সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

লেডি ক্রাইম রিপোর্টার মৌসুমী

কলকাতার এক বিখ্যাত দাপুটে মাতব্বর সাংবাদিককে রাতে ডিউটি সেরে অফিস এর গাড়ি করে বাড়ী ফেরার সময়, তার বাড়ির ফ্ল্যাটের নিচ থেকে আচমকাই পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে যায় থানায়। তার সাথে কিছু কথা কাটাকাটি ও বচসার জেরে পুলিশ তাকে বাড়ীর সামনে থেকেই সোজা থানায় তুলে নিয়ে চলে যায়। আর এই খবর পেয়েই সেই সময়ে সেই বড়ো চ্যানেলের একটু কোণঠাসা সেই এক মহিলা সুন্দরী ক্রাইম রিপোর্টার মাঝরাতেই সল্টলেকের পুলিশ কমিশনারকে সোজা ফোন করে বসে কোনো কিছু না ভেবেই মাঝরাতে। আর তাতেই কাজ হয় তৎক্ষণাৎ। বদলে যায় পুলিশের ব্যবহার, আচার আচরণ আর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। যে অফিসার তাকে তুলে আনে তার অবস্হা তখন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। 


বহু বছর পর সেই বিখ্যাত সাংবাদিক এর কাছ থেকে সেই গল্পটা শুনে মনে হলো আমার, আরে এই বিখ্যাত দাপুটে ডাকাবুকো লেডি ক্রাইম রিপোর্টার এর সাথে তো আমিও একসাথে কিছুদিন কাজ করেছি। তাহলে তো সেই রিপোর্টার আমারও পরিচিত। সেই বিখ্যাত দাপুটে আর উন্নাসিক সাংবাদিক এর সাফ জবাব হ্যাঁ, তুমিও চেনো তাকে অভিজিৎ। কিন্তু ওর মতো ভালো মেয়ে হয়না। আজ কলকাতায় থাকলে ও কিন্তু ভালো পুলিশ রিপোর্টার হয়েই কাজ করত। মার্কেটে নেই তাই। আজকাল যারা দাদা ধরে নানা ভাবে করে কম্মে খাচ্ছে চাকরি করছে, তাদের থেকে ঢের বেশি ভালো রিপোর্টার হয়ে কাজ করত ওই মৌসুমী।
 
হ্যাঁ, আজ সেই দাপুটে সুন্দরী লেডি ক্রাইম রিপোর্টার এর গল্প আমার সাদা জীবনের কালো কথায়। যে সেই বহরমপুর থেকে কলকাতায় এসেছিলো রিপোর্টার এর চাকরি করতে। ইটিভি নিউজ এ যে পুলিশ রিপোর্টার হয়ে সেই বিখ্যাত লোহা মানে শুভ্র চট্টোপাধ্যায় আর সুজিত ভৌমিক এর সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করেছে একসময়। নানা আমলে, নানা সময়ে বসদের বেশ প্রিয় হয়েছে ও ওর কাজের সুবাদে আর ওর সুন্দর মিষ্টি ব্যবহার এর জন্য। হ্যাঁ, সেই বিখ্যাত ক্রাইম রিপোর্টার হলেন আমাদের সেই বিখ্যাত মৌসুমী দাস।

