সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ইটিভির অরূপ দত্ত

সাদা জীবনের কালো কথা লিখতে বসে এত ভয় পাইনি আমি কোনোদিন। আমি আমার নিজের স্টাইলে টি টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলে বিশ্বকাপ জেতার  মতই এতদিন লিখে গেছি আমি নির্ভয়ে। যে লেখার মধ্য সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলতে বুক কেঁপে ওঠেনি কোনো সময় আমার। অকুতোভয় হয়েই মনের আনন্দে নিজের ব্লগে লিখে গেছি নানা মানুষের নানা জীবনের কথা স্বচ্ছন্দে সাবলীল ভাবেই। যে কথা লিখতে বসে কোনো সময় দুবার কলম ধরে ভাবতে হয়নি আমায় এটা কি লিখবো, না লিখবো না। কেমন গড়গড় করে রেললাইন ধরে এগিয়ে চলেছে আমার এই  লেখার আঁকিবুঁকি খেলা।

 কিন্তু আজ যার কথা লেখার জন্য আমায় বারবার অনুরোধ করেছে একজন সেই তার কথা রাখতেই কিছুটা বুকে সাহস আর বল নিয়ে টোটো চালকের গাড়ি থামিয়ে জয় মা তারা আর জয় মা কঙ্কালী বলে কলম ধরলাম আমি আজ এই রাতদুপুরে বৃষ্টির মাঝে। বাইরে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছে আশ্বিনের এই মাঝ রাতে আজ তৃতীয়ার রাত। বোলপুর শহরে বাস করে বোঝার উপায় নেই যে পূজো এসে গেছে ঘরের দোর গোড়ায়। যাক গে বাদ দিন এত বড় ভূমিকা না লিখে আমি বলেই ফেলি আমার আজকের লেখার সেই ব্যক্তি হলেন আমাদের ই টিভির সেই সবার অরূপ দত্ত। হ্যাঁ, অরূপ দা এই নামটাই যথেষ্ট আর কি। আর কোনো পরিচয় না দিলেও হবে। জানি না এই লেখার পর আর  আমার আর কোনোদিন  ব্লগ লেখা হবে কি না। নাকি এটাই আমার শেষ লেখা জানি না আমি সেই কথা।

তবে সেই যার ভয়ে জুনিয়র রিপোর্টার পার্থ চক্রবর্তী অফিস এর কোণে লুকিয়ে পড়তো, যার দাপটে  ইটিভির কলকাতা অফিস এর সেই মির্জা গালিব স্ট্রীট এর ক্যামেরা ডিপার্টমেন্ট এর দেবাশীষ মৈত্র কাকে অরূপ দত্তর সাথে কোন ক্যামেরাম্যান এর ডিউটি দেবেন সেটা ভেবেই রাতের অর্ধেক ঘুম ছুটে যেত তাঁর। সেই ম্যানেজার সুদীপ্ত রায়চৌধুরী কি ভাবে সামাল দেবেন অরূপদাকে সেটা ভেবেই কুল পেতেন না তিনি। আর সেই মানস ঘোষাল,সৌমেন, ফান্টা, শুভেন্দু, রাও, মনোজ, আরও কতজন যে নাম মনে পড়ছে না তারা সব ভয়ে তটস্থ থাকতো কে জানে। কখন কি বলে আর কি ঘটে যায় তার ভয়ে। সে অরূপদার পিটিসি দেবার সময় হোক বা অন্য কোনো ছবি তোলার সময় হোক।

 সেই অরূপ দত্ত আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায়। বিশ্বাস করুন এত দ্রুত এই লেখা লিখে আমি আমার নিজের পঞ্চত্ব প্রাপ্তি ঘটাতে চাইনি কিছুতেই। কিন্তু একসময় সেই কোচবিহার থেকে কলকাতায় সাংবাদিক হতে আসা সেই কাক হয়ে ময়ূর সাজা সাংবাদিক এর অনুরোধে আমার এই কলম ধরা।  যদিও আজ সে আনন্দবাজার পত্রিকার বিখ্যাত একজন সাংবাদিক উত্তরবঙ্গের। তার বার বার অনুরোধ আর উপরোধে আর তার কথায় বুকে বল নিয়ে কলম ধরলাম আমি এই রাত দুপুরে।

