সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

লেডি ক্রাইম রিপোর্টার মৌসুমী

কলকাতার এক বিখ্যাত দাপুটে মাতব্বর সাংবাদিককে রাতে ডিউটি সেরে অফিস এর গাড়ি করে বাড়ী ফেরার সময়, তার বাড়ির ফ্ল্যাটের নিচ থেকে আচমকাই পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে যায় থানায়। তার সাথে কিছু কথা কাটাকাটি ও বচসার জেরে পুলিশ তাকে বাড়ীর সামনে থেকেই সোজা থানায় তুলে নিয়ে চলে যায়। আর এই খবর পেয়েই সেই সময়ে সেই বড়ো চ্যানেলের একটু কোণঠাসা সেই এক মহিলা সুন্দরী ক্রাইম রিপোর্টার মাঝরাতেই সল্টলেকের পুলিশ কমিশনারকে সোজা ফোন করে বসে কোনো কিছু না ভেবেই মাঝরাতে। আর তাতেই কাজ হয় তৎক্ষণাৎ। বদলে যায় পুলিশের ব্যবহার, আচার আচরণ আর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। যে অফিসার তাকে তুলে আনে তার অবস্হা তখন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। 


বহু বছর পর সেই বিখ্যাত সাংবাদিক এর কাছ থেকে সেই গল্পটা শুনে মনে হলো আমার, আরে এই বিখ্যাত দাপুটে ডাকাবুকো লেডি ক্রাইম রিপোর্টার এর সাথে তো আমিও একসাথে কিছুদিন কাজ করেছি। তাহলে তো সেই রিপোর্টার আমারও পরিচিত। সেই বিখ্যাত দাপুটে আর উন্নাসিক সাংবাদিক এর সাফ জবাব হ্যাঁ, তুমিও চেনো তাকে অভিজিৎ। কিন্তু ওর মতো ভালো মেয়ে হয়না। আজ কলকাতায় থাকলে ও কিন্তু ভালো পুলিশ রিপোর্টার হয়েই কাজ করত। মার্কেটে নেই তাই। আজকাল যারা দাদা ধরে নানা ভাবে করে কম্মে খাচ্ছে চাকরি করছে, তাদের থেকে ঢের বেশি ভালো রিপোর্টার হয়ে কাজ করত ওই মৌসুমী।
 
হ্যাঁ, আজ সেই দাপুটে সুন্দরী লেডি ক্রাইম রিপোর্টার এর গল্প আমার সাদা জীবনের কালো কথায়। যে সেই বহরমপুর থেকে কলকাতায় এসেছিলো রিপোর্টার এর চাকরি করতে। ইটিভি নিউজ এ যে পুলিশ রিপোর্টার হয়ে সেই বিখ্যাত লোহা মানে শুভ্র চট্টোপাধ্যায় আর সুজিত ভৌমিক এর সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করেছে একসময়। নানা আমলে, নানা সময়ে বসদের বেশ প্রিয় হয়েছে ও ওর কাজের সুবাদে আর ওর সুন্দর মিষ্টি ব্যবহার এর জন্য। হ্যাঁ, সেই বিখ্যাত ক্রাইম রিপোর্টার হলেন আমাদের সেই বিখ্যাত মৌসুমী দাস।

