সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ঝুড়ি

কুমোর-পাড়ার গরুর গাড়ি-
বোঝাই করা কলসি হাঁড়ি।
গাড়ি চালায় বংশীবদন,
সঙ্গে যে যায় ভাগ্নে মদন।
হাট বসেছে শুক্রবারে
বক্সীগঞ্জে পদ্মাপারে।
জিনিসপত্র জুটিয়ে এনে
গ্রামের মানুষ বেচে কেনে।
উচ্ছে বেগুন পটল মুলো,
বেতের বোনা ধামা কুলো,
সর্ষে ছোলা ময়দা আটা,
শীতের র‌্যাপার নক্সাকাটা।
ঝাঁঝরি করা বেড়ি হাতা,
শহর থেকে সস্তা ছাতা।
কলসি-ভরা এখো গুড়ে
মাছি যত বেড়ায় উড়ে।
খড়ের আঁটি নৌকো বেয়ে
আনলো ঘাটে চাষির মেয়ে।
অন্ধ কানাই পথের ‘পরে
গান শুনিয়ে ভিক্ষে করে।
পাড়ার ছেলে স্নানের ঘাটে
জল ছিটিয়ে সাঁতার কাটে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শুক্রবারের হাটে যাবার সৌভাগ্য আমার হয়নি কোনো দিন। কবির লেখায় বেতের বোনা ধামা কুলোও কিনতে পারিনি আমি কোনো দিন। আসলে ঝুড়ি নিয়ে কি করবো আমি সেটাই ভাবার সময় হয়নি কখনো।রান্না ঘরের কোণে অযত্নে পড়ে থাকা ঝুড়িকে উল্টে পাল্টে দেখিনি কোনোদিন আমরা কেউই মনে হয়।

আচ্ছা সেই বংশী বদনের মত যদি হওয়া যেত বেশ মজা হতো তাই না। গুড়ের হাঁড়ি কলসী নিয়ে লাঠি উঁচিয়ে হাট হাট করে এগিয়ে চলা যেত। গ্রামের মেঠো রাস্তা ধরে। ঝুড়ি ভরে বাজার নিয়ে ঘরে ফিরে বাড়ির উঠোনে সব কিছু একসাথে ঢেলে দিয়ে, সুখের সংসারে সবাইকে ডেকে বলা যেত, দেখো দেখো তোমরা সবাই কেমন বাজার এনেছি আমি আজ। 


আর বাড়ির কাকিমা, জেঠিমারা, সব যে যার কাজ ফেলে হাসি মুখে ,ঘর থেকে বেরিয়ে আসতো সবাই। তারপর দরজা থেকে মুখ বাড়িয়ে বলতো বাহ সত্যিই তো বাড়ির ছোটো ছেলেটা বেশ বড় হয়ে গেছে গো আমাদের। আর তারপর নিকানো উঠোনে গড়া গড়ি খেত লাল টুকটুকে টমেটো, যার রং একদম নতুন বিয়ে করা ন কাকিমার ঠোঁটের মতই সুন্দর ছিল।আর সবুজ কামরাঙ্গা আর মেথির সুন্দর গোছা। 

আসলে এই সব ভাবতে বেশ ভালোই লাগে আজকাল আমার। ছোটো ছোটো ঘর, পাশাপাশি গা ঘেঁসে থাকা। একসাথে বাস করা। এক হয়ে মিশে গিয়ে সবাই মিলে সংসারের হাল ধরা। কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাওয়া মাঝ নদীতে ঠিক একা একা নৌকা চালানো নয়। দাঁড় বাওয়া নয়। সবাই মিলে দাঁড় টানা। 


