সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান

বহুদিন পর মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে সেই বহু পুরোনো বাংলার রাজনীতিতে অতি পরিচিত এই মুখটার ছবি খুঁজে পেলাম আমি হঠাৎ। একসময় সব চ্যানেলে প্রচারিত হতো তাঁর কথা, তাঁর ফোন ইন, তাঁর ছবি দেখতে পেতাম আমরা নানা ঘটনা ঘটলেই টিভির পর্দায়। আজ সেই বাংলার কংগ্রেসের রাজনীতিতে এক সময়ের জনপ্রিয় এই রাজনৈতিক নেতার ছবিটা কেমন হারিয়ে গেছে যেনো ধীরে ধীরে। হ্যাঁ, কোথায় যে গেলেন আব্দুল মান্নান দা কে জানে। সেই চেনা মুখের হাসি। চেনা ছবিটা বহুদিন ধরেই দেখা যায় নি আর। 
তাই আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় সেই বহু পুরোনো কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নানদার কথা। 
হুগলী জেলায় কাজ করার সুবাদে মান্নান দার সঙ্গে আমার পরিচয় বহু দিন এর পুরোনো। মান্নান দা যখন কলকাতার রাজপথে কাজ করা সাংবাদিক ছাড়া কথা বলতেন না একদম। ফোন ধরতেন না জেলার ছোটো খাটো সাংবাদিক এর। যখন তিনি দাপিয়ে কংগ্রেসের রাজনীতিতে মাঠে নেমে রাজনীতি করছেন সেই সময়েও তিনি যে কোনো দরকারে, যে কোনো বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বলতেন অভিজিৎ আমি কলকাতা বেরিয়ে যাবো কিন্তু। আমি বলতাম দাদা পাঁচ মিনিট সময় লাগবে আমি আসছি কোনোদিন না করেন নি তিনি সেই সময়। হাসি মুখে সব আবদার মেনে নিতেন তিনি আমার। 

সাদা ধুতি, পাঞ্জাবি বেশ সুন্দর একটা হাসি মুখ নিয়ে কখনও সেই চাতরার পুরোনো বাড়িতে, কোনো সময় শেওড়াফুলির সেই পার্টি অফিসে আবার কোনো সময় চাতরা কুমোরপাড়ার গঙ্গার ধারের কাছের সেই বাড়িতে থাকতেন তিনি। বলে দিতেন কোথায় যেতে হবে। বাড়ি গেলেই সকাল বেলায় খাবার জন্য খুব পিড়াপিড়ি করতেন তিনি। খুব অতিথি পরায়ন মানুষ মান্নান দা। আসলে ভীড় উপচে পড়া নেতাদের উপস্থিতি, তাঁদের কাছে সব ভীড় করে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দেখে মনে পড়ে গেলো কংগ্রেস এর সেই একদম শীর্ষ স্তরের নেতাদের কাছে স্বচ্ছন্দে পৌঁছে যাওয়া সেই নেতা কিন্তু সারা জীবন আর দলবদলে অন্য দলের পতাকা হাতে তুলে নিলেন না তিনি কোনোদিনই। সারা জীবন সেই কংগ্রেসেই থেকে গেলেন তিনি। এটা আমার বেশ ভালো লাগে মান্নান দার এই ব্যাপারটা। 

একসময় যে মানুষটা কংগ্রেসী রাজ্যে রাজনীতিতে বেশ শক্ত ভালো জায়গায় বিচরণ করতেন। কংগ্রেসের হাজার বহুধা বিভক্ত এই দলের মধ্যে তিনি কিন্তু বেশ খুশি মনেই সেই পুরোনো দিনের কংগ্রেসের সাথেই সারা জীবন কাটিয়ে দিলেন তিনি। আরামবাগ থেকে চাঁপদানী চলে আসা। তারপর হুগলীর রাজনীতিতে থেকেও রাজ্য রাজনীতিতে একটা বড়ো ভূমিকা পালন করতেন তিনি। কিন্তু সেটা মুখে কোনোদিন বলতেন না তাঁর এই হট লাইনের কথা কাউকেই। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হয়ে তাঁর সাথে কোনো দিন বিধান সভার অন্দরে প্রবেশ করতে পারিনি আমি। কিন্তু আমার এক হুগলীর বন্ধুকে মান্নান দা প্রতিদিন একসাথে তাঁর নিজের গাড়ি করে হুগলী থেকে নিয়ে এসে কলকাতায় অফিস পৌঁছে দিতেন। আসলে আগেকার দিনের এই যে সব মানুষগুলো তাঁদের কাছে এইসব বিষয় সমূহ কিছুটা শিক্ষণীয়। যা আমার সাথেও অনেকবার অনেক ঘটনা ঘটেছে। 

