সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

একটি স্বপ্ন দেখা মানুষের মৃত্যু

খবরটা পেলাম একটু আগে মাঝরাতেই। একটা প্রেস রিলিজ লেটার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজে এসে পড়েছিল অনেকক্ষণ আগেই। আমি দেখলাম ফেসবুকের দেওয়ালে তখনও পূজোর ভীড় উপচে পড়েছে চারিদিকে। হঠাৎ তার মাঝেই একটা দুটো করে আলোর উৎসব তার আলো ছেড়ে অন্ধকার করা একটি দুঃসংবাদ ভেসে এলো আমার কাছে ফেসবুকের উজ্জ্বল দেওয়ালে। হ্যাঁ, দেশের শিল্প জগতে আজ এক কালো দিন, অন্ধকার এর দিন। সেই রতন টাটা আজ আর নেই। সাদা জীবনের কালো কথায় আজ একটি স্বপ্ন দেখা মানুষের কথা। যে মানুষটির স্বপ্ন পূরণ হয়নি শুধু মাত্র রাজনীতির জন্য।

সেই যিনি বহুদিন আগে একটা স্বপ্ন দেখেছিলেন। যে স্বপ্নের কথা বোধহয় গল্প করতে করতে চা খেতে খেতে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে বলেছিলেন তিনি। যে সিঙ্গুরে টাটা কোম্পানি কারখানা করবে একটা ছোটো ন্যানো গাড়ির। যে গাড়ি হবে মধ্যবিত্তের একটা স্বপ্নের গাড়ি। কারণ টাটার এই ছোটো গাড়ি মিলবে মাত্র এক লাখ টাকায়। সত্যিই তো লাখ টাকায় গাড়ি, সেই গাড়ির কারখানা হবে আমার নিজের জেলা হুগলীর সিঙ্গুরে তৈরি হবে এই গাড়ির কারখানা। খবরটা শুনে বেশ ভালো লেগেছিল আমার।

 
শিল্পাঞ্চল হুগলী জেলার দিকে দিকে নানা কারখানার গেট বন্ধ। কারখানার ভিতর ঘন বন জঙ্গল আর সাপেদের বসবাস। কারখানার চিমনি দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় না কোনোদিনই। আর তার মাঝে মাঝে কারখানার গেটে লাল পার্টির ঝান্ডা আর সবুজ পার্টির ঝান্ডা দেখা যায়। ইউনিয়ন অফিসগুলো সব ভেঙে পড়ছে চারিদিকে। কিন্তু নেতাদের দেখা মেলেনা যে আর সেই দলীয় কার্যালয়ে। এই হলো শিল্প মানচিত্রে এক সময়ের উজ্জ্বল আজকের সেই ক্ষয়িষ্ণু এই হুগলী জেলার চিত্র।আর এর মাঝেই খবর এলো যে এই জেলায় গাড়ি কারখানা তৈরি করতে চান দেশের অন্যতম শিল্পপতি রতন টাটা। যে কারখানা হলে সারা দেশের কাছে উদাহরণ হয়ে যাবে লাখ টাকার গাড়ি তৈরির কারখানা হলো আমার নিজের হুগলী জেলায়। 

বিশ্বাস করুন হুগলী জেলার বাসিন্দা হিসেবে সত্যিই মনটা বেশ ভরে গেলো আমার। ভালো হয়ে গেলো আমার মন জেলার বাসিন্দা হিসেবে। টাটার কারখানার জন্য জমি দেখা হলো। সেই প্রথম দিন টাটার কর্তা রবিকান্ত এলেন জমি দর্শন করতে সিঙ্গুরের বাজেমেলিয়া গ্রামে। কিন্তু প্রথম দিনেই সেই সিঙ্গুরের বাজেমেলিয়াতে মাটিতে শুয়ে পড়ে মহিলারা টাটার লোকদের মনে ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলো যাতে একটা প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ তৈরি করা যায় প্রথম থেকেই। বলা যায় যে কোনোভাবেই তারা এই তিন চার ফসলি জমি ছাড়বে না। নশো সাতানব্বই একর জমি অধিগ্রহণ নিয়ে শুরু হলো জোর রাজনৈতিক লড়াই আর তরজা দুপক্ষের মধ্যে। সরকার আর বিরোধী পক্ষ।

