সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হারিয়ে যাওয়া চিঠি

আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় শুধু চিঠি আর চিঠি। হ্যাঁ, সেই সাদা কালো অক্ষরে লেখা নানা ধরনের চিঠির কথা। খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে একদম হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই বয়সেও তিনি বেশ বুকে সাহস নিয়ে আর সহজ সরল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে খোলা চিঠি প্রেরন করেছেন। সত্যিই এই কাজকে অসাধারণ বলতে কিন্তু লজ্জা নেই কোনও।রাজনীতির ময়দানে এই মানুষটাকে যত দেখি ততো যেনো মুগ্ধ হয়ে যাই। 


এমন একটা সময়ে তিলোত্তমা খুনে দোষীদের শাস্তি চেয়ে ও জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর কাছে বামফ্রন্টের এই খোলা চিঠি। জানা নেই এই ফ্রন্ট এখনও কতটা সক্রিয় হয়ে ফ্রন্টফুটে ব্যাট করতে সক্ষম এই কঠিন পিচে। তবুও সেই বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু রাহুল দ্রাবিড় বা সুনীল গাভাস্কার এর মত বাউন্সার বল সামলে পত্রবোমা ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে। তিনি জানেন না এর ফল পাল্টা অভিঘাত কি হবে। 

আসলে এই খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন করা আর অনশন করা চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবেদন এই মুখ্যমন্ত্রী মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই আন্দোলনের বিষয়টি একটু দেখুন ও চিকিৎসকদের সঙ্গে অবিলম্বে আলোচনায় বসুন তিনি। আন্দোলনকারী চিকিৎসক দের দশ দফা দাবি মেনে নিয়ে এখনই বা দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হোক। না হলে যে গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সেই আবেদন জানিয়েই খোলা চিঠি বিমান বসুর। এত গেলো এই রাজনীতির মাঠের সেই মুক্ত বাতাসে খোলা চিঠির কথা। 

এই চিঠির ইতিহাস  ঘাঁটতে গিয়ে দেখলাম যে চিঠি হলো একজনের পক্ষ থেকে অন্য জনের জন্য লিখিত বার্তা। যা দুপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখে। বন্ধু ও আত্মীয়দের আরও ঘনিষ্ট করে। পেশাদারি সম্পর্কের উন্নয়ন করে ও নিজেকে প্রকাশের একটা সুযোগ দেয়। এমনকি সাক্ষরতা টিকিয়ে রাখতেও একসময় এই চিঠির অবদান ছিল। বহু প্রাচীনকাল থেকেই এই চিঠির আদান প্রদান ছিল। ইলিয়াডে সেই কথার উল্লেখ আছে। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের প্রতি এডওয়ার্ড টেলার এবং লিও শেলার্ডের লেখা সেই বিখ্যাত আইনস্টাইন এর চিঠি যে চিঠিতে পারমাণবিক বোমা তৈরীর প্রস্তাব ছিল। আর এই সব ঐতিহাসিক ভাবে, চিঠির প্রচলন ছিল প্রাচীন ভারত, মিশর, সুমের, প্রাচীন রোম, এবং চীনে। এই দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলার যুগেও যা সমানভাবে এর চল আজও আছে। সতেরো আর আঠারো শতকে চিঠি লেখা হতো স্ব শিক্ষার জন্য। চিঠি ছিল পাঠ চর্চা, অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা আর কিছু মত বিনিময়ের পদ্ধতি।


 আবার কিছু লোক এটাকে কেবলমাত্র নিছকই লেখালেখি ভাবতো। বাইবেলের বেশ কিছু পরিচ্ছেদ এই চিঠির মাধ্যমে লেখা হয়েছে। আবার কোনো সময় এই চিঠি শিল্পের রূপ পায় যে সেটা সাহিত্যের বিষয় হয়ে ওঠে যেমন বাইজেন্টাইনে এপিস্টোলোগ্রাফি বা সাহিত্যের পত্র উপন্যাস। অন্যদিকে যেমন বুদ্ধদেব গুহর সেই বিখ্যাত লেখা কুর্চিকে লেখা ঋভুর চিঠি। ঠিক তেমনি করেই সেই সিজার বোর্গিয়ার হাতে লেখা একটি চিঠি। সান্তা ক্লজকে লেখা এক শিশুর হাতে লেখা সেই বিখ্যাত চিঠি। আর্থার কোনান ডয়েলের লেখা সেই বিখ্যাত চিঠি। ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে এমন হাজারো চিঠির সুলুক সন্ধান পাওয়া যাবে। 

