সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হারিয়ে যাওয়া সন্দীপন দা

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক বাংলা কাগজের অন্তরালে থাকা এক ডিপেন্ডেবল ওপেনার ব্যাটসম্যান এর গল্প। যে বল ধরে খেলে টুক টুক করে ক্রিজে আটকে থেকে ব্যাট করে দলকে ঠিক খুচরো রান পাইয়ে দেয় নিজের হাতের জোরে। যে কোনও হুড়োতাড়া না করেই কেমন করে যেনো দলের মধ্যে অপরিহার্য হয়ে ওঠে সে নিজের কর্মদক্ষতায় আর কর্মকৃতিত্বে। আর তারপর তাকে ছাড়া দল গঠন সম্ভব হয়না আর কিছুতেই। 


কিন্তু এমন নির্ভরযোগ্য একজন ব্যাটসম্যানও একদিন মাঠের বাইরে চলে গিয়েছিল। কাগজের অফিসের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। সে সব তো অনেক পুরোনো দিনের ইতিহাস আর গল্প। সেই উত্তর কলকাতার ভারতকথার অফিস, সেই ১৫ নম্বর লোয়ার রেঞ্জের ওভারল্যাণ্ড এর অফিস এসব তো বাংলা কাগজের দুনিয়ায় কবেই ফসিল হয়ে গেছে আজ। এই সব নানা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে, নানা মাঠের গন্ডি পেরিয়ে আজ সেই ব্যক্তি হাসি মুখে বাংলার ভগবানকে ভয় না পাওয়া কাগজের অন্যতম এক স্তম্ভ বা পিলার। যে পিলার ছাড়া আজ কাগজ অচল। তাই বোধহয় অবসর হলেও সে ছাড়া পায়না কোনোভাবেই। সত্যিই এমন একজন ব্যাটসম্যানকে অবসর দেবে কে।

কবে যে আমার সাথে তাঁর আলাপ হলো কোন সূত্রে কোন ঘটনায় সেটাই আর আজকাল মনে পড়েনা আমার কিছুতেই। আসলে আমার সাদা জীবনের এই কালো কথা তো আমার নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, অনুভূতি, ভাবনা আর সেই সব মানুষকে নিজের চোখে দেখা আর তাদের নিয়ে নানা ভাবনার কথা লেখা। আর বাইরে তো কিছুই নয়। যে লেখা একান্তই আমার ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করা মাত্র। 

এই ব্যক্তিগত জীবনকে দেখে লেখা। যে জীবন আমার কাছে খুব আনন্দের আবার কখনও দুঃখের। যে জীবন কখনও খুব ভালো অনুভূতি দেয় আবার কখনও মন খারাপের বার্তা নিয়ে আসে। হ্যাঁ তিনি হলেন, সেই আমাদের বর্তমানের সন্দীপন বিশ্বাস। লম্বা অমিতাভ এর মত দেখতে না হলেও সুন্দর পেটানো চেহারা। দু চোখের দৃষ্টিতে কেমন যেনো উদাস করা চাওনি। কাঁচা পাকা চুল। মুখে অল্প হাসি। চোখে চশমা পড়া। একটা অন্তর্ভেদী দৃষ্টি আকর্ষণ করে বারবার। 

তবে বেশ কঠিন লড়াই আর সংগ্রাম করে টিকে থাকা এক বাংলা কাগজের অন্তরালে থাকা সাংবাদিক। মাঠে ময়দানের না হলেও অন্তত কাগজের অফিসের ভিতরের অন্যতম একজন কারিগর। যার হাতের ছোঁয়ায় হাতের জাদুতে আমূল বদলে যায় কাগজের প্রথম পাতার লে আউট আর তার ছবি। হ্যাঁ, সেই আমাদের বর্তমানের সন্দীপন দা, সন্দীপন বিশ্বাস। 

