সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আলুর দাম বৃদ্ধিতে রাস্তায় মন্ত্রী বেচারাম মান্না

শীত পড়লেই মাঠে আলু ওঠার সময় হয়ে যায়। সেই ছোটো ছোট নতুন আলুর আলুর দম আর মুড়ি‌ বেশ ভালো খাওয়া। আর অন্যদিকে বড়ো বড়ো নতুন আলুর সেই কষা ঝাল ঝাল শুধু আলুর দম এর ফিস্ট হওয়া। সেই সন্ধ্যা থেকেই শ্রীরামপুরে মামার বাড়ির পাশের এঁদোপুকুরের পাশে সেই জাম্বুল গাছের নিচে এই ডিসেম্বর মাসেই ফিস্ট হতো। কাঠের জ্বাল এর রান্না। সেই পাড়ার বড়োরা কানু মামা, ভোদা মামা, ভিজে মামারা থাকতেন। জানিনা আজ হয়তো কানু মামা বেঁচে নেই আর। সেদিন লাহিড়ী পাড়ায় সমীরদের বাড়ী যাওয়ার সময় দেখলাম কানু মামার ছেলে দেবাশীষকে দেখলাম, গম ভাঙ্গানোর মেসিন চালাচ্ছে ও। ওকেই প্রাইভেট টিউশনি পড়াতাম আমি। 


বড়ো রান্নার কড়াইতে রান্না হচ্ছে জোর কদমে। তার সুন্দর গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। রাতের অন্ধকারে সেই শিশির পড়ে ভিজে যাওয়া জাম্বুল গাছের পাতায় লেগে যাচ্ছে ঝাল ঝাল আলুর দমের মন ভালো করা গন্ধ। এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়ছে সেই গন্ধ।
আর বড়রা কোমরে হাত দিয়ে সবাই তদারকি করতে ব্যস্ত। আর আমরা যারা ছোটো সেই সময় তখন শাল পাতা জোগাড় করে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছি। যদি একটু টেস্ট করা যায়, একটুকরো গরম আলু পাওয়া যায় এই আশায়। কপাল ভালো থাকলে গরম ধোঁয়া ওঠা আলুর একটা টুকরো আর একটু গরম লাল ঝোল মিলে যেতো আমাদের ছোটদের। 

ছোটো হাতে শাল পাতা ধরে কেমন গরম ধোঁয়া বের হওয়া দেখতাম একমনে আমরা অপলক নয়নে। দূরে রান্নার টগবগ আওয়াজ আর মন মাতানো গন্ধ ছড়াচ্ছে চারিদিকে। আর আমরা সেই শুধু আলুর দম এর গন্ধ মেখে আনন্দে বুঁদ হয়ে যেতাম। তখন বোধহয় এত সমাজে বড়লোক আর গরীব লোক এর মতো আলুর সংসারেও ভাগাভাগি হয়নি। সেই জ্যোতি আর চন্দ্রমুখীর মত। 

একটাই আলু সেই হাটে মাঠে ঘাটে বাজারে দেখা যেতো সেই জ্যোতি আলু। যে আলুর ঘরে ঘরে তার কদর ছিল বেশ সেই সময়। এক দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে চল্লিশ বা পঁয়তাল্লিশ টাকার চন্দ্রমুখী আলু কেনা বাবুর ব্যাগে একটা একটা করে আলু বেছে দিয়ে আলু ওলার মুখে কেমন একটা স্মিত গর্বের হাসি। ভাবটা এমন উনি যেন অন্য গ্রহ থেকে আলু কিনতে এসেছেন। 

