সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান

বহুদিন পর মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে সেই বহু পুরোনো বাংলার রাজনীতিতে অতি পরিচিত এই মুখটার ছবি খুঁজে পেলাম আমি হঠাৎ। একসময় সব চ্যানেলে প্রচারিত হতো তাঁর কথা, তাঁর ফোন ইন, তাঁর ছবি দেখতে পেতাম আমরা নানা ঘটনা ঘটলেই টিভির পর্দায়। আজ সেই বাংলার কংগ্রেসের রাজনীতিতে এক সময়ের জনপ্রিয় এই রাজনৈতিক নেতার ছবিটা কেমন হারিয়ে গেছে যেনো ধীরে ধীরে। হ্যাঁ, কোথায় যে গেলেন আব্দুল মান্নান দা কে জানে। সেই চেনা মুখের হাসি। চেনা ছবিটা বহুদিন ধরেই দেখা যায় নি আর। 
তাই আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় সেই বহু পুরোনো কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নানদার কথা। 
হুগলী জেলায় কাজ করার সুবাদে মান্নান দার সঙ্গে আমার পরিচয় বহু দিন এর পুরোনো। মান্নান দা যখন কলকাতার রাজপথে কাজ করা সাংবাদিক ছাড়া কথা বলতেন না একদম। ফোন ধরতেন না জেলার ছোটো খাটো সাংবাদিক এর। যখন তিনি দাপিয়ে কংগ্রেসের রাজনীতিতে মাঠে নেমে রাজনীতি করছেন সেই সময়েও তিনি যে কোনো দরকারে, যে কোনো বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বলতেন অভিজিৎ আমি কলকাতা বেরিয়ে যাবো কিন্তু। আমি বলতাম দাদা পাঁচ মিনিট সময় লাগবে আমি আসছি কোনোদিন না করেন নি তিনি সেই সময়। হাসি মুখে সব আবদার মেনে নিতেন তিনি আমার। 

সাদা ধুতি, পাঞ্জাবি বেশ সুন্দর একটা হাসি মুখ নিয়ে কখনও সেই চাতরার পুরোনো বাড়িতে, কোনো সময় শেওড়াফুলির সেই পার্টি অফিসে আবার কোনো সময় চাতরা কুমোরপাড়ার গঙ্গার ধারের কাছের সেই বাড়িতে থাকতেন তিনি। বলে দিতেন কোথায় যেতে হবে। বাড়ি গেলেই সকাল বেলায় খাবার জন্য খুব পিড়াপিড়ি করতেন তিনি। খুব অতিথি পরায়ন মানুষ মান্নান দা। আসলে ভীড় উপচে পড়া নেতাদের উপস্থিতি, তাঁদের কাছে সব ভীড় করে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দেখে মনে পড়ে গেলো কংগ্রেস এর সেই একদম শীর্ষ স্তরের নেতাদের কাছে স্বচ্ছন্দে পৌঁছে যাওয়া সেই নেতা কিন্তু সারা জীবন আর দলবদলে অন্য দলের পতাকা হাতে তুলে নিলেন না তিনি কোনোদিনই। সারা জীবন সেই কংগ্রেসেই থেকে গেলেন তিনি। এটা আমার বেশ ভালো লাগে মান্নান দার এই ব্যাপারটা। 

একসময় যে মানুষটা কংগ্রেসী রাজ্যে রাজনীতিতে বেশ শক্ত ভালো জায়গায় বিচরণ করতেন। কংগ্রেসের হাজার বহুধা বিভক্ত এই দলের মধ্যে তিনি কিন্তু বেশ খুশি মনেই সেই পুরোনো দিনের কংগ্রেসের সাথেই সারা জীবন কাটিয়ে দিলেন তিনি। আরামবাগ থেকে চাঁপদানী চলে আসা। তারপর হুগলীর রাজনীতিতে থেকেও রাজ্য রাজনীতিতে একটা বড়ো ভূমিকা পালন করতেন তিনি। কিন্তু সেটা মুখে কোনোদিন বলতেন না তাঁর এই হট লাইনের কথা কাউকেই। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হয়ে তাঁর সাথে কোনো দিন বিধান সভার অন্দরে প্রবেশ করতে পারিনি আমি। কিন্তু আমার এক হুগলীর বন্ধুকে মান্নান দা প্রতিদিন একসাথে তাঁর নিজের গাড়ি করে হুগলী থেকে নিয়ে এসে কলকাতায় অফিস পৌঁছে দিতেন। আসলে আগেকার দিনের এই যে সব মানুষগুলো তাঁদের কাছে এইসব বিষয় সমূহ কিছুটা শিক্ষণীয়। যা আমার সাথেও অনেকবার অনেক ঘটনা ঘটেছে। 

