সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে তিনি থাকতেন একসময়। বর্তমানে গ্রাম ছেড়ে শহরে সল্টলেকে থাকেন তিনি বর্তমানে। আনন্দবাজার কাগজের প্রথম পাতায় তাঁর লেখা পড়ে আর নানা এক্সক্লুসিভ খবর পড়ে মুগ্ধ হতাম আমি একসময়ে। মনে মনে ভাবতাম যদি একবার এই বিখ্যাত রিপোর্টারকে তাঁকে দেখতে পেতাম একবার। তাহলে যেনো জীবন সার্থক হতো মোর। শুধু দু চোখের দেখা আর কিছুই নয়। 


অবশেষে দর্শন হলো তাঁর সাথে আমার মহাকরণের প্রেস কর্নারে। সেই পল্লীডাক প্রেসে কত যে তাঁর নাম শুনতাম সেদিনের কাগজে তাঁর নামে লেখা বের হলেই তাঁর প্রসঙ্গ আসতো। সেই তারকেশ্বরের ফাল্গুনীদার কাছে শুনতাম। সেই টেলিগ্রাফের তারক এর মুখে শুনতাম। আর সেই তাঁকেই নিজের চোখে দেখলাম প্রেস কর্ণারের ভিতর। ইটিভির দীপক এর সাথে বেশ ভালই আলাপ দেখলাম। একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে। একদম সাদামাটা চেহারা। দেখতে খুব যে ঝাঁ চকচকে সেটা নয়। আনন্দবাজার এর ছাপ আছে কিন্তু সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। একবার এই মন্ত্রীর ঘর তো আবার অন্য মন্ত্রীর ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি সবসময়। 

আর আমি আমার নিজের জেলার এহেন সাংবাদিককে দেখেই প্রথম দর্শনেই মজে গেলাম বেশ। সাদা বাড়ির তখন বিরাট ক্যাডার বাহিনী মহাকরণ অভিযানে সামিল হয় দফায় দফায় প্রতিদিন। সকালে দশটায় যাঁরা আসেন মহাকরণ পাহারা দিতে সেই তালিকায় অনেকেই আমার পরিচিত। সেই সোমা মুখোপাধ্যায়, সেই পারিজাত বন্দোপাধ্যায়, সেই চিরন্তন রায় চৌধুরী, এমন আরও অনেকেই হাজির হতেন সকাল বেলায়।

 আর পরে একটু বেলায় অফিস এর মিটিং সেরে ঝাঁকেঝাঁকে সব ঝাঁ চকচকে রিপোর্টার হাজির হতো মহাকরণে। সেই অশোক সেনগুপ্ত, রঞ্জন সেনগুপ্ত, অত্রি মিত্র, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, প্রভাত ঘোষ, সুপ্রকাশ চক্রবর্তী, সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মুখোপাধ্যায়, সব জিদান আর মারাদোনার দল মাঠে নেমে পড়তেন সব মাঠ জুড়ে তারা খেলবেন বলে। কেউ বলে নিয়ে দৌড়বেন কেউ আবার ম্যান মার্কিং করে বসে থাকবেন বারান্দায় চুপ করে। তাদের সাথেই আসতেন শ্যামলেন্দু মিত্র। হ্যাঁ একজনের নাম ভুলে গেছিলাম বিখ্যাত দেবজিত ভট্টাচার্য। আর সেই সোমনাথ চক্রবর্তী। আরও অনেকেই আসতেন নাম মনে নেই। আসতো সুনন্দ সান্যাল। পরে যোগ দেয় এই দলে চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য্য। 

সেই প্রেস কর্ণার এর ঘরের পাশে মন্ত্রী অরূপ রায় এর ঘরে মাছের অ্যাকোরিয়াম এ মাছেদের খাবার দিতে ছুটির দিনেও হাজির হতেন যে কর্মী। সেই মন্ত্রীর মাছেদের নিয়ে খবর করে কাগজের প্রথম পাতায় তা ছাপা হলে আমরা সব অবাক হলাম। আর কেমন হাসতে হাসতে খবর বের হবার পরে প্রেস কর্নারে ঢুকে একচক্কর ঘুরেই বাইরে আবার খবর খুঁজতে বেরিয়ে যেতেন তিনি। কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়েই। একটু ধর্ম আশ্রম আর মন্দির নিয়ে ইন্টারেস্ট বেশি ছিল তাঁর। দীপক দাস এর সাথে বেশ ভালো জুটি ছিল তাঁর। কিন্তু কারুর সাথেই বিশেষ ঘনিষ্ট হতে দেখিনি তাঁকে কোনোদিন। আর আমি তো সাহস করে বেশি কথাও বলতে পারিনি কোনোদিন। 

