সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাবরি ভাঙার ৩২ বছর শৌর্য নাকি সংহতি, উত্তর মেলা ভার

একদিকে শৌর্য দিবসের হুংকার। অন্য দিকে সংহতি দিবসের ডাক। শৌর্য আর সংহতির এই দুই এর টানাপোড়েনের একটা দিন হলো এই ছয় ডিসেম্বর আজকের দিন। যে দিনটা আমাদের সবার কাছেই দেশের ইতিহাসে একটা কালো দাগ হিসেবেই পরিচিত হয়ে আছে। আজ দেখতে দেখতে ৩২ টা বছর কেটে গেছে। সেই বাবরি মসজিদ ভাঙার দিন আজ। ১৯৯২ সালের সেই ছয় ডিসেম্বর এর দিন এর কালো দগদগে স্মৃতি আজও কেমন করে আমাদের মনের মধ্যে একটা দুঃস্বপ্নের মতই ঘুরে বেড়ায়। সেই উল্লাস, সেই হুংকার, সেই আস্ফালন, সেই উন্মত্ততা, সেই জয় এর আনন্দ এরপর দেখতে দেখতে কেটে গেছে ৩২ টা বছর। সেই আস্ফালন আর উল্লাস এর দিন আজ শৌর্য দিবসের দিন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে চারিদিকে গোটা দেশ জুড়ে। যে শৌর্য আর বীর্য আজ আমাদের সবাইকে চারিদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। আর যার ঘেরা টোপে আমাদের সংহতি,একতা, নিরপেক্ষতা আটকা পড়ে গেছে নিজের অজান্তেই।


 আজকে ছয় ডিসেম্বর,কালো দিবস পালন করুন এই ডাক চারিদিকেই। দেখতে দেখতে ৩২ টা বছর কেটে গেছে বাবরি মসজিদ নিয়ে। কেউ বলছেন বাবরি মসজিদ তোমাকে আমরা ভুলছি না, তুমি থাকবে কোটি কোটি মুসলমানদের হৃদয়ের গভীরে, অন্তরের অন্তঃস্থলে। যে অন্তরের অচিন দেশে জমা আছে গভীর গোপন একটা ক্ষত। যে ক্ষত চিহ্ন আজও শুকিয়ে যায়নি। যে গভীর ক্ষতকে বুকে জড়িয়ে নিয়েই তো বেঁচে থাকা। যে বেঁচে থাকার মধ্যেই ঘিরে থাকে শৌর্য আর সংহতির পাঁচমিশালি নানা টানাপোড়েন। যে কারণে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের এতবছর পরেও আমরা কেমন দড়ি টানাটানির খেলায় মেতে উঠি উন্মত্ত হই। জানিনা এই টানাটানি, এই হানাহানি, এই উন্মত্ততা, এই মনের গভীরে ডুব মেরে লুকিয়ে থাকা হিংস্রতা কবে শেষ হবে। আদৌ কি এতবছর পরেও আমরা কিছুটা হলেও বুঝতে পারবো নাকি সবটাই একটা অদৃশ্য সুতোয় ঝুলতে থাকবে আমাদের চোখের সামনে। 


একদিকে যখন এই বাবরি ধ্বংসের দিনে শৌর্য দিবসের ডাক। অন্যদিকে তখন তৃণমূলের সংহতি দিবস পালন। বন্ধ থাকছে বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনও। সদ্য ফেলা আসা বছরগুলির দিকে তাকালে দেখা যাবে ইতিহাসের তৃণমূল জমানায় এই প্রথম সংহতি দিবস পালনের জন্য বিধানসভার অধিবেশন বন্ধ রাখা হল। কিন্তু কেন বিধানসভার অধিবেশন বন্ধ হবে? তা নিয়ে বিধানসভার অন্দরে শুধু সুর চড়িয়ে ক্ষান্ত হয়নি বঙ্গের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। তবু এই দিনে রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি বন্ধ হয়নি কোনোভাবেই। শৌর্য আর সংহতির এই দড়ি টানাটানি বেশ মজার ব্যাপার কিন্তু কি বলেন। 

