সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমাদের অরূপ কালি

জ্যোতি বসুর ছায়াসঙ্গী ছিলেন জয়কৃষ্ণ ঘোষ। আর  আমাদের ইটিভি বাংলার সেই পুরোনো সংসারে আশীষ ঘোষ এর ছায়াসঙ্গী ছিলেন সেই বিখ্যাত আমাদের সবার অরূপ কালি। হ্যাঁ,বাংলা মিডিয়ার এই বিখ্যাত দাপুটে সদাহাস্যময় অথচ হাসির পেছনে কি লুকিয়ে আছে সেটা না বুঝতে পারা সেই ইটিভির জয়কৃষ্ণ ঘোষ এর কথা আজ আমার এই সাদা জীবনের কালো কথায় লিখতে বসেছি। আমি জানি না কি হবে আমার। তবু বহুদিন পর ইটিভির চাকরি, ইটিভির অফিস, নানা কথা, নানা স্মৃতির মাঝে অরূপ কালি একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল। আর তাই কলম ধরা।


হাজার হাজার চরিত্রের ভীড়ে ঠাসা রাস্তায় হাঁটতে নেমে হঠাৎ একদিন দেখা হলো আমার ইটিভির চাকরি করতে গিয়ে সেই পর্দার আড়ালে আবডালে লুকিয়ে থাকা একজন মানুষের সঙ্গে। সেই যে মানুষটা আমার বাংলার যে আজ সারাদিন নামক টুকরো খবরে, সেই ছোটো ছোটো টুকরো টুকরো খবর দিয়ে বুলেটিন এর একটা অংশ ভরিয়ে দেওয়া হতো শেষের দিকে। নানা জেলার আবদার আর অনুরোধের খবর দিয়ে। যারা হেডলাইন বা কোনো প্যাকেজ স্টোরিতে যাদের ঠাঁই হতো না। তাদের জন্য মন রক্ষার স্বার্থে শান্তনা পুরস্কার হলো এই আজ সারাদিনে একটু জায়গা পাওয়া। 

কিন্তু সেই আজ সারাদিনেও জায়গা না পেয়ে একদিন ভয়ে ভয়ে সেই ছায়াসঙ্গীকে একদিন ফোন করলাম আমি। দাদা, আজ যে আমার আজ সারাদিনেও হলো না জায়গা আমার একটুও। আর সেই সদাহাস্যময় দাদা, কিন্তু একদম রাগ না দেখিয়ে, গলায় বস এর মত গম্ভীর আওয়াজ না করে। এককথায় তাঁর সোজা সরল উত্তর লেজে কেটে গেছে রে, বুঝলি লেজে কেটে গেছে। আমি দিয়েছিলাম তোরটা লেজে কেটে গেছে।সেই বিখ্যাত সাংবাদিক ইটিভি বাংলার অন্যতম কারিগর হলেন সেই বিখ্যাত আমাদের অরূপ কালি। আমাদের সবার প্রিয় অরূপদা। যার ওপর নির্ভর করতেন আশিষ দা অনেকটা। 

আজ আমার এই ব্লগে সাদা জীবনের কালো কথায় অরূপদার কথা লিখতে ইচ্ছা হলো। মনে পড়ে গেলো সেই নানা কথা। হয়তো এই লেখার মুখবন্ধ বড়ো হলো অনেকটাই। কিন্তু অরূপ কালির জন্য এই জায়গাটুকু তো কিছুই নয় এই ছোটো পরিসরে তাঁকে নিয়ে আপনাদের বোঝাতে পারলাম কি না জানিনা আমি। জেলায় কাজ এর সুবাদে কলকাতায় চাকরি করা সবাই আমাদের কাছে দাদা আর দিদি সে ভয়ে বা ভক্তিতে যাই হোক। তাদের সবার ভয়ে প্রাণ ওষ্ঠাগত বাপ্যার। আর তারওপর যদি কেউ চ্যানেল এর প্রধান কারিগর এর ছায়াসঙ্গী, অফিস আসার সঙ্গী, গাড়ি করে বাড়ী ফেরার সঙ্গী, চা খাবার সঙ্গী হয়, তাহলে তো তাকে ভয়, শ্রদ্ধা, ভক্তি, ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা সব তাঁর পায়ে সমর্পণ করেই চাকরি করতে হয় না কি। আমার অন্তত তেমন মনে হয়েছে যেনো। না হলে যে লেজেই কেটে যাবে সবকিছু আমার। 