 ইটিভির সেই লাল বুম নিয়ে যে সারা শহর ঘুরে বেড়াতো নানা খবরের সন্ধানে। ছেলেদের সাথে সমান তালে পাল্লা দিয়ে খবর করতে তার কোনো অসুবিধা হতো না। হাসি খুশি, মিষ্টি ব্যবহার, আর মিষ্টি কথায় অসাধারণ ফিল্ডে ব্যাট করতো মৌসুমী নিজেও বেশ স্বচ্ছন্দে। আমিও অল্প কিছুদিন কলকাতায় কাজ এর সময় ওর সাথে কাজ করেছি সেই এক অফিসে। সেই ৫৫ বি মির্জা গালিব স্ট্রীট এর ইটিভির অফিসে। সেই দীপালি, মৌসুমী, পিয়ালী, অরূপ দত্ত, মনিরুল হোসেন, জয়ন্ত চোধুরী, নব্যেন্দু গুহ, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, জটাশঙ্কর লাহিড়ী, সেই বিখ্যাত সুবীর চক্রবর্তী, পার্থ চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ সাহা, মানব গুহ, শাবানা, আরও কত সব বিখ্যাত লোকজন যে কাজ করত সেই সময় হয়তো বুড়ো হয়ে আর মনে পড়ে না আমার। হ্যাঁ, সেই মণীশ কুমার, অমিতাভ, সেই রিসেপশন এর মিঠু, সেই আশীষ আরও কত জন। হ্যাঁ বিখ্যাত সেই ম্যানেজার সুদীপ্ত দা আর বিশ্বজিৎ বাবু। সেই দেবাশীষ মৈত্র, ফান্টা, মানস, মনোজ, সৌমেন, শুভেন্দু, রাও, পিন্টু, আরও কতজন যে ছিল। কেউ বাদ পড়লে ক্ষমা চাইলাম আগাম আমি নাম মনে না পড়ার জন্য। 

সেই অফিস এর নিচে চা খেতে যাওয়া। সেই আমাদের অফিস এর কাছেই ইন্ডিয়া টিভির অফিস ছিল। রাস্তা পার হয়ে রাতের ডিউটি সেরে আমি আর ও কতদিন একসাথে পার্ক স্ট্রিট মোড় অবধি গেছি হেঁটে গল্প করতে করতে তার ঠিক নেই। ও মেট্রো ধরে ঘরে ফিরবে হোস্টেলে আর আমি হাওড়া ফিরবো বাস ধরে। লোহার সাথে ওর খবর নিয়ে লড়াই সর্বজনবিদিত ছিল। যে কোনো হাউসে দুটো বা তিনটে পুলিশ রিপোর্টার থাকলে এমন হবেই। যা সেই ইটিভি নিউজ এও হয়েছিল সেই প্রাগৈতিহাসিক আমলেও। 

 বহুদিন পর আমার সেই বিখ্যাত সাংবাদিক এর সাথে কথা হচ্ছিল একদিন। সেও সেই রাতের কথা বলে আমায় বললো মৌসুমী কিন্তু বেশ ভালো রিপোর্টার পুলিশ বিটে। আর আমারও মনে হলো হ্যাঁ, সত্যিই তো কেমন কলকাতা থেকে হারিয়ে গেলো মৌসুমী হঠাৎ করেই। বিয়ে হলো ওর, অনেকবার বলেছিল এসো তুমি বৌদিকে নিয়ে। বোধহয় পূর্ব মেদিনীপুরের দিদির বাড়ী ছিল। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও রাতের ট্রেন ধরে দিদির বাড়ী যেতো। রোগা, স্লিম, লম্বা সেই ছিপছিপে তন্বী মৌসুমীকে বহুদিন পর ওর কথা মনে পড়ে গেলো আমার। আজ মৌসুমী কলকাতা থেকে অনেক দূরে থাকে। নিউইয়র্ক এর শহরে বা আরও দূরে কোথাও হয়তো আমি জানিনা সেটা।

 সেই বহরমপুর থেকে কলকাতায় রিপোর্টার হবে বলে এসেছিল যে মেয়েটি। কত লড়াই করেছে দিন রাত এক করে কষ্ট করেছে ও রিপোর্টার হবার জন্য। তারপর এই পেশাকে ছেড়ে দিব্যি সুখেই বেঁচে আছে আজ ও। দুর থেকে মাঝে মাঝে ওর সাথে টুকটাক কথা হয় আমার। ফেসবুকে ওকে দেখি। আমি ওর উজ্জ্বল জীবন যাপনের ছবি দেখি। আর মনে মনে ভাবি ভাগ্যিস ও এই পেশা ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে। না হলে হয়তো আজও নানা ভাবে নানা জনের কাছে তেল দিয়ে সাইড লাইন থেকে মেইন লাইনে আসার জন্য চেষ্টা করতে হতো। কিন্তু যেটা ও করতে পারত না কোনোদিনই কোনোভাবেই। কারণ সেটা যে ওর ধাতে নেই আর চরিত্রে নেই। 