বাবরি মসজিদ ভাঙার কেটেছে তিন দশকের বেশি সময়। সময় দেখলে একেবারে ৩১ বছর। আর এর মধ্যে মাথা তুলেছে মন্দির। কিন্তু এখনও বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন বঙ্গ রাজনীতির আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। তা না হলে কেন ৬ ডিসেম্বরকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলো নানা কর্মসূচি নিচ্ছে? দল আলাদা। কিন্তু কর্মসূচির নাম পৃথক। কিন্তু সবটাই বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করেই হচ্ছে। তার মানে বাবরি মসজিদ ভাঙার দিনকে কিছুতেই ভুলতে পারিনি আমরা আজও এতোদিন পরেও। আর তাই বোধহয় নানা ভাবে নানা নাম দিয়ে এই দিনকে স্মরণ করা। আমাদের মননে, চিন্তায়, আমাদের মনের গভীরে ডুব মেরে লুকিয়ে আছে সেই দিন এর বিশেষ সেই কিছু স্মৃতি। দুর থেকে ভেসে আসছে আজানের ধ্বনি। মাথার ওপর শূন্য আকাশ। এদিক ওদিক উড়ে বেড়াচ্ছে কালো কাক এর দল। আজানের ডাক শুনে তাদের গলায় কেমন উদাসী সুর এর করুন ডাক। 

রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সংহতি দিবস পালন করছে এই দিনে। কেন্দ্রীয়ভাবে কোনও কর্মসূচি নেই। কিন্তু রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক, পুরসভা, শহরে কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তারা। সেই কর্মসূচির জন্যই বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনের ৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার বন্ধ রাখা হয়েছে। যাতে বিধায়করা এই বিশেষ দিন এর কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন, কর্মসূচি জন্য উদ্যোগ নিতে পারেন নিজের এলাকায়। তার জন্যে এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে দলের তরফেও। 


সদ্য ফেলা আসা বছরগুলির দিকে তাকালে দেখা যাবে ইতিহাসের তৃণমূল জমানায় এই প্রথম সংহতি দিবস পালনের জন্য বিধানসভার অধিবেশন বন্ধ রাখা হল। কেন অধিবেশন বন্ধ হবে? তা নিয়ে বিধানসভার অন্দরে শুধু সুর চড়িয়ে ক্ষান্ত হয়নি বঙ্গের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। তারা বাবরি মসজিদ ধংসের দিন শৌর্য দিবস পালন করবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মসূচি করবে পদ্ম শিবির। শহর কলকাতায় শ্যামবাজার থেকে সিঁথি মোড় পর্যন্ত মিছিল করলেন তারা। নেতৃত্ব দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তারমানে দিকে দিকে এই বিশেষ দিনকে স্মরণ করার একটা দিন। যে দিনটাকে আমরা সযত্নে আগলে রাখতে চাই, ভুলতে চাইনা কোনো মতেই কোনও ভাবেই। 

তবে শুধু তৃণমূল আর বিজেপি নয় একমাত্র বিধায়কের দল আইএসএফ তারাও ধিক্কার দিবস কর্মসূচির ডাক দিয়েছে এই দিনে। দলের চেয়ারম্যান উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের খোলাপোতায় এই কর্মসূচিতে থাকবেন বলে জানিয়ে দিয়ে হুংকার ছেড়েছেন। আর ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস সিদ্দিকীর কর্মসূচি ভাঙরের বিজয়গঞ্জ বাজারে। যদিও তা অরাজনৈতিক ব্যানারে হবে বলে তাঁর অভিমত। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের মতে, মেরুকরণ ক্রমশ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ময়দানে মাথা তুলছে। এহেন আবহে বাবরি মসজিদ ভাঙার দিন নানা কর্মসূচি বঙ্গের শাসক বা বিরোধী কিংবা আইএসএফের। যা বঙ্গ রাজনীতিতে যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন তাঁরা। সত্যিই অসাধারণ এই মেরুকরণের রাজনীতি। যে রাজনীতি আমাদের অস্থিমজ্জায় আজ প্রবেশ করেছে চারিদিক থেকেই। সেই শৌর্য বীর্য সংহতি প্রকাশ এর মাধ্যমে। যাকে আমরা ভুলতে পারিনা কিছুতেই। 