 জানি না মা চলে গেছেন আমার বাবা বেঁচে আছেন তার আগে এই লেখা দেখে অরূপ দা কি বলবেন বা কি করবেন  আমি জানিনা সেটা। শুধু এটা জানি আমায় নানা শব্দবানে বিদ্ধ করবে সে। বলবে বুড়ো বয়সে যতসব ভীমরতি তোর। খেয়ে দেয়ে কাজ নেই কোনো তোর। কিন্তু এটা বলার পর যে সেই হেসে বলবে বল কি খবর। টোটো চালক তো কি হয়েছে তোর সাথে কি আর আমার সেই টোটো চালকের সম্পর্ক। আসলে এটাই যে আমাদের সবার আপাত রাগী, খুব অল্পে চটে যাওয়া, আবার পরক্ষনেই রাগ কমে গেলেই হাসিমুখে বলা চল চা খেয়ে আসি। এটাই হলো সেই অরূপ দত্ত। 

 যে শব্দবানে আমি ভূমিতলে পড়ে যাবো বলে ভাবছি সেটা না হয়ে এমন ফোন আসতে পারে তুই ওই মালটার কথা শুনে রাত দুপুরে আমায় নিয়ে ব্লগ লিখতে বসলি। কি যে করিস না তুই। সেই বোকাই রয়ে গেলি। যে যা বলে সেটা কি শুনতে হয় রে। বুঝে চল মেয়ে বড় হয়ে গেলো এখনো সব বুঝে চলতে হয় কি করে শিখে উঠতে পারলি না তুই। কি যে বলি তোকে হয়তো গাল না দিয়ে হেসে উঠে বলবে বল বাড়ির কি খবর তোর। মেয়ের কি খবর। 

আসলে সত্যি বলতে কি সেই অরূপদার হায়দরাবাদ থেকে কলকাতায় বদলি হয়ে চলে আসা। সেই দীপালি, মৌসুমী, পিয়ালি, শাবানা, মানব, আমি, বিশ্বজিৎ, পার্থ, এমন নানা জনের সংসারে বেশ দাদা হয়ে বেশ ভালই দিন কেটে গেছে একসময় আমাদের এই ইটিভির পুরোনো সংসারে। আমি তো বেশিদিন একসাথে কাজ করতে পারিনি। তার আগেই আমার হায়দরাবাদ বদলি। যাক সে প্রসঙ্গ বাদ দিলাম আমি। 

আমার আজও মনে আছে সেই রাতের নাইট ডিউটি করতে অফিস যাওয়া শনিবার এর রাত। সেই মির্জা গালিব স্ট্রীট এর অফিসে রাত সাড়ে আটটায় ঢুকলাম আমি। বড়ো এসাইনমেন্ট এর খাতা নিয়ে অরূপ দত্ত গম্ভীর মুখে পরের দিনের কাজ ঠিক করে দিচ্ছেন কার কোথায় ডিউটি হবে। ইটিভির হাত বদলের আগে এমন অবস্থা ছিল এই অফিসের। যাই হোক আমায় জিজ্ঞাসা করলেন রাতে কি হবে। বরাবর এর বাঁকা লোক আমি উত্তর দিলাম ইনসিডেন্ট হলে কভার করে দেবো। অরূপদার গম্ভীর গলায় উত্তর কিছু তো করতে হবে রাতে। আমার সজোরে ছয় মারা তাহলে কি আমি রেপ করে খবর করবো। ব্যাস আর কি, গোটা অফিস জুড়ে দু পক্ষের বাদানুবাদ। একদম হুলুস্থুল কাণ্ড। গোটা অফিস জুড়ে হৈ হুল্লোড়। 

তারপর আমার ঠিক ভোটের আগেই সিদ্ধার্থ সরকারের হাত ধরে ডায়মন্ডহারবার এ বদলি হয়ে গেলাম আমি। কলকাতা ছাড়া হলাম আমি ভোটের ঠিক আগে। একটি পুরোনো ল্যাপটপ  দিলো সেই আইটির মণীশ। তাকে ব্যাগে ভরে চলে গেলাম ব্যাগ গুছিয়ে ডায়মন্ডহারবার। দেখা করলাম ঘরের জন্য সুরজিৎ এর সঙ্গে। পরে ডায়মন্ডহারবার সৎসঙ্গ মন্দিরে থেকে যেহেতু আমি নিরামিষ খাই দিন কাটালাম আমার সাংবাদিক জীবনের সেই দিন এর কথা আজও মনে আছে আমার। সেই ভোটের দিন লোকাল এক ক্যামেরাম্যান নিয়ে কানিং গেলাম মোটর সাইকেল করে। রাত কাটালাম ক্যানিং এর সব থেকে খারাপ লাইন এর হোটেলে সেই অভিজ্ঞতা, সেই ঘর, সেই বাথরুম ভুলিনি আজও আমি।