আগে অরূপ দা কোথায় ছিল, কোন মিডিয়াতে সেটা জানার চেষ্টা করিনি আমি কোনোদিন, আর সৌভাগ্য হয়নি আমার সেটা জানার। সবে বাজারে বাংলা টিভি মিডিয়ার যুগ শুরু হয়েছে। সেই পুরোনো প্রস্তর যুগের কথা এটা। এখন যেমন বাজারে মিডিয়া অনেক, আর সেই মিডিয়াতে বাবু অনেক, আর তাদের ছায়াসঙ্গীও অনেক। এক এক সময়, এক এক শিফটে এক এক ধরনের  ছায়া সঙ্গী সব অফিসে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু সেই আমলে অরূপদা কে টপকে গিয়ে আর কেউ সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে সেটা আমার অন্ততঃ মনে পড়ে না এতো দিন পরেও। যাই হোক সেই প্রস্তর যুগে হয়তো ছায়াসঙ্গী কনসেপ্টটা এতো আজকালের মত প্রকট হয়ে ওঠেনি। তাই একাই অরূপদা রাজত্ব করে গেছে হাসি মুখে লেজে কেটে গেল বলে দীর্ঘদিন।

শুনেছিলাম হুগলী জেলায় থেকে আশীষদার বাড়ির কাছেই থাকে সে। তাই আসার পথে এক গাড়িতে অফিস আসা আর ফেরা। কি আর করা যাবে এত খবরের চাপ, কাজের চাপ এটুকু তো সুবিধা পাওয়ার হক আছে তাঁর না কি এটা নিয়ে আর কথা বলার কি হলো। কিন্তু কলকাতায় না থেকেও দুর থেকে বুঝতাম এই বিষয় নিয়ে কলকাতাতেও সবার মনেই ফিসফিস প্রশ্ন আছে কিন্তু সেটা প্রকাশ্যে আসেনা কিছুতেই। কি দরকার এই অপ্রিয় কথা জিজ্ঞাসা করে কেউ বসের বিরাগভাজন হবার রিস্ক কেই বা নিতে চায় বলুন। তাই সেই শিককাবাব এর গন্ধ পাওয়া সেই বিখ্যাত ঘোঁট বারান্দায়  সিগারেট খেতে খেতে ফিসফিস আলোচনা হলেও ব্যাস এই ভাবেই চলে যাচ্ছিল আমাদের ইটিভি বাংলার সংসার। 

আমার আজও মনে আছে আমার বিয়েতে সবাই এলো শ্রীরামপুরে। মেয়ের মুখে ভাতে এলো সবাই। কিন্তু আশিষ দা আর অরূপ দা এলেন তারা। তারপর সেই জ্যোতি বসুর সাক্ষাৎকার নেওয়া অরূপ দার কোন চ্যানেল সেটা মনে নেই আজ। আর তরুনকান্তি দাস প্রথমে জেলায় জেলায় খবর নিয়ে আলোচনা করলেও পরে সেই জায়গাটা নিয়ে নেয় অরূপ কালি সেই আমাদের সবার কাছ থেকে খবর কি আছে জেনে নিত ফোন করে। শুধু তাই নয় কলকাতাতেও বেশ কিছুটা তাঁর কন্ঠস্বর ভেসে আসত নানা ঘটনায়। আর এখন তো এই ধরনের, এই শ্রেনীর মানুষ জন মিডিয়াতে একদম ভরে গেছে। 

