সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস

আজ বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস। কোনো কিছুরই আর দিন পালন বা দিবস পালন এর বাকি রইলো না। সারা বিশ্ব জুড়েই ষোলো অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস। যে শিরদাঁড়া নিয়ে এত হৈ চৈ আর হুল্লোড়। কথায় কথায় আমি অনেকের কাছেই শুনি, না না দাদা আমি সব বেচে দেবো রাজা হরিশচন্দ্রের মত। কিন্তু ওই  জিনিসটা আমি কিন্তু বেচতে পারবো না আমি কিছুতেই। বউ, বাচ্চা, বাবা, মা, শ্বশুড় শ্বাশুড়ী সব বিক্রি করতে পিছপা হব না কোনো সময় কিন্তু ওই যার জন্য দাঁড়িয়ে আছি হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটছি না সেটাকে বন্ধক রেখে দিয়ে চলতে পারব না আর বিক্রি করা তো দুরস্ত।

 এই বিশেষ দ্রোহকাল আর আন্দোলনে ভেসে যাওয়া শহরে এই শিরদাঁড়া এখন হট কেক এর মতো বিকোচ্ছে, অলিতে গলিতে দুপুর বেলায় বা সকাল বেলায়। এই তো সেদিন দেখলাম ঝুড়ি করে এক ফেরিওলা হাঁকতে হাঁকতে যাচ্ছে ওই ঠিক বৌবাজার এর ভূপতি চরণ এর দোকানের সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে শিরদাঁড়া নেবে গো শিরদাঁড়া। আমি ওই ভীড় এর পূজো দেখতে নেবু তলা পার্ক থেকে বেরিয়ে দেখলাম বিভিন্ন সাইজের শিরদাঁড়া বিক্রি আছে ওর কাছে। 

আমি ওকে ডাকলাম বললাম তুমি এই শিরদাঁড়া কিনেছো কোথা থেকে ভাই। হালকা হেসে করিম চাচা অবাক চোখে আমার দিকে দেখলো। বললো, সেকি কথা বাবু আপনে জানেন না কোথায় এটি পাওয়া যায়। আমি বললাম না গো সত্যিই বলছি আমি জানিনা কোথায় পাওয়া যায় শিরদাঁড়া। আর দেখিনি এই জিনিস বাজারে কাউকে ফেরি করতে।  করিম হেসে বলল বাবু সেই বহুদূর থেকে আমি আসছি সেই অজ গা থেকে। গ্রামে বাবু তো কোনো কাজ কাম নাই। আর মাঠে চাষবাস এর অবস্থাও খুব ভালো নয় যে। আর এদিকে শহরে শুনলাম নাকি শিরদাঁড়ার ভালো চাহিদা আছে। যে যাকে পারছে শিরদাঁড়া উপহার দিতে ব্যস্ত আছে সবাই। 

কেউ পুলিশকে হাসতে হাসতে শিরদাঁড়া উপহার দিচ্ছে, কেউ অফিসের কোনো কর্মী তার পাশের একসাথে কাজ করা বন্ধু রূপী শত্রুকে বলছে এই নে তোর জন্য নিয়ে এলাম বাজার থেকে কিনে। এটা পড়ে নে তুই বলে শিরদাঁড়া উপহার দিচ্ছে একজন অন্যজনকে হাসতে হাসতেই। রাজনীতি করা লোকদের বাড়িতেও নাকি মাঝে মাঝে শিরদাঁড়ার দরকার পড়ছে আজকাল আর তাই অনেক ভেবে চিন্তে খুঁজে পেতে এই ব্যবসা করবো বলে কিছু নকল শিরদাঁড়া জোগাড় করে শহরে চলে এলাম যা দু একটা বিক্রি হয় এই আর কি। 

আমি তো করিম এর কথা শুনে থ। সেকি তুমি তাহলে, আমার কথা শেষ করতে না দিয়ে করিমের উত্তর বাবু ওই জিনিসটা কি আর আসল আপনি খুঁজে পাবেন কোথাও মনে হয় না সেটা আর আপনে পাবেন না।
আমি একটু ওর এই কথা শুনে ঝুঁকে পড়লাম ওর দিকে। দেখলাম ও বিকেল বেলায় নরম রোদ এর আলো মেখে খালি পায়ে হাঁকতে হাঁকতে গলির বাঁকে মিলিয়ে গেলো শিরদাঁড়া নেবেগো কেউ শিরদাঁড়া নেবে বলে। আমিও ধীরে ধীরে হেঁটে ভীড় কাটিয়ে নিজের শিরদাঁড়ার জোরে বাড়ী ফিরে এলাম। 

আসলে করিম বোধহয় ঠিক কথাই বলেছে সত্যিই তো আসল শিরদাঁড়া ওই বা পাবে কোথায়। আর যারা সব কথায় কথায় শিরদাঁড়া সোজা রেখে চলা মানুষ আমি কারুর কাছে বিকিয়ে যেতে পারিনি বলে জীবনে কিছুই করতে পারিনি বলে চিৎকার করে আর বলে আমি ওই ঝাঁকের মরশুমের ইলিশ মাছ নই তারা কি সত্যি সত্যিই শিরদাঁড়া সোজা করেই চলে সারাটা জীবন কে জানে। মনে পড়ে গেলো সেই বিখ্যাত লাইন এর কথা, তুমিও মানুষ, আমিও মানুষ তফাৎ শুধু শিরদাঁড়ায়।

