সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস

আজ বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস। কোনো কিছুরই আর দিন পালন বা দিবস পালন এর বাকি রইলো না। সারা বিশ্ব জুড়েই ষোলো অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস। যে শিরদাঁড়া নিয়ে এত হৈ চৈ আর হুল্লোড়। কথায় কথায় আমি অনেকের কাছেই শুনি, না না দাদা আমি সব বেচে দেবো রাজা হরিশচন্দ্রের মত। কিন্তু ওই  জিনিসটা আমি কিন্তু বেচতে পারবো না আমি কিছুতেই। বউ, বাচ্চা, বাবা, মা, শ্বশুড় শ্বাশুড়ী সব বিক্রি করতে পিছপা হব না কোনো সময় কিন্তু ওই যার জন্য দাঁড়িয়ে আছি হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটছি না সেটাকে বন্ধক রেখে দিয়ে চলতে পারব না আর বিক্রি করা তো দুরস্ত।

 এই বিশেষ দ্রোহকাল আর আন্দোলনে ভেসে যাওয়া শহরে এই শিরদাঁড়া এখন হট কেক এর মতো বিকোচ্ছে, অলিতে গলিতে দুপুর বেলায় বা সকাল বেলায়। এই তো সেদিন দেখলাম ঝুড়ি করে এক ফেরিওলা হাঁকতে হাঁকতে যাচ্ছে ওই ঠিক বৌবাজার এর ভূপতি চরণ এর দোকানের সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে শিরদাঁড়া নেবে গো শিরদাঁড়া। আমি ওই ভীড় এর পূজো দেখতে নেবু তলা পার্ক থেকে বেরিয়ে দেখলাম বিভিন্ন সাইজের শিরদাঁড়া বিক্রি আছে ওর কাছে। 

আমি ওকে ডাকলাম বললাম তুমি এই শিরদাঁড়া কিনেছো কোথা থেকে ভাই। হালকা হেসে করিম চাচা অবাক চোখে আমার দিকে দেখলো। বললো, সেকি কথা বাবু আপনে জানেন না কোথায় এটি পাওয়া যায়। আমি বললাম না গো সত্যিই বলছি আমি জানিনা কোথায় পাওয়া যায় শিরদাঁড়া। আর দেখিনি এই জিনিস বাজারে কাউকে ফেরি করতে।  করিম হেসে বলল বাবু সেই বহুদূর থেকে আমি আসছি সেই অজ গা থেকে। গ্রামে বাবু তো কোনো কাজ কাম নাই। আর মাঠে চাষবাস এর অবস্থাও খুব ভালো নয় যে। আর এদিকে শহরে শুনলাম নাকি শিরদাঁড়ার ভালো চাহিদা আছে। যে যাকে পারছে শিরদাঁড়া উপহার দিতে ব্যস্ত আছে সবাই। 

কেউ পুলিশকে হাসতে হাসতে শিরদাঁড়া উপহার দিচ্ছে, কেউ অফিসের কোনো কর্মী তার পাশের একসাথে কাজ করা বন্ধু রূপী শত্রুকে বলছে এই নে তোর জন্য নিয়ে এলাম বাজার থেকে কিনে। এটা পড়ে নে তুই বলে শিরদাঁড়া উপহার দিচ্ছে একজন অন্যজনকে হাসতে হাসতেই। রাজনীতি করা লোকদের বাড়িতেও নাকি মাঝে মাঝে শিরদাঁড়ার দরকার পড়ছে আজকাল আর তাই অনেক ভেবে চিন্তে খুঁজে পেতে এই ব্যবসা করবো বলে কিছু নকল শিরদাঁড়া জোগাড় করে শহরে চলে এলাম যা দু একটা বিক্রি হয় এই আর কি। 