আমার মনে আছে আমি দিল্লী বেড়াতে গেছি বঙ্গভবনে উঠেছি। মান্নান দা সেটা জানতেন। বললেন অভিজিৎ তুমি কবে যাবে আমি বললাম দাদা, আমি এই দুদিন বঙ্গভবনে থাকবো। দেখলাম মান্নান দা আগেই ফোন করে আমার নাম বলে রেখেছেন। সেই ভরা সিপিএম আমলে মান্নানদার নিজের জেলার একজন পাতি জেলার রিপোর্টার এর জন্য কত যে খাতির যত্ন করেছিল সেই সময় বঙ্গভবনের লোকজন বাবুর্চিরা কি বলব আমি। পরে শুনেছিলাম এই বঙ্গ ভবনের বহু কর্মীকে মান্নানদা চাকরি দিয়েছিলেন তিনি। সেই আবু বরকত গনি খান চৌধুরীকে ধরে রেলমন্ত্রী থাকার সময়ে। তাই বাংলার বঙ্গভবনে কংগ্রেসী নেতার এই দাপট বেশ বেশি ছিল সেই ভরা বাম আমলে। এটা শুনে আমার বেশ ভালো লেগেছিল।

 নির্বাচনের দিন কলকাতার প্রদেশ কংগ্রেস অফিসে গিয়ে বসতে হবে কিন্তু সেই কলকাতা যাওয়ার আগে শ্রীরামপুরে ইটিভির অফিসে এসে লাইভ দিয়ে তারপর বলতেন অভিজিৎ দেরী হয়ে যাচ্ছে আমি চলি ভাই। পরে এসে একদিন চা খাবো আমি। আজ আর দাঁড়াতে পারবো না। আমি শুনতাম উনি খুব উন্নাসিক, কলকাতার বিগ রিপোর্টারদের সাথেই কথা বলেন জেলাকে পাত্তা দেন না তাঁর দিল্লির হট লাইনের জন্য। কিন্তু আমার সেই কথা কোনোদিন মনেই হয়নি। সেই ওনার পা জখম হয়ে যাওয়া ওনার বাড়িতে গঙ্গার ধারে বসে আমগাছের ডালে আম ঝুলছে ইন্টারভিউ নেওয়া তারপর অভিজিৎ খেয়ে যেতেই হবে কিন্তু তোমাদের। আমি আর মিন্টে কতদিন যে দাদা এই বাড়ী থেকে ভাত খেয়ে এসেছি বলে পালিয়ে এসেছি কে জানে।

 সেই ভোর বেলায় পুরী পৌঁছে আমাদের একটা ঘর এর ব্যবস্থা হয়েছে আর ঘর নেই কোথায় পুরীতে। অগত্যা মান্নানদাকে ফোন করলাম আমি বিপদে পড়ে। মান্নান দা বললেন আমিও পুরী এসেছি এই স্বর্গদ্বার পেরিয়ে মোহনার দিকে চলে এসো এই হোটেলে আমি আছি। চিন্তা করোনা ঘরের ব্যবস্থা ঠিক হয়ে যাবে। এমন কত যে উপকার হাসি মুখে কোনো হম্বি তম্বি না করেই করে দিতেন কোনো বড়ো নেতা মন্ত্রী না হয়েও কাউকে না জানিয়ে সেটা আর কি বলব। রাজ্যের যে কোনো ঘটনায় ইটিভি ছেড়ে নানা চ্যানেলে কাজ এর সুবাদে যে কোনো ফোন ইন এর জন্য তাঁর সেই বিখ্যাত নম্বরে ফোন করতাম আমি, বলতাম দাদা অভিজিৎ বলছি আমি। ও তুমি এই চ্যানেলে এখন। আবার নিজেই ওপর প্রান্ত থেকে বলতেন তোমরা কি আর করবে চাকরি তো করতেই হবে তোমাদের। বলে ফোন ইন দিতেন বাড়ী বসেই। 

