সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তমসো মা জ্যোতির্গময়

শুভ দীপাবলি 🪔
===============
তমসো মা জ্যোতির্গময়।

💐 অন্ধকার থেকে আমাকে আলোতে নিয়ে যাও সত্যিই কি চরম সত্য কথাটি লেখা ছিল উপনিষদে ভাবা যায়। আলোর রোশনাই আর উৎসবের রাতে ভাবছিলাম এই চরম সত্য কথাটি। কি কথা লেখা হয়েছিল বলুন তো। অন্ধকার থেকে আলোয় আলোকিত হোক আমার এই ক্ষুদ্র জীবন। যে জীবনে অনেক কিছু আছে, যে জীবনকে নিয়ে গর্ব করতে হয়।


 সেই জীবনেই সব সময় লুকিয়ে আছে হেরে যাবার ভয়। সেই জীবনে লুকিয়ে আছে অন্যকে হারিয়ে দিয়ে ওপরে ওঠার তাড়া। ঠিক যেভাবে ছোটবেলায় স্কুলের সিঁড়ি দিয়ে একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে ক্লাসে ঢোকার তাড়া থাকতো আমাদের, সেই ভাবেই তাড়া যাতে আমি সবার আগে জায়গা পাই বসতে সামনের বেঞ্চে। তারপর সেই ছোট জীবনের লড়াইতে আমিই যেন সবাইকে ফেলে এগিয়ে যেতে পারি দ্রুত। 

বন্ধুকে হারিয়ে এগিয়ে গিয়ে বলতে পারি দেখ কেমন লাগে, তুই পারলি না আমি তোকে হারিয়ে দিলাম জীবনের লড়াইতে। অনেক পিছনে ফেলে তরতর করে আমি এগিয়ে গেলাম অন্যদের থেকে। ঠিক কবির ভাষায় সাদা ধপধপে টেবিলের সামনে , যেখানে আসে পাশে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম না কেউ নেই কোথাও আমি একদম একা এই জায়গায় দাঁড়িয়ে। যেখানে কোনো সম্পর্কের সুতোয় বাঁধা থাকা ছোটো ছোটো জীবন যে জীবনে কোনো দিন ভাইরাস ছিলো না সেখানেও অজান্তে আমরা ভাইরাস এনে দি, শুধু ওপরে ওঠার তাড়নায় বাসনায়। 

যে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সারা শরীর জ্বরে পুড়ে যায় আমার।গা এলিয়ে শুয়ে থাকি বিছানায় একা একা। আর জ্বরের ঘোরে পড়ে থাকি একা একদম একা। যে ভাবে ঠিক অজানা গর্তে শীতের রাতে লুকিয়ে থাকে গোপনে ঘুম দেওয়া হলুদ ছোপ ছোপ সাপটি, সেই ভাবে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকি। সময় হলেই সে মুখ বাড়িয়ে চোখ কচলে মাথা তুলে আলতো ছোবল দেয় আমায়। আমি সেই ছোবলে আবারও আমি দ্রুত বদলে যাই। 

রাতের অন্ধকারে এদিক ওদিক বাজির আওয়াজ শুনতে পাই। মাথার ওপর নিকষ কালো অন্ধকার অমাবস্যার আকাশ। সেই কালো আকাশে উড়ে যায় ছোটো ছোট আলোর রোশনাই। যে রোশনাই দেখে আমরা কেমন বুদ হয়ে যাই। ছাদে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে হেসে উঠি। এই বাড়ির ছাদ থেকে দামী বাজির রোশনাই ছড়িয়ে পড়ে আকাশে। অন্য ছাদ থেকে তার জবাব দিতে আরো দামী বাজির রোশনাই ছাড়া হয়।

আমার বড়ো ভালো লাগে এই কালীপুজোর রাতকে। দুর থেকে দেখি ধীর লয়ে নৌকার মতো দুর আকাশে ভেসে যায় লাল ফানুস। সেই ফানুসের লাল আলোয় আলোকিত হয়ে যায় দূরের আকাশ। সেই আলোর বিচ্ছুরণ খুব জোরে নয় হালকা আভা ছড়িয়ে পড়ে অলোক এর ঝর্না ধারায়। আমি একমনে ঘাড় উচুঁ করে সেই ফানুস দেখি আর ভাবি সত্যিই তো ওর কোনো তাড়া নেই জীবনে। ওর কোনো একে অপরকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাবার তাড়া নেই। আপন মনে আপন ছন্দে দুলকি চালে সে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কোথায় সে নিজেই জানে না। ধীরে ধীরে অনেক দূরে চলে যায় সে। চোখের বাইরে কিন্তু তার আলোর আভা ছড়িয়ে পড়ে আমার সারা শরীরে। 


