সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হায়দ্রাবাদ এর বড়া বোলপুরে

রবিবার সন্ধ্যায় বোলপুরের রাস্তায় শ্রী নিকেতন রোড ধরে হাঁটতে হাঁটতে চোখ আটকে গেল আমার একটা দোকানে। রাস্তার পাশের একটি দোকানে কম বেশি ভীড় রয়েছে। হালকা ঠাণ্ডায়  রবিবারের সন্ধ্যায় লোকজন বেশ রাস্তায় বেড়িয়ে পড়েছে এদিক ওদিক। আমার চোখে পড়লো এক ফার্স্ট ফুডের দোকানে রাখা সেই বিখ্যাত হায়দ্রাবাদের বড়া। সত্যিই বলতে কি আমি লোভ সামলাতে পারলাম না। ঢুকে পড়লাম দোকানে। ছিমছাম দোকান। হালকা হিন্দি গান বাজছে। অর্ডার দিলাম দু প্লেট বড়ার। পকেটে টাকা আছে কি না, সেটা না দেখেই বসে পড়লাম টেবিলে।

অপেক্ষায় রইলাম বড়ার,কখন আসবে সে। কবিগুরুর দেশে হায়দরাবাদি সেই বড়া দর্শন করে, আমি সত্যিই তখন রীতিমত উত্তেজিত। অবশেষে দুটি প্লেট সাজিয়ে বড়া এলো আমার কাছে। এক মনে তাকে নিরীক্ষণ করলাম আমি অনেক সময় ধরে। কত কথা মনে পড়ছে আমার। এক লহমায় পিছিয়ে গেলাম প্রায় দশ বছর আগের জীবনে। এক সময় এই বড়া খেয়েই দিন কেটেছে হায়দ্রাবাদে।গরম বড়া আর চা খেয়ে সকালের টিফিন পর্ব সারতাম আমি রোজ সকাল বেলায় তখন। তারপর ঘরে ফিরে কোনো রকমে একটু রান্না করে খেয়ে অফিসের বাস ধরতাম আমি। প্রতিদিন এই এক রুটিনের কোনো পরিবর্তন হয় নি আমার, হায়দ্রাবাদের কিছুদিনের কর্ম জীবনে। যদিও সেই জীবনের নাম দিয়েছিলাম আমি নিজেই, পানিশমেন্ট লাইফ। কিন্তু কেনো পানিশমেন্ট হলো সেটা আজও বুঝতে পারলাম না আমি। কী জন্য আমার পানিশমেন্ট সেটাই অধরা, অজানা থেকে গেলো আজও আমার কাছে।

জেলার সাংবাদিকতার গন্ডি পেরিয়ে আমার ইচ্ছা হয়েছিলো, একটু কলকাতা শহরে গিয়ে কাজ করার। আর সেটাই যে আমার কাছে পানিশমেন্ট ডেকে আনবে বুঝিনি তখন। জেলার গাঁয়ের গন্ধ গায়ে মেখে গুটি গুটি পায়ে হাজির হয়ে ছিলাম শহর কলকাতায়। জেলা থেকে বড়ো চেহারার শহরে এসে কিছুটা থই হারিয়ে ফেলেছিলাম প্রথমে আমি। ঠিক যেমন উয়াড়ি দল থেকে মোহনবাগান মাঠে খেলতে নামলে যেমন হয় আর কি। আমারও সেই অবস্থাই হয়েছিল। কিন্তু আমি সাহস হারাইনি কোনো দিন। কলকাতার মাঠে খেলতে গিয়ে প্রথমে একটু জড়তা ছিল, সেটাকে কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলাম। অচেনা মাঠ হলেও নিজের মধ্যে সাহস এনে নতুন দৌড় শুরু করলাম। জেলার লোক এর গায় তখন জেলার গন্ধ বিদ্যমান। কলকাতার বাবুদের হাল হকিকত বোল চাল, না বুঝলেও খবর বুঝতে অসুবিধা হতো না আমার কোনো দিন। মুখ চোরা হলেও বেশ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে পাচ্ছিলাম আমি নতুন কলকাতার মাঠে। ভেবে ছিলাম জেলা থেকে কলকাতায় এসে ভালই হলো।