আমার মনে আছে আমি দিল্লী বেড়াতে গেছি বঙ্গভবনে উঠেছি। মান্নান দা সেটা জানতেন। বললেন অভিজিৎ তুমি কবে যাবে আমি বললাম দাদা, আমি এই দুদিন বঙ্গভবনে থাকবো। দেখলাম মান্নান দা আগেই ফোন করে আমার নাম বলে রেখেছেন। সেই ভরা সিপিএম আমলে মান্নানদার নিজের জেলার একজন পাতি জেলার রিপোর্টার এর জন্য কত যে খাতির যত্ন করেছিল সেই সময় বঙ্গভবনের লোকজন বাবুর্চিরা কি বলব আমি। পরে শুনেছিলাম এই বঙ্গ ভবনের বহু কর্মীকে মান্নানদা চাকরি দিয়েছিলেন তিনি। সেই আবু বরকত গনি খান চৌধুরীকে ধরে রেলমন্ত্রী থাকার সময়ে। তাই বাংলার বঙ্গভবনে কংগ্রেসী নেতার এই দাপট বেশ বেশি ছিল সেই ভরা বাম আমলে। এটা শুনে আমার বেশ ভালো লেগেছিল।

 নির্বাচনের দিন কলকাতার প্রদেশ কংগ্রেস অফিসে গিয়ে বসতে হবে কিন্তু সেই কলকাতা যাওয়ার আগে শ্রীরামপুরে ইটিভির অফিসে এসে লাইভ দিয়ে তারপর বলতেন অভিজিৎ দেরী হয়ে যাচ্ছে আমি চলি ভাই। পরে এসে একদিন চা খাবো আমি। আজ আর দাঁড়াতে পারবো না। আমি শুনতাম উনি খুব উন্নাসিক, কলকাতার বিগ রিপোর্টারদের সাথেই কথা বলেন জেলাকে পাত্তা দেন না তাঁর দিল্লির হট লাইনের জন্য। কিন্তু আমার সেই কথা কোনোদিন মনেই হয়নি। সেই ওনার পা জখম হয়ে যাওয়া ওনার বাড়িতে গঙ্গার ধারে বসে আমগাছের ডালে আম ঝুলছে ইন্টারভিউ নেওয়া তারপর অভিজিৎ খেয়ে যেতেই হবে কিন্তু তোমাদের। আমি আর মিন্টে কতদিন যে দাদা এই বাড়ী থেকে ভাত খেয়ে এসেছি বলে পালিয়ে এসেছি কে জানে।

 সেই ভোর বেলায় পুরী পৌঁছে আমাদের একটা ঘর এর ব্যবস্থা হয়েছে আর ঘর নেই কোথায় পুরীতে। অগত্যা মান্নানদাকে ফোন করলাম আমি বিপদে পড়ে। মান্নান দা বললেন আমিও পুরী এসেছি এই স্বর্গদ্বার পেরিয়ে মোহনার দিকে চলে এসো এই হোটেলে আমি আছি। চিন্তা করোনা ঘরের ব্যবস্থা ঠিক হয়ে যাবে। এমন কত যে উপকার হাসি মুখে কোনো হম্বি তম্বি না করেই করে দিতেন কোনো বড়ো নেতা মন্ত্রী না হয়েও কাউকে না জানিয়ে সেটা আর কি বলব। রাজ্যের যে কোনো ঘটনায় ইটিভি ছেড়ে নানা চ্যানেলে কাজ এর সুবাদে যে কোনো ফোন ইন এর জন্য তাঁর সেই বিখ্যাত নম্বরে ফোন করতাম আমি, বলতাম দাদা অভিজিৎ বলছি আমি। ও তুমি এই চ্যানেলে এখন। আবার নিজেই ওপর প্রান্ত থেকে বলতেন তোমরা কি আর করবে চাকরি তো করতেই হবে তোমাদের। বলে ফোন ইন দিতেন বাড়ী বসেই। 

