সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হারিয়ে যাওয়া চিঠি

আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় শুধু চিঠি আর চিঠি। হ্যাঁ, সেই সাদা কালো অক্ষরে লেখা নানা ধরনের চিঠির কথা। খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে একদম হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই বয়সেও তিনি বেশ বুকে সাহস নিয়ে আর সহজ সরল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে খোলা চিঠি প্রেরন করেছেন। সত্যিই এই কাজকে অসাধারণ বলতে কিন্তু লজ্জা নেই কোনও।রাজনীতির ময়দানে এই মানুষটাকে যত দেখি ততো যেনো মুগ্ধ হয়ে যাই। 


এমন একটা সময়ে তিলোত্তমা খুনে দোষীদের শাস্তি চেয়ে ও জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর কাছে বামফ্রন্টের এই খোলা চিঠি। জানা নেই এই ফ্রন্ট এখনও কতটা সক্রিয় হয়ে ফ্রন্টফুটে ব্যাট করতে সক্ষম এই কঠিন পিচে। তবুও সেই বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু রাহুল দ্রাবিড় বা সুনীল গাভাস্কার এর মত বাউন্সার বল সামলে পত্রবোমা ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে। তিনি জানেন না এর ফল পাল্টা অভিঘাত কি হবে। 

আসলে এই খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন করা আর অনশন করা চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবেদন এই মুখ্যমন্ত্রী মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই আন্দোলনের বিষয়টি একটু দেখুন ও চিকিৎসকদের সঙ্গে অবিলম্বে আলোচনায় বসুন তিনি। আন্দোলনকারী চিকিৎসক দের দশ দফা দাবি মেনে নিয়ে এখনই বা দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হোক। না হলে যে গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সেই আবেদন জানিয়েই খোলা চিঠি বিমান বসুর। এত গেলো এই রাজনীতির মাঠের সেই মুক্ত বাতাসে খোলা চিঠির কথা। 

এই চিঠির ইতিহাস  ঘাঁটতে গিয়ে দেখলাম যে চিঠি হলো একজনের পক্ষ থেকে অন্য জনের জন্য লিখিত বার্তা। যা দুপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখে। বন্ধু ও আত্মীয়দের আরও ঘনিষ্ট করে। পেশাদারি সম্পর্কের উন্নয়ন করে ও নিজেকে প্রকাশের একটা সুযোগ দেয়। এমনকি সাক্ষরতা টিকিয়ে রাখতেও একসময় এই চিঠির অবদান ছিল। বহু প্রাচীনকাল থেকেই এই চিঠির আদান প্রদান ছিল। ইলিয়াডে সেই কথার উল্লেখ আছে। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের প্রতি এডওয়ার্ড টেলার এবং লিও শেলার্ডের লেখা সেই বিখ্যাত আইনস্টাইন এর চিঠি যে চিঠিতে পারমাণবিক বোমা তৈরীর প্রস্তাব ছিল। আর এই সব ঐতিহাসিক ভাবে, চিঠির প্রচলন ছিল প্রাচীন ভারত, মিশর, সুমের, প্রাচীন রোম, এবং চীনে। এই দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলার যুগেও যা সমানভাবে এর চল আজও আছে। সতেরো আর আঠারো শতকে চিঠি লেখা হতো স্ব শিক্ষার জন্য। চিঠি ছিল পাঠ চর্চা, অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা আর কিছু মত বিনিময়ের পদ্ধতি।


 আবার কিছু লোক এটাকে কেবলমাত্র নিছকই লেখালেখি ভাবতো। বাইবেলের বেশ কিছু পরিচ্ছেদ এই চিঠির মাধ্যমে লেখা হয়েছে। আবার কোনো সময় এই চিঠি শিল্পের রূপ পায় যে সেটা সাহিত্যের বিষয় হয়ে ওঠে যেমন বাইজেন্টাইনে এপিস্টোলোগ্রাফি বা সাহিত্যের পত্র উপন্যাস। অন্যদিকে যেমন বুদ্ধদেব গুহর সেই বিখ্যাত লেখা কুর্চিকে লেখা ঋভুর চিঠি। ঠিক তেমনি করেই সেই সিজার বোর্গিয়ার হাতে লেখা একটি চিঠি। সান্তা ক্লজকে লেখা এক শিশুর হাতে লেখা সেই বিখ্যাত চিঠি। আর্থার কোনান ডয়েলের লেখা সেই বিখ্যাত চিঠি। ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে এমন হাজারো চিঠির সুলুক সন্ধান পাওয়া যাবে। 