আজ সেই আমলের এই একজনের কথা বলতে লিখতে ইচ্ছা হলো। সেই এক বিখ্যাত জেলা রিপোর্টার এর কাছে শোনা এক গল্প দু হাজার এক সাল হবে ইটিভির আমার বাংলা জনপ্রিয় খুব। সেই সময় জেলায় জেলায় খালি ধর্ষণ এর খবর দেখানো হচ্ছে। সেই জেলার রিপোর্টার অরুপদা কে বলে এই ভাবে জেলায় শুধু ধর্ষণ এর খবর দেখলে আমরা যারা রাস্তায় ঘুরে খবর করি তাদের কাজের অসুবিধা হচ্ছে। অরূপ দার সাফ জবাব ছিল তাহলে চ্যানেলের টি আর পি বাড়বে কি করে। তারপর আর কিছু কথা বলতে পারেনি ওই জেলার দাপুটে রিপোর্টার কিছু। কিন্তু এই আমলে এমন করে চ্যানেল চললে নির্ঘাত সেই সময় তবু সিপিএম কিছুই করেনি বিশেষ টিভির লোকদের। এই আমলে হলে কি হতো সেটা ভাবতেও পারিনা আমি। বাম আমলে মনে হয় এত খবর করেও কম চাপে থাকতে হয়েছে সংবাদ মাধ্যমকে। যা এই আমলে চাপে থাকতে হয় মিডিয়াকে আর সেই মিডিয়ার যারা কর্ণধার তাদের। 

যাকগে সেসব অতীত দিনের কথা বলে আর কি হবে বলুন।  ভেঙে গেলো আমাদের সেই ইটিভির সংসার। আশীষ দা টিভি ছেড়ে দিয়ে চলে গেলেন বাংলা স্টেটসম্যান কাগজে। সেখানেও হাজির হলো সেই অরূপ কালি। একদিন দেখলাম সিঙ্গুরের মাঠে গাড়ি নিয়ে হাজির আশীষ দার সাথে অরূপ দা। আর পর দিন কাগজের প্রথম পাতায় বড়ো বড়ো করে অরূপ কালির নামে কপি। আমরা সব কাগজ দেখে হ্যাঁ হয়ে যেতাম। সিঙ্গুরে টাটার কারখানার সামনে চাষীদের জমি আন্দোলনে এই কাগজটার একটা বিশেষ ভূমিকা ছিল। একদিন অরূপদা পরে কথায় কথায় বলেছিল আরে শোন সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মুকুল রায়, সব বাঘা বাঘা তৃণমুল এর নেতারা আশিষ দাকে ফোন করতেন। কত কিছু সেই সময় যে ঘটেছিল তোরা জানিস না কিছুই। 

কিন্তু না, সেই কত কিছু ঘটে গেলেও তাঁরা যে পাল্টে আর বদলে যাননি সেটা বোধহয় ভুল নয়। স্টেটসম্যান কাগজ ছেড়ে আশিষ দা গেলেন প্রাত্যহিক সংবাদ কাগজে। আর সেই প্রাত্যহিক সংবাদ এর কাগজে কাজ শুরু করলো অরূপ কালি। মৌলালীতে অফিস বোধহয়। একদিন আমি গেলাম দেখা করতে ঘুরতে ঘুরতে। বেশ সুন্দর নতুন সাজানো গোছানো অফিসে। ভেবেছিলাম বলবো আশীষদার কাছে  দাদা একটু দেখুন আপনি। যদি কোনো কাজ এর সুযোগ হয় এখানে। একটু একা একা বলবো সেই কথা ভেবে গেলাম। কিন্তু না সেই সুযোগ আর সেই ফাঁকা ঘর পেলাম না কিছুতেই। আশীষদার কাছে বসে আছে অরূপ দা। ছায়া কি আর কায়া ছাড়া বাঁচতে পারে কোনো সময়। 

