সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমাদের সবার প্রিয় লোহা


আজ আমাদের সেই ছটফটে সব সময় ফোন হাতে নিয়ে ঘাঁটা এক ক্রাইম সাংবাদিক শুভ্র চট্টোপাধ্যায় ওরফে লোহার কথা। হ্যাঁ, যার কোনো ছবি উদ্ধার করা গেলো না কোনোভাবেই। কারুর কাছ থেকেই কোনো ছবি পেলাম না আমি।আর যার নাম কেনো যে লোহা হলো তার সুস্পষ্ট কোনো গল্পও নেই আমাদের কাছে। তবু আজ সাদা জীবনের কালো কথায় সেই শুভ্র চট্টোপাধ্যায় এর গল্পকথা। সেই আমাদের সবার পরিচিত বিখ্যাত ক্রাইম রিপোর্টার লোহার গল্প। 

যার সাংবাদিকতার গুরু একজন বিখ্যাত মানুষের হাত ধরে সেই সল্টলেকে ভারতীয় বিদ্যভবন এর সাংবাদিকতার পড়াশোনা শেষ করে সেই সল্টলেকের একটি কাগজে ওর হাতেখড়ি। যে কাগজের দায়িত্বে ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সাংবাদিক। সে যে কোনো পজিশনে খেলতে পারদর্শী সেই তীর্থঙ্কর বসু। আমার একসময়ের বন্ধু এখন আর যোগাযোগ নেই আমাদের দুজনের কোনো ভাবেই। আগে যদিও রাতে ঘণ্টার পর ঘন্টা কথা হতো আমাদের। বর্তমানে টোটো চালক হয়ে যাবার পর সেই যোগাযোগ একদম বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেটাই স্বাভাবিক ঘটনা। 

যাকগে সেই সময় সাংবাদিক হতে শুভ্র তখনও সে লোহা হয়নি হাওড়ার সালকিয়া থেকে বাঁধাঘাট হয়ে নিজের সাইকেল লঞ্চে তুলে নিয়ে আহিরীটোলা আসতো। তারপর সে প্যাডেল করে সাইকেল চালিয়ে সল্টলেকে কাগজে কাজ করতে যেতো প্রতিদিন। যেটা শুনে মনে হলো সত্যিই এই খবরের নেশা বড়ই মারাত্মক। যে নেশা একবার কাউকে ধরলে ছাড়ানো মুশকিল আরকি। শুভ্রর সেই নেশায় পেয়ে বসেছিল মনে হয় ওকে। 

 এরপর সেই সল্টলেকের কাগজ ছেড়ে ও কাজে যোগ দিলো হিন্দি চ্যানেলে সেই তাজা খবরে। এটাই ওর প্রথম টিভিতে প্রবেশ। এরপর এগিয়ে গেছে সে ধীরে ধীরে। অতনু হালদার সেই সময় ইটিভিতে কর্মরত একজন ক্রাইম রিপোর্টার নেওয়া হবে শুভ্র পরীক্ষা দিয়ে ইটিভিতে ঢুকে গেলো সেই ওর কলকাতার রাজপথে পা দেওয়া। আর ধীরে ধীরে এগিয়ে চলা ওর।

ওর কানে ফোন, আর মুখে একটাই বুলি দাদা কিছু আছে নাকি। কিছুই নেই দাদা। একটা বাংলাদেশী অ্যারেস্ট নেই দাদা। হ্যাঁ, এটাই হলো আমাদের চেনা শুভ্র। ওর খবরের পেছনে লেগে থাকার এই নিরন্তর চেষ্টা আর সেই পুলিশ অফিসারকে ফোন করে দাদা কিছু আছে বলা আমার বেশ ভালই লাগতো আরকি। 
আর সারাদিন পরে ঘরে ফিরে শরীর ঠিক রাখতে জিম করা আর ব্যয়াম করা। সে লোহা তুলতে না পারলে হাতের কাছে ইট দিয়ে সে কাজ চালিয়ে নেবে। এটাই ওর দ্বিতীয় নেশা।