একসময় তো একটা বাম আমলের চ্যানেলে সদ্য সেই চ্যানেল তখন তৃণমূল হয়েছে তাঁর ফোন যাবে না বলে ফরমান জারি করলেন বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ঘনিষ্ট এক বিখ্যাত এডিটর। সেই চ্যানেলের এক কর্মীকে নিয়েই মান্নান দা বিধানসভায় আসার আগে অফিস পৌঁছে দিতেন। হুটার বাজিয়ে হুশ করে হাসি মুখে অফিস পৌঁছে যেতো সেই আমার সহকর্মী কেমন একমুখ হাসি হেসে। কিন্তু সেই চ্যানেলে এই নেতার ফোন যাবে না বলায় আমি বেশ কষ্ট পেয়েছিলাম সেদিন। যাই হোক কি আর করা যাবে। এডিটরকে তো কিছুই বলা যাবে না। তারওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ঘনিষ্ট এডিটর বলে কথা। আজ যদিও সেই এডিটর এমন একটা চ্যানেলে কাজ করছেন যে চ্যানেলে অভূতপূর্ব ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভজনা করে না। সত্যিই বিচিত্র এই হিসেব আর নিকেশ।

 বহুদিন ধরেই মনে পড়ছে আমার সেই রাজ্য রাজনীতিতে হারিয়ে যাওয়া হাসি মুখের সেই আব্দুল মান্নানদার কথা। সেই যে পঁচিশে সেপ্টেম্বর এর সন্ধ্যা বেলায় সিঙ্গুরে বিডিও অফিস পৌঁছে গেলেন তিনি গাড়ি নিয়ে সিঙ্গুরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মান্নানদাকে দেখেই বললেন, আসুন মান্নান দা। দুজনের পাশে বসে হাসি মুখে কথা হলো। সব ক্যামেরায় সেই হাসি মুখের ছবি হলো। রাত বাড়লে কি হবে কি করা হবে কত যে আলোচনা হলো দুজনের। সুন্দর সম্পর্ক ছিল সেই সময়, আবদুল মান্নান আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর। আমার বেশ ভালই লাগত। সেই বিডিও ঘরে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে পাশে বসিয়ে আমাদের ইন্টারভিউ দিলেন। বললেন এই জোর করে জমি অধিগ্রহণ এর বিরুদ্ধে। সেই কংগ্রেসের প্রিয় রঞ্জন দাশমুন্সী গিয়েছিলেন সিঙ্গুরে সভা করতে। সেই সব দিনগুলো কিন্তু খারাপ ছিল না। 

এমন হাজারো টুকরো টুকরো স্মৃতি আমার মনে পড়ে যায় এই ভোরবেলার সময়। মান্নান দার ভাই মুজিবর শ্রীরামপুরে থাকেন মাঝে মাঝেই কথা হয় তাঁর সাথে বলে দাদা আমাদের এক রয়ে গেলো। কিছুই করলো না দাদা কারুর জন্য। সেই স্কুল মাস্টার এর চাকরি অবসর গ্রহণ আর কংগ্রেসী ঘরানার রাজনীতিতেই আস্থা রেখে সারাটা জীবনই কাটিয়ে দিলেন হাসি মুখে। খুব বেশি ক্ষমতার মসনদে বসার জন্য এর ওর কাছে হাতজোড় করে দাঁড়ালেন না তিনি। একটা পরিচ্ছন্ন ইমেজ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বেঁচে রইলেন তিনি। আমাদের সবার প্রিয় সবার খুব কাছের একজন রাজনীতিবিদ হয়ে। 