আর আমার মত ছাপোষা একজন রোজগারহীন কর্মহীন মানুষ যারা যমালয়ে জীবন্ত মানুষের মতো বেঁচে আছে। কম দামের সস্তার জিনিস কিনে যাঁরা দিনাতিপাত করেন বেশ কষ্টে। করুন আর বেজার মুখে বাজার বিক্রেতারা তাদের ব্যাগে পঁয়ত্রিশ টাকার বিনিময়ে এক কেজি আলু বিক্রি করছে বিরস বদনে। পাঁচ কেজি আলু কিনতে গেলে কড়কড়ে দুশো টাকার বিনিময়ে মাত্র পঁচিশ টাকা ফেরত মিলছে আলু বিক্রেতার কাছ থেকে। সারা সপ্তাহের আলু কিনতেই যদি দুশো টাকা চলে যায় তাহলে আর বাজারে আনাজ সবজি কিনব কি করে। মাথায় হাত পড়েছে সাধারণ ক্রেতার। এমনকি যাঁরা জ্যোতি আলু কি সেটা নজর করেন না বাজারে এসে তাঁরাও বলতে শুরু করেছেন হচ্ছেটা কি। 

আসলে আলুর দাম বৃদ্ধি নিয়ে বছরভর এই এক নাটক প্রতিবার হয়ে আসছে। আলুর দাম চল্লিশ এর ঘর পেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে আমাদের বুঝিয়ে দেয় যে তারা যতই মাটির নিচে তৈরি হওয়া একটি শ্বেতসার সমৃদ্ধ ভূনিম্নস্থ পরিবর্তিত কাণ্ড হোক সেটি কিন্তু আমাদের একমাত্র জীবন। ঠিক যেনো আলু ছাড়া জীবন যেনো আলুনি লাগে আমাদের। তাই এই আলুর দামকে বেঁধে রাখার নিরন্তর প্রয়াস সরকার এর। আর আমাদের জ্বর হলে ডাক্তারবাবুর যেমন এন্টিবায়োটিক দিয়ে জ্বর কমানোর চেষ্টা করেন। আর সরকার প্রতিবছর সেটাই করে আলুর দামকে বেঁধে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু কিছুতেই বাগে আনতে পারে না সরকার। থার্মোমিটার এর পারা মতো সে দ্রুত ঊর্ধ্বগামী। 

আর তাই সেই চাষী ঘরের ছেলে, মাটির গন্ধ যাঁর গায়ে এখনও লেগে আছে। সেই হুগলীর সিঙ্গুরের রতন পুরের আলুর আড়ত এর পাশেই যাঁর বাড়ী। সেই সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের সময় যাঁর হাত ধরে সিঙ্গুর কৃষিজমি রক্ষা কমিটি তৈরি হয়। যে কৃষিজমি রক্ষা কমিটি চাষের জমিকে শিল্পের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে একটা অনন্য নজির স্থাপন করে। যার ফলশ্রুতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সিঙ্গুরের কৃষি জমি বাঁচাও আন্দোলন সারা দেশ জুড়ে হৈ হুল্লোড় ফেলে দেয়।

 সেই বিখ্যাত সিঙ্গুর কৃষি জমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্নাকে দেখলাম রাতের অন্ধকারে তিনি রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে আছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে রাস্তার ওপর। সেখানে পুলিশ সহ দাঁড়িয়ে আছেন মন্ত্রী বেচারাম মান্না স্বয়ং। উদ্যেশ্য একটাই যে করে হোক আলুর লরিকে ভিন রাজ্যে যেতে দেওয়া হবে না। সে বিহার হোক, উড়িষ্যা হোক, কিম্বা অন্য যে কোনো রাজ্যে। আলু বাংলা থেকে রাতের অন্ধকারে পার হয়ে যাবে না কিছুতেই। আগে বাংলার মানুষ ঠিক দামে আলু পাবে তারপর না হয় একটু ভিন্ন চিন্তা করা যাবে। 