 আসলে এই জড়িয়ে ধরে বেঁচে থাকার মধ্য একটা বেশ আমোদ ফুর্তি টান ছিল একে ওপরের মধ্যে। সেই যে বছর প্রবল জ্বর হলো ছোটো কাকার, সেই বার জেঠিমা তো সারা রাত জেগে কত জল পটি দিলো ছোটো কাকার কপালে। বললো ছোটো তুই একটু ঘুমও আমি জেগে আছি। আর পাশের ঘরের নতুন বিয়ে হওয়া ন কাকিমা তো নতুন কেনা বার্লি গুলে এনে কাকাকে খাইয়ে দিল পরম যত্নে ভালোবেসে। নতুন পড়া কাপড়ের আঁচল দিয়ে মুখ মুছিয়ে দিল। যে, ন কাকা অফিস যাবার সময় নতুন বউকে না দেখে অফিস বের হতো না কোনো দিন। সেই ন কাকাও কেমন দরজায় মুখ বাড়িয়ে বলে গেলো ছোটো তাড়া তাড়ি খেয়ে নে। সুস্থ হতে হবে তোকে।না হলে এসব সামলাবে কে।

 উঠোনে ছড়িয়ে পড়া বাজারের মতই ভালোবাসা জড়িয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা ছিল সবার মধ্যে। এঘরের বিবাদ,বিপদে পাশের ঘরের মানুষ গুলো কেমন ঝাঁপিয়ে পড়ে তার সমাধান করার চেষ্টা করতো। কি করে যে সব,বদলে গেলো কে জানে। পরম মমতায় যত্নে ঝুড়ি ভরে রাখা হতো সেই সব বাজার। সেই সব দিন গুলো সত্যিই আলাদা ছিল একদম।


আমিও তাই কদিন ধরেই ভাবছিলাম,সেই ঝুড়ি নিয়ে যদি সত্যিই কোনো ভাবে এই ছোটো ঘরে ফিরতে পারি আমি একা একা‌ কেমন হয় তাহলে। যে ঘরে কাকিমা, জেঠিমা, দিদা, মামী আজ কেউই আর নেই আমার। যে ঘর ছেড়ে সবাই দূরে, বহু দূরে চলে গেছে অনেক দিন আগেই। যে ঘর বড়ো ছোটো। যে ঘরে বড়ো উঠোন নেই, দালান নেই, লাল মেঝে নেই। শ্যাওলা পড়া বাথরুম নেই।


যে ঘরের ইঞ্চি মাপা ড্রয়িং রুম , ইঞ্চি মাপা ঘর আর এক চিলতে বারান্দা আছে। মুখ বাড়িয়ে অনেক কষ্টে দুপুর বেলায় একটু রোদ এসে উঁকি মরে সেই বারা- ন্দায়। যে রোদকে গায়ে জোর করে মেখে কেমন আহা কী সুন্দর বলে আমরা তিন জন এ ওর মুখের দিকে তাকাই অপলক নয়নে। আমাদের বোবা দৃষ্টি ঘরের সুন্দর রং করা পাঁচিলের ওপর ধাক্কা মারে আচমকা। আমরা সবাই কেমন চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকি ইঞ্চি মাপা ঘরে একে অপরের কাছে খুব কাছে। 


যাই হোক যেমন ভাবা তেমনি কাজ। অনেক খুঁজে ঝুড়ি কিনতে বের হলাম আমি। আসলে এই ঝুড়ির মধ্যে থেকে আমি অনেক কিছু ফিরে পেতে চাইলাম। দর দাম করে ঝুড়িও পেলাম ঠিক মনের মতই। ঠিক সেই পুরোনো দালান ওলা একান্নবর্তী পরিবারের সেই ঝুড়ির মতই। মনটা বড়ো ভালো হয়ে গেলো আমার শীতের সন্ধ্যায়।আসলে পুরোনো বন্ধুর সাথে দেখা হলে যেমন ভালো লাগে তেমনি ভাবেই ভালো লাগলো বেশ এই ঝুড়ি কিনতে পেরে।