 পরদিন ভোট শুরু হলো সেই মণীশ এর দেওয়া ল্যাপটপ থেকে পিটিসি পাঠালাম ভোটের দিন সকাল সকাল। সেই এফটিপিতে উড়ে উড়ে খামের মত ছবি যাওয়া অনেক কষ্টে। না চলে নি সেটা সেই ভোটের পিটিসি আর টিভিতে চলেনি। জানতাম চলবে না সেই কষ্ট করে দেওয়া পিটিসি। ভোট শেষ হলো রাতে ফিরে এলাম আমি ডায়মন্ড lহারবার সেই রাতে হাউ হাউ করে কেঁদেছিলাম আমি। এই ইটিভি বাংলার জন্য তো জীবনে কম কষ্ট করিনি আমি তাহলে ভোটের দিন কেনো এমন শাস্তি পেলাম আমি কে জানে হয়তো এটাই প্রাপ্য ছিল আমার।

 যাক সাদা জীবনের কালো কথা এই জন্য আমি লিখতে বসিনা রাত দুপুরে। যত সব ফালতু কথা বেরিয়ে আসে গলগল করে চিমনি দিয়ে ধোঁয়ার মত। বেরিয়ে পড়ে আপন খেয়ালে। হয়তো এই ঘটনার কথা লিখতে হবে ভাবিনি আমি কোনোদিন। তারপর বদলি হয়ে গেলো আমার হায়দরাবাদ সেই পানিশমেন্ট ট্রান্সফার। সেই  কলকাতার এইচ আর সুশান্তর মাতব্বরি, সেই আর একজন চন্দন , সেই বিভাস এর কথা আজও মনে পড়ে যায় আমার।  সেই মিঠু, সেই সাধন আরও কত জন যে ওই মির্জা গালিব স্ট্রীট এর অফিসে ছিল আজ হয়তো সবার কথা মনে পড়ছে না আমার। 

সেই যে মহাকরণে পোডিয়াম থেকে বুম আমি তুলে ক্যামেরাম্যান সৌমেনকে দিলাম না বলে সারারাত বুম পড়ে রইলো মহাকরণে। পরদিন আই এন  সির অফিসার কে ফোন করে জানলাম সেই ইটিভির লাল বুম ওরা তুলে রেখে দিয়েছেন নিজেদের কাছে। আর তারপর সেটা পাওয়া গেলো আর তারপরেই যে আমার পানিশমেন্ট ট্রান্সফার হলো হায়দ্রাবাদ ইটিভির হেড অফিসে। এসব বলতে আজ আর ইচ্ছা করে না আমার। রাস্তার  পাশে টোটো দাঁড় করিয়ে রেখে এসব বলে কি লাভ বলুন। বিশ্বাস করুন কে আর হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে  চায় বলুন। তবু সাদা জীবনের কালো কথায় এসব যে বেরিয়ে পরে আচমকাই।

বহুদিন আর সেই অরূপদার সাথে যোগাযোগ হয়নি। আমি ইটিভির কাজ ছেড়ে দিলাম মেয়ের জন্য। ভেসে পড়লাম অনিশ্চিত জীবনে। তারপর বহুদিন পর গান্ধী মূর্তির সামনে চব্বিশ ঘণ্টাতে কাজ করার সময় আমি বাস থেকে নেমে দেখলাম অঞ্জন রায় দা তখন চব্বিশ ঘণ্টার সাংবাদিক আর অরূপ দত্ত একসাথে বসে আছে। বাদাম খাচ্ছে একসাথে দুজনে। আমায় বলল অরূপ দা, নে খা। আমি একটু অস্বস্তি নিয়ে সেটা আর নিতে পারিনি সেদিন। সেই একটা জড়তা দূরত্ব রয়ে গেছে আমার। জানিনা কেনো কি কারণ। মাঝে মাঝেই প্রেস ক্লাবে দেখা হয়েছে এদিক ওদিক তাকিয়ে হেসে চলে গেছি আমরা। আসলে আমি সেই সময় অনিশ্চিত জীবনে ভেসে বেড়াচ্ছি। উঠে গেছে মির্জা গালিব স্ট্রীট এর সেই অফিস। সেক্টর ফাইভের গোদরেজ ওয়াটার সাইড এর বিখ্যাত অফিস নিউজ এইটিন এর। আসলে বদলে গেছে গোটা চ্যানেল সব যে এখন মুকেশ আম্বানির মুঠোয়। কিছুটা নিজেই গুটিয়ে থাকতাম আমিও তাই। আর আগের মত স্বচ্ছন্দ হয়নি আগের সম্পর্ক। 