 ইটিভির সেই লাল বুম নিয়ে যে সারা শহর ঘুরে বেড়াতো নানা খবরের সন্ধানে। ছেলেদের সাথে সমান তালে পাল্লা দিয়ে খবর করতে তার কোনো অসুবিধা হতো না। হাসি খুশি, মিষ্টি ব্যবহার, আর মিষ্টি কথায় অসাধারণ ফিল্ডে ব্যাট করতো মৌসুমী নিজেও বেশ স্বচ্ছন্দে। আমিও অল্প কিছুদিন কলকাতায় কাজ এর সময় ওর সাথে কাজ করেছি সেই এক অফিসে। সেই ৫৫ বি মির্জা গালিব স্ট্রীট এর ইটিভির অফিসে। সেই দীপালি, মৌসুমী, পিয়ালী, অরূপ দত্ত, মনিরুল হোসেন, জয়ন্ত চোধুরী, নব্যেন্দু গুহ, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, জটাশঙ্কর লাহিড়ী, সেই বিখ্যাত সুবীর চক্রবর্তী, পার্থ চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ সাহা, মানব গুহ, শাবানা, আরও কত সব বিখ্যাত লোকজন যে কাজ করত সেই সময় হয়তো বুড়ো হয়ে আর মনে পড়ে না আমার। হ্যাঁ, সেই মণীশ কুমার, অমিতাভ, সেই রিসেপশন এর মিঠু, সেই আশীষ আরও কত জন। হ্যাঁ বিখ্যাত সেই ম্যানেজার সুদীপ্ত দা আর বিশ্বজিৎ বাবু। সেই দেবাশীষ মৈত্র, ফান্টা, মানস, মনোজ, সৌমেন, শুভেন্দু, রাও, পিন্টু, আরও কতজন যে ছিল। কেউ বাদ পড়লে ক্ষমা চাইলাম আগাম আমি নাম মনে না পড়ার জন্য। 

সেই অফিস এর নিচে চা খেতে যাওয়া। সেই আমাদের অফিস এর কাছেই ইন্ডিয়া টিভির অফিস ছিল। রাস্তা পার হয়ে রাতের ডিউটি সেরে আমি আর ও কতদিন একসাথে পার্ক স্ট্রিট মোড় অবধি গেছি হেঁটে গল্প করতে করতে তার ঠিক নেই। ও মেট্রো ধরে ঘরে ফিরবে হোস্টেলে আর আমি হাওড়া ফিরবো বাস ধরে। লোহার সাথে ওর খবর নিয়ে লড়াই সর্বজনবিদিত ছিল। যে কোনো হাউসে দুটো বা তিনটে পুলিশ রিপোর্টার থাকলে এমন হবেই। যা সেই ইটিভি নিউজ এও হয়েছিল সেই প্রাগৈতিহাসিক আমলেও। 

 বহুদিন পর আমার সেই বিখ্যাত সাংবাদিক এর সাথে কথা হচ্ছিল একদিন। সেও সেই রাতের কথা বলে আমায় বললো মৌসুমী কিন্তু বেশ ভালো রিপোর্টার পুলিশ বিটে। আর আমারও মনে হলো হ্যাঁ, সত্যিই তো কেমন কলকাতা থেকে হারিয়ে গেলো মৌসুমী হঠাৎ করেই। বিয়ে হলো ওর, অনেকবার বলেছিল এসো তুমি বৌদিকে নিয়ে। বোধহয় পূর্ব মেদিনীপুরের দিদির বাড়ী ছিল। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও রাতের ট্রেন ধরে দিদির বাড়ী যেতো। রোগা, স্লিম, লম্বা সেই ছিপছিপে তন্বী মৌসুমীকে বহুদিন পর ওর কথা মনে পড়ে গেলো আমার। আজ মৌসুমী কলকাতা থেকে অনেক দূরে থাকে। নিউইয়র্ক এর শহরে বা আরও দূরে কোথাও হয়তো আমি জানিনা সেটা।

 সেই বহরমপুর থেকে কলকাতায় রিপোর্টার হবে বলে এসেছিল যে মেয়েটি। কত লড়াই করেছে দিন রাত এক করে কষ্ট করেছে ও রিপোর্টার হবার জন্য। তারপর এই পেশাকে ছেড়ে দিব্যি সুখেই বেঁচে আছে আজ ও। দুর থেকে মাঝে মাঝে ওর সাথে টুকটাক কথা হয় আমার। ফেসবুকে ওকে দেখি। আমি ওর উজ্জ্বল জীবন যাপনের ছবি দেখি। আর মনে মনে ভাবি ভাগ্যিস ও এই পেশা ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে। না হলে হয়তো আজও নানা ভাবে নানা জনের কাছে তেল দিয়ে সাইড লাইন থেকে মেইন লাইনে আসার জন্য চেষ্টা করতে হতো। কিন্তু যেটা ও করতে পারত না কোনোদিনই কোনোভাবেই। কারণ সেটা যে ওর ধাতে নেই আর চরিত্রে নেই। 