একসময় তো একটা বাম আমলের চ্যানেলে সদ্য সেই চ্যানেল তখন তৃণমূল হয়েছে তাঁর ফোন যাবে না বলে ফরমান জারি করলেন বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ঘনিষ্ট এক বিখ্যাত এডিটর। সেই চ্যানেলের এক কর্মীকে নিয়েই মান্নান দা বিধানসভায় আসার আগে অফিস পৌঁছে দিতেন। হুটার বাজিয়ে হুশ করে হাসি মুখে অফিস পৌঁছে যেতো সেই আমার সহকর্মী কেমন একমুখ হাসি হেসে। কিন্তু সেই চ্যানেলে এই নেতার ফোন যাবে না বলায় আমি বেশ কষ্ট পেয়েছিলাম সেদিন। যাই হোক কি আর করা যাবে। এডিটরকে তো কিছুই বলা যাবে না। তারওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ঘনিষ্ট এডিটর বলে কথা। আজ যদিও সেই এডিটর এমন একটা চ্যানেলে কাজ করছেন যে চ্যানেলে অভূতপূর্ব ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভজনা করে না। সত্যিই বিচিত্র এই হিসেব আর নিকেশ।

 বহুদিন ধরেই মনে পড়ছে আমার সেই রাজ্য রাজনীতিতে হারিয়ে যাওয়া হাসি মুখের সেই আব্দুল মান্নানদার কথা। সেই যে পঁচিশে সেপ্টেম্বর এর সন্ধ্যা বেলায় সিঙ্গুরে বিডিও অফিস পৌঁছে গেলেন তিনি গাড়ি নিয়ে সিঙ্গুরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মান্নানদাকে দেখেই বললেন, আসুন মান্নান দা। দুজনের পাশে বসে হাসি মুখে কথা হলো। সব ক্যামেরায় সেই হাসি মুখের ছবি হলো। রাত বাড়লে কি হবে কি করা হবে কত যে আলোচনা হলো দুজনের। সুন্দর সম্পর্ক ছিল সেই সময়, আবদুল মান্নান আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর। আমার বেশ ভালই লাগত। সেই বিডিও ঘরে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে পাশে বসিয়ে আমাদের ইন্টারভিউ দিলেন। বললেন এই জোর করে জমি অধিগ্রহণ এর বিরুদ্ধে। সেই কংগ্রেসের প্রিয় রঞ্জন দাশমুন্সী গিয়েছিলেন সিঙ্গুরে সভা করতে। সেই সব দিনগুলো কিন্তু খারাপ ছিল না। 

এমন হাজারো টুকরো টুকরো স্মৃতি আমার মনে পড়ে যায় এই ভোরবেলার সময়। মান্নান দার ভাই মুজিবর শ্রীরামপুরে থাকেন মাঝে মাঝেই কথা হয় তাঁর সাথে বলে দাদা আমাদের এক রয়ে গেলো। কিছুই করলো না দাদা কারুর জন্য। সেই স্কুল মাস্টার এর চাকরি অবসর গ্রহণ আর কংগ্রেসী ঘরানার রাজনীতিতেই আস্থা রেখে সারাটা জীবনই কাটিয়ে দিলেন হাসি মুখে। খুব বেশি ক্ষমতার মসনদে বসার জন্য এর ওর কাছে হাতজোড় করে দাঁড়ালেন না তিনি। একটা পরিচ্ছন্ন ইমেজ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বেঁচে রইলেন তিনি। আমাদের সবার প্রিয় সবার খুব কাছের একজন রাজনীতিবিদ হয়ে। 

যে মানুষটাকে নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলতে পারেন হয়তো। তিনি নিজের গোষ্ঠীর লোক ছাড়া আর কাউকে সংগঠনে যুক্ত হতে দিতেন না। অন্যদের পাত্তা দিতেন না জেলার রাজনীতিতে। কাউকে ওপরে ওঠার সুযোগ দিতেন না। কিন্তু এই আমার মনে হয় যেখানে কিছু পাওয়ার আশায় একটু পদ পাওয়ার জন্য সব কিছু বিসর্জন দিয়ে অনেকে অনেক রকম ভাবে ঝুঁকে পড়ে নানা ভাবে কংগ্রেসের পতাকা ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করলেন। সেটাই আসল ট্রেন্ড হয়ে গেলো এই বাংলার রাজনীতিতে। কিন্তু মান্নান দা সেটা করতে পারলেন না এই জীবনে। আর পারলেন না বলেই বোধহয় আজ এই সাদা জীবনের কালো কথায় আজ ভোরবেলায় এত কিছু মনে পড়ে গেলো আমার। এত কিছু অনুভূতির কথা লিখতে পারলাম আমি এই ভোর বেলায় আমার এই ব্লগে। 

