সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শীতের সকাল

আজ সাদা জীবনের কালো কথায় জীবনের কথা। যে জীবনে শুধু তাড়া আর দৌড়। কতো লোকের কত কাজ। কত ব্যস্ততা। কত দৌড়। কত তাড়া। এই শীতের ঘাপটি মারা সকালে কত তাড়া সকলের। একদম নিঃশ্বাস ফেলার ফুরসত নেই, কোথাও তাদের। একদম ঘড়ি ধরে মেপে মেপে পা ফেলে এগিয়ে চলা। পা টিপে টিপে সময় ব্যয় করা, অল্প খরুচে কেপ্পন মানুষের মতই। একটু এদিক ওদিক হলেই পা পিছলে হড়কে যাবার সম্ভাবনা।

এদের দেখে একসময় আমার কেমন যেনো হিংসা হয়, এই সব কাজ ওলা মানুষদের দেখে। কী সুন্দর এরা জীবনের শীতের কুয়াশা মাখা ভেজা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ঠিক নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ঠিক ঘড়ি ধরে মেপে মেপে।

ওই যে শীতের সকাল হলেই দেখতাম ঘড়ি মেপে সেই গায়ে সাদা চাদর মুড়ি দিয়ে এই শীতের ভোর বেলায়। সেই যে হরে কৃষ্ণর নাম করে সকলকে ঘুম ভাঙিয়ে যেতেন কালো গান গাওয়া সেই বৈষ্ণব লোকটা। কত দিন ছোটো বেলায় ভেবেছি ওকে নাম জিজ্ঞাসা করবো। কিন্তু না,পারিনি আমি। 

সেই কাঁধে ছেড়া ব্যাগ নিয়ে। পায় দু রঙের হাওয়াই চটি পরা সেই নাকে, কপালে, চন্দনের তিলক কেটে সে সকাল হলেই চলে আসতো আমাদের বাড়ির দরজায়। একদম সময় মেপে ঘড়ি ধরে এক তালে খঞ্জনি বাজিয়ে ভজো গৌরাঙ্গ, কহ গৌরাঙ্গ, লহ গৌরাঙ্গের নাম রে,গান শুনিয়ে চলে যেত সে আপন মনে।

 যদি কেউ দাঁড়াতে বলতো তাহলে সে দাঁড়াতো তার বাড়ির দরজায়। আর না হলে পরের বাড়িতে দরজায় দাঁড়িয়ে সেই হরি নাম গান শুনিয়ে যেত সে। একদম যন্ত্রের মত গান শুনিয়ে চলে যেত সে প্রতিদিন এই বাড়ী ওই বাড়ি। 

এখনো আমার সেই কালো লম্বা তিলক আঁকা মুখটা মনে আছে আজও। হয়তো অনেক দূর থেকে ট্রেন পথেই সে আসতো এই শীতের ভোর বেলায় গান গাইতে। কোনো দিন ঝুলি ভরে যেত তার অনেক। কোনো দিন খালি থাকতো অনেকটাই। কিন্তু তার সেই কাজের কোনো ফাঁকি দেখিনি। সেই খঞ্জনির আওয়াজ শুনলেই বুঝতাম এই বার আমায় বিছানা ছেড়ে উঠে পড়তেই হবে। আর ঘাপটি মেরে লুকিয়ে শুয়ে থাকা যাবে না এই ঠাণ্ডায়। 


সেই যে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, মৌসুমেও এক সময় ধরে ঘড়ি মেপে বড়ো রাস্তার ওপার থেকে সেই পাল কাকুর গলা শুনতাম আমি। বাবার কারখানায় যাবার জন্য এক জন সহকর্মীর সেই ডাকটা বড়ো মিষ্টি লাগতো আমার। 
বোস, বলেই থেমে যেত পাল কাকু। সেই সাতটা এগারোর ঘড়ির কাঁটা কোনো দিন বারও বা পনেরোর ঘর পার হতো না হাজার ঝড়, জলেও। কী করে যে এমন ঘড়ি ধরে মেপে জীবনে চলতে পারে এরা কে জানে।বাবা বলতেন, আসছি।

 অনেক পরে যখন সেই ঘড়ি ধরে মেপে মেপে সারা জীবন দৌড়ে, কাজ করেও যখন সেই কারখানার গেটে তালা পড়লো আচমকাই। সেই থেকে আর সকাল হলেই পাল কাকুর গলা শুনতাম না আমি আর কোনো দিন।

