সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাবরি ভাঙার ৩২ বছর শৌর্য নাকি সংহতি, উত্তর মেলা ভার

একদিকে শৌর্য দিবসের হুংকার। অন্য দিকে সংহতি দিবসের ডাক। শৌর্য আর সংহতির এই দুই এর টানাপোড়েনের একটা দিন হলো এই ছয় ডিসেম্বর আজকের দিন। যে দিনটা আমাদের সবার কাছেই দেশের ইতিহাসে একটা কালো দাগ হিসেবেই পরিচিত হয়ে আছে। আজ দেখতে দেখতে ৩২ টা বছর কেটে গেছে। সেই বাবরি মসজিদ ভাঙার দিন আজ। ১৯৯২ সালের সেই ছয় ডিসেম্বর এর দিন এর কালো দগদগে স্মৃতি আজও কেমন করে আমাদের মনের মধ্যে একটা দুঃস্বপ্নের মতই ঘুরে বেড়ায়। সেই উল্লাস, সেই হুংকার, সেই আস্ফালন, সেই উন্মত্ততা, সেই জয় এর আনন্দ এরপর দেখতে দেখতে কেটে গেছে ৩২ টা বছর। সেই আস্ফালন আর উল্লাস এর দিন আজ শৌর্য দিবসের দিন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে চারিদিকে গোটা দেশ জুড়ে। যে শৌর্য আর বীর্য আজ আমাদের সবাইকে চারিদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। আর যার ঘেরা টোপে আমাদের সংহতি,একতা, নিরপেক্ষতা আটকা পড়ে গেছে নিজের অজান্তেই।


 আজকে ছয় ডিসেম্বর,কালো দিবস পালন করুন এই ডাক চারিদিকেই। দেখতে দেখতে ৩২ টা বছর কেটে গেছে বাবরি মসজিদ নিয়ে। কেউ বলছেন বাবরি মসজিদ তোমাকে আমরা ভুলছি না, তুমি থাকবে কোটি কোটি মুসলমানদের হৃদয়ের গভীরে, অন্তরের অন্তঃস্থলে। যে অন্তরের অচিন দেশে জমা আছে গভীর গোপন একটা ক্ষত। যে ক্ষত চিহ্ন আজও শুকিয়ে যায়নি। যে গভীর ক্ষতকে বুকে জড়িয়ে নিয়েই তো বেঁচে থাকা। যে বেঁচে থাকার মধ্যেই ঘিরে থাকে শৌর্য আর সংহতির পাঁচমিশালি নানা টানাপোড়েন। যে কারণে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের এতবছর পরেও আমরা কেমন দড়ি টানাটানির খেলায় মেতে উঠি উন্মত্ত হই। জানিনা এই টানাটানি, এই হানাহানি, এই উন্মত্ততা, এই মনের গভীরে ডুব মেরে লুকিয়ে থাকা হিংস্রতা কবে শেষ হবে। আদৌ কি এতবছর পরেও আমরা কিছুটা হলেও বুঝতে পারবো নাকি সবটাই একটা অদৃশ্য সুতোয় ঝুলতে থাকবে আমাদের চোখের সামনে। 


একদিকে যখন এই বাবরি ধ্বংসের দিনে শৌর্য দিবসের ডাক। অন্যদিকে তখন তৃণমূলের সংহতি দিবস পালন। বন্ধ থাকছে বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনও। সদ্য ফেলা আসা বছরগুলির দিকে তাকালে দেখা যাবে ইতিহাসের তৃণমূল জমানায় এই প্রথম সংহতি দিবস পালনের জন্য বিধানসভার অধিবেশন বন্ধ রাখা হল। কিন্তু কেন বিধানসভার অধিবেশন বন্ধ হবে? তা নিয়ে বিধানসভার অন্দরে শুধু সুর চড়িয়ে ক্ষান্ত হয়নি বঙ্গের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। তবু এই দিনে রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি বন্ধ হয়নি কোনোভাবেই। শৌর্য আর সংহতির এই দড়ি টানাটানি বেশ মজার ব্যাপার কিন্তু কি বলেন। 