কিন্তু না ছন্দপতন হলো একদিন। দুপুরে মহাকরনের প্রেস কর্নার এর কাছে চেয়ারে বসে আছি আমি একা। আচমকা অফিসের একটা ফোন এলো। ওপর প্রান্ত থেকে শুধু আমার কানে এলো সাত দিনের মধ্য আমায় হায়দ্রাবাদ চলে যেতে হবে,বিকেলে অফিস ফিরে যেনো ট্রান্সফার অর্ডারটা নিয়ে যাই আমি। চোখের সামনে অচেনা মাঠটাকে বড়ো কঠিন আর কঠোর মনে হলো আমার। এবড়ো খেবড়ো মাঠ এর মাঝখানে একা বসে রইলাম আমি স্থবির হয়ে কিছু সময় একা। শুধু বাড়িতে ফোন করে জানালাম আমার পানিশমেন্ট ট্রান্সফার হলো। কী জন্য, কার জন্য আমি আজও জানি না। জানতে চাই না সে কথা। শুধু এটুকু জানি শিরদাঁড়া না ঝুঁকিয়ে কাজ করলে, কলকাতার মাঠে বাবুদের সাথে খেলাতে পেরে ওঠা খুব কঠিন। সত্যিই বড়ো যন্ত্রণা নিয়ে, আমি কলকাতা ছাড়লাম। 

চোখের সামনে মহাকরণের বারান্দায় মন্ত্রীর আনা গোনা সব কেমন ঝাপসা হয়ে আসছে আমার। ক্ষমতার মসনদের কাছে পৌঁছতে চেয়ে খবর এর সন্ধানে কলকাতা এসেছিলাম। দীর্ঘ কুড়ি বছর জেলায় কাজ করে কলকাতার সাংবাদিক হবো বলে এসেছিলাম। কিন্তু পারলাম না আমি কলকাতায় কাজ করতে। বাড়ী ফিরলাম হাতে ট্রান্সফারের চিঠি নিয়ে। প্রাণপাত করা চাকরিতে, জীবনকে বাজি রেখে যে চাকরি করেছি আমি। সেই চাকরিতে এক লহমায় আমার রিপোর্টার এর জীবনের ইতি টেনে দেওয়া হলো শুধু একটা কলমের খোঁচায়, কিছু লোকের ক্ষমতার জোরে। চুপ করে নিঃশব্দে ঘর ছাড়লাম আমি।

কলকাতা ছাড়ার দিনটা আমার আজও মনে পড়ে, সকাল সাতটা পঁচিশের ট্রেন ছাড়লো হাওড়া স্টেশন থেকে। আমার ছোটো মেয়ের অবয়ব ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে আসছে দ্রুত আমার চোখের সামনে থেকে। ট্রেনের দরজা ধরে আমি হাত নাড়ছি,আমার বুটাও হাত নাড়ছে।আস্তে আস্তে দুজন দুজনকে ছেড়ে চলে গেলাম। দূরে অনেক দূরে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে। চোখের জলে ভিজে গেল আমার গোটা যাত্রাপথ। সেই পিছল যাত্রাপথকে সঙ্গী করে আমরা বেঁচে রইলাম। আপনজনকে ছেড়ে চলে যাবার সময় এত যে ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে, সেটা বোধ হয় জীবনের এই ট্রান্সফার না হলে বুঝতে পারতাম না আমি। জীবনের পরতে পরতে এত ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে আমাদের সকলকে ঘিরে। একটু ঘসা মাজা করলেই সেই ভালোবাসার প্রদীপ দপ করে কেমন জ্বলে ওঠে। আর আমরা সবাই সেই ভালোবাসার উত্তাপে ,গলে জল হয়ে যাই সবাই এক নিমেষে।

 তাহলে কে বলে, মানুষ স্বার্থপর, কে বলে মানুষ অন্যর কথা ভাবে না। এসব একদম ভুল কথা।তাহলে কি আর এত কান্না ভেজা শিশিরের বিন্দু বিন্দু জল ঝরতে পারতো আমার চোখে, আমার মেয়ের চোখে। এই জল আমাদের সকলকে ঘিরে রাখে, জড়িয়ে রাখে সারাটা জীবন। শেখায় কি করে দূরে চলে গিয়েও বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে হয়, ঘরে ফেরার দিন গুনতে হয় একটা একটা করে। তারপর সেই দিন এলে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বেঁচে থাকার আনন্দ ভাগাভাগি করে একান্তভাবেই উপভোগ করতে হয়। আর এটাই জীবনের আসল স্বর্গ প্রাপ্তি।