 একদিন দেখলাম রিষড়া স্টেশনের পশ্চিম রেল গেটের লোহার রডে সারি সারি লটারি সাজিয়ে বসে আছেন একা চুপ করে পাল কাকু। উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন তিনি আকাশ পানে। যে দৃষ্টির সীমানায় শুধুই শুন্যতা। আদিগন্ত বিস্তৃত শূন্যতা নিয়ে দিব্যি বেঁচে আছেন তিনি। আর কোনো তাড়া নেই তাঁর জীবনের ঘড়ি ধরে মেপে এগিয়ে যাবার।

 সারাদিন ঠিক আমার মতোই একা একা বসে থাকা আর কি। আর সময় মেপে মেপে চলার কোনো তাড়া নেই আর তার। যে লোকটা ঘড়ি কে হারিয়ে সারাটা জীবন দৌড়ে গেলো। সেই কেমন করে যেনো দৌড় হারিয়ে ফেলে বসে গেলো রাস্তার পাশে চুপটি করে হঠাৎ। অনেক দিন ভেবেছি আমি জিজ্ঞাসা করবো তাঁকে, কি খবর আপনার। আপনি ভালো আছেন তো। কেমন আছেন আপনি। বাড়ির লোকরা সব ঠিক আছে তো। না আর খবর নেওয়া হয় নি আর আমার কোনো দিন। 

তারপর হঠাৎ একদিন দেখলাম আর সেই লোহার রডে সাজিয়ে রাখা লটারীর দেখা নেই আর। অন্য কেউ দখল করেছে সেই জায়গা। ঘড়ি ধরে মেপে মেপে এগিয়ে চলা মানুষটা যে কোথায় আচমকা উধাও হয়ে গেল কে জানে। আর খবর নেওয়া হলো না আমার তাঁর। কথা বলা হলো না আমার আর তাঁর সাথে ঘড়ি ধরে মেপে চলা জীবনের মানুষটার সাথে। জানা হলো না জীবনের শেষ লগ্নে এসে সে কি পেলো জীবন থেকে। এটা জানার বড়ো আগ্রহ ছিল আমার। কিন্তু কই আর যে তাঁকে খুঁজেই পেলাম না আর কোনো দিন কোথাও।  

আর সেই যে অনেক কাল আগে কলকাতার শিয়ালদহ রাস্তার কাছে নেবুতলা পার্কের পাশে ছোটো দোকানের ভেতর কালো চশমা পরে বসে থাকতেন নাড়ু কাকু বাবার অভিন্ন হৃদয় বন্ধু। যে দোকানে গেলেই পাশের চায়ের দোকান থেকে এনে সেই সুজির বিস্কুট খেতে দিত আমায় ডেকে ভালোবেসে। বড়ো ভালো বাসতেন তিনি আমায়। সেই সুজির বিস্কুট খেয়ে জিভে লেগে থাকত তার স্বাদ আমার মুখে অনেকক্ষন।

 কলকাতার ওই লেদের দোকান থেকেই সংসার চালাতো কারখানা বন্ধের পর নাড়ু কাকু। কত মেপে মেপে পা ফেলে জীবন কাটিয়েও শেষ বেলায় কেমন সব এলো মেলো হয়ে গেলো এদের জীবন গুলো এক ধাক্কায় কারখানার গেটে তালা পড়তেই। কত মধুর স্মৃতি ছিল আমার এই সব মানুষদের নিয়ে সেই সব দিন গুলো কেমন করে হারিয়ে গেলো শীতের ভোর বেলায় কুয়াশার মাঝে হারিয়ে গেলো।

 সেই যে শীতের রাতে হাওড়ার সালকিয়ার সেই ছোট্টো এক চিলতে ঘরে বাস করা সেই অজিত কাকু যার হাতের ওয়েল্ডিং এর কাজ আর পাইপ ফিটিং এর কাজ খুব ভালো ছিল বলে সবাই বলত। হিসাব করে একেবারে মেপে মেপে বলে দিতেন কি কাজের কত জিনিস লাগবে। পাকা মিস্ত্রির মত হিসাব করে এস্টিমেট দিতেন তিনি। 

তাঁকে নিয়েই তো বাবার কারখানা বন্ধের পর সেই এই শীতের সময় সাইথিয়াতে কাজে এসেছিলাম ছোটো বেলায় প্লাম্বিং এর কাজ করতে সবাই মিলে। চেনা লোকের কাজ বলে কথা। সারারাত জেগে কত ভালোবেসে ঠাণ্ডায় মাটিতে শুয়ে সরকারি হাসপাতালে জলের লাইনের কাজ করে ছিলেন তিনি।তারপর কোথায় যে তিনি হারিয়ে গেলেন কে জানে। 

