সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমার ষষ্ঠী দর্শন

আজ সেই চেনা পথে লেখক বুদ্ধদেব গুহর বিখ্যাত বই ঝাঁকি দর্শনের মতই আমার সেই কলকাতায় ষষ্ঠী দর্শন করা। বোলপুর ছেড়ে চলে এসেছি দুদিন আগেই শ্রীরামপুর।আর সেই শ্রীরামপুর ছেড়ে উত্তর কলকাতার সেই পুরোনো গলি, তস্য গলি, সেই চেনা রাস্তা, চেনা দোকানপাট, চেনা পূজো মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো এদিক থেকে ওদিক। উত্তর কলকাতার  রাস্তার সেই সোঁদা গন্ধ, ছোটো গলির এদিক ওদিক থেকে বেরিয়ে পড়া বাড়ির ভেঙে পড়া অংশ। রাস্তার গলির মাঝে কলের জল অবিরাম গতিতে পড়ে যাওয়া। সেই সব দেখতে দেখতে কেমন ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় চেটেপুটে গিলে খেয়ে নেওয়া আনন্দের শেষ অংশ টুকু। 

বিশ্বাস করুন আমার তো মনে হয়নি এই শহর কলকাতার আর এক প্রান্তে নিরিবিলিতে আন্দোলন প্রতিবাদ আর আমরণ অনশন চলছে জোর কদমে। বিচার চেয়ে রাস্তায় নেমে। শাসক দলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন বেশ কিছু মানুষজন। একটা মৃত্যু, কিছু কথা, কিছু প্রশ্ন নানা ঘটনার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে আমাদের সবাইকে। আর এসবের মাঝেই যে চলে এসেছেন মা দুর্গা। মা উমা। জাগো মা দশপ্রহরণ ধারিণী। জাগো তুমি জাগো। ডাকে জেগে উঠেছে চারিদিক। 


আর তাই আমরা তিন জন ষষ্ঠীর বিকেলে বেশ গরম আর রোদকে উপেক্ষা করে ট্রেন ধরলাম হাওড়া যাবো বলে শ্রীরামপুর থেকে। বেশ ভিড় ট্রেন কিন্তু বসার জায়গা মিলে গেলো আমাদের। তিরিশ মিনিট পর পৌঁছে গেলাম সেই চির উন্নত আর চির চেনা ভীড় ঠাসা প্লাটফর্ম হাওড়া স্টেশনে। প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে সেই পাতাল ঘর এর মতো সাবওয়ে পার করে একদম গঙ্গার ঘাটে এসে পৌঁছে গেছি আমরা। যে জলপথ পার করেছি মাত্র ছয় টাকায় সেই এক পথ পার করলাম বারো টাকাতে। একদম ডবল দাম বৃদ্ধি। কই তেমন কিছু বিপ্লব বা আন্দোলন বা চিৎকার ফোঁসফোঁস করছে না কেউ এই বেশি দাম দিয়ে টিকেট কেনার জন্য। বেশ খুশি মনে সবাই গঙ্গা পার করে ঠাকুর দেখতে ভিড় করছেন একে অপরের সঙ্গে পা মিলিয়ে। আমিও পা মেলালাম ভীড় ঠেলে। লঞ্চে ওঠার চেষ্টা করলাম আমরা । অনেক কষ্টে সেই বাগবাজারের লঞ্চে উঠতে পারলাম আমরা। দ্বিগুণ দামে কেনা টিকিটে দ্বিগুণ ভীড় নিয়ে আমাদের লঞ্চ এগিয়ে চলল বেশ সুন্দর করে বেশ ধীরে ধীরে। সত্যিই জলপথকে সঠিক ভাবে কাজে লাগালে যে কি সুখ আর সুবিধা সেটা আর বুঝলো কে। যাক গে বাদ দি আজকের দিনে এইসব কথা। 


এসে গেলো সেই পুরোনো ঘিঞ্জি পুরোনো জায়গা আহিরিটোলা। বেশ ধাক্কা ধাক্কি করে লঞ্চ থেকে নামলাম আমরা তিনজন। তারপর রেল লাইন পেরিয়ে সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোতে থাকলাম আমরা গুটি গুটি পায়ে। সত্যিই বিশ্বাস করুন বিচার চাই।  জাস্টিস চাই। এটা নিয়ে কোনো কথা নেই। তার মাঝে যে মা দুর্গা এসে পড়েছেন কি আর করা যাবে বেরিয়ে পড়ো। হাতে হাত ধরে, জমা জামা কাপড় বের করে শহরের রাজপথে ঘুরে বেড়াও। 