 প্রথম নেশা যদি হয় দাদা কিছু আছে। কোনো খবর নেই দাদা আজ। ওর দ্বিতীয় নেশা হলো রাতে ঘরে ফিরে জিম করা, লোহা তোলা যা ওর শরীর ঠিক রাখতে সাহায্য করবে। আর শরীর ভালো থাকলেই তো সে অফিস যেতে পারবে রোজ। কোনোদিন কামাই করবে না সে। ছুটি নিতেও অনীহা তার। এক বিচিত্র। জীবন ওর। প্রেম, ভালোবাসা, পরিবার, নিজের প্রতি নজর রাখা, নিজের টাকা আয় করেও কেমন উদাসীন থাকা এটা বেশ ভালো ব্যাপার কিন্তু। সচরাচর এমনটা দেখা মেলে না কিন্তু। নিজের আখের গুছিয়ে নেওয়া দল এর মাঝে একটু সব বিষয়ে উদাসীন যেনো। শুধু ওই দাদা কিছু আছে নাকি। একটা খবর হবে না দাদা।

ইটিভির কাজ করতে এসেই ওর সাথে আমার আলাপ পরিচয়। সেই সময় মৌসুমীও কাজ শুরু করেছে সেই সময় ইটিভি বাংলা নিউজ চ্যানেলে। ওদের দুজনের মধ্যে বেশ ক্রাইম এর খবর কে আগে দেবে যে আগে ধরাবে সেটা নিয়ে দৌড় হতো। পরে অতনু হালদার এবিপিতে চলে যায় ইটিভি ছেড়ে। এইভাবেই ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে ও। তবে ও রিপোর্টার হিসেবে ভালো যেমন তেমন মানুষ হিসেবেও ভালো। রাতে ফোন করে কত গল্প যে হতো ওর সাথে। দেখলাম একদিন এবিপিতে লাইভ দিচ্ছে ও বেশ ভালই লাগলো। কলকাতা টিভিতেও কাজ করেছে ও বেশ কিছুদিন।

এই সারাদিন ধরে ছুটে বেড়ানো আর দৌড়ে বেড়ানোর নেশায় ওর জীবনে বোধহয় প্রেমটাই ভালো করে এলো না কোনো দিন। কেউ ওকে সেই ভাবে পছন্দই করলো না হয়তো। কিন্তু একজন বন্ধু হিসেবে, মানুষ হিসেবে ও আমায় বহু খবর দিয়েছে উপকার করেছে। যেখানে সব বড়ো বড়ো চেহারার মাতব্বর সাংবাদিকগণ ফোনে এক লাইন ইনফরমেশন দিতে চাইতো না আলাপ পরিচয় থাকলেও সেটা ও কোনোদিন করেনি। আমায় ও যত ব্যস্ত থাক ফোন ধরেই বলতো একটু পরে বলছি আর তারপরেই তথ্য সরবরাহ করে দিত। এমন নানা ধরনের খবর ও কনফার্ম করে দিয়েছে আমায়। 

একদিন তো সেই সময় ও বর্তমান পত্রিকায় কাজ করে বাস ধরে হাওড়া ফেরার সময় ওর সাথে দেখা হলো আমার। রাতের বেলায় দু জন প্রান্তে দেখেই ও এগিয়ে এলো কি খবর তোমাদের। আমি বললাম চলছে। রাতে হাওড়া স্টেশনে বাস স্ট্যান্ডে নেমেই চলো চা খাই। রাত এগারোটার ট্রেন ধরে বাড়ী ফিরবো। ও বললো ঠিক আছে চা এর দোকানে নিজেই দাঁড়িয়ে গেলো। হয়তো বাড়ী ফেরার পথে চা আর ডিম খেয়ে বাড়ী ফিরবে। কারণ সারাদিন ওর ডিম এর কোটা প্রায় হাফ ডজন বা তার বেশি। ডিম ওর সব থেকে প্রিয়। ওদের বাড়িতে ডিমওলা প্রতি সপ্তাহে ডিম সাপ্লাই করে দেয় নিয়ম মেনে আর সময় মেনে ঘরে ডিম শেষ হবার আগেই। যে শুধু বাজারে ডিমের দাম জানে অন্য কিছু সবজির দাম ওর অজানা। হ্যাঁ, এটাই হলো আমাদের ক্রাইম রিপোর্টার শুভ্র চট্টোপাধ্যায় ওরফে লোহা। 