আর সেটার জন্য তো সেই সময় অনেক বেশি খবর পেয়েও কেমন করে সেই চ্যানেলে কলকাতার এক বিখ্যাত ক্রাইম রিপোর্টার দাদার কাছের আপনার জন না হতে পেরে সাইড লাইনে বসে থাকতে হয়েছে ওকে বহুদিন। আর এক্সট্রা প্লেয়ার এর ভূমিকায় অভিনয় করে খুশী থাকতে হয়েছে তাকে। যদিও সেই সত্বেও সে খবর থেকে দূরে থাকেনি। তবুও সে এই অবস্থায় নানা খবর দিয়ে নানা ভাবে চ্যানেলকে ভালবেসে কাজ করে গেছে মুখ বুজে চুপ করে। আর তাই তার সোর্স দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে অন্য রিপোর্টারদের থেকে। যেটা নিয়ে হিংসা করলেও কেউ তার খবর নিয়ে কথা বলেনি কোনোদিন। আর তাই সে অফিসের সেই যে দাদাকে উদ্ধার করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেই রাতে তাকেই খবর পেলে দিত। সেই দাদাই তার খবর চ্যানেলে প্রচারিত করতে সাহায্য করত সেই সময় একটু। আর তাই হয়তো সেই রাতে সেই দাদার বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেই রাতে মৌসুমী।

আসলে দাদাদের দয়া আর দাক্ষিণ্য থাকলে বাংলা মিডিয়াতে সব সম্ভব হয়। সূর্য পূর্বের বদলে পশ্চিমেও উঠতে পারে বোধহয়। আর সমুদ্রের জলে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে পার হয়ে যাওয়া যায় অনায়াসেই। আবার মাত্র তিন বছর টিভি চ্যানেলে কাজ করে এসাইনমেন্ট এর ডেস্ক থেকে সোজা অ্যাঙ্কর হয়ে যাওয়া যায়। লাফিয়ে এক চ্যানেল থেকে অন্য চ্যানেলে টাকা বাড়িয়ে কাজ পাওয়া যায়। ম্যানেজিং এডিটর আর কনসাল্টিং এডিটর এর বন্ধু হয়ে যাওয়া যায়। 

যাকগে এসব বলে লাভ নেই কোনো। বিদেশের মাটিতে বাস করে আর এসব শুনে আর কি লাভ হবে ওর। কিছুই হবে না লাভ। তবু সেই আমলের সেই প্রথা অনুযায়ী আজও এতদিন পরেও একভাবেই চলছে বাংলার বিখ্যাত এই মিডিয়ার কালচার। যে কালচারে সম্পৃক্ত হয়ে অভিনয় করতে পারলে তুমি টিকে যাবে আর না হলেই তুমি আউট। যে কালচার বা কুলাচার বাম আমলে এতো প্রকট হয়নি যতটা প্রকট হয়েছে এই বাংলার মা মাটি আর মানুষের আমলে, ঘাসের ওপর জোড়া ফুলের আমলে।

ভাগ্যিস মৌসুমী তুমি এই সেক্টর ছেড়ে এই বাংলার মাটি, জল, হাওয়া ছেড়ে দূরে অনেক অনেক দূরে চলে গেছো। বেঁচে গেছো তুমি। না হলে হয়তো কিছু মানুষের কাছে হাসি মুখে দাঁড়িয়ে তোমাকেও তৈলমর্দন করে হাসি মুখে টিকে থাকতে হতো শুধু কটা টাকার জন্য নিজের কাজ বাঁচাবার জন্য এই পেশায় টিকে থাকবার জন্য। বিশ্বাস করো খুব ভালো হয়েছে পুরোনো সেই ভালোবাসার পেশাকে ছেড়ে তুমি বিন্দাস আছো, ভালো থাকো। 