হঠাৎ একদিন শুনলাম সেই অরূপ দার অবসর হয়ে গেলো আজ। মনটা আমার খারাপ হয়ে গেলো কেমন। সেই দৌড়ে বেড়ানো ছুটে বেড়ানো সব বিট কভার করে বেড়ানো একজন রিপোর্টার এর অবসর হলো। যে কোনো দিন ছুটি নিতে পারত না কাজের সময় চাকরি করতে করতে। যে কোনো দিন পরিবারকে সময় দিতে গেলেও ভাবতো তাহলে তার খবরের কি হবে। কে যাবে তার বিটে বাইট নিতে। কাকে কোন নেতাকে ধরতে হবে সেটা বারবার বলে দিত জুনিয়র রিপোর্টারদের। আর তারা একটু ভুল করে অন্য কারুর বাইট আনলে বলতো এই জন্য তোদের দ্বারা কিছু হবে না বলে রাগ করত। সেই মানুষটার অবসর হলো। আমার হাজার অভিমান, দুঃখ, যন্ত্রণা, কষ্ট কেমন যেন উবে গেলো। ইচ্ছা হলো ফোন করে ফেলি সেদিন। কিন্তু না ভয়ে করলাম না যদি গাল শুনি আমি। কি রে খুব মনে পড়ল আজ এতদিন পরে। 

ফোন এলো আমার কাছে অরূপদার। গৌহাটির একটা কোম্পানি বাংলা চ্যানেল করবে। অরূপ দা এলো সেই কলেজ মোড় এর অফিসে দেখা করতে সোম এর সঙ্গে। কতদিন পর একসাথে চা খেলাম আমি সোম আর অরূপ দা। আমি পয়সা দিতে গেলে ধমকে সেই আগের মতই বললো এই বেশি পাকামো করিস না তুই। সেই আগের পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে গেলো আমার। হাঁক ডাক জুড়ে দিলেও সেই স্নেহ করতেন জুনিয়র দের। শুধু একটু বকা ঝকা আর গাল শুনে চুপ থাকা। তাহলেই সাত খুন ম্যাপ। 

 সেই অরূপ দত্ত পড়ে শুনলাম অবসর নেবার পর একটি কাগজে এখনো লিখে চলেছে। এখনও দৌড়ে চলছে সে নিজের মতো করেই। সত্যিই শুধু এই পেশাকে ভালোবেসে আঁকড়ে একজন মানুষ অবসর এর পরেও যে এই ভাবে ছুটে বেড়াচ্ছে সেটা আমার বেশ ভালো লাগেm সেই পঞ্চাশ বছরের স্পিরিট আর অবসর এর স্পিরিট এক ভাবেই রয়ে গেছে অরূপ দার জীবনে। এই স্পিরিটকে সত্যি কুর্ণিশ  জানাই আমি। এরপর কি শুনবো আমি জানিনা। তবে দীর্ঘ দিন একসাথে কাজ করে আজ নানা কথা মনে এলো। শুধু একজনের কথা রাখতে এই লেখা লিখলাম। 

আজও অরূপ দত্ত ছুটে বেড়ায় খবরের মাঠে। গোল দেয় কাগজে লেখার জন্য নাম বের হয়। আর আমি ফাঁকা রাস্তায় কখনও সাইকেল চালিয়ে আকাশ দেখি।কোনো দিন কঙ্কালীতলার হাটে বসে মেয়ের হাতের তৈরি জিনিস বিক্রি করি। কোনোদিন দশ টাকার বিক্রি হয় কোনোদিন তাও হয়না। টোটো চালকের কাজ করে জীবন কাটাই। শুধু মনে হয় বুকে বল নিয়ে একবার বলি অরূপ দা জীবনে অনেক দৌড়োলে খবরের পেছনে এবার একটু জীবনকে উপভোগ করো দেখো ভালো লাগবে। 