 সম্ভবত ইটিভির আগে থাকতেই সেই আলাপ আমাদের জোড়া গির্জার অফিস থেকেই দুজনের। কাঁধে একটা ব্যাগ নিয়ে অফিস চলে আসা তিনটের পরে। কেমন যেনো একটা নির্লিপ্ত হয়েও সব দিকেই কড়া নজরদারি তাঁর। জোড়া গির্জার অফিসে দেখা করতে গেলেই সেই জোর করে ক্যান্টিনে ডেকে চা খেতে নিয়ে যাওয়া। সাদা কাপে গরম চা খেতে বেশ ভালই লাগতো আমার। 

ওভারল্যান্ড এর অফিস থেকে হেঁটে জোড়া গির্জার অফিসে এসে এক কাপ গরম চা আর সঙ্গে বর্তমান কাগজের সেই নিউজপ্রিন্টের গন্ধ। সেই মেসিনের ঘড় ঘড় আওয়াজ।‌ সেই কাঁচের ঘরে অন্য জগতে ঘুরে বেড়ানো সাদা পাজামা পাঞ্জাবী পরে ধীর পায়ে, হাতে কাগজ আর পেন হাতে নিয়ে চশমা পড়া অশোক বোস। সেই ঠাণ্ডায় একটা উইনচিটার পড়ে একটু ঝুঁকে হাঁটা একজন ব্যক্তি পড়ে জানলাম উনি দেবাশীষ দাশগুপ্ত। সেই আকাশবাণীর কৃষ্ণশর্বরী দাশগুপ্তের হাজব্যান্ড। যাঁর সাথে বোলপুরে বহুদিন পর এই কিছুদিন আগে কথা হলো। 

সেই চোখে চশমা পরে দ্রুত পায়ে দরজা ঠেলে বেরিয়ে আসা রোগা চেহারার রূপকুমার বসু। এসেই বলা কি লেখা এনেছিস দে বাবা তাড়াতাড়ি অনেক কাজ আছে। আর সেই টাক মাথার হাসি মুখের নিমাই দা দূরে বসে আছেন কপি নিয়ে। আর এই সবের মাঝে কোনোদিন সৌভাগ্য হলে বাংলা মিডিয়ার বাংলা সংবাদপত্রের ভগবান শ্রী বরুণ সেনগুপ্তর দর্শন মেলা হঠাৎ করেই। 

আর রিসেপশনে সেই কাঁচের ওপারে বসে থাকা সেই অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সুন্দরী মহিলার মিষ্টি গলা। সুন্দর লাল ঠোঁটের হাসি আর ওঁর চোখের মন কেমন করা চাওনি। অপেক্ষা করতে হবে একটু উনি ব্যস্ত আছেন বলেই কালো টেলিফোন রেখে দেওয়া ঘটাং করে। সত্যিই অসাধারণ সেই দিনগুলোর আবছা স্মৃতি আমায় বড়ই অদ্ভুত একটা সুখের অনুভুতি দেয়। সেই জোড়া গির্জার অফিস, সেই ক্যান্টিন, সেই ভিজিটর স্লিপ নিচে রেখে দিয়ে রাস্তায় নেমে ঘাড় ঘুরিয়ে লাল বাড়িকে দুর থেকে একটি বার দেখা। কেমন যেনো একটা ভালোলাগা আর ভালবাসা তৈরি হয়েছিল এই জোড়া গির্জার অফিসকে কেন্দ্র করে আমার সেই কবেই। 

পরে একদিন ইটিভির চাকরী পাবার আগে সন্দীপন দা আমায় বললেন তরুণ কে আমি বলে দেবো কোনো ভয় নেই। বর্তমানের তরুণ কান্তি দাস। যাঁর জন্য আমার ইটিভির কাজটি হলো। তরুনকান্তি দাস বর্তমান ছেড়ে ইটিভিতে গেলেন। শুনলাম একদিন আশীষ ঘোষ আসবেন বর্তমান অফিসে। সন্দীপনদার থেকেই খবর পেলাম। আমি দেখা করতে এলাম যদি একটু আলাপ হলে সুবিধা হয় আমার কাজের। না, সেদিন আর তিনি আসেননি। এইভাবেই ইটিভির চাকরির সময় নানা ভাবেই যে করে হোক কিছুটা সাহায্য করেছেন আমায় সন্দীপন দা নানা ভাবেই। 

