সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রামমোহনের মামার বাড়ির পুজো

হুগলী জেলার শ্রীরামপুরের প্রায় পাঁচশ বছরের পুরোনো পুজো চাতরার দেশগুরু ভট্টাচার্য্য বাড়ির দুর্গাপুজো জেলার অন্যতম আকর্ষণ। দুরদুরান্ত থেকে অনেকেই এই বাড়ির পুজো দেখতে বহু লোক আসেন। এই বাড়ির পুজোকে কেন্দ্র করে রয়েছে নানা ইতিহাস। ইংরেজ শাসনকালের আগে থাকতেই এই বাড়ির যে বাড়িতে পুজো হতো তার স্থান পরিবর্তন করে বর্তমান বাড়িতে এই পুজো হয় প্রায় তিনশ বছর ধরে। সব প্রাচীন রীতিনীতি মেনে হয় মা দুর্গার আরাধনা।

উত্তর চব্বিশ পরগনার আমডাঙার আদাহাটায় জমিদারি ছিল শ্রীরামপুর চাতরার ভট্টাচার্যদের। গ্রামের সিংহভাগ প্রজা ছিল মুসলমান।তারাই পুজোর একটা বড় খরচ বহন করতেন। ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনেই প্রায় পাঁচশো বছরের বেশি সময় ধরে এখনো এই পূজো হয়ে আসছে। আলী,আফজল ও রাকিনেরা এখনো পুজোর ফল,মূল নিয়ে হাজির হন পঞ্চমীর দিন এই গুরুবাড়িতে। তারা সবাই হাজির হন ভারত পথিক রামমোহন রায়ের শ্রীরামপুরের মামারবাড়িতে। 

বর্তমানে যখন দেশে ও বিদেশে জাতি ও বিদ্বেষের আগুন জ্বলছে চারিদিকে। তখন এই ভট্টাচার্য বাড়ির এক চালার এই দুর্গা প্রতিমা ঠিক যেন বর্ণ, ধর্ম ও নানা সম্প্রদায়ের মধ্যে একাত্ব ও ভালোবাসার মূর্ত প্রতীক হয়ে জ্বল জ্বল করছে এই গুরু বাড়ির দুর্গা প্রতিমা। প্রতি বছর প্রতিমার বিসর্জন হলেও মূল কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয়না। কেবল সংস্কার হয় মাত্র।


শ্রীরামপুর রেল লাইন লাগোয়া এই চাতরা দেশগুরু ভট্টাচার্যের বাড়ি। রামমোহন রায়ের বাবা রামকান্ত রায়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল পরিবারের কন্যা তারিণী দেবীর। ছেলেবেলায় মায়ের সঙ্গে শ্রীরামপুরের এই মাতুলালয়ে বেশ কয়েকবার এসেছেন রামমোহন রায়। সেই স্মৃতি এখনো রয়েছে ভট্টাচার্য বাড়ির আনাচে কানাচেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। বাড়ির ঠাকুর দালানে রাখা বংশ তালিকা দেখলে সেই কথার উল্লেখ দেখা যায়। বাড়ির বংশধর শুভপ্রসাদ ভট্টাচার্য বলেন,আমার বাবা প্রয়াত পিনাকী প্রসাদ ভট্টাচার্য বাড়ির পরম্পরা মেনেই দুর্গা দালানে মায়ের পুজো করতেন নিষ্ঠার সঙ্গে। বাবার অকাল প্রয়ানের পর আমরা সেই ধারা আজও বজায় রেখেছি। রথ যাত্রার দিন কাঠামো পুজো দিয়ে বাড়ির পুজো শুরু হয়।আমডাঙা থেকে মুসলিম প্রজারা পুজোর সামগ্রী নিয়ে হাজির হতেই পুজোর ষোলোকলা পূর্ণ হয়। 

