সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

একটি স্বপ্ন দেখা মানুষের মৃত্যু

খবরটা পেলাম একটু আগে মাঝরাতেই। একটা প্রেস রিলিজ লেটার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজে এসে পড়েছিল অনেকক্ষণ আগেই। আমি দেখলাম ফেসবুকের দেওয়ালে তখনও পূজোর ভীড় উপচে পড়েছে চারিদিকে। হঠাৎ তার মাঝেই একটা দুটো করে আলোর উৎসব তার আলো ছেড়ে অন্ধকার করা একটি দুঃসংবাদ ভেসে এলো আমার কাছে ফেসবুকের উজ্জ্বল দেওয়ালে। হ্যাঁ, দেশের শিল্প জগতে আজ এক কালো দিন, অন্ধকার এর দিন। সেই রতন টাটা আজ আর নেই। সাদা জীবনের কালো কথায় আজ একটি স্বপ্ন দেখা মানুষের কথা। যে মানুষটির স্বপ্ন পূরণ হয়নি শুধু মাত্র রাজনীতির জন্য।

সেই যিনি বহুদিন আগে একটা স্বপ্ন দেখেছিলেন। যে স্বপ্নের কথা বোধহয় গল্প করতে করতে চা খেতে খেতে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে বলেছিলেন তিনি। যে সিঙ্গুরে টাটা কোম্পানি কারখানা করবে একটা ছোটো ন্যানো গাড়ির। যে গাড়ি হবে মধ্যবিত্তের একটা স্বপ্নের গাড়ি। কারণ টাটার এই ছোটো গাড়ি মিলবে মাত্র এক লাখ টাকায়। সত্যিই তো লাখ টাকায় গাড়ি, সেই গাড়ির কারখানা হবে আমার নিজের জেলা হুগলীর সিঙ্গুরে তৈরি হবে এই গাড়ির কারখানা। খবরটা শুনে বেশ ভালো লেগেছিল আমার।

 
শিল্পাঞ্চল হুগলী জেলার দিকে দিকে নানা কারখানার গেট বন্ধ। কারখানার ভিতর ঘন বন জঙ্গল আর সাপেদের বসবাস। কারখানার চিমনি দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় না কোনোদিনই। আর তার মাঝে মাঝে কারখানার গেটে লাল পার্টির ঝান্ডা আর সবুজ পার্টির ঝান্ডা দেখা যায়। ইউনিয়ন অফিসগুলো সব ভেঙে পড়ছে চারিদিকে। কিন্তু নেতাদের দেখা মেলেনা যে আর সেই দলীয় কার্যালয়ে। এই হলো শিল্প মানচিত্রে এক সময়ের উজ্জ্বল আজকের সেই ক্ষয়িষ্ণু এই হুগলী জেলার চিত্র।আর এর মাঝেই খবর এলো যে এই জেলায় গাড়ি কারখানা তৈরি করতে চান দেশের অন্যতম শিল্পপতি রতন টাটা। যে কারখানা হলে সারা দেশের কাছে উদাহরণ হয়ে যাবে লাখ টাকার গাড়ি তৈরির কারখানা হলো আমার নিজের হুগলী জেলায়। 

বিশ্বাস করুন হুগলী জেলার বাসিন্দা হিসেবে সত্যিই মনটা বেশ ভরে গেলো আমার। ভালো হয়ে গেলো আমার মন জেলার বাসিন্দা হিসেবে। টাটার কারখানার জন্য জমি দেখা হলো। সেই প্রথম দিন টাটার কর্তা রবিকান্ত এলেন জমি দর্শন করতে সিঙ্গুরের বাজেমেলিয়া গ্রামে। কিন্তু প্রথম দিনেই সেই সিঙ্গুরের বাজেমেলিয়াতে মাটিতে শুয়ে পড়ে মহিলারা টাটার লোকদের মনে ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলো যাতে একটা প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ তৈরি করা যায় প্রথম থেকেই। বলা যায় যে কোনোভাবেই তারা এই তিন চার ফসলি জমি ছাড়বে না। নশো সাতানব্বই একর জমি অধিগ্রহণ নিয়ে শুরু হলো জোর রাজনৈতিক লড়াই আর তরজা দুপক্ষের মধ্যে। সরকার আর বিরোধী পক্ষ।