সেই সিপিএমের হাতে মার খেয়ে আমি হাসপাতালে ভর্তি আমি দেখলাম মান্নান দা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোক পাঠানোর আগেই শ্রীরামপুরে ওয়ালস হাসপাতালে এসে হাজির হলেন তিনি। কত ভীড় তাঁর সাথে। কংগ্রেসের নেতার সাথেও সেই ভীড় উপচে পড়া মানুষটা আজ একা, একদম একা হয়ে গেছেন অনেকটাই। ঘর বন্দী হয়ে গেছেন আজ তিনি। হয়তো এই তৃণমূলের রাজনীতির ঝাপটায় কিছুটা হলেও বেসামাল হয়ে গেছেন তিনিও। কিন্তু যে আদর্শ আর শিরদাঁড়া নিয়ে আজও তিনি কংগ্রেসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিশ্বাস করে ভরসা করে গোটা জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন তিনি এটা দেখে বড়ো ভালো লাগে আমার। 

চারিদিকে যখন দ্রুত ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নানা ভাবে শিরদাঁড়া হেলিয়ে দিয়ে এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ানোর প্রতিযোগিতা চলছে। এই মা মাটি আর মানুষের জমানায়। সেখানে সেই ক্ষমতায় দুর্বল হয়ে হয়ে যাওয়া আব্দুল মান্নান দাকে দেখলে এটা মনে হয় যে ক্ষমতায় টিকে থাকা আর অর্থ উপায় করার জন্যই রাজনীতির ময়দানে নেমে পড়া নয়। কিছু আদর্শ, কিছু নীতি, কিছু শিরদাঁড়ার জোর নিয়েই বেঁচে থাকতে হয় এই পঙ্কিল রাজনীতিতে। আর সাধারণ মানুষের জন্য কিছু উপকার করে যেতে হয়। 

যেটা বোধহয় কিছুটা হলেও সেই কাজ তিনি করেছেন তাঁর রাজনীতির সুবর্ণ যুগে হাসি মুখে কাউকে কিছুই বুঝতে না দিয়ে। কোনো কিছুর বিনিময়ে নয়। যা আমায় বঙ্গভবনের সেই মালদা, মুর্শিদাবাদের ছেলে গুলো বলেছিল দাদা আমাদের ভগবান। না হলে আমরা কি করে বাঁচতাম এই চাকরিটা না পেলে। আজ রাজনীতির ময়দান থেকে দূরে সরে গিয়েও আমাদের সবাইকে সেটা তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, সেই সাদা ধুতি আর সাদা পাঞ্জাবি পরা সদা হাস্যময় কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান। 
ভালো থাকবেন মান্নান দা। একদিন দেখা করব আপনার সঙ্গে। সেই পুরোনো দিনের গল্প শুনবো আপনার কাছে। আর আপনি বলবেন অভিজিৎ তুমি কিন্তু না খেয়ে যাবে না কিছুতেই। আর আমি বলব না দাদা পরদিন ঠিক খাবো। আজ আমার তাড়া আছে। আপনার ঘরের পাশ দিয়ে গঙ্গার জল দেখে বলবো সত্যিই আপনার এই বাড়িটা খুব সুন্দর জায়গায়।আপনিও হুটার বাজিয়ে কলকাতা ছুটবেন তারপর। আমিও খবরের দৌড়ে ছুটে বেড়াবো এই বুড়ো বয়সে। আমাদের হারিয়ে যাওয়া দিনের এই ছবি, এই স্মৃতি জড়িয়ে তো বেঁচে থাকা। 

কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান - অভিজিৎ বসু।
আঠাশ অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হারিয়ে যাওয়া চিঠি

আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় শুধু চিঠি আর চিঠি। হ্যাঁ, সেই সাদা কালো অক্ষরে লেখা নানা ধরনের চিঠির কথা। খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে একদম হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই বয়সেও তিনি বেশ বুকে সাহস নিয়ে আর সহজ সরল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে খোলা চিঠি প্রেরন করেছেন। সত্যিই এই কাজকে অসাধারণ বলতে কিন্তু লজ্জা নেই কোনও।রাজনীতির ময়দানে এই মানুষটাকে যত দেখি ততো যেনো মুগ্ধ হয়ে যাই।  এমন একটা সময়ে তিলোত্তমা খুনে দোষীদের শাস্তি চেয়ে ও জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর কাছে বামফ্রন্টের এই খোলা চিঠি। জানা নেই এই ফ্রন্ট এখনও কতটা সক্রিয় হয়ে ফ্রন্টফুটে ব্যাট করতে সক্ষম এই কঠিন পিচে। তবুও সেই বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু রাহুল দ্রাবিড় বা সুনীল গাভাস্কার এর মত বাউন্সার বল সামলে পত্রবোমা ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে। তিনি জানেন না এর ফল পাল্টা অভিঘাত কি হবে।  আসলে এই খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন করা আর অনশন করা চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ত...

ভোরের গন্ধ

ভেঙে ফেলা আস্ত একটা বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে চোখের আঙিনায়, কেমন দাঁত মুখ বের করে ছন্নছাড়া হয়ে, অতীতকে সযত্নে জড়িয়ে, আঁকড়ে। বাড়ির গাড়ি বারান্দার নিচে জমে থাকা সাইকেলের চাকায়, সুতো জড়িয়ে থাকার মতো কত মানুষের জীবন জড়িয়ে ছিল, এই পুরোনো বাড়িতে। বাড়ির শ্যাওলা পড়া দেওয়ালে সেই জীবনের সোঁদা গন্ধ, ঘাম এর দাগ এখনো লেগে আছে এদিক ওদিক। খুঁজলে হয়তো মিলবে আরও দু চার আনার স্মৃতির অকেজো সব তামাটে পরশ পাথর। আসলে মাটি উপড়ে,স্মৃতির উত্তাপ কে মুছে দিয়ে নতুন করে বিচিত্র সব রোজগারির, অপচেষ্টা আর কি। যে লাভের, লোভের, চেষ্টার গলায় লাগাম আর পরাবে কে। দুর থেকে জানলা দিয়ে দেখি শুকনো কলাপাতার ওই ম্রিয়মান নিষ্ফলা হাসি। বট ফলের আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা, যজ্ঞি ডুমুর গাছের পাতায় পিছলে পড়া স্মৃতির নরম উত্তাপ। যে উত্তাপে আজও জারিত হই আমি অনায়াসেই প্রতিদিন সকাল হলেই। ভোরের বেলায় পাখির ডাক শুনে ঘুম জড়ানো চোখে ওদের মন কেমন করা কথা শুনতে পাই না আর। বোধহয় ওরাও বুঝে গেছে তাদের গলায় লাগাম পড়েছে এবার আচমকাই। তাই পথ ভুলে তারাও আসেনা আর কিছুতেই  এদিক পানে। পশ্চিমী হাওয়া ঠেল...

ইটিভির বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য

কত দিন ধরেই তো খুঁজে বেড়াচ্ছি আমি বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যকে। সেই কোথায় যে হারিয়ে গেলো কে জানে সেই বিখ্যাত সাংবাদিকটি। সেই কেমন হাসিখুশি জীবন নিয়েও হাজারও বড়ো অ্যাসাইনমেন্টে গিয়েও কত কুল থাকা যায় সেটা আমি বিশ্বজিৎদাকে দেখে শিখলাম আর কী। সেটা সেই জঙ্গলে মাওবাদী নেতাদের সাথে কথা বলতে যাওয়া হোক বা তাঁদের কোনোও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার নেওয়া হোক। কিম্বা আলিমুদ্দিন স্ট্রীট এর অফিসে গিয়ে বিমান বসুর সাথে একান্তে কথা বলা হোক। কিম্বা অনিল বিশ্বাসের মুখোমুখি হয়ে কথা বলা হোক। কিম্বা সেই মূখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বন্যাদুর্গত এলাকা আরামবাগ মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতি দেখতে হাজির হয়েছেন। খুব সম্ভবত বিশ্বজিৎ দা হাজির আকাশ বাংলা চ্যানেল থেকে সেই সময়। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কথা বলছেন গ্রামের মানুষদের সঙ্গে একটু দূরে। রিপোর্টার আর ক্যামেরাম্যানকে আটকে দিয়েছে পুলিশ। যাতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমরা কেউ যেতে না পারি। আমি উত্তেজিত কিন্তু আমার পাশে দাঁড়িয়ে একদম নির্বিকার হাসিমুখ বিশ্বজিৎদার কথা ছাড় তো, আমাদের যেতে না দিলে আমরা কি করবো। প্রচার হবে না ওদেরই। একটু পরেই সেটা বুঝত...

