সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গ্রামের মহিলাদের হাতের ছোঁয়ায় অন্ধকার ঘরে অলোর দিশা


এরা সব গৃহবধূ কেউ আবার কলেজের পড়া শেষ করে হাতের সুচ সুতোর কাজ করে দুটো টাকা রোজগার করতে চেষ্টা করছেন। কেউ আবার সারাদিনের মাঠের কাজ সেরে ঘরে ফিরে নিজেদের হাতে তৈরী করছেন নানা ধরনের সুন্দর সুন্দর জিনিস। যা শোভা পায় শহুরে মানুষের ঘরের ড্রয়িং রুমে, খাবারের টেবিলে আবার পরিধানের জন্যও।


 হ্যাঁ, চন্দনা খান এর তৈরি মার্জিন টু মেইনস্ট্রিম এর এই হাতে কলমে কাজ শেখানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন মন্দিরা বসু। সেই হায়দরাবাদ থেকে এসে গ্রামে ঘুরে ঘুরে এইসব গ্রামের মহিলাদের একটু নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করছেন তাঁরা। সেই জন্যে নিজেরাই সুতো কিনে দিয়ে, কাপড় কিনে দিয়ে, তাদেরকে ডিজাইন বলে দিয়ে নানা জিনিস তৈরি করে শহরে সেই তাদের হাতে তৈরীর জিনিস নিয়ে গিয়ে বিক্রী করে দেন তাঁরা। আর এর থেকে লাভের অংশ দিয়ে আবার নতুন করে এই সব গ্রামের মহিলাদের জন্য তাদের হাতে তৈরীর জিনিস কিনে দেন।

 আর এই কাজ করে হাতে দুটো পয়সা পেয়ে বেশ খুশি মহিষঢাল গ্রামের বাঙালি পাড়ার বেশ কয়েকজন মহিলা। মন্দিরা দিদিকে পেয়ে তাঁর কাছ থেকে নতুন কাজের বরাত পেয়ে বেশ খুশি তারাও। বোলপুর কলেজ থেকে বিএ পাশ করে মৌসুমী মণ্ডল এখন এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রধান। হাসিখুশি এই মেয়েটির সাথে এই গ্রামের আট দশ জন মহিলা হাতের কাজ করছেন বেশ ভালই। রয়েছে তার মাও। যার জন্য তারা তাদের এই মন্দিরা দিকে ধন্যবাদ দেন বারবার। 

আর এই কাজে কি জিনিস লাগবে কি কিনে দিয়ে সাহায্য করতে হবে তাদের সেই কাজ করে দেন সদা হাস্যময় রাজু। যে এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার একজন শিক্ষক। সব মিলিয়ে এই মার্জিন টু মেইনস্ট্রিম এর নানা ধরনের কাজ ধীরে ধীরে গ্রামের মানুষদের অল্প কিছু হলেও সাহায্য করতে চেষ্টা করছে। আর সেটাই তারা করতে চাইছেন। মন্দিরা বসুর কথায়, দেখুন আমরা চাই এই প্রত্যন্ত গ্রামের এই প্রান্তিক মানুষের হাতে কিছু রোজগার যাতে হয় সেই ব্যবস্থা করতে।
 আর তারজন্য আমরা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা সবাই মিলে একসাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। যেমন সেলাই এর কাজ করা হয় তেমনি হার দুল তৈরির কাজেও সহায়তা করে এই চন্দনা খান এর তৈরি মার্জিন টু মেইনস্ট্রিম। 

তারা চান এই ধরনের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের পাশে দাঁড়াতে। একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে। সেই কাজ করতেই সুদূর হায়দরাবাদ থেকে বীরভূমের প্রত্যন্ত এই গ্রামে ছুটে আসা তাঁদের। আর যাদের জন্য ছুটে আসা সেই সব গ্রামের মহিলাদের মুখে হাসি ফোটে দিদি এলেই। কারণ একটাই দিদি এলে নতুন কাজের সুযোগ মেলে আর হাতে দুটো পয়সা পাওয়া যায়। তাদের অন্ধকার ঘরে আলো জ্বলে এই মার্জিন টু মেইনস্ট্রিম এর সহায়তায়।

