সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আলুর দাম বৃদ্ধিতে রাস্তায় মন্ত্রী বেচারাম মান্না

শীত পড়লেই মাঠে আলু ওঠার সময় হয়ে যায়। সেই ছোটো ছোট নতুন আলুর আলুর দম আর মুড়ি‌ বেশ ভালো খাওয়া। আর অন্যদিকে বড়ো বড়ো নতুন আলুর সেই কষা ঝাল ঝাল শুধু আলুর দম এর ফিস্ট হওয়া। সেই সন্ধ্যা থেকেই শ্রীরামপুরে মামার বাড়ির পাশের এঁদোপুকুরের পাশে সেই জাম্বুল গাছের নিচে এই ডিসেম্বর মাসেই ফিস্ট হতো। কাঠের জ্বাল এর রান্না। সেই পাড়ার বড়োরা কানু মামা, ভোদা মামা, ভিজে মামারা থাকতেন। জানিনা আজ হয়তো কানু মামা বেঁচে নেই আর। সেদিন লাহিড়ী পাড়ায় সমীরদের বাড়ী যাওয়ার সময় দেখলাম কানু মামার ছেলে দেবাশীষকে দেখলাম, গম ভাঙ্গানোর মেসিন চালাচ্ছে ও। ওকেই প্রাইভেট টিউশনি পড়াতাম আমি। 


বড়ো রান্নার কড়াইতে রান্না হচ্ছে জোর কদমে। তার সুন্দর গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। রাতের অন্ধকারে সেই শিশির পড়ে ভিজে যাওয়া জাম্বুল গাছের পাতায় লেগে যাচ্ছে ঝাল ঝাল আলুর দমের মন ভালো করা গন্ধ। এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়ছে সেই গন্ধ।
আর বড়রা কোমরে হাত দিয়ে সবাই তদারকি করতে ব্যস্ত। আর আমরা যারা ছোটো সেই সময় তখন শাল পাতা জোগাড় করে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছি। যদি একটু টেস্ট করা যায়, একটুকরো গরম আলু পাওয়া যায় এই আশায়। কপাল ভালো থাকলে গরম ধোঁয়া ওঠা আলুর একটা টুকরো আর একটু গরম লাল ঝোল মিলে যেতো আমাদের ছোটদের। 

ছোটো হাতে শাল পাতা ধরে কেমন গরম ধোঁয়া বের হওয়া দেখতাম একমনে আমরা অপলক নয়নে। দূরে রান্নার টগবগ আওয়াজ আর মন মাতানো গন্ধ ছড়াচ্ছে চারিদিকে। আর আমরা সেই শুধু আলুর দম এর গন্ধ মেখে আনন্দে বুঁদ হয়ে যেতাম। তখন বোধহয় এত সমাজে বড়লোক আর গরীব লোক এর মতো আলুর সংসারেও ভাগাভাগি হয়নি। সেই জ্যোতি আর চন্দ্রমুখীর মত। 

একটাই আলু সেই হাটে মাঠে ঘাটে বাজারে দেখা যেতো সেই জ্যোতি আলু। যে আলুর ঘরে ঘরে তার কদর ছিল বেশ সেই সময়। এক দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে চল্লিশ বা পঁয়তাল্লিশ টাকার চন্দ্রমুখী আলু কেনা বাবুর ব্যাগে একটা একটা করে আলু বেছে দিয়ে আলু ওলার মুখে কেমন একটা স্মিত গর্বের হাসি। ভাবটা এমন উনি যেন অন্য গ্রহ থেকে আলু কিনতে এসেছেন। 

আর আমার মত ছাপোষা একজন রোজগারহীন কর্মহীন মানুষ যারা যমালয়ে জীবন্ত মানুষের মতো বেঁচে আছে। কম দামের সস্তার জিনিস কিনে যাঁরা দিনাতিপাত করেন বেশ কষ্টে। করুন আর বেজার মুখে বাজার বিক্রেতারা তাদের ব্যাগে পঁয়ত্রিশ টাকার বিনিময়ে এক কেজি আলু বিক্রি করছে বিরস বদনে। পাঁচ কেজি আলু কিনতে গেলে কড়কড়ে দুশো টাকার বিনিময়ে মাত্র পঁচিশ টাকা ফেরত মিলছে আলু বিক্রেতার কাছ থেকে। সারা সপ্তাহের আলু কিনতেই যদি দুশো টাকা চলে যায় তাহলে আর বাজারে আনাজ সবজি কিনব কি করে। মাথায় হাত পড়েছে সাধারণ ক্রেতার। এমনকি যাঁরা জ্যোতি আলু কি সেটা নজর করেন না বাজারে এসে তাঁরাও বলতে শুরু করেছেন হচ্ছেটা কি। 

