সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রামমোহনের মামার বাড়ির পুজো

হুগলী জেলার শ্রীরামপুরের প্রায় পাঁচশ বছরের পুরোনো পুজো চাতরার দেশগুরু ভট্টাচার্য্য বাড়ির দুর্গাপুজো জেলার অন্যতম আকর্ষণ। দুরদুরান্ত থেকে অনেকেই এই বাড়ির পুজো দেখতে বহু লোক আসেন। এই বাড়ির পুজোকে কেন্দ্র করে রয়েছে নানা ইতিহাস। ইংরেজ শাসনকালের আগে থাকতেই এই বাড়ির যে বাড়িতে পুজো হতো তার স্থান পরিবর্তন করে বর্তমান বাড়িতে এই পুজো হয় প্রায় তিনশ বছর ধরে। সব প্রাচীন রীতিনীতি মেনে হয় মা দুর্গার আরাধনা।

উত্তর চব্বিশ পরগনার আমডাঙার আদাহাটায় জমিদারি ছিল শ্রীরামপুর চাতরার ভট্টাচার্যদের। গ্রামের সিংহভাগ প্রজা ছিল মুসলমান।তারাই পুজোর একটা বড় খরচ বহন করতেন। ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনেই প্রায় পাঁচশো বছরের বেশি সময় ধরে এখনো এই পূজো হয়ে আসছে। আলী,আফজল ও রাকিনেরা এখনো পুজোর ফল,মূল নিয়ে হাজির হন পঞ্চমীর দিন এই গুরুবাড়িতে। তারা সবাই হাজির হন ভারত পথিক রামমোহন রায়ের শ্রীরামপুরের মামারবাড়িতে। 

বর্তমানে যখন দেশে ও বিদেশে জাতি ও বিদ্বেষের আগুন জ্বলছে চারিদিকে। তখন এই ভট্টাচার্য বাড়ির এক চালার এই দুর্গা প্রতিমা ঠিক যেন বর্ণ, ধর্ম ও নানা সম্প্রদায়ের মধ্যে একাত্ব ও ভালোবাসার মূর্ত প্রতীক হয়ে জ্বল জ্বল করছে এই গুরু বাড়ির দুর্গা প্রতিমা। প্রতি বছর প্রতিমার বিসর্জন হলেও মূল কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয়না। কেবল সংস্কার হয় মাত্র।


শ্রীরামপুর রেল লাইন লাগোয়া এই চাতরা দেশগুরু ভট্টাচার্যের বাড়ি। রামমোহন রায়ের বাবা রামকান্ত রায়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল পরিবারের কন্যা তারিণী দেবীর। ছেলেবেলায় মায়ের সঙ্গে শ্রীরামপুরের এই মাতুলালয়ে বেশ কয়েকবার এসেছেন রামমোহন রায়। সেই স্মৃতি এখনো রয়েছে ভট্টাচার্য বাড়ির আনাচে কানাচেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। বাড়ির ঠাকুর দালানে রাখা বংশ তালিকা দেখলে সেই কথার উল্লেখ দেখা যায়। বাড়ির বংশধর শুভপ্রসাদ ভট্টাচার্য বলেন,আমার বাবা প্রয়াত পিনাকী প্রসাদ ভট্টাচার্য বাড়ির পরম্পরা মেনেই দুর্গা দালানে মায়ের পুজো করতেন নিষ্ঠার সঙ্গে। বাবার অকাল প্রয়ানের পর আমরা সেই ধারা আজও বজায় রেখেছি। রথ যাত্রার দিন কাঠামো পুজো দিয়ে বাড়ির পুজো শুরু হয়।আমডাঙা থেকে মুসলিম প্রজারা পুজোর সামগ্রী নিয়ে হাজির হতেই পুজোর ষোলোকলা পূর্ণ হয়। 