কিন্তু এই সব কিছুকে হারিয়ে দিয়ে একদম বোল্ড আউট করে দিয়ে যে চিঠি হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল সেটা হলো শনিবারের চিঠি। যা ছিল বাংলাভাষার অন্যতম বিখ্যাত একটি সাহিত্য সাময়িকী। যা বিংশ শতকের প্রথমার্ধে ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রবর্তিত হয়েছিল। এটি ছিল একটি সাপ্তাহিক কাগজ এবং এর মূল স্বত্বাধিকারী ছিলেন অশোক চট্টোপাধ্যায়। যোগানন্দ দাস ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। তবে আদ্যোপান্ত শনিবারের চিঠি'র প্রাণপুরুষ ছিলেন কবি-সাহিত্যিক সজনীকান্ত দাস। 


শনিবারের চিঠি দু‌ই পর্যায়ে প্রকাশিত হয়েছিল। এর প্রথম প্রকাশ ১০ই শ্রাবণ ১৩৩১ তথা ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে জুলাই। প্রতিষ্ঠালগ্নে সম্পাদক ছিলেন যোগানন্দ দাস। তবে ভাদ্র ১৩৩১/ ফাল্গুন ১৩৩১ সংখ্যা (সাপ্তাহিক একাদশ সংখ্যা) থেকে সজনীকান্ত দাস সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এতে যারা লিখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মোহিতলাল মজুমদার, হেমন্তকুমার চট্টোপাধ্যায়, নীরদচন্দ্র চৌধুরী, পরিমল গোস্বামী প্রমুখ। এঁদের ভাষা ছিল ব্যঙ্গময়; সমালোচনার লক্ষ্য ছিল পিত্ত জ্বালিয়ে দেওয়া। যে লেখায় হৈ চৈ পড়ে যেত। 


এই সাপ্তাহিক সাহিত্যপত্রটি ১৯৩০-৪০-এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাঙলা সাহিত্যের জগতে বিশেষ সাড়া জাগিয়েছিল। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের পথিকৃৎ কল্লোল, প্রগতি, কালি-কলম, পরিচয়, পূর্বাশা, কবিতা, চতুরঙ্গ প্রভৃতি পত্রিকাসমূহের সঙ্গে শনিবারের চিঠি’র নাম জড়িত ছিল অবিচ্ছেদ্যভাবে। রবীন্দ্রনাথ-প্রমথ চৌধুরী-শরৎচন্দ্র থেকে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ লেখকদের সংখ্যায় সংখ্যায় তুলোধোনা করে পত্রিকাটি সকলের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে গিয়েছিল।এই শনিবার এর চিঠিতে কবি জীবনানন্দ দাশের লেখাও আলোচনা করা হয়েছে যখন তিনি স্বল্পালোচিত কবি ছিলেন সেই সময়ে। 


এতো গেলো সব বিখ্যাত বিখ্যাত চিঠির কথা যা ইতিহাসের পাতা জুড়ে লেখা আছে, নানা ভাবে আর নানা রূপে। কিন্তু সেই যে হিন্দমোটরের চিলে কোঠার সেই ছাদ থেকে যে চিঠি চলে আসতো রিষড়াতে আমার বাড়িতে। দুজন কলেজের আলাপ হওয়া বন্ধু একে অপরকে মনের কথা লিখতো শুধু চিঠি বিনিময় করে। সেই ট্রেন আসার আগে বুক পকেটে চিঠি গুঁজে দিয়ে দৌড়ে লাফিয়ে চলন্ত ট্রেনে উঠে পড়া। তারপর ট্রেনের কামরাতে বসে ভজনের লেখা পড়ে আনন্দ পাওয়া অনাবিল আনন্দ আর নিরঙ্কুশ সুখ। রাতে ঘরে ফিরে সেই চিঠির উত্তর লেখার জন্য কলম ধরা বই এর পড়া বন্ধ করে। সেই চিঠির কথা কোথাও লেখা নেই কিন্তু এই সাদা জীবনের কালো কথায় যে এমন হাজার চিঠি খস খস শব্দ আজও জুড়ে আছে আমাদের দুজনের হৃদয়ে। যে অনাবিল অনাঘ্রাতা চিঠির গন্ধ আজও আমাদের দুজনের মেঠো সম্পর্কের মাঝে লুকিয়ে আছে সেই চিলেকোঠায় বন্দী হয়ে।