সিঙ্গুরে তৈরি হলো জমিদাতা ইচ্ছুক চাষী আর জমি না দেওয়া অনিচ্ছুক চাষীর দুটো দল। একপক্ষে দাঁড়িয়ে পড়লেন সেই সময়ের বিরোধী নেত্রী অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি যে কোনো বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করে তাঁর নিজের টিআরপি পাওয়া আর রাজ্যের ক্ষমতা দখল করা যার রাজনৈতিক জীবনের প্রধান ও একমাত্র লক্ষ্য সেই কবে থেকে। অন্যদিকে লাল পার্টির সিপিএম দল যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার স্বাদ আস্বাদন করতে করতে গায়ে গতরে মোটা হয়ে গেছে যারা এই দীর্ঘ তিন দশক ক্ষমতায় থেকে। 

আর সেই কারণে তাদের সেই দলের প্রবল জোর আর আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি হয়ে গেছে সেই লাল পার্টির মনের মধ্যে। আর তাই স্থানীয় কৃষক সভার কোনো গোপন রিপোর্ট না দেখেই এই তিন ফসলি জমির সবুজ মাঠে কারখানা তৈরির উদ্যোগ নিলেন বামেদের সেই সময়ের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কেমন নিজের মেজাজ আর মর্জিতে। আর স্থানীয় সিপিএমের নেতারা বললেন কোনো অসুবিধা নেই আমরা সব সাদা ধুতি পাঞ্জাবি পরে আছি তো। সেই বিখ্যাত দাপুটে নেতা সুহৃদ দত্ত। যিনি বোধহয় ভেবেছিলেন এই তাঁর নিজের দাপটেই কারখানার জমি তাঁরা জোর করে নিয়ে নিতে পারবেন চাষীদের থেকে কোনো ওজর আপত্তি ছাড়াই। 

আর সেটা বোধহয় কিছুটা ভরসা করেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য স্থানীয় প্রশাসনের কথায় ও নেতাদের কথায় যে জমি তারা পেয়ে যাবেন বেশ অনায়াসেই। কারণ ইচ্ছুক চাষীর সংখ্যা যে বেশি অনিচ্ছুক চাষীদের থেকে। আর তাদের সাথে আছে পুলিশ এর দল। সেই সব দাপুটে নেতাদের ভরসা দেখে বোধহয় সেই স্বপ্ন দেখা মানুষটাও সেই রতন টাটাও ভেবেছিলেন তাহলে হয়তো সত্যিই তার একলাখি ন্যানো প্রকল্প সফল হবেই এইবার এই সিঙ্গুরের জমিতে। এই রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গে তিনি কারখানা গড়তে পারবেন অনেক কষ্টে যে স্বপ্ন তাঁর অনেক দিনের। সেই আশা পূরণ হবে তাঁর নিশ্চয়ই। 

কিন্তু বিধি যে বাম তাঁর এক্ষেত্রে। সব হিসেব নিকেষ উল্টে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর জোরদার আন্দোলন, অনশন কর্মসূচি, ধর্মঘট, রাস্তা আটকে জাতীয় সড়কের ওপর রাস্তার ওপর বসে পড়ে জোর করে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে সব মানুষকে কেমন এককাট্টা করে ফেললেন তিনি কেমন খুব সহজেই। তিনি শুধু এটা বুঝিয়ে দিতে সমর্থ হলেন সবাইকেই যে জোর করে ভিটে মাটি মানুষের কাছ থেকে কেড়ে নিচ্ছে এই লালপার্টির সরকার। শুধু সিঙ্গুরেই নয়, নন্দীগ্রামেও একই কায়দায় জোর করে জমি নেবার নোটিশ পড়লো। ব্যাস গোটা রাজ্য জুড়ে হুলুস্থুল। গরীব পার্টির সরকার জোর করে জমি নিয়ে নিচ্ছে। গরীবের জমি নিয়ে নিচ্ছে। আর তাতেই তৃণমূল বুঝিয়ে দিলো যে এটা ঠিক কাজ করছে না সরকার। আর তাতেই তাদের বাজিমাত হলো কেমন সহজেই। আর সেই নির্ঝরের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে গেলো বোধহয় সেইদিন। 

