সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তারাদের দেশে অরুণ দা

শ্রীরামপুর থেকে খবরের কাজের সূত্রে চুঁচুড়া স্টেশনে নামতেই দেখতাম তিনি বসে আছেন শংকরের চায়ের দোকানে। আশপাশে ভীড় করে আছে সব নানা মানুষ জন। দাঁড়িয়ে পড়তাম আমিও। সেই সময় রোজ চুঁচুড়া স্টেশনের কাছে শংকরের চায়ের দোকানে আড্ডা চলত। রিকশায় চড়ে আসতেন অরুণদা। চায়ের টেবিলে মুগ্ধ হয়ে থাকতাম তাঁর কবিতায়। কাগজ, পেন বাড়িয়ে দিলেই নতুন কবিতার জন্ম হতো তাঁর হাতে। আমাদের আবদারে ''লাল পাহাড়ির দেশে যা, রাঙামাটির দেশে যা ' তিনি প্রায় দিনই পাঠ করে শোনাতেন তিনি। চুঁচুড়ার ময়নাডাঙ্গার ভাড়া বাড়িতেও সন্ধ্যার দিকে মাঝেমধ্যেই বসত কবিতার আসর। যে কবিতার জগতের মাঝেই তিনি হারিয়ে গেলেন আজ।

লাল পাহাড়ির দেশে যা,
রাঙা মাটির দেশে যা,
ইতাক তোকে মানাইছেনা রে,
ইক্কেবারে মানাইছেনা রে।

একটা অধ্যায় এর শেষ হলো আজ। কেউ আর রাস্তায় দেখা হলে স্মিতমুখে হেসে লজেন্স দেবে না ব্যাগ থেকে বের করে। বহু বছর আগে শ্রীরামপুর স্টেশনের পাশে এক মহুয়া গাছ দেখে অরুণদার মনে হয়েছিল এটা এখানে বেমানান। এখানে এক্কেবারেই মানাইছে না। তাই তিনি লিখেছিলেন, লালপাহাড়ির দেশে যা 
রাঙামাটির দেশে যা'। পরে সেই কবিতা গান হয়ে বাংলার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে যায়। আজ অরুণদাও পাড়ি দিলেন সেই এক অজানা দেশে যে দেশের কথা তিনি বহু বছর আগেই তাঁর কবিতায় লিখেছিলেন। আপনার মতন মানুষ সত্যিই বিরল। অজানা অচেনা কাউকে আপন করে নেওয়ার মতো ক্ষমতা আপনার মত খুব কমজনের আছে । ভালোবেসে কি ভাবে মন জয় করা যায় সেটা আপনি দেখিয়েছেন। ভালো থাকবেন দাদা।

না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন 'লাল পাহাড়ি দেশে'র শিল্পী অরুণ চক্রবর্তী। 'লাল পাহাড়ির দেশে যা, রাঙামাটির দেশে যা'– এই গান শোনেননি বাংলায় এমন মানুষ খুব কমই আছেন! এই গানের গীতিকার-সুরকার দের নাম অবশ্য অনেকেই জানেন না। এই মর-পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন 'লাল পাহাড়ি দেশে'র শিল্পী অরুণ চক্রবর্তী। সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন শিল্পী। এদিন সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

অরুণ চক্রবর্তী ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে শ্রীরামপুর স্টেশনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মহুয়া ফুলের গাছ ও ফুল দেখতে পান। শ্রীরামপুরে মহুয়া গাছ ও ফুলকে দেখে বড্ড বেমানান মনে হয়েছিল। তাঁর মনে হয়েছিল বাংলার ধান, আলু উৎপাদনের অঞ্চলে মহুয়া ফুলের গাছ কেন থাকবে, মহুয়া তো লাল পাহাড়ের রানি, এই গাছকে সেখানেই মানায়। মহুয়া তো লাল মাটির গাছ। তার পর তিনি 'লাল পাহাড়ির দেশে যা, রাঙামাটির দেশে যা' গান রচনা করেন।