সত্যিই আমি আজও জানি না কেনো আমার বদলি হলো। পূজোর ঠিক এক মাস আগে আমি চলে এলাম হায়দ্রাবাদ। একদম অজানা অচেনা শহরে একা। বাংলায় কাজ করা রিপোর্টারকে আরো শাস্তি দিতে তাকে বসানো হল ন্যাশনাল ডেস্ক- এ। বাংলা চ্যানেলে কাজের কোনো সুযোগ দেওয়া হলো না আমায়। যাতে আমার লড়াই আরো কঠিন হয়।কোনো দিন আর বাংলায় ফিরতে না পারি আমি। লড়াই করে বাঁচতে পারব এই আশা নিয়ে আমি লড়তে নামলাম আরো অচেনা এক মাঠে। যে মাঠ আরও অচেনা। এসব ভাবতে ভাবতে প্লেটের বড়া গুলো আমায় চুপ করে দেখছিল এক মনে। কী লোকরে বাবা দু প্লেট বড়া নিয়ে বসেই আছে সেই কখন থেকে। আর একমনে জরিপ করছে আমাদের।

সত্যিই এমন আজব পাবলিক দেখিনি আমরা কোনো দিন। এক প্লেট অন্য প্লেটকে ইশারায় বলে ফিস ফিস করে। আমি কিছুটা সময় নিয়ে ধীরে ধীরে প্লেট দুটোকে কাছে নিয়ে যাই। এক প্লেটের সাথে অন্য প্লেটের গায় গায় ঠেকিয়ে রাখি।আর অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি ওদের দিকে।মনে পড়ে যায় ভাগ্যলতার সেই চা -এর দোকানটার কথা।সকালে উঠে যেখানে বসে এই ভাবে টিফিন সারতাম আর বাড়িতে ফোন করে বলতাম আমি ভালই আছি তোমরা চিন্তা করো না। সকালে প্রতিদিন যে মেয়েকে স্কুলের গাড়িতে তোলা আমার কাজ ছিল ,সেই ছোটো মেয়ে বাবাকে ছেড়ে প্রতিদিন মার হাত ধরে টাটা করে গাড়িতে বসে স্কুল যেত চুপ করে। সে জানতো মাঝ রাতে অফিস থেকে ফিরে তার বাবা তাকে বুটা বলে সকালে ডাকতে পারবে না আর। সে জানতো তার বাবাকে পানিশমেন্ট দেওয়া হয়েছে। আর কোনো দিন তার বাবা ফিরতে পারবে না কলকাতা। আমি জানতাম না আমার ছোট্ট বুটা,আমার বালিশের নিচে পেন্সিল দিয়ে বু লিখে সেটা আঁকড়ে ধরে প্রতি রাতে নাকি ঘুমোতে যেত। মুখ লুকিয়ে সে প্রতি রাতে তার বু কে ফিরে আসবে ভেবে স্বপ্ন দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ত।অনেক পরে এসব আমি জানতে পারি চাকরি ছেড়ে কলকাতায় ফিরে এসে। 

আজও মনে পড়ে আমার, মহালয়ার ভোরে বাবা মেয়ে দুজনে একসাথে মোবাইলে পূজোর আগমনী গান শুনেছিলাম সেই বছর। দুজনেই একসাথে ভোর রাতে বালিশ ভিজিয়েছি কিন্তু কেউ কাউকে বুঝতে দিতে চাইনি আমরা বাবা আর মেয়ে। যাতে কেউ না কষ্ট পাই। আজও মনে পড়ে দূর্গাপূজার সময় সেই বছর ঘরে ফিরতে পারিনি আমি। দেওয়ালিতে বাড়ী এসেছিলাম আমি। আসার পর আমার বুটা সারা দুপুর আমার কাছে মুখ গুঁজে শুয়ে ছিল, ছোট্ট বাচ্চার মত একমিনিট কাছ থেকে নড়েনি সে। আমি ভুলবো কি করে এই জীবনের এসব অভিজ্ঞতার কালো কথা গুলো। সাদা জীবনে এই কালো কথা বলতে গেলে শেষ হবে না। 