অতীত কালে এই দেশগুরু ভট্টাচার্য্যদের বাড়ি হিন্দুদের টোল হিসেবে পরিচিত ছিল। এই বাড়িতেই দীক্ষা দেওয়া হতো।সেই জন্যে এই বাড়ির নাম হয় গুরু বাড়ী। তবে এখন আর দিন বদলে গেছে সেই টোল আর নেই। বন্ধ হয়ে গেছে টোল প্রথা। কিন্তু গুরু বাড়ির সদস্যরা আজও চালিয়ে আসছেন এই গুরু বাড়ির পূজো। হয়তো সময়ের সাথে অনেকটাই কমেছে পূজোর জৌলুস। কিন্তু এই গুরু বাড়ির পূজোর যে পরম্পরা সেটা আজও একভাবে রয়ে গেছে। এখনো পর্যন্ত দশমীর দিন এই শহরে সবার আগে গুরু বাড়ির পূজোর প্রতিমা গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়ার পর তারপর অন্যান্য ঠাকুর গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়া হয়। এই রীতি অনুযায়ী আজও এই ভাবেই বিসর্জন দেওয়া হয় গুরু বাড়ির ঠাকুর। 

আগে একসময় এই পূজো শুরু হয়ে যেতো মহালয় থেকেই কিন্তু বর্তমানে পূজো হয় ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত।  আজ হয়তো সেই গুরু বাড়ির টোল বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনেক ভক্তরা এই পূজোর সময়  ছুটে আসেন গুরু বাড়ির পূজো দেখতে। একসময় রেললাইনের ওপর প্রান্তে পূজো হলেও পরে এই পূজো বর্তমানে এই বাড়িতে চলে আসে। মাটির আসনে এই পূজো হয়। এই পুরোনো স্মৃতি আর নানা ইতিহাসকে সাক্ষী করে আজও শ্রীরামপুরের এই শতাব্দী প্রাচীন গুরুবাড়ির পূজো হয়ে আসছে। যে পূজোর ইতিহাসে জড়িয়ে আছে ভারত পথিক রামমোহন রায়ের নাম।

 তবে এই শ্রীরামপুর এর শহরের বাসিন্দাদের আক্ষেপ একটাই যে এই শহরে যদি একটা রামমোহন রায় এর মুর্তি বসত সেটা বেশ ভালো লাগতো তাদের। শহরের প্রবীণ এক নাগরিক প্রসন্ন কোলে জানান, যে শহরে রাজা রামমোহন রায়ের মামারবাড়ী। যে শহরে ছোটবেলায় তিনি এসেছিলেন।সেই শহরে একটা তাঁর মুর্তি স্থাপন করা গেলে খুব ভালো হতো। এই বিষয়ে তিনি শ্রীরামপুর পৌরসভার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বলে জানান। তাঁর মতে এমন একটা উদ্যোগ গ্রহণ করলে বেশ ভালো লাগতো শহরের বাসিন্দা হিসেবে। যাই হোক নানা পূজোর ভীড়ে আজও শহরের এক প্রান্তে নিরিবিলিতে দাঁড়িয়ে আছে গুরুবাড়ি পুরোনো দিনের ইতিহাসকে বুকে আগলে। আর সেই বাড়ির পুজো হয়ে আসছে বংশ পরম্পরায়।

এত গেলো গুরু বাড়ির পূজোর ইতিহাস গল্প আর নানা কাহিনী। কিন্তু আমার ছোটবেলা তো কেটেছে এই গুরুবাড়ির আশপাশেই বাস করে। গুরু বাড়ীর ঢিল ছোঁড়া দুরত্বে আমার সেই পাঁচ নম্বর এঁদো পুকুরের সেই মামার বাড়ি। যে বাড়িতেই কেটেছে আমার শৈশব। সেই ছোটবেলার নানা ঘটনার স্মৃতি অনেকটাই ফিকে আজ। তবু সেই পাঁচিল ঘেরা ঝোপ জঙ্গলে ভরা পালদের বাগান, সেই রেল লাইনের পাশে বসে বসে একে ট্রেন গোনা, সেই রাস্তার পাশে ভজাদের বাড়ির গায়ে দিনুদার মিষ্টির দোকান থেকে গরম রসগোল্লা আর গরম বোদে এনে  রুটি খাওয়া, সেই বিরাট এঁদো পুকুরের কালো জল কচুরিপানা ভর্তি, সেই জলে ইট ছুঁড়ে পানকৌড়ি তাড়ানো আর এসবের মাঝেই যে ওই রেল লাইনের ধারে সেই রং চটা ইঁটের ওই বাড়ির দেওয়ালে যে এত ইতিহাস জড়িয়ে আছে সেটা বোঝার বয়স হয়নি তখন আমার একদম।
 
