সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমার ষষ্ঠী দর্শন

আজ সেই চেনা পথে লেখক বুদ্ধদেব গুহর বিখ্যাত বই ঝাঁকি দর্শনের মতই আমার সেই কলকাতায় ষষ্ঠী দর্শন করা। বোলপুর ছেড়ে চলে এসেছি দুদিন আগেই শ্রীরামপুর।আর সেই শ্রীরামপুর ছেড়ে উত্তর কলকাতার সেই পুরোনো গলি, তস্য গলি, সেই চেনা রাস্তা, চেনা দোকানপাট, চেনা পূজো মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো এদিক থেকে ওদিক। উত্তর কলকাতার  রাস্তার সেই সোঁদা গন্ধ, ছোটো গলির এদিক ওদিক থেকে বেরিয়ে পড়া বাড়ির ভেঙে পড়া অংশ। রাস্তার গলির মাঝে কলের জল অবিরাম গতিতে পড়ে যাওয়া। সেই সব দেখতে দেখতে কেমন ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় চেটেপুটে গিলে খেয়ে নেওয়া আনন্দের শেষ অংশ টুকু। 

বিশ্বাস করুন আমার তো মনে হয়নি এই শহর কলকাতার আর এক প্রান্তে নিরিবিলিতে আন্দোলন প্রতিবাদ আর আমরণ অনশন চলছে জোর কদমে। বিচার চেয়ে রাস্তায় নেমে। শাসক দলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন বেশ কিছু মানুষজন। একটা মৃত্যু, কিছু কথা, কিছু প্রশ্ন নানা ঘটনার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে আমাদের সবাইকে। আর এসবের মাঝেই যে চলে এসেছেন মা দুর্গা। মা উমা। জাগো মা দশপ্রহরণ ধারিণী। জাগো তুমি জাগো। ডাকে জেগে উঠেছে চারিদিক। 


আর তাই আমরা তিন জন ষষ্ঠীর বিকেলে বেশ গরম আর রোদকে উপেক্ষা করে ট্রেন ধরলাম হাওড়া যাবো বলে শ্রীরামপুর থেকে। বেশ ভিড় ট্রেন কিন্তু বসার জায়গা মিলে গেলো আমাদের। তিরিশ মিনিট পর পৌঁছে গেলাম সেই চির উন্নত আর চির চেনা ভীড় ঠাসা প্লাটফর্ম হাওড়া স্টেশনে। প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে সেই পাতাল ঘর এর মতো সাবওয়ে পার করে একদম গঙ্গার ঘাটে এসে পৌঁছে গেছি আমরা। যে জলপথ পার করেছি মাত্র ছয় টাকায় সেই এক পথ পার করলাম বারো টাকাতে। একদম ডবল দাম বৃদ্ধি। কই তেমন কিছু বিপ্লব বা আন্দোলন বা চিৎকার ফোঁসফোঁস করছে না কেউ এই বেশি দাম দিয়ে টিকেট কেনার জন্য। বেশ খুশি মনে সবাই গঙ্গা পার করে ঠাকুর দেখতে ভিড় করছেন একে অপরের সঙ্গে পা মিলিয়ে। আমিও পা মেলালাম ভীড় ঠেলে। লঞ্চে ওঠার চেষ্টা করলাম আমরা । অনেক কষ্টে সেই বাগবাজারের লঞ্চে উঠতে পারলাম আমরা। দ্বিগুণ দামে কেনা টিকিটে দ্বিগুণ ভীড় নিয়ে আমাদের লঞ্চ এগিয়ে চলল বেশ সুন্দর করে বেশ ধীরে ধীরে। সত্যিই জলপথকে সঠিক ভাবে কাজে লাগালে যে কি সুখ আর সুবিধা সেটা আর বুঝলো কে। যাক গে বাদ দি আজকের দিনে এইসব কথা। 


এসে গেলো সেই পুরোনো ঘিঞ্জি পুরোনো জায়গা আহিরিটোলা। বেশ ধাক্কা ধাক্কি করে লঞ্চ থেকে নামলাম আমরা তিনজন। তারপর রেল লাইন পেরিয়ে সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোতে থাকলাম আমরা গুটি গুটি পায়ে। সত্যিই বিশ্বাস করুন বিচার চাই।  জাস্টিস চাই। এটা নিয়ে কোনো কথা নেই। তার মাঝে যে মা দুর্গা এসে পড়েছেন কি আর করা যাবে বেরিয়ে পড়ো। হাতে হাত ধরে, জমা জামা কাপড় বের করে শহরের রাজপথে ঘুরে বেড়াও। 

