সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস

আজ বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস। কোনো কিছুরই আর দিন পালন বা দিবস পালন এর বাকি রইলো না। সারা বিশ্ব জুড়েই ষোলো অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস। যে শিরদাঁড়া নিয়ে এত হৈ চৈ আর হুল্লোড়। কথায় কথায় আমি অনেকের কাছেই শুনি, না না দাদা আমি সব বেচে দেবো রাজা হরিশচন্দ্রের মত। কিন্তু ওই  জিনিসটা আমি কিন্তু বেচতে পারবো না আমি কিছুতেই। বউ, বাচ্চা, বাবা, মা, শ্বশুড় শ্বাশুড়ী সব বিক্রি করতে পিছপা হব না কোনো সময় কিন্তু ওই যার জন্য দাঁড়িয়ে আছি হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটছি না সেটাকে বন্ধক রেখে দিয়ে চলতে পারব না আর বিক্রি করা তো দুরস্ত।

 এই বিশেষ দ্রোহকাল আর আন্দোলনে ভেসে যাওয়া শহরে এই শিরদাঁড়া এখন হট কেক এর মতো বিকোচ্ছে, অলিতে গলিতে দুপুর বেলায় বা সকাল বেলায়। এই তো সেদিন দেখলাম ঝুড়ি করে এক ফেরিওলা হাঁকতে হাঁকতে যাচ্ছে ওই ঠিক বৌবাজার এর ভূপতি চরণ এর দোকানের সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে শিরদাঁড়া নেবে গো শিরদাঁড়া। আমি ওই ভীড় এর পূজো দেখতে নেবু তলা পার্ক থেকে বেরিয়ে দেখলাম বিভিন্ন সাইজের শিরদাঁড়া বিক্রি আছে ওর কাছে। 

আমি ওকে ডাকলাম বললাম তুমি এই শিরদাঁড়া কিনেছো কোথা থেকে ভাই। হালকা হেসে করিম চাচা অবাক চোখে আমার দিকে দেখলো। বললো, সেকি কথা বাবু আপনে জানেন না কোথায় এটি পাওয়া যায়। আমি বললাম না গো সত্যিই বলছি আমি জানিনা কোথায় পাওয়া যায় শিরদাঁড়া। আর দেখিনি এই জিনিস বাজারে কাউকে ফেরি করতে।  করিম হেসে বলল বাবু সেই বহুদূর থেকে আমি আসছি সেই অজ গা থেকে। গ্রামে বাবু তো কোনো কাজ কাম নাই। আর মাঠে চাষবাস এর অবস্থাও খুব ভালো নয় যে। আর এদিকে শহরে শুনলাম নাকি শিরদাঁড়ার ভালো চাহিদা আছে। যে যাকে পারছে শিরদাঁড়া উপহার দিতে ব্যস্ত আছে সবাই। 

কেউ পুলিশকে হাসতে হাসতে শিরদাঁড়া উপহার দিচ্ছে, কেউ অফিসের কোনো কর্মী তার পাশের একসাথে কাজ করা বন্ধু রূপী শত্রুকে বলছে এই নে তোর জন্য নিয়ে এলাম বাজার থেকে কিনে। এটা পড়ে নে তুই বলে শিরদাঁড়া উপহার দিচ্ছে একজন অন্যজনকে হাসতে হাসতেই। রাজনীতি করা লোকদের বাড়িতেও নাকি মাঝে মাঝে শিরদাঁড়ার দরকার পড়ছে আজকাল আর তাই অনেক ভেবে চিন্তে খুঁজে পেতে এই ব্যবসা করবো বলে কিছু নকল শিরদাঁড়া জোগাড় করে শহরে চলে এলাম যা দু একটা বিক্রি হয় এই আর কি। 