অরুণ চক্রবর্তী এই গানের গীতিকার। এরপর ঝুমুর গায়ক সুভাষ চক্রবর্তী এই রচনাটিতে সুরোরোপ করেন এবং ১৯৭৯ সালে প্রচলিত সুরে ভি বালসারার ব্যবস্থাপনায় সুভাষ চক্রবর্তী রেকর্ড করেন। সুভাষ চক্রবর্তী বাঁকুড়ার লোকগান ঝুমুর,টুসু,ভাদু গানকে জনপ্রিয় করেছিলেন। গত বছররে ২৬ ফেব্রুিয়ারি প্রয়াত হয়েছিলেন সঙ্গীত শিল্পী সুভাষ চক্রবর্তী। এবার সেই একই পথের যাত্রী হলেন কবি অরুণবাবু।

সুভাষ চক্রবর্তী বাঁকুড়ার লোকগানের স্রষ্টা হলেও মূলধারার গানে তিনি কোনও ভাবেই প্রচারের আলো পাননি। তাঁর গান বিখ্যাত, কিন্তু তাঁর কণ্ঠে নয়। 'লাল পাহাড়ির দ্যাশে যা' গানটি বাংলা ব্যান্ড 'ভূমি' র অ্যালবামে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা পায়। 'ভূমি'র লাইভ ফাংশানে দীর্ঘ দশক জনপ্রিয় ছিল এই গান। অথচ শ্রোতাদের কাছে পৌঁছয়নি পূর্বের শিল্পী সুভাষ চক্রবর্তীর নাম। এমনকী গীতিকার অরুণ চক্রবর্তী ও রয়ে গেছেন আড়ালে। প্রচলিত কথা-সুর লেখা ছিল ভূমির অ্যালবামে।

‘ভূমি’ এই গানটি রেকর্ড করলেও গীতিকার-সুরকারের নাম উল্লেখ না করায় শুরু হয় বিতর্ক। গান নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে ভূমির গায়ক সৌমিত্র রায় পরে জানান, ‘‘গীতিকারের নাম জানতাম না। তাই উল্লেখ করিনি। প্রচলিত লেখা ছিল অ্যালবামে। ভুল করেছিলাম। পরে ক্ষমাও চেয়ে নিই আমরা। 

একটা লোকগান সমান জনপ্রিয় হয়ে ৫০ বছর পথ হেঁটে এল, এটা খুব সহজ কথা নয় কিন্তু। আমাদের জীবন আমাদের অস্তিত্ব প্রতি মুহূর্তে হাজারো প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে বেমানান হয়ে পড়ে, আমরা যে যার আপাত স্বস্থানে যেমন অত্যন্ত বেমানান। সেসব বিভ্রান্তির মুহূর্তগুলোয় জীবন যেন প্রশ্ন করে বসে, ‘তুই ইখানে কেনে, হেথাক তুকে মানাইছে নাই গো, ইক্কেবারেই…’।

কবি অরুণ চক্রবর্তী আপনভোলা। স্বভাব বাউল। বরাবরই স্কুলে প্রথম। পেশায় উঁচু পদমর্যাদার ইঞ্জিয়ার ছিলেন। তাঁর বন্ধুরা ফুলওয়ালা, ফলওয়ালা, টিটি, কুলি, পুলিশ অফিসার, জি আর পি, মাস্টারমশাই, মদওয়ালা, আশ্রমিক, বাউল, চাষি, কবি, মাছওয়ালা, সন্ন্যাসী, মাতাল, চোর, আপাত পাগলের দল আর সাংবাদিক এর দল তাঁর বন্ধু ছিলেন। চাকরির ফাঁকে ফাঁকে বেড়িয়ে পড়তেন এদিক-ওদিক। বিভিন্ন বাউলের আখড়ায়, লাল মাটির দেশে অথবা অজানা কোনও স্টেশনে। ১৯৭২ সালে শিবপুর বিই কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে অরুণবাবু তখন চাকরীপ্রার্থী। ট্রেকিংও চলছে পাহাড়ে, সমুদ্র সৈকতে আর জঙ্গলে। 