পড়ে এই কাগজের অনেক জেলার রিপোর্টার জানায় এই কাগজটা বেশ ভালই চলছিল। বেশ সুন্দর ঝকঝকে ব্যাপার ছিল এই কাগজটার। কাগজটা নিয়ে মালিক বোধহয় রামেন্দু বাবু চিটফান্ড এর সেই খুব কড়াকড়ির সময়েও কাগজের ফান্ড নিয়ে নাকি খুব ভালো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন তিনি নিজের উদ্যোগে।  কিন্তু সেই কাগজটাও বন্ধ হয়ে গেলো কেনো কে জানে। এই কাগজের বহু জেলার রিপোর্টারদের বক্তব্য কাগজটা চালানো যেতো কিন্তু কী হলো জানিনা আমরা কেউই। কিন্তু ওই কাগজ নিয়ে অনেকেই আশাবাদী ছিলেন। অনেকে দৌড়ঝাঁপ করে নতুন কাগজে জোর কদমে কাজ শুরু করেছিলেন। 


তারপর আর আমাদের সেই তিন নম্বর চৌরঙ্গী স্কোয়ারের কথা বিশেষ মনে পড়েনি। সেই সৈকত বসু, গার্গী গুহ ঠাকুর, যারা এখন টিভি নাইন চ্যানেলের জোড়া ফলা। যদিও সেই ইটিভির বিখ্যাত স্পোর্টস রিপোর্টার অমৃতাংশু এখন টিভি নাইন চ্যানেলের এডিটর। তাঁর দৌলতেই আনন্দবাজার পত্রিকা ছেড়ে আবার টিভির মাঠে নেমে পড়েছেন তাঁরা এই বুড়ো বয়সে। সেই তৃণমূল বিট করা অনিন্দিতা হাসিখুশি এই রিপোর্টার তৃণমূলের ভালো খবর জোগাড় করতো। সেই ডেস্কের সাজানো গোছানো রজত, সেই পুরুলিয়ায় রিপোর্টার হয়ে চলে যাওয়া তীর্থ, সেই বিখ্যাত শুভ্রনীল, সেই বেহালার দিব্যেন্দু, সেই বিখ্যাত জয়ন্ত চৌধূরী, বিশ্বজিৎ ভট্টচার্য, রবিশঙ্কর দত্ত, ত্রিফলা সেই আমলের। সেই আশিষ দার প্রিয় ভজ যার ভালো নাম শৌনক। 


সেই বিখ্যাত মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় ইউ এন আই থেকে এসেছিলেন। সেই বিখ্যাত হৈমন্তী, তন্বী, পিয়ালি, দীপালি, দীপান্বিতাদি, শাবানা, সেই তরুণকান্তি দাস যে আশীষদার কাছের মানুষ ছিল বেশ বর্তমান কাগজ থেকে এসেছিল।সেই মনিরুল হোসেন, সেই আমাদের সিদ্ধার্থ, সেই পুলিশ রিপোর্টার দীপঙ্কর বর্তমানে কবি। আর সেই ন্যাশনাল নিউজ করতো নামটা ভুলে গেলাম ফর্সা মতন দেখতে, হ্যাঁ মনে পড়ল নিধি মালহোত্রা। সেই শুভাশীষ মৈত্র। হয়তো আরও কেউ ছিল মনে পড়ল না তার জন্য আমি আগেই ক্ষমা চাইলাম। এই ছিল সেই তিন নম্বর বাড়ির কলকাতার সংসার আর এই সংসারে জয়কৃষ্ণ ঘোষ ছিলেন আমাদের সবার ঠাণ্ডা মাথার  সেই অরূপদা। এত গেলো কলকাতার কথা। 

জেলায় তখন বিখ্যাত গৌতম সরকার, নব্যেন্দু গুহ, সনৎ ঝা, উত্তম পাল, আশাবুল হোসেন, সঞ্জয় বিশ্বাস, সমীরন পাল, হীরক কর, অর্কপ্রভ সরকার, সুরজিৎ, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, সুজিত ভৌমিক, আরও সব অনেকেই ছিল যারা আজ কেউ মিডিয়াতে আছে কেউ নেই। কিন্তু আমাদের সেই প্রস্তর যুগের জেলা আর কলকাতার টিম বেশ ভালই ছিল একদম যেনো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। আর এই দুই টিমেই অবাধ স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল অরূপদার। যাক গে বহুদিন হলো প্রস্তর যুগের সেই সংসার আজ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে কবেই। কেউ কেউ এখনো এই মিডিয়া তে টিকে আছে ঝুলে ঝুলে কোনো রকমে, কেউ কেউ আবার মিডিয়ার বাইরে ছিটকে পড়ে আমার মত রাতের অন্ধকারে অতীত ঘেঁটে বেড়ায়।