আর সেটার জন্য তো সেই সময় অনেক বেশি খবর পেয়েও কেমন করে সেই চ্যানেলে কলকাতার এক বিখ্যাত ক্রাইম রিপোর্টার দাদার কাছের আপনার জন না হতে পেরে সাইড লাইনে বসে থাকতে হয়েছে ওকে বহুদিন। আর এক্সট্রা প্লেয়ার এর ভূমিকায় অভিনয় করে খুশী থাকতে হয়েছে তাকে। যদিও সেই সত্বেও সে খবর থেকে দূরে থাকেনি। তবুও সে এই অবস্থায় নানা খবর দিয়ে নানা ভাবে চ্যানেলকে ভালবেসে কাজ করে গেছে মুখ বুজে চুপ করে। আর তাই তার সোর্স দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে অন্য রিপোর্টারদের থেকে। যেটা নিয়ে হিংসা করলেও কেউ তার খবর নিয়ে কথা বলেনি কোনোদিন। আর তাই সে অফিসের সেই যে দাদাকে উদ্ধার করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেই রাতে তাকেই খবর পেলে দিত। সেই দাদাই তার খবর চ্যানেলে প্রচারিত করতে সাহায্য করত সেই সময় একটু। আর তাই হয়তো সেই রাতে সেই দাদার বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেই রাতে মৌসুমী।

আসলে দাদাদের দয়া আর দাক্ষিণ্য থাকলে বাংলা মিডিয়াতে সব সম্ভব হয়। সূর্য পূর্বের বদলে পশ্চিমেও উঠতে পারে বোধহয়। আর সমুদ্রের জলে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে পার হয়ে যাওয়া যায় অনায়াসেই। আবার মাত্র তিন বছর টিভি চ্যানেলে কাজ করে এসাইনমেন্ট এর ডেস্ক থেকে সোজা অ্যাঙ্কর হয়ে যাওয়া যায়। লাফিয়ে এক চ্যানেল থেকে অন্য চ্যানেলে টাকা বাড়িয়ে কাজ পাওয়া যায়। ম্যানেজিং এডিটর আর কনসাল্টিং এডিটর এর বন্ধু হয়ে যাওয়া যায়। 

যাকগে এসব বলে লাভ নেই কোনো। বিদেশের মাটিতে বাস করে আর এসব শুনে আর কি লাভ হবে ওর। কিছুই হবে না লাভ। তবু সেই আমলের সেই প্রথা অনুযায়ী আজও এতদিন পরেও একভাবেই চলছে বাংলার বিখ্যাত এই মিডিয়ার কালচার। যে কালচারে সম্পৃক্ত হয়ে অভিনয় করতে পারলে তুমি টিকে যাবে আর না হলেই তুমি আউট। যে কালচার বা কুলাচার বাম আমলে এতো প্রকট হয়নি যতটা প্রকট হয়েছে এই বাংলার মা মাটি আর মানুষের আমলে, ঘাসের ওপর জোড়া ফুলের আমলে।

ভাগ্যিস মৌসুমী তুমি এই সেক্টর ছেড়ে এই বাংলার মাটি, জল, হাওয়া ছেড়ে দূরে অনেক অনেক দূরে চলে গেছো। বেঁচে গেছো তুমি। না হলে হয়তো কিছু মানুষের কাছে হাসি মুখে দাঁড়িয়ে তোমাকেও তৈলমর্দন করে হাসি মুখে টিকে থাকতে হতো শুধু কটা টাকার জন্য নিজের কাজ বাঁচাবার জন্য এই পেশায় টিকে থাকবার জন্য। বিশ্বাস করো খুব ভালো হয়েছে পুরোনো সেই ভালোবাসার পেশাকে ছেড়ে তুমি বিন্দাস আছো, ভালো থাকো। 

