সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ইটিভির অরূপ দত্ত

সাদা জীবনের কালো কথা লিখতে বসে এত ভয় পাইনি আমি কোনোদিন। আমি আমার নিজের স্টাইলে টি টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলে বিশ্বকাপ জেতার  মতই এতদিন লিখে গেছি আমি নির্ভয়ে। যে লেখার মধ্য সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলতে বুক কেঁপে ওঠেনি কোনো সময় আমার। অকুতোভয় হয়েই মনের আনন্দে নিজের ব্লগে লিখে গেছি নানা মানুষের নানা জীবনের কথা স্বচ্ছন্দে সাবলীল ভাবেই। যে কথা লিখতে বসে কোনো সময় দুবার কলম ধরে ভাবতে হয়নি আমায় এটা কি লিখবো, না লিখবো না। কেমন গড়গড় করে রেললাইন ধরে এগিয়ে চলেছে আমার এই  লেখার আঁকিবুঁকি খেলা।

 কিন্তু আজ যার কথা লেখার জন্য আমায় বারবার অনুরোধ করেছে একজন সেই তার কথা রাখতেই কিছুটা বুকে সাহস আর বল নিয়ে টোটো চালকের গাড়ি থামিয়ে জয় মা তারা আর জয় মা কঙ্কালী বলে কলম ধরলাম আমি আজ এই রাতদুপুরে বৃষ্টির মাঝে। বাইরে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছে আশ্বিনের এই মাঝ রাতে আজ তৃতীয়ার রাত। বোলপুর শহরে বাস করে বোঝার উপায় নেই যে পূজো এসে গেছে ঘরের দোর গোড়ায়। যাক গে বাদ দিন এত বড় ভূমিকা না লিখে আমি বলেই ফেলি আমার আজকের লেখার সেই ব্যক্তি হলেন আমাদের ই টিভির সেই সবার অরূপ দত্ত। হ্যাঁ, অরূপ দা এই নামটাই যথেষ্ট আর কি। আর কোনো পরিচয় না দিলেও হবে। জানি না এই লেখার পর আর  আমার আর কোনোদিন  ব্লগ লেখা হবে কি না। নাকি এটাই আমার শেষ লেখা জানি না আমি সেই কথা।

তবে সেই যার ভয়ে জুনিয়র রিপোর্টার পার্থ চক্রবর্তী অফিস এর কোণে লুকিয়ে পড়তো, যার দাপটে  ইটিভির কলকাতা অফিস এর সেই মির্জা গালিব স্ট্রীট এর ক্যামেরা ডিপার্টমেন্ট এর দেবাশীষ মৈত্র কাকে অরূপ দত্তর সাথে কোন ক্যামেরাম্যান এর ডিউটি দেবেন সেটা ভেবেই রাতের অর্ধেক ঘুম ছুটে যেত তাঁর। সেই ম্যানেজার সুদীপ্ত রায়চৌধুরী কি ভাবে সামাল দেবেন অরূপদাকে সেটা ভেবেই কুল পেতেন না তিনি। আর সেই মানস ঘোষাল,সৌমেন, ফান্টা, শুভেন্দু, রাও, মনোজ, আরও কতজন যে নাম মনে পড়ছে না তারা সব ভয়ে তটস্থ থাকতো কে জানে। কখন কি বলে আর কি ঘটে যায় তার ভয়ে। সে অরূপদার পিটিসি দেবার সময় হোক বা অন্য কোনো ছবি তোলার সময় হোক।

 সেই অরূপ দত্ত আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায়। বিশ্বাস করুন এত দ্রুত এই লেখা লিখে আমি আমার নিজের পঞ্চত্ব প্রাপ্তি ঘটাতে চাইনি কিছুতেই। কিন্তু একসময় সেই কোচবিহার থেকে কলকাতায় সাংবাদিক হতে আসা সেই কাক হয়ে ময়ূর সাজা সাংবাদিক এর অনুরোধে আমার এই কলম ধরা।  যদিও আজ সে আনন্দবাজার পত্রিকার বিখ্যাত একজন সাংবাদিক উত্তরবঙ্গের। তার বার বার অনুরোধ আর উপরোধে আর তার কথায় বুকে বল নিয়ে কলম ধরলাম আমি এই রাত দুপুরে।

