সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

একটি স্বপ্ন দেখা মানুষের মৃত্যু

খবরটা পেলাম একটু আগে মাঝরাতেই। একটা প্রেস রিলিজ লেটার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজে এসে পড়েছিল অনেকক্ষণ আগেই। আমি দেখলাম ফেসবুকের দেওয়ালে তখনও পূজোর ভীড় উপচে পড়েছে চারিদিকে। হঠাৎ তার মাঝেই একটা দুটো করে আলোর উৎসব তার আলো ছেড়ে অন্ধকার করা একটি দুঃসংবাদ ভেসে এলো আমার কাছে ফেসবুকের উজ্জ্বল দেওয়ালে। হ্যাঁ, দেশের শিল্প জগতে আজ এক কালো দিন, অন্ধকার এর দিন। সেই রতন টাটা আজ আর নেই। সাদা জীবনের কালো কথায় আজ একটি স্বপ্ন দেখা মানুষের কথা। যে মানুষটির স্বপ্ন পূরণ হয়নি শুধু মাত্র রাজনীতির জন্য।

সেই যিনি বহুদিন আগে একটা স্বপ্ন দেখেছিলেন। যে স্বপ্নের কথা বোধহয় গল্প করতে করতে চা খেতে খেতে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে বলেছিলেন তিনি। যে সিঙ্গুরে টাটা কোম্পানি কারখানা করবে একটা ছোটো ন্যানো গাড়ির। যে গাড়ি হবে মধ্যবিত্তের একটা স্বপ্নের গাড়ি। কারণ টাটার এই ছোটো গাড়ি মিলবে মাত্র এক লাখ টাকায়। সত্যিই তো লাখ টাকায় গাড়ি, সেই গাড়ির কারখানা হবে আমার নিজের জেলা হুগলীর সিঙ্গুরে তৈরি হবে এই গাড়ির কারখানা। খবরটা শুনে বেশ ভালো লেগেছিল আমার।

 
শিল্পাঞ্চল হুগলী জেলার দিকে দিকে নানা কারখানার গেট বন্ধ। কারখানার ভিতর ঘন বন জঙ্গল আর সাপেদের বসবাস। কারখানার চিমনি দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় না কোনোদিনই। আর তার মাঝে মাঝে কারখানার গেটে লাল পার্টির ঝান্ডা আর সবুজ পার্টির ঝান্ডা দেখা যায়। ইউনিয়ন অফিসগুলো সব ভেঙে পড়ছে চারিদিকে। কিন্তু নেতাদের দেখা মেলেনা যে আর সেই দলীয় কার্যালয়ে। এই হলো শিল্প মানচিত্রে এক সময়ের উজ্জ্বল আজকের সেই ক্ষয়িষ্ণু এই হুগলী জেলার চিত্র।আর এর মাঝেই খবর এলো যে এই জেলায় গাড়ি কারখানা তৈরি করতে চান দেশের অন্যতম শিল্পপতি রতন টাটা। যে কারখানা হলে সারা দেশের কাছে উদাহরণ হয়ে যাবে লাখ টাকার গাড়ি তৈরির কারখানা হলো আমার নিজের হুগলী জেলায়। 

বিশ্বাস করুন হুগলী জেলার বাসিন্দা হিসেবে সত্যিই মনটা বেশ ভরে গেলো আমার। ভালো হয়ে গেলো আমার মন জেলার বাসিন্দা হিসেবে। টাটার কারখানার জন্য জমি দেখা হলো। সেই প্রথম দিন টাটার কর্তা রবিকান্ত এলেন জমি দর্শন করতে সিঙ্গুরের বাজেমেলিয়া গ্রামে। কিন্তু প্রথম দিনেই সেই সিঙ্গুরের বাজেমেলিয়াতে মাটিতে শুয়ে পড়ে মহিলারা টাটার লোকদের মনে ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলো যাতে একটা প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ তৈরি করা যায় প্রথম থেকেই। বলা যায় যে কোনোভাবেই তারা এই তিন চার ফসলি জমি ছাড়বে না। নশো সাতানব্বই একর জমি অধিগ্রহণ নিয়ে শুরু হলো জোর রাজনৈতিক লড়াই আর তরজা দুপক্ষের মধ্যে। সরকার আর বিরোধী পক্ষ।

সিঙ্গুরে তৈরি হলো জমিদাতা ইচ্ছুক চাষী আর জমি না দেওয়া অনিচ্ছুক চাষীর দুটো দল। একপক্ষে দাঁড়িয়ে পড়লেন সেই সময়ের বিরোধী নেত্রী অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি যে কোনো বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করে তাঁর নিজের টিআরপি পাওয়া আর রাজ্যের ক্ষমতা দখল করা যার রাজনৈতিক জীবনের প্রধান ও একমাত্র লক্ষ্য সেই কবে থেকে। অন্যদিকে লাল পার্টির সিপিএম দল যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার স্বাদ আস্বাদন করতে করতে গায়ে গতরে মোটা হয়ে গেছে যারা এই দীর্ঘ তিন দশক ক্ষমতায় থেকে। 