আমি তো করিম এর কথা শুনে থ। সেকি তুমি তাহলে, আমার কথা শেষ করতে না দিয়ে করিমের উত্তর বাবু ওই জিনিসটা কি আর আসল আপনি খুঁজে পাবেন কোথাও মনে হয় না সেটা আর আপনে পাবেন না।
আমি একটু ওর এই কথা শুনে ঝুঁকে পড়লাম ওর দিকে। দেখলাম ও বিকেল বেলায় নরম রোদ এর আলো মেখে খালি পায়ে হাঁকতে হাঁকতে গলির বাঁকে মিলিয়ে গেলো শিরদাঁড়া নেবেগো কেউ শিরদাঁড়া নেবে বলে। আমিও ধীরে ধীরে হেঁটে ভীড় কাটিয়ে নিজের শিরদাঁড়ার জোরে বাড়ী ফিরে এলাম। 

আসলে করিম বোধহয় ঠিক কথাই বলেছে সত্যিই তো আসল শিরদাঁড়া ওই বা পাবে কোথায়। আর যারা সব কথায় কথায় শিরদাঁড়া সোজা রেখে চলা মানুষ আমি কারুর কাছে বিকিয়ে যেতে পারিনি বলে জীবনে কিছুই করতে পারিনি বলে চিৎকার করে আর বলে আমি ওই ঝাঁকের মরশুমের ইলিশ মাছ নই তারা কি সত্যি সত্যিই শিরদাঁড়া সোজা করেই চলে সারাটা জীবন কে জানে। মনে পড়ে গেলো সেই বিখ্যাত লাইন এর কথা, তুমিও মানুষ, আমিও মানুষ তফাৎ শুধু শিরদাঁড়ায়।

 হ্যাঁ, বাংলায় এখন একটাই কথা খুব চলছে সেটা হলো শিরদাঁড়া বিক্রি নেই। দু হাজার বারো সাল থেকেই চলছে বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস পালন। দিন দিন এই শিরদাঁড়ার রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যা দ্রুত হারে বাড়ছে। আর তার জন্য এই বছর এই দিবসের থিম হলো,সাপোর্ট ইয়োর স্পাইন। নিজের মেরুদণ্ডকে ভালো রাখতে সুস্থ রাখতে তাকে সাপোর্ট দিতে হবে।

 এই তো আমার বন্ধু ভজন শিরদাঁড়ার রোগ নিয়ে গত দেড় বছর ধরে বিছানায় শুয়ে আছে। কত কিছু চিকিৎসা করছে কিন্তু কিছুতেই কি হয়েছে কেনো সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না সে সেটাই ধরা যাচ্ছে না আর দেড় বছর ধরে। শুধু দৌড়ে বেড়ানোই সার হয়ে গেছে ওর।  দেখতে দেখতে দেড় বছর সে ঘরবন্দী জীবন কাটিয়ে যাচ্ছে সে। কি যে হলো ওর কে জানে।  শিরদাঁড়া বড়ো বিষম বস্তু একবার বিগড়ে গেলে বড়ই যন্ত্রণা আর কষ্টদায়ক যে। 

আসলে মেরুদণ্ডস্বল্পতা এই শব্দটি একটু অচেনা কিন্তু এটাই এখন আমাদের মনের ভেতর এই শব্দ ঘুরপাক খায় মাঝে মাঝে। আমাদের দেহে নানা ধরনের উপাদান আছে। তার যে কোনো একটি জিনিস কমে গেলে আমরা তাকে বলতে স্বল্পতা যোগ করি।আর তাই মেরুদণ্ড একটু দুর্বল হলে কিন্তু মেরুদণ্ড স্বল্পতা বলতে পারি না আমরা। এটা একটা বৈষম্য মনে হয় আমার।  

এই প্রাণীজগতের দুটি ভাগ একটি মেরুদণ্ডী অন্যটি অমেরুদণ্ডী। পুরো প্রাণীজগতের সিংহভাগ প্রাণীই হচ্ছে অমেরুদণ্ডী প্রাণী। একটু বইপত্র ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে সাতানব্বই শতাংশ প্রাণী অমেরুদণ্ডী প্রাণী। মেরুদণ্ডী প্রাণীর প্রজাতির সংখ্যা মোট ষাট হাজার। আর তার উল্টোদিকে প্রায় অমেরুদণ্ডী প্রাণীর প্রজাতির সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ লাখ থেকে প্রায় তিন কোটি। তার মানে এই যে এত শিরদাঁড়া, শিরদাঁড়া করে হৈ চৈ হুল্লোড় হাটে মাঠে ঘাটে, অফিস আদালত ট্রেন বাস সব জায়গায় সারা বিশ্বে মেরুদণ্ডীদের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। 