আরএসএস আর কোনও মন্দির-মসজিদ বিবাদে থাকবে না। বিশেষ পরিস্থিতিতে আমরা রামমন্দির আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম, আমাদের কাজ শেষ’—বক্তার নাম মোহন ভাগবত। আর বিবাদ নয়, রায় মেনে নিয়ে এবার শান্তিতে বাস করুন’—বলেছিলেন নরেন্দ্র মোদী।
 
প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রধান এই মন্তব্য করেছিলেন ২০১৯-এর ৯ নভেম্বর বিকালে। ওইদিন সকালে ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার বিতর্কিত জমিকে রামচন্দ্রের জন্মস্থান বলে হিন্দুদের দাবি মেনে সেখানে রাম মন্দির নির্মাণের রাস্তা খুলে দেয়। সুপ্রিম কোর্টের সেই রায়ের পর দেশ শান্ত ছিল। রায় উল্টো হলে কী হতে পারত শীর্ষ আদালত রায় ঘোষণার ২৭ বছর আগেই দেশ তা প্রত্যক্ষ করে। আসলে সেই পাঁচশো সাড়ে পাঁচশো বছরের প্রাচীন একটা মসজিদকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল উন্মত্ত করসেবকরা। মসজিদ যদিও ঘেরা ছিল কাঁটা তারের বেড়ায়। সেই বেড়া টপকে এই ঘটনা ঘটে যায়। যেদিন শত শত টিভি ক্যামেরা, পুলিশ, আধা সেনার কয়েক হাজার কর্মী, প্রশাসনের শীর্ষ আমলা এবং দেশের প্রথমসারির নেতাদের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটে যায়। 

মসজিদ ধ্বংসকে কেন্দ্র করে দেশের নানা প্রান্ত যখন ইতিহাসের কালো দিন হয়ে থাকা সেই অযোধ্যা কাণ্ড কয়েক দিনের মধ্যে কেড়ে নিয়েছিল হাজার মানুষের প্রাণ। বাংলায় নিহত হন ৩২জন। উত্তর প্রদেশে নিহত ২০১ জনের বেশির ভাগেরই প্রাণ যায় পুলিশের গুলিতে বাবরি মসজিদ ধ্বসের সময় যারা লাঠি উচিয়ে করসেবকদের ধাওয়া করার সাহস দেখায়নি। বাবরি ধ্বসের রেশ ধরে সংঘঠিত হয় গুজরাত এর দাঙ্গা। যা আমাদের আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

আসলে বাবরি ধ্বংসের পর ভারতের রাজনীতির গঙ্গা-যমুনা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে। রাজনীতি ও সমাজজীবনের ডিএনএ-তে পাকাপাকিভাবে স্থান করে নিয়েছে মন্দির-মসজিদ এর কঠিন রাজনীতি। সেই ধ্বংসলীলায় আসলে জোর ধাক্কা খেয়েছে দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার স্তম্ভটিই। সত্যিই কি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের এই স্তম্ভও কি তাহলে একদম মেকী আর ঠুনকো হয়েই বেঁচে আছে আমাদের সামনে যুগ যুগ, বছর বছর ধরে তার ইতিহাসকে বুকে আগলে ধরে। যে দেশের ইতিহাসে জড়িয়ে আছে শৌর্য আর সংহতির ছোঁয়া। আর সেই একতা সংহতি তো দেশেরই সম্পদ। তাহলে শৌর্য আর একতার কিসের লড়াই।

সেই শৌর্য বীর্য সংহতি নিয়েই তো আমাদের ওঠা বসা দিন যাপন করা একসাথে মিলে মিশে বেঁচে থাকা বেড়ে ওঠা। তাহলে কেনো এত বিবাদ, কেনো এতো লড়াই হানাহানি, কেনো এতো পারস্পরিক সম্পর্কের মাঝে দড়ি টানাটানির খেলায় মেতে ওঠা। শৌর্য বড়ো না সংহতি বড়ো সেটা নিয়ে কেনো শুধুই আকচা আকচি করা একে অপরের মধ্যে। আমাদের দেশের ইতিহাস তো এসবে বিশ্বাস করেনা। এই দেশের মানুষ তো শুধুই একে অপরকে জড়িয়ে আঁকড়ে ধরে ভালোবেসে কাছে টেনে নিয়ে বাঁচতে চায়। সেখানে মন্দির, মসজিদ, গির্জা, প্যাগোডা, চার্চ কাউকেই কিছু পরোয়া না করে। শৌর্য আর একতা পাশাপাশি তারা দুজন হাতে হাত ধরে বেঁচে থাকতে চায় হাসিমুখে, ধর্মনিরপেক্ষতার শক্ত মুখোশ পরে।