কেমন যেনো ঠিক একদম অন্য রূপে। ঠাণ্ডা জল কিনে গলা ভিজিয়ে চলে এলাম আহিরীটোলার মণ্ডপে। পুরোনো সেই মণ্ডপ, সেই পুরোনো দিনের সব নানা দোকান পাট, সেই রেল লাইন যে লাইন টপকে এদিকে এলাম আমি। সেই সুন্দর ভেঙে পরা ঠাকুর দালান। পুরোনো শহরকে তুলে আনার চেষ্টা। ভীড়ে ঠাসা মণ্ডপের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম আমরা সবাই মিলে একসাথে। আহিরীটোলার ঠাকুর দেখবো বলে খুশি বুটা। হাজার হাজার মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস কে অনুভব করে প্রবেশ করলাম মণ্ডপে আমরা। 

আর সেই সবার মুঠো ফোনে ছবি তোলার সুযোগ এর অপব্যবহার করে ভীড় উপচে পড়া মণ্ডপে কেমন উৎসবের চেহারা ফিরে আসার লক্ষণ দেখলাম যেনো। সেই ঠিক সন্ধ্যায় জ্বর আসার লক্ষণের মতই। যাকে উপভোগ করতে কোনো কষ্ট হলো না আমাদের কারুর। ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমেছে জব চার্ণকের এই পূরনো তিনশ বছরের শহরে আপন স্টাইলে।

 
কে বলে এই শহর জুড়ে শুধু প্রতিবাদ। কে বলে এই শহর কেমন প্রাণহীন হয়ে গেছে যেনো। কে বলে এই শহরে শুধু খুন ধর্ষণ আর অপরাধের শহর এর জন্য বিখ্যাত হয়ে গেছে। না, আহিরীটোলার মণ্ডপ দেখে সেই বি কে পাল এভিনিউ এর পার্কে বসে জিরিয়ে রেস্ট নিয়ে সেসব কথা মনে হলো না আমার। 

ফাঁকা পার্ক এর এককোনে রামকৃষ্ণের মুর্তি। সাজানো সুন্দর বাগানে বসে আছেন আমাদের সেই চৈতন্য হোক বলে যিনি  চৈতন্য না হলেও হাত তুলে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন আর হাঁসেন আপনমনে। আর বলেন যত মত তত পথ। সেই রামকৃষ্ণকে দেখে আমার বেশ মন ভালো হয়ে গেলো। এত গেলো বি কে পাল এর কথা। ফাঁকা মণ্ডপ, পার্ক এর সেই সিঁড়িতে বসে কতদিন যে আইসক্রিম খেয়ে, বাদাম খেয়ে সময় কাটিয়েছি তার কোন হিসাব নেই। এই পার্কটা বেশ পছন্দের জায়গা আমার।
বেশ কিছুক্ষণ পার্কে বসে ঢুকে পড়লাম অন্ধকার আল্পনার রাজ্যে। আলপনার ইতিহাসে জড়িয়ে পড়া মণ্ডপের মাঝে লুকিয়ে আছে কত কাহিনী। সেই কাহিনী আর শিল্পের মিশেলে তৈরি হয়েছে আহিরিটোলা যুবক বৃন্দের মণ্ডপ আলো আর আঁধারির পথ ধরে। যেনো এক অন্য রাজ্যে প্রবেশ করা। যে রাজ্যে আছে নানা শিল্পের সমাহার। যা দেখে মন প্রাণ ভরে যায়। মনে হয় এই ভাবে জোর করে বুটার সাথে কলকাতা এসে বেশ ভালই লাগলো। 

এই যে পর পর এক মণ্ডপ দেখে অন্য মণ্ডপে আবার ভীড়ে হারিয়ে যাওয়া। আর রাস্তায় দাঁড়িয়ে জিরিয়ে নেওয়া। সব যেনো বেশ উপভোগের বিষয় কিন্তু। যে উপভোগ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখে শহরের রাজপথে কিছু মানুষ বিচার চাই বলে বসে পড়েছেন। হয়তো বিচার এর বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদবে না। সত্যিই মিলবে বিচার একদিন। ভোর হয়ে গেল রাস্তায় বাজছে ঢাকের বাদ্যি। দূরে মণ্ডপে চলছে পূজোর প্রস্তুতি। আমি লিখে চলেছি আমার ষষ্ঠী দর্শন। 

আমরাও রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম কুমোরটুলি পার্ক এর পূজোর মণ্ডপে। হারিয়ে যাওয়া সেই রেডিওর  সুর আর তার নানা চিত্র ফুটে উঠেছে এই মণ্ডপের দেওয়ালে। কলকাতা শহরে আর রেডিও কজন শোনেন তার কথা মনে করেই এই মণ্ডপ। মা দুর্গার এখানে একদম অন্য রূপ। ভীড়ে উপচে পড়েছে এই মণ্ডপ। গরমে ঘেমে ক্লান্ত হয়ে এই সুন্দর কুমোরটুলি পার্ক এর মণ্ডপ দেখে বাইরে এসেই দেখলাম চারিদিকে মেলা বসে গেছে যেনো। দোকানপাট, দোলনা হরেক কিসিমের জিনিসের মেলা।