 হ্যাঁ, বাংলায় এখন একটাই কথা খুব চলছে সেটা হলো শিরদাঁড়া বিক্রি নেই। দু হাজার বারো সাল থেকেই চলছে বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস পালন। দিন দিন এই শিরদাঁড়ার রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যা দ্রুত হারে বাড়ছে। আর তার জন্য এই বছর এই দিবসের থিম হলো,সাপোর্ট ইয়োর স্পাইন। নিজের মেরুদণ্ডকে ভালো রাখতে সুস্থ রাখতে তাকে সাপোর্ট দিতে হবে।

 এই তো আমার বন্ধু ভজন শিরদাঁড়ার রোগ নিয়ে গত দেড় বছর ধরে বিছানায় শুয়ে আছে। কত কিছু চিকিৎসা করছে কিন্তু কিছুতেই কি হয়েছে কেনো সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না সে সেটাই ধরা যাচ্ছে না আর দেড় বছর ধরে। শুধু দৌড়ে বেড়ানোই সার হয়ে গেছে ওর।  দেখতে দেখতে দেড় বছর সে ঘরবন্দী জীবন কাটিয়ে যাচ্ছে সে। কি যে হলো ওর কে জানে।  শিরদাঁড়া বড়ো বিষম বস্তু একবার বিগড়ে গেলে বড়ই যন্ত্রণা আর কষ্টদায়ক যে। 

আসলে মেরুদণ্ডস্বল্পতা এই শব্দটি একটু অচেনা কিন্তু এটাই এখন আমাদের মনের ভেতর এই শব্দ ঘুরপাক খায় মাঝে মাঝে। আমাদের দেহে নানা ধরনের উপাদান আছে। তার যে কোনো একটি জিনিস কমে গেলে আমরা তাকে বলতে স্বল্পতা যোগ করি।আর তাই মেরুদণ্ড একটু দুর্বল হলে কিন্তু মেরুদণ্ড স্বল্পতা বলতে পারি না আমরা। এটা একটা বৈষম্য মনে হয় আমার।  

এই প্রাণীজগতের দুটি ভাগ একটি মেরুদণ্ডী অন্যটি অমেরুদণ্ডী। পুরো প্রাণীজগতের সিংহভাগ প্রাণীই হচ্ছে অমেরুদণ্ডী প্রাণী। একটু বইপত্র ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে সাতানব্বই শতাংশ প্রাণী অমেরুদণ্ডী প্রাণী। মেরুদণ্ডী প্রাণীর প্রজাতির সংখ্যা মোট ষাট হাজার। আর তার উল্টোদিকে প্রায় অমেরুদণ্ডী প্রাণীর প্রজাতির সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ লাখ থেকে প্রায় তিন কোটি। তার মানে এই যে এত শিরদাঁড়া, শিরদাঁড়া করে হৈ চৈ হুল্লোড় হাটে মাঠে ঘাটে, অফিস আদালত ট্রেন বাস সব জায়গায় সারা বিশ্বে মেরুদণ্ডীদের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। 

কিন্তু আমরা এই মানুষ যারা সবাই দু পেয়ে হোমো সেপিয়ান্স এর অন্তর্ভুক্ত জীব তারা সবাই জন্ম থেকেই এই একটি মেরুদণ্ড আমরা বিনামূল্যে পেয়ে যাই সবাই। কিন্তু সেই বিনে পয়সায় পেয়ে যাওয়া শিরদাঁড়া নিয়ে কি সারা জীবন সোজা রেখে চলা যায়। নাকি জীবনের নানা ঘাত, প্রতিঘাত আর সংঘাতে সেই শিরদাঁড়া অভিযোজিত হতে হতে, বিবর্তিত হয় আর তার দৈর্ঘ্য ধীরে ধীরে ছোটো হতে থেকে কারণে আর অকারণে। কিছুটা নিজেদের স্বার্থে আর বাঁচার সুবিধার্থে। কে জানে এই দিবসে এই প্রশ্ন আমার মনের মাঝে ঘুরপাক খায় বারবার।

 আমরা কি তাই হাসিমুখে কেউ বলতে পারি আমার একটু মেরুদণ্ডস্বল্পতা আছে। তাই তোমার মতই ঋজু মেরুদণ্ড আমার নয়। তুমি কিন্তু সত্যি স্যালুট যোগ্য একজন। না, এটা কোনো ভাবেই শোনা যাবে না। এটা যেনো আকাশকুসুম কল্পনা মাত্র। চারিদিকে তো মেরুদণ্ড হারিয়ে যাওয়া দেখছি আমরা। অফিসে সেই মেরুদণ্ড হারানো জি হুজুর মার্কা লোক দিন দিন বাড়ছে। যাঁরা সবসময় জি ছাড়া আর কোনোদিন না বলতে পারেন না। সে যাকগে এই বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবসের দিনে ভঙ্গুর দ্রুত ছোটো হয়ে আসা শিরদাঁড়া নিয়ে রাতদুপুরে টানাটানি করে কি লাভ বলুন তো।