কিন্তু আমি এই বুড়ো বয়সে বুকে সাহস নিয়ে এই কথা বলতে ভয় পাই আমি। যদি আগের মত রেগে যায় আবার। যদিও আমায় ফোনে বলেছে অরূপ দত্ত, বোলপুর এলে দেখা করবে আমার সাথে। টোটো চালক বলে এভয়েড করে দূরে সরে যাবে না। এটা শুনেই আমার ভালো লাগে। আজ জীবনের এই শেষ বেলায় মির্জা গালিব স্ট্রীট এর সেই ইটিভির পুরোনো অফিস। সেই নানা ভালো আর খারাপ ঘটনা, ঘটনার প্রবাহ, ঘটনার অভিঘাত আমায় আঘাত করলো। যে আঘাতে এতদিন পর এই বৃষ্টি ভেজা রাতে একটু স্নাত হলাম, সিক্ত হলাম আমি। ভালো থেকো তুমি অরূপ দা। আমার ওপর রেগে যেওনা তুমি। আর গাল দিয়ে বলো না এসব ভীমরতি বুড়ো বয়সে আর মানায় না। 

ইটিভির অরূপ দত্ত - অভিজিৎ বসু।
ছয় অক্টোবর দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

সুসমীর ও আমি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ আমার কলেজের বন্ধু সুসমীর এর কথা। ওর ভালো নাম সমীর ঘোষ। ওর বাড়ী শ্রীরামপুরে। আমার সাথে ওর আলাপ শ্রীরামপুর কলেজে পড়ার সময়। সেটা আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর আগের কথা হবে। আসলে কলেজের বেঞ্চিতে বসে ওর গলার গান শুনে মুগ্ধ হয়েছি আমরা সবাই। ছেলে মেয়ে সবাই ওর গানের ভক্ত হয়ে গেলাম একদিন ওর গান শুনেই। মেয়েরা তো ওর ফ্যান হয়ে গেলো ওর গানের জন্য।  পরে আমাদের কলেজ জীবন শেষ করে আমরা এদিক ওদিক টুকটাক কাগজে লেখার জগতে দুজনেই প্রবেশ করেছি আমরা। একদিন খুব সম্ভবত বর্তমান কাগজে বিজ্ঞানের পাতায় দেখলাম সুসমীর দাস নামে এক জনের লেখা বেরিয়েছে।সেই সময় বিজ্ঞানের পাতা দেখতেন বর্তমানের রূপকুমার বসু। আমার সাথেও পড়ে রূপদার আলাপ হয়েছিল এই লেখার সূত্রেই।  মনে পড়ে প্রতি লেখায় পঞ্চাশ টাকা দিত বর্তমান‌ কাগজ সেই সময়। সমীর তখন বিজ্ঞান নিয়ে লিখছে, আকাশবাণী তে নানা অনুষ্ঠান করছে। এরপর তারা নিউজ ডেস্ক এর কাজে যোগদান করে সে। দীর্ঘ দিন তারা নিউজ এর কাজ করেছে সে। এই হলো সুসমীর এর জীবনের রেখাচিত্র।  কিন্তু আমার সাদা জীবনের এমন এক সাদা মানুষের ...

ভূত চতুর্দশীর সেই রাত

জীবনে আলো নেই, এদিকে ঘরে টুনি লাইট লাগাচ্ছি আর স্টাইল করে ছবি তুলছি। সত্যিই কত বিচিত্র আয়োজন আর বিচিত্র জীবন। ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যার আলোকজ্বল এই অমলিন, ঝাপসা, ম্রিয়মান এই ছবিটা ধরা থাকলো আমার জীবনের টাইমলাইনের ফেসবুকের পাতায় আলতো করে।  ঘরের দুয়ারে বাতি দিয়ে অন্ধকারের রাজ্যে চলে যাওয়া। আর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া আমার আত্মীয়দের পথ দেখালাম আমি। হ্যাঁ, যে পথ ধরে আমাদের ছেড়ে যাওয়া মানুষজন এসেছিলেন তাঁরা সেই মহালয়ার পুণ্য প্রভাতে। তাঁদের তর্পণ করে স্বাগত জানিছিলাম আমরা সবাই। এতদিন ধরে এই উৎসবের আনন্দে আলোকমালায় কেমন ঘুরে বেড়ালেন তাঁরা খুশি মনে। আজকের রাত তাঁদের আবার সেই ফিরে যাওয়ার রাত। যে রাতে ঘুম আসেনা কিছুতেই। যে রাতের অন্ধকারে কত কিছুই যে ঘটে যায়।   যাঁরা এতদিন এই পৃথিবীর টানে, আপনজনদের টানে পৃথিবীর কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই তাঁরাই আজ আমাদের ছেড়ে প্রিয়জনদের সবাইকে ছেড়ে ধীরে ধীরে চলে যাবেন দূরে,অনেক দূরে। আর আমরা তখন ঘরের দুয়ারে, উঠোনে তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালিয়ে সেই তাঁদের যাত্রাপথকে সুগম করবো আলোক সজ্জা দিয়ে। এটাই হলো ভূত চতুর্দশীর সেই আল...

