সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমাদের সবার প্রিয় লোহা


আজ আমাদের সেই ছটফটে সব সময় ফোন হাতে নিয়ে ঘাঁটা এক ক্রাইম সাংবাদিক শুভ্র চট্টোপাধ্যায় ওরফে লোহার কথা। হ্যাঁ, যার কোনো ছবি উদ্ধার করা গেলো না কোনোভাবেই। কারুর কাছ থেকেই কোনো ছবি পেলাম না আমি।আর যার নাম কেনো যে লোহা হলো তার সুস্পষ্ট কোনো গল্পও নেই আমাদের কাছে। তবু আজ সাদা জীবনের কালো কথায় সেই শুভ্র চট্টোপাধ্যায় এর গল্পকথা। সেই আমাদের সবার পরিচিত বিখ্যাত ক্রাইম রিপোর্টার লোহার গল্প। 

যার সাংবাদিকতার গুরু একজন বিখ্যাত মানুষের হাত ধরে সেই সল্টলেকে ভারতীয় বিদ্যভবন এর সাংবাদিকতার পড়াশোনা শেষ করে সেই সল্টলেকের একটি কাগজে ওর হাতেখড়ি। যে কাগজের দায়িত্বে ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সাংবাদিক। সে যে কোনো পজিশনে খেলতে পারদর্শী সেই তীর্থঙ্কর বসু। আমার একসময়ের বন্ধু এখন আর যোগাযোগ নেই আমাদের দুজনের কোনো ভাবেই। আগে যদিও রাতে ঘণ্টার পর ঘন্টা কথা হতো আমাদের। বর্তমানে টোটো চালক হয়ে যাবার পর সেই যোগাযোগ একদম বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেটাই স্বাভাবিক ঘটনা। 

যাকগে সেই সময় সাংবাদিক হতে শুভ্র তখনও সে লোহা হয়নি হাওড়ার সালকিয়া থেকে বাঁধাঘাট হয়ে নিজের সাইকেল লঞ্চে তুলে নিয়ে আহিরীটোলা আসতো। তারপর সে প্যাডেল করে সাইকেল চালিয়ে সল্টলেকে কাগজে কাজ করতে যেতো প্রতিদিন। যেটা শুনে মনে হলো সত্যিই এই খবরের নেশা বড়ই মারাত্মক। যে নেশা একবার কাউকে ধরলে ছাড়ানো মুশকিল আরকি। শুভ্রর সেই নেশায় পেয়ে বসেছিল মনে হয় ওকে। 

 এরপর সেই সল্টলেকের কাগজ ছেড়ে ও কাজে যোগ দিলো হিন্দি চ্যানেলে সেই তাজা খবরে। এটাই ওর প্রথম টিভিতে প্রবেশ। এরপর এগিয়ে গেছে সে ধীরে ধীরে। অতনু হালদার সেই সময় ইটিভিতে কর্মরত একজন ক্রাইম রিপোর্টার নেওয়া হবে শুভ্র পরীক্ষা দিয়ে ইটিভিতে ঢুকে গেলো সেই ওর কলকাতার রাজপথে পা দেওয়া। আর ধীরে ধীরে এগিয়ে চলা ওর।

ওর কানে ফোন, আর মুখে একটাই বুলি দাদা কিছু আছে নাকি। কিছুই নেই দাদা। একটা বাংলাদেশী অ্যারেস্ট নেই দাদা। হ্যাঁ, এটাই হলো আমাদের চেনা শুভ্র। ওর খবরের পেছনে লেগে থাকার এই নিরন্তর চেষ্টা আর সেই পুলিশ অফিসারকে ফোন করে দাদা কিছু আছে বলা আমার বেশ ভালই লাগতো আরকি। 
আর সারাদিন পরে ঘরে ফিরে শরীর ঠিক রাখতে জিম করা আর ব্যয়াম করা। সে লোহা তুলতে না পারলে হাতের কাছে ইট দিয়ে সে কাজ চালিয়ে নেবে। এটাই ওর দ্বিতীয় নেশা।