শুধু এটা জানতাম এই সাদা ঠাকুর দালান আর বাড়িটা অন্য সব বাড়ির থেকে একটু আলাদা ধরনের। তাই আজও মনে পড়ে আমার এই সাদা বাড়ির সামনে উঠোনে মাকে লুকিয়ে লুকিয়ে গুরু পূর্ণিমার দিন সিন্নি প্রসাদ পেতে লাইন দিতাম অন্য সব বাচ্চাদের সঙ্গে। হাফ প্যান্ট আর খালি গায়ে। শাল পাতায় প্রসাদ সিন্নি আর একটা করে লাল বাতাসা পাওয়ার আশায় যেতাম সবার সঙ্গে আমিও। হাতে প্রসাদ নিয়ে এক দৌড়ে মামাবাড়ির কাছে সেই রাস্তার ধারে চলে আসা। লুকিয়ে লুকিয়ে প্রসাদ খেয়ে কলে পেট ভরে জল খেয়ে খেলার মাঠে চলে যাওয়া বল খেলতে সেই  রাজবাড়ীর মাঠ বা অন্য কোনো মাঠে। সেই অচেনা গুরুবাড়ীতে প্রবেশ আমার সেই ছোট বেলায়। আর পূজোর সময় মার হাত ধরে সেই গুরুবাড়ীর চৌকাঠ পেরিয়ে ঠাকুর দেখতে গিয়ে অনেকক্ষণ সবার মার ভক্তিভরে প্রনাম করা দেখে কেমন যেনো অধৈর্য্য হয়ে পড়তাম আমি। বুঝতাম না আমি এত বেশি ভক্তি আর শ্রদ্ধা কেনো এই বাড়ির পূজোর জন্য রাখা আছে কে জানে। সবাই বলতেন গম্ভীর মুখে এটা গুরুবাড়ির পূজো।

 ধীরে ছোটো বেলা কেটে গেলো আমার। বড়ো হলাম গুরু বাড়ির পূজোর স্মৃতি রয়ে গেলো একভাবেই আমার কাছে। আজ আর সেই মামার বাড়ি পাঁচ নম্বর এঁদোপুকুরের বাড়ী থেকেও আর সেই বাড়িতে যাবার অধিকার নেই কোনো ভাবেই। তবে গুরুবাড়ী মানেই তো আমাদের সেই গুণ্ডাদা। সেই পিনাকী ভট্টাচার্য । যাকে একসময় বেশ ভয় পেতাম সমীহ করতাম আমি। পরে সেই আমি সাংবাদিক হবার পর গুণ্ডাদা আমায় ভাগনা বলেই ডাকতো বরাবর। এই তো রিপোর্টার কি খবর সব। পূজোর সময় ফোন করে বলতাম যাবো ঠাকুর এর ছবি তুলতে সকাল থেকে বসে থাকতেন গুণ্ডাদা ঠাকুর দালানে সেদিনের খবরের কাগজ নিয়ে। সেই পরিচিত সাদা ধুতি আর ফতুয়া পড়ে। তারপর ছবি তুলে চলে আসার পর কবে টিভিতে দেখাবে সেটা নিয়ে বেশ অনেক বার ফোন করে জানতেন তিনি আমাদের কাছে। এতে আমি বা অন্য কোনো রিপোর্টার কেউ মনে হয় না যে কেউ বিরক্ত হতেন না। কবে কোন কাগজে লেখা হয়েছে তাঁর গুরুবাড়ীর পূজোর ইতিহাস সেটা তাঁর সব মুখস্থ থাকতো। আমি যখন প্রতিদিন পত্রিকায় কাজ করি যেদিন সেই পত্রিকায় লেখা বের হলো খুব খুশি হলেন তিনি। আমায় বললেন হ্যাঁ রে বেশ বড় করে বেরিয়েছে গুরু বাড়ীর পূজোর লেখা। এই বাড়ী নিয়ে তাঁর একটা গর্ব ছিল বরাবর। রামমোহন রায়ের মামারবাড়ী বলে কথা।