 বহুদিন পর অরূপ দার ফেসবুকে জ্যোতি বসুর একটি সাক্ষাৎকার দেখে মনে পড়ে গেলো সেই পুরোনো দিনের নানা কথা। দেখলাম অরূপদার সেই ইউটিউব চ্যানেল। বেশ ভালো লাগলো দেখে। মাঝে শুনেছিলাম বোধহয় অরূপ দা একদিন কাগজের এডিটর হয়ে ছিলেন। একদিন ফোন করলাম সেই চেনা নম্বরে এডিটর অরূপদা কে। কিন্তু না সেই ফোন আর ধরেন নি এডিটর অরূপ দা।  সত্যিই তো এডিটর কি আর ফোন ধরেন চটকরে কারুর। 


আসলে মিডিয়াতে কাজ করা লোকজন মানুষরা বোধহয় এই মাধ্যম ধরেই টিকে থাকতে চায়, বেঁচে থাকতে চায় সারাটা জীবন। এই জগতের বাইরে তারা  আর কিছুই খুঁজে পায়না। আর তাই তারা রাতের অন্ধকারে কেমন ঘুরে ঘুরে বেড়ায়। এদের কথা মনে করেই রাত দুপুরে সময় নষ্ট করতে চায় তারা। এসব পুরোনো লেখা আর কথা পড়ে হঠাৎ কেউ কেউ ফোন করেন আমায়। যাঁরা বহুকাল কোনোও যোগাযোগ করেননি আমার সঙ্গে বহুদিন, বহুবছর। তারাও ফোনে বলেন বাহ বেশ ভালো লাগছে কিন্তু এই সব কথা পড়ে। চেনা মানুষদের মনে করিয়ে দিচ্ছ তুমি আবার। 

বেশ ভালো লাগে সেই সব পুরোনো দিনের স্মৃতি ঘেঁটে মনে পড়ে যায় নানা জনের কথা। জীবনের এই দীর্ঘ পথ ঘাট পার করে শেষ বেলায় এসে মনে পড়ে যায় যে ভালই তো সাদা জীবনের কালো কথায় কিছু ভালো কথা, কিছু কালো কথা লেখা থাক না হয়। কেউ বলবে কি দরকার এসব লেখার। কেউ বলবে একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে বোধ হয়। কেউ বলবে তোমার আসল মানুষ চেনা ভুল হয়েছে তাই ভুল বিশ্লেষণ করলে তুমি ওকে নিয়ে। সে যাই হোক জীবনের ফেলে আসা দিন, ফেলে আসা সম্পর্ক, জীবনের প্রথম চাকরির সেই নানা রং বেরং এর উজ্জ্বল দিনগুলো ধরা থাক এইভাবেই আমার ব্লগে। কিন্তু আমি আমার মনের গহন অরণ্যে যা দেখতে পাই তাকেই আমি লিখে ফেলি এই আমার আঁকিবুঁকি ব্লগে। আমার এলোমেলো এলেবেলে জীবনের নানা কথা।

আমাদের অরূপ কালি - অভিজিৎ বসু।
তেইশ অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো থাকবেন শঙ্খ শুভ্র বাবু