কেমন যেনো ঠিক একদম অন্য রূপে। ঠাণ্ডা জল কিনে গলা ভিজিয়ে চলে এলাম আহিরীটোলার মণ্ডপে। পুরোনো সেই মণ্ডপ, সেই পুরোনো দিনের সব নানা দোকান পাট, সেই রেল লাইন যে লাইন টপকে এদিকে এলাম আমি। সেই সুন্দর ভেঙে পরা ঠাকুর দালান। পুরোনো শহরকে তুলে আনার চেষ্টা। ভীড়ে ঠাসা মণ্ডপের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম আমরা সবাই মিলে একসাথে। আহিরীটোলার ঠাকুর দেখবো বলে খুশি বুটা। হাজার হাজার মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস কে অনুভব করে প্রবেশ করলাম মণ্ডপে আমরা। 

আর সেই সবার মুঠো ফোনে ছবি তোলার সুযোগ এর অপব্যবহার করে ভীড় উপচে পড়া মণ্ডপে কেমন উৎসবের চেহারা ফিরে আসার লক্ষণ দেখলাম যেনো। সেই ঠিক সন্ধ্যায় জ্বর আসার লক্ষণের মতই। যাকে উপভোগ করতে কোনো কষ্ট হলো না আমাদের কারুর। ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমেছে জব চার্ণকের এই পূরনো তিনশ বছরের শহরে আপন স্টাইলে।

 
কে বলে এই শহর জুড়ে শুধু প্রতিবাদ। কে বলে এই শহর কেমন প্রাণহীন হয়ে গেছে যেনো। কে বলে এই শহরে শুধু খুন ধর্ষণ আর অপরাধের শহর এর জন্য বিখ্যাত হয়ে গেছে। না, আহিরীটোলার মণ্ডপ দেখে সেই বি কে পাল এভিনিউ এর পার্কে বসে জিরিয়ে রেস্ট নিয়ে সেসব কথা মনে হলো না আমার। 

ফাঁকা পার্ক এর এককোনে রামকৃষ্ণের মুর্তি। সাজানো সুন্দর বাগানে বসে আছেন আমাদের সেই চৈতন্য হোক বলে যিনি  চৈতন্য না হলেও হাত তুলে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন আর হাঁসেন আপনমনে। আর বলেন যত মত তত পথ। সেই রামকৃষ্ণকে দেখে আমার বেশ মন ভালো হয়ে গেলো। এত গেলো বি কে পাল এর কথা। ফাঁকা মণ্ডপ, পার্ক এর সেই সিঁড়িতে বসে কতদিন যে আইসক্রিম খেয়ে, বাদাম খেয়ে সময় কাটিয়েছি তার কোন হিসাব নেই। এই পার্কটা বেশ পছন্দের জায়গা আমার।
বেশ কিছুক্ষণ পার্কে বসে ঢুকে পড়লাম অন্ধকার আল্পনার রাজ্যে। আলপনার ইতিহাসে জড়িয়ে পড়া মণ্ডপের মাঝে লুকিয়ে আছে কত কাহিনী। সেই কাহিনী আর শিল্পের মিশেলে তৈরি হয়েছে আহিরিটোলা যুবক বৃন্দের মণ্ডপ আলো আর আঁধারির পথ ধরে। যেনো এক অন্য রাজ্যে প্রবেশ করা। যে রাজ্যে আছে নানা শিল্পের সমাহার। যা দেখে মন প্রাণ ভরে যায়। মনে হয় এই ভাবে জোর করে বুটার সাথে কলকাতা এসে বেশ ভালই লাগলো। 

এই যে পর পর এক মণ্ডপ দেখে অন্য মণ্ডপে আবার ভীড়ে হারিয়ে যাওয়া। আর রাস্তায় দাঁড়িয়ে জিরিয়ে নেওয়া। সব যেনো বেশ উপভোগের বিষয় কিন্তু। যে উপভোগ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখে শহরের রাজপথে কিছু মানুষ বিচার চাই বলে বসে পড়েছেন। হয়তো বিচার এর বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদবে না। সত্যিই মিলবে বিচার একদিন। ভোর হয়ে গেল রাস্তায় বাজছে ঢাকের বাদ্যি। দূরে মণ্ডপে চলছে পূজোর প্রস্তুতি। আমি লিখে চলেছি আমার ষষ্ঠী দর্শন। 