আর মানুষের সব কেনার হিড়িক লেগেছে গোটা চত্বরে। এটাই যে চেনা ছবি ষষ্ঠীর সন্ধ্যায়। মেলা ছেড়ে পুরোনো কুমোরপাড়ার এলাকা দিয়ে হেঁটে হেঁটে দেখলাম মা দুর্গার পরেই যে মা লক্ষ্মী ঘরে আসবেন তার প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে কুমোর পাড়ায়। লক্ষ্মী লাভের চেষ্টায় ব্যস্ত কুমোর পাড়ার পটুয়াদের জোর প্রস্তুতি আর কাজকর্ম চলছে। একদিকে প্রতিমা তৈরি, অন্যদিকে হাতের কাজ করছেন এক বৃদ্ধ চাঁদমালা 
করতে ব্যস্ত তিনি আপনমনে সন্ধ্যা বেলায়। সত্যিই এই পূজো না হলে কত লোক যে বেকার হয়ে যাবে কে জানে। পূজোর জন্য এই যে হাজার লক্ষ মানুষের রুজি রোজগার। অর্থনীতির এই ধীর গতির চাকা ঘুরে একটু সচল হবার চেষ্টা করে এটাই বা কম কি। 

ট্রাম লাইন ধরে অটো ছুটছে বাগবাজারের দিকে। মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ পৌঁছে দেবে অটো বাগবাজার কুড়ি টাকায়। অটোয় বসে চোখে পড়ল আমার রাস্তার পাশে একটি বাংলা চ্যানেলের হোর্ডিং আর  নানা মুখের বিজ্ঞাপন দেখলাম যেনো। সেই চেনা সব উজ্জ্বল মুখ এর সেই বিখ্যাত সব বাংলার সেরা সাংবাদিকদের দেখে মনে পড়ে গেলো একদিন এরাই যে আমার কাজের সঙ্গী ছিল একদিন এই বাংলার মিডিয়ায়। আর আজ আমি রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ভেসে চলেছি এই মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে। কাজের তাড়া নেই কোনো, অফিস আদালত থেকে মুক্তি মিলেছে অনেক আগেই। শুধুই ওই নদীর ধার ধরে নৌকার মতই ভেসে যাওয়া। 


হাত জোড় করে বাগবাজার মণ্ডপে এসে মার কাছে প্রার্থনা জানালাম মা, সবার মঙ্গল করো মা। সেই বাগবাজার পূজা মণ্ডপে মার তীব্র দৃষ্টি সন্তানদের প্রতি। যা দেখে মনটা খুব ভালো হয়ে গেলো। বাগবাজারের মণ্ডপে সেই ঘণ্টার আওয়াজ। সেই ঢাকের বাদ্যি। সেই আদ্যাশক্তি জগতমাতার স্ত্রোত পাঠ চলছে এদিক ওদিক। মাকে প্রণাম করে, সেই চেনা রেলপথ টপকে চলে এলাম বাগবাজার গঙ্গার ঘাটে। 

দেখলাম গঙ্গার জলের ওপর হালকা মানুষের অবয়বের ছায়া, জলের ওপর দোল খাচ্ছে ফাঁকানৌকা কেমন আপনমনে, গঙ্গার জল দিয়ে ভেসে যাচ্ছে অনেক কিছুই। মনে মনে মা গঙ্গাকে প্রনাম জানালাম। দেবী দুর্গাকে প্রনাম জানালাম। দেখতে দেখতে ভোর হয়ে গেলো। ষষ্ঠীর দর্শন শেষ আমার। আজ সপ্তমী। মাঝে আর কটা ঘন্টা, কটা দিন তারপর আবার যে এক বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। মা বিচার যে চাই আমিও। আসল অপরাধীর বিচার চাই। আবার বছরের এই চারটে দিন তোমাকেও চাই মা বলে। তাতে আমায় যে যা বলে বলুক। ষষ্ঠীর রাত শেষ হলো। অন্ধকার কেটে ভোরের আলো ফুটছে। ঢাকের বাদ্যি বাজছে পূজোর মণ্ডপে। ঘুম জড়ানো চোখে মাকে মনে মনে প্রনাম করলাম, বললাম মা তুমি আমাকে শক্তি দিও শুধু লড়াই করার। 

আমার ষষ্ঠী দর্শন - অভিজিৎ বসু।
দশ অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...