একে একে ভেসে আসছে নানা স্মৃতি। ছুটি কাটিয়ে আবার আমি ফিরে গেলাম কাজ এর জায়গায়, মাঝে চেষ্টা করলাম যদি আর ফিরতে না হয় হায়দ্রাবাদ। কিন্তু না হাজার চেষ্টা করেও লাভ হলো না কোনও। আবার কলকাতা ছেড়ে, ঘর ছেড়ে, সাংবাদিক জীবন ছেড়ে চলে গেলাম আমার কঠিন পানিশমেন্ট জীবনে। ফিরে যাবার সময় বুটার দরজার আড়াল থেকে আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা। বারান্দা থেকে হাত নাড়িয়ে বলা, সাবধানে যাও তুমি। আমি আজও ভুলতে পারি না সেই দৃশ্য, সেই সব কালো দগ দগে স্মৃতিকে কি ভোলা যায়। কেনো যে আমার জীবন থেকে খবর কে কেড়ে নেওয়া হলো আজও জানি না আমি। শুধু এটুকু জানি, বুঝি আমার শিরদাঁড়া সোজা রাখার ফল আমি পাচ্ছি সারা জীবন ধরে।

 চুপ করে এসব কথা শুনছিল ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া প্লেটের বড়াগুলো একমনে। এত সময় যারা আমায় নিয়ে হাসাহাসি করছিল তারাও যেনো কিছুটা চুপ করে গেছে সব শুনে। ভাবছে সত্যিই পাগল আছে লোকটা। ওদের বোধহয় শেষটা শোনার ইচ্ছা হচ্ছিল তাই আমিও অস্ফুটে বলে ফেললাম ওদের দুজনের কাছে বাকিটুকু উজাড় করে। এক সময় খবর পেলাম আমার বুটা খুব অসুস্থ। আর কোনো উপায় না দেখে আমি নিজেই স্বেচ্ছায় আমার পানিশমেন্ট - জীবনের ষোল বছরের চাকরিকে বিদায় জানিয়ে ফিরে এলাম হায়দ্রাবাদ ছেড়ে ,আমার ঘরে ,আমার বুটার কাছে। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়ালাম আমি সেদিন থেকেই।


 কিন্তু ফিরে পেলাম আমি আমার প্রাণের ভালো বাসাকে। আর প্রতি রাতে আমায়, আমার মেয়েকে আজ চোখের জলে ভিজে ঘুমের দেশে পাড়ি দিতে হয় না। হাজার কষ্টের, যন্ত্রণার, আঁধার রাতের অন্ধকারে আচমকা জানলার পাশে কেউ বসে থাকে না। বলে না আমাদের সময় হয়ে গেছে এই বার দূরে চলে যেতে হবে তোমাদের একে অপরকে ছেড়ে। আমরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বেঁচে থাকি প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্ত। আমরা একে অন্যের সঙ্গে ঝগড়া করি। অভিমান করি একে অপরের সাথে।আবার এক থালায় ভাত মেখে খাই। সাইকেল করে দুর আকাশের নিচে রাস্তায় ঘুরে বেড়াই আমরা। বুনো ফুল তুলে বেড়াই। ধুপ করে গাছ থেকে তাল পড়লে দৌড়ে গিয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে তাল তুলে বেড়াই দুজনে। এই জীবনের আস্বাদ কখনো কি ভুলতে পারি। 

আমার পানিশমেন্ট যারা দিয়েছিলেন আমি কৃতজ্ঞ তাদের কাছে এই ঘটনা না হলে বোধহয় জীবনের পরতে পরতে এত ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে সেটা বুঝতে পারতাম না আমি।  টেবিল ছেড়ে উঠে পড়ি আমি। দু প্লেট বড়ার দাম দিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাই একা একা আপন মনে। পাগল হলেও নিজের কলজের জোরে, শিরদাঁড়ার জোরে যেনো আমার বাকি জীবনটা এই ভাবে কেটে যায়। শুধু ফাঁকা নিঃস্ব জীবনের পরতে পরতে ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে এই ভাবে। সে যেনো আমায় ছেড়ে না চলে যায় কোনোদিন। 