একদিন রাতে ফোন করলাম একটা বাচ্চার কান্নার আওয়াজ পেলাম আমি। পরে শুনলাম ও বিয়ে করেছে। যদিও সেটা নিজে বোধহয় খুব বেশি জনকে বলেনি সেই বিশেষ কথাটা। একটু লুকিয়েই ছিল এই কথা। তবে কলকাতার একজন মহিলা রিপোর্টারকে কাজ দেবার জন্য ও আমায় বলত মাঝে মাঝেই। সেই মহিলা রিপোর্টার অবশ্য পরে ভালো জায়গায় কাজ করত এবিপিতে। পড়ে সে এবিপি ছেড়ে দিলে তাকে আমি গৌহাটির চ্যানেলে কাজের সুযোগ করে দি। আর সেই মহিলা রিপোর্টার শুভ্রর বেশ পরিচিত ছিল তার জন্য আমায় সে অনেকবার বলেছে। তাকে জায়গা দিতে সে সচেষ্ট ছিল নানা ভাবেই। আমিও চেষ্টা করে ওর একটা কাজের সুযোগ হয়ে গেছে। যেটা বেশ ভালই। এই বিষয়ে শুভ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যদের তুলনায় বেশ ভালই। অন্যরা যেটা বলতে গিয়ে ভাবে শুভ্রর সেটা নেই। যেটা ওর ভালো গুণ বলেই আমার মনে হয়।

তবে ওর সেই যে কোনো সময় গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এর মধ্যে সে অফিস মিটিং হোক বা পুলিশ এর জরুরী ব্রিফিং হোক ফোন ধরে ব্যস্ত হয়ে উঠে যাওয়া। সেই খবরের সোর্সকে বলা দাদা বলুন এটা কিন্তু একদম এক আছে। বদলে যায়নি এখনও এতদিন পরেও। কিন্তু যে রিপোর্টার ফোনে এত সাবলীল ভাবে কথা বলে তার ফিল্ড এর অভিজ্ঞতা কি সমান। তিনি কি সমান পারদর্শী একভাবেই। যে কোনো পরিস্থিতিতে মোকাবিলা করতে। 

কিন্তু নন্দীগ্রাম যাওয়ার একটা অভিজ্ঞতার গল্প শুনে আমার মনে হলো হয়তো ফোনে যতটা সে স্বচ্ছন্দ ফিল্ডে বাঁশ লাঠির সামনে ততটা নয় বোধহয়। তাই বোধহয় গাড়ির সামনে ভীড় দেখে কোথায় যাচ্ছি যেনো আমরা, এই কথা বলে ফেলেছিলেন ড্রাইভার এর সামনে বসে। আর পেছনে বসে ক্যামেরাম্যান হেসে লুটোপুটি। যদিও সেটা দিয়ে হয়তো তার মাপকাঠি করা যায় না। তবু ডাকাবুকো রিপোর্টার হিসেবে কিছুটা স্পটে গিয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে গিয়ে যে একটু হলেও থমকে গেছিলেন সেই ঘটনায় সেটাই পরিস্ফুট হয়। 