সিঙ্গুরে তৈরি হলো জমিদাতা ইচ্ছুক চাষী আর জমি না দেওয়া অনিচ্ছুক চাষীর দুটো দল। একপক্ষে দাঁড়িয়ে পড়লেন সেই সময়ের বিরোধী নেত্রী অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি যে কোনো বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করে তাঁর নিজের টিআরপি পাওয়া আর রাজ্যের ক্ষমতা দখল করা যার রাজনৈতিক জীবনের প্রধান ও একমাত্র লক্ষ্য সেই কবে থেকে। অন্যদিকে লাল পার্টির সিপিএম দল যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার স্বাদ আস্বাদন করতে করতে গায়ে গতরে মোটা হয়ে গেছে যারা এই দীর্ঘ তিন দশক ক্ষমতায় থেকে। 

আর সেই কারণে তাদের সেই দলের প্রবল জোর আর আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি হয়ে গেছে সেই লাল পার্টির মনের মধ্যে। আর তাই স্থানীয় কৃষক সভার কোনো গোপন রিপোর্ট না দেখেই এই তিন ফসলি জমির সবুজ মাঠে কারখানা তৈরির উদ্যোগ নিলেন বামেদের সেই সময়ের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কেমন নিজের মেজাজ আর মর্জিতে। আর স্থানীয় সিপিএমের নেতারা বললেন কোনো অসুবিধা নেই আমরা সব সাদা ধুতি পাঞ্জাবি পরে আছি তো। সেই বিখ্যাত দাপুটে নেতা সুহৃদ দত্ত। যিনি বোধহয় ভেবেছিলেন এই তাঁর নিজের দাপটেই কারখানার জমি তাঁরা জোর করে নিয়ে নিতে পারবেন চাষীদের থেকে কোনো ওজর আপত্তি ছাড়াই। 

আর সেটা বোধহয় কিছুটা ভরসা করেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য স্থানীয় প্রশাসনের কথায় ও নেতাদের কথায় যে জমি তারা পেয়ে যাবেন বেশ অনায়াসেই। কারণ ইচ্ছুক চাষীর সংখ্যা যে বেশি অনিচ্ছুক চাষীদের থেকে। আর তাদের সাথে আছে পুলিশ এর দল। সেই সব দাপুটে নেতাদের ভরসা দেখে বোধহয় সেই স্বপ্ন দেখা মানুষটাও সেই রতন টাটাও ভেবেছিলেন তাহলে হয়তো সত্যিই তার একলাখি ন্যানো প্রকল্প সফল হবেই এইবার এই সিঙ্গুরের জমিতে। এই রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গে তিনি কারখানা গড়তে পারবেন অনেক কষ্টে যে স্বপ্ন তাঁর অনেক দিনের। সেই আশা পূরণ হবে তাঁর নিশ্চয়ই। 

কিন্তু বিধি যে বাম তাঁর এক্ষেত্রে। সব হিসেব নিকেষ উল্টে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর জোরদার আন্দোলন, অনশন কর্মসূচি, ধর্মঘট, রাস্তা আটকে জাতীয় সড়কের ওপর রাস্তার ওপর বসে পড়ে জোর করে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে সব মানুষকে কেমন এককাট্টা করে ফেললেন তিনি কেমন খুব সহজেই। তিনি শুধু এটা বুঝিয়ে দিতে সমর্থ হলেন সবাইকেই যে জোর করে ভিটে মাটি মানুষের কাছ থেকে কেড়ে নিচ্ছে এই লালপার্টির সরকার। শুধু সিঙ্গুরেই নয়, নন্দীগ্রামেও একই কায়দায় জোর করে জমি নেবার নোটিশ পড়লো। ব্যাস গোটা রাজ্য জুড়ে হুলুস্থুল। গরীব পার্টির সরকার জোর করে জমি নিয়ে নিচ্ছে। গরীবের জমি নিয়ে নিচ্ছে। আর তাতেই তৃণমূল বুঝিয়ে দিলো যে এটা ঠিক কাজ করছে না সরকার। আর তাতেই তাদের বাজিমাত হলো কেমন সহজেই। আর সেই নির্ঝরের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে গেলো বোধহয় সেইদিন। 