যে মানুষটাকে নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলতে পারেন হয়তো। তিনি নিজের গোষ্ঠীর লোক ছাড়া আর কাউকে সংগঠনে যুক্ত হতে দিতেন না। অন্যদের পাত্তা দিতেন না জেলার রাজনীতিতে। কাউকে ওপরে ওঠার সুযোগ দিতেন না। কিন্তু এই আমার মনে হয় যেখানে কিছু পাওয়ার আশায় একটু পদ পাওয়ার জন্য সব কিছু বিসর্জন দিয়ে অনেকে অনেক রকম ভাবে ঝুঁকে পড়ে নানা ভাবে কংগ্রেসের পতাকা ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করলেন। সেটাই আসল ট্রেন্ড হয়ে গেলো এই বাংলার রাজনীতিতে। কিন্তু মান্নান দা সেটা করতে পারলেন না এই জীবনে। আর পারলেন না বলেই বোধহয় আজ এই সাদা জীবনের কালো কথায় আজ ভোরবেলায় এত কিছু মনে পড়ে গেলো আমার। এত কিছু অনুভূতির কথা লিখতে পারলাম আমি এই ভোর বেলায় আমার এই ব্লগে। 

সেই সিপিএমের হাতে মার খেয়ে আমি হাসপাতালে ভর্তি আমি দেখলাম মান্নান দা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোক পাঠানোর আগেই শ্রীরামপুরে ওয়ালস হাসপাতালে এসে হাজির হলেন তিনি। কত ভীড় তাঁর সাথে। কংগ্রেসের নেতার সাথেও সেই ভীড় উপচে পড়া মানুষটা আজ একা, একদম একা হয়ে গেছেন অনেকটাই। ঘর বন্দী হয়ে গেছেন আজ তিনি। হয়তো এই তৃণমূলের রাজনীতির ঝাপটায় কিছুটা হলেও বেসামাল হয়ে গেছেন তিনিও। কিন্তু যে আদর্শ আর শিরদাঁড়া নিয়ে আজও তিনি কংগ্রেসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিশ্বাস করে ভরসা করে গোটা জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন তিনি এটা দেখে বড়ো ভালো লাগে আমার। 

চারিদিকে যখন দ্রুত ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নানা ভাবে শিরদাঁড়া হেলিয়ে দিয়ে এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ানোর প্রতিযোগিতা চলছে। এই মা মাটি আর মানুষের জমানায়। সেখানে সেই ক্ষমতায় দুর্বল হয়ে হয়ে যাওয়া আব্দুল মান্নান দাকে দেখলে এটা মনে হয় যে ক্ষমতায় টিকে থাকা আর অর্থ উপায় করার জন্যই রাজনীতির ময়দানে নেমে পড়া নয়। কিছু আদর্শ, কিছু নীতি, কিছু শিরদাঁড়ার জোর নিয়েই বেঁচে থাকতে হয় এই পঙ্কিল রাজনীতিতে। আর সাধারণ মানুষের জন্য কিছু উপকার করে যেতে হয়। 

যেটা বোধহয় কিছুটা হলেও সেই কাজ তিনি করেছেন তাঁর রাজনীতির সুবর্ণ যুগে হাসি মুখে কাউকে কিছুই বুঝতে না দিয়ে। কোনো কিছুর বিনিময়ে নয়। যা আমায় বঙ্গভবনের সেই মালদা, মুর্শিদাবাদের ছেলে গুলো বলেছিল দাদা আমাদের ভগবান। না হলে আমরা কি করে বাঁচতাম এই চাকরিটা না পেলে। আজ রাজনীতির ময়দান থেকে দূরে সরে গিয়েও আমাদের সবাইকে সেটা তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, সেই সাদা ধুতি আর সাদা পাঞ্জাবি পরা সদা হাস্যময় কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান। 
ভালো থাকবেন মান্নান দা। একদিন দেখা করব আপনার সঙ্গে। সেই পুরোনো দিনের গল্প শুনবো আপনার কাছে। আর আপনি বলবেন অভিজিৎ তুমি কিন্তু না খেয়ে যাবে না কিছুতেই। আর আমি বলব না দাদা পরদিন ঠিক খাবো। আজ আমার তাড়া আছে। আপনার ঘরের পাশ দিয়ে গঙ্গার জল দেখে বলবো সত্যিই আপনার এই বাড়িটা খুব সুন্দর জায়গায়।আপনিও হুটার বাজিয়ে কলকাতা ছুটবেন তারপর। আমিও খবরের দৌড়ে ছুটে বেড়াবো এই বুড়ো বয়সে। আমাদের হারিয়ে যাওয়া দিনের এই ছবি, এই স্মৃতি জড়িয়ে তো বেঁচে থাকা। 

কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান - অভিজিৎ বসু।
আঠাশ অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

সুসমীর ও আমি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ আমার কলেজের বন্ধু সুসমীর এর কথা। ওর ভালো নাম সমীর ঘোষ। ওর বাড়ী শ্রীরামপুরে। আমার সাথে ওর আলাপ শ্রীরামপুর কলেজে পড়ার সময়। সেটা আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর আগের কথা হবে। আসলে কলেজের বেঞ্চিতে বসে ওর গলার গান শুনে মুগ্ধ হয়েছি আমরা সবাই। ছেলে মেয়ে সবাই ওর গানের ভক্ত হয়ে গেলাম একদিন ওর গান শুনেই। মেয়েরা তো ওর ফ্যান হয়ে গেলো ওর গানের জন্য।  পরে আমাদের কলেজ জীবন শেষ করে আমরা এদিক ওদিক টুকটাক কাগজে লেখার জগতে দুজনেই প্রবেশ করেছি আমরা। একদিন খুব সম্ভবত বর্তমান কাগজে বিজ্ঞানের পাতায় দেখলাম সুসমীর দাস নামে এক জনের লেখা বেরিয়েছে।সেই সময় বিজ্ঞানের পাতা দেখতেন বর্তমানের রূপকুমার বসু। আমার সাথেও পড়ে রূপদার আলাপ হয়েছিল এই লেখার সূত্রেই।  মনে পড়ে প্রতি লেখায় পঞ্চাশ টাকা দিত বর্তমান‌ কাগজ সেই সময়। সমীর তখন বিজ্ঞান নিয়ে লিখছে, আকাশবাণী তে নানা অনুষ্ঠান করছে। এরপর তারা নিউজ ডেস্ক এর কাজে যোগদান করে সে। দীর্ঘ দিন তারা নিউজ এর কাজ করেছে সে। এই হলো সুসমীর এর জীবনের রেখাচিত্র।  কিন্তু আমার সাদা জীবনের এমন এক সাদা মানুষের ...

ভূত চতুর্দশীর সেই রাত

জীবনে আলো নেই, এদিকে ঘরে টুনি লাইট লাগাচ্ছি আর স্টাইল করে ছবি তুলছি। সত্যিই কত বিচিত্র আয়োজন আর বিচিত্র জীবন। ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যার আলোকজ্বল এই অমলিন, ঝাপসা, ম্রিয়মান এই ছবিটা ধরা থাকলো আমার জীবনের টাইমলাইনের ফেসবুকের পাতায় আলতো করে।  ঘরের দুয়ারে বাতি দিয়ে অন্ধকারের রাজ্যে চলে যাওয়া। আর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া আমার আত্মীয়দের পথ দেখালাম আমি। হ্যাঁ, যে পথ ধরে আমাদের ছেড়ে যাওয়া মানুষজন এসেছিলেন তাঁরা সেই মহালয়ার পুণ্য প্রভাতে। তাঁদের তর্পণ করে স্বাগত জানিছিলাম আমরা সবাই। এতদিন ধরে এই উৎসবের আনন্দে আলোকমালায় কেমন ঘুরে বেড়ালেন তাঁরা খুশি মনে। আজকের রাত তাঁদের আবার সেই ফিরে যাওয়ার রাত। যে রাতে ঘুম আসেনা কিছুতেই। যে রাতের অন্ধকারে কত কিছুই যে ঘটে যায়।   যাঁরা এতদিন এই পৃথিবীর টানে, আপনজনদের টানে পৃথিবীর কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই তাঁরাই আজ আমাদের ছেড়ে প্রিয়জনদের সবাইকে ছেড়ে ধীরে ধীরে চলে যাবেন দূরে,অনেক দূরে। আর আমরা তখন ঘরের দুয়ারে, উঠোনে তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালিয়ে সেই তাঁদের যাত্রাপথকে সুগম করবো আলোক সজ্জা দিয়ে। এটাই হলো ভূত চতুর্দশীর সেই আল...