অতীত কালে এই দেশগুরু ভট্টাচার্য্যদের বাড়ি হিন্দুদের টোল হিসেবে পরিচিত ছিল। এই বাড়িতেই দীক্ষা দেওয়া হতো।সেই জন্যে এই বাড়ির নাম হয় গুরু বাড়ী। তবে এখন আর দিন বদলে গেছে সেই টোল আর নেই। বন্ধ হয়ে গেছে টোল প্রথা। কিন্তু গুরু বাড়ির সদস্যরা আজও চালিয়ে আসছেন এই গুরু বাড়ির পূজো। হয়তো সময়ের সাথে অনেকটাই কমেছে পূজোর জৌলুস। কিন্তু এই গুরু বাড়ির পূজোর যে পরম্পরা সেটা আজও একভাবে রয়ে গেছে। এখনো পর্যন্ত দশমীর দিন এই শহরে সবার আগে গুরু বাড়ির পূজোর প্রতিমা গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়ার পর তারপর অন্যান্য ঠাকুর গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়া হয়। এই রীতি অনুযায়ী আজও এই ভাবেই বিসর্জন দেওয়া হয় গুরু বাড়ির ঠাকুর। 

আগে একসময় এই পূজো শুরু হয়ে যেতো মহালয় থেকেই কিন্তু বর্তমানে পূজো হয় ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত।  আজ হয়তো সেই গুরু বাড়ির টোল বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনেক ভক্তরা এই পূজোর সময়  ছুটে আসেন গুরু বাড়ির পূজো দেখতে। একসময় রেললাইনের ওপর প্রান্তে পূজো হলেও পরে এই পূজো বর্তমানে এই বাড়িতে চলে আসে। মাটির আসনে এই পূজো হয়। এই পুরোনো স্মৃতি আর নানা ইতিহাসকে সাক্ষী করে আজও শ্রীরামপুরের এই শতাব্দী প্রাচীন গুরুবাড়ির পূজো হয়ে আসছে। যে পূজোর ইতিহাসে জড়িয়ে আছে ভারত পথিক রামমোহন রায়ের নাম।

 তবে এই শ্রীরামপুর এর শহরের বাসিন্দাদের আক্ষেপ একটাই যে এই শহরে যদি একটা রামমোহন রায় এর মুর্তি বসত সেটা বেশ ভালো লাগতো তাদের। শহরের প্রবীণ এক নাগরিক প্রসন্ন কোলে জানান, যে শহরে রাজা রামমোহন রায়ের মামারবাড়ী। যে শহরে ছোটবেলায় তিনি এসেছিলেন।সেই শহরে একটা তাঁর মুর্তি স্থাপন করা গেলে খুব ভালো হতো। এই বিষয়ে তিনি শ্রীরামপুর পৌরসভার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বলে জানান। তাঁর মতে এমন একটা উদ্যোগ গ্রহণ করলে বেশ ভালো লাগতো শহরের বাসিন্দা হিসেবে। যাই হোক নানা পূজোর ভীড়ে আজও শহরের এক প্রান্তে নিরিবিলিতে দাঁড়িয়ে আছে গুরুবাড়ি পুরোনো দিনের ইতিহাসকে বুকে আগলে। আর সেই বাড়ির পুজো হয়ে আসছে বংশ পরম্পরায়।

এত গেলো গুরু বাড়ির পূজোর ইতিহাস গল্প আর নানা কাহিনী। কিন্তু আমার ছোটবেলা তো কেটেছে এই গুরুবাড়ির আশপাশেই বাস করে। গুরু বাড়ীর ঢিল ছোঁড়া দুরত্বে আমার সেই পাঁচ নম্বর এঁদো পুকুরের সেই মামার বাড়ি। যে বাড়িতেই কেটেছে আমার শৈশব। সেই ছোটবেলার নানা ঘটনার স্মৃতি অনেকটাই ফিকে আজ। তবু সেই পাঁচিল ঘেরা ঝোপ জঙ্গলে ভরা পালদের বাগান, সেই রেল লাইনের পাশে বসে বসে একে ট্রেন গোনা, সেই রাস্তার পাশে ভজাদের বাড়ির গায়ে দিনুদার মিষ্টির দোকান থেকে গরম রসগোল্লা আর গরম বোদে এনে  রুটি খাওয়া, সেই বিরাট এঁদো পুকুরের কালো জল কচুরিপানা ভর্তি, সেই জলে ইট ছুঁড়ে পানকৌড়ি তাড়ানো আর এসবের মাঝেই যে ওই রেল লাইনের ধারে সেই রং চটা ইঁটের ওই বাড়ির দেওয়ালে যে এত ইতিহাস জড়িয়ে আছে সেটা বোঝার বয়স হয়নি তখন আমার একদম।
 