সেবছরই এপ্রিলের শেষাশেষি নাগাদ একদিন ভরদুপুরে নেমে পড়েছিলেন শ্রীরামপুর স্টেশনে। স্টেশন চত্বরে একটি গাছ দেখে থমকে গেলেন। গাছটির নাম মহুয়া। ইংরেজিতে Madhuka Latifolia—যা বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা বা মধ্যপ্রদেশের জঙ্গলে পর্যাপ্ত দেখা যায়। এই গাছের সঙ্গে বনবাসী মানুষদের কোথায় যেন একটা আন্তরিক যোগাযোগ আছে। এর পাতার আগুনে ওরা শীত আড়াল করে। ফুলের গন্ধে ভেঙে পড়ে সাগরের ঢেউ, গানে গানে কল্লোলিত হয় অরণ্যনির্জন। এ গাছ ওদের বড়ো আদরের। ওর ফলও ওরা খায়। এই মহুয়া গাছই অরুণবাবুর মননে জন্ম দেয় একটি মাটির কবিতা, পরবর্তীতে যা ৫০ বছর ধরে লোকগান হিসেবে থেকে যাবে বাংলা-বাঙালির হৃদয়জুড়ে বোধহয় কবি নিজেও বুঝতে পারেননি।

তাঁর কথায় “এই রকম একটি গাছ শ্রীরামপুর স্টেশনে ঠায় দাঁড়িয়ে দেখেছি। যেখানে শব্দের অসহ্য দামামা। লক্ষ লক্ষ মানুষের তাৎক্ষণিক দাপট নিয়ত। ট্রেনের হাঁসফাঁস। হকারের দাপাদাপি, দূষিত ধুলোর থাবা। অসহ্য দুপুর। টোপা টোপা মহুয়া ফুলের ভারে অলংকৃত দেখে মুহূর্তের মধ্যে আমার অরণ্যের কথা মনে হল। অরণ্যবাসীদের কথা মনে পড়ে গেল।” বলেন অরুণবাবু। শ্রীরামপুর স্টেশনে মহুয়া গাছটি দেখে তাঁর মনে হয়েছিল গাছটি এখানে ‘মিসফিট’। মনে হয়েছিল ইঁট, কাঠ, পাথরের এ শহরে লাল মাটির গাছ বড়োই বেমানান। সেই ভাবনাই যে একদিন আপামার বাঙালির মন ‘লাল পাহাড়ির দেশে’ টেনে নিয়ে যাবে এমনকি লোকসংগীত ঘরানার চিরকালীন উদাহরণ হিসেবে থেকে যাবে, তা তিনি টের পাননি।

মাথায় লাল ফেট্টি, পকেটে লজেন্স আর মুখে ‘জয় গুরু’। এটাই তো আমাদের চেনা কবি অরুণ চক্রবর্তী। তিনি মানুষের জন্য কবিতা লেখেন। মনে করেন, কবিতার মধ্যে এমন একটা শক্তি আর সততা আছে যা পৃথিবীর মঙ্গল করে। “আদিবাসী আঞ্চলিক মানুষের মুখ মনে করে, তাদের গান, নাচ, পায়ে পায়ে ভেঙে যাওয়া হাজার ঢেউ, তাদের সহজিয়া জীবন যাপন…সব মিলিয়ে একটা উচ্চারণ ‘হাই দ্যাখো গো…তুই এখানে কেনে, লাল পাহাড়ির দ্যেশে যা, রাঙা মাটির দ্যেশে যা’।” বলেন লালপাহাড়ি গানের গীতিকার-কবি।

অরুণবাবুর কথায় “মানুষের জন্য লিখি। মানুষ ভালোবেসেছে ৫০ বছর ধরে। আরও বাসবে কারণ এর মধ্যে একটা কথা লুকিয়ে আছে—হেথাক তোকে মানাইছে নাই রে। যেখানে তোমার জায়গা নেই, সেই জায়গাটা তোমার জন্য নয়। সারা পৃথিবী জুড়ে এত অশান্তি, আতঙ্কবাদ, মারামারি, খুনোখুনি, অহংকার। যদি সত্যি সত্যিই মানবিকতার অধিকারি হতো মানুষ, সব মানুষের ভিতর যদি মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হতো তাহলে এসবের কোনও জায়গাই থাকতো না। তাই ঠিক জায়গায় ঠিক মানুষের থাকাটা প্রয়োজন। মহাশ্বেতা দেবী কবিতা পড়তেন না কিন্তু আমার লাল পাহাড়ির দ্যেশে যা খুব পছন্দ করতেন। গুনগুন করে গাইতেনও।” সেই কথাই বলতেন কবি হাসতে হাসতে।