আসলে আলুর দাম বৃদ্ধি নিয়ে বছরভর এই এক নাটক প্রতিবার হয়ে আসছে। আলুর দাম চল্লিশ এর ঘর পেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে আমাদের বুঝিয়ে দেয় যে তারা যতই মাটির নিচে তৈরি হওয়া একটি শ্বেতসার সমৃদ্ধ ভূনিম্নস্থ পরিবর্তিত কাণ্ড হোক সেটি কিন্তু আমাদের একমাত্র জীবন। ঠিক যেনো আলু ছাড়া জীবন যেনো আলুনি লাগে আমাদের। তাই এই আলুর দামকে বেঁধে রাখার নিরন্তর প্রয়াস সরকার এর। আর আমাদের জ্বর হলে ডাক্তারবাবুর যেমন এন্টিবায়োটিক দিয়ে জ্বর কমানোর চেষ্টা করেন। আর সরকার প্রতিবছর সেটাই করে আলুর দামকে বেঁধে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু কিছুতেই বাগে আনতে পারে না সরকার। থার্মোমিটার এর পারা মতো সে দ্রুত ঊর্ধ্বগামী। 

আর তাই সেই চাষী ঘরের ছেলে, মাটির গন্ধ যাঁর গায়ে এখনও লেগে আছে। সেই হুগলীর সিঙ্গুরের রতন পুরের আলুর আড়ত এর পাশেই যাঁর বাড়ী। সেই সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের সময় যাঁর হাত ধরে সিঙ্গুর কৃষিজমি রক্ষা কমিটি তৈরি হয়। যে কৃষিজমি রক্ষা কমিটি চাষের জমিকে শিল্পের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে একটা অনন্য নজির স্থাপন করে। যার ফলশ্রুতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সিঙ্গুরের কৃষি জমি বাঁচাও আন্দোলন সারা দেশ জুড়ে হৈ হুল্লোড় ফেলে দেয়।

 সেই বিখ্যাত সিঙ্গুর কৃষি জমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্নাকে দেখলাম রাতের অন্ধকারে তিনি রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে আছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে রাস্তার ওপর। সেখানে পুলিশ সহ দাঁড়িয়ে আছেন মন্ত্রী বেচারাম মান্না স্বয়ং। উদ্যেশ্য একটাই যে করে হোক আলুর লরিকে ভিন রাজ্যে যেতে দেওয়া হবে না। সে বিহার হোক, উড়িষ্যা হোক, কিম্বা অন্য যে কোনো রাজ্যে। আলু বাংলা থেকে রাতের অন্ধকারে পার হয়ে যাবে না কিছুতেই। আগে বাংলার মানুষ ঠিক দামে আলু পাবে তারপর না হয় একটু ভিন্ন চিন্তা করা যাবে। 

এই হুগলী জেলা আলুর জন্য বিখ্যাত। এরপর আছে বর্ধমান, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, বেশ কিছু জেলা যেখানে আলুর ফলন হয় বেশ বেশি পরিমাণে হয়। যে আলু রাজ্যে উৎপাদিত হয় প্রচুর। সেখানে কেনো যে রাতের অন্ধকারে আচমকা মন্ত্রীকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে পাহারা দিতে হয় কে জানে। হয়ত এটা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ। তাই তিনি নিজেই রাস্তায় নেমে পড়েছেন মন্ত্রী স্বয়ং। কিছুটা পরিস্থিতিকে নিজেদের বাগে আনার জন্য এমন কাজ করছেন রাতে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাতে কিছুতেই না যায় সেদিকেও তাঁর কড়া দৃষ্টি রেখেছেন। যে দৃষ্টি দিয়ে তিনি রাতের বেলাতে আলুর বেআইনি লরিকে ধরতে চাইছেন। 

এইভাবেই তো টাটার ন্যানো প্রকল্পের জন্য ঘেরা জমিকে রাতের বেলায়, দিনের বেলায় কড়া নজরদারি করে আন্দোলন শুরু করেছিলেন তিনি। যাতে কোনও ভাবেই হাতছাড়া না হয় চাষের জমির। আর আজ সেই জমি অন্দোলন করা বিখ্যাত নেতা বর্তমানের মন্ত্রী বেচারাম মান্না আজ আলুর দাম বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন হয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছেন। দেখা যাক মন্ত্রী রাস্তায় নেমে পড়ায় কতটা কাজ হয়। বাজারে গিয়ে তার কতটা সুফল পায় ক্রেতারা। সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও বুঝতে পারে কি না যে আলুর বাম্পার ফলন হলেও এই লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বৃদ্ধি তাহলে কেনো। 