কিন্তু এই সব কিছুকে হারিয়ে দিয়ে একদম বোল্ড আউট করে দিয়ে যে চিঠি হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল সেটা হলো শনিবারের চিঠি। যা ছিল বাংলাভাষার অন্যতম বিখ্যাত একটি সাহিত্য সাময়িকী। যা বিংশ শতকের প্রথমার্ধে ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রবর্তিত হয়েছিল। এটি ছিল একটি সাপ্তাহিক কাগজ এবং এর মূল স্বত্বাধিকারী ছিলেন অশোক চট্টোপাধ্যায়। যোগানন্দ দাস ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। তবে আদ্যোপান্ত শনিবারের চিঠি'র প্রাণপুরুষ ছিলেন কবি-সাহিত্যিক সজনীকান্ত দাস। 


শনিবারের চিঠি দু‌ই পর্যায়ে প্রকাশিত হয়েছিল। এর প্রথম প্রকাশ ১০ই শ্রাবণ ১৩৩১ তথা ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে জুলাই। প্রতিষ্ঠালগ্নে সম্পাদক ছিলেন যোগানন্দ দাস। তবে ভাদ্র ১৩৩১/ ফাল্গুন ১৩৩১ সংখ্যা (সাপ্তাহিক একাদশ সংখ্যা) থেকে সজনীকান্ত দাস সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এতে যারা লিখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মোহিতলাল মজুমদার, হেমন্তকুমার চট্টোপাধ্যায়, নীরদচন্দ্র চৌধুরী, পরিমল গোস্বামী প্রমুখ। এঁদের ভাষা ছিল ব্যঙ্গময়; সমালোচনার লক্ষ্য ছিল পিত্ত জ্বালিয়ে দেওয়া। যে লেখায় হৈ চৈ পড়ে যেত। 


এই সাপ্তাহিক সাহিত্যপত্রটি ১৯৩০-৪০-এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাঙলা সাহিত্যের জগতে বিশেষ সাড়া জাগিয়েছিল। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের পথিকৃৎ কল্লোল, প্রগতি, কালি-কলম, পরিচয়, পূর্বাশা, কবিতা, চতুরঙ্গ প্রভৃতি পত্রিকাসমূহের সঙ্গে শনিবারের চিঠি’র নাম জড়িত ছিল অবিচ্ছেদ্যভাবে। রবীন্দ্রনাথ-প্রমথ চৌধুরী-শরৎচন্দ্র থেকে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ লেখকদের সংখ্যায় সংখ্যায় তুলোধোনা করে পত্রিকাটি সকলের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে গিয়েছিল।এই শনিবার এর চিঠিতে কবি জীবনানন্দ দাশের লেখাও আলোচনা করা হয়েছে যখন তিনি স্বল্পালোচিত কবি ছিলেন সেই সময়ে। 


এতো গেলো সব বিখ্যাত বিখ্যাত চিঠির কথা যা ইতিহাসের পাতা জুড়ে লেখা আছে, নানা ভাবে আর নানা রূপে। কিন্তু সেই যে হিন্দমোটরের চিলে কোঠার সেই ছাদ থেকে যে চিঠি চলে আসতো রিষড়াতে আমার বাড়িতে। দুজন কলেজের আলাপ হওয়া বন্ধু একে অপরকে মনের কথা লিখতো শুধু চিঠি বিনিময় করে। সেই ট্রেন আসার আগে বুক পকেটে চিঠি গুঁজে দিয়ে দৌড়ে লাফিয়ে চলন্ত ট্রেনে উঠে পড়া। তারপর ট্রেনের কামরাতে বসে ভজনের লেখা পড়ে আনন্দ পাওয়া অনাবিল আনন্দ আর নিরঙ্কুশ সুখ। রাতে ঘরে ফিরে সেই চিঠির উত্তর লেখার জন্য কলম ধরা বই এর পড়া বন্ধ করে। সেই চিঠির কথা কোথাও লেখা নেই কিন্তু এই সাদা জীবনের কালো কথায় যে এমন হাজার চিঠি খস খস শব্দ আজও জুড়ে আছে আমাদের দুজনের হৃদয়ে। যে অনাবিল অনাঘ্রাতা চিঠির গন্ধ আজও আমাদের দুজনের মেঠো সম্পর্কের মাঝে লুকিয়ে আছে সেই চিলেকোঠায় বন্দী হয়ে।