ভি বালসারার হাত ধরে গান হয়েছিল কবি অরুণ চক্রবর্তীর লালপাহাড়ি কবিতা। সুর করেছিলেন সুভাষ চক্রবর্তী। ১৯৭৩-৭৪ সালেই সুরারোপণের কাজ হয়ে যায়। তা মঞ্চে মঞ্চে গেয়ে বেড়ান সুভাষবাবু। খনি অঞ্চলে, সাঁওতাল পাড়ায়। ভি বালসারাজি তখন ইনরেকো (কলকাতার অক্রুর দত্ত লেন) কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত। সুভাষবাবুর মুখে গান শুনে বেশ চমকে গিয়েছিলেন। নতুনত্বের স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি সেই গানে। 

ফোকগানের একটা বাজার আছে, মানুষ শুনতে চায় তার উপর কোম্পানির খুব একটা ক্ষতি হবে না মনে করে তিনি রাজি হয়ে যান। সারা বাংলা, আসাম, ত্রিপুরায় হইচই পড়ে যায়। হু হু করে বিক্রি হতে থাকে রেকর্ড। দেশ-এ, আনন্দবাজারে, অমৃত পত্রিকায়, যুগান্তরে ভূয়সী প্রশংসা ছাপা হয়। আখড়ায়, সভায়, সমিতিতে, মাউন্টেনিয়ারিং ক্যাম্পে ক্যাম্পে, কবিতার আড্ডায় শোনা যেত এই গান।

লোকাল ট্রেন থেকে বাংলা ব্যান্ড এখনও এই সুরে মাতোয়ারা। পৃথিবীর বেশ কয়েকটি ভাষায় অনুদিত হতে চলেছে লালপাহাড়ি কবিতা। অনেক সময় দেখা যায় কোনও লোকগান তুমুল জনপ্রিয় কিন্তু তার গীতিকারের নাম আমরা জানি না। লাল পাহাড়ি গানের সঙ্গেও এরকমটা ঘটেছিল। আমরা জানি বাংলা ব্যান্ড ‘ভূমি’ এই গানটি রেকর্ড করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। গীতিকারের নাম উল্লেখ না করায় শুরু হয়েছিল বিতর্ক। ‘‘এক অনুষ্ঠানে বাসুদেব বাউল গাইছিলেন ‘লাল পাহাড়ির দেশে যা’। আমরা ‘ভূমি’-র সবাই ওই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। গানটা এত ভালো লেগেছিল, রেকর্ড করে নিই। এর পর কোচবিহার যাচ্ছিলাম অনুষ্ঠান করতে, ট্রেনে একজন বাউল উঠলেন। উনিও সে দিন 'লাল পাহাড়ি' গাইছিলেন, সঙ্গে ছিল ‘ও নাগর’। সে দিনই আমরা ঠিক করি, গানটা রেকর্ড করব। কিন্তু, তখন গীতিকারের নাম জানতাম না। তাই উল্লেখ করিনি। ভুল করেছিলাম। পরে অরুণদার কাছে ক্ষমাও চেয়েছি’’ গান নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে এক সংবাদপত্রে একথা জানিয়েছিলেন ‘ভূমি’র সৌমিত্র।

লোকাল ট্রেন থেকে বাংলা ব্যান্ড এখনও এই সুরে মাতোয়ারা। পৃথিবীর বেশ কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হতে চলেছে লালপাহাড়ি কবিতা। ‘সহজিয়া ফাউন্ডেশন’ গত ৮ জুলাই রবীন্দ্র সদনে সম্মান জানায় ‘লালপাহাড়ি’র স্রষ্টাকে। সেই লাল পাহাড়ের দেশেই হাসি মুখে চলে গেলেন আমাদের সবার প্রিয় অরুন দা। ভালো থাকবেন দাদা। আর চুঁচুড়া স্টেশনে শংকরের চায়ের দোকানে গেলে আপনার দেখা পাবো না। আপনাকে ঘিরে ভীড় করে থাকবে না সেই সাধারণ নানা ধরনের নানা রকমের সব মানুষজন। আর আপনি তাদের হাসি মুখে আবদার মিটিয়ে বলছেন, 

লাল পাহাড়ির দেশে যা,
রাঙা মাটির দেশে যা,
ইতাক তোকে মানাইছেনা রে,
ইক্কেবারে মানাইছেনা রে।

