সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পুলিশ ও কবি সুকোমল দাস

যন্ত্রণা, রক্তক্ষরণ, মৃত্যু, আত্মশ্লাঘা এসব আর লিখতে পারছেন না কিছুতেই কবি। সেই মনোবেদনার কথাই কবি বলেছেন তাঁর কলমে চুপিসাড়ে। তিনি একাধারে দাপুটে পুলিশ অফিসার, অন্যদিকে কলম ধরা অনুভূতির রাজ্যে বিচরণ করা এক কবি। আবার ছাত্র জীবনে একসময়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতার পাঠশালায় পাশ করা এক ছাত্রও। সব মিলিয়ে একজন নানা স্বাদের মানুষ তিনি।


 কবে যে তাঁকে প্রথম দেখলাম আজ আর মনে নেই আমার। হুগলী জেলার শ্রীরামপুর থানায় হবে বোধহয়। একদম দক্ষ ডাকাবুকো এক দীর্ঘদেহী এক পুলিশ অফিসার। যিনি লোকজন বলে শক্তের ভক্ত আর নরমের যম তিনি। সেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দাপটে কাজ করা পুলিশ অফিসার সুকোমল দাস। আমাদের সবার সুকোমল দাদা। অপরাধীদের কাছে আতঙ্কের আর ভয়ের মানুষ তিনি।

 আমার জানা ছিল না তিনি তন্ময়ের সাংবাদিকতার ব্যাচমেট। নিজেই সেই কথা বলেছেন তিনি তন্ময়ের লেখা পড়ে। আসলে এই জীবন দেখা আর জীবন খোঁজার মাঝে এমন কত কিছুই যে লুকিয়ে থাকে আমাদের চারপাশে কে জানে। যা আমরা কিছুই জানতে পারিনা। সেই শ্রীরামপুর থেকে বিভিন্ন জায়গায় কাজের সূত্রে ঘোরা আর যোগাযোগ স্থাপন করার নিরন্তর চেষ্টা। মানুষকে আপ্রাণ সাহায্য করার চেষ্টা। আর সেই সাংবাদিকতা পড়ার সুবাদে খবর আর খবরের গন্ধ বোঝার নাক ছিলো তাঁর বরাবরই। 

তাই তাঁর অ্যাকশন ও অপারেশনের খবর করতে লিখতে আর বলতে কোনোদিন অসুবিধার সৃষ্টি হয়নি আমাদের মত খবর সংগ্রহ করে বেঁচে থাকা দিন আনা দিন খাওয়া মানুষদের। বেশ ওপরে ওপরে কড়া আর কঠিন, শক্ত মনের মানুষ হলেও সেই ভিতরে মানুষটা যেনো একটু অন্য রকমের একদম নরম মনের মানুষ তিনি। আর তাই মনে হলো আমার সাদা জীবনের কালো কথায় লেখা দরকার সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার সুকোমল দাসকে নিয়ে কিছু কথা। 

খুব বেশী অভিজ্ঞতা, স্মৃতির পাতায় উত্তাপ ছড়িয়ে নেই আজ আর আমার। তবু তো এই জীবন এর মাঝে এমন একজন মানুষ ছিলেন। ভালো কাজের মানুষ ছিলেন। শুধুই কাজকে ভালোবেসে দৌড়ে বেড়ানো আর ছুটে বেড়ানো এক পুলিশ অফিসার ছিলেন। যিনি আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুল, বিষ্ণুপুর, উত্তরবঙ্গের নানা জায়গায় অপারেশন করতে যাওয়া এক দাপুটে পুলিশ অফিসার। সেই তাঁর মাকে ভালোবেসে সব কাজ হাসি মুখে সামলে দেওয়া এক দক্ষ পুলিশ অফিসার। সেই তাঁর আমলে তাঁর সাথে কাজ করা নানা নিচু তলার কনস্টেবল, সোর্স, সাংবাদিকদের কাছে আজও হিরো হয়েই আছেন তিনি। 