আমরাও রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম কুমোরটুলি পার্ক এর পূজোর মণ্ডপে। হারিয়ে যাওয়া সেই রেডিওর  সুর আর তার নানা চিত্র ফুটে উঠেছে এই মণ্ডপের দেওয়ালে। কলকাতা শহরে আর রেডিও কজন শোনেন তার কথা মনে করেই এই মণ্ডপ। মা দুর্গার এখানে একদম অন্য রূপ। ভীড়ে উপচে পড়েছে এই মণ্ডপ। গরমে ঘেমে ক্লান্ত হয়ে এই সুন্দর কুমোরটুলি পার্ক এর মণ্ডপ দেখে বাইরে এসেই দেখলাম চারিদিকে মেলা বসে গেছে যেনো। দোকানপাট, দোলনা হরেক কিসিমের জিনিসের মেলা।

আর মানুষের সব কেনার হিড়িক লেগেছে গোটা চত্বরে। এটাই যে চেনা ছবি ষষ্ঠীর সন্ধ্যায়। মেলা ছেড়ে পুরোনো কুমোরপাড়ার এলাকা দিয়ে হেঁটে হেঁটে দেখলাম মা দুর্গার পরেই যে মা লক্ষ্মী ঘরে আসবেন তার প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে কুমোর পাড়ায়। লক্ষ্মী লাভের চেষ্টায় ব্যস্ত কুমোর পাড়ার পটুয়াদের জোর প্রস্তুতি আর কাজকর্ম চলছে। একদিকে প্রতিমা তৈরি, অন্যদিকে হাতের কাজ করছেন এক বৃদ্ধ চাঁদমালা 
করতে ব্যস্ত তিনি আপনমনে সন্ধ্যা বেলায়। সত্যিই এই পূজো না হলে কত লোক যে বেকার হয়ে যাবে কে জানে। পূজোর জন্য এই যে হাজার লক্ষ মানুষের রুজি রোজগার। অর্থনীতির এই ধীর গতির চাকা ঘুরে একটু সচল হবার চেষ্টা করে এটাই বা কম কি। 

ট্রাম লাইন ধরে অটো ছুটছে বাগবাজারের দিকে। মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ পৌঁছে দেবে অটো বাগবাজার কুড়ি টাকায়। অটোয় বসে চোখে পড়ল আমার রাস্তার পাশে একটি বাংলা চ্যানেলের হোর্ডিং আর  নানা মুখের বিজ্ঞাপন দেখলাম যেনো। সেই চেনা সব উজ্জ্বল মুখ এর সেই বিখ্যাত সব বাংলার সেরা সাংবাদিকদের দেখে মনে পড়ে গেলো একদিন এরাই যে আমার কাজের সঙ্গী ছিল একদিন এই বাংলার মিডিয়ায়। আর আজ আমি রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ভেসে চলেছি এই মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে। কাজের তাড়া নেই কোনো, অফিস আদালত থেকে মুক্তি মিলেছে অনেক আগেই। শুধুই ওই নদীর ধার ধরে নৌকার মতই ভেসে যাওয়া। 


হাত জোড় করে বাগবাজার মণ্ডপে এসে মার কাছে প্রার্থনা জানালাম মা, সবার মঙ্গল করো মা। সেই বাগবাজার পূজা মণ্ডপে মার তীব্র দৃষ্টি সন্তানদের প্রতি। যা দেখে মনটা খুব ভালো হয়ে গেলো। বাগবাজারের মণ্ডপে সেই ঘণ্টার আওয়াজ। সেই ঢাকের বাদ্যি। সেই আদ্যাশক্তি জগতমাতার স্ত্রোত পাঠ চলছে এদিক ওদিক। মাকে প্রণাম করে, সেই চেনা রেলপথ টপকে চলে এলাম বাগবাজার গঙ্গার ঘাটে। 

