সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হারিয়ে যাওয়া চিঠি

আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় শুধু চিঠি আর চিঠি। হ্যাঁ, সেই সাদা কালো অক্ষরে লেখা নানা ধরনের চিঠির কথা। খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে একদম হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই বয়সেও তিনি বেশ বুকে সাহস নিয়ে আর সহজ সরল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে খোলা চিঠি প্রেরন করেছেন। সত্যিই এই কাজকে অসাধারণ বলতে কিন্তু লজ্জা নেই কোনও।রাজনীতির ময়দানে এই মানুষটাকে যত দেখি ততো যেনো মুগ্ধ হয়ে যাই। 


এমন একটা সময়ে তিলোত্তমা খুনে দোষীদের শাস্তি চেয়ে ও জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর কাছে বামফ্রন্টের এই খোলা চিঠি। জানা নেই এই ফ্রন্ট এখনও কতটা সক্রিয় হয়ে ফ্রন্টফুটে ব্যাট করতে সক্ষম এই কঠিন পিচে। তবুও সেই বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু রাহুল দ্রাবিড় বা সুনীল গাভাস্কার এর মত বাউন্সার বল সামলে পত্রবোমা ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে। তিনি জানেন না এর ফল পাল্টা অভিঘাত কি হবে। 

আসলে এই খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন করা আর অনশন করা চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবেদন এই মুখ্যমন্ত্রী মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই আন্দোলনের বিষয়টি একটু দেখুন ও চিকিৎসকদের সঙ্গে অবিলম্বে আলোচনায় বসুন তিনি। আন্দোলনকারী চিকিৎসক দের দশ দফা দাবি মেনে নিয়ে এখনই বা দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হোক। না হলে যে গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সেই আবেদন জানিয়েই খোলা চিঠি বিমান বসুর। এত গেলো এই রাজনীতির মাঠের সেই মুক্ত বাতাসে খোলা চিঠির কথা। 

এই চিঠির ইতিহাস  ঘাঁটতে গিয়ে দেখলাম যে চিঠি হলো একজনের পক্ষ থেকে অন্য জনের জন্য লিখিত বার্তা। যা দুপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখে। বন্ধু ও আত্মীয়দের আরও ঘনিষ্ট করে। পেশাদারি সম্পর্কের উন্নয়ন করে ও নিজেকে প্রকাশের একটা সুযোগ দেয়। এমনকি সাক্ষরতা টিকিয়ে রাখতেও একসময় এই চিঠির অবদান ছিল। বহু প্রাচীনকাল থেকেই এই চিঠির আদান প্রদান ছিল। ইলিয়াডে সেই কথার উল্লেখ আছে। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের প্রতি এডওয়ার্ড টেলার এবং লিও শেলার্ডের লেখা সেই বিখ্যাত আইনস্টাইন এর চিঠি যে চিঠিতে পারমাণবিক বোমা তৈরীর প্রস্তাব ছিল। আর এই সব ঐতিহাসিক ভাবে, চিঠির প্রচলন ছিল প্রাচীন ভারত, মিশর, সুমের, প্রাচীন রোম, এবং চীনে। এই দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলার যুগেও যা সমানভাবে এর চল আজও আছে। সতেরো আর আঠারো শতকে চিঠি লেখা হতো স্ব শিক্ষার জন্য। চিঠি ছিল পাঠ চর্চা, অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা আর কিছু মত বিনিময়ের পদ্ধতি।


 আবার কিছু লোক এটাকে কেবলমাত্র নিছকই লেখালেখি ভাবতো। বাইবেলের বেশ কিছু পরিচ্ছেদ এই চিঠির মাধ্যমে লেখা হয়েছে। আবার কোনো সময় এই চিঠি শিল্পের রূপ পায় যে সেটা সাহিত্যের বিষয় হয়ে ওঠে যেমন বাইজেন্টাইনে এপিস্টোলোগ্রাফি বা সাহিত্যের পত্র উপন্যাস। অন্যদিকে যেমন বুদ্ধদেব গুহর সেই বিখ্যাত লেখা কুর্চিকে লেখা ঋভুর চিঠি। ঠিক তেমনি করেই সেই সিজার বোর্গিয়ার হাতে লেখা একটি চিঠি। সান্তা ক্লজকে লেখা এক শিশুর হাতে লেখা সেই বিখ্যাত চিঠি। আর্থার কোনান ডয়েলের লেখা সেই বিখ্যাত চিঠি। ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে এমন হাজারো চিঠির সুলুক সন্ধান পাওয়া যাবে। 