কেনো জানিনা আমিও বেশ তাঁর কাজের ফ্যান বরাবর। হয়তো পুলিশে কাজ না করলে খবরের জগতে কাজ করতেন তিনি। সেই পকেটে হাত দিয়ে বিন্দাস জীবন আর স্টাইল নিয়ে। যা তাঁর একমাত্র ট্রেডমার্ক। যেটার জোরেই তিনি এতদিন ধরে ব্যাট করে যাচ্ছেন কেমন হাসি মুখে। সেই লাল আমল থেকে সবুজ আমলেও। কোনও অসুবিধায় না পড়েই। ভালো থাকবেন আপনি। 

এমন হাজারও প্রতিবন্ধকতার মাঝে এইভাবেই হাসিমুখে ব্যাট করে যান আপনি। আর অবসরে লিখে যান আপনার মনের নানা অনুভূতির কথা। যে অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে এই শব্দহীন শীতার্ত ভোরে সাদা কুয়াশার আস্তরণ মেখে টুপটাপ করে কাঁচের জানালার শার্সির ওপর, শিশির ভেজা গাছের পাতার ওপর যা পড়ে আমরা বিমোহিত হই মুগ্ধ হই আর আনন্দ পাই। ভালো থাকবেন আপনি।

পুলিশ ও কবি সুকোমল দাস - অভিজিৎ বসু।
এগারো জানুয়ারী দু হাজার পঁচিশ 
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

হারিয়ে যাওয়া চিঠি

আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় শুধু চিঠি আর চিঠি। হ্যাঁ, সেই সাদা কালো অক্ষরে লেখা নানা ধরনের চিঠির কথা। খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে একদম হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই বয়সেও তিনি বেশ বুকে সাহস নিয়ে আর সহজ সরল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে খোলা চিঠি প্রেরন করেছেন। সত্যিই এই কাজকে অসাধারণ বলতে কিন্তু লজ্জা নেই কোনও।রাজনীতির ময়দানে এই মানুষটাকে যত দেখি ততো যেনো মুগ্ধ হয়ে যাই।  এমন একটা সময়ে তিলোত্তমা খুনে দোষীদের শাস্তি চেয়ে ও জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর কাছে বামফ্রন্টের এই খোলা চিঠি। জানা নেই এই ফ্রন্ট এখনও কতটা সক্রিয় হয়ে ফ্রন্টফুটে ব্যাট করতে সক্ষম এই কঠিন পিচে। তবুও সেই বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু রাহুল দ্রাবিড় বা সুনীল গাভাস্কার এর মত বাউন্সার বল সামলে পত্রবোমা ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে। তিনি জানেন না এর ফল পাল্টা অভিঘাত কি হবে।  আসলে এই খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন করা আর অনশন করা চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ত...

কালীঘাটের শক্তিপীঠ

শক্তির আরাধনায় গোটা বাংলা। মা কালীর এই আরাধনা অশুভ শক্তির নাশ করে শুভ শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করা দিকে দিকে। যার অলোকজ্বল উৎসব চলছে রাজ্যের সর্বত্রই। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর বাড়ির এই মা কালীর পূজা সমস্ত শক্তির ভরকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। যেখানে হাজির মুখ্যমন্ত্রী নিজেই, হাজির অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবার। হাজির আরও অনেকেই। আর এই পূজোর অনুষ্ঠানে হাজির বেশ কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।  এই ছোটো বাড়ী শক্তিপীঠ না হলেও কালীঘাটের এই বাড়ী কিন্তু যে কোনো শক্তিপীঠ এর থেকেও কম যায় না কিন্তু। সবাইকে টেক্কা দিতে পারে সে হাসি মুখে। রাজ্যের যে কোনো শক্তিপীঠকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম এই টালির বাড়ীর মা কালীর পূজো। দেখতে দেখতে অনেক বছর পার করে এই পূজোর বয়স বাড়ছে দিন দিন। পুলিশ, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তা ব্যক্তিরা, আমলা, মন্ত্রী, নেতা, হাফ নেতা বিখ্যাত সব সাংবাদিক সবাই হাজির হন এই পুজোয় মাকে দর্শন করতে। একবার এই মার দর্শন পেলেই জীবন ধন্য। যাঁরা এই পুজোয় পৌঁছতে পারেন তারা সত্যিই সবাই বেশ ভাগ্যবান। আর যারা পারেন না তাঁরা সব আফশোষ করেন জিভ কাতেন বলেন নিশ...