 কংগ্রেস এর রাজনীতি করা সেই প্রিয়রঞ্জন 
দাসমুন্সীর ঘরানার লোক ছিলেন তিনি। বরাবর কংগ্রেস করে এসেছিলেন। পরে তৃণমূল কংগ্রেস দলে যোগ দিয়ে কাউন্সিলর হন তিনি। সেই সাদা ধুতি পাঞ্জাবি পরে হাসিমুখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন গুণ্ডাদা এদিক ওদিক মোটর সাইকেল করে। আমার ফ্ল্যাট বাড়ির পাশের পার্টি অফিসে রাস্তার ধারে বসে আছেন হাসি মুখে। রাস্তা দিয়ে যেতে দেখলেই বলতেন ওই যে রিপোর্টার আসছে অনেক খবর নিয়ে। রাজনীতির খবরের সব বিষয় সমূহ সব একদম তাঁর কাছে পরিষ্কার হয়ে ধরা দিত। শ্রীরামপুর এর সিল্ক শিল্পের কাজের যে কারখানা আছে তাঁর সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন তিনি বহুদিন। 

আজ এই পূজোর মরশুমে দিন কয়েক আগেই সেই গুরুবাড়ীর দরজা পেরিয়ে, সেই চেনা গলাপোল পার হয়ে লাহিড়ী পাড়ায় যাচ্ছিলাম আমি একা একা। সেই জোড়া শিব মন্দির, সেই বেলগাছ পার করে সন্ধ্যার পর। ছোটো বেলায় কত যে এই বেল গাছে ব্রহ্মদৈত্যের গল্প শুনে ভয় পেতাম তার কোনো হিসেব নেই। আসলে সেই ছোটোবেলার পথ ঘাট প্রান্তর তো আর নেই। তবু রয়ে গেছে সেই নেড়া বেলগাছ, রয়ে গেছে পুরোনো শিব মন্দির, রয়ে গেছে গুরু বাড়ীর পূজো। শুধু নেই আমাদের সেই গুণ্ডা দা। পিনাকী ভট্টাচার্য দা। যাকে বিপদে পড়লে যখন যে কোনো সময় ফোন করে বলতাম দাদা এই কাজটা আপনার সইটা একটু করে দেবেন গরীব মানুষ খুব দরকার ওর। সেই সবজি বিক্রি করা পল্টুকে পাঠিয়ে যে কত উপকার করে দিয়েছেন কাজ করে দিয়েছেন ওর তার ঠিক নেই। আসলে পুরোনো কংগ্রেসী ঘরানার মানুষ যে। এই হাল আমলের তৃণমূল নেতাদের মত নয় আর কি। 

আজ এই গুরু বাড়ীর কথা লিখতে বসে তাই সেই গুণ্ডাদার মুখ, কথা, হাসির কথা মনে পড়ে গেলো আমার। রাজনীতির ময়দানে সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া একজন মানুষ হয়তো রাজনীতির জীবনে আরো বেশি কিছু লাভ করতে পারতেন। আরও উঁচুতে উঠে অবস্থিত হয়ে আরও বড় কিছু হতে পারতেন নিজের রাজনৈতিক জীবনে যেটা তাঁর হওয়া প্রাপ্য ছিল। সেটা হয়তো পারেননি তিনি, পাননি সেটা কোনোদিন। তবু গুণ্ডা দা আজও আমাদের হৃদয় জুড়ে আছেন। তবে গুরুবাড়ীর কথা মনে পড়লে। লিখতে বসলেই মনে হবে গুণ্ডাদার কথা। যাকে আমরা করোনার সময়ে হারলাম আজও সন্ধ্যায় ওই রাস্তা দিয়ে গেলে মনে হয় ওই বুঝি লাল মেঝেতে ঠাকুর দালানে হাসি মুখে বসে আছেন আমাদের সবার সেই প্রিয় গুণ্ডাদা। যে আর পূজো এলে কোনোদিন ফোন করে জিজ্ঞাসা করবে না কবে আমাদের গুরুবাড়ীর পূজো দেখানো হবে রে, কবে তোর কাগজে এই বাড়ির পূজোর লেখা বের হবে জানাস আমায়। সত্যিই আজ বড়ো মিস করি আমি এই পূজোর মরশুমে গুণ্ডাদাকে। খুব মিস করি। 

রামমোহনের মামার বাড়ির পুজো 
অভিজিৎ বসু, শ্রীরামপুর, হুগলী।
তেসরা অক্টোবর দু হাজার চব্বিশ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো থাকবেন শঙ্খ শুভ্র বাবু