কিন্তু আমরা এই মানুষ যারা সবাই দু পেয়ে হোমো সেপিয়ান্স এর অন্তর্ভুক্ত জীব তারা সবাই জন্ম থেকেই এই একটি মেরুদণ্ড আমরা বিনামূল্যে পেয়ে যাই সবাই। কিন্তু সেই বিনে পয়সায় পেয়ে যাওয়া শিরদাঁড়া নিয়ে কি সারা জীবন সোজা রেখে চলা যায়। নাকি জীবনের নানা ঘাত, প্রতিঘাত আর সংঘাতে সেই শিরদাঁড়া অভিযোজিত হতে হতে, বিবর্তিত হয় আর তার দৈর্ঘ্য ধীরে ধীরে ছোটো হতে থেকে কারণে আর অকারণে। কিছুটা নিজেদের স্বার্থে আর বাঁচার সুবিধার্থে। কে জানে এই দিবসে এই প্রশ্ন আমার মনের মাঝে ঘুরপাক খায় বারবার।

 আমরা কি তাই হাসিমুখে কেউ বলতে পারি আমার একটু মেরুদণ্ডস্বল্পতা আছে। তাই তোমার মতই ঋজু মেরুদণ্ড আমার নয়। তুমি কিন্তু সত্যি স্যালুট যোগ্য একজন। না, এটা কোনো ভাবেই শোনা যাবে না। এটা যেনো আকাশকুসুম কল্পনা মাত্র। চারিদিকে তো মেরুদণ্ড হারিয়ে যাওয়া দেখছি আমরা। অফিসে সেই মেরুদণ্ড হারানো জি হুজুর মার্কা লোক দিন দিন বাড়ছে। যাঁরা সবসময় জি ছাড়া আর কোনোদিন না বলতে পারেন না। সে যাকগে এই বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবসের দিনে ভঙ্গুর দ্রুত ছোটো হয়ে আসা শিরদাঁড়া নিয়ে রাতদুপুরে টানাটানি করে কি লাভ বলুন তো।

 কিন্তু স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান বলছে শিরদাঁড়া রোগে আক্রান্ত পিঠে ব্যথ্যা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে সারা বিশ্বে। আর তাই এই দিন পালন করা। চিকিৎসা ব্যবস্থা বলছে এই শিরদাঁড়ার রোগের এখন চিকিৎসার অনেক অগ্রগতি হয়েছে। প্রথমে ছিল এক্সরে। তারপর  উনিশশো আশির দশকে এল সিটি স্ক্যান, এম আর আই এসেছে। সারা বিশ্বে প্রায় এক বিলিয়ন মানুষ এই শিরদাঁড়ার রোগে ভুগে কষ্ট পাচ্ছেন। আর যারা ব্যাথা কমে যাবে ভেবে মুঠো মুঠো পেন কিলার খাচ্ছেন তারাও কিন্তু ভুল করছেন। কারণ ব্যাথা কমাতে পেনকিলার খাওয়া ঠিক নয় একদম। তাহলে সমস্যা আরও বাড়বে। 


চিকিৎসকদের কথা সারাদিন মোবাইল দেখুন সেই নেশা তো ছাড়বে না আমাদের। কিন্তু ঘাড় কাঁধ বেঁকিয়ে মোবাইল এর দিকে তাকানো বা ল্যাপটপে কাজ করা এড়িয়ে চলতে হবে আমাদের। আর খাবার এর মধ্য ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, শরীরের হাড় মজবুত করে এমন খাবার খেতে হবে বেশি করে। এত গেলো নানা ভাবে শিরদাঁড়া সোজা করে রাখার টোটকা।