তোমার সেই কানে ফোন দিয়ে খবর তোলা, সেই চেনা হাসি মুখ। সেই কলকাতার রাস্তায় দৌড়ে বেড়ানো। সেই লালবাজারের গেট, সেই ভবানী ভবনের সিঁড়িতে তোমার হেঁটে চলে যাওয়া বা রিসেপশনে একা একা বসে থাকা। এমন নানা টুকরো ছবি, টুকরো কোলাজ আজ ভেসে উঠলো মনের মাঝে এই গভীর রাতে। আমি জানিনা তোমার ওখানে এখন দিন না রাত। মনে পড়ল সেই রিপোর্টার যে একদিন তার অফিসের এক দাদাকে বিপদ থেকে বাঁচাতে বিন্দুমাত্র ভাবেনি। ঝাঁপিয়ে পড়েছে, উপকার করেছে সেই দাদার একটা ফোন পেয়েই। তার কথা আমার সাদা জীবনের কালো কথায় লেখা দরকার। যাকে আমিও চিনতাম একদিন।

 আজ না হয় আমিও মিডিয়া ছেড়ে টোটো চালক হয়ে গেছি। আর সেই দাদাও না হয় মিডিয়া ছেড়ে মিডিয়া কনসালটেন্সি করছে এদিক ওদিক বিন্দাস জীবন কাটিয়ে বেঁচে আছে কাউকে তেল না দিয়ে, কারুর কাছে হাত জোড় না করে মাথা উঁচু করে বেঁচে আছে সেও। তবু এই ঘটনা, এই গল্প এই চরিত্র তো আর ভুলে যাওয়া যাবে না কোনোদিন, কোনসময়।

 সেই মির্জা গালিব স্ট্রীট এর চেনা অফিস, সেই পার্ক স্ট্রিট এর রাস্তা, সেই অফিস এর নিচের চা এর দোকান, সেই একটু এগোলেই ট্রাম লাইন আর চ্যানেল টেন এর অফিস। সেই মিষ্টির দোকান, সেই দুপুরে নানাজনের টিফিন বক্স থেকে খাবার খাওয়া, সেই অফিস এর কাছে মহুয়া বাংলার নতুন অফিস হওয়া। সেখানে আড্ডা মারতে যাওয়া সেই শিবাজী, বুদ্ধ আরও কতজন যে ছিল সেই মহুয়ার আড্ডায়।
 
আমার জীবনের, মৌসুমীর জীবনের অনেকগুলো বছর কেটেছে এই জায়গায়। তাই মনে হলো হারিয়ে যাওয়া সেই ক্রাইম রিপোর্টারকে নিয়ে কিছু লেখা দরকার। লিখে ফেললাম আজ এই গভীর রাতে। জানি হয়তো আর কোনোদিন আমাদের দেখাই হবে না কোনোদিন আর মৌসুমীর সাথে আমার। তবু বেঁচে থাকবে আমাদের এই অমলিন মিষ্টি সম্পর্ক আর কিছু টুকরো স্মৃতি। যাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা যে যার মতো করে। যে যার নিজের নিজের জায়গায়। শুধু ওই অফিসের কিছু দাপুটে মাতব্বরদের তেল না দিয়ে আর হাত জোড় না করে নিজেদের মত করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা আর কি। ভালো থেকো মৌসুমী। কলকাতা এলে দেখা হলে ভালো লাগবে। টোটো চালকের সাথে প্রাক্তন লেডি ক্রাইম রিপোর্টার এর দেখা হলে মন্দ হবে না মনে হয়, কি বলো তুমি। 

লেডি ক্রাইম রিপোর্টার মৌসুমী - অভিজিৎ বসু।
একুশে নভেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হারিয়ে যাওয়া চিঠি

আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় শুধু চিঠি আর চিঠি। হ্যাঁ, সেই সাদা কালো অক্ষরে লেখা নানা ধরনের চিঠির কথা। খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে একদম হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই বয়সেও তিনি বেশ বুকে সাহস নিয়ে আর সহজ সরল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে খোলা চিঠি প্রেরন করেছেন। সত্যিই এই কাজকে অসাধারণ বলতে কিন্তু লজ্জা নেই কোনও।রাজনীতির ময়দানে এই মানুষটাকে যত দেখি ততো যেনো মুগ্ধ হয়ে যাই।  এমন একটা সময়ে তিলোত্তমা খুনে দোষীদের শাস্তি চেয়ে ও জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর কাছে বামফ্রন্টের এই খোলা চিঠি। জানা নেই এই ফ্রন্ট এখনও কতটা সক্রিয় হয়ে ফ্রন্টফুটে ব্যাট করতে সক্ষম এই কঠিন পিচে। তবুও সেই বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু রাহুল দ্রাবিড় বা সুনীল গাভাস্কার এর মত বাউন্সার বল সামলে পত্রবোমা ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে। তিনি জানেন না এর ফল পাল্টা অভিঘাত কি হবে।  আসলে এই খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন করা আর অনশন করা চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ত...

ভোরের গন্ধ

ভেঙে ফেলা আস্ত একটা বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে চোখের আঙিনায়, কেমন দাঁত মুখ বের করে ছন্নছাড়া হয়ে, অতীতকে সযত্নে জড়িয়ে, আঁকড়ে। বাড়ির গাড়ি বারান্দার নিচে জমে থাকা সাইকেলের চাকায়, সুতো জড়িয়ে থাকার মতো কত মানুষের জীবন জড়িয়ে ছিল, এই পুরোনো বাড়িতে। বাড়ির শ্যাওলা পড়া দেওয়ালে সেই জীবনের সোঁদা গন্ধ, ঘাম এর দাগ এখনো লেগে আছে এদিক ওদিক। খুঁজলে হয়তো মিলবে আরও দু চার আনার স্মৃতির অকেজো সব তামাটে পরশ পাথর। আসলে মাটি উপড়ে,স্মৃতির উত্তাপ কে মুছে দিয়ে নতুন করে বিচিত্র সব রোজগারির, অপচেষ্টা আর কি। যে লাভের, লোভের, চেষ্টার গলায় লাগাম আর পরাবে কে। দুর থেকে জানলা দিয়ে দেখি শুকনো কলাপাতার ওই ম্রিয়মান নিষ্ফলা হাসি। বট ফলের আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা, যজ্ঞি ডুমুর গাছের পাতায় পিছলে পড়া স্মৃতির নরম উত্তাপ। যে উত্তাপে আজও জারিত হই আমি অনায়াসেই প্রতিদিন সকাল হলেই। ভোরের বেলায় পাখির ডাক শুনে ঘুম জড়ানো চোখে ওদের মন কেমন করা কথা শুনতে পাই না আর। বোধহয় ওরাও বুঝে গেছে তাদের গলায় লাগাম পড়েছে এবার আচমকাই। তাই পথ ভুলে তারাও আসেনা আর কিছুতেই  এদিক পানে। পশ্চিমী হাওয়া ঠেল...

ইটিভির বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য

কত দিন ধরেই তো খুঁজে বেড়াচ্ছি আমি বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যকে। সেই কোথায় যে হারিয়ে গেলো কে জানে সেই বিখ্যাত সাংবাদিকটি। সেই কেমন হাসিখুশি জীবন নিয়েও হাজারও বড়ো অ্যাসাইনমেন্টে গিয়েও কত কুল থাকা যায় সেটা আমি বিশ্বজিৎদাকে দেখে শিখলাম আর কী। সেটা সেই জঙ্গলে মাওবাদী নেতাদের সাথে কথা বলতে যাওয়া হোক বা তাঁদের কোনোও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার নেওয়া হোক। কিম্বা আলিমুদ্দিন স্ট্রীট এর অফিসে গিয়ে বিমান বসুর সাথে একান্তে কথা বলা হোক। কিম্বা অনিল বিশ্বাসের মুখোমুখি হয়ে কথা বলা হোক। কিম্বা সেই মূখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বন্যাদুর্গত এলাকা আরামবাগ মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতি দেখতে হাজির হয়েছেন। খুব সম্ভবত বিশ্বজিৎ দা হাজির আকাশ বাংলা চ্যানেল থেকে সেই সময়। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কথা বলছেন গ্রামের মানুষদের সঙ্গে একটু দূরে। রিপোর্টার আর ক্যামেরাম্যানকে আটকে দিয়েছে পুলিশ। যাতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমরা কেউ যেতে না পারি। আমি উত্তেজিত কিন্তু আমার পাশে দাঁড়িয়ে একদম নির্বিকার হাসিমুখ বিশ্বজিৎদার কথা ছাড় তো, আমাদের যেতে না দিলে আমরা কি করবো। প্রচার হবে না ওদেরই। একটু পরেই সেটা বুঝত...