সোনাঝুরির রাস্তায় দেখি সন্ধ্যার অন্ধকারে একা বসে আছেন বিশাল আকৃতির বুদ্ধ মূর্তি। পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় তিনি আলোকিত। স্মিত হাসি মুখে তাকিয়ে আছেন তিনি। সারা বিশ্বকে যিনি নিজেই ভালবাসার বন্ধনে বেঁধে রেখেছেন। সেই ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেছি আমিও।একা একা হিমেল বাতাস গায়ে মেখে গুটি গুটি পায়ে হেঁটে যাই আমি একা একদম একা। জানি দ্রুত ঘরে ফিরতে হবে আমায়, না হলে যে এক্ষুনি আমার বুটার ফোন আসবে কোথায় তুমি।দ্রুত ঘরে ফেরার রাস্তা ধরি আমি। ফিরে যাই আমার ভালবাসার কাছে।

বোলপুরের রাস্তায় হায়দরাবাদ এর বড়া - অভিজিৎ বসু।
সাতাশ নভেম্বর, দু হাজার তেইশ।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো থাকবেন শঙ্খ শুভ্র বাবু

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক পুলিশ অফিসার এর কথা বলবো। বহুদিন পর আজ যার সাথে আচমকাই কথা হলো আমার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের লেখার মাধ্যমে বহু দিন, বহু কাল পরে। আচ্ছা আপনি কি সত্যিই টোটো চালান। তাঁর সরাসরি প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে আমি বললাম, না।  আসলে সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার বহু বছর আগে এস ডি পি ও শ্রীরামপুর হিসেবে কাজ করতেন আমার নিজের হুগলী জেলায় নিজের শহরে শ্রীরামপুরে। যে জেলায় আমিও একসময় দাপিয়ে ঘুরে কাজ করেছি একসময় এই জেলার সাংবাদিক হিসেবে। যদিও সেই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে বেঁচে থাকার অভ্যাস আমার নেই একদমই। সেটা কোনো কালেই ছিল না। যেহেতু আজ বহুদিন পর তাঁর সাথে একটু যোগাযোগ হলো তাই তাঁর কথা লিখতে ইচ্ছা হলো আমার। সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার হলেন শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী। একদম হিরো স্টাইল এর পুলিশ অফিসার। মারকুটে এই পুলিশ অফিসার। মস্তানদের ধরে রাস্তায় ফ্যাশন প্যারেড করানো সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার শঙ্খশুভ্র বাবু। যে কারণে হুগলী জেলায় মস্তান আর ডনদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে খবরের কাগজের পাতায় প্রতিদিন খবরে থাকতেন তিনি সেই সময়।  যার সময় খবর...

বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দোপাধ্যায়

এই বাংলার রাজনীতি। বিরোধী দল। বিরোধী দল নেতা। সেই আমলে সিপিএমের দোর্দণ্ড প্রতাপ দাপট। সেই দাপটেও একা কুম্ভ রক্ষা করে নকল বুঁদি গড়।‌ আর একটা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এর সন্ধান পাওয়া। যিনি সেই দলের ক্রাইসিসে, দলের দুর্দিনে যখন খুব খারাপ অবস্হা। আশংকাজনক অবস্থায় দল যখন এ পজিটিভ রক্তের এর অভাবে ভুগছে রক্তল্পতায়। দৌড় ঝাঁপ করছে, এদিক ওদিক ঘুরছে সেই অবস্থায় কেমন একাই সব সামলে দিয়েছেন তিনি দলকে নানা বিপদ থেকে উৎরে দিয়েছেন হাসিমুখেই। কাউকে কিছু টের না পেতে দিয়ে।  আর আবার তিনিই যখন সারারাত জেগে গোবিন্দপুর বস্তি আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হচ্ছে সবাই যখন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে রাত জাগছেন আর গলা ছেড়ে কেউ কেউ গান ধরছেন দিদিকে খুশী করতে। সেই সময় দিব্যি তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আর সত্যিই রাত জেগে অন্দোলন হচ্ছে কী না সত্যি না মিথ্যে কথা সেটা দেখতে বর্তমান তৃণমুলের এক বর্ষীয়ান সাংসদের স্ত্রী যিনি আজ আর বেঁচে নেই তিনি দেখতে ছুটে এসেছিলেন তাঁর অধ্যাপক স্বামীকে সেই রাতে গোবিন্দপুর বস্তির এলাকায়। আর এতো ঘটনা ঘটলেও তিনি ফোন বন্ধ করে গভীর নিদ্রায...