এই হুগলী জেলা আলুর জন্য বিখ্যাত। এরপর আছে বর্ধমান, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, বেশ কিছু জেলা যেখানে আলুর ফলন হয় বেশ বেশি পরিমাণে হয়। যে আলু রাজ্যে উৎপাদিত হয় প্রচুর। সেখানে কেনো যে রাতের অন্ধকারে আচমকা মন্ত্রীকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে পাহারা দিতে হয় কে জানে। হয়ত এটা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ। তাই তিনি নিজেই রাস্তায় নেমে পড়েছেন মন্ত্রী স্বয়ং। কিছুটা পরিস্থিতিকে নিজেদের বাগে আনার জন্য এমন কাজ করছেন রাতে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাতে কিছুতেই না যায় সেদিকেও তাঁর কড়া দৃষ্টি রেখেছেন। যে দৃষ্টি দিয়ে তিনি রাতের বেলাতে আলুর বেআইনি লরিকে ধরতে চাইছেন। 

এইভাবেই তো টাটার ন্যানো প্রকল্পের জন্য ঘেরা জমিকে রাতের বেলায়, দিনের বেলায় কড়া নজরদারি করে আন্দোলন শুরু করেছিলেন তিনি। যাতে কোনও ভাবেই হাতছাড়া না হয় চাষের জমির। আর আজ সেই জমি অন্দোলন করা বিখ্যাত নেতা বর্তমানের মন্ত্রী বেচারাম মান্না আজ আলুর দাম বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন হয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছেন। দেখা যাক মন্ত্রী রাস্তায় নেমে পড়ায় কতটা কাজ হয়। বাজারে গিয়ে তার কতটা সুফল পায় ক্রেতারা। সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও বুঝতে পারে কি না যে আলুর বাম্পার ফলন হলেও এই লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বৃদ্ধি তাহলে কেনো। 

তাহলে কি সবটাই একটা নিয়ম অনুযায়ী ঘটে যাওয়া ঘটনা মাত্র। লোক দেখানো নিয়ম অনুযায়ী সব কিছু ঘটে যায়। প্রতি বছর আলুর দাম ওঠে, আবার দাম নামে। চাষী, ফড়ে, হিমঘর মালিক, আড়তদার, আলু বাছাই করে যারা তারা, যাঁরা মাঠে খেটে চাষ করে তারা সবাই তো এই আলুর দাম এর মাধ্যমে নির্ভর করে তাদের জীবন। ভোট এর বছরে শোনা যায় বাজার তো এই বছর চড়া মূল্য হবেই। যতই সে মাটির নিচের ফসল হোক। তবু কেনো যে এই আলুকে কিছুতেই ফি বছর তার দামকে বেঁধে রাখা যায়না কে জানে। 

সে মাটির নিচের ফসল সাত থেকে দশ হাজার বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ অঞ্চলে প্রথম চাষ করা হয় বলে জানা যায়। পরে এই আলুকে ১৬শ‌ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে স্পেনীয়রা আমেরিকা থেকে ইউরোপে নিয়ে আসে চাষ শুরু করে। ভুট্টা, গম, ধানের পর আলু বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম খাদ্য শস্য। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে প্রায় ৫০০০ টি প্রজাতির আলুর জাত দেখা যায়।

বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫,০০০ আলুর জাত রয়েছে। তাদের মধ্যে তিন হাজার শুধুমাত্র আন্দিজ অঞ্চলে পাওয়া যায়, প্রধানত পেরু, বলিভিয়া, ইকুয়েডর, চিলি এবং কলম্বিয়াতে। শ্রেণিবিন্যাসগত গোষ্ঠীর উপর নির্ভর করে তারা আট বা নয়টি প্রজাতির অন্তর্গত। ৫,০০০টি চাষ করা জাত ছাড়াও, প্রায় ২০০টি বন্য প্রজাতি এবং উপ-প্রজাতি রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলিই চাষ করা জাতের সাথে আন্তঃ-প্রজনন করানো যেতে পারে। বন্য প্রজাতির জিন পুল থেকে চাষকৃত আলু প্রজাতির জিন পুলে নির্দিষ্ট কীটপতঙ্গ এবং রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা স্থানান্তর করার জন্য বারবার আন্তঃ-প্রজনন করা হয়েছে।