আর আজ এই রাতে সেই সব কথাই মনে পড়ে গেলো আমার। কত দিন এর পুরোনো স্মৃতি সেই সব। অবশেষে আমার ইটিভির চাকরি হলো। খুব খুশি হলেন তিনি। বললেন বাহ দারুন রে চালিয়ে যা মন দিয়ে কাজ করে যা তুই। আর কোনো দিকে তাকাস না। সেই শুরু হলো আমার দৌড়। আর কাজের চাপে বর্তমানের অফিস যাওয়া হয়নি বহুকাল। পরে সেই জোড়া গির্জার অফিস চলে গেলো দূরে অনেক দূরে।

হঠাৎ একদিন সকাল বেলায় শ্রীরামপুরে হাজির সন্দীপন দা। সঙ্গে একজন মহিলা। আলাপ করিয়ে দিলেন বললেন আরামবাগ থাকে। স্কুলের শিক্ষিকা খানাকুলের। আমার ইউনিভার্সিটির বান্ধবী। কিছু সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চায় একটু। আমি সব শুনে সোজা চুঁচুড়া চলে গেলাম। আমরা তিনজন তপন দাশগুপ্তের অফিস গেলাম। বললাম আমার নিজের দিদি হয় এই কাজটা করে দাও। তপনদার জবাব কোনো অসুবিধা হবে না আর। কিছুটা সুবিধাও হয়েছিল সেই সময়। 

আর সেই থেকেই আরামবাগ এর দিদির সাথে আমার ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরি হলো। আমি আরামবাগ খবর করতে গেলেই আমি দিদির বাড়ী উঠতাম আর সেই বাড়িতেই থেকে যেতাম। মাঝে মাঝেই সন্দীপন দাও আসতেন আরামবাগে। কত হাসি, গল্প আড্ডা আর মজা হতো সেই সময়। সেই গম্ভীর মুখের গৌতম দা, নিজের দিদি না হলেও সেই দিদি, সেই কলেজ স্ট্রীট এর মেজদি, রিমা, দিশা তখন খুবই ছোট, আর সিমি পড়তে এসেছে মাসীর বাড়ী। মেজদির একমাত্র মেয়ে।

সত্যিই আরামবাগ এর সেই দু হাজার সালের বন্যা, মুন্ডেশ্বরীর জলে ভেসে যাওয়া গ্রাম আর শহর। নানা ছবি আর খবর করে সারাদিন পর না খেয়ে দিদির বাড়ি ফিরে আসা ধুঁকতে ধুঁকতে। সারাদিন পর খেতে পাওয়া দিদির কাছে। নিরামিষ রান্না করে দিত আমায় দিদি। রক্তের সম্পর্ক না হলেও কেমন যেন একটা অমলিন সম্পর্ক হয়ে গেলো আমাদের এই সন্দীপনদার জন্য। বড়ই ভালো ছিল সেই পুরোনো দিনগুলো। যে দিদির গল্প, গৌতমদার সোমাকে ডেকে ভালো চাকরি দেবার গল্প অন্য কোনোদিন বলবো। গৌতমদার চাকরি পেয়েই তো আমরা ফ্ল্যাট কিনতে পারলাম তার লোন শোধ করতে পারলাম। আজ গৌতমদা খুব অসুস্থ শুনি। তবু এই সব মানুষের কথা যে রাতের আঁধারে মনে পড়ে যায় আমার একা একাই। 