 প্রথম নেশা যদি হয় দাদা কিছু আছে। কোনো খবর নেই দাদা আজ। ওর দ্বিতীয় নেশা হলো রাতে ঘরে ফিরে জিম করা, লোহা তোলা যা ওর শরীর ঠিক রাখতে সাহায্য করবে। আর শরীর ভালো থাকলেই তো সে অফিস যেতে পারবে রোজ। কোনোদিন কামাই করবে না সে। ছুটি নিতেও অনীহা তার। এক বিচিত্র। জীবন ওর। প্রেম, ভালোবাসা, পরিবার, নিজের প্রতি নজর রাখা, নিজের টাকা আয় করেও কেমন উদাসীন থাকা এটা বেশ ভালো ব্যাপার কিন্তু। সচরাচর এমনটা দেখা মেলে না কিন্তু। নিজের আখের গুছিয়ে নেওয়া দল এর মাঝে একটু সব বিষয়ে উদাসীন যেনো। শুধু ওই দাদা কিছু আছে নাকি। একটা খবর হবে না দাদা।

ইটিভির কাজ করতে এসেই ওর সাথে আমার আলাপ পরিচয়। সেই সময় মৌসুমীও কাজ শুরু করেছে সেই সময় ইটিভি বাংলা নিউজ চ্যানেলে। ওদের দুজনের মধ্যে বেশ ক্রাইম এর খবর কে আগে দেবে যে আগে ধরাবে সেটা নিয়ে দৌড় হতো। পরে অতনু হালদার এবিপিতে চলে যায় ইটিভি ছেড়ে। এইভাবেই ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে ও। তবে ও রিপোর্টার হিসেবে ভালো যেমন তেমন মানুষ হিসেবেও ভালো। রাতে ফোন করে কত গল্প যে হতো ওর সাথে। দেখলাম একদিন এবিপিতে লাইভ দিচ্ছে ও বেশ ভালই লাগলো। কলকাতা টিভিতেও কাজ করেছে ও বেশ কিছুদিন।

এই সারাদিন ধরে ছুটে বেড়ানো আর দৌড়ে বেড়ানোর নেশায় ওর জীবনে বোধহয় প্রেমটাই ভালো করে এলো না কোনো দিন। কেউ ওকে সেই ভাবে পছন্দই করলো না হয়তো। কিন্তু একজন বন্ধু হিসেবে, মানুষ হিসেবে ও আমায় বহু খবর দিয়েছে উপকার করেছে। যেখানে সব বড়ো বড়ো চেহারার মাতব্বর সাংবাদিকগণ ফোনে এক লাইন ইনফরমেশন দিতে চাইতো না আলাপ পরিচয় থাকলেও সেটা ও কোনোদিন করেনি। আমায় ও যত ব্যস্ত থাক ফোন ধরেই বলতো একটু পরে বলছি আর তারপরেই তথ্য সরবরাহ করে দিত। এমন নানা ধরনের খবর ও কনফার্ম করে দিয়েছে আমায়। 

একদিন তো সেই সময় ও বর্তমান পত্রিকায় কাজ করে বাস ধরে হাওড়া ফেরার সময় ওর সাথে দেখা হলো আমার। রাতের বেলায় দু জন প্রান্তে দেখেই ও এগিয়ে এলো কি খবর তোমাদের। আমি বললাম চলছে। রাতে হাওড়া স্টেশনে বাস স্ট্যান্ডে নেমেই চলো চা খাই। রাত এগারোটার ট্রেন ধরে বাড়ী ফিরবো। ও বললো ঠিক আছে চা এর দোকানে নিজেই দাঁড়িয়ে গেলো। হয়তো বাড়ী ফেরার পথে চা আর ডিম খেয়ে বাড়ী ফিরবে। কারণ সারাদিন ওর ডিম এর কোটা প্রায় হাফ ডজন বা তার বেশি। ডিম ওর সব থেকে প্রিয়। ওদের বাড়িতে ডিমওলা প্রতি সপ্তাহে ডিম সাপ্লাই করে দেয় নিয়ম মেনে আর সময় মেনে ঘরে ডিম শেষ হবার আগেই। যে শুধু বাজারে ডিমের দাম জানে অন্য কিছু সবজির দাম ওর অজানা। হ্যাঁ, এটাই হলো আমাদের ক্রাইম রিপোর্টার শুভ্র চট্টোপাধ্যায় ওরফে লোহা। 