 জানি না মা চলে গেছেন আমার বাবা বেঁচে আছেন তার আগে এই লেখা দেখে অরূপ দা কি বলবেন বা কি করবেন  আমি জানিনা সেটা। শুধু এটা জানি আমায় নানা শব্দবানে বিদ্ধ করবে সে। বলবে বুড়ো বয়সে যতসব ভীমরতি তোর। খেয়ে দেয়ে কাজ নেই কোনো তোর। কিন্তু এটা বলার পর যে সেই হেসে বলবে বল কি খবর। টোটো চালক তো কি হয়েছে তোর সাথে কি আর আমার সেই টোটো চালকের সম্পর্ক। আসলে এটাই যে আমাদের সবার আপাত রাগী, খুব অল্পে চটে যাওয়া, আবার পরক্ষনেই রাগ কমে গেলেই হাসিমুখে বলা চল চা খেয়ে আসি। এটাই হলো সেই অরূপ দত্ত। 

 যে শব্দবানে আমি ভূমিতলে পড়ে যাবো বলে ভাবছি সেটা না হয়ে এমন ফোন আসতে পারে তুই ওই মালটার কথা শুনে রাত দুপুরে আমায় নিয়ে ব্লগ লিখতে বসলি। কি যে করিস না তুই। সেই বোকাই রয়ে গেলি। যে যা বলে সেটা কি শুনতে হয় রে। বুঝে চল মেয়ে বড় হয়ে গেলো এখনো সব বুঝে চলতে হয় কি করে শিখে উঠতে পারলি না তুই। কি যে বলি তোকে হয়তো গাল না দিয়ে হেসে উঠে বলবে বল বাড়ির কি খবর তোর। মেয়ের কি খবর। 

আসলে সত্যি বলতে কি সেই অরূপদার হায়দরাবাদ থেকে কলকাতায় বদলি হয়ে চলে আসা। সেই দীপালি, মৌসুমী, পিয়ালি, শাবানা, মানব, আমি, বিশ্বজিৎ, পার্থ, এমন নানা জনের সংসারে বেশ দাদা হয়ে বেশ ভালই দিন কেটে গেছে একসময় আমাদের এই ইটিভির পুরোনো সংসারে। আমি তো বেশিদিন একসাথে কাজ করতে পারিনি। তার আগেই আমার হায়দরাবাদ বদলি। যাক সে প্রসঙ্গ বাদ দিলাম আমি। 

আমার আজও মনে আছে সেই রাতের নাইট ডিউটি করতে অফিস যাওয়া শনিবার এর রাত। সেই মির্জা গালিব স্ট্রীট এর অফিসে রাত সাড়ে আটটায় ঢুকলাম আমি। বড়ো এসাইনমেন্ট এর খাতা নিয়ে অরূপ দত্ত গম্ভীর মুখে পরের দিনের কাজ ঠিক করে দিচ্ছেন কার কোথায় ডিউটি হবে। ইটিভির হাত বদলের আগে এমন অবস্থা ছিল এই অফিসের। যাই হোক আমায় জিজ্ঞাসা করলেন রাতে কি হবে। বরাবর এর বাঁকা লোক আমি উত্তর দিলাম ইনসিডেন্ট হলে কভার করে দেবো। অরূপদার গম্ভীর গলায় উত্তর কিছু তো করতে হবে রাতে। আমার সজোরে ছয় মারা তাহলে কি আমি রেপ করে খবর করবো। ব্যাস আর কি, গোটা অফিস জুড়ে দু পক্ষের বাদানুবাদ। একদম হুলুস্থুল কাণ্ড। গোটা অফিস জুড়ে হৈ হুল্লোড়। 