 ইংরেজি শব্দ potato এসেছে স্পেনীয় patata (স্পেনে ব্যবহৃত নাম) থেকে। "আলু" এর জন্য একটি শব্দ ব্যবহার করার জন্য পরিচিত যা মোটামুটিভাবে ইংরেজিতে "আর্থ অ্যাপেল" বা "গ্রাউন্ড অ্যাপল" হিসাবে অনুবাদ করা যায়। বাংলা ভাষায় "আলু" শব্দের উৎপত্তি বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ঐতিহাসিক বিবরণ পাওয়া যায় না। তবে ধারণা করা হয় যে আলু চাষের প্রাথমিক সময়ে পেরুর আন্দীয় সভ্যতায় চাষের জমিকে আলু বলা হতো এবং সেখান থেকেই বাংলায় আলু শব্দটি এসেছে। সাধারণত লাল আলু, হলুদ আলু, সাদা আলু আর বেগুনি আলুর সন্ধান পাই আমরা। 

শুধু তাই নয় ভ্যান গগের তুলিতে এই আলুকে নিয়ে ছবি এঁকেছেন তিনি। ১৮৮৫ সালের চিত্রকর্ম দ্য পটেটো ইটারস একটি পরিবারের আলু খাওয়ার দৃশ্যকে চিত্রিত করেছে। ভ্যান গগ বলেছিলেন যে তিনি কৃষকদের তারা যেমন ছিল তেমন চিত্রিত করতে চেয়েছিলেন। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মোটা এবং কুৎসিত মডেলদের বেছে নিয়েছিলেন, এই ভেবে যে তারা তার সমাপ্ত কাজে স্বাভাবিক এবং অস্পষ্ট হবে। 
আর যে আলুর এই সুদীর্ঘ হাজার হাজার বছরের ইতিহাস। যাকে ছাড়া আমরা বাঁচতেই পারিনা। সেই আলু আজ কেমন করে যেন দুর্মূল্য হয়ে যাচ্ছে দিনদিন। তাকে আটকাতে তাই পথে নেমেছেন রাজ্যের মন্ত্রী। তবে এতসব ঘটনার মাঝে আমার সেই আলুর দম এর পিকনিক এর কথা মনে পড়ে যায়। যেখানে আমরা সবাই বেশ কত ভালোভাবেই তো মাটির নিচের এই ফসলকে পেতাম। তাহলে আজ কেনো যে এত টানাটানি কে জানে। সব হয়তো রাজনীতির মারপ্যাঁচ আর কিছুটা হলেও কৃত্রিম উপায়ে দাম বৃদ্ধি করে বাজারে চাহিদার বৃদ্ধি করা। যা হলে লাভ বিক্রেতার, আড়তদারের, কিছুটা চাষীদের। ক্ষতি শুধু আমার আপনার মতো সাধারণ মানুষের ক্রেতাদের। তারা যে সত্যিই বড়ো ভালো নেই। 

আলুর দাম বৃদ্ধিতে রাস্তায় মন্ত্রী বেচারাম মান্না - অভিজিৎ বসু।
চৌঠা ডিসেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক বেচারাম মান্না।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ্যাপি বার্থডে রনজিৎ দা