একদিন রাতে ফোন করলাম একটা বাচ্চার কান্নার আওয়াজ পেলাম আমি। পরে শুনলাম ও বিয়ে করেছে। যদিও সেটা নিজে বোধহয় খুব বেশি জনকে বলেনি সেই বিশেষ কথাটা। একটু লুকিয়েই ছিল এই কথা। তবে কলকাতার একজন মহিলা রিপোর্টারকে কাজ দেবার জন্য ও আমায় বলত মাঝে মাঝেই। সেই মহিলা রিপোর্টার অবশ্য পরে ভালো জায়গায় কাজ করত এবিপিতে। পড়ে সে এবিপি ছেড়ে দিলে তাকে আমি গৌহাটির চ্যানেলে কাজের সুযোগ করে দি। আর সেই মহিলা রিপোর্টার শুভ্রর বেশ পরিচিত ছিল তার জন্য আমায় সে অনেকবার বলেছে। তাকে জায়গা দিতে সে সচেষ্ট ছিল নানা ভাবেই। আমিও চেষ্টা করে ওর একটা কাজের সুযোগ হয়ে গেছে। যেটা বেশ ভালই। এই বিষয়ে শুভ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যদের তুলনায় বেশ ভালই। অন্যরা যেটা বলতে গিয়ে ভাবে শুভ্রর সেটা নেই। যেটা ওর ভালো গুণ বলেই আমার মনে হয়।

তবে ওর সেই যে কোনো সময় গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এর মধ্যে সে অফিস মিটিং হোক বা পুলিশ এর জরুরী ব্রিফিং হোক ফোন ধরে ব্যস্ত হয়ে উঠে যাওয়া। সেই খবরের সোর্সকে বলা দাদা বলুন এটা কিন্তু একদম এক আছে। বদলে যায়নি এখনও এতদিন পরেও। কিন্তু যে রিপোর্টার ফোনে এত সাবলীল ভাবে কথা বলে তার ফিল্ড এর অভিজ্ঞতা কি সমান। তিনি কি সমান পারদর্শী একভাবেই। যে কোনো পরিস্থিতিতে মোকাবিলা করতে। 

কিন্তু নন্দীগ্রাম যাওয়ার একটা অভিজ্ঞতার গল্প শুনে আমার মনে হলো হয়তো ফোনে যতটা সে স্বচ্ছন্দ ফিল্ডে বাঁশ লাঠির সামনে ততটা নয় বোধহয়। তাই বোধহয় গাড়ির সামনে ভীড় দেখে কোথায় যাচ্ছি যেনো আমরা, এই কথা বলে ফেলেছিলেন ড্রাইভার এর সামনে বসে। আর পেছনে বসে ক্যামেরাম্যান হেসে লুটোপুটি। যদিও সেটা দিয়ে হয়তো তার মাপকাঠি করা যায় না। তবু ডাকাবুকো রিপোর্টার হিসেবে কিছুটা স্পটে গিয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে গিয়ে যে একটু হলেও থমকে গেছিলেন সেই ঘটনায় সেটাই পরিস্ফুট হয়। 

একটা দুটো ঘটনা তো আর একজন রিপোর্টার এর সারাজীবনের গ্রাফকে তৈরি করে না। তবে কলকাতার রাজপথে ক্রাইম রিপোর্টার হিসেবে একটু হলেও নাম তুলে ফেলেছে শুভ্র চট্টোপাধ্যায়। যার জীবনের কথার অনেকটাই জানে ওর বন্ধু সুজিত ভৌমিক যে বর্তমান পত্রিকায় ওর সাথেই কাজ করে এখন। মাওবাদী নেতা নিয়ে কারবার তার। ওর গল্প অন্য একদিন। শুভ্র এতদিন লালবাজার, ভবানী ভবনে এতদিন ঘুরে একটা ক্রাইম বিটে ভালো জায়গা করে নিয়েছে। তবে ও নিজে পলিটিকাল সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করলেও মাস্টার্স করলেও কোনোদিন ও কিছুতেই রাজনীতির কোনো খবরে যেতে চায়না। ওর নাকি গায়ে জ্বর আসে সেই সব জায়গায় গেলে। ঠিক যেনো জল ছাড়া মাছ এর মত অবস্থা। 

 সত্যিই অসাধারণ এই রিপোর্টার। ক্রাইম বাদে কোনো খবরে যে স্বচ্ছন্দ নয় কিছুতেই। সারা জীবন খবর খবর করে জীবন কাটিয়ে দেওয়া এক রিপোর্টার শুভ্র চট্টোপাধ্যায়। যার ঘর, সংসার সব তার ঘরের লোক সামলায়। একসময় সব বাবা সামলাতেন এখন বউ সামলায়। সে শুধু খবরের দুনিয়ায় ঘুরে বেড়ায় আর উড়ে বেড়ায়। আর ফোনের মধ্য মুখ গুঁজে পড়ে থাকে। খবর খোঁজে চারিদিকে। এমন খবর পাগল দু একজন মানুষ এই খবরের দুনিয়ায় থাকা ভালো। এই সবের মাঝে সে একটু জ্যোতিষকে ভরসা করে। তারা যা বলে তেমন পোশাক পরে তেমন চলে। 