তাহলে কি সবটাই একটা নিয়ম অনুযায়ী ঘটে যাওয়া ঘটনা মাত্র। লোক দেখানো নিয়ম অনুযায়ী সব কিছু ঘটে যায়। প্রতি বছর আলুর দাম ওঠে, আবার দাম নামে। চাষী, ফড়ে, হিমঘর মালিক, আড়তদার, আলু বাছাই করে যারা তারা, যাঁরা মাঠে খেটে চাষ করে তারা সবাই তো এই আলুর দাম এর মাধ্যমে নির্ভর করে তাদের জীবন। ভোট এর বছরে শোনা যায় বাজার তো এই বছর চড়া মূল্য হবেই। যতই সে মাটির নিচের ফসল হোক। তবু কেনো যে এই আলুকে কিছুতেই ফি বছর তার দামকে বেঁধে রাখা যায়না কে জানে। 

সে মাটির নিচের ফসল সাত থেকে দশ হাজার বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ অঞ্চলে প্রথম চাষ করা হয় বলে জানা যায়। পরে এই আলুকে ১৬শ‌ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে স্পেনীয়রা আমেরিকা থেকে ইউরোপে নিয়ে আসে চাষ শুরু করে। ভুট্টা, গম, ধানের পর আলু বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম খাদ্য শস্য। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে প্রায় ৫০০০ টি প্রজাতির আলুর জাত দেখা যায়।

বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫,০০০ আলুর জাত রয়েছে। তাদের মধ্যে তিন হাজার শুধুমাত্র আন্দিজ অঞ্চলে পাওয়া যায়, প্রধানত পেরু, বলিভিয়া, ইকুয়েডর, চিলি এবং কলম্বিয়াতে। শ্রেণিবিন্যাসগত গোষ্ঠীর উপর নির্ভর করে তারা আট বা নয়টি প্রজাতির অন্তর্গত। ৫,০০০টি চাষ করা জাত ছাড়াও, প্রায় ২০০টি বন্য প্রজাতি এবং উপ-প্রজাতি রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলিই চাষ করা জাতের সাথে আন্তঃ-প্রজনন করানো যেতে পারে। বন্য প্রজাতির জিন পুল থেকে চাষকৃত আলু প্রজাতির জিন পুলে নির্দিষ্ট কীটপতঙ্গ এবং রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা স্থানান্তর করার জন্য বারবার আন্তঃ-প্রজনন করা হয়েছে।


 ইংরেজি শব্দ potato এসেছে স্পেনীয় patata (স্পেনে ব্যবহৃত নাম) থেকে। "আলু" এর জন্য একটি শব্দ ব্যবহার করার জন্য পরিচিত যা মোটামুটিভাবে ইংরেজিতে "আর্থ অ্যাপেল" বা "গ্রাউন্ড অ্যাপল" হিসাবে অনুবাদ করা যায়। বাংলা ভাষায় "আলু" শব্দের উৎপত্তি বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ঐতিহাসিক বিবরণ পাওয়া যায় না। তবে ধারণা করা হয় যে আলু চাষের প্রাথমিক সময়ে পেরুর আন্দীয় সভ্যতায় চাষের জমিকে আলু বলা হতো এবং সেখান থেকেই বাংলায় আলু শব্দটি এসেছে। সাধারণত লাল আলু, হলুদ আলু, সাদা আলু আর বেগুনি আলুর সন্ধান পাই আমরা। 