গ্রামের মহিলাদের হাতের ছোঁয়ায় অন্ধকার ঘরে আলোর দিশা - অভিজিৎ বসু।
চব্বিশ জানুয়ারী দু হাজার পঁচিশ।
ছবি নিজের ক্যামেরায় তোলা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যা দেখি…প্রতিদিন মনে পড়ে কত… স্মৃতির পথ ধরে হাঁটি… লিখি…

বদলে যাওয়ার তালিকায় সবাই

ভেবেছিলাম আট থেকে আশির এই নিজেকে বদলে নেওয়ার দলে ও নাম লেখাবে না একদম কিছুতেই। গুরুগম্ভীর আর সেই অর্থপূর্ণ ভাব বিনিময় করে বেঁচে থাকা আর উচ্চপদে কর্মরত এই ব্যক্তি কী আর নিজেকে খোলস ছেড়ে বদলে নেবে হঠাৎ করেই। কেমন দেখতে লাগে এই নতুন চেহারায় ,সেটা দেখার বাসনা হবে তাঁর। কিন্তু না আমি দেখলাম এই বদলে নেওয়ার আর নিজেকে একটু উল্টেপাল্টে দেখে নেবার লোভ বড়ো ছোঁয়াচে। ঠিক বসন্তের বাতাসে উড়ে বেড়ানো পলাশের শুকনো হাসির মতই।   জানি আমায় কেউ কেউ বলবেন আবার ওকে নিয়ে লেখা। এই লেখা কত নম্বর ভাই। এই ছবি দেখে আর লেখার কি দরকার বাবা তোমার। তিনকাল গিয়ে এককাল ঠেকেছে তোমার। ওকে তেল দিয়ে আর লাভ নেই,চাকরির আশা নেই আর কোনোও তোমার। যেমন আছো তুমি তেমনি থাকো বাবা এই টোটো চালকের বেশ ধরে ঘুরে বেড়িয়ে এই এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস জীবন নিয়ে। আর কতবার এই মুর্শিদাবাদের ভেঙে পড়া সাম্রাজ্যের এক ব্যক্তিকে নিয়ে বার বার লিখবে আর তাঁকে প্রজেক্ট করবে তুমি এইবার তো থামো বাবা। একটু এই শেষ বেলায় হিসেব করে মেপে পা ফেলো মাঠে। না হলে যে গর্তে পড়ে বেঘোরে হাত পা ভাঙবে তোমার। আমি মনে মনে এই সব শুনে অস্ফুটে ...

হাসনুহানার হাতছানি

দেওয়াল জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা, নানা রঙের প্রলেপ। চারিদিকে শুধুই উজ্জ্বল নানা রঙের হাতছানি। ক্যানভাসে ফুটে ওঠা, নানা রঙের ছোপ ছোপ দাগ। হাজারো রঙের মাঝে রঙহীন বিবর্ণ একা আমি। হলদে ঘাসের ওপর শিশির ভেজা ভোরের হাতছানি এড়িয়ে। লাল পলাশের হাতছানি এড়িয়ে, সন্তর্পনে ঘুরে বেড়াই আমি, একা, একা। চাঁদনী রাতের আকাশে, হালকা মেঘের আড়ালে আবডালে, লুকিয়ে থাকা সব অপ্সরীর দল ঘুরে বেড়ায় সেজেগুজে। অন্ধকারের বুক চিরে জেগে ওঠা দুর আকাশে, ওই সপ্তর্ষি মন্ডলের ডাক শুনে। কেমন যেনো থমকে দাঁড়িয়ে যায়, ল্যাম্প পোস্টের ওই কালো ছায়া। হাসি মাখা রঙিন সব মুখ দেখে থমকে দাঁড়িয়ে যাই বিবর্ণ আমি, একদম একা। দিনের আলো ছেড়ে, ভীড় এড়িয়ে অন্ধকারে মুখ লুকোই আমি। পলাশ ফুলের গন্ধ এড়িয়ে, ছুটে যাই হাসনুহানার কাছে। অভিমানে মুখ লুকিয়ে সে বলে, এত দেরি করে এলে কেনো তুমি রঙিন হতে আমার কাছে। আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকি নত মুখে, হাসনুহানার গন্ধ বুকে নিয়ে। লাল পলাশের হাতছানি এড়িয়ে, হাসনুহানার কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে, রঙিন হয়ে যাই আমি। হাসনু হানার হাতছানি - অভিজিৎ বসু। ছাব্বিশ মার্চ, দু হাজার চব্বিশ।