 সত্যিই তো ঘর ছোটো হোক, ইঞ্চি মাপা ড্রয়িং রুম হোক,আর এক চিলতে বারান্দা হোক।ঝুড়ি তো বড়ো হয়েছে আমার। আর কি চাই। বেশ দরদাম করে মনের আনন্দে আত্মহারা হয়ে ঝুড়ি মাথায় নিয়ে ঘরে ফিরলাম আমি শীতের সন্ধ্যায়।

বেশ ভালো মনে আনন্দে ফুর ফুরে মেজাজে ঘরে ফিরছি সস্তার ঝুড়ি কিনে মাথায় করে। আরে রাস্তায় তো মহা বিপদ ঝুড়ি মাথায় লোক দেখে রাস্তার চার পেয়েগুলো কেমন হৈ হৈ করে তেড়ে উঠলো আমায় দেখে। ওদের কথায়, আরে এ আবার কে এলো রে পাড়াতে। কেমন চেনা লোকটা কে, ওদের অচেনা লাগলো মনে হয় তাই এমন চিল চিৎকার জুড়ল ওরা। একদম রাস্তার ধারে চুপ চাপ বসে থাকা সারমেয় গুলো একযোগে দল বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়লো আমার ওপর। আমি তো মাথায় ঝুড়ি নিয়ে বেশ ফুর ফুরে মেজাজে ফিরে আসছিলাম। সবটাই কেমন গেলো চটকে। 


একটা পুরনো দিনের টাটকা স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে ফিরছিলাম আমি। সেই ভোর বেলায় মামার বাড়িতে, বজরা মামা এই ভাবে ঝুড়ি মাথায় করে ক্ষেতের ফসল তুলে এনে উঠোনে ঢেলে দিয়ে বলতো কর্তা আরো মাঠে তোলা আছে ওগুলো নিয়ে আসি মাঠ থেকে। কর্তা চুপ করে খড়ম পরে কাঠের চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে থাকতেন সাদা চাদর গায়ে দিয়ে। আর দিদা ছোটো সাদা প্লেট করে লাল সেদ্ধ আগুনে পোড়া বেল মাখা দিয়ে যেত চিনি দিয়ে। কর্তা বসে খেতেন সেটা চামচ দিয়ে একটু একটু করে। শীতের রোদ লুটো পুটি খেত উঠোনে কর্তার পয়ের সামনে। আর সেই রোদে শুয়ে লালু আড় মোড়া ভাঙতো।


 আমরা সব ভীড় করতাম বজরা মামা আর কি আনে দেখার জন্য উঠোনের মাঝে ভীড় করে দাঁড়াতাম সবাই। পুকুর থেকে জাল ফেলে বড়ো মাছ তুলে উঠোনে ঢেলে দিয়ে যেত সোনা চাচা। জ্যান্ত বড়ো মাছটা তখন শীতের নরম রোদে আছাড়ি পিছাড়ি খেত ল্যাজ ঝাপটে। কর্তা সব কিছু আসার পর দিদাকে বলতেন ওদেরকে সব দিয়ে দিও একটু করে। দিদা বলতেন এই তোরা দাঁড়িয়ে যাস সব চলে যাস না। মুড়ি তরকারি খেয়ে টিফিন করে তারপর যাস তোরা আর বাজার নিয়ে যাস ঘরের জন্য।

 কী আষ্টেপৃষ্টে, জড়িয়ে ধরে রাখা জীবন ছিল সব সেই সময়। একদম অন্যরকম ভালোবাসা লুকিয়ে রেখে, সবাই মিলে বেঁচে থাকার নিরন্তর চেষ্টা ছিল। আসলে বোধ হয় জীবনের এই বড়ো-ছোটো, ধনী- দরিদ্র, উঁচু- নিচু, স্ট্যাটাস আপডেট ওলা আর স্ট্যাটাস হীন, ধান্দাবাজ স্বার্থপর আর পরোপকারী আত্ম স্বার্থহীন , শুধুই নিজের জন্য বেঁচে থাকার চেষ্টা করা আর নীরবে নিভৃতে চুপ করে দাঁড়িয়ে অন্যের কথা ভেবে আকুলি বিকুলি করা এসবের মধ্য বেশ একটা ফারাক থাকলেও গভীর গোপন ভালোবাসা লুকিয়ে আছে যে। 