 বহুদিন কথা হয়নি ওর সাথে দেখা হয়নি আমার। গল্প হয়নি আমার। নিশ্চয়ই কোনো দিন দেখা হবে আবার কলকাতার রাস্তায়। দুজনে মিলে গল্প হবে পুরোনো দিনের। মনে পড়বে নানা কথা। ইটিভির কথা। নানা ঘটনার কথা। সেই সব পুরনো দিনের স্মৃতি ঝলমল দিনগুলো আবার ফিরে আসবে হয়তো আমাদের আড্ডার মাঝে। নানা জনের সাথে ওর কথা লিখতে পেরে আমার ভালই লাগলো। কেউ ভাবেন আমি কেউ যদি চাকরি দেয় তারজন্য এইসব মানুষদের নিয়ে লিখি। আবার কেউ বলেন এই উদ্যোগ ভালো। জানিনা কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ। মনে হয় আমার কর্মজীবনে তো শুভ্র ছিল আমার আশপাশে। তাই ওর কথা মনে হলো লিখে ফেললাম তাই। আর কোনো উদ্দ্যেশ্য নেই এই সাদা জীবনের কালো কথা লেখায়।

আমাদের সবার প্রিয় লোহা - অভিজিৎ বসু।
সাতাশে নভেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য শুভ্র চট্টোপাধ্যায় এর মোবাইল ফোন থেকে নেওয়া।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

সুসমীর ও আমি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ আমার কলেজের বন্ধু সুসমীর এর কথা। ওর ভালো নাম সমীর ঘোষ। ওর বাড়ী শ্রীরামপুরে। আমার সাথে ওর আলাপ শ্রীরামপুর কলেজে পড়ার সময়। সেটা আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর আগের কথা হবে। আসলে কলেজের বেঞ্চিতে বসে ওর গলার গান শুনে মুগ্ধ হয়েছি আমরা সবাই। ছেলে মেয়ে সবাই ওর গানের ভক্ত হয়ে গেলাম একদিন ওর গান শুনেই। মেয়েরা তো ওর ফ্যান হয়ে গেলো ওর গানের জন্য।  পরে আমাদের কলেজ জীবন শেষ করে আমরা এদিক ওদিক টুকটাক কাগজে লেখার জগতে দুজনেই প্রবেশ করেছি আমরা। একদিন খুব সম্ভবত বর্তমান কাগজে বিজ্ঞানের পাতায় দেখলাম সুসমীর দাস নামে এক জনের লেখা বেরিয়েছে।সেই সময় বিজ্ঞানের পাতা দেখতেন বর্তমানের রূপকুমার বসু। আমার সাথেও পড়ে রূপদার আলাপ হয়েছিল এই লেখার সূত্রেই।  মনে পড়ে প্রতি লেখায় পঞ্চাশ টাকা দিত বর্তমান‌ কাগজ সেই সময়। সমীর তখন বিজ্ঞান নিয়ে লিখছে, আকাশবাণী তে নানা অনুষ্ঠান করছে। এরপর তারা নিউজ ডেস্ক এর কাজে যোগদান করে সে। দীর্ঘ দিন তারা নিউজ এর কাজ করেছে সে। এই হলো সুসমীর এর জীবনের রেখাচিত্র।  কিন্তু আমার সাদা জীবনের এমন এক সাদা মানুষের ...

ভূত চতুর্দশীর সেই রাত

জীবনে আলো নেই, এদিকে ঘরে টুনি লাইট লাগাচ্ছি আর স্টাইল করে ছবি তুলছি। সত্যিই কত বিচিত্র আয়োজন আর বিচিত্র জীবন। ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যার আলোকজ্বল এই অমলিন, ঝাপসা, ম্রিয়মান এই ছবিটা ধরা থাকলো আমার জীবনের টাইমলাইনের ফেসবুকের পাতায় আলতো করে।  ঘরের দুয়ারে বাতি দিয়ে অন্ধকারের রাজ্যে চলে যাওয়া। আর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া আমার আত্মীয়দের পথ দেখালাম আমি। হ্যাঁ, যে পথ ধরে আমাদের ছেড়ে যাওয়া মানুষজন এসেছিলেন তাঁরা সেই মহালয়ার পুণ্য প্রভাতে। তাঁদের তর্পণ করে স্বাগত জানিছিলাম আমরা সবাই। এতদিন ধরে এই উৎসবের আনন্দে আলোকমালায় কেমন ঘুরে বেড়ালেন তাঁরা খুশি মনে। আজকের রাত তাঁদের আবার সেই ফিরে যাওয়ার রাত। যে রাতে ঘুম আসেনা কিছুতেই। যে রাতের অন্ধকারে কত কিছুই যে ঘটে যায়।   যাঁরা এতদিন এই পৃথিবীর টানে, আপনজনদের টানে পৃথিবীর কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই তাঁরাই আজ আমাদের ছেড়ে প্রিয়জনদের সবাইকে ছেড়ে ধীরে ধীরে চলে যাবেন দূরে,অনেক দূরে। আর আমরা তখন ঘরের দুয়ারে, উঠোনে তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালিয়ে সেই তাঁদের যাত্রাপথকে সুগম করবো আলোক সজ্জা দিয়ে। এটাই হলো ভূত চতুর্দশীর সেই আল...