হ্যাঁ, সত্যিই এই চিঠি তো মানুষের মনের আয়না। যে আয়নায় নিজেকে দেখে নেওয়া একে অপরের কাছে। আর একটা খোলা চিঠি নয় খাম বন্ধ গোপন এক চিঠির কথা বলে শেষ করবো এই লেখা। যে চিঠির কথা, অনুভূতি, দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন, যে চিঠির মিষ্টি সুবাস, আমায় ভালবাসতে শিখিয়েছিল আমার যৌবনকালে। সেই কুর্চিকে ঋভুর ভালোবাসার মতই।

 যে চিঠি পাওয়ার আশায় আমি হাঁ করে তাকিয়ে থাকতাম কলেজের ক্লাস শেষ হলে সেই ফাঁকা রাস্তার দিকে তাকিয়ে। কোনোদিন চিঠি আসতো উড়ে উড়ে মিষ্টি গন্ধ ভরা সাদা খামে। কবুতর এর নরম বুকের গন্ধ মেখে। আর আমি মাঝ রাতে ভয়ে ভয়ে অতি সন্তর্পনে সেই চিঠির ভাঁজ খুলতাম। আশা আর স্বপ্ন নিয়ে। একবুক ভালোবাসা নিয়ে। সেই চিঠির উত্তর লিখতে বসে রাত ভোর হয়ে যেতো কখন টেরই পেতাম না আমি। তারপর ক্লাসের নোটস লেখার খাতায় তাড়াহুড়ো করে উত্তর লিখে মনে হতো ঠিক লিখলাম কি। 

কতদিন লেগেছিল সেই তুই থেকে তুমিতে আসতে আমাদের সেই চিঠির গভীর গোপন ভালোবাসার চিনচিনে সম্পর্কের সিলমোহর দিতে। যে সিলমোহর দেওয়ার পর সেই বামফ্রন্টের খোলা চিঠি নয়, সাদা খাম বন্ধ সেই চিঠি আমাদের গভীর গোপন ভালো বাসার দুজনের কাছে আসার প্রধান বাহন হয়ে গেলো যে কি করে সেটা বুঝতেই পারলাম না। সেই গঙ্গার তীরে বসে একে অপরকে ভয়ে ভয়ে বন্ধ খামে চিঠি বিনিময়। কেউ কারুর দিকে না তাকিয়ে। 

একজনের হাতের লেখা মুক্তোর মত। অন্যজনের লেখা সুন্দর নয়। কিন্তু এই দুজনের মনের আয়না কেমন যেনো অজান্তেই সেই সন্ধ্যা বেলায় ঘরে ফেরা পাখির ডানায় ভর করে তাদের মনের দরজা খুলে দিয়েছিল নিজেদের অজান্তেই একে অপরের কাছে। জানিনা কত যত্নে লেখা সেই চিঠিও আজ হারিয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে আমার অনেক কিছুই। 


তবু সব হারিয়েও যেনো এই প্রথম ভালোবাসার চিঠির খস খস শব্দ আজও রাতের অন্ধকারে পা টিপে টিপে আমার কাছে আসে। আমায় ঘুম থেকে তুলে দিয়ে বলে, একি সব চিঠি হারিয়ে ফেললে তুমি। আমি ধড়মড় করে ঘুম ভেঙে বিছানায় বসে হাতড়ে বেড়াই আমার সেই হারিয়ে যাওয়া চিঠিগুলোকে। সেই ভজনের লেখা চিলেকোঠার চিঠি, সেই গঙ্গার তীরে বসে পাওয়া মিষ্টি গন্ধ মাখা, কবুতরের বুকের নরম ওম মাখা চিঠিগুলোকে আজও খুঁজে বেড়াই আমি। রাতের অন্ধকারে খুঁজে বেড়াই আমি আমার হারিয়ে যাওয়া সেই চিঠিগুলোকে। 

হারিয়ে যাওয়া চিঠি - অভিজিৎ বসু।
পনেরো অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য গুগল।

মন্তব্যসমূহ

  1. আজ আর কেউ চিঠি লেখে না।চিঠির স্মৃতি কখনও কখনও বড়ই ভারক্রান্ত করে দেয় মনকে। হারিয়ে যাওয়া চিঠি হঠাৎ মনে করিয়ে দেয় অনেক কিছুই।চমৎকার লেখা।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...