কিন্তু এই সব কিছুকে হারিয়ে দিয়ে একদম বোল্ড আউট করে দিয়ে যে চিঠি হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল সেটা হলো শনিবারের চিঠি। যা ছিল বাংলাভাষার অন্যতম বিখ্যাত একটি সাহিত্য সাময়িকী। যা বিংশ শতকের প্রথমার্ধে ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রবর্তিত হয়েছিল। এটি ছিল একটি সাপ্তাহিক কাগজ এবং এর মূল স্বত্বাধিকারী ছিলেন অশোক চট্টোপাধ্যায়। যোগানন্দ দাস ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। তবে আদ্যোপান্ত শনিবারের চিঠি'র প্রাণপুরুষ ছিলেন কবি-সাহিত্যিক সজনীকান্ত দাস। 


শনিবারের চিঠি দু‌ই পর্যায়ে প্রকাশিত হয়েছিল। এর প্রথম প্রকাশ ১০ই শ্রাবণ ১৩৩১ তথা ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে জুলাই। প্রতিষ্ঠালগ্নে সম্পাদক ছিলেন যোগানন্দ দাস। তবে ভাদ্র ১৩৩১/ ফাল্গুন ১৩৩১ সংখ্যা (সাপ্তাহিক একাদশ সংখ্যা) থেকে সজনীকান্ত দাস সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এতে যারা লিখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মোহিতলাল মজুমদার, হেমন্তকুমার চট্টোপাধ্যায়, নীরদচন্দ্র চৌধুরী, পরিমল গোস্বামী প্রমুখ। এঁদের ভাষা ছিল ব্যঙ্গময়; সমালোচনার লক্ষ্য ছিল পিত্ত জ্বালিয়ে দেওয়া। যে লেখায় হৈ চৈ পড়ে যেত। 


এই সাপ্তাহিক সাহিত্যপত্রটি ১৯৩০-৪০-এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাঙলা সাহিত্যের জগতে বিশেষ সাড়া জাগিয়েছিল। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের পথিকৃৎ কল্লোল, প্রগতি, কালি-কলম, পরিচয়, পূর্বাশা, কবিতা, চতুরঙ্গ প্রভৃতি পত্রিকাসমূহের সঙ্গে শনিবারের চিঠি’র নাম জড়িত ছিল অবিচ্ছেদ্যভাবে। রবীন্দ্রনাথ-প্রমথ চৌধুরী-শরৎচন্দ্র থেকে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ লেখকদের সংখ্যায় সংখ্যায় তুলোধোনা করে পত্রিকাটি সকলের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে গিয়েছিল।এই শনিবার এর চিঠিতে কবি জীবনানন্দ দাশের লেখাও আলোচনা করা হয়েছে যখন তিনি স্বল্পালোচিত কবি ছিলেন সেই সময়ে। 


এতো গেলো সব বিখ্যাত বিখ্যাত চিঠির কথা যা ইতিহাসের পাতা জুড়ে লেখা আছে, নানা ভাবে আর নানা রূপে। কিন্তু সেই যে হিন্দমোটরের চিলে কোঠার সেই ছাদ থেকে যে চিঠি চলে আসতো রিষড়াতে আমার বাড়িতে। দুজন কলেজের আলাপ হওয়া বন্ধু একে অপরকে মনের কথা লিখতো শুধু চিঠি বিনিময় করে। সেই ট্রেন আসার আগে বুক পকেটে চিঠি গুঁজে দিয়ে দৌড়ে লাফিয়ে চলন্ত ট্রেনে উঠে পড়া। তারপর ট্রেনের কামরাতে বসে ভজনের লেখা পড়ে আনন্দ পাওয়া অনাবিল আনন্দ আর নিরঙ্কুশ সুখ। রাতে ঘরে ফিরে সেই চিঠির উত্তর লেখার জন্য কলম ধরা বই এর পড়া বন্ধ করে। সেই চিঠির কথা কোথাও লেখা নেই কিন্তু এই সাদা জীবনের কালো কথায় যে এমন হাজার চিঠি খস খস শব্দ আজও জুড়ে আছে আমাদের দুজনের হৃদয়ে। যে অনাবিল অনাঘ্রাতা চিঠির গন্ধ আজও আমাদের দুজনের মেঠো সম্পর্কের মাঝে লুকিয়ে আছে সেই চিলেকোঠায় বন্দী হয়ে।