 কিন্তু ওই যে কলকাতা টিভির হুগলী জেলার রিপোর্টার সৌমেন রায় চৌধুরী যে সত্যিই শিরদাঁড়া সোজা রাখা একজন মানুষ হয়ে কেমন হাসি মুখে নিজের কর্ম ক্ষেত্রের সেই চেনা চ্যানেলের এক বিরাট মাতব্বরকে তার লোগো জমা দিয়ে হাসতে হাসতেই বাড়ী ফিরে এলো। বর্তমানে সে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আপনমনে গাড়ি নিয়ে রাত বিরেতে জলে ভিজে হাসি মুখে। এটাই তো আসল শিরদাঁড়া সোজা রেখে হাসি মুখে চলা আর বেঁচে থাকা। যার জন্য আমার গর্ব হয়। ওই ভাবে কেউ কিছু বলার আগেই টেবিল এর ওপর লোগো জমা দিয়ে হাসতে হাসতে বাড়ী চলে আসা। 

আর ওই যে কবে থেকে আমি শুধু দাদার আমলের লোক বলে এক দিদির কাছে কথা শুনলাম,  দাদার আমলে যা করেছ ওসব ভুলে যাও। আমি সেই বিখ্যাত দিদিকে টোটো চালাবো বলে কিছু না ভেবেই নিজের শিরদাঁড়ার জোর দেখিয়ে আর কলজের জোর দেখিয়ে কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে এলাম বিন্দাস এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে ঘুরে বেড়াবো বলে কেমন হাসি মুখে কাজ ছেড়ে চলে এলাম। এটাই বোধহয় সত্যিই করেই শিরদাঁড়া সোজা রেখে চলা জীবনে। 

কারুর কাছে মাথা নত না করে, কারুর পা না ধরে , একদম বুকের জোরে একা একাই বেঁচে থাকার চেষ্টা করা। হাসি মুখে কষ্টকে বুকের মাঝে চেপে রেখে  সবাইকে টোটো চালক বলে ঘুরে বেড়ানো। তাহলে বোধহয় ওই রাস্তায় শিরদাঁড়া বিক্রি বলে ঘুরে বেড়ানো লোকটা ওই করিম চাচা ঠিক কথাই বলেছিল। বাবু আসল সোজা শিরদাঁড়া আর পাবেন কোথায় সব যে নকল শিরদাঁড়াতে ভরে গেছে বাবু।



 আমারও কেমন এই রাতের অন্ধকারে একা একা শিরদাঁড়া নিয়ে লিখতে লিখতে মনে হলো দ্রুত পৃথিবীতে কমে যাওয়া এই শিরদাঁড়া সোজা রেখে বেঁচে থাকা লোকের সংখ্যা বোধহয় খুব কমে যাচ্ছে দিন দিন। না, হলে কি আর এত হৈ চৈ হুল্লোড় এর মাঝে শিরদাঁড়া নিয়ে এত রিসার্চ করা লোকজন এর মাঝে এই বিশ্ব স্পাইন দিবস পালনের দিনে, সত্যিই বোধহয় আসল  শিরদাঁড়ার জোরে বেঁচে থাকা মানুষের বড়ই অভাব। জয় শিরদাঁড়ার জয়। 

বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস - অভিজিৎ বসু।
ষোলো অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি - সৌজন্য গুগল

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হারিয়ে যাওয়া চিঠি

আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় শুধু চিঠি আর চিঠি। হ্যাঁ, সেই সাদা কালো অক্ষরে লেখা নানা ধরনের চিঠির কথা। খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে একদম হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই বয়সেও তিনি বেশ বুকে সাহস নিয়ে আর সহজ সরল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে খোলা চিঠি প্রেরন করেছেন। সত্যিই এই কাজকে অসাধারণ বলতে কিন্তু লজ্জা নেই কোনও।রাজনীতির ময়দানে এই মানুষটাকে যত দেখি ততো যেনো মুগ্ধ হয়ে যাই।  এমন একটা সময়ে তিলোত্তমা খুনে দোষীদের শাস্তি চেয়ে ও জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর কাছে বামফ্রন্টের এই খোলা চিঠি। জানা নেই এই ফ্রন্ট এখনও কতটা সক্রিয় হয়ে ফ্রন্টফুটে ব্যাট করতে সক্ষম এই কঠিন পিচে। তবুও সেই বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু রাহুল দ্রাবিড় বা সুনীল গাভাস্কার এর মত বাউন্সার বল সামলে পত্রবোমা ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে। তিনি জানেন না এর ফল পাল্টা অভিঘাত কি হবে।  আসলে এই খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন করা আর অনশন করা চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ত...