আমার মোবাইলে নম্বরটা আজও সেভ করা আছে রনজিৎ মদন দা নামেই। কবে, কোথায় ওর সাথে দেখা হয়েছিল আজ আর সেটা স্মরণে নেই আমার। হয়তো সেই ২৪ চৌরঙ্গী রোডের অফিসে বা ভবানীপুরের সেই বিখ্যাত অফিসে দেখা হয়েছিল একদিন। ডাকাবুকো কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র তখন প্রিয়রঞ্জন‌ দাসমুন্সীর লোক। একদম ফর্সা গায়ের রং। চোখে রোদ চশমা, সাদা প্যান্ট সাদা জুতো পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক আর ওদিক। আর সেই কিছু দরকার পড়লেই রনজিৎ রনজিৎ বলে ডাক দিচ্ছেন তিনি দরকারে আর অদরকারে।  রনজিৎ হলো মদনদার সেই পুরোনো দিনের একমাত্র সঙ্গী আর ছিল সেই স্বপন মাইতি বর্তমানে তিনি আর বেঁচে নেই। এস এস কে এম এ গেলেই স্বপনদা কে দেখতাম আমরা। কিন্তু সেই জাদুঘর এর ফুটপাথ ধরে বিকেলের কাগজ বের হলে পট পরিবর্তন আর অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়ে চলে যেতাম আমরা দুজন। বর্তমানে একজন তৃণমূলের মুখপাত্র অনেক বড় মাপের সাংবাদিক ও রাজনীতির লোক। দলের অন্দরে অনেক দূর অবধি তাঁর হাত বিস্তৃত। অন্যদিকে আর একজন ৩৫ বছর এই বাংলা মিডিয়াতে কাজ করে এখন বাতিলের দলে টোটো চালক হয়ে গেছে আর কি।  যাক সেই রনজিৎ এর আজ জন্মদিন। মনে পড়ে গেলো আমার...

ইটিভি ও অম্বরীষ‌ দা।

সাদা জীবনের কালো কথায় এমন একজনের কথা লিখবো আজ যার কথা অনেক আগেই লেখা উচিত ছিল আমার। ইটিভির কর্ণধার রামোজি রাও এর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির কথা লেখার সময় যার কথা আমার এক লাইন হলেও লেখা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যা আমায় মনে করিয়ে দিলেন একজন প্রাক্তন ইটিভির সহকর্মী। তার কথা শুনে মনে হলো ঠিক তো চেয়ারম্যান স্যার কে হারিয়ে আমরা সবাই ইটিভির কর্মীরা মিলিত হলাম এক নিমেষে এক ছাতার তলায়। কিন্তু যার জন্য আমরা সবাই তাঁর কাছে এই ইটিভির কোম্পানি তে কাজ এর সুযোগ পাই তাঁর কথা উল্লেখ করা দরকার ছিল বোধ হয়। কিন্তু আমি লিখি নি বা হয়তো ভুলে গেছিলাম সেই মানুষটার কথা বলতে। সেই ব্যক্তির কথাই আজ বলবো কিছুটা। না হলে সেটা ঠিক কাজ হবে না কিছুতেই।  যে মানুষটার জন্য আমরা প্রায় সবাই এই ভাবে সব একসাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কেউ পশ্চিমবাংলায় কাজ করেছি আবার কেউ কেউ হায়দরাবাদ এর সেই পাঁচিল ঘেরা রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যে কাজ করেছি। কিন্তু বাংলা মিডিয়ার সেই ছোট্টো চারা গাছের যে বীজ রামোজি রাও বপন করেছিলেন সেই সময় আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। এই মানুষটার হাত ধরেই লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল স...

বিশ্ব সাইকেল দিবস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস এর কথা। এই দু চাকার যানকে নিয়ে যে কত অম্ল মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে সবার জীবনেই তা বলে শেষ করা যাবে না বোধ হয়। আর আজ সেই সাইকেল উদযাপনের একটি আন্তর্জাতিক দিন। এই বিশ্ব সাইকেল দিবস প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় এই দিনটি।  ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে সাইকেলের দীর্ঘ জীবনকাল এবং বহু কাজে ব্যবহৃত হওয়ার প্রশংসা করা হয়। সঙ্গে প্রায় দুই শতক কাল এর সাধারণ,কম খরচ, বিশ্বাসযোগ্যতা, এবং পরিবেশের জন্য উপযুক্ত যানবাহনের মাধ্যম হিসাবে সাইকেলের উল্লেখ করা হয়েছিল। সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মূলতঃ এই দিবস উদ্‌যাপন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়েই। বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ তাই সবার কাছেই জানা একটা বিষয়। কিন্তু যে সাইকেল নিয়ে এত কথা সেই লাল টুকটুকে সাইকেল পেয়েছিলাম আমি স্কুল জীবনে ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠে। সময়টা যত দুর মনে পরে শীতকাল ডিসেম্বর মাস। মেজমামা আমায়...