হ্যাঁ, সত্যিই এই চিঠি তো মানুষের মনের আয়না। যে আয়নায় নিজেকে দেখে নেওয়া একে অপরের কাছে। আর একটা খোলা চিঠি নয় খাম বন্ধ গোপন এক চিঠির কথা বলে শেষ করবো এই লেখা। যে চিঠির কথা, অনুভূতি, দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন, যে চিঠির মিষ্টি সুবাস, আমায় ভালবাসতে শিখিয়েছিল আমার যৌবনকালে। সেই কুর্চিকে ঋভুর ভালোবাসার মতই।

 যে চিঠি পাওয়ার আশায় আমি হাঁ করে তাকিয়ে থাকতাম কলেজের ক্লাস শেষ হলে সেই ফাঁকা রাস্তার দিকে তাকিয়ে। কোনোদিন চিঠি আসতো উড়ে উড়ে মিষ্টি গন্ধ ভরা সাদা খামে। কবুতর এর নরম বুকের গন্ধ মেখে। আর আমি মাঝ রাতে ভয়ে ভয়ে অতি সন্তর্পনে সেই চিঠির ভাঁজ খুলতাম। আশা আর স্বপ্ন নিয়ে। একবুক ভালোবাসা নিয়ে। সেই চিঠির উত্তর লিখতে বসে রাত ভোর হয়ে যেতো কখন টেরই পেতাম না আমি। তারপর ক্লাসের নোটস লেখার খাতায় তাড়াহুড়ো করে উত্তর লিখে মনে হতো ঠিক লিখলাম কি। 

কতদিন লেগেছিল সেই তুই থেকে তুমিতে আসতে আমাদের সেই চিঠির গভীর গোপন ভালোবাসার চিনচিনে সম্পর্কের সিলমোহর দিতে। যে সিলমোহর দেওয়ার পর সেই বামফ্রন্টের খোলা চিঠি নয়, সাদা খাম বন্ধ সেই চিঠি আমাদের গভীর গোপন ভালো বাসার দুজনের কাছে আসার প্রধান বাহন হয়ে গেলো যে কি করে সেটা বুঝতেই পারলাম না। সেই গঙ্গার তীরে বসে একে অপরকে ভয়ে ভয়ে বন্ধ খামে চিঠি বিনিময়। কেউ কারুর দিকে না তাকিয়ে। 

একজনের হাতের লেখা মুক্তোর মত। অন্যজনের লেখা সুন্দর নয়। কিন্তু এই দুজনের মনের আয়না কেমন যেনো অজান্তেই সেই সন্ধ্যা বেলায় ঘরে ফেরা পাখির ডানায় ভর করে তাদের মনের দরজা খুলে দিয়েছিল নিজেদের অজান্তেই একে অপরের কাছে। জানিনা কত যত্নে লেখা সেই চিঠিও আজ হারিয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে আমার অনেক কিছুই। 


তবু সব হারিয়েও যেনো এই প্রথম ভালোবাসার চিঠির খস খস শব্দ আজও রাতের অন্ধকারে পা টিপে টিপে আমার কাছে আসে। আমায় ঘুম থেকে তুলে দিয়ে বলে, একি সব চিঠি হারিয়ে ফেললে তুমি। আমি ধড়মড় করে ঘুম ভেঙে বিছানায় বসে হাতড়ে বেড়াই আমার সেই হারিয়ে যাওয়া চিঠিগুলোকে। সেই ভজনের লেখা চিলেকোঠার চিঠি, সেই গঙ্গার তীরে বসে পাওয়া মিষ্টি গন্ধ মাখা, কবুতরের বুকের নরম ওম মাখা চিঠিগুলোকে আজও খুঁজে বেড়াই আমি। রাতের অন্ধকারে খুঁজে বেড়াই আমি আমার হারিয়ে যাওয়া সেই চিঠিগুলোকে। 

হারিয়ে যাওয়া চিঠি - অভিজিৎ বসু।
পনেরো অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য গুগল।

মন্তব্যসমূহ

  1. আজ আর কেউ চিঠি লেখে না।চিঠির স্মৃতি কখনও কখনও বড়ই ভারক্রান্ত করে দেয় মনকে। হারিয়ে যাওয়া চিঠি হঠাৎ মনে করিয়ে দেয় অনেক কিছুই।চমৎকার লেখা।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো থাকবেন শঙ্খ শুভ্র বাবু