ভোরের গন্ধ

ভেঙে ফেলা আস্ত একটা বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে চোখের আঙিনায়, কেমন দাঁত মুখ বের করে ছন্নছাড়া হয়ে, অতীতকে সযত্নে জড়িয়ে, আঁকড়ে। বাড়ির গাড়ি বারান্দার নিচে জমে থাকা সাইকেলের চাকায়, সুতো জড়িয়ে থাকার মতো কত মানুষের জীবন জড়িয়ে ছিল, এই পুরোনো বাড়িতে। বাড়ির শ্যাওলা পড়া দেওয়ালে সেই জীবনের সোঁদা গন্ধ, ঘাম এর দাগ এখনো লেগে আছে এদিক ওদিক। খুঁজলে হয়তো মিলবে আরও দু চার আনার স্মৃতির অকেজো সব তামাটে পরশ পাথর। আসলে মাটি উপড়ে,স্মৃতির উত্তাপ কে মুছে দিয়ে নতুন করে বিচিত্র সব রোজগারির, অপচেষ্টা আর কি। যে লাভের, লোভের, চেষ্টার গলায় লাগাম আর পরাবে কে। দুর থেকে জানলা দিয়ে দেখি শুকনো কলাপাতার ওই ম্রিয়মান নিষ্ফলা হাসি। বট ফলের আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা, যজ্ঞি ডুমুর গাছের পাতায় পিছলে পড়া স্মৃতির নরম উত্তাপ। যে উত্তাপে আজও জারিত হই আমি অনায়াসেই প্রতিদিন সকাল হলেই। ভোরের বেলায় পাখির ডাক শুনে ঘুম জড়ানো চোখে ওদের মন কেমন করা কথা শুনতে পাই না আর। বোধহয় ওরাও বুঝে গেছে তাদের গলায় লাগাম পড়েছে এবার আচমকাই। তাই পথ ভুলে তারাও আসেনা আর কিছুতেই  এদিক পানে। পশ্চিমী হাওয়া ঠেল...

ইটিভির বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য

কত দিন ধরেই তো খুঁজে বেড়াচ্ছি আমি বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যকে। সেই কোথায় যে হারিয়ে গেলো কে জানে সেই বিখ্যাত সাংবাদিকটি। সেই কেমন হাসিখুশি জীবন নিয়েও হাজারও বড়ো অ্যাসাইনমেন্টে গিয়েও কত কুল থাকা যায় সেটা আমি বিশ্বজিৎদাকে দেখে শিখলাম আর কী। সেটা সেই জঙ্গলে মাওবাদী নেতাদের সাথে কথা বলতে যাওয়া হোক বা তাঁদের কোনোও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার নেওয়া হোক। কিম্বা আলিমুদ্দিন স্ট্রীট এর অফিসে গিয়ে বিমান বসুর সাথে একান্তে কথা বলা হোক। কিম্বা অনিল বিশ্বাসের মুখোমুখি হয়ে কথা বলা হোক। কিম্বা সেই মূখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বন্যাদুর্গত এলাকা আরামবাগ মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতি দেখতে হাজির হয়েছেন। খুব সম্ভবত বিশ্বজিৎ দা হাজির আকাশ বাংলা চ্যানেল থেকে সেই সময়। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কথা বলছেন গ্রামের মানুষদের সঙ্গে একটু দূরে। রিপোর্টার আর ক্যামেরাম্যানকে আটকে দিয়েছে পুলিশ। যাতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমরা কেউ যেতে না পারি। আমি উত্তেজিত কিন্তু আমার পাশে দাঁড়িয়ে একদম নির্বিকার হাসিমুখ বিশ্বজিৎদার কথা ছাড় তো, আমাদের যেতে না দিলে আমরা কি করবো। প্রচার হবে না ওদেরই। একটু পরেই সেটা বুঝত...