দিদির নিদান

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ চুরি না করার নিদান। সেই ছোটো বেলায় পড়েছিলাম বইতে মাসীর সাবধান বাণী। চুরি করে কি অবস্থা হলো। শেষে মাসীর কান কামড়ে দিল বালক। মাসীর সাবধান বাণী না শুনে। আজ এই এক ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আমার সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো হঠাৎ করেই। আচ্ছা সত্যিই কি এই কড়া নিদান দিয়ে চুরি রোখা যায়। কথায় বলে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। মুখ্যমন্ত্রীর একদম সোজা সাপটা এই বর্জ নির্ঘোষ কথা শুনে আমার এমন মনে হলো আজ। যে কথার উত্তর দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই কারুর।  সে দলের যে নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, বা পুরসভার চেয়ারম্যান হোক। চুপ করে বসে হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ উত্তর দিলেই বিপদ বাড়বে বই কমবে না। একদম সোজা সাপটা তীরবিদ্ধ আক্রমন এর সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা। করে খাবার জায়গা নয় তৃণমূল দল। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নিজের পেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতি আর নয়, অনেক হয়েছে।  সত্যিই তো রাজনীতির আঙিনায় এই সব কিছুকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। কত কষ্ট করে মাটি তৈরি করে, জল দিয়ে এই ছোটো দুটি জোড়...

আমাদের চেনা বিখ্যাত ঝিলম

বাংলা মিডিয়ার নানাজনের সাথে দীর্ঘ সময়ে আমার কাজে অকাজে নানা সাংবাদিকের সাথে আলাপ থাকলেও। এই সাংবাদিকের সাথে ঠিক যেনো রোদ আর বৃষ্টির টক ঝাল মিষ্টি সম্পর্ক। এই হাসিঠাট্টা মশকরা করা দুজনের, আবার এই সিরিয়াস হয়ে গিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে যাওয়া একে অপরের সাথে। এই নানা বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য তাঁর সাথে আলোচনা হওয়া দুই সহজ পুরোনো বন্ধুর মতো। আবার যেনো খুব ক্ষুদ্র কোনো কারনেই মতান্তর আর মনান্তর হয়ে যাওয়া কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই ব্লগ লেখার কথা আমায় বহুদিন আগেই ও বলেছিল একদিন। আজ সেই ব্লগ লেখার পাগলামো কিছুটা তো তাঁর অনুপ্রেরণায় এটা অস্বীকার করা যায় না আজও কিন্তু । যেটা নিয়ে তাঁর সাথে আমার কথাও হয়েছে বহুবার।  বাংলা মিডিয়ার এই শিক্ষিত পড়াশোনা করে সাংবাদিক হতে আসা, এই রিপোর্টার ইন্টারভিউ বোর্ডে পরীক্ষকের জ্ঞান অনুসন্ধানে ব্যাপৃত হতেও পিছপা হয় না কিছুতেই। কোনও পরোয়া না করে আর ভয় না পেয়ে। সে হায়দরাবাদ এর বিখ্যাত বিরিয়ানী এলাকার বস হোক, কিম্বা কাগজের দাপুটে দাড়িওলা বস হোক। বা যে কেউ বস হোক। আসলে এটাই ওর চিরকালের নেচার। যার থেকে আজও বোধহয় বের ...