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক পুলিশ অফিসার এর কথা বলবো। বহুদিন পর আজ যার সাথে আচমকাই কথা হলো আমার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের লেখার মাধ্যমে বহু দিন, বহু কাল পরে। আচ্ছা আপনি কি সত্যিই টোটো চালান। তাঁর সরাসরি প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে আমি বললাম, না।  আসলে সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার বহু বছর আগে এস ডি পি ও শ্রীরামপুর হিসেবে কাজ করতেন আমার নিজের হুগলী জেলায় নিজের শহরে শ্রীরামপুরে। যে জেলায় আমিও একসময় দাপিয়ে ঘুরে কাজ করেছি একসময় এই জেলার সাংবাদিক হিসেবে। যদিও সেই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে বেঁচে থাকার অভ্যাস আমার নেই একদমই। সেটা কোনো কালেই ছিল না। যেহেতু আজ বহুদিন পর তাঁর সাথে একটু যোগাযোগ হলো তাই তাঁর কথা লিখতে ইচ্ছা হলো আমার। সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার হলেন শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী। একদম হিরো স্টাইল এর পুলিশ অফিসার। মারকুটে এই পুলিশ অফিসার। মস্তানদের ধরে রাস্তায় ফ্যাশন প্যারেড করানো সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার শঙ্খশুভ্র বাবু। যে কারণে হুগলী জেলায় মস্তান আর ডনদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে খবরের কাগজের পাতায় প্রতিদিন খবরে থাকতেন তিনি সেই সময়।  যার সময় খবর...

বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দোপাধ্যায়

এই বাংলার রাজনীতি। বিরোধী দল। বিরোধী দল নেতা। সেই আমলে সিপিএমের দোর্দণ্ড প্রতাপ দাপট। সেই দাপটেও একা কুম্ভ রক্ষা করে নকল বুঁদি গড়।‌ আর একটা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এর সন্ধান পাওয়া। যিনি সেই দলের ক্রাইসিসে, দলের দুর্দিনে যখন খুব খারাপ অবস্হা। আশংকাজনক অবস্থায় দল যখন এ পজিটিভ রক্তের এর অভাবে ভুগছে রক্তল্পতায়। দৌড় ঝাঁপ করছে, এদিক ওদিক ঘুরছে সেই অবস্থায় কেমন একাই সব সামলে দিয়েছেন তিনি দলকে নানা বিপদ থেকে উৎরে দিয়েছেন হাসিমুখেই। কাউকে কিছু টের না পেতে দিয়ে।  আর আবার তিনিই যখন সারারাত জেগে গোবিন্দপুর বস্তি আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হচ্ছে সবাই যখন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে রাত জাগছেন আর গলা ছেড়ে কেউ কেউ গান ধরছেন দিদিকে খুশী করতে। সেই সময় দিব্যি তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আর সত্যিই রাত জেগে অন্দোলন হচ্ছে কী না সত্যি না মিথ্যে কথা সেটা দেখতে বর্তমান তৃণমুলের এক বর্ষীয়ান সাংসদের স্ত্রী যিনি আজ আর বেঁচে নেই তিনি দেখতে ছুটে এসেছিলেন তাঁর অধ্যাপক স্বামীকে সেই রাতে গোবিন্দপুর বস্তির এলাকায়। আর এতো ঘটনা ঘটলেও তিনি ফোন বন্ধ করে গভীর নিদ্রায...

ঝড়

ভালোবাসার ভীড়ে ভরে উঠবে শহর থেকে গ্রাম। থিক থিকে ভীড়ে উড়বে ধুলোর কনা চারিদিকে। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যাবে শরীর, মন, প্রাণ। ধুলোর ঝড়ে হারিয়ে যাবে মনের মানুষ। হারিয়ে যায় গোটা জীবন।  জীবনের ছায়া মায়া মাখা পথে একা ঘুরে বেড়াই আমি। ভালোবাসার ভীড়ে আত্মাদের সাথে গা ঢাকা দিয়ে,  লুকিয়ে হাঁটি একা, একা। দেখি অন্ধকারের পথ জুড়ে শুধুই, ভালবাসার অভিনয় করা মানুষের ভীড়। মসৃণ রাস্তায় সরীসৃপের মত এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ায় তারা সন্তর্পনে। পায়ে পা মেলাই ধুলোর ঝড় গায়ে মেখে আনমনে,  ধুলি ধুসরিত হয়ে।  ঠিক যেনো ছাতিমের ডালে বসা ছাতারের মত। ঘোলা চোখের ধুলো মাখা দৃষ্টিতে, দুর পানে তাকিয়ে দেখি।  সূর্যের মিঠে আলোয়, ধুলোর কনা গায়ে মেখে  গোপন অভিসারে মত্ত প্রজাপতির দল। অভিনয়ের অভিসার নয়,  সত্যিই কারের ভালোবাসার অভিসার। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যায় আমার শরীর,মন, প্রাণ। ঝড় - অভিজিৎ বসু।