একটা দুটো ঘটনা তো আর একজন রিপোর্টার এর সারাজীবনের গ্রাফকে তৈরি করে না। তবে কলকাতার রাজপথে ক্রাইম রিপোর্টার হিসেবে একটু হলেও নাম তুলে ফেলেছে শুভ্র চট্টোপাধ্যায়। যার জীবনের কথার অনেকটাই জানে ওর বন্ধু সুজিত ভৌমিক যে বর্তমান পত্রিকায় ওর সাথেই কাজ করে এখন। মাওবাদী নেতা নিয়ে কারবার তার। ওর গল্প অন্য একদিন। শুভ্র এতদিন লালবাজার, ভবানী ভবনে এতদিন ঘুরে একটা ক্রাইম বিটে ভালো জায়গা করে নিয়েছে। তবে ও নিজে পলিটিকাল সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করলেও মাস্টার্স করলেও কোনোদিন ও কিছুতেই রাজনীতির কোনো খবরে যেতে চায়না। ওর নাকি গায়ে জ্বর আসে সেই সব জায়গায় গেলে। ঠিক যেনো জল ছাড়া মাছ এর মত অবস্থা। 

 সত্যিই অসাধারণ এই রিপোর্টার। ক্রাইম বাদে কোনো খবরে যে স্বচ্ছন্দ নয় কিছুতেই। সারা জীবন খবর খবর করে জীবন কাটিয়ে দেওয়া এক রিপোর্টার শুভ্র চট্টোপাধ্যায়। যার ঘর, সংসার সব তার ঘরের লোক সামলায়। একসময় সব বাবা সামলাতেন এখন বউ সামলায়। সে শুধু খবরের দুনিয়ায় ঘুরে বেড়ায় আর উড়ে বেড়ায়। আর ফোনের মধ্য মুখ গুঁজে পড়ে থাকে। খবর খোঁজে চারিদিকে। এমন খবর পাগল দু একজন মানুষ এই খবরের দুনিয়ায় থাকা ভালো। এই সবের মাঝে সে একটু জ্যোতিষকে ভরসা করে। তারা যা বলে তেমন পোশাক পরে তেমন চলে। 


 বহুদিন কথা হয়নি ওর সাথে দেখা হয়নি আমার। গল্প হয়নি আমার। নিশ্চয়ই কোনো দিন দেখা হবে আবার কলকাতার রাস্তায়। দুজনে মিলে গল্প হবে পুরোনো দিনের। মনে পড়বে নানা কথা। ইটিভির কথা। নানা ঘটনার কথা। সেই সব পুরনো দিনের স্মৃতি ঝলমল দিনগুলো আবার ফিরে আসবে হয়তো আমাদের আড্ডার মাঝে। নানা জনের সাথে ওর কথা লিখতে পেরে আমার ভালই লাগলো। কেউ ভাবেন আমি কেউ যদি চাকরি দেয় তারজন্য এইসব মানুষদের নিয়ে লিখি। আবার কেউ বলেন এই উদ্যোগ ভালো। জানিনা কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ। মনে হয় আমার কর্মজীবনে তো শুভ্র ছিল আমার আশপাশে। তাই ওর কথা মনে হলো লিখে ফেললাম তাই। আর কোনো উদ্দ্যেশ্য নেই এই সাদা জীবনের কালো কথা লেখায়।

আমাদের সবার প্রিয় লোহা - অভিজিৎ বসু।
সাতাশে নভেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য শুভ্র চট্টোপাধ্যায় এর মোবাইল ফোন থেকে নেওয়া।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ্যাপি বার্থডে রনজিৎ দা