শুধু এটা জানতাম এই সাদা ঠাকুর দালান আর বাড়িটা অন্য সব বাড়ির থেকে একটু আলাদা ধরনের। তাই আজও মনে পড়ে আমার এই সাদা বাড়ির সামনে উঠোনে মাকে লুকিয়ে লুকিয়ে গুরু পূর্ণিমার দিন সিন্নি প্রসাদ পেতে লাইন দিতাম অন্য সব বাচ্চাদের সঙ্গে। হাফ প্যান্ট আর খালি গায়ে। শাল পাতায় প্রসাদ সিন্নি আর একটা করে লাল বাতাসা পাওয়ার আশায় যেতাম সবার সঙ্গে আমিও। হাতে প্রসাদ নিয়ে এক দৌড়ে মামাবাড়ির কাছে সেই রাস্তার ধারে চলে আসা। লুকিয়ে লুকিয়ে প্রসাদ খেয়ে কলে পেট ভরে জল খেয়ে খেলার মাঠে চলে যাওয়া বল খেলতে সেই  রাজবাড়ীর মাঠ বা অন্য কোনো মাঠে। সেই অচেনা গুরুবাড়ীতে প্রবেশ আমার সেই ছোট বেলায়। আর পূজোর সময় মার হাত ধরে সেই গুরুবাড়ীর চৌকাঠ পেরিয়ে ঠাকুর দেখতে গিয়ে অনেকক্ষণ সবার মার ভক্তিভরে প্রনাম করা দেখে কেমন যেনো অধৈর্য্য হয়ে পড়তাম আমি। বুঝতাম না আমি এত বেশি ভক্তি আর শ্রদ্ধা কেনো এই বাড়ির পূজোর জন্য রাখা আছে কে জানে। সবাই বলতেন গম্ভীর মুখে এটা গুরুবাড়ির পূজো।

 ধীরে ছোটো বেলা কেটে গেলো আমার। বড়ো হলাম গুরু বাড়ির পূজোর স্মৃতি রয়ে গেলো একভাবেই আমার কাছে। আজ আর সেই মামার বাড়ি পাঁচ নম্বর এঁদোপুকুরের বাড়ী থেকেও আর সেই বাড়িতে যাবার অধিকার নেই কোনো ভাবেই। তবে গুরুবাড়ী মানেই তো আমাদের সেই গুণ্ডাদা। সেই পিনাকী ভট্টাচার্য । যাকে একসময় বেশ ভয় পেতাম সমীহ করতাম আমি। পরে সেই আমি সাংবাদিক হবার পর গুণ্ডাদা আমায় ভাগনা বলেই ডাকতো বরাবর। এই তো রিপোর্টার কি খবর সব। পূজোর সময় ফোন করে বলতাম যাবো ঠাকুর এর ছবি তুলতে সকাল থেকে বসে থাকতেন গুণ্ডাদা ঠাকুর দালানে সেদিনের খবরের কাগজ নিয়ে। সেই পরিচিত সাদা ধুতি আর ফতুয়া পড়ে। তারপর ছবি তুলে চলে আসার পর কবে টিভিতে দেখাবে সেটা নিয়ে বেশ অনেক বার ফোন করে জানতেন তিনি আমাদের কাছে। এতে আমি বা অন্য কোনো রিপোর্টার কেউ মনে হয় না যে কেউ বিরক্ত হতেন না। কবে কোন কাগজে লেখা হয়েছে তাঁর গুরুবাড়ীর পূজোর ইতিহাস সেটা তাঁর সব মুখস্থ থাকতো। আমি যখন প্রতিদিন পত্রিকায় কাজ করি যেদিন সেই পত্রিকায় লেখা বের হলো খুব খুশি হলেন তিনি। আমায় বললেন হ্যাঁ রে বেশ বড় করে বেরিয়েছে গুরু বাড়ীর পূজোর লেখা। এই বাড়ী নিয়ে তাঁর একটা গর্ব ছিল বরাবর। রামমোহন রায়ের মামারবাড়ী বলে কথা।