ধীরে ধীরে যেনো শরীরের ভিতর প্রবেশ করা ভাইরাস গুলো আকুলি বিকুলি করে। বেরিয়ে আসতে চায় একে অপরকে ঠেলে। জ্বরের ঘোরে পড়ে থাকা আমার শরীরে কমতে থাকে জ্বরের উত্তাপ। মনে পড়ে অনেক কথা। ছোটবেলার কথা সেই শীতের দুপুরে মা ঘুমোলে লুকিয়ে লুকিয়ে টুক করে ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার কথা। তারপর অভিন্ন হৃদয় হরিহর আত্মা ভজা, বাগা, তরুণ, নেরু, বাপির কথা। যাদের নিয়ে একদৌড়ে চলে যেতাম পালেদের বাগানে। পাঁচিল টপকে ধুপ করে ঝাঁপ মারতাম বাগানের ভিতর। ছুঁচো বাজির জন্য গাছের ডাল ভাঙতে শুরু করতাম পট পট করে সবাই মিলে।


 সেই ডাল পুড়িয়ে বাজির কাঠ কয়লা হবে। আর তখন কে কে বলে পালদের বুড়ো পিসি ঘষা কাঁচের চশমা পরে এগিয়ে আসতো লাঠি উচিয়ে আমাদের দিকে। তখন পাঁচিল টপকে ধুপ করে রাস্তায় ঝাঁপ মারতাম আমরা। হাতে পায়ে বিছুটির ঝাপটা খেয়েও কি আনন্দ যেনো যুদ্ধ জয় করে ফিরলাম তিন বন্ধু। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বলতাম এই বার ভালো ছুঁচো বাজি করতে হবে বুঝলি। তারপর শীতের রোদে হামান দিস্তা করে বাজির মশলা পেশা। লোহার হামান দিস্তার আওয়াজ খান খান হয়ে ছড়িয়ে পড়তো এদিক ওদিক গোটা পাড়ায় নিস্তব্ধ দুপুরে। 


বাজির মশলার গন্ধে চোখ জ্বালা করতো, তবু কেমন যেনো নেশার ঘোরে, নেশার জগতে মিশে যেতাম আমরা ওই কজন। সত্যিই তো ভুলে গেছিলাম সেই অচিন জীবনের কথা। ছোটো ফানুসটা সব কিছু মনে করিয়ে দিলো। কালীপুজোর রাতে গরম গরম ছুঁচো বাজি ধরিয়ে উল্লাস করতাম।অনাবিল আনন্দ সুখের আবেশে বুঁদ হয়ে যেতাম আমরা তিন বন্ধু। কে জানে ওরা কেমন আছে। খবর নিতে হবে ওদের। 


আচ্ছা আবার সেই শীতের দুপুরে একসাথে আলোর উৎসবে বাজি তৈরি করলে কেমন হয়। যে বাজি কে সম্বল করে আমরা আবার আমাদের অন্ধকার ঘরে আলো ছড়িয়ে দেবো। যে আলোয় আলোকিত হবো নতুন করে আমি, বাগা, ভজা, নেরু, বাপি , তরুণ পাঁচ জন। দিন কয়েক আগে শুনেছিলাম বাগার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ভেবেছিলাম খবর নেবো নেওয়া হয়নি। শুনেছিলাম ভজার পুরোনো ওর বাবার যে চশমার দোকান ছিল সেটাও খুব ভালো চলে না আর।নতুন নতুন হাল ফ্যাশানের দোকানের ভীড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আদ্দি কালের পুরনো চশমার দোকান। তবু ওরা দুজন বেশ ভালো আছে। 