বাবরি মসজিদ ভাঙার কেটেছে তিন দশকের বেশি সময়। সময় দেখলে একেবারে ৩১ বছর। আর এর মধ্যে মাথা তুলেছে মন্দির। কিন্তু এখনও বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন বঙ্গ রাজনীতির আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। তা না হলে কেন ৬ ডিসেম্বরকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলো নানা কর্মসূচি নিচ্ছে? দল আলাদা। কিন্তু কর্মসূচির নাম পৃথক। কিন্তু সবটাই বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করেই হচ্ছে। তার মানে বাবরি মসজিদ ভাঙার দিনকে কিছুতেই ভুলতে পারিনি আমরা আজও এতোদিন পরেও। আর তাই বোধহয় নানা ভাবে নানা নাম দিয়ে এই দিনকে স্মরণ করা। আমাদের মননে, চিন্তায়, আমাদের মনের গভীরে ডুব মেরে লুকিয়ে আছে সেই দিন এর বিশেষ সেই কিছু স্মৃতি। দুর থেকে ভেসে আসছে আজানের ধ্বনি। মাথার ওপর শূন্য আকাশ। এদিক ওদিক উড়ে বেড়াচ্ছে কালো কাক এর দল। আজানের ডাক শুনে তাদের গলায় কেমন উদাসী সুর এর করুন ডাক। 

রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সংহতি দিবস পালন করছে এই দিনে। কেন্দ্রীয়ভাবে কোনও কর্মসূচি নেই। কিন্তু রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক, পুরসভা, শহরে কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তারা। সেই কর্মসূচির জন্যই বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনের ৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার বন্ধ রাখা হয়েছে। যাতে বিধায়করা এই বিশেষ দিন এর কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন, কর্মসূচি জন্য উদ্যোগ নিতে পারেন নিজের এলাকায়। তার জন্যে এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে দলের তরফেও। 


সদ্য ফেলা আসা বছরগুলির দিকে তাকালে দেখা যাবে ইতিহাসের তৃণমূল জমানায় এই প্রথম সংহতি দিবস পালনের জন্য বিধানসভার অধিবেশন বন্ধ রাখা হল। কেন অধিবেশন বন্ধ হবে? তা নিয়ে বিধানসভার অন্দরে শুধু সুর চড়িয়ে ক্ষান্ত হয়নি বঙ্গের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। তারা বাবরি মসজিদ ধংসের দিন শৌর্য দিবস পালন করবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মসূচি করবে পদ্ম শিবির। শহর কলকাতায় শ্যামবাজার থেকে সিঁথি মোড় পর্যন্ত মিছিল করলেন তারা। নেতৃত্ব দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তারমানে দিকে দিকে এই বিশেষ দিনকে স্মরণ করার একটা দিন। যে দিনটাকে আমরা সযত্নে আগলে রাখতে চাই, ভুলতে চাইনা কোনো মতেই কোনও ভাবেই। 

তবে শুধু তৃণমূল আর বিজেপি নয় একমাত্র বিধায়কের দল আইএসএফ তারাও ধিক্কার দিবস কর্মসূচির ডাক দিয়েছে এই দিনে। দলের চেয়ারম্যান উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের খোলাপোতায় এই কর্মসূচিতে থাকবেন বলে জানিয়ে দিয়ে হুংকার ছেড়েছেন। আর ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস সিদ্দিকীর কর্মসূচি ভাঙরের বিজয়গঞ্জ বাজারে। যদিও তা অরাজনৈতিক ব্যানারে হবে বলে তাঁর অভিমত। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের মতে, মেরুকরণ ক্রমশ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ময়দানে মাথা তুলছে। এহেন আবহে বাবরি মসজিদ ভাঙার দিন নানা কর্মসূচি বঙ্গের শাসক বা বিরোধী কিংবা আইএসএফের। যা বঙ্গ রাজনীতিতে যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন তাঁরা। সত্যিই অসাধারণ এই মেরুকরণের রাজনীতি। যে রাজনীতি আমাদের অস্থিমজ্জায় আজ প্রবেশ করেছে চারিদিক থেকেই। সেই শৌর্য বীর্য সংহতি প্রকাশ এর মাধ্যমে। যাকে আমরা ভুলতে পারিনা কিছুতেই। 

আরএসএস আর কোনও মন্দির-মসজিদ বিবাদে থাকবে না। বিশেষ পরিস্থিতিতে আমরা রামমন্দির আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম, আমাদের কাজ শেষ’—বক্তার নাম মোহন ভাগবত। আর বিবাদ নয়, রায় মেনে নিয়ে এবার শান্তিতে বাস করুন’—বলেছিলেন নরেন্দ্র মোদী।
 
