে আমাদের ছেড়ে যাওয়া মানুষজন এসেছিলেন তাঁরা সেই মহালয়ার পুণ্য প্রভাতে। তাঁদের তর্পণ করে স্বাগত জানিছিলাম আমরা সবাই। এতদিন ধরে এই উৎসবের আনন্দে আলোকমালায় কেমন ঘুরে বেড়ালেন তাঁরা খুশি মনে। আজকের রাত তাঁদের আবার সেই ফিরে যাওয়ার রাত। যে রাতে ঘুম আসেনা কিছুতেই। যে রাতের অন্ধকারে কত কিছুই যে ঘটে যায়।   যাঁরা এতদিন এই পৃথিবীর টানে, আপনজনদের টানে পৃথিবীর কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই তাঁরাই আজ আমাদের ছেড়ে প্রিয়জনদের সবাইকে ছেড়ে ধীরে ধীরে চলে যাবেন দূরে,অনেক দূরে। আর আমরা তখন ঘরের দুয়ারে, উঠোনে তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালিয়ে সেই তাঁদের যাত্রাপথকে সুগম করবো আলোক সজ্জা দিয়ে। এটাই হলো ভূত চতুর্দশীর সেই আল...

কুণাল ঘোষের বার্তা ও টোটো চালকের কিছু কথা

কুণাল দার সাথে কাজ করিনি আমি কোনোদিন। বাংলা সংবাদের জগতে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত সাংবাদিক আছেন। যাঁদের নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে এই বাংলার মিডিয়ায়। আজ সেই কুণাল ঘোষ সংবাদ প্রতিদিন কাগজ থেকে কনসাল্টিং এডিটর পোস্ট থেকে সরে গেলেন। একদিকে তাঁর বিধায়ক হয়ে যাওয়া সরকার এর বদল হয়ে যাওয়া। আর তাই তিনি প্রতিদিন কাগজের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন তেমন এক বার্তা দিলেন তিনি নিজেই।  কুণাল ঘোষ এর সাথে আমার আলাপ বিশেষ নেই। সেই মহাকরণে করিডর দিয়ে তিনি হেঁটে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের দিকে। তাঁর আগে পিছে সংবাদ মাধ্যমের কাজ করা রিপোর্টারদের ভীড় তাঁকে ঘিরে ভীড় করে আছেন আমিও দূরে আছি দাঁড়িয়ে। সেই বহু বছর আগে হাফ শার্ট পরে বিকেলের দিকে মদন মিত্রের অফিসে আসতেন। ২৪ চৌরঙ্গী রোড এর অফিসে ধর্মতলার কাছে। সান্ধ্য প্রতিদিন কাগজ পকেটে নিয়ে। রণজিৎ থাকতো সেই সময়। সেই সব দিন এর কথা মনে পড়ে যায় আজ আমার। সেই কঠিন বাম আমলে তাঁকে কাজ ছেড়ে চলে যেতে হয়নি একদমই। আর আজ সরকার বদলের সাথে সাথেই দিকে দিকে কাজ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেছে যে চারিদিক জুড়েই এই বাংলার মিডিয়ায়।  ইটিভির কাজের স...

রক্তাক্ত আমি

অর্থহীন, শব্দহীন,জীবনের অপমান বড়ই যন্ত্রণার। জীবনের অনুরণনে অপমানের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, শুনতে শুনতে ধীর পায়ে এগিয়ে চলা। ছিপখান ডিঙ্গি নৌকা বেয়ে নিজের মত করে অন্তরীণ হয়ে ভেসে বেড়ানো, এদিক থেকে ওদিক পানে। শঙ্খচিলের ডানায় তখন, রামধনুর সাত রঙ এর স্বপ্নের ঘুম জড়ানো ভোরের আস্তরণ। শালিকের ভেজা পায়ে, জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দের বাঙময় অব্যক্ত ধাক্কা। যে ধাক্কায় দ্বিখণ্ডিত হয় জীবনের অর্থ, অনর্থ, সৃষ্টি, অনাসৃষ্টি, সুখ, অসুখ,ভালোবাসা, ঘৃণা আরও কত কি।  চোখ খুলে দেখি বদলে গেছে, জীবনের উপল উপত্যকার ঢেউ খেলানো রাস্তার, সোজাসাপ্টা সেই বহু চেনা গলিপথ। যে গলিপথের চেনা রাস্তায় হাঁটতে নেমে রক্তাক্ত হই আমি বার বার। তবু রাতের আঁধার গায়ে মেখে রক্তাক্ত আমি ঘুরে, বেড়াই এদিক থেকে ওদিক। হাতড়ে খুঁজে বেড়াই রামধনুর রং মাখা ভোর। রক্তাক্ত আমি - অভিজিৎ বসু। ষোলো জুন, দু হাজার চব্বিশ।