জয় মা মঙ্গলচন্ডী

মা মঙ্গলচণ্ডী, যাঁহার নাম মধুর ও মনোহর, যাঁহার হস্তে বর ও অভয় মুদ্রা, যিনি দ্বিভুজা ও গৌরবর্ণা, যিনি রক্তপদ্মাসনে উপবিষ্টা ও মুকুট দ্বারা উজ্জ্বলরূপে ভূষিতা, যিনি রক্তবর্ণ কৌষেয় (চেলির) বস্ত্র পরিধান করিয়া আছেন, যিনি সহাস্যবদনা, সুন্দরাননা ও নবযৌবনা, যিনি সুন্দরাঙ্গী ও মধুর লাবণ্যযুক্তা, তিনিই হলেন দেবী মঙ্গলচণ্ডী। বিশ্বের মূল স্বরূপা প্রকৃতিদেবীর মুখ হ’তে মঙ্গলচণ্ডী দেবী উৎপন্না হয়েছেন। তিনি সৃষ্টিকার্য্যে মঙ্গলরূপা এবং সংহারকার্য্যে কোপরূপিণী, এইজন্য পণ্ডিতগণ তাঁকে মঙ্গলচণ্ডী বলিয়া অভিহিত করেন।” “দক্ষ অর্থে চণ্ডী এবং কল্যাণ অর্থে মঙ্গল। মঙ্গলকর বস্তুর মধ্যে দক্ষ বলে তিনি মঙ্গলচণ্ডী নামে প্রসিদ্ধ। প্রতি মঙ্গলবারে তাঁহার পূজা বিধেয়। মনু বংশীয় মঙ্গল রাজা নিরন্তর তাঁহার পূজা করিতেন।” জৈষ্ঠ্যমাসের প্রতি মঙ্গলবারে মা চণ্ডীর আরাধনা করা হয় বলে এই ব্রতের নাম মঙ্গলচণ্ডী ব্রত। জীবনে শ্রেষ্ঠ মাঙ্গল্যের প্রতিষ্ঠার জন্যই এ ব্রতের অনুষ্ঠান। মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের নানা রূপ আছে। কুমারীরা যে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের আচরণ করে, তা অতি সহজ ও সংক্ষিপ্ত। দেবী অপ্রাকৃত মহিমার প্রশস্তিগীতি ব্রতের ছড়ায় এস...

কুড়ি থালা দশ টাকা আর রসিক মুলুর জীবন

নাম মুলু হাঁসদা। বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানার চরিচা গ্রাম পঞ্চায়েত এর চর ইচ্ছা রঘুবরপুরের বাসিন্দা মুলু। আজ মুলুর জীবন কথা। গ্রামের নামটা ভারী অদ্ভুত। চর ইচ্ছা রঘুবরপুর। যে গ্রাম অন্য পাঁচটা গ্রামের মতই।সাদামাটা এই গ্রামে দারিদ্র্য, অপুষ্টি আর কর্মহীন জীবনের জলছবি সুস্পষ্ট। আর সেই গ্রামের মহিলারা নিজেদের সংসার রক্ষা করতে গাছের পাতাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। গাছের পাতা মুলুদের জীবনের জিয়ন কাঠি। যে জিয়ন কাঠিতে তারা ভোর হতেই পেটের টানে চলে যায় জঙ্গলে। খস খস শব্দ করে পায় হেঁটে তারা পাতা তোলে। গাছ থেকে টুপ টাপ করে ঝড়ে পড়া পাতাকে একটা একটা করে নিজের শাড়ির আঁচলে ভরে নেয়। তার পর সব পাতাকে বস্তায় ভরে ঘরে ফেরে।  ঠিক যেভাবে তারা পুকুরে নেমে শামুক গেঁড়ি আর গুগলি তোলে। যে ভাবে তাদের উদর পূর্তি হবে বলে। আর এই পাতাও যে তাদের পেট ভরায়। একটা একটা পাতাকে নিজের সন্তানের মতো আলগোছে ছুঁয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায় মুলু, বলে তোরা না থাকলে কি করতাম কে জানে। মাথার ওপর শাল সেগুনের বিশাল আকারের গাছগুলো চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে আর তারা চুপ করে শোনে মুলুর কথা।  একে অপ...