অনেক চেষ্টা হলো, অনেক দু পক্ষের বাদানুবাদ হলো, লাঠি চার্জ হলো, মাথা ফাটল, তাপসী মালিকের মৃত্যু হলো, সিঙ্গুরের জমিতে সিবিআই এর পা পড়লো, সেই টাটার কুশপুতুল দাহ করার জন্য আজকের মন্ত্রী বেচারাম মান্না চাষীদের নিয়ে রতন টাটার সাদা কাপড় জড়ানো মুর্তি তৈরি করলো। তারপর সেই মুর্তি কাঁধে করে নিয়ে প্রতীকী ভাবে ঘোরানো হলো। তারপর সেই মুর্তি পোড়ানো হলো ঘেরা জমির বাইরে। আজকের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সামনে। 

সেদিন আমি আর বিতনু চট্টোপাধ্যায় এবিপি আনন্দ চ্যানেলের বিখ্যাত সাংবাদিক সেই ঘটনার সাক্ষী ছিলাম সিঙ্গুরের মাঠের ধারে পড়ন্ত এক বিকেল বেলায়। সেই সাদা কম দামের সুতির শাড়ি আর পায়ে সাদা সস্তার চটি পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বসে আছেন সিঙ্গুরে জমির আলের ওপরে সবুজ ঘাসের ওপর। কেমন চোখে মুখে একটা তৃপ্তির মিষ্টি হাসি। আর সেই ভারতরত্ন দেশের গর্ব রতন টাটার দেহকে প্রতীকী ভাবে শব সাজিয়ে ঘোরানো হচ্ছে জমির চারপাশে সিঙ্গুরের টাটা কারখানার মাঠের ধারে এদিক থেকে ওদিক। যাতে তিনি কোনোভাবেই সিঙ্গুরে কারখানা গড়তে না পারেন তার জন্যে এই প্রতীকী অন্দোলন কুশপুতুল জ্বালিয়ে। আর চাষীদের স্লোগান টাটা তুমি দুর হঠো।সিঙ্গুর থেকে দুর হঠো।

যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেই সিঙ্গুর কৃষিজমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আজকের রাজনীতির হুগলীর সেই সোনার ছেলে আমার এক সময়ের পরিচিত বেচারাম মান্না। দিদির খুব প্রিয় বেচা। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সেই গোটা ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়ে বসে আছেন মাটির গন্ধ মেখে মাটির আল এর সবুজ ঘাস এর ওপর একা একা। পড়ন্ত বিকেলে রোদের লাল আলো তাঁর মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। আর তিনি উপভোগ করছেন সেই টাটার কুশপুতুল দাহ করার এই দৃশ্য।  এই জোরদার আন্দোলনকে উপভোগ করছেন তিনি।

আজ সেই মানুষটা সত্যিই আর নেই। কুশপুতুল নয়। কাপড়ে মোড়া টাটার কুশপুতুল নয়। আজ সেই সারা দেশের গর্ব,ভারতরত্ন পাওয়া সেই ছোট্টো স্বপ্ন দেখা মানুষটাই আজ আর নেই‌ যে। টাটা গ্রুপের তরফে সেই কথা জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বদলে গেলো রাজনীতির পাশা খেলা। এই পূজোর সময় একদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আন্দোলন এর সময় রতন টাটা সিঙ্গুর ছেড়ে চলে যাবার কথা ঘোষণা করেছিলেন নিজেই। বলেছিলেন আমি আর সিঙ্গুরে কারখানা করবো না। 