প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রধান এই মন্তব্য করেছিলেন ২০১৯-এর ৯ নভেম্বর বিকালে। ওইদিন সকালে ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার বিতর্কিত জমিকে রামচন্দ্রের জন্মস্থান বলে হিন্দুদের দাবি মেনে সেখানে রাম মন্দির নির্মাণের রাস্তা খুলে দেয়। সুপ্রিম কোর্টের সেই রায়ের পর দেশ শান্ত ছিল। রায় উল্টো হলে কী হতে পারত শীর্ষ আদালত রায় ঘোষণার ২৭ বছর আগেই দেশ তা প্রত্যক্ষ করে। আসলে সেই পাঁচশো সাড়ে পাঁচশো বছরের প্রাচীন একটা মসজিদকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল উন্মত্ত করসেবকরা। মসজিদ যদিও ঘেরা ছিল কাঁটা তারের বেড়ায়। সেই বেড়া টপকে এই ঘটনা ঘটে যায়। যেদিন শত শত টিভি ক্যামেরা, পুলিশ, আধা সেনার কয়েক হাজার কর্মী, প্রশাসনের শীর্ষ আমলা এবং দেশের প্রথমসারির নেতাদের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটে যায়। 

মসজিদ ধ্বংসকে কেন্দ্র করে দেশের নানা প্রান্ত যখন ইতিহাসের কালো দিন হয়ে থাকা সেই অযোধ্যা কাণ্ড কয়েক দিনের মধ্যে কেড়ে নিয়েছিল হাজার মানুষের প্রাণ। বাংলায় নিহত হন ৩২জন। উত্তর প্রদেশে নিহত ২০১ জনের বেশির ভাগেরই প্রাণ যায় পুলিশের গুলিতে বাবরি মসজিদ ধ্বসের সময় যারা লাঠি উচিয়ে করসেবকদের ধাওয়া করার সাহস দেখায়নি। বাবরি ধ্বসের রেশ ধরে সংঘঠিত হয় গুজরাত এর দাঙ্গা। যা আমাদের আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

আসলে বাবরি ধ্বংসের পর ভারতের রাজনীতির গঙ্গা-যমুনা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে। রাজনীতি ও সমাজজীবনের ডিএনএ-তে পাকাপাকিভাবে স্থান করে নিয়েছে মন্দির-মসজিদ এর কঠিন রাজনীতি। সেই ধ্বংসলীলায় আসলে জোর ধাক্কা খেয়েছে দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার স্তম্ভটিই। সত্যিই কি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের এই স্তম্ভও কি তাহলে একদম মেকী আর ঠুনকো হয়েই বেঁচে আছে আমাদের সামনে যুগ যুগ, বছর বছর ধরে তার ইতিহাসকে বুকে আগলে ধরে। যে দেশের ইতিহাসে জড়িয়ে আছে শৌর্য আর সংহতির ছোঁয়া। আর সেই একতা সংহতি তো দেশেরই সম্পদ। তাহলে শৌর্য আর একতার কিসের লড়াই।

সেই শৌর্য বীর্য সংহতি নিয়েই তো আমাদের ওঠা বসা দিন যাপন করা একসাথে মিলে মিশে বেঁচে থাকা বেড়ে ওঠা। তাহলে কেনো এত বিবাদ, কেনো এতো লড়াই হানাহানি, কেনো এতো পারস্পরিক সম্পর্কের মাঝে দড়ি টানাটানির খেলায় মেতে ওঠা। শৌর্য বড়ো না সংহতি বড়ো সেটা নিয়ে কেনো শুধুই আকচা আকচি করা একে অপরের মধ্যে। আমাদের দেশের ইতিহাস তো এসবে বিশ্বাস করেনা। এই দেশের মানুষ তো শুধুই একে অপরকে জড়িয়ে আঁকড়ে ধরে ভালোবেসে কাছে টেনে নিয়ে বাঁচতে চায়। সেখানে মন্দির, মসজিদ, গির্জা, প্যাগোডা, চার্চ কাউকেই কিছু পরোয়া না করে। শৌর্য আর একতা পাশাপাশি তারা দুজন হাতে হাত ধরে বেঁচে থাকতে চায় হাসিমুখে, ধর্মনিরপেক্ষতার শক্ত মুখোশ পরে।