তারপর আমার ঠিক ভোটের আগেই সিদ্ধার্থ সরকারের হাত ধরে ডায়মন্ডহারবার এ বদলি হয়ে গেলাম আমি। কলকাতা ছাড়া হলাম আমি ভোটের ঠিক আগে। একটি পুরোনো ল্যাপটপ  দিলো সেই আইটির মণীশ। তাকে ব্যাগে ভরে চলে গেলাম ব্যাগ গুছিয়ে ডায়মন্ডহারবার। দেখা করলাম ঘরের জন্য সুরজিৎ এর সঙ্গে। পরে ডায়মন্ডহারবার সৎসঙ্গ মন্দিরে থেকে যেহেতু আমি নিরামিষ খাই দিন কাটালাম আমার সাংবাদিক জীবনের সেই দিন এর কথা আজও মনে আছে আমার। সেই ভোটের দিন লোকাল এক ক্যামেরাম্যান নিয়ে কানিং গেলাম মোটর সাইকেল করে। রাত কাটালাম ক্যানিং এর সব থেকে খারাপ লাইন এর হোটেলে সেই অভিজ্ঞতা, সেই ঘর, সেই বাথরুম ভুলিনি আজও আমি।

 পরদিন ভোট শুরু হলো সেই মণীশ এর দেওয়া ল্যাপটপ থেকে পিটিসি পাঠালাম ভোটের দিন সকাল সকাল। সেই এফটিপিতে উড়ে উড়ে খামের মত ছবি যাওয়া অনেক কষ্টে। না চলে নি সেটা সেই ভোটের পিটিসি আর টিভিতে চলেনি। জানতাম চলবে না সেই কষ্ট করে দেওয়া পিটিসি। ভোট শেষ হলো রাতে ফিরে এলাম আমি ডায়মন্ড lহারবার সেই রাতে হাউ হাউ করে কেঁদেছিলাম আমি। এই ইটিভি বাংলার জন্য তো জীবনে কম কষ্ট করিনি আমি তাহলে ভোটের দিন কেনো এমন শাস্তি পেলাম আমি কে জানে হয়তো এটাই প্রাপ্য ছিল আমার।

 যাক সাদা জীবনের কালো কথা এই জন্য আমি লিখতে বসিনা রাত দুপুরে। যত সব ফালতু কথা বেরিয়ে আসে গলগল করে চিমনি দিয়ে ধোঁয়ার মত। বেরিয়ে পড়ে আপন খেয়ালে। হয়তো এই ঘটনার কথা লিখতে হবে ভাবিনি আমি কোনোদিন। তারপর বদলি হয়ে গেলো আমার হায়দরাবাদ সেই পানিশমেন্ট ট্রান্সফার। সেই  কলকাতার এইচ আর সুশান্তর মাতব্বরি, সেই আর একজন চন্দন , সেই বিভাস এর কথা আজও মনে পড়ে যায় আমার।  সেই মিঠু, সেই সাধন আরও কত জন যে ওই মির্জা গালিব স্ট্রীট এর অফিসে ছিল আজ হয়তো সবার কথা মনে পড়ছে না আমার। 

সেই যে মহাকরণে পোডিয়াম থেকে বুম আমি তুলে ক্যামেরাম্যান সৌমেনকে দিলাম না বলে সারারাত বুম পড়ে রইলো মহাকরণে। পরদিন আই এন  সির অফিসার কে ফোন করে জানলাম সেই ইটিভির লাল বুম ওরা তুলে রেখে দিয়েছেন নিজেদের কাছে। আর তারপর সেটা পাওয়া গেলো আর তারপরেই যে আমার পানিশমেন্ট ট্রান্সফার হলো হায়দ্রাবাদ ইটিভির হেড অফিসে। এসব বলতে আজ আর ইচ্ছা করে না আমার। রাস্তার  পাশে টোটো দাঁড় করিয়ে রেখে এসব বলে কি লাভ বলুন। বিশ্বাস করুন কে আর হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে  চায় বলুন। তবু সাদা জীবনের কালো কথায় এসব যে বেরিয়ে পরে আচমকাই।