এই কালী পূজোর অন্ধকার রাতেই তো আমি দেখেছিলাম লুকিয়ে পাড়াতে পূজোয় মামা বাড়িতে ঘুরতে আসা বুবুনকে। যার ভারী পুরুষ্ঠ ঠোঁট আর ঘন কালো চুল আমার জীবনকে এলোমেলো করে দিয়ে ছিল সেই ছোট বেলায়। ঢাকের কাঠিতে আওয়াজ শুনতে শুনতে আড় চোখে তাকিয়ে ওকে দেখে বুকের ভেতরটা কেমন শির শির করতো আমার। ঠিক যেনো নিজের ভিতর শীতের আমেজ পেতাম আমি সেই সময়। একবার হলো কি পুজোর শেষে আরতির উত্তাপ দিতে ধীর পায় এগিয়ে এলো সে। কি করবো বুঝতে পারলাম না। 

সাদা লাল শাড়ি পরে হাতে পঞ্চ আরতির প্রদীপের উত্তাপ নিয়ে আমার একদম সামনে। কি করবো ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না আমি। সামনে দাঁড়িয়ে আমার কৈশোরের স্বপ্ন একদম আমার সামনে। ধীর গতিতে হাত বাড়িয়ে উত্তাপ নিলাম ওর হাতে ধরা আলোর উত্তাপ থেকে। সারা শরীরে অদ্ভুত রহস্যময় অনুরণন ছড়িয়ে পড়লো। সারা রাত ঘুমোতে পারিনি সেই রাতে। ছাদে দাঁড়িয়ে একা একা চোখ কচলে খুঁজতে থাকলাম সেই লাল ফানুসকে। কই কোথায় সে তো নেই হারিয়ে গেছে সে অনেক দূরে। লাল শাড়ি পরা ছোটো বেলার উত্তাপ কি সত্যিই হারিয়ে গেলো ওই ফানুসের মতোই।

না না অস্ফুটে বলে উঠলাম আমি একা একা ঘরের মধ্যে। অন্ধকার জীবনে তো আমরা এই আলোয় আলোকিত হয়েই বেঁচে থাকতে চাই। যেখানে ভালোলাগা, ভালোবাসা সব একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বেঁচে থাকে। যেখানে হিংসা, হানাহানি নেই। পরশ্রীকাতর মনের অনুরণন নেই। বন্ধুকে হারিয়ে ওপরে ওঠার তাড়া নেই কোনও। সেখানে আছে গন্ধক এর ঝাঁজে চোখ জ্বালা করা। আছে হামান দিস্তার রিন রিনে আওয়াজ, আর আছে বিছুটির জ্বালা ধরা চুলকানি। আর সেই পুজোর শেষে পঞ্চ প্রদীপের আলোর উদ্ভাস।

যে আলো আমার অন্ধকার ঘরে কাগজের মতো টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। একা একা হিমেল হাওয়ায় দাঁড়িয়ে সেই টুকরো টুকরো উড়ে যাওয়া কাগজগুলো হাত বাড়িয়ে ধরতে যাই আমি। কিন্তু না ধরতে পারি না। তারাও যে সেই লাল ফানুসের মত অনেক দূরে হারিয়ে যায়। আমি তবু রাতের অন্ধকারে চেষ্টা করি আমার অন্ধকার নিকষ কালো ঘরে একটু আলো ছড়িয়ে দিতে। যে আলোয় আলোকিত হয়ে বাকি জীবনটা কোনো ভাবে কাটিয়ে দিতে পারি।

জীবনের লড়াইতে হেরে গেলেও যেনো নিজের কাছে আর হেরে না যাই আমি। হাত জোড় করে জগৎ মার কাছে প্রাথর্না করি রাতের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে মা আমায় শক্তি দিও লড়াই করার। যেনো আমার অন্ধকার ঘরে আলো ছড়িয়ে পড়ে এই ভাবেই কাগজের টুকরোর মত। তোমার শক্তিতে আশীর্বাদে যেনো আমি এই পঞ্চ প্রদীপের উত্তাপ নিয়ে বাঁচতে পারি। মা ভালো রাখো তুমি সবাইকে।আবেগে চোখ বুজে ফেলি আমি অনুভব করি দুর আকাশের মাঝে আলোর আভা আবার ফিরে আসছে, যে আলোয় আলোকিত হয়ে মুছে যাচ্ছে অন্ধকার জীবনের সব কালিমা। নতুন করে জীবনকে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাই আমি।

তমসো মা জ্যোতির্গময় - অভিজিৎ বসু।
তেরো নভেম্বর, দু হাজার তেইশ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো থাকবেন শঙ্খ শুভ্র বাবু