 বাবরি ভাঙার ৩২ বছর 
শৌর্য নাকি সংহতি, উত্তর মেলা ভার 
- অভিজিৎ বসু।
ছয় ডিসেম্বর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্যে গুগল ও ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ্যাপি বার্থডে রনজিৎ দা

আমার মোবাইলে নম্বরটা আজও সেভ করা আছে রনজিৎ মদন দা নামেই। কবে, কোথায় ওর সাথে দেখা হয়েছিল আজ আর সেটা স্মরণে নেই আমার। হয়তো সেই ২৪ চৌরঙ্গী রোডের অফিসে বা ভবানীপুরের সেই বিখ্যাত অফিসে দেখা হয়েছিল একদিন। ডাকাবুকো কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র তখন প্রিয়রঞ্জন‌ দাসমুন্সীর লোক। একদম ফর্সা গায়ের রং। চোখে রোদ চশমা, সাদা প্যান্ট সাদা জুতো পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক আর ওদিক। আর সেই কিছু দরকার পড়লেই রনজিৎ রনজিৎ বলে ডাক দিচ্ছেন তিনি দরকারে আর অদরকারে।  রনজিৎ হলো মদনদার সেই পুরোনো দিনের একমাত্র সঙ্গী আর ছিল সেই স্বপন মাইতি বর্তমানে তিনি আর বেঁচে নেই। এস এস কে এম এ গেলেই স্বপনদা কে দেখতাম আমরা। কিন্তু সেই জাদুঘর এর ফুটপাথ ধরে বিকেলের কাগজ বের হলে পট পরিবর্তন আর অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়ে চলে যেতাম আমরা দুজন। বর্তমানে একজন তৃণমূলের মুখপাত্র অনেক বড় মাপের সাংবাদিক ও রাজনীতির লোক। দলের অন্দরে অনেক দূর অবধি তাঁর হাত বিস্তৃত। অন্যদিকে আর একজন ৩৫ বছর এই বাংলা মিডিয়াতে কাজ করে এখন বাতিলের দলে টোটো চালক হয়ে গেছে আর কি।  যাক সেই রনজিৎ এর আজ জন্মদিন। মনে পড়ে গেলো আমার...

ইটিভি ও অম্বরীষ‌ দা।

সাদা জীবনের কালো কথায় এমন একজনের কথা লিখবো আজ যার কথা অনেক আগেই লেখা উচিত ছিল আমার। ইটিভির কর্ণধার রামোজি রাও এর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির কথা লেখার সময় যার কথা আমার এক লাইন হলেও লেখা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যা আমায় মনে করিয়ে দিলেন একজন প্রাক্তন ইটিভির সহকর্মী। তার কথা শুনে মনে হলো ঠিক তো চেয়ারম্যান স্যার কে হারিয়ে আমরা সবাই ইটিভির কর্মীরা মিলিত হলাম এক নিমেষে এক ছাতার তলায়। কিন্তু যার জন্য আমরা সবাই তাঁর কাছে এই ইটিভির কোম্পানি তে কাজ এর সুযোগ পাই তাঁর কথা উল্লেখ করা দরকার ছিল বোধ হয়। কিন্তু আমি লিখি নি বা হয়তো ভুলে গেছিলাম সেই মানুষটার কথা বলতে। সেই ব্যক্তির কথাই আজ বলবো কিছুটা। না হলে সেটা ঠিক কাজ হবে না কিছুতেই।  যে মানুষটার জন্য আমরা প্রায় সবাই এই ভাবে সব একসাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কেউ পশ্চিমবাংলায় কাজ করেছি আবার কেউ কেউ হায়দরাবাদ এর সেই পাঁচিল ঘেরা রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যে কাজ করেছি। কিন্তু বাংলা মিডিয়ার সেই ছোট্টো চারা গাছের যে বীজ রামোজি রাও বপন করেছিলেন সেই সময় আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। এই মানুষটার হাত ধরেই লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল স...