শুধু তাই নয় ভ্যান গগের তুলিতে এই আলুকে নিয়ে ছবি এঁকেছেন তিনি। ১৮৮৫ সালের চিত্রকর্ম দ্য পটেটো ইটারস একটি পরিবারের আলু খাওয়ার দৃশ্যকে চিত্রিত করেছে। ভ্যান গগ বলেছিলেন যে তিনি কৃষকদের তারা যেমন ছিল তেমন চিত্রিত করতে চেয়েছিলেন। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মোটা এবং কুৎসিত মডেলদের বেছে নিয়েছিলেন, এই ভেবে যে তারা তার সমাপ্ত কাজে স্বাভাবিক এবং অস্পষ্ট হবে। 
আর যে আলুর এই সুদীর্ঘ হাজার হাজার বছরের ইতিহাস। যাকে ছাড়া আমরা বাঁচতেই পারিনা। সেই আলু আজ কেমন করে যেন দুর্মূল্য হয়ে যাচ্ছে দিনদিন। তাকে আটকাতে তাই পথে নেমেছেন রাজ্যের মন্ত্রী। তবে এতসব ঘটনার মাঝে আমার সেই আলুর দম এর পিকনিক এর কথা মনে পড়ে যায়। যেখানে আমরা সবাই বেশ কত ভালোভাবেই তো মাটির নিচের এই ফসলকে পেতাম। তাহলে আজ কেনো যে এত টানাটানি কে জানে। সব হয়তো রাজনীতির মারপ্যাঁচ আর কিছুটা হলেও কৃত্রিম উপায়ে দাম বৃদ্ধি করে বাজারে চাহিদার বৃদ্ধি করা। যা হলে লাভ বিক্রেতার, আড়তদারের, কিছুটা চাষীদের। ক্ষতি শুধু আমার আপনার মতো সাধারণ মানুষের ক্রেতাদের। তারা যে সত্যিই বড়ো ভালো নেই। 

আলুর দাম বৃদ্ধিতে রাস্তায় মন্ত্রী বেচারাম মান্না - অভিজিৎ বসু।
চৌঠা ডিসেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক বেচারাম মান্না।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বেহাল খাতা ও আমি

রতনপল্লীর ফলপট্টির আড্ডায় আমায় নিয়ে গিয়েছিলেন মধুদা অনেক দিন আগেই এক সন্ধ্যায়। ধীরে ধীরেই মধুদার স্মৃতি ক্রমেই ঝাপসা হচ্ছে যেনো তবুও হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিও তো ঝাপটা মারে যে কোনোও সময় বৃষ্টি ভেজা পালাবদলের সন্ধ্যায়। তবু এতদিন পরেও কেমন করে যে সেই এই আড্ডার টেবিলে পড়ে এক কোণে পড়ে থাকা থাকা বেহাল খাতা, বেহাল টেবিল আর আমার বেহাল জীবন আর এই বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যা সব যে মিলেমিশে একাকার হলো আমার। কে জানে সেই থপ থপ করে রাস্তা পার হওয়া সেই বুড়ো ব্যাঙের মতোই তো আমার এই বুড়ো বয়সের জীবন। আমার এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস সাদা জীবনের কালো কথার বেহিসেবী টোটো চালকের জীবন নিয়ে হাজির হলাম আমি বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় এই বেহাল খাতার সামনে আজ। হাজির হলাম আকাশ দেখার নেশায় সেই বুঁদ হয়ে থাকা জীবন কাটিয়ে দেওয়া সেই নিখিলেশদার ডাকে। যিনি মাটিতে পায়ে হেঁটে সাইকেল চালিয়ে দিব্যি এই বয়সেও আকাশ দেখার নেশায় আচ্ছন্ন হন বারবার। কত যে বেহাল জীবন আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ায় এমন। আসলে কে আর কাকে ডাকে এই বুড়ো বয়সে ডাকে বলুন তো আজকাল। আর আমার যে ডাক পড়েনা কোথাও কোনোও জায়গায় সব জায়গায় আমি যে বা...

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

বদলে যাওয়ার তালিকায় সবাই

ভেবেছিলাম আট থেকে আশির এই নিজেকে বদলে নেওয়ার দলে ও নাম লেখাবে না একদম কিছুতেই। গুরুগম্ভীর আর সেই অর্থপূর্ণ ভাব বিনিময় করে বেঁচে থাকা আর উচ্চপদে কর্মরত এই ব্যক্তি কী আর নিজেকে খোলস ছেড়ে বদলে নেবে হঠাৎ করেই। কেমন দেখতে লাগে এই নতুন চেহারায় ,সেটা দেখার বাসনা হবে তাঁর। কিন্তু না আমি দেখলাম এই বদলে নেওয়ার আর নিজেকে একটু উল্টেপাল্টে দেখে নেবার লোভ বড়ো ছোঁয়াচে। ঠিক বসন্তের বাতাসে উড়ে বেড়ানো পলাশের শুকনো হাসির মতই।   জানি আমায় কেউ কেউ বলবেন আবার ওকে নিয়ে লেখা। এই লেখা কত নম্বর ভাই। এই ছবি দেখে আর লেখার কি দরকার বাবা তোমার। তিনকাল গিয়ে এককাল ঠেকেছে তোমার। ওকে তেল দিয়ে আর লাভ নেই,চাকরির আশা নেই আর কোনোও তোমার। যেমন আছো তুমি তেমনি থাকো বাবা এই টোটো চালকের বেশ ধরে ঘুরে বেড়িয়ে এই এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস জীবন নিয়ে। আর কতবার এই মুর্শিদাবাদের ভেঙে পড়া সাম্রাজ্যের এক ব্যক্তিকে নিয়ে বার বার লিখবে আর তাঁকে প্রজেক্ট করবে তুমি এইবার তো থামো বাবা। একটু এই শেষ বেলায় হিসেব করে মেপে পা ফেলো মাঠে। না হলে যে গর্তে পড়ে বেঘোরে হাত পা ভাঙবে তোমার। আমি মনে মনে এই সব শুনে অস্ফুটে ...