দেখলাম গঙ্গার জলের ওপর হালকা মানুষের অবয়বের ছায়া, জলের ওপর দোল খাচ্ছে ফাঁকানৌকা কেমন আপনমনে, গঙ্গার জল দিয়ে ভেসে যাচ্ছে অনেক কিছুই। মনে মনে মা গঙ্গাকে প্রনাম জানালাম। দেবী দুর্গাকে প্রনাম জানালাম। দেখতে দেখতে ভোর হয়ে গেলো। ষষ্ঠীর দর্শন শেষ আমার। আজ সপ্তমী। মাঝে আর কটা ঘন্টা, কটা দিন তারপর আবার যে এক বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। মা বিচার যে চাই আমিও। আসল অপরাধীর বিচার চাই। আবার বছরের এই চারটে দিন তোমাকেও চাই মা বলে। তাতে আমায় যে যা বলে বলুক। ষষ্ঠীর রাত শেষ হলো। অন্ধকার কেটে ভোরের আলো ফুটছে। ঢাকের বাদ্যি বাজছে পূজোর মণ্ডপে। ঘুম জড়ানো চোখে মাকে মনে মনে প্রনাম করলাম, বললাম মা তুমি আমাকে শক্তি দিও শুধু লড়াই করার। 

আমার ষষ্ঠী দর্শন - অভিজিৎ বসু।
দশ অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

সুসমীর ও আমি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ আমার কলেজের বন্ধু সুসমীর এর কথা। ওর ভালো নাম সমীর ঘোষ। ওর বাড়ী শ্রীরামপুরে। আমার সাথে ওর আলাপ শ্রীরামপুর কলেজে পড়ার সময়। সেটা আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর আগের কথা হবে। আসলে কলেজের বেঞ্চিতে বসে ওর গলার গান শুনে মুগ্ধ হয়েছি আমরা সবাই। ছেলে মেয়ে সবাই ওর গানের ভক্ত হয়ে গেলাম একদিন ওর গান শুনেই। মেয়েরা তো ওর ফ্যান হয়ে গেলো ওর গানের জন্য।  পরে আমাদের কলেজ জীবন শেষ করে আমরা এদিক ওদিক টুকটাক কাগজে লেখার জগতে দুজনেই প্রবেশ করেছি আমরা। একদিন খুব সম্ভবত বর্তমান কাগজে বিজ্ঞানের পাতায় দেখলাম সুসমীর দাস নামে এক জনের লেখা বেরিয়েছে।সেই সময় বিজ্ঞানের পাতা দেখতেন বর্তমানের রূপকুমার বসু। আমার সাথেও পড়ে রূপদার আলাপ হয়েছিল এই লেখার সূত্রেই।  মনে পড়ে প্রতি লেখায় পঞ্চাশ টাকা দিত বর্তমান‌ কাগজ সেই সময়। সমীর তখন বিজ্ঞান নিয়ে লিখছে, আকাশবাণী তে নানা অনুষ্ঠান করছে। এরপর তারা নিউজ ডেস্ক এর কাজে যোগদান করে সে। দীর্ঘ দিন তারা নিউজ এর কাজ করেছে সে। এই হলো সুসমীর এর জীবনের রেখাচিত্র।  কিন্তু আমার সাদা জীবনের এমন এক সাদা মানুষের ...

ভূত চতুর্দশীর সেই রাত

জীবনে আলো নেই, এদিকে ঘরে টুনি লাইট লাগাচ্ছি আর স্টাইল করে ছবি তুলছি। সত্যিই কত বিচিত্র আয়োজন আর বিচিত্র জীবন। ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যার আলোকজ্বল এই অমলিন, ঝাপসা, ম্রিয়মান এই ছবিটা ধরা থাকলো আমার জীবনের টাইমলাইনের ফেসবুকের পাতায় আলতো করে।  ঘরের দুয়ারে বাতি দিয়ে অন্ধকারের রাজ্যে চলে যাওয়া। আর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া আমার আত্মীয়দের পথ দেখালাম আমি। হ্যাঁ, যে পথ ধরে আমাদের ছেড়ে যাওয়া মানুষজন এসেছিলেন তাঁরা সেই মহালয়ার পুণ্য প্রভাতে। তাঁদের তর্পণ করে স্বাগত জানিছিলাম আমরা সবাই। এতদিন ধরে এই উৎসবের আনন্দে আলোকমালায় কেমন ঘুরে বেড়ালেন তাঁরা খুশি মনে। আজকের রাত তাঁদের আবার সেই ফিরে যাওয়ার রাত। যে রাতে ঘুম আসেনা কিছুতেই। যে রাতের অন্ধকারে কত কিছুই যে ঘটে যায়।   যাঁরা এতদিন এই পৃথিবীর টানে, আপনজনদের টানে পৃথিবীর কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই তাঁরাই আজ আমাদের ছেড়ে প্রিয়জনদের সবাইকে ছেড়ে ধীরে ধীরে চলে যাবেন দূরে,অনেক দূরে। আর আমরা তখন ঘরের দুয়ারে, উঠোনে তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালিয়ে সেই তাঁদের যাত্রাপথকে সুগম করবো আলোক সজ্জা দিয়ে। এটাই হলো ভূত চতুর্দশীর সেই আল...