কুণাল ঘোষের বার্তা ও টোটো চালকের কিছু কথা

কুণাল দার সাথে কাজ করিনি আমি কোনোদিন। বাংলা সংবাদের জগতে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত সাংবাদিক আছেন। যাঁদের নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে এই বাংলার মিডিয়ায়। আজ সেই কুণাল ঘোষ সংবাদ প্রতিদিন কাগজ থেকে কনসাল্টিং এডিটর পোস্ট থেকে সরে গেলেন। একদিকে তাঁর বিধায়ক হয়ে যাওয়া সরকার এর বদল হয়ে যাওয়া। আর তাই তিনি প্রতিদিন কাগজের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন তেমন এক বার্তা দিলেন তিনি নিজেই।  কুণাল ঘোষ এর সাথে আমার আলাপ বিশেষ নেই। সেই মহাকরণে করিডর দিয়ে তিনি হেঁটে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের দিকে। তাঁর আগে পিছে সংবাদ মাধ্যমের কাজ করা রিপোর্টারদের ভীড় তাঁকে ঘিরে ভীড় করে আছেন আমিও দূরে আছি দাঁড়িয়ে। সেই বহু বছর আগে হাফ শার্ট পরে বিকেলের দিকে মদন মিত্রের অফিসে আসতেন। ২৪ চৌরঙ্গী রোড এর অফিসে ধর্মতলার কাছে। সান্ধ্য প্রতিদিন কাগজ পকেটে নিয়ে। রণজিৎ থাকতো সেই সময়। সেই সব দিন এর কথা মনে পড়ে যায় আজ আমার। সেই কঠিন বাম আমলে তাঁকে কাজ ছেড়ে চলে যেতে হয়নি একদমই। আর আজ সরকার বদলের সাথে সাথেই দিকে দিকে কাজ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেছে যে চারিদিক জুড়েই এই বাংলার মিডিয়ায়।  ইটিভির কাজের স...

রক্তাক্ত আমি

অর্থহীন, শব্দহীন,জীবনের অপমান বড়ই যন্ত্রণার। জীবনের অনুরণনে অপমানের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, শুনতে শুনতে ধীর পায়ে এগিয়ে চলা। ছিপখান ডিঙ্গি নৌকা বেয়ে নিজের মত করে অন্তরীণ হয়ে ভেসে বেড়ানো, এদিক থেকে ওদিক পানে। শঙ্খচিলের ডানায় তখন, রামধনুর সাত রঙ এর স্বপ্নের ঘুম জড়ানো ভোরের আস্তরণ। শালিকের ভেজা পায়ে, জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দের বাঙময় অব্যক্ত ধাক্কা। যে ধাক্কায় দ্বিখণ্ডিত হয় জীবনের অর্থ, অনর্থ, সৃষ্টি, অনাসৃষ্টি, সুখ, অসুখ,ভালোবাসা, ঘৃণা আরও কত কি।  চোখ খুলে দেখি বদলে গেছে, জীবনের উপল উপত্যকার ঢেউ খেলানো রাস্তার, সোজাসাপ্টা সেই বহু চেনা গলিপথ। যে গলিপথের চেনা রাস্তায় হাঁটতে নেমে রক্তাক্ত হই আমি বার বার। তবু রাতের আঁধার গায়ে মেখে রক্তাক্ত আমি ঘুরে, বেড়াই এদিক থেকে ওদিক। হাতড়ে খুঁজে বেড়াই রামধনুর রং মাখা ভোর। রক্তাক্ত আমি - অভিজিৎ বসু। ষোলো জুন, দু হাজার চব্বিশ।