সেই তার ভেঙে পরা জীর্ণ ঘরে বসে এই ঠাণ্ডায় গরম রুটি আর ঠাণ্ডা খেজুর গুড় দিয়ে ভিজিয়ে খাওয়ার কথা আমার আজও মনে পড়ে। কাকিমা আমায় নিজের ছেলের মতো ভালোবেসে গরম রুটি সেঁকে দিয়েছিলেন একটা একটা করে পরম যত্নে।অতি কষ্টের দারিদ্রের মাঝেও, আসলে বোধ হয় দারিদ্র্যের মধ্যে ভালোবাসা গা ঢাকা দিয়ে লুকিয়ে থাকে। অতি সংগোপনে ঘাপটি মেরে। সময় সুযোগ পেলেই সে বেরিয়ে পড়ে। স্থান কাল পাত্র ভুলে।

এসব মানুষ গুলোর এক সময় কি দৌড়ের জীবন ছিল। সেই দৌড়টাই একদিন আচমকাই দমকা হাওয়ায় থেমে গেলো এদের। হারিয়ে গেলো তাদের সব কিছুই।আজ সব কেমন ছন্নছাড়া হয়ে বেঁচে আছে বা বেঁচে নেই এরা।

 জীবনেও কি ভোলা যাবে উত্তরপাড়ার মাখলার সেই শম্ভু কাকুর কথা। কত স্মৃতি যে লুকিয়ে আছে সেই মাখলার বাড়ির মধ্যে দিন কাটানোর কথা আমার। স্কুলের ছুটি পড়লেই শীতের সময় বেড়াতে যেতাম আমি সেই মাখলার বাড়িতে। সেই বাড়িতে কত দিন যে কাটিয়েছি আমি ছোটো বেলায়।

শীতের দুপুরে ছাদে উঠে কত খেলা খেলেছি একসাথে সবাই মিলে। রাতের বেলা খাবার পর থালা ভর্তি ফল কেটে দিতেন কাকিমা।কাকু বলতেন, খেয়ে নাও শরীর ভালো হবে। খাবার পর ফল খেতে হয় বুঝলে। সেই দৌড়ে সামিল হওয়া মানুষটাও কেমন করে হারিয়ে গেলো একদিন। খবর পেলাম শম্ভু কাকুও নেই মারা গেছেন। 

 আসলে বোধ হয় এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। জীবনের অমোঘ নিয়ম তো হলো মরণের কাছে ছুটে যাওয়া। যা আমি ভাবছি অস্বাভাবিক সেটাই স্বাভাবিক নিয়মেই হয়েছে সব কিছু। এসব নিয়ে আক্ষেপ করে ভেবে মন খারাপ করে কি হবে তাহলে। লোকরা হাসবে যে। বলবে লোকটা স্মৃতির জ্বরে পাগল হয়ে গেছে।  

মনে পড়লো আমিও তো কত দৌড়ে বেড়াতাম একসময়। এই প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত। খবরের নেশায় সেই দৌড় ছিল দেখার মতই। দিন রাত দৌড়ে বেড়াতাম এদিক থেকে ওদিক। সে একটা দিন ছিল বটে।সেই দৌড়টাও তো নিজেই নিজের অজান্তে বন্ধ করে দিলাম কেনো কে জানে। কেউ কেউ বলে আত্মঘাতী মানুষটা, কেউ বলে বদ্ধ পাগল লোকটা। কিন্তু যে যাই বলুক আমি কি, আমি নিজেই জানি না মনে হয়। 

আসলে সেয়ানা না হয়ে, পাগল হওয়া ভালো বোধহয় কিছুটা। তাতে দু পক্ষের লাভ হয়। এক যারা সমাজে, অফিসে, সংসারে সেয়ানা হয়ে, সেয়ানা সেজে বেঁচে থাকে তাদের জীবনের লাভের খাতা ভরে যায় একটু বেশি করে। আর যারা পাগল তারা হিসেব নিকেশ করে উঠতে পারে না কোনো ভাবেই। তাই তাদের যা মনে হয় সেটাই নিজের মনে করে ফেলে। তাতে তাদের লাভের বদলে ক্ষতিটাই বেশি হয়। লাভ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে আমায় এমন ভেবে চিন্তে কাজ করিনি কোনো দিন। আজ রাতে বসে সেই ভাবনাই আসছে আমার। 

আচ্ছা সেই যে আমাদের সাথেই কাজ করতো, দৌড় প্রতিযোগিতায় আর দৌড়বে না বললো সবাইকে। একে একে, ডেকে ডেকে, বললো এই মাঠে আর দৌড়ানো যাবে না কিছুতেই। সমতল মাঠটা আচমকাই ক্ষমতার পালা বদলে বড়ো এবড়ো খেবড়ো হয়ে গেছে রে। চল ভাই, সবাই এই মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যাই আমরা। এই মাঠে আর দৌড়ানো যাবেনা কিছুতেই।