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক পুলিশ অফিসার এর কথা বলবো। বহুদিন পর আজ যার সাথে আচমকাই কথা হলো আমার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের লেখার মাধ্যমে বহু দিন, বহু কাল পরে। আচ্ছা আপনি কি সত্যিই টোটো চালান। তাঁর সরাসরি প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে আমি বললাম, না।  আসলে সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার বহু বছর আগে এস ডি পি ও শ্রীরামপুর হিসেবে কাজ করতেন আমার নিজের হুগলী জেলায় নিজের শহরে শ্রীরামপুরে। যে জেলায় আমিও একসময় দাপিয়ে ঘুরে কাজ করেছি একসময় এই জেলার সাংবাদিক হিসেবে। যদিও সেই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে বেঁচে থাকার অভ্যাস আমার নেই একদমই। সেটা কোনো কালেই ছিল না। যেহেতু আজ বহুদিন পর তাঁর সাথে একটু যোগাযোগ হলো তাই তাঁর কথা লিখতে ইচ্ছা হলো আমার। সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার হলেন শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী। একদম হিরো স্টাইল এর পুলিশ অফিসার। মারকুটে এই পুলিশ অফিসার। মস্তানদের ধরে রাস্তায় ফ্যাশন প্যারেড করানো সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার শঙ্খশুভ্র বাবু। যে কারণে হুগলী জেলায় মস্তান আর ডনদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে খবরের কাগজের পাতায় প্রতিদিন খবরে থাকতেন তিনি সেই সময়।  যার সময় খবর...

বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দোপাধ্যায়

এই বাংলার রাজনীতি। বিরোধী দল। বিরোধী দল নেতা। সেই আমলে সিপিএমের দোর্দণ্ড প্রতাপ দাপট। সেই দাপটেও একা কুম্ভ রক্ষা করে নকল বুঁদি গড়।‌ আর একটা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এর সন্ধান পাওয়া। যিনি সেই দলের ক্রাইসিসে, দলের দুর্দিনে যখন খুব খারাপ অবস্হা। আশংকাজনক অবস্থায় দল যখন এ পজিটিভ রক্তের এর অভাবে ভুগছে রক্তল্পতায়। দৌড় ঝাঁপ করছে, এদিক ওদিক ঘুরছে সেই অবস্থায় কেমন একাই সব সামলে দিয়েছেন তিনি দলকে নানা বিপদ থেকে উৎরে দিয়েছেন হাসিমুখেই। কাউকে কিছু টের না পেতে দিয়ে।  আর আবার তিনিই যখন সারারাত জেগে গোবিন্দপুর বস্তি আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হচ্ছে সবাই যখন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে রাত জাগছেন আর গলা ছেড়ে কেউ কেউ গান ধরছেন দিদিকে খুশী করতে। সেই সময় দিব্যি তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আর সত্যিই রাত জেগে অন্দোলন হচ্ছে কী না সত্যি না মিথ্যে কথা সেটা দেখতে বর্তমান তৃণমুলের এক বর্ষীয়ান সাংসদের স্ত্রী যিনি আজ আর বেঁচে নেই তিনি দেখতে ছুটে এসেছিলেন তাঁর অধ্যাপক স্বামীকে সেই রাতে গোবিন্দপুর বস্তির এলাকায়। আর এতো ঘটনা ঘটলেও তিনি ফোন বন্ধ করে গভীর নিদ্রায...

ঝড়

ভালোবাসার ভীড়ে ভরে উঠবে শহর থেকে গ্রাম। থিক থিকে ভীড়ে উড়বে ধুলোর কনা চারিদিকে। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যাবে শরীর, মন, প্রাণ। ধুলোর ঝড়ে হারিয়ে যাবে মনের মানুষ। হারিয়ে যায় গোটা জীবন।  জীবনের ছায়া মায়া মাখা পথে একা ঘুরে বেড়াই আমি। ভালোবাসার ভীড়ে আত্মাদের সাথে গা ঢাকা দিয়ে,  লুকিয়ে হাঁটি একা, একা। দেখি অন্ধকারের পথ জুড়ে শুধুই, ভালবাসার অভিনয় করা মানুষের ভীড়। মসৃণ রাস্তায় সরীসৃপের মত এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ায় তারা সন্তর্পনে। পায়ে পা মেলাই ধুলোর ঝড় গায়ে মেখে আনমনে,  ধুলি ধুসরিত হয়ে।  ঠিক যেনো ছাতিমের ডালে বসা ছাতারের মত। ঘোলা চোখের ধুলো মাখা দৃষ্টিতে, দুর পানে তাকিয়ে দেখি।  সূর্যের মিঠে আলোয়, ধুলোর কনা গায়ে মেখে  গোপন অভিসারে মত্ত প্রজাপতির দল। অভিনয়ের অভিসার নয়,  সত্যিই কারের ভালোবাসার অভিসার। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যায় আমার শরীর,মন, প্রাণ। ঝড় - অভিজিৎ বসু।