বহুদিন আর সেই অরূপদার সাথে যোগাযোগ হয়নি। আমি ইটিভির কাজ ছেড়ে দিলাম মেয়ের জন্য। ভেসে পড়লাম অনিশ্চিত জীবনে। তারপর বহুদিন পর গান্ধী মূর্তির সামনে চব্বিশ ঘণ্টাতে কাজ করার সময় আমি বাস থেকে নেমে দেখলাম অঞ্জন রায় দা তখন চব্বিশ ঘণ্টার সাংবাদিক আর অরূপ দত্ত একসাথে বসে আছে। বাদাম খাচ্ছে একসাথে দুজনে। আমায় বলল অরূপ দা, নে খা। আমি একটু অস্বস্তি নিয়ে সেটা আর নিতে পারিনি সেদিন। সেই একটা জড়তা দূরত্ব রয়ে গেছে আমার। জানিনা কেনো কি কারণ। মাঝে মাঝেই প্রেস ক্লাবে দেখা হয়েছে এদিক ওদিক তাকিয়ে হেসে চলে গেছি আমরা। আসলে আমি সেই সময় অনিশ্চিত জীবনে ভেসে বেড়াচ্ছি। উঠে গেছে মির্জা গালিব স্ট্রীট এর সেই অফিস। সেক্টর ফাইভের গোদরেজ ওয়াটার সাইড এর বিখ্যাত অফিস নিউজ এইটিন এর। আসলে বদলে গেছে গোটা চ্যানেল সব যে এখন মুকেশ আম্বানির মুঠোয়। কিছুটা নিজেই গুটিয়ে থাকতাম আমিও তাই। আর আগের মত স্বচ্ছন্দ হয়নি আগের সম্পর্ক। 

হঠাৎ একদিন শুনলাম সেই অরূপ দার অবসর হয়ে গেলো আজ। মনটা আমার খারাপ হয়ে গেলো কেমন। সেই দৌড়ে বেড়ানো ছুটে বেড়ানো সব বিট কভার করে বেড়ানো একজন রিপোর্টার এর অবসর হলো। যে কোনো দিন ছুটি নিতে পারত না কাজের সময় চাকরি করতে করতে। যে কোনো দিন পরিবারকে সময় দিতে গেলেও ভাবতো তাহলে তার খবরের কি হবে। কে যাবে তার বিটে বাইট নিতে। কাকে কোন নেতাকে ধরতে হবে সেটা বারবার বলে দিত জুনিয়র রিপোর্টারদের। আর তারা একটু ভুল করে অন্য কারুর বাইট আনলে বলতো এই জন্য তোদের দ্বারা কিছু হবে না বলে রাগ করত। সেই মানুষটার অবসর হলো। আমার হাজার অভিমান, দুঃখ, যন্ত্রণা, কষ্ট কেমন যেন উবে গেলো। ইচ্ছা হলো ফোন করে ফেলি সেদিন। কিন্তু না ভয়ে করলাম না যদি গাল শুনি আমি। কি রে খুব মনে পড়ল আজ এতদিন পরে। 

ফোন এলো আমার কাছে অরূপদার। গৌহাটির একটা কোম্পানি বাংলা চ্যানেল করবে। অরূপ দা এলো সেই কলেজ মোড় এর অফিসে দেখা করতে সোম এর সঙ্গে। কতদিন পর একসাথে চা খেলাম আমি সোম আর অরূপ দা। আমি পয়সা দিতে গেলে ধমকে সেই আগের মতই বললো এই বেশি পাকামো করিস না তুই। সেই আগের পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে গেলো আমার। হাঁক ডাক জুড়ে দিলেও সেই স্নেহ করতেন জুনিয়র দের। শুধু একটু বকা ঝকা আর গাল শুনে চুপ থাকা। তাহলেই সাত খুন ম্যাপ। 