কুড়ি থালা দশ টাকা আর রসিক মুলুর জীবন

নাম মুলু হাঁসদা। বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানার চরিচা গ্রাম পঞ্চায়েত এর চর ইচ্ছা রঘুবরপুরের বাসিন্দা মুলু। আজ মুলুর জীবন কথা। গ্রামের নামটা ভারী অদ্ভুত। চর ইচ্ছা রঘুবরপুর। যে গ্রাম অন্য পাঁচটা গ্রামের মতই।সাদামাটা এই গ্রামে দারিদ্র্য, অপুষ্টি আর কর্মহীন জীবনের জলছবি সুস্পষ্ট। আর সেই গ্রামের মহিলারা নিজেদের সংসার রক্ষা করতে গাছের পাতাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। গাছের পাতা মুলুদের জীবনের জিয়ন কাঠি। যে জিয়ন কাঠিতে তারা ভোর হতেই পেটের টানে চলে যায় জঙ্গলে। খস খস শব্দ করে পায় হেঁটে তারা পাতা তোলে। গাছ থেকে টুপ টাপ করে ঝড়ে পড়া পাতাকে একটা একটা করে নিজের শাড়ির আঁচলে ভরে নেয়। তার পর সব পাতাকে বস্তায় ভরে ঘরে ফেরে।  ঠিক যেভাবে তারা পুকুরে নেমে শামুক গেঁড়ি আর গুগলি তোলে। যে ভাবে তাদের উদর পূর্তি হবে বলে। আর এই পাতাও যে তাদের পেট ভরায়। একটা একটা পাতাকে নিজের সন্তানের মতো আলগোছে ছুঁয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায় মুলু, বলে তোরা না থাকলে কি করতাম কে জানে। মাথার ওপর শাল সেগুনের বিশাল আকারের গাছগুলো চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে আর তারা চুপ করে শোনে মুলুর কথা।  একে অপ...

আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলা

আঁকাবাঁকা পথ ধরে আমার এগিয়ে চলা। এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে এগিয়ে চলা। যে জীবনে আবাহন আর বিসর্জন নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই কোনোদিন। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে সুখ আবার দুঃখও। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে নতুন কিছু পাওয়ার আশায় আনন্দে উদ্বেলিত হওয়া। আবার আমার এই সাদা জীবনের কালো কথা বা কালো জীবনের সাদা কথার ছোপ ছোপ দাগ। সেই বাঘের গায়ে ডোরা কাটা দাগ নিয়ে বেঁচে থাকা আমার। একদম নিজের মতো করেই যেখানে কারুর কাছে কোনোভাবেই তাঁর বশ্যতা মেনে নিয়ে নয় যেটা আমি পারলাম না কোনোভাবেই কোনওদিন।  তবুও জীবন যাপন তো করতেই হয় আমাদের। যে জীবনের বাঁশবনের ছায়ায় বসে দেখতে হয় বাঁশপাতার মাঝে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফিঙের নাচন। সেই ঝিরিঝিরি পাতার ফাঁকে মিষ্টি রোদের নরম আলো ছায়ার খেলা। যে খেলা দেখতে আমার বেশ ভালই লাগে আজকাল। যে খেলায় কত চেনা মুখের অচেনা ছবি যে ধরা পরে যায় হঠাৎ করেই কে জানে। আমি সেই ছবির ভীড়ের মাঝে কেমন বেঁহুশ হয়ে নিজেই হারিয়ে যাই এদিক, ওদিক, সেদিক। চেনা অচেনার পথ ধরে বাঁশবনের ছায়া মেখে হারিয়ে যাওয়া সেই জীবন। যে জীবনে সাদা কালো কত কিছুই না থেকে যায় দাগ র...