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক পুলিশ অফিসার এর কথা বলবো। বহুদিন পর আজ যার সাথে আচমকাই কথা হলো আমার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের লেখার মাধ্যমে বহু দিন, বহু কাল পরে। আচ্ছা আপনি কি সত্যিই টোটো চালান। তাঁর সরাসরি প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে আমি বললাম, না।  আসলে সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার বহু বছর আগে এস ডি পি ও শ্রীরামপুর হিসেবে কাজ করতেন আমার নিজের হুগলী জেলায় নিজের শহরে শ্রীরামপুরে। যে জেলায় আমিও একসময় দাপিয়ে ঘুরে কাজ করেছি একসময় এই জেলার সাংবাদিক হিসেবে। যদিও সেই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে বেঁচে থাকার অভ্যাস আমার নেই একদমই। সেটা কোনো কালেই ছিল না। যেহেতু আজ বহুদিন পর তাঁর সাথে একটু যোগাযোগ হলো তাই তাঁর কথা লিখতে ইচ্ছা হলো আমার। সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার হলেন শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী। একদম হিরো স্টাইল এর পুলিশ অফিসার। মারকুটে এই পুলিশ অফিসার। মস্তানদের ধরে রাস্তায় ফ্যাশন প্যারেড করানো সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার শঙ্খশুভ্র বাবু। যে কারণে হুগলী জেলায় মস্তান আর ডনদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে খবরের কাগজের পাতায় প্রতিদিন খবরে থাকতেন তিনি সেই সময়।  যার সময় খবর...

বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দোপাধ্যায়

এই বাংলার রাজনীতি। বিরোধী দল। বিরোধী দল নেতা। সেই আমলে সিপিএমের দোর্দণ্ড প্রতাপ দাপট। সেই দাপটেও একা কুম্ভ রক্ষা করে নকল বুঁদি গড়।‌ আর একটা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এর সন্ধান পাওয়া। যিনি সেই দলের ক্রাইসিসে, দলের দুর্দিনে যখন খুব খারাপ অবস্হা। আশংকাজনক অবস্থায় দল যখন এ পজিটিভ রক্তের এর অভাবে ভুগছে রক্তল্পতায়। দৌড় ঝাঁপ করছে, এদিক ওদিক ঘুরছে সেই অবস্থায় কেমন একাই সব সামলে দিয়েছেন তিনি দলকে নানা বিপদ থেকে উৎরে দিয়েছেন হাসিমুখেই। কাউকে কিছু টের না পেতে দিয়ে।  আর আবার তিনিই যখন সারারাত জেগে গোবিন্দপুর বস্তি আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হচ্ছে সবাই যখন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে রাত জাগছেন আর গলা ছেড়ে কেউ কেউ গান ধরছেন দিদিকে খুশী করতে। সেই সময় দিব্যি তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আর সত্যিই রাত জেগে অন্দোলন হচ্ছে কী না সত্যি না মিথ্যে কথা সেটা দেখতে বর্তমান তৃণমুলের এক বর্ষীয়ান সাংসদের স্ত্রী যিনি আজ আর বেঁচে নেই তিনি দেখতে ছুটে এসেছিলেন তাঁর অধ্যাপক স্বামীকে সেই রাতে গোবিন্দপুর বস্তির এলাকায়। আর এতো ঘটনা ঘটলেও তিনি ফোন বন্ধ করে গভীর নিদ্রায...

ঝড়

ভালোবাসার ভীড়ে ভরে উঠবে শহর থেকে গ্রাম। থিক থিকে ভীড়ে উড়বে ধুলোর কনা চারিদিকে। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যাবে শরীর, মন, প্রাণ। ধুলোর ঝড়ে হারিয়ে যাবে মনের মানুষ। হারিয়ে যায় গোটা জীবন।  জীবনের ছায়া মায়া মাখা পথে একা ঘুরে বেড়াই আমি। ভালোবাসার ভীড়ে আত্মাদের সাথে গা ঢাকা দিয়ে,  লুকিয়ে হাঁটি একা, একা। দেখি অন্ধকারের পথ জুড়ে শুধুই, ভালবাসার অভিনয় করা মানুষের ভীড়। মসৃণ রাস্তায় সরীসৃপের মত এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ায় তারা সন্তর্পনে। পায়ে পা মেলাই ধুলোর ঝড় গায়ে মেখে আনমনে,  ধুলি ধুসরিত হয়ে।  ঠিক যেনো ছাতিমের ডালে বসা ছাতারের মত। ঘোলা চোখের ধুলো মাখা দৃষ্টিতে, দুর পানে তাকিয়ে দেখি।  সূর্যের মিঠে আলোয়, ধুলোর কনা গায়ে মেখে  গোপন অভিসারে মত্ত প্রজাপতির দল। অভিনয়ের অভিসার নয়,  সত্যিই কারের ভালোবাসার অভিসার। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যায় আমার শরীর,মন, প্রাণ। ঝড় - অভিজিৎ বসু।