তোমার সেই কানে ফোন দিয়ে খবর তোলা, সেই চেনা হাসি মুখ। সেই কলকাতার রাস্তায় দৌড়ে বেড়ানো। সেই লালবাজারের গেট, সেই ভবানী ভবনের সিঁড়িতে তোমার হেঁটে চলে যাওয়া বা রিসেপশনে একা একা বসে থাকা। এমন নানা টুকরো ছবি, টুকরো কোলাজ আজ ভেসে উঠলো মনের মাঝে এই গভীর রাতে। আমি জানিনা তোমার ওখানে এখন দিন না রাত। মনে পড়ল সেই রিপোর্টার যে একদিন তার অফিসের এক দাদাকে বিপদ থেকে বাঁচাতে বিন্দুমাত্র ভাবেনি। ঝাঁপিয়ে পড়েছে, উপকার করেছে সেই দাদার একটা ফোন পেয়েই। তার কথা আমার সাদা জীবনের কালো কথায় লেখা দরকার। যাকে আমিও চিনতাম একদিন।

 আজ না হয় আমিও মিডিয়া ছেড়ে টোটো চালক হয়ে গেছি। আর সেই দাদাও না হয় মিডিয়া ছেড়ে মিডিয়া কনসালটেন্সি করছে এদিক ওদিক বিন্দাস জীবন কাটিয়ে বেঁচে আছে কাউকে তেল না দিয়ে, কারুর কাছে হাত জোড় না করে মাথা উঁচু করে বেঁচে আছে সেও। তবু এই ঘটনা, এই গল্প এই চরিত্র তো আর ভুলে যাওয়া যাবে না কোনোদিন, কোনসময়।

 সেই মির্জা গালিব স্ট্রীট এর চেনা অফিস, সেই পার্ক স্ট্রিট এর রাস্তা, সেই অফিস এর নিচের চা এর দোকান, সেই একটু এগোলেই ট্রাম লাইন আর চ্যানেল টেন এর অফিস। সেই মিষ্টির দোকান, সেই দুপুরে নানাজনের টিফিন বক্স থেকে খাবার খাওয়া, সেই অফিস এর কাছে মহুয়া বাংলার নতুন অফিস হওয়া। সেখানে আড্ডা মারতে যাওয়া সেই শিবাজী, বুদ্ধ আরও কতজন যে ছিল সেই মহুয়ার আড্ডায়।
 
আমার জীবনের, মৌসুমীর জীবনের অনেকগুলো বছর কেটেছে এই জায়গায়। তাই মনে হলো হারিয়ে যাওয়া সেই ক্রাইম রিপোর্টারকে নিয়ে কিছু লেখা দরকার। লিখে ফেললাম আজ এই গভীর রাতে। জানি হয়তো আর কোনোদিন আমাদের দেখাই হবে না কোনোদিন আর মৌসুমীর সাথে আমার। তবু বেঁচে থাকবে আমাদের এই অমলিন মিষ্টি সম্পর্ক আর কিছু টুকরো স্মৃতি। যাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা যে যার মতো করে। যে যার নিজের নিজের জায়গায়। শুধু ওই অফিসের কিছু দাপুটে মাতব্বরদের তেল না দিয়ে আর হাত জোড় না করে নিজেদের মত করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা আর কি। ভালো থেকো মৌসুমী। কলকাতা এলে দেখা হলে ভালো লাগবে। টোটো চালকের সাথে প্রাক্তন লেডি ক্রাইম রিপোর্টার এর দেখা হলে মন্দ হবে না মনে হয়, কি বলো তুমি। 

লেডি ক্রাইম রিপোর্টার মৌসুমী - অভিজিৎ বসু।
একুশে নভেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো থাকবেন শঙ্খ শুভ্র বাবু