কারণ তখন টাটা কারখানায় কাজ করতে আসা কর্মীদের তৃণমুল এর আন্দোলনকারীরা আক্রমণ করছে। তাদের ভয় দেখিয়ে কাজে আসতে বাধা দিচ্ছে জেলার বিভিন্ন জায়গায়। পুলিশকে বলেও পাহারা দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। ধীরে ধীরেই বন্ধ হয়ে গেলো সিঙ্গুরে কারখানার কাজ। কারণ ভয় পেয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হয় তাদের কর্মীদের। যাঁদের সেই সময় নানা এলাকা থেকে বৈদ্যবাটী থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।আর এই ভয় দেখানোর যিনি নেতৃত্ব দিয়ে ছিলেন সেই এক হুগলী জেলার এক পৌরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান। সেকথা আজও স্বীকার করেন তিনি সেকথা। দল যদিও তাঁকে দলের সুখের সময় খুব বেশি তাঁকে দেখেনি, সেই সময়ের আন্দোলন করা সেই পুরোনো ডাকাবুকো নেতাকে। কিন্তু তারজন্য তাঁর কোনো আফশোষ নেই যে আজও। সেটাও সেই নেতা বলেন আমায়। যে নেতা আমায় বেশ ভালোবাসেন আজও। জেলায় একমাত্র নেতা যে কেউ খুব বিপদে পড়েছে এমন খবর পেলেই তিনি তাঁর সাহায্যের দুহাত বাড়িয়ে দেন। সে কারুর চিকিৎসা হোক বা পড়াশোনা হোক। 
সেই একবুক ভর্তি স্বপ্ন দেখা মানুষটি ফিরে গেলেন বিফল মনোরথ হয়ে রাজ্য ছেড়ে সিঙ্গুর ছেড়ে একা একাই গোপনে। আর তাঁর সাথে সিঙ্গুরের হাজার হাজার ছেলে মেয়ে যারা নানা ভাবে ছোটো, বড়ো, মেজো, সেজো নানা ধরনের নানা মাপের স্বপ্ন দেখেছিল একদিন। সেই একটা কাজ পাবার স্বপ্ন দেখেছিল।কাজ পেলে ঘরে ভাত খেতে পাবে তার বৃদ্ধ বাবা মা এই স্বপ্ন দেখেছিল যাঁরা। তারাও যে সব কেমন যেন নির্বাক হয়ে গেলো। আজ রাতের এই ছোট্ট এক প্রেস রিলিজ দেওয়া শোক বার্তায়। রতন টাটা আর নেই। 

 সিঙ্গুরের সেই মাঠের ঘেরা জমির ভেতর কেমন এই রাতের অন্ধকারে শ্মশানের নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে আজ চারিদিকে। শুধু একটাই কথা আজ সেই সিঙ্গুরের ইচ্ছুক আর অনিচ্ছুক চাষীরা বলছে, যে টাটার কুশপুতুল পুড়িয়ে মৃত্যু কামনা করেছিল একদিন তারা সবাই সেই আজ থেকে আঠারো বছর আগে। আজ সেই স্বপ্ন দেখা রতন টাটা সত্যিই আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন দূরে অনেক দূরে। আকাশের তারা হয়ে চলে গেলেন তিনি। সেই স্বপ্নকে বুকে জড়িয়ে। 

একটি স্বপ্ন দেখা মানুষের মৃত্যু - অভিজিৎ বসু।
দশ অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো থাকবেন শঙ্খ শুভ্র বাবু