হ্যাপি বার্থডে টু ইউ

আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আমি তো অনেক সাংবাদিককে নিয়েই লিখি আমি। অনেকে বলেন কী বা হবে এই টোটো চালকের লেখা লিখে বলুন আপনারা এইসব আর কি বা পড়ে। কতজন এর সাথেই তো কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার এই দীর্ঘ ৩৫ বছরে। তবে এই অঙ্গীরা ব্যানার্জীর জন্মদিন গেলো সদ্য সদ্য। তাঁকে নিয়ে লিখতে গেলে একটু ভয়ই হয় বটে। যদি কিছু ভাবেন তিনি আর তাঁর সাথে জেলার সাংবাদিক হিসেবে কাজের সুযোগ ঘটেনি বলে। এক সময়ে সেই মুম্বাইয়ের এর তাজ হোটেলে জঙ্গী আক্রমণের সময়ে টিভির পর্দায় দেখেছি আমরা তাঁকে। সেই খুব সম্ভবতঃ ২৪ ঘণ্টার পর্দায় দেখেছি তাঁকে। কী দাপটে কাজ করেছেন তিনি সেই সময়।  সে এক ভয়ঙ্কর কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর এই সাংবাদিকতার জীবনে। আরও অনেক বড় বড় ঘটনার সাক্ষী সে। কলকাতাতে প্রয়াত অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিমে কাজ করেছে সে ক্রাইম বিটে সে বেশ বিখ্যাত দাপুটে রিপোর্টার ছিলেন তিনি সেই সময়ে। দিল্লী আর কলকাতা তে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। এই দিন কয়েক আগেই দেখলাম বহু দিনের পর দেশে এসেছেন তিনি দুবাই থেকে। বেনারস ভ্রমণে। টুক টাক কথা হলো যে তাঁর সাথে ফেসবুকের দুন...

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে তিনি থাকতেন একসময়। বর্তমানে গ্রাম ছেড়ে শহরে সল্টলেকে থাকেন তিনি বর্তমানে। আনন্দবাজার কাগজের প্রথম পাতায় তাঁর লেখা পড়ে আর নানা এক্সক্লুসিভ খবর পড়ে মুগ্ধ হতাম আমি একসময়ে। মনে মনে ভাবতাম যদি একবার এই বিখ্যাত রিপোর্টারকে তাঁকে দেখতে পেতাম একবার। তাহলে যেনো জীবন সার্থক হতো মোর। শুধু দু চোখের দেখা আর কিছুই নয়।  অবশেষে দর্শন হলো তাঁর সাথে আমার মহাকরণের প্রেস কর্নারে। সেই পল্লীডাক প্রেসে কত যে তাঁর নাম শুনতাম সেদিনের কাগজে তাঁর নামে লেখা বের হলেই তাঁর প্রসঙ্গ আসতো। সেই তারকেশ্বরের ফাল্গুনীদার কাছে শুনতাম। সেই টেলিগ্রাফের তারক এর মুখে শুনতাম। আর সেই তাঁকেই নিজের চোখে দেখলাম প্রেস কর্ণারের ভিতর। ইটিভির দীপক এর সাথে বেশ ভালই আলাপ দেখলাম। একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে। একদম সাদামাটা চেহারা। দেখতে খুব যে ঝাঁ চকচকে সেটা নয়। আনন্দবাজার এর ছাপ আছে কিন্তু সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। একবার এই মন্ত্রীর ঘর তো আবার অন্য মন্ত্রীর ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি সবসময়।  আর আমি আমার নিজের জেলার এহেন সাংবাদিককে দেখেই প্রথম দর্শন...