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক পুলিশ অফিসার এর কথা বলবো। বহুদিন পর আজ যার সাথে আচমকাই কথা হলো আমার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের লেখার মাধ্যমে বহু দিন, বহু কাল পরে। আচ্ছা আপনি কি সত্যিই টোটো চালান। তাঁর সরাসরি প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে আমি বললাম, না।  আসলে সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার বহু বছর আগে এস ডি পি ও শ্রীরামপুর হিসেবে কাজ করতেন আমার নিজের হুগলী জেলায় নিজের শহরে শ্রীরামপুরে। যে জেলায় আমিও একসময় দাপিয়ে ঘুরে কাজ করেছি একসময় এই জেলার সাংবাদিক হিসেবে। যদিও সেই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে বেঁচে থাকার অভ্যাস আমার নেই একদমই। সেটা কোনো কালেই ছিল না। যেহেতু আজ বহুদিন পর তাঁর সাথে একটু যোগাযোগ হলো তাই তাঁর কথা লিখতে ইচ্ছা হলো আমার। সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার হলেন শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী। একদম হিরো স্টাইল এর পুলিশ অফিসার। মারকুটে এই পুলিশ অফিসার। মস্তানদের ধরে রাস্তায় ফ্যাশন প্যারেড করানো সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার শঙ্খশুভ্র বাবু। যে কারণে হুগলী জেলায় মস্তান আর ডনদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে খবরের কাগজের পাতায় প্রতিদিন খবরে থাকতেন তিনি সেই সময়।  যার সময় খবর...

বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দোপাধ্যায়

এই বাংলার রাজনীতি। বিরোধী দল। বিরোধী দল নেতা। সেই আমলে সিপিএমের দোর্দণ্ড প্রতাপ দাপট। সেই দাপটেও একা কুম্ভ রক্ষা করে নকল বুঁদি গড়।‌ আর একটা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এর সন্ধান পাওয়া। যিনি সেই দলের ক্রাইসিসে, দলের দুর্দিনে যখন খুব খারাপ অবস্হা। আশংকাজনক অবস্থায় দল যখন এ পজিটিভ রক্তের এর অভাবে ভুগছে রক্তল্পতায়। দৌড় ঝাঁপ করছে, এদিক ওদিক ঘুরছে সেই অবস্থায় কেমন একাই সব সামলে দিয়েছেন তিনি দলকে নানা বিপদ থেকে উৎরে দিয়েছেন হাসিমুখেই। কাউকে কিছু টের না পেতে দিয়ে।  আর আবার তিনিই যখন সারারাত জেগে গোবিন্দপুর বস্তি আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হচ্ছে সবাই যখন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে রাত জাগছেন আর গলা ছেড়ে কেউ কেউ গান ধরছেন দিদিকে খুশী করতে। সেই সময় দিব্যি তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আর সত্যিই রাত জেগে অন্দোলন হচ্ছে কী না সত্যি না মিথ্যে কথা সেটা দেখতে বর্তমান তৃণমুলের এক বর্ষীয়ান সাংসদের স্ত্রী যিনি আজ আর বেঁচে নেই তিনি দেখতে ছুটে এসেছিলেন তাঁর অধ্যাপক স্বামীকে সেই রাতে গোবিন্দপুর বস্তির এলাকায়। আর এতো ঘটনা ঘটলেও তিনি ফোন বন্ধ করে গভীর নিদ্রায...

ঝড়

ভালোবাসার ভীড়ে ভরে উঠবে শহর থেকে গ্রাম। থিক থিকে ভীড়ে উড়বে ধুলোর কনা চারিদিকে। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যাবে শরীর, মন, প্রাণ। ধুলোর ঝড়ে হারিয়ে যাবে মনের মানুষ। হারিয়ে যায় গোটা জীবন।  জীবনের ছায়া মায়া মাখা পথে একা ঘুরে বেড়াই আমি। ভালোবাসার ভীড়ে আত্মাদের সাথে গা ঢাকা দিয়ে,  লুকিয়ে হাঁটি একা, একা। দেখি অন্ধকারের পথ জুড়ে শুধুই, ভালবাসার অভিনয় করা মানুষের ভীড়। মসৃণ রাস্তায় সরীসৃপের মত এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ায় তারা সন্তর্পনে। পায়ে পা মেলাই ধুলোর ঝড় গায়ে মেখে আনমনে,  ধুলি ধুসরিত হয়ে।  ঠিক যেনো ছাতিমের ডালে বসা ছাতারের মত। ঘোলা চোখের ধুলো মাখা দৃষ্টিতে, দুর পানে তাকিয়ে দেখি।  সূর্যের মিঠে আলোয়, ধুলোর কনা গায়ে মেখে  গোপন অভিসারে মত্ত প্রজাপতির দল। অভিনয়ের অভিসার নয়,  সত্যিই কারের ভালোবাসার অভিসার। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যায় আমার শরীর,মন, প্রাণ। ঝড় - অভিজিৎ বসু।