হ্যাঁ, সত্যিই এই চিঠি তো মানুষের মনের আয়না। যে আয়নায় নিজেকে দেখে নেওয়া একে অপরের কাছে। আর একটা খোলা চিঠি নয় খাম বন্ধ গোপন এক চিঠির কথা বলে শেষ করবো এই লেখা। যে চিঠির কথা, অনুভূতি, দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন, যে চিঠির মিষ্টি সুবাস, আমায় ভালবাসতে শিখিয়েছিল আমার যৌবনকালে। সেই কুর্চিকে ঋভুর ভালোবাসার মতই।

 যে চিঠি পাওয়ার আশায় আমি হাঁ করে তাকিয়ে থাকতাম কলেজের ক্লাস শেষ হলে সেই ফাঁকা রাস্তার দিকে তাকিয়ে। কোনোদিন চিঠি আসতো উড়ে উড়ে মিষ্টি গন্ধ ভরা সাদা খামে। কবুতর এর নরম বুকের গন্ধ মেখে। আর আমি মাঝ রাতে ভয়ে ভয়ে অতি সন্তর্পনে সেই চিঠির ভাঁজ খুলতাম। আশা আর স্বপ্ন নিয়ে। একবুক ভালোবাসা নিয়ে। সেই চিঠির উত্তর লিখতে বসে রাত ভোর হয়ে যেতো কখন টেরই পেতাম না আমি। তারপর ক্লাসের নোটস লেখার খাতায় তাড়াহুড়ো করে উত্তর লিখে মনে হতো ঠিক লিখলাম কি। 

কতদিন লেগেছিল সেই তুই থেকে তুমিতে আসতে আমাদের সেই চিঠির গভীর গোপন ভালোবাসার চিনচিনে সম্পর্কের সিলমোহর দিতে। যে সিলমোহর দেওয়ার পর সেই বামফ্রন্টের খোলা চিঠি নয়, সাদা খাম বন্ধ সেই চিঠি আমাদের গভীর গোপন ভালো বাসার দুজনের কাছে আসার প্রধান বাহন হয়ে গেলো যে কি করে সেটা বুঝতেই পারলাম না। সেই গঙ্গার তীরে বসে একে অপরকে ভয়ে ভয়ে বন্ধ খামে চিঠি বিনিময়। কেউ কারুর দিকে না তাকিয়ে। 

একজনের হাতের লেখা মুক্তোর মত। অন্যজনের লেখা সুন্দর নয়। কিন্তু এই দুজনের মনের আয়না কেমন যেনো অজান্তেই সেই সন্ধ্যা বেলায় ঘরে ফেরা পাখির ডানায় ভর করে তাদের মনের দরজা খুলে দিয়েছিল নিজেদের অজান্তেই একে অপরের কাছে। জানিনা কত যত্নে লেখা সেই চিঠিও আজ হারিয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে আমার অনেক কিছুই। 


তবু সব হারিয়েও যেনো এই প্রথম ভালোবাসার চিঠির খস খস শব্দ আজও রাতের অন্ধকারে পা টিপে টিপে আমার কাছে আসে। আমায় ঘুম থেকে তুলে দিয়ে বলে, একি সব চিঠি হারিয়ে ফেললে তুমি। আমি ধড়মড় করে ঘুম ভেঙে বিছানায় বসে হাতড়ে বেড়াই আমার সেই হারিয়ে যাওয়া চিঠিগুলোকে। সেই ভজনের লেখা চিলেকোঠার চিঠি, সেই গঙ্গার তীরে বসে পাওয়া মিষ্টি গন্ধ মাখা, কবুতরের বুকের নরম ওম মাখা চিঠিগুলোকে আজও খুঁজে বেড়াই আমি। রাতের অন্ধকারে খুঁজে বেড়াই আমি আমার হারিয়ে যাওয়া সেই চিঠিগুলোকে। 

হারিয়ে যাওয়া চিঠি - অভিজিৎ বসু।
পনেরো অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য গুগল।