কুণাল ঘোষের বার্তা ও টোটো চালকের কিছু কথা

কুণাল দার সাথে কাজ করিনি আমি কোনোদিন। বাংলা সংবাদের জগতে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত সাংবাদিক আছেন। যাঁদের নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে এই বাংলার মিডিয়ায়। আজ সেই কুণাল ঘোষ সংবাদ প্রতিদিন কাগজ থেকে কনসাল্টিং এডিটর পোস্ট থেকে সরে গেলেন। একদিকে তাঁর বিধায়ক হয়ে যাওয়া সরকার এর বদল হয়ে যাওয়া। আর তাই তিনি প্রতিদিন কাগজের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন তেমন এক বার্তা দিলেন তিনি নিজেই।  কুণাল ঘোষ এর সাথে আমার আলাপ বিশেষ নেই। সেই মহাকরণে করিডর দিয়ে তিনি হেঁটে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের দিকে। তাঁর আগে পিছে সংবাদ মাধ্যমের কাজ করা রিপোর্টারদের ভীড় তাঁকে ঘিরে ভীড় করে আছেন আমিও দূরে আছি দাঁড়িয়ে। সেই বহু বছর আগে হাফ শার্ট পরে বিকেলের দিকে মদন মিত্রের অফিসে আসতেন। ২৪ চৌরঙ্গী রোড এর অফিসে ধর্মতলার কাছে। সান্ধ্য প্রতিদিন কাগজ পকেটে নিয়ে। রণজিৎ থাকতো সেই সময়। সেই সব দিন এর কথা মনে পড়ে যায় আজ আমার। সেই কঠিন বাম আমলে তাঁকে কাজ ছেড়ে চলে যেতে হয়নি একদমই। আর আজ সরকার বদলের সাথে সাথেই দিকে দিকে কাজ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেছে যে চারিদিক জুড়েই এই বাংলার মিডিয়ায়।  ইটিভির কাজের স...

রক্তাক্ত আমি

অর্থহীন, শব্দহীন,জীবনের অপমান বড়ই যন্ত্রণার। জীবনের অনুরণনে অপমানের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, শুনতে শুনতে ধীর পায়ে এগিয়ে চলা। ছিপখান ডিঙ্গি নৌকা বেয়ে নিজের মত করে অন্তরীণ হয়ে ভেসে বেড়ানো, এদিক থেকে ওদিক পানে। শঙ্খচিলের ডানায় তখন, রামধনুর সাত রঙ এর স্বপ্নের ঘুম জড়ানো ভোরের আস্তরণ। শালিকের ভেজা পায়ে, জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দের বাঙময় অব্যক্ত ধাক্কা। যে ধাক্কায় দ্বিখণ্ডিত হয় জীবনের অর্থ, অনর্থ, সৃষ্টি, অনাসৃষ্টি, সুখ, অসুখ,ভালোবাসা, ঘৃণা আরও কত কি।  চোখ খুলে দেখি বদলে গেছে, জীবনের উপল উপত্যকার ঢেউ খেলানো রাস্তার, সোজাসাপ্টা সেই বহু চেনা গলিপথ। যে গলিপথের চেনা রাস্তায় হাঁটতে নেমে রক্তাক্ত হই আমি বার বার। তবু রাতের আঁধার গায়ে মেখে রক্তাক্ত আমি ঘুরে, বেড়াই এদিক থেকে ওদিক। হাতড়ে খুঁজে বেড়াই রামধনুর রং মাখা ভোর। রক্তাক্ত আমি - অভিজিৎ বসু। ষোলো জুন, দু হাজার চব্বিশ।