হ্যাপি বার্থডে টু ইউ

আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আমি তো অনেক সাংবাদিককে নিয়েই লিখি আমি। অনেকে বলেন কী বা হবে এই টোটো চালকের লেখা লিখে বলুন আপনারা এইসব আর কি বা পড়ে। কতজন এর সাথেই তো কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার এই দীর্ঘ ৩৫ বছরে। তবে এই অঙ্গীরা ব্যানার্জীর জন্মদিন গেলো সদ্য সদ্য। তাঁকে নিয়ে লিখতে গেলে একটু ভয়ই হয় বটে। যদি কিছু ভাবেন তিনি আর তাঁর সাথে জেলার সাংবাদিক হিসেবে কাজের সুযোগ ঘটেনি বলে। এক সময়ে সেই মুম্বাইয়ের এর তাজ হোটেলে জঙ্গী আক্রমণের সময়ে টিভির পর্দায় দেখেছি আমরা তাঁকে। সেই খুব সম্ভবতঃ ২৪ ঘণ্টার পর্দায় দেখেছি তাঁকে। কী দাপটে কাজ করেছেন তিনি সেই সময়।  সে এক ভয়ঙ্কর কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর এই সাংবাদিকতার জীবনে। আরও অনেক বড় বড় ঘটনার সাক্ষী সে। কলকাতাতে প্রয়াত অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিমে কাজ করেছে সে ক্রাইম বিটে সে বেশ বিখ্যাত দাপুটে রিপোর্টার ছিলেন তিনি সেই সময়ে। দিল্লী আর কলকাতা তে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। এই দিন কয়েক আগেই দেখলাম বহু দিনের পর দেশে এসেছেন তিনি দুবাই থেকে। বেনারস ভ্রমণে। টুক টাক কথা হলো যে তাঁর সাথে ফেসবুকের দুন...

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে তিনি থাকতেন একসময়। বর্তমানে গ্রাম ছেড়ে শহরে সল্টলেকে থাকেন তিনি বর্তমানে। আনন্দবাজার কাগজের প্রথম পাতায় তাঁর লেখা পড়ে আর নানা এক্সক্লুসিভ খবর পড়ে মুগ্ধ হতাম আমি একসময়ে। মনে মনে ভাবতাম যদি একবার এই বিখ্যাত রিপোর্টারকে তাঁকে দেখতে পেতাম একবার। তাহলে যেনো জীবন সার্থক হতো মোর। শুধু দু চোখের দেখা আর কিছুই নয়।  অবশেষে দর্শন হলো তাঁর সাথে আমার মহাকরণের প্রেস কর্নারে। সেই পল্লীডাক প্রেসে কত যে তাঁর নাম শুনতাম সেদিনের কাগজে তাঁর নামে লেখা বের হলেই তাঁর প্রসঙ্গ আসতো। সেই তারকেশ্বরের ফাল্গুনীদার কাছে শুনতাম। সেই টেলিগ্রাফের তারক এর মুখে শুনতাম। আর সেই তাঁকেই নিজের চোখে দেখলাম প্রেস কর্ণারের ভিতর। ইটিভির দীপক এর সাথে বেশ ভালই আলাপ দেখলাম। একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে। একদম সাদামাটা চেহারা। দেখতে খুব যে ঝাঁ চকচকে সেটা নয়। আনন্দবাজার এর ছাপ আছে কিন্তু সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। একবার এই মন্ত্রীর ঘর তো আবার অন্য মন্ত্রীর ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি সবসময়।  আর আমি আমার নিজের জেলার এহেন সাংবাদিককে দেখেই প্রথম দর্শন...