 প্রতিদিন যে মানুষটা দৌড় থামিয়ে দেবার কথা বলে স্বপ্ন দেখাতো সবাইকে আর আমরা অনেকেই সেই মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে চলে এলাম দুম করে। কোনো কিছু আগু পিছু না ভেবেই। সত্যিই তো চেনা মাঠটা বড়ো বেশি অচেনা লাগছিল আমাদের অনেকেরই। তাই নির্দ্বিধায় মাঠ ছেড়ে দিলাম, বেরিয়ে এলাম সব বুক ফুলিয়ে। কিন্তু আজও সেই আমাদের স্বপ্ন দেখানো লোকটা নিজে আজও ওই একই মাঠে দৌড়ে যাচ্ছে সে নিশ্চিন্তে, নিরাপদে আর নির্ভয়ে। বোধহয় অসম এই বদলে যাওয়া মাঠে কি করে খেলতে হয় সেটা প্র্যাকটিস করে নিয়েছে সে। বেশ দিব্যি সুখেই বেঁচে আছে সে।

কই মুখ থুবড়ে পড়ছে না তো সে। দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে সে। আসলে এই যে দৌড়ের নেশাটা কাটাতে পারা খুব মুশকিল মনে হয় আমার। আর তাই বোধহয় আমরা সব মাঠের বাইরে চলে এলেও সে মাঠের বাইরে আস্তে পারে নি আজও। দিব্যি সুখেই বেঁচে আছে । এদের কি বলবো জানি না। শুধু এটা বলবো যে ভাই সত্যিই অসাধারন পারফরম্যান্স। ঠিক শীতের মরশুমে লাল হলুদের ডার্বির মত পারফরম্যান্স।

যাকগে এসব বলে লাভ কি। তাই তো এই শীতের ভোর বেলায় এত মানুষ ম্যারাথন দৌড়তে রাস্তায় নামলো অনেকেই। যাতে দৌড়ের অভ্যাসটা না চলে যায়।আসলে এটাই আসল কথা।দৌড়ের অভ্যাসটা বজায় রাখতে হবে। যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে শিরদাঁড়াকে ভঙ্গুর করে নিয়ে দৌড়তে হবে। তাতে লাভ বই ক্ষতি হবে না।

কিন্তু শীতের কুয়াশা মেখে যে হলুদ রঙের ছোপ ছোপ পাখিটা নিশ্চিন্তে নিরাপদে খেজুর গাছের কলসীর ওপর বসে আছে একমনে ওই হলুদ মাঠের ধারে। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে জিরেন কাঠির দিকে ঠায় সে। ঠাণ্ডা হাওয়ায় কেমন এলো মেলো হয়েও সে বসে আছে পরম নিশ্চিন্তে, নির্বিঘ্নে।

 কোনো তাড়া নেই তার, দৌড় নেই তার। সে জানে একসময় সেই জীরেন কাঠি থেকে বেরিয়ে আসবে সেই অমৃত সুধা। যা সে প্রাণ ভরে ঠোঁট ডুবিয়ে সেই অমৃত সুধা পান করবে আপন মনে। আর মনে মনে বলবে দৌড়ই জীবনের সব কিছু নয়। 

জীবনকে উপভোগ করতে গেলে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, অপেক্ষা করতে হয়। শীতের কুয়াশা মাখা হিম শীতল ভোরের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আর ঠিক এক সময় অপেক্ষার প্রহর শেষে ভোরের কুয়াশা কেটে যায়। সূর্যের মিঠে নরম আলোয় আলোকিত হয়ে যায় গোটা প্রকৃতি। 

আর ঠিক সেই মুহূর্তে আমি দেখি আমার কালো জীবনে, ভোরের সাদা আলোর রোশনাই কেমন উপচে ছড়িয়ে পড়ে আমার সারা শরীরে একটু একটু করে। আমি ঘাড় উঁচু করে দেখি হলুদ ছোপ ছোপ পাখিটা কেমন নিশ্চিন্তে , আকন্ঠ অমৃত সুধা পান করছে আপনমনে। ওর কোনো তাড়া নেই। ওর কোনো দৌড় নেই। আমি শুধু ওকে দেখি। ওকেই দেখি। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ওকেই দেখি।

শীতের সকাল - অভিজিৎ বসু।
বাইশ জানুয়ারী, দু হাজার পঁচিশ।
ছবি সৌজন্য গুগল ও নিজের সংগ্রহ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...