অনেক চেষ্টা হলো, অনেক দু পক্ষের বাদানুবাদ হলো, লাঠি চার্জ হলো, মাথা ফাটল, তাপসী মালিকের মৃত্যু হলো, সিঙ্গুরের জমিতে সিবিআই এর পা পড়লো, সেই টাটার কুশপুতুল দাহ করার জন্য আজকের মন্ত্রী বেচারাম মান্না চাষীদের নিয়ে রতন টাটার সাদা কাপড় জড়ানো মুর্তি তৈরি করলো। তারপর সেই মুর্তি কাঁধে করে নিয়ে প্রতীকী ভাবে ঘোরানো হলো। তারপর সেই মুর্তি পোড়ানো হলো ঘেরা জমির বাইরে। আজকের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সামনে। 

সেদিন আমি আর বিতনু চট্টোপাধ্যায় এবিপি আনন্দ চ্যানেলের বিখ্যাত সাংবাদিক সেই ঘটনার সাক্ষী ছিলাম সিঙ্গুরের মাঠের ধারে পড়ন্ত এক বিকেল বেলায়। সেই সাদা কম দামের সুতির শাড়ি আর পায়ে সাদা সস্তার চটি পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বসে আছেন সিঙ্গুরে জমির আলের ওপরে সবুজ ঘাসের ওপর। কেমন চোখে মুখে একটা তৃপ্তির মিষ্টি হাসি। আর সেই ভারতরত্ন দেশের গর্ব রতন টাটার দেহকে প্রতীকী ভাবে শব সাজিয়ে ঘোরানো হচ্ছে জমির চারপাশে সিঙ্গুরের টাটা কারখানার মাঠের ধারে এদিক থেকে ওদিক। যাতে তিনি কোনোভাবেই সিঙ্গুরে কারখানা গড়তে না পারেন তার জন্যে এই প্রতীকী অন্দোলন কুশপুতুল জ্বালিয়ে। আর চাষীদের স্লোগান টাটা তুমি দুর হঠো।সিঙ্গুর থেকে দুর হঠো।

যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেই সিঙ্গুর কৃষিজমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আজকের রাজনীতির হুগলীর সেই সোনার ছেলে আমার এক সময়ের পরিচিত বেচারাম মান্না। দিদির খুব প্রিয় বেচা। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সেই গোটা ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়ে বসে আছেন মাটির গন্ধ মেখে মাটির আল এর সবুজ ঘাস এর ওপর একা একা। পড়ন্ত বিকেলে রোদের লাল আলো তাঁর মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। আর তিনি উপভোগ করছেন সেই টাটার কুশপুতুল দাহ করার এই দৃশ্য।  এই জোরদার আন্দোলনকে উপভোগ করছেন তিনি।

আজ সেই মানুষটা সত্যিই আর নেই। কুশপুতুল নয়। কাপড়ে মোড়া টাটার কুশপুতুল নয়। আজ সেই সারা দেশের গর্ব,ভারতরত্ন পাওয়া সেই ছোট্টো স্বপ্ন দেখা মানুষটাই আজ আর নেই‌ যে। টাটা গ্রুপের তরফে সেই কথা জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বদলে গেলো রাজনীতির পাশা খেলা। এই পূজোর সময় একদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আন্দোলন এর সময় রতন টাটা সিঙ্গুর ছেড়ে চলে যাবার কথা ঘোষণা করেছিলেন নিজেই। বলেছিলেন আমি আর সিঙ্গুরে কারখানা করবো না। 