সেই মানুষটা সেই শ্যামলেন্দু মিত্র হঠাৎ অবসরের ঘোষণা করলেন ফেসবুকে। সেটা দেখেই আমার মনে পড়ে গেলো কিছু কথা। সেই দীপক দাস আর শ্যামলেন্দু মিত্রদার একসাথে মুড়ি খাওয়া মহাকরণের বারান্দায় বসে। সেই দৌড়ে সবাইকে কাটিয়ে ডজ করে গোল দেওয়া তাঁর। পরদিন কিছুই ঘটেনি এমন ভাব করে ফের প্রেস কর্নারে এসে একটা পাক দিয়েই বাইরে চলে যাওয়া। 

সত্যিই কি কোনো সাংবাদিক এর অবসর হয় জীবনে। একজন হার্ডকোর সাংবাদিক তো সারাজীবন ধরেই তাঁর রক্তে এই সাংবাদিকতার নেশা থেকেই যায়। তাই তিনি দীর্ঘ প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে এই কাজ করার পর ঘোষণা করলেন অবসর এর কিন্তু তিনি সত্যিই কি পারবেন সব কিছুই ফেলে দিয়ে অবসর নিয়ে চুপ করে বসে থাকতে। মনে হয় না। 

তাঁর মনে পড়বে সেই মহাকরণের সেন্ট্রাল গেট, সেই মহাকরণের কাঠের সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামা করার আওয়াজ, সেই মন্ত্রীদের ঘর, সেই নিরাপত্তা রক্ষীদের কাছে খবর নিয়ে মন্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করা, সেই চা খেতে খেতে পরদিনের সেরা খবরটা সংগ্রহ করে হাসিমুখে কাউকে কিছু না জানিয়ে অফিস ফিরে যাওয়া, পরদিন প্রথম পাতায় নিজের বাইলাইন দেখে খুশি হওয়া। এসব কি ভুলে থাকা যায় শ্যামেলেন্দু দা। আপনি ভালো থাকবেন দাদা। আপনার এই পোস্ট দেখে মনে হলো কিছু কথা লিখে ফেললাম আমি আমার ব্লগে। ভুল হলে ক্ষমা করে দেবেন।

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের - অভিজিৎ বসু।
ষোলো ডিসেম্বর দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

হারিয়ে যাওয়া চিঠি

আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় শুধু চিঠি আর চিঠি। হ্যাঁ, সেই সাদা কালো অক্ষরে লেখা নানা ধরনের চিঠির কথা। খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে একদম হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই বয়সেও তিনি বেশ বুকে সাহস নিয়ে আর সহজ সরল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে খোলা চিঠি প্রেরন করেছেন। সত্যিই এই কাজকে অসাধারণ বলতে কিন্তু লজ্জা নেই কোনও।রাজনীতির ময়দানে এই মানুষটাকে যত দেখি ততো যেনো মুগ্ধ হয়ে যাই।  এমন একটা সময়ে তিলোত্তমা খুনে দোষীদের শাস্তি চেয়ে ও জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর কাছে বামফ্রন্টের এই খোলা চিঠি। জানা নেই এই ফ্রন্ট এখনও কতটা সক্রিয় হয়ে ফ্রন্টফুটে ব্যাট করতে সক্ষম এই কঠিন পিচে। তবুও সেই বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু রাহুল দ্রাবিড় বা সুনীল গাভাস্কার এর মত বাউন্সার বল সামলে পত্রবোমা ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে। তিনি জানেন না এর ফল পাল্টা অভিঘাত কি হবে।  আসলে এই খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন করা আর অনশন করা চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ত...

কালীঘাটের শক্তিপীঠ

শক্তির আরাধনায় গোটা বাংলা। মা কালীর এই আরাধনা অশুভ শক্তির নাশ করে শুভ শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করা দিকে দিকে। যার অলোকজ্বল উৎসব চলছে রাজ্যের সর্বত্রই। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর বাড়ির এই মা কালীর পূজা সমস্ত শক্তির ভরকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। যেখানে হাজির মুখ্যমন্ত্রী নিজেই, হাজির অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবার। হাজির আরও অনেকেই। আর এই পূজোর অনুষ্ঠানে হাজির বেশ কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।  এই ছোটো বাড়ী শক্তিপীঠ না হলেও কালীঘাটের এই বাড়ী কিন্তু যে কোনো শক্তিপীঠ এর থেকেও কম যায় না কিন্তু। সবাইকে টেক্কা দিতে পারে সে হাসি মুখে। রাজ্যের যে কোনো শক্তিপীঠকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম এই টালির বাড়ীর মা কালীর পূজো। দেখতে দেখতে অনেক বছর পার করে এই পূজোর বয়স বাড়ছে দিন দিন। পুলিশ, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তা ব্যক্তিরা, আমলা, মন্ত্রী, নেতা, হাফ নেতা বিখ্যাত সব সাংবাদিক সবাই হাজির হন এই পুজোয় মাকে দর্শন করতে। একবার এই মার দর্শন পেলেই জীবন ধন্য। যাঁরা এই পুজোয় পৌঁছতে পারেন তারা সত্যিই সবাই বেশ ভাগ্যবান। আর যারা পারেন না তাঁরা সব আফশোষ করেন জিভ কাতেন বলেন নিশ...