মন্তব্যসমূহ

  1. আজ আর কেউ চিঠি লেখে না।চিঠির স্মৃতি কখনও কখনও বড়ই ভারক্রান্ত করে দেয় মনকে। হারিয়ে যাওয়া চিঠি হঠাৎ মনে করিয়ে দেয় অনেক কিছুই।চমৎকার লেখা।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যা দেখি…প্রতিদিন মনে পড়ে কত… স্মৃতির পথ ধরে হাঁটি… লিখি…

বদলে যাওয়ার তালিকায় সবাই

ভেবেছিলাম আট থেকে আশির এই নিজেকে বদলে নেওয়ার দলে ও নাম লেখাবে না একদম কিছুতেই। গুরুগম্ভীর আর সেই অর্থপূর্ণ ভাব বিনিময় করে বেঁচে থাকা আর উচ্চপদে কর্মরত এই ব্যক্তি কী আর নিজেকে খোলস ছেড়ে বদলে নেবে হঠাৎ করেই। কেমন দেখতে লাগে এই নতুন চেহারায় ,সেটা দেখার বাসনা হবে তাঁর। কিন্তু না আমি দেখলাম এই বদলে নেওয়ার আর নিজেকে একটু উল্টেপাল্টে দেখে নেবার লোভ বড়ো ছোঁয়াচে। ঠিক বসন্তের বাতাসে উড়ে বেড়ানো পলাশের শুকনো হাসির মতই।   জানি আমায় কেউ কেউ বলবেন আবার ওকে নিয়ে লেখা। এই লেখা কত নম্বর ভাই। এই ছবি দেখে আর লেখার কি দরকার বাবা তোমার। তিনকাল গিয়ে এককাল ঠেকেছে তোমার। ওকে তেল দিয়ে আর লাভ নেই,চাকরির আশা নেই আর কোনোও তোমার। যেমন আছো তুমি তেমনি থাকো বাবা এই টোটো চালকের বেশ ধরে ঘুরে বেড়িয়ে এই এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস জীবন নিয়ে। আর কতবার এই মুর্শিদাবাদের ভেঙে পড়া সাম্রাজ্যের এক ব্যক্তিকে নিয়ে বার বার লিখবে আর তাঁকে প্রজেক্ট করবে তুমি এইবার তো থামো বাবা। একটু এই শেষ বেলায় হিসেব করে মেপে পা ফেলো মাঠে। না হলে যে গর্তে পড়ে বেঘোরে হাত পা ভাঙবে তোমার। আমি মনে মনে এই সব শুনে অস্ফুটে ...

হাসনুহানার হাতছানি

দেওয়াল জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা, নানা রঙের প্রলেপ। চারিদিকে শুধুই উজ্জ্বল নানা রঙের হাতছানি। ক্যানভাসে ফুটে ওঠা, নানা রঙের ছোপ ছোপ দাগ। হাজারো রঙের মাঝে রঙহীন বিবর্ণ একা আমি। হলদে ঘাসের ওপর শিশির ভেজা ভোরের হাতছানি এড়িয়ে। লাল পলাশের হাতছানি এড়িয়ে, সন্তর্পনে ঘুরে বেড়াই আমি, একা, একা। চাঁদনী রাতের আকাশে, হালকা মেঘের আড়ালে আবডালে, লুকিয়ে থাকা সব অপ্সরীর দল ঘুরে বেড়ায় সেজেগুজে। অন্ধকারের বুক চিরে জেগে ওঠা দুর আকাশে, ওই সপ্তর্ষি মন্ডলের ডাক শুনে। কেমন যেনো থমকে দাঁড়িয়ে যায়, ল্যাম্প পোস্টের ওই কালো ছায়া। হাসি মাখা রঙিন সব মুখ দেখে থমকে দাঁড়িয়ে যাই বিবর্ণ আমি, একদম একা। দিনের আলো ছেড়ে, ভীড় এড়িয়ে অন্ধকারে মুখ লুকোই আমি। পলাশ ফুলের গন্ধ এড়িয়ে, ছুটে যাই হাসনুহানার কাছে। অভিমানে মুখ লুকিয়ে সে বলে, এত দেরি করে এলে কেনো তুমি রঙিন হতে আমার কাছে। আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকি নত মুখে, হাসনুহানার গন্ধ বুকে নিয়ে। লাল পলাশের হাতছানি এড়িয়ে, হাসনুহানার কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে, রঙিন হয়ে যাই আমি। হাসনু হানার হাতছানি - অভিজিৎ বসু। ছাব্বিশ মার্চ, দু হাজার চব্বিশ।