হ্যাপি বার্থডে জামাল দা

আজ জামালদার জন্মদিন। আকাশবাণীর সেই সৈয়দ কওসর জামাল। কবিতা লেখক ও প্রাবন্ধিক জামাল দা। সেই ফরাসী কবিতার অনুবাদ করেন যিনি স্বচ্ছন্দে হাসিমুখে। সেই তাঁর লেখা কবিতার বই পাঠ করেন তিনি নানা অনুষ্ঠানে। কিছু কিছু মানুষ আছেন যাঁদের সাথে কথা বলতেই বেশ ভয় করে আমার। তাঁর বলয় ভেদ করে তাঁর কাছে যেতেই কেমন ভয় করে যেনো। সেই আকাশবাণীর লম্বা করিডর। সেই পরপর ঘরের দরজার বাইরে ভারী ভারী পর্দা ঝুলছে। ফ্যানের হাওয়ায় পর্দা নড়ছে একটু একটু করে। সেই একটি ঘরে বসে আছেন তিনি। ধোপদুরস্ত পোশাক আর সুন্দর ঝকঝকে জুতো পরে বারান্দা দিয়ে হেঁটে যেতেন তিনি একদম ফিটফাট হয়ে সেই কোনও সময় ডিউটি রুমে আবার সেই দোতলায় স্টেশন ডিরেক্টর এর ঘরে। দেখেই কেমন যেনো সমীহ করেই তাঁকে একটু রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পড়া আমাদের একটু জড়সড় হয়ে।  আমরা সেই সময়ে আকাশবাণীর অস্থায়ী কর্মী সব। সবে মাত্র তখন স্নাতক হয়ে কলকাতা শহরে কাজের সন্ধানে ঘুরছি এদিক সেদিক ওদিক। ভাগ্যে যদি জুট যায় একটা কাজ। সেই সময়ে আকাশবাণীর লম্বা বারান্দার এককোনে বিজ্ঞানের ঘর, যুববানী বিভাগ, কৃষি বিভাগ, বাংলা কথিকা বিভাগ, ইংরাজি বিভাগ, ড...

কুড়ি থালা দশ টাকা আর রসিক মুলুর জীবন

নাম মুলু হাঁসদা। বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানার চরিচা গ্রাম পঞ্চায়েত এর চর ইচ্ছা রঘুবরপুরের বাসিন্দা মুলু। আজ মুলুর জীবন কথা। গ্রামের নামটা ভারী অদ্ভুত। চর ইচ্ছা রঘুবরপুর। যে গ্রাম অন্য পাঁচটা গ্রামের মতই।সাদামাটা এই গ্রামে দারিদ্র্য, অপুষ্টি আর কর্মহীন জীবনের জলছবি সুস্পষ্ট। আর সেই গ্রামের মহিলারা নিজেদের সংসার রক্ষা করতে গাছের পাতাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। গাছের পাতা মুলুদের জীবনের জিয়ন কাঠি। যে জিয়ন কাঠিতে তারা ভোর হতেই পেটের টানে চলে যায় জঙ্গলে। খস খস শব্দ করে পায় হেঁটে তারা পাতা তোলে। গাছ থেকে টুপ টাপ করে ঝড়ে পড়া পাতাকে একটা একটা করে নিজের শাড়ির আঁচলে ভরে নেয়। তার পর সব পাতাকে বস্তায় ভরে ঘরে ফেরে।  ঠিক যেভাবে তারা পুকুরে নেমে শামুক গেঁড়ি আর গুগলি তোলে। যে ভাবে তাদের উদর পূর্তি হবে বলে। আর এই পাতাও যে তাদের পেট ভরায়। একটা একটা পাতাকে নিজের সন্তানের মতো আলগোছে ছুঁয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায় মুলু, বলে তোরা না থাকলে কি করতাম কে জানে। মাথার ওপর শাল সেগুনের বিশাল আকারের গাছগুলো চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে আর তারা চুপ করে শোনে মুলুর কথা।  একে অপ...