 কিন্তু স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান বলছে শিরদাঁড়া রোগে আক্রান্ত পিঠে ব্যথ্যা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে সারা বিশ্বে। আর তাই এই দিন পালন করা। চিকিৎসা ব্যবস্থা বলছে এই শিরদাঁড়ার রোগের এখন চিকিৎসার অনেক অগ্রগতি হয়েছে। প্রথমে ছিল এক্সরে। তারপর  উনিশশো আশির দশকে এল সিটি স্ক্যান, এম আর আই এসেছে। সারা বিশ্বে প্রায় এক বিলিয়ন মানুষ এই শিরদাঁড়ার রোগে ভুগে কষ্ট পাচ্ছেন। আর যারা ব্যাথা কমে যাবে ভেবে মুঠো মুঠো পেন কিলার খাচ্ছেন তারাও কিন্তু ভুল করছেন। কারণ ব্যাথা কমাতে পেনকিলার খাওয়া ঠিক নয় একদম। তাহলে সমস্যা আরও বাড়বে। 


চিকিৎসকদের কথা সারাদিন মোবাইল দেখুন সেই নেশা তো ছাড়বে না আমাদের। কিন্তু ঘাড় কাঁধ বেঁকিয়ে মোবাইল এর দিকে তাকানো বা ল্যাপটপে কাজ করা এড়িয়ে চলতে হবে আমাদের। আর খাবার এর মধ্য ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, শরীরের হাড় মজবুত করে এমন খাবার খেতে হবে বেশি করে। এত গেলো নানা ভাবে শিরদাঁড়া সোজা করে রাখার টোটকা।

 কিন্তু ওই যে কলকাতা টিভির হুগলী জেলার রিপোর্টার সৌমেন রায় চৌধুরী যে সত্যিই শিরদাঁড়া সোজা রাখা একজন মানুষ হয়ে কেমন হাসি মুখে নিজের কর্ম ক্ষেত্রের সেই চেনা চ্যানেলের এক বিরাট মাতব্বরকে তার লোগো জমা দিয়ে হাসতে হাসতেই বাড়ী ফিরে এলো। বর্তমানে সে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আপনমনে গাড়ি নিয়ে রাত বিরেতে জলে ভিজে হাসি মুখে। এটাই তো আসল শিরদাঁড়া সোজা রেখে হাসি মুখে চলা আর বেঁচে থাকা। যার জন্য আমার গর্ব হয়। ওই ভাবে কেউ কিছু বলার আগেই টেবিল এর ওপর লোগো জমা দিয়ে হাসতে হাসতে বাড়ী চলে আসা। 

আর ওই যে কবে থেকে আমি শুধু দাদার আমলের লোক বলে এক দিদির কাছে কথা শুনলাম,  দাদার আমলে যা করেছ ওসব ভুলে যাও। আমি সেই বিখ্যাত দিদিকে টোটো চালাবো বলে কিছু না ভেবেই নিজের শিরদাঁড়ার জোর দেখিয়ে আর কলজের জোর দেখিয়ে কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে এলাম বিন্দাস এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে ঘুরে বেড়াবো বলে কেমন হাসি মুখে কাজ ছেড়ে চলে এলাম। এটাই বোধহয় সত্যিই করেই শিরদাঁড়া সোজা রেখে চলা জীবনে। 

কারুর কাছে মাথা নত না করে, কারুর পা না ধরে , একদম বুকের জোরে একা একাই বেঁচে থাকার চেষ্টা করা। হাসি মুখে কষ্টকে বুকের মাঝে চেপে রেখে  সবাইকে টোটো চালক বলে ঘুরে বেড়ানো। তাহলে বোধহয় ওই রাস্তায় শিরদাঁড়া বিক্রি বলে ঘুরে বেড়ানো লোকটা ওই করিম চাচা ঠিক কথাই বলেছিল। বাবু আসল সোজা শিরদাঁড়া আর পাবেন কোথায় সব যে নকল শিরদাঁড়াতে ভরে গেছে বাবু।



 আমারও কেমন এই রাতের অন্ধকারে একা একা শিরদাঁড়া নিয়ে লিখতে লিখতে মনে হলো দ্রুত পৃথিবীতে কমে যাওয়া এই শিরদাঁড়া সোজা রেখে বেঁচে থাকা লোকের সংখ্যা বোধহয় খুব কমে যাচ্ছে দিন দিন। না, হলে কি আর এত হৈ চৈ হুল্লোড় এর মাঝে শিরদাঁড়া নিয়ে এত রিসার্চ করা লোকজন এর মাঝে এই বিশ্ব স্পাইন দিবস পালনের দিনে, সত্যিই বোধহয় আসল  শিরদাঁড়ার জোরে বেঁচে থাকা মানুষের বড়ই অভাব। জয় শিরদাঁড়ার জয়। 

বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস - অভিজিৎ বসু।
ষোলো অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি - সৌজন্য গুগল

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...