কুড়ি থালা দশ টাকা আর রসিক মুলুর জীবন

নাম মুলু হাঁসদা। বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানার চরিচা গ্রাম পঞ্চায়েত এর চর ইচ্ছা রঘুবরপুরের বাসিন্দা মুলু। আজ মুলুর জীবন কথা। গ্রামের নামটা ভারী অদ্ভুত। চর ইচ্ছা রঘুবরপুর। যে গ্রাম অন্য পাঁচটা গ্রামের মতই।সাদামাটা এই গ্রামে দারিদ্র্য, অপুষ্টি আর কর্মহীন জীবনের জলছবি সুস্পষ্ট। আর সেই গ্রামের মহিলারা নিজেদের সংসার রক্ষা করতে গাছের পাতাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। গাছের পাতা মুলুদের জীবনের জিয়ন কাঠি। যে জিয়ন কাঠিতে তারা ভোর হতেই পেটের টানে চলে যায় জঙ্গলে। খস খস শব্দ করে পায় হেঁটে তারা পাতা তোলে। গাছ থেকে টুপ টাপ করে ঝড়ে পড়া পাতাকে একটা একটা করে নিজের শাড়ির আঁচলে ভরে নেয়। তার পর সব পাতাকে বস্তায় ভরে ঘরে ফেরে।  ঠিক যেভাবে তারা পুকুরে নেমে শামুক গেঁড়ি আর গুগলি তোলে। যে ভাবে তাদের উদর পূর্তি হবে বলে। আর এই পাতাও যে তাদের পেট ভরায়। একটা একটা পাতাকে নিজের সন্তানের মতো আলগোছে ছুঁয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায় মুলু, বলে তোরা না থাকলে কি করতাম কে জানে। মাথার ওপর শাল সেগুনের বিশাল আকারের গাছগুলো চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে আর তারা চুপ করে শোনে মুলুর কথা।  একে অপ...

আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলা

আঁকাবাঁকা পথ ধরে আমার এগিয়ে চলা। এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে এগিয়ে চলা। যে জীবনে আবাহন আর বিসর্জন নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই কোনোদিন। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে সুখ আবার দুঃখও। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে নতুন কিছু পাওয়ার আশায় আনন্দে উদ্বেলিত হওয়া। আবার আমার এই সাদা জীবনের কালো কথা বা কালো জীবনের সাদা কথার ছোপ ছোপ দাগ। সেই বাঘের গায়ে ডোরা কাটা দাগ নিয়ে বেঁচে থাকা আমার। একদম নিজের মতো করেই যেখানে কারুর কাছে কোনোভাবেই তাঁর বশ্যতা মেনে নিয়ে নয় যেটা আমি পারলাম না কোনোভাবেই কোনওদিন।  তবুও জীবন যাপন তো করতেই হয় আমাদের। যে জীবনের বাঁশবনের ছায়ায় বসে দেখতে হয় বাঁশপাতার মাঝে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফিঙের নাচন। সেই ঝিরিঝিরি পাতার ফাঁকে মিষ্টি রোদের নরম আলো ছায়ার খেলা। যে খেলা দেখতে আমার বেশ ভালই লাগে আজকাল। যে খেলায় কত চেনা মুখের অচেনা ছবি যে ধরা পরে যায় হঠাৎ করেই কে জানে। আমি সেই ছবির ভীড়ের মাঝে কেমন বেঁহুশ হয়ে নিজেই হারিয়ে যাই এদিক, ওদিক, সেদিক। চেনা অচেনার পথ ধরে বাঁশবনের ছায়া মেখে হারিয়ে যাওয়া সেই জীবন। যে জীবনে সাদা কালো কত কিছুই না থেকে যায় দাগ র...