 সেই অরূপ দত্ত পড়ে শুনলাম অবসর নেবার পর একটি কাগজে এখনো লিখে চলেছে। এখনও দৌড়ে চলছে সে নিজের মতো করেই। সত্যিই শুধু এই পেশাকে ভালোবেসে আঁকড়ে একজন মানুষ অবসর এর পরেও যে এই ভাবে ছুটে বেড়াচ্ছে সেটা আমার বেশ ভালো লাগেm সেই পঞ্চাশ বছরের স্পিরিট আর অবসর এর স্পিরিট এক ভাবেই রয়ে গেছে অরূপ দার জীবনে। এই স্পিরিটকে সত্যি কুর্ণিশ  জানাই আমি। এরপর কি শুনবো আমি জানিনা। তবে দীর্ঘ দিন একসাথে কাজ করে আজ নানা কথা মনে এলো। শুধু একজনের কথা রাখতে এই লেখা লিখলাম। 

আজও অরূপ দত্ত ছুটে বেড়ায় খবরের মাঠে। গোল দেয় কাগজে লেখার জন্য নাম বের হয়। আর আমি ফাঁকা রাস্তায় কখনও সাইকেল চালিয়ে আকাশ দেখি।কোনো দিন কঙ্কালীতলার হাটে বসে মেয়ের হাতের তৈরি জিনিস বিক্রি করি। কোনোদিন দশ টাকার বিক্রি হয় কোনোদিন তাও হয়না। টোটো চালকের কাজ করে জীবন কাটাই। শুধু মনে হয় বুকে বল নিয়ে একবার বলি অরূপ দা জীবনে অনেক দৌড়োলে খবরের পেছনে এবার একটু জীবনকে উপভোগ করো দেখো ভালো লাগবে। 

কিন্তু আমি এই বুড়ো বয়সে বুকে সাহস নিয়ে এই কথা বলতে ভয় পাই আমি। যদি আগের মত রেগে যায় আবার। যদিও আমায় ফোনে বলেছে অরূপ দত্ত, বোলপুর এলে দেখা করবে আমার সাথে। টোটো চালক বলে এভয়েড করে দূরে সরে যাবে না। এটা শুনেই আমার ভালো লাগে। আজ জীবনের এই শেষ বেলায় মির্জা গালিব স্ট্রীট এর সেই ইটিভির পুরোনো অফিস। সেই নানা ভালো আর খারাপ ঘটনা, ঘটনার প্রবাহ, ঘটনার অভিঘাত আমায় আঘাত করলো। যে আঘাতে এতদিন পর এই বৃষ্টি ভেজা রাতে একটু স্নাত হলাম, সিক্ত হলাম আমি। ভালো থেকো তুমি অরূপ দা। আমার ওপর রেগে যেওনা তুমি। আর গাল দিয়ে বলো না এসব ভীমরতি বুড়ো বয়সে আর মানায় না। 

ইটিভির অরূপ দত্ত - অভিজিৎ বসু।
ছয় অক্টোবর দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হারিয়ে যাওয়া চিঠি

আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় শুধু চিঠি আর চিঠি। হ্যাঁ, সেই সাদা কালো অক্ষরে লেখা নানা ধরনের চিঠির কথা। খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে একদম হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই বয়সেও তিনি বেশ বুকে সাহস নিয়ে আর সহজ সরল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে খোলা চিঠি প্রেরন করেছেন। সত্যিই এই কাজকে অসাধারণ বলতে কিন্তু লজ্জা নেই কোনও।রাজনীতির ময়দানে এই মানুষটাকে যত দেখি ততো যেনো মুগ্ধ হয়ে যাই।  এমন একটা সময়ে তিলোত্তমা খুনে দোষীদের শাস্তি চেয়ে ও জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর কাছে বামফ্রন্টের এই খোলা চিঠি। জানা নেই এই ফ্রন্ট এখনও কতটা সক্রিয় হয়ে ফ্রন্টফুটে ব্যাট করতে সক্ষম এই কঠিন পিচে। তবুও সেই বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু রাহুল দ্রাবিড় বা সুনীল গাভাস্কার এর মত বাউন্সার বল সামলে পত্রবোমা ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে। তিনি জানেন না এর ফল পাল্টা অভিঘাত কি হবে।  আসলে এই খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন করা আর অনশন করা চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ত...