 বাবরি ভাঙার ৩২ বছর 
শৌর্য নাকি সংহতি, উত্তর মেলা ভার 
- অভিজিৎ বসু।
ছয় ডিসেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্যে গুগল ও ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বেহাল খাতা ও আমি

রতনপল্লীর ফলপট্টির আড্ডায় আমায় নিয়ে গিয়েছিলেন মধুদা অনেক দিন আগেই এক সন্ধ্যায়। ধীরে ধীরেই মধুদার স্মৃতি ক্রমেই ঝাপসা হচ্ছে যেনো তবুও হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিও তো ঝাপটা মারে যে কোনোও সময় বৃষ্টি ভেজা পালাবদলের সন্ধ্যায়। তবু এতদিন পরেও কেমন করে যে সেই এই আড্ডার টেবিলে পড়ে এক কোণে পড়ে থাকা থাকা বেহাল খাতা, বেহাল টেবিল আর আমার বেহাল জীবন আর এই বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যা সব যে মিলেমিশে একাকার হলো আমার। কে জানে সেই থপ থপ করে রাস্তা পার হওয়া সেই বুড়ো ব্যাঙের মতোই তো আমার এই বুড়ো বয়সের জীবন। আমার এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস সাদা জীবনের কালো কথার বেহিসেবী টোটো চালকের জীবন নিয়ে হাজির হলাম আমি বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় এই বেহাল খাতার সামনে আজ। হাজির হলাম আকাশ দেখার নেশায় সেই বুঁদ হয়ে থাকা জীবন কাটিয়ে দেওয়া সেই নিখিলেশদার ডাকে। যিনি মাটিতে পায়ে হেঁটে সাইকেল চালিয়ে দিব্যি এই বয়সেও আকাশ দেখার নেশায় আচ্ছন্ন হন বারবার। কত যে বেহাল জীবন আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ায় এমন। আসলে কে আর কাকে ডাকে এই বুড়ো বয়সে ডাকে বলুন তো আজকাল। আর আমার যে ডাক পড়েনা কোথাও কোনোও জায়গায় সব জায়গায় আমি যে বা...

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

বদলে যাওয়ার তালিকায় সবাই

ভেবেছিলাম আট থেকে আশির এই নিজেকে বদলে নেওয়ার দলে ও নাম লেখাবে না একদম কিছুতেই। গুরুগম্ভীর আর সেই অর্থপূর্ণ ভাব বিনিময় করে বেঁচে থাকা আর উচ্চপদে কর্মরত এই ব্যক্তি কী আর নিজেকে খোলস ছেড়ে বদলে নেবে হঠাৎ করেই। কেমন দেখতে লাগে এই নতুন চেহারায় ,সেটা দেখার বাসনা হবে তাঁর। কিন্তু না আমি দেখলাম এই বদলে নেওয়ার আর নিজেকে একটু উল্টেপাল্টে দেখে নেবার লোভ বড়ো ছোঁয়াচে। ঠিক বসন্তের বাতাসে উড়ে বেড়ানো পলাশের শুকনো হাসির মতই।   জানি আমায় কেউ কেউ বলবেন আবার ওকে নিয়ে লেখা। এই লেখা কত নম্বর ভাই। এই ছবি দেখে আর লেখার কি দরকার বাবা তোমার। তিনকাল গিয়ে এককাল ঠেকেছে তোমার। ওকে তেল দিয়ে আর লাভ নেই,চাকরির আশা নেই আর কোনোও তোমার। যেমন আছো তুমি তেমনি থাকো বাবা এই টোটো চালকের বেশ ধরে ঘুরে বেড়িয়ে এই এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস জীবন নিয়ে। আর কতবার এই মুর্শিদাবাদের ভেঙে পড়া সাম্রাজ্যের এক ব্যক্তিকে নিয়ে বার বার লিখবে আর তাঁকে প্রজেক্ট করবে তুমি এইবার তো থামো বাবা। একটু এই শেষ বেলায় হিসেব করে মেপে পা ফেলো মাঠে। না হলে যে গর্তে পড়ে বেঘোরে হাত পা ভাঙবে তোমার। আমি মনে মনে এই সব শুনে অস্ফুটে ...