বিশ্ব সাইকেল দিবস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস এর কথা। এই দু চাকার যানকে নিয়ে যে কত অম্ল মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে সবার জীবনেই তা বলে শেষ করা যাবে না বোধ হয়। আর আজ সেই সাইকেল উদযাপনের একটি আন্তর্জাতিক দিন। এই বিশ্ব সাইকেল দিবস প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় এই দিনটি।  ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে সাইকেলের দীর্ঘ জীবনকাল এবং বহু কাজে ব্যবহৃত হওয়ার প্রশংসা করা হয়। সঙ্গে প্রায় দুই শতক কাল এর সাধারণ,কম খরচ, বিশ্বাসযোগ্যতা, এবং পরিবেশের জন্য উপযুক্ত যানবাহনের মাধ্যম হিসাবে সাইকেলের উল্লেখ করা হয়েছিল। সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মূলতঃ এই দিবস উদ্‌যাপন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়েই। বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ তাই সবার কাছেই জানা একটা বিষয়। কিন্তু যে সাইকেল নিয়ে এত কথা সেই লাল টুকটুকে সাইকেল পেয়েছিলাম আমি স্কুল জীবনে ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠে। সময়টা যত দুর মনে পরে শীতকাল ডিসেম্বর মাস। মেজমামা আমায়...

দিদির নিদান

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ চুরি না করার নিদান। সেই ছোটো বেলায় পড়েছিলাম বইতে মাসীর সাবধান বাণী। চুরি করে কি অবস্থা হলো। শেষে মাসীর কান কামড়ে দিল বালক। মাসীর সাবধান বাণী না শুনে। আজ এই এক ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আমার সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো হঠাৎ করেই। আচ্ছা সত্যিই কি এই কড়া নিদান দিয়ে চুরি রোখা যায়। কথায় বলে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। মুখ্যমন্ত্রীর একদম সোজা সাপটা এই বর্জ নির্ঘোষ কথা শুনে আমার এমন মনে হলো আজ। যে কথার উত্তর দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই কারুর।  সে দলের যে নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, বা পুরসভার চেয়ারম্যান হোক। চুপ করে বসে হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ উত্তর দিলেই বিপদ বাড়বে বই কমবে না। একদম সোজা সাপটা তীরবিদ্ধ আক্রমন এর সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা। করে খাবার জায়গা নয় তৃণমূল দল। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নিজের পেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতি আর নয়, অনেক হয়েছে।  সত্যিই তো রাজনীতির আঙিনায় এই সব কিছুকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। কত কষ্ট করে মাটি তৈরি করে, জল দিয়ে এই ছোটো দুটি জোড়...

আমাদের চেনা বিখ্যাত ঝিলম

বাংলা মিডিয়ার নানাজনের সাথে দীর্ঘ সময়ে আমার কাজে অকাজে নানা সাংবাদিকের সাথে আলাপ থাকলেও। এই সাংবাদিকের সাথে ঠিক যেনো রোদ আর বৃষ্টির টক ঝাল মিষ্টি সম্পর্ক। এই হাসিঠাট্টা মশকরা করা দুজনের, আবার এই সিরিয়াস হয়ে গিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে যাওয়া একে অপরের সাথে। এই নানা বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য তাঁর সাথে আলোচনা হওয়া দুই সহজ পুরোনো বন্ধুর মতো। আবার যেনো খুব ক্ষুদ্র কোনো কারনেই মতান্তর আর মনান্তর হয়ে যাওয়া কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই ব্লগ লেখার কথা আমায় বহুদিন আগেই ও বলেছিল একদিন। আজ সেই ব্লগ লেখার পাগলামো কিছুটা তো তাঁর অনুপ্রেরণায় এটা অস্বীকার করা যায় না আজও কিন্তু । যেটা নিয়ে তাঁর সাথে আমার কথাও হয়েছে বহুবার।  বাংলা মিডিয়ার এই শিক্ষিত পড়াশোনা করে সাংবাদিক হতে আসা, এই রিপোর্টার ইন্টারভিউ বোর্ডে পরীক্ষকের জ্ঞান অনুসন্ধানে ব্যাপৃত হতেও পিছপা হয় না কিছুতেই। কোনও পরোয়া না করে আর ভয় না পেয়ে। সে হায়দরাবাদ এর বিখ্যাত বিরিয়ানী এলাকার বস হোক, কিম্বা কাগজের দাপুটে দাড়িওলা বস হোক। বা যে কেউ বস হোক। আসলে এটাই ওর চিরকালের নেচার। যার থেকে আজও বোধহয় বের ...