কুণাল ঘোষের বার্তা ও টোটো চালকের কিছু কথা

কুণাল দার সাথে কাজ করিনি আমি কোনোদিন। বাংলা সংবাদের জগতে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত সাংবাদিক আছেন। যাঁদের নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে এই বাংলার মিডিয়ায়। আজ সেই কুণাল ঘোষ সংবাদ প্রতিদিন কাগজ থেকে কনসাল্টিং এডিটর পোস্ট থেকে সরে গেলেন। একদিকে তাঁর বিধায়ক হয়ে যাওয়া সরকার এর বদল হয়ে যাওয়া। আর তাই তিনি প্রতিদিন কাগজের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন তেমন এক বার্তা দিলেন তিনি নিজেই।  কুণাল ঘোষ এর সাথে আমার আলাপ বিশেষ নেই। সেই মহাকরণে করিডর দিয়ে তিনি হেঁটে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের দিকে। তাঁর আগে পিছে সংবাদ মাধ্যমের কাজ করা রিপোর্টারদের ভীড় তাঁকে ঘিরে ভীড় করে আছেন আমিও দূরে আছি দাঁড়িয়ে। সেই বহু বছর আগে হাফ শার্ট পরে বিকেলের দিকে মদন মিত্রের অফিসে আসতেন। ২৪ চৌরঙ্গী রোড এর অফিসে ধর্মতলার কাছে। সান্ধ্য প্রতিদিন কাগজ পকেটে নিয়ে। রণজিৎ থাকতো সেই সময়। সেই সব দিন এর কথা মনে পড়ে যায় আজ আমার। সেই কঠিন বাম আমলে তাঁকে কাজ ছেড়ে চলে যেতে হয়নি একদমই। আর আজ সরকার বদলের সাথে সাথেই দিকে দিকে কাজ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেছে যে চারিদিক জুড়েই এই বাংলার মিডিয়ায়।  ইটিভির কাজের স...

রক্তাক্ত আমি

অর্থহীন, শব্দহীন,জীবনের অপমান বড়ই যন্ত্রণার। জীবনের অনুরণনে অপমানের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, শুনতে শুনতে ধীর পায়ে এগিয়ে চলা। ছিপখান ডিঙ্গি নৌকা বেয়ে নিজের মত করে অন্তরীণ হয়ে ভেসে বেড়ানো, এদিক থেকে ওদিক পানে। শঙ্খচিলের ডানায় তখন, রামধনুর সাত রঙ এর স্বপ্নের ঘুম জড়ানো ভোরের আস্তরণ। শালিকের ভেজা পায়ে, জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দের বাঙময় অব্যক্ত ধাক্কা। যে ধাক্কায় দ্বিখণ্ডিত হয় জীবনের অর্থ, অনর্থ, সৃষ্টি, অনাসৃষ্টি, সুখ, অসুখ,ভালোবাসা, ঘৃণা আরও কত কি।  চোখ খুলে দেখি বদলে গেছে, জীবনের উপল উপত্যকার ঢেউ খেলানো রাস্তার, সোজাসাপ্টা সেই বহু চেনা গলিপথ। যে গলিপথের চেনা রাস্তায় হাঁটতে নেমে রক্তাক্ত হই আমি বার বার। তবু রাতের আঁধার গায়ে মেখে রক্তাক্ত আমি ঘুরে, বেড়াই এদিক থেকে ওদিক। হাতড়ে খুঁজে বেড়াই রামধনুর রং মাখা ভোর। রক্তাক্ত আমি - অভিজিৎ বসু। ষোলো জুন, দু হাজার চব্বিশ।