আমি তো করিম এর কথা শুনে থ। সেকি তুমি তাহলে, আমার কথা শেষ করতে না দিয়ে করিমের উত্তর বাবু ওই জিনিসটা কি আর আসল আপনি খুঁজে পাবেন কোথাও মনে হয় না সেটা আর আপনে পাবেন না।
আমি একটু ওর এই কথা শুনে ঝুঁকে পড়লাম ওর দিকে। দেখলাম ও বিকেল বেলায় নরম রোদ এর আলো মেখে খালি পায়ে হাঁকতে হাঁকতে গলির বাঁকে মিলিয়ে গেলো শিরদাঁড়া নেবেগো কেউ শিরদাঁড়া নেবে বলে। আমিও ধীরে ধীরে হেঁটে ভীড় কাটিয়ে নিজের শিরদাঁড়ার জোরে বাড়ী ফিরে এলাম। 

আসলে করিম বোধহয় ঠিক কথাই বলেছে সত্যিই তো আসল শিরদাঁড়া ওই বা পাবে কোথায়। আর যারা সব কথায় কথায় শিরদাঁড়া সোজা রেখে চলা মানুষ আমি কারুর কাছে বিকিয়ে যেতে পারিনি বলে জীবনে কিছুই করতে পারিনি বলে চিৎকার করে আর বলে আমি ওই ঝাঁকের মরশুমের ইলিশ মাছ নই তারা কি সত্যি সত্যিই শিরদাঁড়া সোজা করেই চলে সারাটা জীবন কে জানে। মনে পড়ে গেলো সেই বিখ্যাত লাইন এর কথা, তুমিও মানুষ, আমিও মানুষ তফাৎ শুধু শিরদাঁড়ায়।

 হ্যাঁ, বাংলায় এখন একটাই কথা খুব চলছে সেটা হলো শিরদাঁড়া বিক্রি নেই। দু হাজার বারো সাল থেকেই চলছে বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস পালন। দিন দিন এই শিরদাঁড়ার রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যা দ্রুত হারে বাড়ছে। আর তার জন্য এই বছর এই দিবসের থিম হলো,সাপোর্ট ইয়োর স্পাইন। নিজের মেরুদণ্ডকে ভালো রাখতে সুস্থ রাখতে তাকে সাপোর্ট দিতে হবে।

 এই তো আমার বন্ধু ভজন শিরদাঁড়ার রোগ নিয়ে গত দেড় বছর ধরে বিছানায় শুয়ে আছে। কত কিছু চিকিৎসা করছে কিন্তু কিছুতেই কি হয়েছে কেনো সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না সে সেটাই ধরা যাচ্ছে না আর দেড় বছর ধরে। শুধু দৌড়ে বেড়ানোই সার হয়ে গেছে ওর।  দেখতে দেখতে দেড় বছর সে ঘরবন্দী জীবন কাটিয়ে যাচ্ছে সে। কি যে হলো ওর কে জানে।  শিরদাঁড়া বড়ো বিষম বস্তু একবার বিগড়ে গেলে বড়ই যন্ত্রণা আর কষ্টদায়ক যে। 

আসলে মেরুদণ্ডস্বল্পতা এই শব্দটি একটু অচেনা কিন্তু এটাই এখন আমাদের মনের ভেতর এই শব্দ ঘুরপাক খায় মাঝে মাঝে। আমাদের দেহে নানা ধরনের উপাদান আছে। তার যে কোনো একটি জিনিস কমে গেলে আমরা তাকে বলতে স্বল্পতা যোগ করি।আর তাই মেরুদণ্ড একটু দুর্বল হলে কিন্তু মেরুদণ্ড স্বল্পতা বলতে পারি না আমরা। এটা একটা বৈষম্য মনে হয় আমার।  