কারণ তখন টাটা কারখানায় কাজ করতে আসা কর্মীদের তৃণমুল এর আন্দোলনকারীরা আক্রমণ করছে। তাদের ভয় দেখিয়ে কাজে আসতে বাধা দিচ্ছে জেলার বিভিন্ন জায়গায়। পুলিশকে বলেও পাহারা দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। ধীরে ধীরেই বন্ধ হয়ে গেলো সিঙ্গুরে কারখানার কাজ। কারণ ভয় পেয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হয় তাদের কর্মীদের। যাঁদের সেই সময় নানা এলাকা থেকে বৈদ্যবাটী থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।আর এই ভয় দেখানোর যিনি নেতৃত্ব দিয়ে ছিলেন সেই এক হুগলী জেলার এক পৌরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান। সেকথা আজও স্বীকার করেন তিনি সেকথা। দল যদিও তাঁকে দলের সুখের সময় খুব বেশি তাঁকে দেখেনি, সেই সময়ের আন্দোলন করা সেই পুরোনো ডাকাবুকো নেতাকে। কিন্তু তারজন্য তাঁর কোনো আফশোষ নেই যে আজও। সেটাও সেই নেতা বলেন আমায়। যে নেতা আমায় বেশ ভালোবাসেন আজও। জেলায় একমাত্র নেতা যে কেউ খুব বিপদে পড়েছে এমন খবর পেলেই তিনি তাঁর সাহায্যের দুহাত বাড়িয়ে দেন। সে কারুর চিকিৎসা হোক বা পড়াশোনা হোক। 
সেই একবুক ভর্তি স্বপ্ন দেখা মানুষটি ফিরে গেলেন বিফল মনোরথ হয়ে রাজ্য ছেড়ে সিঙ্গুর ছেড়ে একা একাই গোপনে। আর তাঁর সাথে সিঙ্গুরের হাজার হাজার ছেলে মেয়ে যারা নানা ভাবে ছোটো, বড়ো, মেজো, সেজো নানা ধরনের নানা মাপের স্বপ্ন দেখেছিল একদিন। সেই একটা কাজ পাবার স্বপ্ন দেখেছিল।কাজ পেলে ঘরে ভাত খেতে পাবে তার বৃদ্ধ বাবা মা এই স্বপ্ন দেখেছিল যাঁরা। তারাও যে সব কেমন যেন নির্বাক হয়ে গেলো। আজ রাতের এই ছোট্ট এক প্রেস রিলিজ দেওয়া শোক বার্তায়। রতন টাটা আর নেই। 

 সিঙ্গুরের সেই মাঠের ঘেরা জমির ভেতর কেমন এই রাতের অন্ধকারে শ্মশানের নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে আজ চারিদিকে। শুধু একটাই কথা আজ সেই সিঙ্গুরের ইচ্ছুক আর অনিচ্ছুক চাষীরা বলছে, যে টাটার কুশপুতুল পুড়িয়ে মৃত্যু কামনা করেছিল একদিন তারা সবাই সেই আজ থেকে আঠারো বছর আগে। আজ সেই স্বপ্ন দেখা রতন টাটা সত্যিই আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন দূরে অনেক দূরে। আকাশের তারা হয়ে চলে গেলেন তিনি। সেই স্বপ্নকে বুকে জড়িয়ে। 

একটি স্বপ্ন দেখা মানুষের মৃত্যু - অভিজিৎ বসু।
দশ অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বেহাল খাতা ও আমি