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক পুলিশ অফিসার এর কথা বলবো। বহুদিন পর আজ যার সাথে আচমকাই কথা হলো আমার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের লেখার মাধ্যমে বহু দিন, বহু কাল পরে। আচ্ছা আপনি কি সত্যিই টোটো চালান। তাঁর সরাসরি প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে আমি বললাম, না।  আসলে সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার বহু বছর আগে এস ডি পি ও শ্রীরামপুর হিসেবে কাজ করতেন আমার নিজের হুগলী জেলায় নিজের শহরে শ্রীরামপুরে। যে জেলায় আমিও একসময় দাপিয়ে ঘুরে কাজ করেছি একসময় এই জেলার সাংবাদিক হিসেবে। যদিও সেই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে বেঁচে থাকার অভ্যাস আমার নেই একদমই। সেটা কোনো কালেই ছিল না। যেহেতু আজ বহুদিন পর তাঁর সাথে একটু যোগাযোগ হলো তাই তাঁর কথা লিখতে ইচ্ছা হলো আমার। সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার হলেন শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী। একদম হিরো স্টাইল এর পুলিশ অফিসার। মারকুটে এই পুলিশ অফিসার। মস্তানদের ধরে রাস্তায় ফ্যাশন প্যারেড করানো সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার শঙ্খশুভ্র বাবু। যে কারণে হুগলী জেলায় মস্তান আর ডনদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে খবরের কাগজের পাতায় প্রতিদিন খবরে থাকতেন তিনি সেই সময়।  যার সময় খবর...

বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দোপাধ্যায়

এই বাংলার রাজনীতি। বিরোধী দল। বিরোধী দল নেতা। সেই আমলে সিপিএমের দোর্দণ্ড প্রতাপ দাপট। সেই দাপটেও একা কুম্ভ রক্ষা করে নকল বুঁদি গড়।‌ আর একটা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এর সন্ধান পাওয়া। যিনি সেই দলের ক্রাইসিসে, দলের দুর্দিনে যখন খুব খারাপ অবস্হা। আশংকাজনক অবস্থায় দল যখন এ পজিটিভ রক্তের এর অভাবে ভুগছে রক্তল্পতায়। দৌড় ঝাঁপ করছে, এদিক ওদিক ঘুরছে সেই অবস্থায় কেমন একাই সব সামলে দিয়েছেন তিনি দলকে নানা বিপদ থেকে উৎরে দিয়েছেন হাসিমুখেই। কাউকে কিছু টের না পেতে দিয়ে।  আর আবার তিনিই যখন সারারাত জেগে গোবিন্দপুর বস্তি আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হচ্ছে সবাই যখন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে রাত জাগছেন আর গলা ছেড়ে কেউ কেউ গান ধরছেন দিদিকে খুশী করতে। সেই সময় দিব্যি তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আর সত্যিই রাত জেগে অন্দোলন হচ্ছে কী না সত্যি না মিথ্যে কথা সেটা দেখতে বর্তমান তৃণমুলের এক বর্ষীয়ান সাংসদের স্ত্রী যিনি আজ আর বেঁচে নেই তিনি দেখতে ছুটে এসেছিলেন তাঁর অধ্যাপক স্বামীকে সেই রাতে গোবিন্দপুর বস্তির এলাকায়। আর এতো ঘটনা ঘটলেও তিনি ফোন বন্ধ করে গভীর নিদ্রায...

ঝড়

ভালোবাসার ভীড়ে ভরে উঠবে শহর থেকে গ্রাম। থিক থিকে ভীড়ে উড়বে ধুলোর কনা চারিদিকে। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যাবে শরীর, মন, প্রাণ। ধুলোর ঝড়ে হারিয়ে যাবে মনের মানুষ। হারিয়ে যায় গোটা জীবন।  জীবনের ছায়া মায়া মাখা পথে একা ঘুরে বেড়াই আমি। ভালোবাসার ভীড়ে আত্মাদের সাথে গা ঢাকা দিয়ে,  লুকিয়ে হাঁটি একা, একা। দেখি অন্ধকারের পথ জুড়ে শুধুই, ভালবাসার অভিনয় করা মানুষের ভীড়। মসৃণ রাস্তায় সরীসৃপের মত এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ায় তারা সন্তর্পনে। পায়ে পা মেলাই ধুলোর ঝড় গায়ে মেখে আনমনে,  ধুলি ধুসরিত হয়ে।  ঠিক যেনো ছাতিমের ডালে বসা ছাতারের মত। ঘোলা চোখের ধুলো মাখা দৃষ্টিতে, দুর পানে তাকিয়ে দেখি।  সূর্যের মিঠে আলোয়, ধুলোর কনা গায়ে মেখে  গোপন অভিসারে মত্ত প্রজাপতির দল। অভিনয়ের অভিসার নয়,  সত্যিই কারের ভালোবাসার অভিসার। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যায় আমার শরীর,মন, প্রাণ। ঝড় - অভিজিৎ বসু।