এই প্রাণীজগতের দুটি ভাগ একটি মেরুদণ্ডী অন্যটি অমেরুদণ্ডী। পুরো প্রাণীজগতের সিংহভাগ প্রাণীই হচ্ছে অমেরুদণ্ডী প্রাণী। একটু বইপত্র ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে সাতানব্বই শতাংশ প্রাণী অমেরুদণ্ডী প্রাণী। মেরুদণ্ডী প্রাণীর প্রজাতির সংখ্যা মোট ষাট হাজার। আর তার উল্টোদিকে প্রায় অমেরুদণ্ডী প্রাণীর প্রজাতির সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ লাখ থেকে প্রায় তিন কোটি। তার মানে এই যে এত শিরদাঁড়া, শিরদাঁড়া করে হৈ চৈ হুল্লোড় হাটে মাঠে ঘাটে, অফিস আদালত ট্রেন বাস সব জায়গায় সারা বিশ্বে মেরুদণ্ডীদের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। 

কিন্তু আমরা এই মানুষ যারা সবাই দু পেয়ে হোমো সেপিয়ান্স এর অন্তর্ভুক্ত জীব তারা সবাই জন্ম থেকেই এই একটি মেরুদণ্ড আমরা বিনামূল্যে পেয়ে যাই সবাই। কিন্তু সেই বিনে পয়সায় পেয়ে যাওয়া শিরদাঁড়া নিয়ে কি সারা জীবন সোজা রেখে চলা যায়। নাকি জীবনের নানা ঘাত, প্রতিঘাত আর সংঘাতে সেই শিরদাঁড়া অভিযোজিত হতে হতে, বিবর্তিত হয় আর তার দৈর্ঘ্য ধীরে ধীরে ছোটো হতে থেকে কারণে আর অকারণে। কিছুটা নিজেদের স্বার্থে আর বাঁচার সুবিধার্থে। কে জানে এই দিবসে এই প্রশ্ন আমার মনের মাঝে ঘুরপাক খায় বারবার।

 আমরা কি তাই হাসিমুখে কেউ বলতে পারি আমার একটু মেরুদণ্ডস্বল্পতা আছে। তাই তোমার মতই ঋজু মেরুদণ্ড আমার নয়। তুমি কিন্তু সত্যি স্যালুট যোগ্য একজন। না, এটা কোনো ভাবেই শোনা যাবে না। এটা যেনো আকাশকুসুম কল্পনা মাত্র। চারিদিকে তো মেরুদণ্ড হারিয়ে যাওয়া দেখছি আমরা। অফিসে সেই মেরুদণ্ড হারানো জি হুজুর মার্কা লোক দিন দিন বাড়ছে। যাঁরা সবসময় জি ছাড়া আর কোনোদিন না বলতে পারেন না। সে যাকগে এই বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবসের দিনে ভঙ্গুর দ্রুত ছোটো হয়ে আসা শিরদাঁড়া নিয়ে রাতদুপুরে টানাটানি করে কি লাভ বলুন তো।

 কিন্তু স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান বলছে শিরদাঁড়া রোগে আক্রান্ত পিঠে ব্যথ্যা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে সারা বিশ্বে। আর তাই এই দিন পালন করা। চিকিৎসা ব্যবস্থা বলছে এই শিরদাঁড়ার রোগের এখন চিকিৎসার অনেক অগ্রগতি হয়েছে। প্রথমে ছিল এক্সরে। তারপর  উনিশশো আশির দশকে এল সিটি স্ক্যান, এম আর আই এসেছে। সারা বিশ্বে প্রায় এক বিলিয়ন মানুষ এই শিরদাঁড়ার রোগে ভুগে কষ্ট পাচ্ছেন। আর যারা ব্যাথা কমে যাবে ভেবে মুঠো মুঠো পেন কিলার খাচ্ছেন তারাও কিন্তু ভুল করছেন। কারণ ব্যাথা কমাতে পেনকিলার খাওয়া ঠিক নয় একদম। তাহলে সমস্যা আরও বাড়বে। 


চিকিৎসকদের কথা সারাদিন মোবাইল দেখুন সেই নেশা তো ছাড়বে না আমাদের। কিন্তু ঘাড় কাঁধ বেঁকিয়ে মোবাইল এর দিকে তাকানো বা ল্যাপটপে কাজ করা এড়িয়ে চলতে হবে আমাদের। আর খাবার এর মধ্য ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, শরীরের হাড় মজবুত করে এমন খাবার খেতে হবে বেশি করে। এত গেলো নানা ভাবে শিরদাঁড়া সোজা করে রাখার টোটকা।