সত্যিই আপনাকে বোধহয় এখানে আর মানাচ্ছিল না দাদা। এই স্বার্থ সঙ্কুল পৃথিবীতে। তাই বোধহয় হাসি মুখে সবাইকে ছেড়ে আপনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন। কেউ আর রাস্তায় দেখা হলে লজেন্স দেবে না। হাসি মুখে জিজ্ঞাসা করবে না কেমন আছো ভাই তুমি। ভালো থাকবেন আপনি দাদা।

তারাদের দেশে অরুণ দা - অভিজিৎ বসু।
তেইশ নভেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ্যাপি বার্থডে রনজিৎ দা

আমার মোবাইলে নম্বরটা আজও সেভ করা আছে রনজিৎ মদন দা নামেই। কবে, কোথায় ওর সাথে দেখা হয়েছিল আজ আর সেটা স্মরণে নেই আমার। হয়তো সেই ২৪ চৌরঙ্গী রোডের অফিসে বা ভবানীপুরের সেই বিখ্যাত অফিসে দেখা হয়েছিল একদিন। ডাকাবুকো কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র তখন প্রিয়রঞ্জন‌ দাসমুন্সীর লোক। একদম ফর্সা গায়ের রং। চোখে রোদ চশমা, সাদা প্যান্ট সাদা জুতো পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক আর ওদিক। আর সেই কিছু দরকার পড়লেই রনজিৎ রনজিৎ বলে ডাক দিচ্ছেন তিনি দরকারে আর অদরকারে।  রনজিৎ হলো মদনদার সেই পুরোনো দিনের একমাত্র সঙ্গী আর ছিল সেই স্বপন মাইতি বর্তমানে তিনি আর বেঁচে নেই। এস এস কে এম এ গেলেই স্বপনদা কে দেখতাম আমরা। কিন্তু সেই জাদুঘর এর ফুটপাথ ধরে বিকেলের কাগজ বের হলে পট পরিবর্তন আর অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়ে চলে যেতাম আমরা দুজন। বর্তমানে একজন তৃণমূলের মুখপাত্র অনেক বড় মাপের সাংবাদিক ও রাজনীতির লোক। দলের অন্দরে অনেক দূর অবধি তাঁর হাত বিস্তৃত। অন্যদিকে আর একজন ৩৫ বছর এই বাংলা মিডিয়াতে কাজ করে এখন বাতিলের দলে টোটো চালক হয়ে গেছে আর কি।  যাক সেই রনজিৎ এর আজ জন্মদিন। মনে পড়ে গেলো আমার...

ইটিভি ও অম্বরীষ‌ দা।

সাদা জীবনের কালো কথায় এমন একজনের কথা লিখবো আজ যার কথা অনেক আগেই লেখা উচিত ছিল আমার। ইটিভির কর্ণধার রামোজি রাও এর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির কথা লেখার সময় যার কথা আমার এক লাইন হলেও লেখা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যা আমায় মনে করিয়ে দিলেন একজন প্রাক্তন ইটিভির সহকর্মী। তার কথা শুনে মনে হলো ঠিক তো চেয়ারম্যান স্যার কে হারিয়ে আমরা সবাই ইটিভির কর্মীরা মিলিত হলাম এক নিমেষে এক ছাতার তলায়। কিন্তু যার জন্য আমরা সবাই তাঁর কাছে এই ইটিভির কোম্পানি তে কাজ এর সুযোগ পাই তাঁর কথা উল্লেখ করা দরকার ছিল বোধ হয়। কিন্তু আমি লিখি নি বা হয়তো ভুলে গেছিলাম সেই মানুষটার কথা বলতে। সেই ব্যক্তির কথাই আজ বলবো কিছুটা। না হলে সেটা ঠিক কাজ হবে না কিছুতেই।  যে মানুষটার জন্য আমরা প্রায় সবাই এই ভাবে সব একসাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কেউ পশ্চিমবাংলায় কাজ করেছি আবার কেউ কেউ হায়দরাবাদ এর সেই পাঁচিল ঘেরা রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যে কাজ করেছি। কিন্তু বাংলা মিডিয়ার সেই ছোট্টো চারা গাছের যে বীজ রামোজি রাও বপন করেছিলেন সেই সময় আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। এই মানুষটার হাত ধরেই লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল স...