 বিয়ের সময় দিদি, সন্দীপন দা, মেজদি সবাই এলেন শ্রীরামপুরে। বিয়ের পরে সন্দীপনদার বাগুইআটির বাড়িতে সেই লাল মেঝেতে বিয়ের পর বসে খেয়ে এলাম বৌদির হাতে ডাল ভাত আর বেগুনি একদম কঠোর নিয়মে নিরামিষ রান্না। বেশ কড়া শাসনের মানুষ সন্দীপনদার বউ। সেই সময় সন্দীপনদার ছেলেও‌ বেশ ছোটো। এইভাবেই এগিয়ে চলেছে আমাদের সম্পর্ক। আসলে জীবন তো এমন করেই এগিয়ে চলে। 

সেই পাণ্ডুয়ার ঘোষ বাড়িতে পূজোর কভার করতে যাওয়া। ছোটমা বড়মার পূজো বোধহয়। সেই পুরোনো দিনের বাড়ী, পুরোনো পূজো। ছবি করা হলো দেখানো হলো টিভিতে। খুশি হলেন ওরা। আর হুগলী জেলায় বর্তমানের কাগজের সাংবাদিক এর সাথে একটা গভীর সম্পর্ক তৈরী হয়ে যেতো আমার। এইভাবেই কেটে গেছে আমাদের জীবন। যোগাযোগ না হলেও সম্পর্কের অবনতি হয়নি কোনোদিন।

বহুদিন পর একদিন নতুন বর্তমানের অফিসে ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে ইন্টারভিউ বোর্ডে দেখলাম বহুজনের মাঝে বসে আছেন সন্দীপন দা। দেখে বেশ ভালো লাগলো আমার। টিভি চ্যানেলে কাজ করা সাংবাদিক কাগজে কাজ করতে পারবো না তেমন একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন বোর্ডের জুরি সদস্যরা। আর এতে বিশেষ করে অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেন একজন বিখ্যাত সাংবাদিক যাঁর দুই ভাই টিভি চ্যানেলে কর্মরত। যাক গে পরে আর এই প্রসঙ্গে আমি কিছুই আর জিজ্ঞাসা করিনি সন্দীপন দাকে। 

আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় মনে হলো আমার এই মানুষটা তো আমার দীর্ঘ সাংবাদিক জীবন জুড়েই ছিল একটা সময়। তাই আমি সেই মানুষটাকে ভুলে যাই কি করে। আজ আমি আর মিডিয়াতে নেই। সন্দীপনদা আজও কেমন করে যেনো টিকে আছেন। সত্যিই অসাধারণ এই টিকে থাকার চেষ্টা করে নিজেকে টিকিয়ে রাখা। 

যা উনি এই বয়সেও পারছেন সেটাই আমি পারছি না। বারবার ছিটকে যাচ্ছি মাঠ থেকে। আর উনি ধীরে ধীরে কপিবুক স্টাইলে ব্যাট করে খুচরো রান নিয়ে ক্রিজে টিকে আছেন। শুনলাম ছেলে বড় হয়ে গেছে অনেক। চাকরি করে হয়তো, বিয়েও হয়ে গেছে। বৌদির সাথে যে কতদিন কথা হয়নি আমার টেলিফোনে। সেই বৌদির ধমক শুনিনি কতদিন আমি। জোর করে ভাত দিয়ে বলা এই ভাত খেয়ে তবে উঠবে তুমি অভিজিৎ। সত্যিই আজ খুব মিস করি আমি সন্দীপন দা এই ফেলে আসা দিনগুলোকে। তুমি কি মিস করো এই দিনগুলো। হয়তো কাজের চাপে তোমার আর ফেলে আসা দিনের কথা মনেই পড়ে না আর। ভালো থেকো দাদা তুমি। আমার আঁকিবুঁকি ব্লগে দাগ কেটে রেখে দিলাম সেই সব দিনের কিছু কথা। 

হারিয়ে যাওয়া সন্দীপন দা - অভিজিৎ বসু।
উনিশ ডিসেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...