কুড়ি থালা দশ টাকা আর রসিক মুলুর জীবন

নাম মুলু হাঁসদা। বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানার চরিচা গ্রাম পঞ্চায়েত এর চর ইচ্ছা রঘুবরপুরের বাসিন্দা মুলু। আজ মুলুর জীবন কথা। গ্রামের নামটা ভারী অদ্ভুত। চর ইচ্ছা রঘুবরপুর। যে গ্রাম অন্য পাঁচটা গ্রামের মতই।সাদামাটা এই গ্রামে দারিদ্র্য, অপুষ্টি আর কর্মহীন জীবনের জলছবি সুস্পষ্ট। আর সেই গ্রামের মহিলারা নিজেদের সংসার রক্ষা করতে গাছের পাতাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। গাছের পাতা মুলুদের জীবনের জিয়ন কাঠি। যে জিয়ন কাঠিতে তারা ভোর হতেই পেটের টানে চলে যায় জঙ্গলে। খস খস শব্দ করে পায় হেঁটে তারা পাতা তোলে। গাছ থেকে টুপ টাপ করে ঝড়ে পড়া পাতাকে একটা একটা করে নিজের শাড়ির আঁচলে ভরে নেয়। তার পর সব পাতাকে বস্তায় ভরে ঘরে ফেরে।  ঠিক যেভাবে তারা পুকুরে নেমে শামুক গেঁড়ি আর গুগলি তোলে। যে ভাবে তাদের উদর পূর্তি হবে বলে। আর এই পাতাও যে তাদের পেট ভরায়। একটা একটা পাতাকে নিজের সন্তানের মতো আলগোছে ছুঁয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায় মুলু, বলে তোরা না থাকলে কি করতাম কে জানে। মাথার ওপর শাল সেগুনের বিশাল আকারের গাছগুলো চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে আর তারা চুপ করে শোনে মুলুর কথা।  একে অপ...

আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলা

আঁকাবাঁকা পথ ধরে আমার এগিয়ে চলা। এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে এগিয়ে চলা। যে জীবনে আবাহন আর বিসর্জন নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই কোনোদিন। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে সুখ আবার দুঃখও। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে নতুন কিছু পাওয়ার আশায় আনন্দে উদ্বেলিত হওয়া। আবার আমার এই সাদা জীবনের কালো কথা বা কালো জীবনের সাদা কথার ছোপ ছোপ দাগ। সেই বাঘের গায়ে ডোরা কাটা দাগ নিয়ে বেঁচে থাকা আমার। একদম নিজের মতো করেই যেখানে কারুর কাছে কোনোভাবেই তাঁর বশ্যতা মেনে নিয়ে নয় যেটা আমি পারলাম না কোনোভাবেই কোনওদিন।  তবুও জীবন যাপন তো করতেই হয় আমাদের। যে জীবনের বাঁশবনের ছায়ায় বসে দেখতে হয় বাঁশপাতার মাঝে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফিঙের নাচন। সেই ঝিরিঝিরি পাতার ফাঁকে মিষ্টি রোদের নরম আলো ছায়ার খেলা। যে খেলা দেখতে আমার বেশ ভালই লাগে আজকাল। যে খেলায় কত চেনা মুখের অচেনা ছবি যে ধরা পরে যায় হঠাৎ করেই কে জানে। আমি সেই ছবির ভীড়ের মাঝে কেমন বেঁহুশ হয়ে নিজেই হারিয়ে যাই এদিক, ওদিক, সেদিক। চেনা অচেনার পথ ধরে বাঁশবনের ছায়া মেখে হারিয়ে যাওয়া সেই জীবন। যে জীবনে সাদা কালো কত কিছুই না থেকে যায় দাগ র...