আমার মোবাইলে নম্বরটা আজও সেভ করা আছে রনজিৎ মদন দা নামেই। কবে, কোথায় ওর সাথে দেখা হয়েছিল আজ আর সেটা স্মরণে নেই আমার। হয়তো সেই ২৪ চৌরঙ্গী রোডের অফিসে বা ভবানীপুরের সেই বিখ্যাত অফিসে দেখা হয়েছিল একদিন। ডাকাবুকো কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র তখন প্রিয়রঞ্জন‌ দাসমুন্সীর লোক। একদম ফর্সা গায়ের রং। চোখে রোদ চশমা, সাদা প্যান্ট সাদা জুতো পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক আর ওদিক। আর সেই কিছু দরকার পড়লেই রনজিৎ রনজিৎ বলে ডাক দিচ্ছেন তিনি দরকারে আর অদরকারে।  রনজিৎ হলো মদনদার সেই পুরোনো দিনের একমাত্র সঙ্গী আর ছিল সেই স্বপন মাইতি বর্তমানে তিনি আর বেঁচে নেই। এস এস কে এম এ গেলেই স্বপনদা কে দেখতাম আমরা। কিন্তু সেই জাদুঘর এর ফুটপাথ ধরে বিকেলের কাগজ বের হলে পট পরিবর্তন আর অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়ে চলে যেতাম আমরা দুজন। বর্তমানে একজন তৃণমূলের মুখপাত্র অনেক বড় মাপের সাংবাদিক ও রাজনীতির লোক। দলের অন্দরে অনেক দূর অবধি তাঁর হাত বিস্তৃত। অন্যদিকে আর একজন ৩৫ বছর এই বাংলা মিডিয়াতে কাজ করে এখন বাতিলের দলে টোটো চালক হয়ে গেছে আর কি।  যাক সেই রনজিৎ এর আজ জন্মদিন। মনে পড়ে গেলো আমার...

ইটিভি ও অম্বরীষ‌ দা।

সাদা জীবনের কালো কথায় এমন একজনের কথা লিখবো আজ যার কথা অনেক আগেই লেখা উচিত ছিল আমার। ইটিভির কর্ণধার রামোজি রাও এর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির কথা লেখার সময় যার কথা আমার এক লাইন হলেও লেখা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যা আমায় মনে করিয়ে দিলেন একজন প্রাক্তন ইটিভির সহকর্মী। তার কথা শুনে মনে হলো ঠিক তো চেয়ারম্যান স্যার কে হারিয়ে আমরা সবাই ইটিভির কর্মীরা মিলিত হলাম এক নিমেষে এক ছাতার তলায়। কিন্তু যার জন্য আমরা সবাই তাঁর কাছে এই ইটিভির কোম্পানি তে কাজ এর সুযোগ পাই তাঁর কথা উল্লেখ করা দরকার ছিল বোধ হয়। কিন্তু আমি লিখি নি বা হয়তো ভুলে গেছিলাম সেই মানুষটার কথা বলতে। সেই ব্যক্তির কথাই আজ বলবো কিছুটা। না হলে সেটা ঠিক কাজ হবে না কিছুতেই।  যে মানুষটার জন্য আমরা প্রায় সবাই এই ভাবে সব একসাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কেউ পশ্চিমবাংলায় কাজ করেছি আবার কেউ কেউ হায়দরাবাদ এর সেই পাঁচিল ঘেরা রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যে কাজ করেছি। কিন্তু বাংলা মিডিয়ার সেই ছোট্টো চারা গাছের যে বীজ রামোজি রাও বপন করেছিলেন সেই সময় আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। এই মানুষটার হাত ধরেই লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল স...

বিশ্ব সাইকেল দিবস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস এর কথা। এই দু চাকার যানকে নিয়ে যে কত অম্ল মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে সবার জীবনেই তা বলে শেষ করা যাবে না বোধ হয়। আর আজ সেই সাইকেল উদযাপনের একটি আন্তর্জাতিক দিন। এই বিশ্ব সাইকেল দিবস প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় এই দিনটি।  ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে সাইকেলের দীর্ঘ জীবনকাল এবং বহু কাজে ব্যবহৃত হওয়ার প্রশংসা করা হয়। সঙ্গে প্রায় দুই শতক কাল এর সাধারণ,কম খরচ, বিশ্বাসযোগ্যতা, এবং পরিবেশের জন্য উপযুক্ত যানবাহনের মাধ্যম হিসাবে সাইকেলের উল্লেখ করা হয়েছিল। সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মূলতঃ এই দিবস উদ্‌যাপন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়েই। বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ তাই সবার কাছেই জানা একটা বিষয়। কিন্তু যে সাইকেল নিয়ে এত কথা সেই লাল টুকটুকে সাইকেল পেয়েছিলাম আমি স্কুল জীবনে ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠে। সময়টা যত দুর মনে পরে শীতকাল ডিসেম্বর মাস। মেজমামা আমায়...