ঝড়

ভালোবাসার ভীড়ে ভরে উঠবে শহর থেকে গ্রাম। থিক থিকে ভীড়ে উড়বে ধুলোর কনা চারিদিকে। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যাবে শরীর, মন, প্রাণ। ধুলোর ঝড়ে হারিয়ে যাবে মনের মানুষ। হারিয়ে যায় গোটা জীবন।  জীবনের ছায়া মায়া মাখা পথে একা ঘুরে বেড়াই আমি। ভালোবাসার ভীড়ে আত্মাদের সাথে গা ঢাকা দিয়ে,  লুকিয়ে হাঁটি একা, একা। দেখি অন্ধকারের পথ জুড়ে শুধুই, ভালবাসার অভিনয় করা মানুষের ভীড়। মসৃণ রাস্তায় সরীসৃপের মত এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ায় তারা সন্তর্পনে। পায়ে পা মেলাই ধুলোর ঝড় গায়ে মেখে আনমনে,  ধুলি ধুসরিত হয়ে।  ঠিক যেনো ছাতিমের ডালে বসা ছাতারের মত। ঘোলা চোখের ধুলো মাখা দৃষ্টিতে, দুর পানে তাকিয়ে দেখি।  সূর্যের মিঠে আলোয়, ধুলোর কনা গায়ে মেখে  গোপন অভিসারে মত্ত প্রজাপতির দল। অভিনয়ের অভিসার নয়,  সত্যিই কারের ভালোবাসার অভিসার। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যায় আমার শরীর,মন, প্রাণ। ঝড় - অভিজিৎ বসু।

যা দেখি…প্রতিদিন মনে পড়ে কত… স্মৃতির পথ ধরে হাঁটি… লিখি…

হ্যাপি বার্থডে টু ইউ

আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আমি তো অনেক সাংবাদিককে নিয়েই লিখি আমি। অনেকে বলেন কী বা হবে এই টোটো চালকের লেখা লিখে বলুন আপনারা এইসব আর কি বা পড়ে। কতজন এর সাথেই তো কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার এই দীর্ঘ ৩৫ বছরে। তবে এই অঙ্গীরা ব্যানার্জীর জন্মদিন গেলো সদ্য সদ্য। তাঁকে নিয়ে লিখতে গেলে একটু ভয়ই হয় বটে। যদি কিছু ভাবেন তিনি আর তাঁর সাথে জেলার সাংবাদিক হিসেবে কাজের সুযোগ ঘটেনি বলে। এক সময়ে সেই মুম্বাইয়ের এর তাজ হোটেলে জঙ্গী আক্রমণের সময়ে টিভির পর্দায় দেখেছি আমরা তাঁকে। সেই খুব সম্ভবতঃ ২৪ ঘণ্টার পর্দায় দেখেছি তাঁকে। কী দাপটে কাজ করেছেন তিনি সেই সময়।  সে এক ভয়ঙ্কর কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর এই সাংবাদিকতার জীবনে। আরও অনেক বড় বড় ঘটনার সাক্ষী সে। কলকাতাতে প্রয়াত অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিমে কাজ করেছে সে ক্রাইম বিটে সে বেশ বিখ্যাত দাপুটে রিপোর্টার ছিলেন তিনি সেই সময়ে। দিল্লী আর কলকাতা তে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। এই দিন কয়েক আগেই দেখলাম বহু দিনের পর দেশে এসেছেন তিনি দুবাই থেকে। বেনারস ভ্রমণে। টুক টাক কথা হলো যে তাঁর সাথে ফেসবুকের দুন...