ভোরের গন্ধ

ভেঙে ফেলা আস্ত একটা বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে চোখের আঙিনায়, কেমন দাঁত মুখ বের করে ছন্নছাড়া হয়ে, অতীতকে সযত্নে জড়িয়ে, আঁকড়ে। বাড়ির গাড়ি বারান্দার নিচে জমে থাকা সাইকেলের চাকায়, সুতো জড়িয়ে থাকার মতো কত মানুষের জীবন জড়িয়ে ছিল, এই পুরোনো বাড়িতে। বাড়ির শ্যাওলা পড়া দেওয়ালে সেই জীবনের সোঁদা গন্ধ, ঘাম এর দাগ এখনো লেগে আছে এদিক ওদিক। খুঁজলে হয়তো মিলবে আরও দু চার আনার স্মৃতির অকেজো সব তামাটে পরশ পাথর। আসলে মাটি উপড়ে,স্মৃতির উত্তাপ কে মুছে দিয়ে নতুন করে বিচিত্র সব রোজগারির, অপচেষ্টা আর কি। যে লাভের, লোভের, চেষ্টার গলায় লাগাম আর পরাবে কে। দুর থেকে জানলা দিয়ে দেখি শুকনো কলাপাতার ওই ম্রিয়মান নিষ্ফলা হাসি। বট ফলের আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা, যজ্ঞি ডুমুর গাছের পাতায় পিছলে পড়া স্মৃতির নরম উত্তাপ। যে উত্তাপে আজও জারিত হই আমি অনায়াসেই প্রতিদিন সকাল হলেই। ভোরের বেলায় পাখির ডাক শুনে ঘুম জড়ানো চোখে ওদের মন কেমন করা কথা শুনতে পাই না আর। বোধহয় ওরাও বুঝে গেছে তাদের গলায় লাগাম পড়েছে এবার আচমকাই। তাই পথ ভুলে তারাও আসেনা আর কিছুতেই  এদিক পানে। পশ্চিমী হাওয়া ঠেল...

ইটিভির বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য

কত দিন ধরেই তো খুঁজে বেড়াচ্ছি আমি বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যকে। সেই কোথায় যে হারিয়ে গেলো কে জানে সেই বিখ্যাত সাংবাদিকটি। সেই কেমন হাসিখুশি জীবন নিয়েও হাজারও বড়ো অ্যাসাইনমেন্টে গিয়েও কত কুল থাকা যায় সেটা আমি বিশ্বজিৎদাকে দেখে শিখলাম আর কী। সেটা সেই জঙ্গলে মাওবাদী নেতাদের সাথে কথা বলতে যাওয়া হোক বা তাঁদের কোনোও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার নেওয়া হোক। কিম্বা আলিমুদ্দিন স্ট্রীট এর অফিসে গিয়ে বিমান বসুর সাথে একান্তে কথা বলা হোক। কিম্বা অনিল বিশ্বাসের মুখোমুখি হয়ে কথা বলা হোক। কিম্বা সেই মূখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বন্যাদুর্গত এলাকা আরামবাগ মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতি দেখতে হাজির হয়েছেন। খুব সম্ভবত বিশ্বজিৎ দা হাজির আকাশ বাংলা চ্যানেল থেকে সেই সময়। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কথা বলছেন গ্রামের মানুষদের সঙ্গে একটু দূরে। রিপোর্টার আর ক্যামেরাম্যানকে আটকে দিয়েছে পুলিশ। যাতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমরা কেউ যেতে না পারি। আমি উত্তেজিত কিন্তু আমার পাশে দাঁড়িয়ে একদম নির্বিকার হাসিমুখ বিশ্বজিৎদার কথা ছাড় তো, আমাদের যেতে না দিলে আমরা কি করবো। প্রচার হবে না ওদেরই। একটু পরেই সেটা বুঝত...