 কিন্তু ওই যে কলকাতা টিভির হুগলী জেলার রিপোর্টার সৌমেন রায় চৌধুরী যে সত্যিই শিরদাঁড়া সোজা রাখা একজন মানুষ হয়ে কেমন হাসি মুখে নিজের কর্ম ক্ষেত্রের সেই চেনা চ্যানেলের এক বিরাট মাতব্বরকে তার লোগো জমা দিয়ে হাসতে হাসতেই বাড়ী ফিরে এলো। বর্তমানে সে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আপনমনে গাড়ি নিয়ে রাত বিরেতে জলে ভিজে হাসি মুখে। এটাই তো আসল শিরদাঁড়া সোজা রেখে হাসি মুখে চলা আর বেঁচে থাকা। যার জন্য আমার গর্ব হয়। ওই ভাবে কেউ কিছু বলার আগেই টেবিল এর ওপর লোগো জমা দিয়ে হাসতে হাসতে বাড়ী চলে আসা। 

আর ওই যে কবে থেকে আমি শুধু দাদার আমলের লোক বলে এক দিদির কাছে কথা শুনলাম,  দাদার আমলে যা করেছ ওসব ভুলে যাও। আমি সেই বিখ্যাত দিদিকে টোটো চালাবো বলে কিছু না ভেবেই নিজের শিরদাঁড়ার জোর দেখিয়ে আর কলজের জোর দেখিয়ে কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে এলাম বিন্দাস এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে ঘুরে বেড়াবো বলে কেমন হাসি মুখে কাজ ছেড়ে চলে এলাম। এটাই বোধহয় সত্যিই করেই শিরদাঁড়া সোজা রেখে চলা জীবনে। 

কারুর কাছে মাথা নত না করে, কারুর পা না ধরে , একদম বুকের জোরে একা একাই বেঁচে থাকার চেষ্টা করা। হাসি মুখে কষ্টকে বুকের মাঝে চেপে রেখে  সবাইকে টোটো চালক বলে ঘুরে বেড়ানো। তাহলে বোধহয় ওই রাস্তায় শিরদাঁড়া বিক্রি বলে ঘুরে বেড়ানো লোকটা ওই করিম চাচা ঠিক কথাই বলেছিল। বাবু আসল সোজা শিরদাঁড়া আর পাবেন কোথায় সব যে নকল শিরদাঁড়াতে ভরে গেছে বাবু।



 আমারও কেমন এই রাতের অন্ধকারে একা একা শিরদাঁড়া নিয়ে লিখতে লিখতে মনে হলো দ্রুত পৃথিবীতে কমে যাওয়া এই শিরদাঁড়া সোজা রেখে বেঁচে থাকা লোকের সংখ্যা বোধহয় খুব কমে যাচ্ছে দিন দিন। না, হলে কি আর এত হৈ চৈ হুল্লোড় এর মাঝে শিরদাঁড়া নিয়ে এত রিসার্চ করা লোকজন এর মাঝে এই বিশ্ব স্পাইন দিবস পালনের দিনে, সত্যিই বোধহয় আসল  শিরদাঁড়ার জোরে বেঁচে থাকা মানুষের বড়ই অভাব। জয় শিরদাঁড়ার জয়। 

বিশ্ব শিরদাঁড়া দিবস - অভিজিৎ বসু।
ষোলো অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি - সৌজন্য গুগল