রতনপল্লীর ফলপট্টির আড্ডায় আমায় নিয়ে গিয়েছিলেন মধুদা অনেক দিন আগেই এক সন্ধ্যায়। ধীরে ধীরেই মধুদার স্মৃতি ক্রমেই ঝাপসা হচ্ছে যেনো তবুও হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিও তো ঝাপটা মারে যে কোনোও সময় বৃষ্টি ভেজা পালাবদলের সন্ধ্যায়। তবু এতদিন পরেও কেমন করে যে সেই এই আড্ডার টেবিলে পড়ে এক কোণে পড়ে থাকা থাকা বেহাল খাতা, বেহাল টেবিল আর আমার বেহাল জীবন আর এই বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যা সব যে মিলেমিশে একাকার হলো আমার। কে জানে সেই থপ থপ করে রাস্তা পার হওয়া সেই বুড়ো ব্যাঙের মতোই তো আমার এই বুড়ো বয়সের জীবন। আমার এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস সাদা জীবনের কালো কথার বেহিসেবী টোটো চালকের জীবন নিয়ে হাজির হলাম আমি বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় এই বেহাল খাতার সামনে আজ। হাজির হলাম আকাশ দেখার নেশায় সেই বুঁদ হয়ে থাকা জীবন কাটিয়ে দেওয়া সেই নিখিলেশদার ডাকে। যিনি মাটিতে পায়ে হেঁটে সাইকেল চালিয়ে দিব্যি এই বয়সেও আকাশ দেখার নেশায় আচ্ছন্ন হন বারবার। কত যে বেহাল জীবন আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ায় এমন। আসলে কে আর কাকে ডাকে এই বুড়ো বয়সে ডাকে বলুন তো আজকাল। আর আমার যে ডাক পড়েনা কোথাও কোনোও জায়গায় সব জায়গায় আমি যে বা...

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

বদলে যাওয়ার তালিকায় সবাই

ভেবেছিলাম আট থেকে আশির এই নিজেকে বদলে নেওয়ার দলে ও নাম লেখাবে না একদম কিছুতেই। গুরুগম্ভীর আর সেই অর্থপূর্ণ ভাব বিনিময় করে বেঁচে থাকা আর উচ্চপদে কর্মরত এই ব্যক্তি কী আর নিজেকে খোলস ছেড়ে বদলে নেবে হঠাৎ করেই। কেমন দেখতে লাগে এই নতুন চেহারায় ,সেটা দেখার বাসনা হবে তাঁর। কিন্তু না আমি দেখলাম এই বদলে নেওয়ার আর নিজেকে একটু উল্টেপাল্টে দেখে নেবার লোভ বড়ো ছোঁয়াচে। ঠিক বসন্তের বাতাসে উড়ে বেড়ানো পলাশের শুকনো হাসির মতই।   জানি আমায় কেউ কেউ বলবেন আবার ওকে নিয়ে লেখা। এই লেখা কত নম্বর ভাই। এই ছবি দেখে আর লেখার কি দরকার বাবা তোমার। তিনকাল গিয়ে এককাল ঠেকেছে তোমার। ওকে তেল দিয়ে আর লাভ নেই,চাকরির আশা নেই আর কোনোও তোমার। যেমন আছো তুমি তেমনি থাকো বাবা এই টোটো চালকের বেশ ধরে ঘুরে বেড়িয়ে এই এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস জীবন নিয়ে। আর কতবার এই মুর্শিদাবাদের ভেঙে পড়া সাম্রাজ্যের এক ব্যক্তিকে নিয়ে বার বার লিখবে আর তাঁকে প্রজেক্ট করবে তুমি এইবার তো থামো বাবা। একটু এই শেষ বেলায় হিসেব করে মেপে পা ফেলো মাঠে। না হলে যে গর্তে পড়ে বেঘোরে হাত পা ভাঙবে তোমার। আমি মনে মনে এই সব শুনে অস্ফুটে ...