জয় মা মঙ্গলচন্ডী

মা মঙ্গলচণ্ডী, যাঁহার নাম মধুর ও মনোহর, যাঁহার হস্তে বর ও অভয় মুদ্রা, যিনি দ্বিভুজা ও গৌরবর্ণা, যিনি রক্তপদ্মাসনে উপবিষ্টা ও মুকুট দ্বারা উজ্জ্বলরূপে ভূষিতা, যিনি রক্তবর্ণ কৌষেয় (চেলির) বস্ত্র পরিধান করিয়া আছেন, যিনি সহাস্যবদনা, সুন্দরাননা ও নবযৌবনা, যিনি সুন্দরাঙ্গী ও মধুর লাবণ্যযুক্তা, তিনিই হলেন দেবী মঙ্গলচণ্ডী। বিশ্বের মূল স্বরূপা প্রকৃতিদেবীর মুখ হ’তে মঙ্গলচণ্ডী দেবী উৎপন্না হয়েছেন। তিনি সৃষ্টিকার্য্যে মঙ্গলরূপা এবং সংহারকার্য্যে কোপরূপিণী, এইজন্য পণ্ডিতগণ তাঁকে মঙ্গলচণ্ডী বলিয়া অভিহিত করেন।” “দক্ষ অর্থে চণ্ডী এবং কল্যাণ অর্থে মঙ্গল। মঙ্গলকর বস্তুর মধ্যে দক্ষ বলে তিনি মঙ্গলচণ্ডী নামে প্রসিদ্ধ। প্রতি মঙ্গলবারে তাঁহার পূজা বিধেয়। মনু বংশীয় মঙ্গল রাজা নিরন্তর তাঁহার পূজা করিতেন।” জৈষ্ঠ্যমাসের প্রতি মঙ্গলবারে মা চণ্ডীর আরাধনা করা হয় বলে এই ব্রতের নাম মঙ্গলচণ্ডী ব্রত। জীবনে শ্রেষ্ঠ মাঙ্গল্যের প্রতিষ্ঠার জন্যই এ ব্রতের অনুষ্ঠান। মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের নানা রূপ আছে। কুমারীরা যে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের আচরণ করে, তা অতি সহজ ও সংক্ষিপ্ত। দেবী অপ্রাকৃত মহিমার প্রশস্তিগীতি ব্রতের ছড়ায় এস...

কুড়ি থালা দশ টাকা আর রসিক মুলুর জীবন

নাম মুলু হাঁসদা। বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানার চরিচা গ্রাম পঞ্চায়েত এর চর ইচ্ছা রঘুবরপুরের বাসিন্দা মুলু। আজ মুলুর জীবন কথা। গ্রামের নামটা ভারী অদ্ভুত। চর ইচ্ছা রঘুবরপুর। যে গ্রাম অন্য পাঁচটা গ্রামের মতই।সাদামাটা এই গ্রামে দারিদ্র্য, অপুষ্টি আর কর্মহীন জীবনের জলছবি সুস্পষ্ট। আর সেই গ্রামের মহিলারা নিজেদের সংসার রক্ষা করতে গাছের পাতাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। গাছের পাতা মুলুদের জীবনের জিয়ন কাঠি। যে জিয়ন কাঠিতে তারা ভোর হতেই পেটের টানে চলে যায় জঙ্গলে। খস খস শব্দ করে পায় হেঁটে তারা পাতা তোলে। গাছ থেকে টুপ টাপ করে ঝড়ে পড়া পাতাকে একটা একটা করে নিজের শাড়ির আঁচলে ভরে নেয়। তার পর সব পাতাকে বস্তায় ভরে ঘরে ফেরে।  ঠিক যেভাবে তারা পুকুরে নেমে শামুক গেঁড়ি আর গুগলি তোলে। যে ভাবে তাদের উদর পূর্তি হবে বলে। আর এই পাতাও যে তাদের পেট ভরায়। একটা একটা পাতাকে নিজের সন্তানের মতো আলগোছে ছুঁয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায় মুলু, বলে তোরা না থাকলে কি করতাম কে জানে। মাথার ওপর শাল সেগুনের বিশাল আকারের গাছগুলো চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে আর তারা চুপ করে শোনে মুলুর কথা।  একে অপ...