বসন্তের মল্লিকা

মন কেমন করা ভোরে ঘুম জড়ানো চোখে, তোমার মুখে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে লেগে আছে মল্লিকার  প্রস্ফুটিত রূপ। তোমার পুরু ওষ্ঠের কালো তিলের হাতছানি এড়াতে প্রাণপনে লড়াই করি আমি দিন ভোর। ঠিক যেমন করে কাক-কোকিলের লড়াই বাঁধে নিম গাছের মাথায় দুপুর বেলায়। যে মুখের মায়ায় আমি লুটায়ে পড়ি বার বার তোমার মল্লিকা বনে। হাজার বছর বছর ধরে অপেক্ষা করি আমি শুধু তোমারই জন্য। যে অপেক্ষার দিন, রাত, ঘন্টা, প্রহর গুনি আমি  সব সময়। রাতের অন্ধকারে মাথার ওপর ব্যবিলনের ঘড়ির ঘড় ঘড়ে আওয়াজ। দুলকি চালে চলা সিলিং ফ্যানের মাথা দুলিয়ে ঘুরে যাওয়া। হালকা হাওয়ায় উড়ে যায় পাখির পালক, উড়ে যায় বসন্তের প্রলাপ বকা বিধুর আঁধার মাখা মন। যে মনের মণিকোঠায় আজও অমলিন সেই মায়াময় হাসি, সেই কালো তিলের স্পর্শ। সেই ভেজা ঠোঁটের মন কেমন করা কুহু কুহু ডাক। আমি চুপটি করে বসে থাকি একা রাতের অন্ধকারে জানলার গারদ ধরে। গারদের ঠাণ্ডা লোহার রডে চিবুক ঠেকিয়ে বসে থাকি শুধু তোমারই জন্য। ঠাণ্ডা হাওয়ায় এলোমেলো হয়ে যায় বসন্তের প্রলাপ বকা ভোর।  যে ভোর বেলায় মল্লিকার গন্ধে মাতাল হয় আমার সারা শরীর, মন। বসন্তের মল্...

ভূত ধরার অভিযান ও রাজনীতি

ভূতের ভবিষ্যৎ এর পর এখন ভোটের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় আছে শাসক দল তৃণমূল। যদিও এতে আমার মনে হয় ভূতেরাও বেশ বিরক্ত হয়ে পড়েছে একটু। বেশ সুখেই দিন কাটছিল তাঁদের হঠাৎ করেই কেনো যে এই ভূত ধরার অভিযান শুরু হলো রাজ্যে জুড়ে কে জানে। তবে না দিদির নির্দেশ বলে কথা। ভূত ধরতে তাই সকলের নেমে পড়া মাঠে ময়দানে। দলের ছোটো , বড়ো, মেজো, সেজো, এমনকি কোলের বাচ্চারও জরুরী ভিত্তিতে ভূত ধরার অভিযানে অংশ গ্রহণ করা।  জেলায় জেলায় এখন ভূত ধরার কাজ চলছে জোর কদমে। তবে শুধু ভূত ধরলেই হবে না কত ভূত ধরা হলো। কেমন ধরনের ভূত ধরা হলো তার হিসেব পেশ করতে হবে সপ্তাহে সপ্তাহে দলীয় কার্যালয়ে। মামদো না শাকচুন্নি তারা। শুধু হিসেব পেশ করলেই হবে না ভূত ধরার কাজে সত্যিই পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায়, জেলায় জেলায়, লোক রাস্তায় সব বাড়িতে বাড়িতে গেছে কি না তার ছবিও প্রকাশ করতে হবে। সেই ছবি আপলোড করে জানাতে হবে, হ্যাঁ ভূত ধরার অভিযানে তাঁরা সামিল হয়েছেন সত্যিই সত্যিই। কেউ ফাঁকি মারেনি একদম কাজে। কেউ কাজ না করে ঘরে বসে থাকলেই সে কিন্তু বাদ পড়ে যাবে। একদম কড়া নির্দেশ দলের নেত্রীর।  ক...