বসন্তের মল্লিকা

মন কেমন করা ভোরে ঘুম জড়ানো চোখে, তোমার মুখে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে লেগে আছে মল্লিকার  প্রস্ফুটিত রূপ। তোমার পুরু ওষ্ঠের কালো তিলের হাতছানি এড়াতে প্রাণপনে লড়াই করি আমি দিন ভোর। ঠিক যেমন করে কাক-কোকিলের লড়াই বাঁধে নিম গাছের মাথায় দুপুর বেলায়। যে মুখের মায়ায় আমি লুটায়ে পড়ি বার বার তোমার মল্লিকা বনে। হাজার বছর বছর ধরে অপেক্ষা করি আমি শুধু তোমারই জন্য। যে অপেক্ষার দিন, রাত, ঘন্টা, প্রহর গুনি আমি  সব সময়। রাতের অন্ধকারে মাথার ওপর ব্যবিলনের ঘড়ির ঘড় ঘড়ে আওয়াজ। দুলকি চালে চলা সিলিং ফ্যানের মাথা দুলিয়ে ঘুরে যাওয়া। হালকা হাওয়ায় উড়ে যায় পাখির পালক, উড়ে যায় বসন্তের প্রলাপ বকা বিধুর আঁধার মাখা মন। যে মনের মণিকোঠায় আজও অমলিন সেই মায়াময় হাসি, সেই কালো তিলের স্পর্শ। সেই ভেজা ঠোঁটের মন কেমন করা কুহু কুহু ডাক। আমি চুপটি করে বসে থাকি একা রাতের অন্ধকারে জানলার গারদ ধরে। গারদের ঠাণ্ডা লোহার রডে চিবুক ঠেকিয়ে বসে থাকি শুধু তোমারই জন্য। ঠাণ্ডা হাওয়ায় এলোমেলো হয়ে যায় বসন্তের প্রলাপ বকা ভোর।  যে ভোর বেলায় মল্লিকার গন্ধে মাতাল হয় আমার সারা শরীর, মন। বসন্তের মল্...

ভূত ধরার অভিযান ও রাজনীতি

ভূতের ভবিষ্যৎ এর পর এখন ভোটের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় আছে শাসক দল তৃণমূল। যদিও এতে আমার মনে হয় ভূতেরাও বেশ বিরক্ত হয়ে পড়েছে একটু। বেশ সুখেই দিন কাটছিল তাঁদের হঠাৎ করেই কেনো যে এই ভূত ধরার অভিযান শুরু হলো রাজ্যে জুড়ে কে জানে। তবে না দিদির নির্দেশ বলে কথা। ভূত ধরতে তাই সকলের নেমে পড়া মাঠে ময়দানে। দলের ছোটো , বড়ো, মেজো, সেজো, এমনকি কোলের বাচ্চারও জরুরী ভিত্তিতে ভূত ধরার অভিযানে অংশ গ্রহণ করা।  জেলায় জেলায় এখন ভূত ধরার কাজ চলছে জোর কদমে। তবে শুধু ভূত ধরলেই হবে না কত ভূত ধরা হলো। কেমন ধরনের ভূত ধরা হলো তার হিসেব পেশ করতে হবে সপ্তাহে সপ্তাহে দলীয় কার্যালয়ে। মামদো না শাকচুন্নি তারা। শুধু হিসেব পেশ করলেই হবে না ভূত ধরার কাজে সত্যিই পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায়, জেলায় জেলায়, লোক রাস্তায় সব বাড়িতে বাড়িতে গেছে কি না তার ছবিও প্রকাশ করতে হবে। সেই ছবি আপলোড করে জানাতে হবে, হ্যাঁ ভূত ধরার অভিযানে তাঁরা সামিল হয়েছেন সত্যিই সত্যিই। কেউ ফাঁকি মারেনি একদম কাজে। কেউ কাজ না করে ঘরে বসে থাকলেই সে কিন্তু বাদ পড়ে যাবে। একদম কড়া নির্দেশ দলের নেত্রীর।  ক...