বসন্তের মল্লিকা

মন কেমন করা ভোরে ঘুম জড়ানো চোখে, তোমার মুখে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে লেগে আছে মল্লিকার  প্রস্ফুটিত রূপ। তোমার পুরু ওষ্ঠের কালো তিলের হাতছানি এড়াতে প্রাণপনে লড়াই করি আমি দিন ভোর। ঠিক যেমন করে কাক-কোকিলের লড়াই বাঁধে নিম গাছের মাথায় দুপুর বেলায়। যে মুখের মায়ায় আমি লুটায়ে পড়ি বার বার তোমার মল্লিকা বনে। হাজার বছর বছর ধরে অপেক্ষা করি আমি শুধু তোমারই জন্য। যে অপেক্ষার দিন, রাত, ঘন্টা, প্রহর গুনি আমি  সব সময়। রাতের অন্ধকারে মাথার ওপর ব্যবিলনের ঘড়ির ঘড় ঘড়ে আওয়াজ। দুলকি চালে চলা সিলিং ফ্যানের মাথা দুলিয়ে ঘুরে যাওয়া। হালকা হাওয়ায় উড়ে যায় পাখির পালক, উড়ে যায় বসন্তের প্রলাপ বকা বিধুর আঁধার মাখা মন। যে মনের মণিকোঠায় আজও অমলিন সেই মায়াময় হাসি, সেই কালো তিলের স্পর্শ। সেই ভেজা ঠোঁটের মন কেমন করা কুহু কুহু ডাক। আমি চুপটি করে বসে থাকি একা রাতের অন্ধকারে জানলার গারদ ধরে। গারদের ঠাণ্ডা লোহার রডে চিবুক ঠেকিয়ে বসে থাকি শুধু তোমারই জন্য। ঠাণ্ডা হাওয়ায় এলোমেলো হয়ে যায় বসন্তের প্রলাপ বকা ভোর।  যে ভোর বেলায় মল্লিকার গন্ধে মাতাল হয় আমার সারা শরীর, মন। বসন্তের মল্...

ভূত ধরার অভিযান ও রাজনীতি

ভূতের ভবিষ্যৎ এর পর এখন ভোটের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় আছে শাসক দল তৃণমূল। যদিও এতে আমার মনে হয় ভূতেরাও বেশ বিরক্ত হয়ে পড়েছে একটু। বেশ সুখেই দিন কাটছিল তাঁদের হঠাৎ করেই কেনো যে এই ভূত ধরার অভিযান শুরু হলো রাজ্যে জুড়ে কে জানে। তবে না দিদির নির্দেশ বলে কথা। ভূত ধরতে তাই সকলের নেমে পড়া মাঠে ময়দানে। দলের ছোটো , বড়ো, মেজো, সেজো, এমনকি কোলের বাচ্চারও জরুরী ভিত্তিতে ভূত ধরার অভিযানে অংশ গ্রহণ করা।  জেলায় জেলায় এখন ভূত ধরার কাজ চলছে জোর কদমে। তবে শুধু ভূত ধরলেই হবে না কত ভূত ধরা হলো। কেমন ধরনের ভূত ধরা হলো তার হিসেব পেশ করতে হবে সপ্তাহে সপ্তাহে দলীয় কার্যালয়ে। মামদো না শাকচুন্নি তারা। শুধু হিসেব পেশ করলেই হবে না ভূত ধরার কাজে সত্যিই পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায়, জেলায় জেলায়, লোক রাস্তায় সব বাড়িতে বাড়িতে গেছে কি না তার ছবিও প্রকাশ করতে হবে। সেই ছবি আপলোড করে জানাতে হবে, হ্যাঁ ভূত ধরার অভিযানে তাঁরা সামিল হয়েছেন সত্যিই সত্যিই। কেউ ফাঁকি মারেনি একদম কাজে। কেউ কাজ না করে ঘরে বসে থাকলেই সে কিন্তু বাদ পড়ে যাবে। একদম কড়া নির্দেশ দলের নেত্রীর।  ক...