হ্যাপি বার্থডে টু ইউ

আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আমি তো অনেক সাংবাদিককে নিয়েই লিখি আমি। অনেকে বলেন কী বা হবে এই টোটো চালকের লেখা লিখে বলুন আপনারা এইসব আর কি বা পড়ে। কতজন এর সাথেই তো কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার এই দীর্ঘ ৩৫ বছরে। তবে এই অঙ্গীরা ব্যানার্জীর জন্মদিন গেলো সদ্য সদ্য। তাঁকে নিয়ে লিখতে গেলে একটু ভয়ই হয় বটে। যদি কিছু ভাবেন তিনি আর তাঁর সাথে জেলার সাংবাদিক হিসেবে কাজের সুযোগ ঘটেনি বলে। এক সময়ে সেই মুম্বাইয়ের এর তাজ হোটেলে জঙ্গী আক্রমণের সময়ে টিভির পর্দায় দেখেছি আমরা তাঁকে। সেই খুব সম্ভবতঃ ২৪ ঘণ্টার পর্দায় দেখেছি তাঁকে। কী দাপটে কাজ করেছেন তিনি সেই সময়।  সে এক ভয়ঙ্কর কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর এই সাংবাদিকতার জীবনে। আরও অনেক বড় বড় ঘটনার সাক্ষী সে। কলকাতাতে প্রয়াত অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিমে কাজ করেছে সে ক্রাইম বিটে সে বেশ বিখ্যাত দাপুটে রিপোর্টার ছিলেন তিনি সেই সময়ে। দিল্লী আর কলকাতা তে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। এই দিন কয়েক আগেই দেখলাম বহু দিনের পর দেশে এসেছেন তিনি দুবাই থেকে। বেনারস ভ্রমণে। টুক টাক কথা হলো যে তাঁর সাথে ফেসবুকের দুন...

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে তিনি থাকতেন একসময়। বর্তমানে গ্রাম ছেড়ে শহরে সল্টলেকে থাকেন তিনি বর্তমানে। আনন্দবাজার কাগজের প্রথম পাতায় তাঁর লেখা পড়ে আর নানা এক্সক্লুসিভ খবর পড়ে মুগ্ধ হতাম আমি একসময়ে। মনে মনে ভাবতাম যদি একবার এই বিখ্যাত রিপোর্টারকে তাঁকে দেখতে পেতাম একবার। তাহলে যেনো জীবন সার্থক হতো মোর। শুধু দু চোখের দেখা আর কিছুই নয়।  অবশেষে দর্শন হলো তাঁর সাথে আমার মহাকরণের প্রেস কর্নারে। সেই পল্লীডাক প্রেসে কত যে তাঁর নাম শুনতাম সেদিনের কাগজে তাঁর নামে লেখা বের হলেই তাঁর প্রসঙ্গ আসতো। সেই তারকেশ্বরের ফাল্গুনীদার কাছে শুনতাম। সেই টেলিগ্রাফের তারক এর মুখে শুনতাম। আর সেই তাঁকেই নিজের চোখে দেখলাম প্রেস কর্ণারের ভিতর। ইটিভির দীপক এর সাথে বেশ ভালই আলাপ দেখলাম। একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে। একদম সাদামাটা চেহারা। দেখতে খুব যে ঝাঁ চকচকে সেটা নয়। আনন্দবাজার এর ছাপ আছে কিন্তু সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। একবার এই মন্ত্রীর ঘর তো আবার অন্য মন্ত্রীর ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি সবসময়।  আর আমি আমার নিজের জেলার এহেন সাংবাদিককে দেখেই প্রথম দর্শন...