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক পুলিশ অফিসার এর কথা বলবো। বহুদিন পর আজ যার সাথে আচমকাই কথা হলো আমার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের লেখার মাধ্যমে বহু দিন, বহু কাল পরে। আচ্ছা আপনি কি সত্যিই টোটো চালান। তাঁর সরাসরি প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে আমি বললাম, না।  আসলে সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার বহু বছর আগে এস ডি পি ও শ্রীরামপুর হিসেবে কাজ করতেন আমার নিজের হুগলী জেলায় নিজের শহরে শ্রীরামপুরে। যে জেলায় আমিও একসময় দাপিয়ে ঘুরে কাজ করেছি একসময় এই জেলার সাংবাদিক হিসেবে। যদিও সেই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে বেঁচে থাকার অভ্যাস আমার নেই একদমই। সেটা কোনো কালেই ছিল না। যেহেতু আজ বহুদিন পর তাঁর সাথে একটু যোগাযোগ হলো তাই তাঁর কথা লিখতে ইচ্ছা হলো আমার। সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার হলেন শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী। একদম হিরো স্টাইল এর পুলিশ অফিসার। মারকুটে এই পুলিশ অফিসার। মস্তানদের ধরে রাস্তায় ফ্যাশন প্যারেড করানো সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার শঙ্খশুভ্র বাবু। যে কারণে হুগলী জেলায় মস্তান আর ডনদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে খবরের কাগজের পাতায় প্রতিদিন খবরে থাকতেন তিনি সেই সময়।  যার সময় খবর...

বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দোপাধ্যায়

এই বাংলার রাজনীতি। বিরোধী দল। বিরোধী দল নেতা। সেই আমলে সিপিএমের দোর্দণ্ড প্রতাপ দাপট। সেই দাপটেও একা কুম্ভ রক্ষা করে নকল বুঁদি গড়।‌ আর একটা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এর সন্ধান পাওয়া। যিনি সেই দলের ক্রাইসিসে, দলের দুর্দিনে যখন খুব খারাপ অবস্হা। আশংকাজনক অবস্থায় দল যখন এ পজিটিভ রক্তের এর অভাবে ভুগছে রক্তল্পতায়। দৌড় ঝাঁপ করছে, এদিক ওদিক ঘুরছে সেই অবস্থায় কেমন একাই সব সামলে দিয়েছেন তিনি দলকে নানা বিপদ থেকে উৎরে দিয়েছেন হাসিমুখেই। কাউকে কিছু টের না পেতে দিয়ে।  আর আবার তিনিই যখন সারারাত জেগে গোবিন্দপুর বস্তি আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হচ্ছে সবাই যখন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে রাত জাগছেন আর গলা ছেড়ে কেউ কেউ গান ধরছেন দিদিকে খুশী করতে। সেই সময় দিব্যি তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আর সত্যিই রাত জেগে অন্দোলন হচ্ছে কী না সত্যি না মিথ্যে কথা সেটা দেখতে বর্তমান তৃণমুলের এক বর্ষীয়ান সাংসদের স্ত্রী যিনি আজ আর বেঁচে নেই তিনি দেখতে ছুটে এসেছিলেন তাঁর অধ্যাপক স্বামীকে সেই রাতে গোবিন্দপুর বস্তির এলাকায়। আর এতো ঘটনা ঘটলেও তিনি ফোন বন্ধ করে গভীর নিদ্রায...

ঝড়

ভালোবাসার ভীড়ে ভরে উঠবে শহর থেকে গ্রাম। থিক থিকে ভীড়ে উড়বে ধুলোর কনা চারিদিকে। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যাবে শরীর, মন, প্রাণ। ধুলোর ঝড়ে হারিয়ে যাবে মনের মানুষ। হারিয়ে যায় গোটা জীবন।  জীবনের ছায়া মায়া মাখা পথে একা ঘুরে বেড়াই আমি। ভালোবাসার ভীড়ে আত্মাদের সাথে গা ঢাকা দিয়ে,  লুকিয়ে হাঁটি একা, একা। দেখি অন্ধকারের পথ জুড়ে শুধুই, ভালবাসার অভিনয় করা মানুষের ভীড়। মসৃণ রাস্তায় সরীসৃপের মত এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ায় তারা সন্তর্পনে। পায়ে পা মেলাই ধুলোর ঝড় গায়ে মেখে আনমনে,  ধুলি ধুসরিত হয়ে।  ঠিক যেনো ছাতিমের ডালে বসা ছাতারের মত। ঘোলা চোখের ধুলো মাখা দৃষ্টিতে, দুর পানে তাকিয়ে দেখি।  সূর্যের মিঠে আলোয়, ধুলোর কনা গায়ে মেখে  গোপন অভিসারে মত্ত প্রজাপতির দল। অভিনয়ের অভিসার নয়,  সত্যিই কারের ভালোবাসার অভিসার। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যায় আমার শরীর,মন, প্রাণ। ঝড় - অভিজিৎ বসু।