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ্যাপি বার্থডে রনজিৎ দা

আমার মোবাইলে নম্বরটা আজও সেভ করা আছে রনজিৎ মদন দা নামেই। কবে, কোথায় ওর সাথে দেখা হয়েছিল আজ আর সেটা স্মরণে নেই আমার। হয়তো সেই ২৪ চৌরঙ্গী রোডের অফিসে বা ভবানীপুরের সেই বিখ্যাত অফিসে দেখা হয়েছিল একদিন। ডাকাবুকো কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র তখন প্রিয়রঞ্জন‌ দাসমুন্সীর লোক। একদম ফর্সা গায়ের রং। চোখে রোদ চশমা, সাদা প্যান্ট সাদা জুতো পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক আর ওদিক। আর সেই কিছু দরকার পড়লেই রনজিৎ রনজিৎ বলে ডাক দিচ্ছেন তিনি দরকারে আর অদরকারে।  রনজিৎ হলো মদনদার সেই পুরোনো দিনের একমাত্র সঙ্গী আর ছিল সেই স্বপন মাইতি বর্তমানে তিনি আর বেঁচে নেই। এস এস কে এম এ গেলেই স্বপনদা কে দেখতাম আমরা। কিন্তু সেই জাদুঘর এর ফুটপাথ ধরে বিকেলের কাগজ বের হলে পট পরিবর্তন আর অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়ে চলে যেতাম আমরা দুজন। বর্তমানে একজন তৃণমূলের মুখপাত্র অনেক বড় মাপের সাংবাদিক ও রাজনীতির লোক। দলের অন্দরে অনেক দূর অবধি তাঁর হাত বিস্তৃত। অন্যদিকে আর একজন ৩৫ বছর এই বাংলা মিডিয়াতে কাজ করে এখন বাতিলের দলে টোটো চালক হয়ে গেছে আর কি।  যাক সেই রনজিৎ এর আজ জন্মদিন। মনে পড়ে গেলো আমার...

ইটিভি ও অম্বরীষ‌ দা।

সাদা জীবনের কালো কথায় এমন একজনের কথা লিখবো আজ যার কথা অনেক আগেই লেখা উচিত ছিল আমার। ইটিভির কর্ণধার রামোজি রাও এর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির কথা লেখার সময় যার কথা আমার এক লাইন হলেও লেখা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যা আমায় মনে করিয়ে দিলেন একজন প্রাক্তন ইটিভির সহকর্মী। তার কথা শুনে মনে হলো ঠিক তো চেয়ারম্যান স্যার কে হারিয়ে আমরা সবাই ইটিভির কর্মীরা মিলিত হলাম এক নিমেষে এক ছাতার তলায়। কিন্তু যার জন্য আমরা সবাই তাঁর কাছে এই ইটিভির কোম্পানি তে কাজ এর সুযোগ পাই তাঁর কথা উল্লেখ করা দরকার ছিল বোধ হয়। কিন্তু আমি লিখি নি বা হয়তো ভুলে গেছিলাম সেই মানুষটার কথা বলতে। সেই ব্যক্তির কথাই আজ বলবো কিছুটা। না হলে সেটা ঠিক কাজ হবে না কিছুতেই।  যে মানুষটার জন্য আমরা প্রায় সবাই এই ভাবে সব একসাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কেউ পশ্চিমবাংলায় কাজ করেছি আবার কেউ কেউ হায়দরাবাদ এর সেই পাঁচিল ঘেরা রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যে কাজ করেছি। কিন্তু বাংলা মিডিয়ার সেই ছোট্টো চারা গাছের যে বীজ রামোজি রাও বপন করেছিলেন সেই সময় আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। এই মানুষটার হাত ধরেই লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল স...