হ্যাপি বার্থডে টু ইউ

আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আমি তো অনেক সাংবাদিককে নিয়েই লিখি আমি। অনেকে বলেন কী বা হবে এই টোটো চালকের লেখা লিখে বলুন আপনারা এইসব আর কি বা পড়ে। কতজন এর সাথেই তো কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার এই দীর্ঘ ৩৫ বছরে। তবে এই অঙ্গীরা ব্যানার্জীর জন্মদিন গেলো সদ্য সদ্য। তাঁকে নিয়ে লিখতে গেলে একটু ভয়ই হয় বটে। যদি কিছু ভাবেন তিনি আর তাঁর সাথে জেলার সাংবাদিক হিসেবে কাজের সুযোগ ঘটেনি বলে। এক সময়ে সেই মুম্বাইয়ের এর তাজ হোটেলে জঙ্গী আক্রমণের সময়ে টিভির পর্দায় দেখেছি আমরা তাঁকে। সেই খুব সম্ভবতঃ ২৪ ঘণ্টার পর্দায় দেখেছি তাঁকে। কী দাপটে কাজ করেছেন তিনি সেই সময়।  সে এক ভয়ঙ্কর কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর এই সাংবাদিকতার জীবনে। আরও অনেক বড় বড় ঘটনার সাক্ষী সে। কলকাতাতে প্রয়াত অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিমে কাজ করেছে সে ক্রাইম বিটে সে বেশ বিখ্যাত দাপুটে রিপোর্টার ছিলেন তিনি সেই সময়ে। দিল্লী আর কলকাতা তে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। এই দিন কয়েক আগেই দেখলাম বহু দিনের পর দেশে এসেছেন তিনি দুবাই থেকে। বেনারস ভ্রমণে। টুক টাক কথা হলো যে তাঁর সাথে ফেসবুকের দুন...

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে তিনি থাকতেন একসময়। বর্তমানে গ্রাম ছেড়ে শহরে সল্টলেকে থাকেন তিনি বর্তমানে। আনন্দবাজার কাগজের প্রথম পাতায় তাঁর লেখা পড়ে আর নানা এক্সক্লুসিভ খবর পড়ে মুগ্ধ হতাম আমি একসময়ে। মনে মনে ভাবতাম যদি একবার এই বিখ্যাত রিপোর্টারকে তাঁকে দেখতে পেতাম একবার। তাহলে যেনো জীবন সার্থক হতো মোর। শুধু দু চোখের দেখা আর কিছুই নয়।  অবশেষে দর্শন হলো তাঁর সাথে আমার মহাকরণের প্রেস কর্নারে। সেই পল্লীডাক প্রেসে কত যে তাঁর নাম শুনতাম সেদিনের কাগজে তাঁর নামে লেখা বের হলেই তাঁর প্রসঙ্গ আসতো। সেই তারকেশ্বরের ফাল্গুনীদার কাছে শুনতাম। সেই টেলিগ্রাফের তারক এর মুখে শুনতাম। আর সেই তাঁকেই নিজের চোখে দেখলাম প্রেস কর্ণারের ভিতর। ইটিভির দীপক এর সাথে বেশ ভালই আলাপ দেখলাম। একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে। একদম সাদামাটা চেহারা। দেখতে খুব যে ঝাঁ চকচকে সেটা নয়। আনন্দবাজার এর ছাপ আছে কিন্তু সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। একবার এই মন্ত্রীর ঘর তো আবার অন্য মন্ত্রীর ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি সবসময়।  আর আমি আমার নিজের জেলার এহেন সাংবাদিককে দেখেই প্রথম দর্শন...