হ্যাপি বার্থডে জামাল দা

আজ জামালদার জন্মদিন। আকাশবাণীর সেই সৈয়দ কওসর জামাল। কবিতা লেখক ও প্রাবন্ধিক জামাল দা। সেই ফরাসী কবিতার অনুবাদ করেন যিনি স্বচ্ছন্দে হাসিমুখে। সেই তাঁর লেখা কবিতার বই পাঠ করেন তিনি নানা অনুষ্ঠানে। কিছু কিছু মানুষ আছেন যাঁদের সাথে কথা বলতেই বেশ ভয় করে আমার। তাঁর বলয় ভেদ করে তাঁর কাছে যেতেই কেমন ভয় করে যেনো। সেই আকাশবাণীর লম্বা করিডর। সেই পরপর ঘরের দরজার বাইরে ভারী ভারী পর্দা ঝুলছে। ফ্যানের হাওয়ায় পর্দা নড়ছে একটু একটু করে। সেই একটি ঘরে বসে আছেন তিনি। ধোপদুরস্ত পোশাক আর সুন্দর ঝকঝকে জুতো পরে বারান্দা দিয়ে হেঁটে যেতেন তিনি একদম ফিটফাট হয়ে সেই কোনও সময় ডিউটি রুমে আবার সেই দোতলায় স্টেশন ডিরেক্টর এর ঘরে। দেখেই কেমন যেনো সমীহ করেই তাঁকে একটু রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পড়া আমাদের একটু জড়সড় হয়ে।  আমরা সেই সময়ে আকাশবাণীর অস্থায়ী কর্মী সব। সবে মাত্র তখন স্নাতক হয়ে কলকাতা শহরে কাজের সন্ধানে ঘুরছি এদিক সেদিক ওদিক। ভাগ্যে যদি জুট যায় একটা কাজ। সেই সময়ে আকাশবাণীর লম্বা বারান্দার এককোনে বিজ্ঞানের ঘর, যুববানী বিভাগ, কৃষি বিভাগ, বাংলা কথিকা বিভাগ, ইংরাজি বিভাগ, ড...

কুড়ি থালা দশ টাকা আর রসিক মুলুর জীবন

নাম মুলু হাঁসদা। বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানার চরিচা গ্রাম পঞ্চায়েত এর চর ইচ্ছা রঘুবরপুরের বাসিন্দা মুলু। আজ মুলুর জীবন কথা। গ্রামের নামটা ভারী অদ্ভুত। চর ইচ্ছা রঘুবরপুর। যে গ্রাম অন্য পাঁচটা গ্রামের মতই।সাদামাটা এই গ্রামে দারিদ্র্য, অপুষ্টি আর কর্মহীন জীবনের জলছবি সুস্পষ্ট। আর সেই গ্রামের মহিলারা নিজেদের সংসার রক্ষা করতে গাছের পাতাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। গাছের পাতা মুলুদের জীবনের জিয়ন কাঠি। যে জিয়ন কাঠিতে তারা ভোর হতেই পেটের টানে চলে যায় জঙ্গলে। খস খস শব্দ করে পায় হেঁটে তারা পাতা তোলে। গাছ থেকে টুপ টাপ করে ঝড়ে পড়া পাতাকে একটা একটা করে নিজের শাড়ির আঁচলে ভরে নেয়। তার পর সব পাতাকে বস্তায় ভরে ঘরে ফেরে।  ঠিক যেভাবে তারা পুকুরে নেমে শামুক গেঁড়ি আর গুগলি তোলে। যে ভাবে তাদের উদর পূর্তি হবে বলে। আর এই পাতাও যে তাদের পেট ভরায়। একটা একটা পাতাকে নিজের সন্তানের মতো আলগোছে ছুঁয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায় মুলু, বলে তোরা না থাকলে কি করতাম কে জানে। মাথার ওপর শাল সেগুনের বিশাল আকারের গাছগুলো চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে আর তারা চুপ করে শোনে মুলুর কথা।  একে অপ...