কুণাল ঘোষের বার্তা ও টোটো চালকের কিছু কথা

কুণাল দার সাথে কাজ করিনি আমি কোনোদিন। বাংলা সংবাদের জগতে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত সাংবাদিক আছেন। যাঁদের নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে এই বাংলার মিডিয়ায়। আজ সেই কুণাল ঘোষ সংবাদ প্রতিদিন কাগজ থেকে কনসাল্টিং এডিটর পোস্ট থেকে সরে গেলেন। একদিকে তাঁর বিধায়ক হয়ে যাওয়া সরকার এর বদল হয়ে যাওয়া। আর তাই তিনি প্রতিদিন কাগজের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন তেমন এক বার্তা দিলেন তিনি নিজেই।  কুণাল ঘোষ এর সাথে আমার আলাপ বিশেষ নেই। সেই মহাকরণে করিডর দিয়ে তিনি হেঁটে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের দিকে। তাঁর আগে পিছে সংবাদ মাধ্যমের কাজ করা রিপোর্টারদের ভীড় তাঁকে ঘিরে ভীড় করে আছেন আমিও দূরে আছি দাঁড়িয়ে। সেই বহু বছর আগে হাফ শার্ট পরে বিকেলের দিকে মদন মিত্রের অফিসে আসতেন। ২৪ চৌরঙ্গী রোড এর অফিসে ধর্মতলার কাছে। সান্ধ্য প্রতিদিন কাগজ পকেটে নিয়ে। রণজিৎ থাকতো সেই সময়। সেই সব দিন এর কথা মনে পড়ে যায় আজ আমার। সেই কঠিন বাম আমলে তাঁকে কাজ ছেড়ে চলে যেতে হয়নি একদমই। আর আজ সরকার বদলের সাথে সাথেই দিকে দিকে কাজ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেছে যে চারিদিক জুড়েই এই বাংলার মিডিয়ায়।  ইটিভির কাজের স...

রক্তাক্ত আমি

অর্থহীন, শব্দহীন,জীবনের অপমান বড়ই যন্ত্রণার। জীবনের অনুরণনে অপমানের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, শুনতে শুনতে ধীর পায়ে এগিয়ে চলা। ছিপখান ডিঙ্গি নৌকা বেয়ে নিজের মত করে অন্তরীণ হয়ে ভেসে বেড়ানো, এদিক থেকে ওদিক পানে। শঙ্খচিলের ডানায় তখন, রামধনুর সাত রঙ এর স্বপ্নের ঘুম জড়ানো ভোরের আস্তরণ। শালিকের ভেজা পায়ে, জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দের বাঙময় অব্যক্ত ধাক্কা। যে ধাক্কায় দ্বিখণ্ডিত হয় জীবনের অর্থ, অনর্থ, সৃষ্টি, অনাসৃষ্টি, সুখ, অসুখ,ভালোবাসা, ঘৃণা আরও কত কি।  চোখ খুলে দেখি বদলে গেছে, জীবনের উপল উপত্যকার ঢেউ খেলানো রাস্তার, সোজাসাপ্টা সেই বহু চেনা গলিপথ। যে গলিপথের চেনা রাস্তায় হাঁটতে নেমে রক্তাক্ত হই আমি বার বার। তবু রাতের আঁধার গায়ে মেখে রক্তাক্ত আমি ঘুরে, বেড়াই এদিক থেকে ওদিক। হাতড়ে খুঁজে বেড়াই রামধনুর রং মাখা ভোর। রক্তাক্ত আমি - অভিজিৎ বসু। ষোলো জুন, দু হাজার চব্বিশ।