আর সেই কারণে তাদের সেই দলের প্রবল জোর আর আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি হয়ে গেছে সেই লাল পার্টির মনের মধ্যে। আর তাই স্থানীয় কৃষক সভার কোনো গোপন রিপোর্ট না দেখেই এই তিন ফসলি জমির সবুজ মাঠে কারখানা তৈরির উদ্যোগ নিলেন বামেদের সেই সময়ের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কেমন নিজের মেজাজ আর মর্জিতে। আর স্থানীয় সিপিএমের নেতারা বললেন কোনো অসুবিধা নেই আমরা সব সাদা ধুতি পাঞ্জাবি পরে আছি তো। সেই বিখ্যাত দাপুটে নেতা সুহৃদ দত্ত। যিনি বোধহয় ভেবেছিলেন এই তাঁর নিজের দাপটেই কারখানার জমি তাঁরা জোর করে নিয়ে নিতে পারবেন চাষীদের থেকে কোনো ওজর আপত্তি ছাড়াই। 

আর সেটা বোধহয় কিছুটা ভরসা করেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য স্থানীয় প্রশাসনের কথায় ও নেতাদের কথায় যে জমি তারা পেয়ে যাবেন বেশ অনায়াসেই। কারণ ইচ্ছুক চাষীর সংখ্যা যে বেশি অনিচ্ছুক চাষীদের থেকে। আর তাদের সাথে আছে পুলিশ এর দল। সেই সব দাপুটে নেতাদের ভরসা দেখে বোধহয় সেই স্বপ্ন দেখা মানুষটাও সেই রতন টাটাও ভেবেছিলেন তাহলে হয়তো সত্যিই তার একলাখি ন্যানো প্রকল্প সফল হবেই এইবার এই সিঙ্গুরের জমিতে। এই রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গে তিনি কারখানা গড়তে পারবেন অনেক কষ্টে যে স্বপ্ন তাঁর অনেক দিনের। সেই আশা পূরণ হবে তাঁর নিশ্চয়ই। 

কিন্তু বিধি যে বাম তাঁর এক্ষেত্রে। সব হিসেব নিকেষ উল্টে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর জোরদার আন্দোলন, অনশন কর্মসূচি, ধর্মঘট, রাস্তা আটকে জাতীয় সড়কের ওপর রাস্তার ওপর বসে পড়ে জোর করে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে সব মানুষকে কেমন এককাট্টা করে ফেললেন তিনি কেমন খুব সহজেই। তিনি শুধু এটা বুঝিয়ে দিতে সমর্থ হলেন সবাইকেই যে জোর করে ভিটে মাটি মানুষের কাছ থেকে কেড়ে নিচ্ছে এই লালপার্টির সরকার। শুধু সিঙ্গুরেই নয়, নন্দীগ্রামেও একই কায়দায় জোর করে জমি নেবার নোটিশ পড়লো। ব্যাস গোটা রাজ্য জুড়ে হুলুস্থুল। গরীব পার্টির সরকার জোর করে জমি নিয়ে নিচ্ছে। গরীবের জমি নিয়ে নিচ্ছে। আর তাতেই তৃণমূল বুঝিয়ে দিলো যে এটা ঠিক কাজ করছে না সরকার। আর তাতেই তাদের বাজিমাত হলো কেমন সহজেই। আর সেই নির্ঝরের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে গেলো বোধহয় সেইদিন। 

অনেক চেষ্টা হলো, অনেক দু পক্ষের বাদানুবাদ হলো, লাঠি চার্জ হলো, মাথা ফাটল, তাপসী মালিকের মৃত্যু হলো, সিঙ্গুরের জমিতে সিবিআই এর পা পড়লো, সেই টাটার কুশপুতুল দাহ করার জন্য আজকের মন্ত্রী বেচারাম মান্না চাষীদের নিয়ে রতন টাটার সাদা কাপড় জড়ানো মুর্তি তৈরি করলো। তারপর সেই মুর্তি কাঁধে করে নিয়ে প্রতীকী ভাবে ঘোরানো হলো। তারপর সেই মুর্তি পোড়ানো হলো ঘেরা জমির বাইরে। আজকের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সামনে। 

সেদিন আমি আর বিতনু চট্টোপাধ্যায় এবিপি আনন্দ চ্যানেলের বিখ্যাত সাংবাদিক সেই ঘটনার সাক্ষী ছিলাম সিঙ্গুরের মাঠের ধারে পড়ন্ত এক বিকেল বেলায়। সেই সাদা কম দামের সুতির শাড়ি আর পায়ে সাদা সস্তার চটি পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বসে আছেন সিঙ্গুরে জমির আলের ওপরে সবুজ ঘাসের ওপর। কেমন চোখে মুখে একটা তৃপ্তির মিষ্টি হাসি। আর সেই ভারতরত্ন দেশের গর্ব রতন টাটার দেহকে প্রতীকী ভাবে শব সাজিয়ে ঘোরানো হচ্ছে জমির চারপাশে সিঙ্গুরের টাটা কারখানার মাঠের ধারে এদিক থেকে ওদিক। যাতে তিনি কোনোভাবেই সিঙ্গুরে কারখানা গড়তে না পারেন তার জন্যে এই প্রতীকী অন্দোলন কুশপুতুল জ্বালিয়ে। আর চাষীদের স্লোগান টাটা তুমি দুর হঠো।সিঙ্গুর থেকে দুর হঠো।

যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেই সিঙ্গুর কৃষিজমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আজকের রাজনীতির হুগলীর সেই সোনার ছেলে আমার এক সময়ের পরিচিত বেচারাম মান্না। দিদির খুব প্রিয় বেচা। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সেই গোটা ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়ে বসে আছেন মাটির গন্ধ মেখে মাটির আল এর সবুজ ঘাস এর ওপর একা একা। পড়ন্ত বিকেলে রোদের লাল আলো তাঁর মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। আর তিনি উপভোগ করছেন সেই টাটার কুশপুতুল দাহ করার এই দৃশ্য।  এই জোরদার আন্দোলনকে উপভোগ করছেন তিনি।

আজ সেই মানুষটা সত্যিই আর নেই। কুশপুতুল নয়। কাপড়ে মোড়া টাটার কুশপুতুল নয়। আজ সেই সারা দেশের গর্ব,ভারতরত্ন পাওয়া সেই ছোট্টো স্বপ্ন দেখা মানুষটাই আজ আর নেই‌ যে। টাটা গ্রুপের তরফে সেই কথা জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বদলে গেলো রাজনীতির পাশা খেলা। এই পূজোর সময় একদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আন্দোলন এর সময় রতন টাটা সিঙ্গুর ছেড়ে চলে যাবার কথা ঘোষণা করেছিলেন নিজেই। বলেছিলেন আমি আর সিঙ্গুরে কারখানা করবো না। 

কারণ তখন টাটা কারখানায় কাজ করতে আসা কর্মীদের তৃণমুল এর আন্দোলনকারীরা আক্রমণ করছে। তাদের ভয় দেখিয়ে কাজে আসতে বাধা দিচ্ছে জেলার বিভিন্ন জায়গায়। পুলিশকে বলেও পাহারা দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। ধীরে ধীরেই বন্ধ হয়ে গেলো সিঙ্গুরে কারখানার কাজ। কারণ ভয় পেয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হয় তাদের কর্মীদের। যাঁদের সেই সময় নানা এলাকা থেকে বৈদ্যবাটী থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।আর এই ভয় দেখানোর যিনি নেতৃত্ব দিয়ে ছিলেন সেই এক হুগলী জেলার এক পৌরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান। সেকথা আজও স্বীকার করেন তিনি সেকথা। দল যদিও তাঁকে দলের সুখের সময় খুব বেশি তাঁকে দেখেনি, সেই সময়ের আন্দোলন করা সেই পুরোনো ডাকাবুকো নেতাকে। কিন্তু তারজন্য তাঁর কোনো আফশোষ নেই যে আজও। সেটাও সেই নেতা বলেন আমায়। যে নেতা আমায় বেশ ভালোবাসেন আজও। জেলায় একমাত্র নেতা যে কেউ খুব বিপদে পড়েছে এমন খবর পেলেই তিনি তাঁর সাহায্যের দুহাত বাড়িয়ে দেন। সে কারুর চিকিৎসা হোক বা পড়াশোনা হোক। 
সেই একবুক ভর্তি স্বপ্ন দেখা মানুষটি ফিরে গেলেন বিফল মনোরথ হয়ে রাজ্য ছেড়ে সিঙ্গুর ছেড়ে একা একাই গোপনে। আর তাঁর সাথে সিঙ্গুরের হাজার হাজার ছেলে মেয়ে যারা নানা ভাবে ছোটো, বড়ো, মেজো, সেজো নানা ধরনের নানা মাপের স্বপ্ন দেখেছিল একদিন। সেই একটা কাজ পাবার স্বপ্ন দেখেছিল।কাজ পেলে ঘরে ভাত খেতে পাবে তার বৃদ্ধ বাবা মা এই স্বপ্ন দেখেছিল যাঁরা। তারাও যে সব কেমন যেন নির্বাক হয়ে গেলো। আজ রাতের এই ছোট্ট এক প্রেস রিলিজ দেওয়া শোক বার্তায়। রতন টাটা আর নেই। 

 সিঙ্গুরের সেই মাঠের ঘেরা জমির ভেতর কেমন এই রাতের অন্ধকারে শ্মশানের নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে আজ চারিদিকে। শুধু একটাই কথা আজ সেই সিঙ্গুরের ইচ্ছুক আর অনিচ্ছুক চাষীরা বলছে, যে টাটার কুশপুতুল পুড়িয়ে মৃত্যু কামনা করেছিল একদিন তারা সবাই সেই আজ থেকে আঠারো বছর আগে। আজ সেই স্বপ্ন দেখা রতন টাটা সত্যিই আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন দূরে অনেক দূরে। আকাশের তারা হয়ে চলে গেলেন তিনি। সেই স্বপ্নকে বুকে জড়িয়ে। 

একটি স্বপ্ন দেখা মানুষের মৃত্যু - অভিজিৎ বসু।
দশ অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...