দিদির নিদান

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ চুরি না করার নিদান। সেই ছোটো বেলায় পড়েছিলাম বইতে মাসীর সাবধান বাণী। চুরি করে কি অবস্থা হলো। শেষে মাসীর কান কামড়ে দিল বালক। মাসীর সাবধান বাণী না শুনে। আজ এই এক ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আমার সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো হঠাৎ করেই। আচ্ছা সত্যিই কি এই কড়া নিদান দিয়ে চুরি রোখা যায়। কথায় বলে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। মুখ্যমন্ত্রীর একদম সোজা সাপটা এই বর্জ নির্ঘোষ কথা শুনে আমার এমন মনে হলো আজ। যে কথার উত্তর দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই কারুর।  সে দলের যে নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, বা পুরসভার চেয়ারম্যান হোক। চুপ করে বসে হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ উত্তর দিলেই বিপদ বাড়বে বই কমবে না। একদম সোজা সাপটা তীরবিদ্ধ আক্রমন এর সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা। করে খাবার জায়গা নয় তৃণমূল দল। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নিজের পেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতি আর নয়, অনেক হয়েছে।  সত্যিই তো রাজনীতির আঙিনায় এই সব কিছুকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। কত কষ্ট করে মাটি তৈরি করে, জল দিয়ে এই ছোটো দুটি জোড়...

আমাদের চেনা বিখ্যাত ঝিলম

বাংলা মিডিয়ার নানাজনের সাথে দীর্ঘ সময়ে আমার কাজে অকাজে নানা সাংবাদিকের সাথে আলাপ থাকলেও। এই সাংবাদিকের সাথে ঠিক যেনো রোদ আর বৃষ্টির টক ঝাল মিষ্টি সম্পর্ক। এই হাসিঠাট্টা মশকরা করা দুজনের, আবার এই সিরিয়াস হয়ে গিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে যাওয়া একে অপরের সাথে। এই নানা বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য তাঁর সাথে আলোচনা হওয়া দুই সহজ পুরোনো বন্ধুর মতো। আবার যেনো খুব ক্ষুদ্র কোনো কারনেই মতান্তর আর মনান্তর হয়ে যাওয়া কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই ব্লগ লেখার কথা আমায় বহুদিন আগেই ও বলেছিল একদিন। আজ সেই ব্লগ লেখার পাগলামো কিছুটা তো তাঁর অনুপ্রেরণায় এটা অস্বীকার করা যায় না আজও কিন্তু । যেটা নিয়ে তাঁর সাথে আমার কথাও হয়েছে বহুবার।  বাংলা মিডিয়ার এই শিক্ষিত পড়াশোনা করে সাংবাদিক হতে আসা, এই রিপোর্টার ইন্টারভিউ বোর্ডে পরীক্ষকের জ্ঞান অনুসন্ধানে ব্যাপৃত হতেও পিছপা হয় না কিছুতেই। কোনও পরোয়া না করে আর ভয় না পেয়ে। সে হায়দরাবাদ এর বিখ্যাত বিরিয়ানী এলাকার বস হোক, কিম্বা কাগজের দাপুটে দাড়িওলা বস হোক। বা যে কেউ বস হোক। আসলে এটাই ওর চিরকালের নেচার। যার থেকে আজও বোধহয় বের ...