হ্যাপি বার্থডে টু ইউ

আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আমি তো অনেক সাংবাদিককে নিয়েই লিখি আমি। অনেকে বলেন কী বা হবে এই টোটো চালকের লেখা লিখে বলুন আপনারা এইসব আর কি বা পড়ে। কতজন এর সাথেই তো কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার এই দীর্ঘ ৩৫ বছরে। তবে এই অঙ্গীরা ব্যানার্জীর জন্মদিন গেলো সদ্য সদ্য। তাঁকে নিয়ে লিখতে গেলে একটু ভয়ই হয় বটে। যদি কিছু ভাবেন তিনি আর তাঁর সাথে জেলার সাংবাদিক হিসেবে কাজের সুযোগ ঘটেনি বলে। এক সময়ে সেই মুম্বাইয়ের এর তাজ হোটেলে জঙ্গী আক্রমণের সময়ে টিভির পর্দায় দেখেছি আমরা তাঁকে। সেই খুব সম্ভবতঃ ২৪ ঘণ্টার পর্দায় দেখেছি তাঁকে। কী দাপটে কাজ করেছেন তিনি সেই সময়।  সে এক ভয়ঙ্কর কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর এই সাংবাদিকতার জীবনে। আরও অনেক বড় বড় ঘটনার সাক্ষী সে। কলকাতাতে প্রয়াত অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিমে কাজ করেছে সে ক্রাইম বিটে সে বেশ বিখ্যাত দাপুটে রিপোর্টার ছিলেন তিনি সেই সময়ে। দিল্লী আর কলকাতা তে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। এই দিন কয়েক আগেই দেখলাম বহু দিনের পর দেশে এসেছেন তিনি দুবাই থেকে। বেনারস ভ্রমণে। টুক টাক কথা হলো যে তাঁর সাথে ফেসবুকের দুন...

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে তিনি থাকতেন একসময়। বর্তমানে গ্রাম ছেড়ে শহরে সল্টলেকে থাকেন তিনি বর্তমানে। আনন্দবাজার কাগজের প্রথম পাতায় তাঁর লেখা পড়ে আর নানা এক্সক্লুসিভ খবর পড়ে মুগ্ধ হতাম আমি একসময়ে। মনে মনে ভাবতাম যদি একবার এই বিখ্যাত রিপোর্টারকে তাঁকে দেখতে পেতাম একবার। তাহলে যেনো জীবন সার্থক হতো মোর। শুধু দু চোখের দেখা আর কিছুই নয়।  অবশেষে দর্শন হলো তাঁর সাথে আমার মহাকরণের প্রেস কর্নারে। সেই পল্লীডাক প্রেসে কত যে তাঁর নাম শুনতাম সেদিনের কাগজে তাঁর নামে লেখা বের হলেই তাঁর প্রসঙ্গ আসতো। সেই তারকেশ্বরের ফাল্গুনীদার কাছে শুনতাম। সেই টেলিগ্রাফের তারক এর মুখে শুনতাম। আর সেই তাঁকেই নিজের চোখে দেখলাম প্রেস কর্ণারের ভিতর। ইটিভির দীপক এর সাথে বেশ ভালই আলাপ দেখলাম। একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে। একদম সাদামাটা চেহারা। দেখতে খুব যে ঝাঁ চকচকে সেটা নয়। আনন্দবাজার এর ছাপ আছে কিন্তু সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। একবার এই মন্ত্রীর ঘর তো আবার অন্য মন্ত্রীর ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি সবসময়।  আর আমি আমার নিজের জেলার এহেন সাংবাদিককে দেখেই প্রথম দর্শন...