কুড়ি থালা দশ টাকা আর রসিক মুলুর জীবন

নাম মুলু হাঁসদা। বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানার চরিচা গ্রাম পঞ্চায়েত এর চর ইচ্ছা রঘুবরপুরের বাসিন্দা মুলু। আজ মুলুর জীবন কথা। গ্রামের নামটা ভারী অদ্ভুত। চর ইচ্ছা রঘুবরপুর। যে গ্রাম অন্য পাঁচটা গ্রামের মতই।সাদামাটা এই গ্রামে দারিদ্র্য, অপুষ্টি আর কর্মহীন জীবনের জলছবি সুস্পষ্ট। আর সেই গ্রামের মহিলারা নিজেদের সংসার রক্ষা করতে গাছের পাতাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। গাছের পাতা মুলুদের জীবনের জিয়ন কাঠি। যে জিয়ন কাঠিতে তারা ভোর হতেই পেটের টানে চলে যায় জঙ্গলে। খস খস শব্দ করে পায় হেঁটে তারা পাতা তোলে। গাছ থেকে টুপ টাপ করে ঝড়ে পড়া পাতাকে একটা একটা করে নিজের শাড়ির আঁচলে ভরে নেয়। তার পর সব পাতাকে বস্তায় ভরে ঘরে ফেরে।  ঠিক যেভাবে তারা পুকুরে নেমে শামুক গেঁড়ি আর গুগলি তোলে। যে ভাবে তাদের উদর পূর্তি হবে বলে। আর এই পাতাও যে তাদের পেট ভরায়। একটা একটা পাতাকে নিজের সন্তানের মতো আলগোছে ছুঁয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায় মুলু, বলে তোরা না থাকলে কি করতাম কে জানে। মাথার ওপর শাল সেগুনের বিশাল আকারের গাছগুলো চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে আর তারা চুপ করে শোনে মুলুর কথা।  একে অপ...

আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলা

আঁকাবাঁকা পথ ধরে আমার এগিয়ে চলা। এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে এগিয়ে চলা। যে জীবনে আবাহন আর বিসর্জন নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই কোনোদিন। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে সুখ আবার দুঃখও। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে নতুন কিছু পাওয়ার আশায় আনন্দে উদ্বেলিত হওয়া। আবার আমার এই সাদা জীবনের কালো কথা বা কালো জীবনের সাদা কথার ছোপ ছোপ দাগ। সেই বাঘের গায়ে ডোরা কাটা দাগ নিয়ে বেঁচে থাকা আমার। একদম নিজের মতো করেই যেখানে কারুর কাছে কোনোভাবেই তাঁর বশ্যতা মেনে নিয়ে নয় যেটা আমি পারলাম না কোনোভাবেই কোনওদিন।  তবুও জীবন যাপন তো করতেই হয় আমাদের। যে জীবনের বাঁশবনের ছায়ায় বসে দেখতে হয় বাঁশপাতার মাঝে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফিঙের নাচন। সেই ঝিরিঝিরি পাতার ফাঁকে মিষ্টি রোদের নরম আলো ছায়ার খেলা। যে খেলা দেখতে আমার বেশ ভালই লাগে আজকাল। যে খেলায় কত চেনা মুখের অচেনা ছবি যে ধরা পরে যায় হঠাৎ করেই কে জানে। আমি সেই ছবির ভীড়ের মাঝে কেমন বেঁহুশ হয়ে নিজেই হারিয়ে যাই এদিক, ওদিক, সেদিক। চেনা অচেনার পথ ধরে বাঁশবনের ছায়া মেখে হারিয়ে যাওয়া সেই জীবন। যে জীবনে সাদা কালো কত কিছুই না থেকে যায় দাগ র...