হ্যাপি বার্থডে টু ইউ

আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আমি তো অনেক সাংবাদিককে নিয়েই লিখি আমি। অনেকে বলেন কী বা হবে এই টোটো চালকের লেখা লিখে বলুন আপনারা এইসব আর কি বা পড়ে। কতজন এর সাথেই তো কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার এই দীর্ঘ ৩৫ বছরে। তবে এই অঙ্গীরা ব্যানার্জীর জন্মদিন গেলো সদ্য সদ্য। তাঁকে নিয়ে লিখতে গেলে একটু ভয়ই হয় বটে। যদি কিছু ভাবেন তিনি আর তাঁর সাথে জেলার সাংবাদিক হিসেবে কাজের সুযোগ ঘটেনি বলে। এক সময়ে সেই মুম্বাইয়ের এর তাজ হোটেলে জঙ্গী আক্রমণের সময়ে টিভির পর্দায় দেখেছি আমরা তাঁকে। সেই খুব সম্ভবতঃ ২৪ ঘণ্টার পর্দায় দেখেছি তাঁকে। কী দাপটে কাজ করেছেন তিনি সেই সময়।  সে এক ভয়ঙ্কর কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর এই সাংবাদিকতার জীবনে। আরও অনেক বড় বড় ঘটনার সাক্ষী সে। কলকাতাতে প্রয়াত অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিমে কাজ করেছে সে ক্রাইম বিটে সে বেশ বিখ্যাত দাপুটে রিপোর্টার ছিলেন তিনি সেই সময়ে। দিল্লী আর কলকাতা তে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। এই দিন কয়েক আগেই দেখলাম বহু দিনের পর দেশে এসেছেন তিনি দুবাই থেকে। বেনারস ভ্রমণে। টুক টাক কথা হলো যে তাঁর সাথে ফেসবুকের দুন...

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে তিনি থাকতেন একসময়। বর্তমানে গ্রাম ছেড়ে শহরে সল্টলেকে থাকেন তিনি বর্তমানে। আনন্দবাজার কাগজের প্রথম পাতায় তাঁর লেখা পড়ে আর নানা এক্সক্লুসিভ খবর পড়ে মুগ্ধ হতাম আমি একসময়ে। মনে মনে ভাবতাম যদি একবার এই বিখ্যাত রিপোর্টারকে তাঁকে দেখতে পেতাম একবার। তাহলে যেনো জীবন সার্থক হতো মোর। শুধু দু চোখের দেখা আর কিছুই নয়।  অবশেষে দর্শন হলো তাঁর সাথে আমার মহাকরণের প্রেস কর্নারে। সেই পল্লীডাক প্রেসে কত যে তাঁর নাম শুনতাম সেদিনের কাগজে তাঁর নামে লেখা বের হলেই তাঁর প্রসঙ্গ আসতো। সেই তারকেশ্বরের ফাল্গুনীদার কাছে শুনতাম। সেই টেলিগ্রাফের তারক এর মুখে শুনতাম। আর সেই তাঁকেই নিজের চোখে দেখলাম প্রেস কর্ণারের ভিতর। ইটিভির দীপক এর সাথে বেশ ভালই আলাপ দেখলাম। একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে। একদম সাদামাটা চেহারা। দেখতে খুব যে ঝাঁ চকচকে সেটা নয়। আনন্দবাজার এর ছাপ আছে কিন্তু সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। একবার এই মন্ত্রীর ঘর তো আবার অন্য মন্ত্রীর ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি সবসময়।  আর আমি আমার নিজের জেলার এহেন সাংবাদিককে দেখেই প্রথম দর্শন...