 কংগ্রেস এর রাজনীতি করা সেই প্রিয়রঞ্জন 
দাসমুন্সীর ঘরানার লোক ছিলেন তিনি। বরাবর কংগ্রেস করে এসেছিলেন। পরে তৃণমূল কংগ্রেস দলে যোগ দিয়ে কাউন্সিলর হন তিনি। সেই সাদা ধুতি পাঞ্জাবি পরে হাসিমুখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন গুণ্ডাদা এদিক ওদিক মোটর সাইকেল করে। আমার ফ্ল্যাট বাড়ির পাশের পার্টি অফিসে রাস্তার ধারে বসে আছেন হাসি মুখে। রাস্তা দিয়ে যেতে দেখলেই বলতেন ওই যে রিপোর্টার আসছে অনেক খবর নিয়ে। রাজনীতির খবরের সব বিষয় সমূহ সব একদম তাঁর কাছে পরিষ্কার হয়ে ধরা দিত। শ্রীরামপুর এর সিল্ক শিল্পের কাজের যে কারখানা আছে তাঁর সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন তিনি বহুদিন। 

আজ এই পূজোর মরশুমে দিন কয়েক আগেই সেই গুরুবাড়ীর দরজা পেরিয়ে, সেই চেনা গলাপোল পার হয়ে লাহিড়ী পাড়ায় যাচ্ছিলাম আমি একা একা। সেই জোড়া শিব মন্দির, সেই বেলগাছ পার করে সন্ধ্যার পর। ছোটো বেলায় কত যে এই বেল গাছে ব্রহ্মদৈত্যের গল্প শুনে ভয় পেতাম তার কোনো হিসেব নেই। আসলে সেই ছোটোবেলার পথ ঘাট প্রান্তর তো আর নেই। তবু রয়ে গেছে সেই নেড়া বেলগাছ, রয়ে গেছে পুরোনো শিব মন্দির, রয়ে গেছে গুরু বাড়ীর পূজো। শুধু নেই আমাদের সেই গুণ্ডা দা। পিনাকী ভট্টাচার্য দা। যাকে বিপদে পড়লে যখন যে কোনো সময় ফোন করে বলতাম দাদা এই কাজটা আপনার সইটা একটু করে দেবেন গরীব মানুষ খুব দরকার ওর। সেই সবজি বিক্রি করা পল্টুকে পাঠিয়ে যে কত উপকার করে দিয়েছেন কাজ করে দিয়েছেন ওর তার ঠিক নেই। আসলে পুরোনো কংগ্রেসী ঘরানার মানুষ যে। এই হাল আমলের তৃণমূল নেতাদের মত নয় আর কি। 

আজ এই গুরু বাড়ীর কথা লিখতে বসে তাই সেই গুণ্ডাদার মুখ, কথা, হাসির কথা মনে পড়ে গেলো আমার। রাজনীতির ময়দানে সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া একজন মানুষ হয়তো রাজনীতির জীবনে আরো বেশি কিছু লাভ করতে পারতেন। আরও উঁচুতে উঠে অবস্থিত হয়ে আরও বড় কিছু হতে পারতেন নিজের রাজনৈতিক জীবনে যেটা তাঁর হওয়া প্রাপ্য ছিল। সেটা হয়তো পারেননি তিনি, পাননি সেটা কোনোদিন। তবু গুণ্ডা দা আজও আমাদের হৃদয় জুড়ে আছেন। তবে গুরুবাড়ীর কথা মনে পড়লে। লিখতে বসলেই মনে হবে গুণ্ডাদার কথা। যাকে আমরা করোনার সময়ে হারলাম আজও সন্ধ্যায় ওই রাস্তা দিয়ে গেলে মনে হয় ওই বুঝি লাল মেঝেতে ঠাকুর দালানে হাসি মুখে বসে আছেন আমাদের সবার সেই প্রিয় গুণ্ডাদা। যে আর পূজো এলে কোনোদিন ফোন করে জিজ্ঞাসা করবে না কবে আমাদের গুরুবাড়ীর পূজো দেখানো হবে রে, কবে তোর কাগজে এই বাড়ির পূজোর লেখা বের হবে জানাস আমায়। সত্যিই আজ বড়ো মিস করি আমি এই পূজোর মরশুমে গুণ্ডাদাকে। খুব মিস করি। 

রামমোহনের মামার বাড়ির পুজো 
অভিজিৎ বসু, শ্রীরামপুর, হুগলী।
তেসরা অক্টোবর দু হাজার চব্বিশ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...