দিদির নিদান

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ চুরি না করার নিদান। সেই ছোটো বেলায় পড়েছিলাম বইতে মাসীর সাবধান বাণী। চুরি করে কি অবস্থা হলো। শেষে মাসীর কান কামড়ে দিল বালক। মাসীর সাবধান বাণী না শুনে। আজ এই এক ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আমার সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো হঠাৎ করেই। আচ্ছা সত্যিই কি এই কড়া নিদান দিয়ে চুরি রোখা যায়। কথায় বলে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। মুখ্যমন্ত্রীর একদম সোজা সাপটা এই বর্জ নির্ঘোষ কথা শুনে আমার এমন মনে হলো আজ। যে কথার উত্তর দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই কারুর।  সে দলের যে নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, বা পুরসভার চেয়ারম্যান হোক। চুপ করে বসে হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ উত্তর দিলেই বিপদ বাড়বে বই কমবে না। একদম সোজা সাপটা তীরবিদ্ধ আক্রমন এর সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা। করে খাবার জায়গা নয় তৃণমূল দল। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নিজের পেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতি আর নয়, অনেক হয়েছে।  সত্যিই তো রাজনীতির আঙিনায় এই সব কিছুকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। কত কষ্ট করে মাটি তৈরি করে, জল দিয়ে এই ছোটো দুটি জোড়...

বিশ্ব সাইকেল দিবস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস এর কথা। এই দু চাকার যানকে নিয়ে যে কত অম্ল মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে সবার জীবনেই তা বলে শেষ করা যাবে না বোধ হয়। আর আজ সেই সাইকেল উদযাপনের একটি আন্তর্জাতিক দিন। এই বিশ্ব সাইকেল দিবস প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় এই দিনটি।  ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে সাইকেলের দীর্ঘ জীবনকাল এবং বহু কাজে ব্যবহৃত হওয়ার প্রশংসা করা হয়। সঙ্গে প্রায় দুই শতক কাল এর সাধারণ,কম খরচ, বিশ্বাসযোগ্যতা, এবং পরিবেশের জন্য উপযুক্ত যানবাহনের মাধ্যম হিসাবে সাইকেলের উল্লেখ করা হয়েছিল। সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মূলতঃ এই দিবস উদ্‌যাপন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়েই। বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ তাই সবার কাছেই জানা একটা বিষয়। কিন্তু যে সাইকেল নিয়ে এত কথা সেই লাল টুকটুকে সাইকেল পেয়েছিলাম আমি স্কুল জীবনে ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠে। সময়টা যত দুর মনে পরে শীতকাল ডিসেম্বর মাস। মেজমামা আমায়...

আমাদের চেনা বিখ্যাত ঝিলম

বাংলা মিডিয়ার নানাজনের সাথে দীর্ঘ সময়ে আমার কাজে অকাজে নানা সাংবাদিকের সাথে আলাপ থাকলেও। এই সাংবাদিকের সাথে ঠিক যেনো রোদ আর বৃষ্টির টক ঝাল মিষ্টি সম্পর্ক। এই হাসিঠাট্টা মশকরা করা দুজনের, আবার এই সিরিয়াস হয়ে গিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে যাওয়া একে অপরের সাথে। এই নানা বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য তাঁর সাথে আলোচনা হওয়া দুই সহজ পুরোনো বন্ধুর মতো। আবার যেনো খুব ক্ষুদ্র কোনো কারনেই মতান্তর আর মনান্তর হয়ে যাওয়া কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই ব্লগ লেখার কথা আমায় বহুদিন আগেই ও বলেছিল একদিন। আজ সেই ব্লগ লেখার পাগলামো কিছুটা তো তাঁর অনুপ্রেরণায় এটা অস্বীকার করা যায় না আজও কিন্তু । যেটা নিয়ে তাঁর সাথে আমার কথাও হয়েছে বহুবার।  বাংলা মিডিয়ার এই শিক্ষিত পড়াশোনা করে সাংবাদিক হতে আসা, এই রিপোর্টার ইন্টারভিউ বোর্ডে পরীক্ষকের জ্ঞান অনুসন্ধানে ব্যাপৃত হতেও পিছপা হয় না কিছুতেই। কোনও পরোয়া না করে আর ভয় না পেয়ে। সে হায়দরাবাদ এর বিখ্যাত বিরিয়ানী এলাকার বস হোক, কিম্বা কাগজের দাপুটে দাড়িওলা বস হোক। বা যে কেউ বস হোক। আসলে এটাই ওর চিরকালের নেচার। যার থেকে আজও বোধহয় বের ...