দিদির নিদান

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ চুরি না করার নিদান। সেই ছোটো বেলায় পড়েছিলাম বইতে মাসীর সাবধান বাণী। চুরি করে কি অবস্থা হলো। শেষে মাসীর কান কামড়ে দিল বালক। মাসীর সাবধান বাণী না শুনে। আজ এই এক ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আমার সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো হঠাৎ করেই। আচ্ছা সত্যিই কি এই কড়া নিদান দিয়ে চুরি রোখা যায়। কথায় বলে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। মুখ্যমন্ত্রীর একদম সোজা সাপটা এই বর্জ নির্ঘোষ কথা শুনে আমার এমন মনে হলো আজ। যে কথার উত্তর দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই কারুর।  সে দলের যে নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, বা পুরসভার চেয়ারম্যান হোক। চুপ করে বসে হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ উত্তর দিলেই বিপদ বাড়বে বই কমবে না। একদম সোজা সাপটা তীরবিদ্ধ আক্রমন এর সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা। করে খাবার জায়গা নয় তৃণমূল দল। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নিজের পেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতি আর নয়, অনেক হয়েছে।  সত্যিই তো রাজনীতির আঙিনায় এই সব কিছুকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। কত কষ্ট করে মাটি তৈরি করে, জল দিয়ে এই ছোটো দুটি জোড়...

বিশ্ব সাইকেল দিবস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস এর কথা। এই দু চাকার যানকে নিয়ে যে কত অম্ল মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে সবার জীবনেই তা বলে শেষ করা যাবে না বোধ হয়। আর আজ সেই সাইকেল উদযাপনের একটি আন্তর্জাতিক দিন। এই বিশ্ব সাইকেল দিবস প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় এই দিনটি।  ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে সাইকেলের দীর্ঘ জীবনকাল এবং বহু কাজে ব্যবহৃত হওয়ার প্রশংসা করা হয়। সঙ্গে প্রায় দুই শতক কাল এর সাধারণ,কম খরচ, বিশ্বাসযোগ্যতা, এবং পরিবেশের জন্য উপযুক্ত যানবাহনের মাধ্যম হিসাবে সাইকেলের উল্লেখ করা হয়েছিল। সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মূলতঃ এই দিবস উদ্‌যাপন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়েই। বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ তাই সবার কাছেই জানা একটা বিষয়। কিন্তু যে সাইকেল নিয়ে এত কথা সেই লাল টুকটুকে সাইকেল পেয়েছিলাম আমি স্কুল জীবনে ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠে। সময়টা যত দুর মনে পরে শীতকাল ডিসেম্বর মাস। মেজমামা আমায়...

আমাদের চেনা বিখ্যাত ঝিলম

বাংলা মিডিয়ার নানাজনের সাথে দীর্ঘ সময়ে আমার কাজে অকাজে নানা সাংবাদিকের সাথে আলাপ থাকলেও। এই সাংবাদিকের সাথে ঠিক যেনো রোদ আর বৃষ্টির টক ঝাল মিষ্টি সম্পর্ক। এই হাসিঠাট্টা মশকরা করা দুজনের, আবার এই সিরিয়াস হয়ে গিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে যাওয়া একে অপরের সাথে। এই নানা বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য তাঁর সাথে আলোচনা হওয়া দুই সহজ পুরোনো বন্ধুর মতো। আবার যেনো খুব ক্ষুদ্র কোনো কারনেই মতান্তর আর মনান্তর হয়ে যাওয়া কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই ব্লগ লেখার কথা আমায় বহুদিন আগেই ও বলেছিল একদিন। আজ সেই ব্লগ লেখার পাগলামো কিছুটা তো তাঁর অনুপ্রেরণায় এটা অস্বীকার করা যায় না আজও কিন্তু । যেটা নিয়ে তাঁর সাথে আমার কথাও হয়েছে বহুবার।  বাংলা মিডিয়ার এই শিক্ষিত পড়াশোনা করে সাংবাদিক হতে আসা, এই রিপোর্টার ইন্টারভিউ বোর্ডে পরীক্ষকের জ্ঞান অনুসন্ধানে ব্যাপৃত হতেও পিছপা হয় না কিছুতেই। কোনও পরোয়া না করে আর ভয় না পেয়ে। সে হায়দরাবাদ এর বিখ্যাত বিরিয়ানী এলাকার বস হোক, কিম্বা কাগজের দাপুটে দাড়িওলা বস হোক। বা যে কেউ বস হোক। আসলে এটাই ওর চিরকালের নেচার। যার থেকে আজও বোধহয় বের ...