যে ভালবাসা ওই কঠিন কঠোর মানুষটার কাছে আমরা দেখতাম সবাই। দাদুভাই কে প্রতিদিন দুধের বাটির শেষ সরটা আমায় দাদু দিতে ভুলতেন না তিনি কোনো দিনই। ঠিক যেমন করে বজরা মামাদের বাজার দেবার কথা মনে করিয়ে দিতেন তিনি। এটাই বোধ হয় স্বাভাবিক জীবনের নিয়ম। যে নিয়মকে ভেঙে চুরে আমরা নিজেরাই সব ইঞ্চি মাপা জীবনে ঢুকে গেছি একে একে নিজের ইচ্ছায়। 

নিজেদেরকে বদলাতে বদলাতে, ছোটো বারান্দায় এক কোণে চুপ করে একা একা চায়ের কাপ নিয়ে বসে থেকেছি আনমনে মাথার ওপর এক চিলতে আকাশকে বুকে আগলে নিয়ে। আর ভেবেছি সত্যিই কি অসাধারণ অনুভূতি আমাদের, একদম ঠিক ফিতে মাপা অনুভূতি আর ভালোবাসা যার কোনো অংশীদার নেই। শুধু একা আমি তার অংশীদার আর কেউ নয় এর ভাগীদার। 


যে অংশীদারিত্ব নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই। বন্ধু মহলে, অফিস মহলে ইঞ্চি মাপা নয়, একদম ফুট,গজ মাপা গর্ব আমাদের। যে গর্বের প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে একে অপরের সঙ্গে অজানা অচেনা মানুষ হয়ে লড়াই করার বৃথা চেষ্টা করা। সে বন্ধু, শত্রু, সহকর্মী, সহমর্মী যেই হোক না কেনো। 


আসলে এটাই বোধ হয় আমরা। সত্যিই তো এই ভাবেই বেঁচে থাকা কি খুব দরকার। ঝুড়ি মাথায় নিয়ে ঘরে ফিরছি আমি। কনকনে ঠাণ্ডা গায়ে নিয়ে আমি হাঁটছি ঝুড়ি মাথায় করে একা একা। আশে পাশে কেউ নেই। আমার ফাঁকা ঝুড়ি যেনো ভরে যাচ্ছে ধীরে ধীরে অতি সন্তর্পনে। ফিরে আসছে আমার হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা, বুকের মাঝে লুকিয়ে থাকা মায়া, মমতা আর সহমর্মিতা আর সহানুভূতির ঢেউ ধাক্কা মারছে ঝুড়ির ধারে। ঠিক সমুদ্রের তীরে নোনা ঢেউ এর মত।

একটু একটু করে ভারী হয়ে যাচ্ছে আমার খালি ঝুড়িটা। আমি হাঁটছি, আর হাঁটছি। এক দম একা একা হেঁটে চলেছি টল মল পায়ে। চিৎকার করা কুকুর গুলো কেমন করে যেনো চুপ করে গেল হঠাৎ। তাহলে ওরাও কি চিনতে পারলো অবশেষে আমায়, কে জানে, হয়তো তাই পেরেছে তাই অমন চুপ মেরে গেছে ওরা।

ওরা বোধ হয় বুঝতে পারলো আমি শুধু দু পেয়ে আত্মসর্বস্ব একটা জীবমাত্র নই। যে শুধুই ভালবাসার অভিনয় করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে নিরন্তর সারাটা জীবন,তেমন মানুষ নয় আমি। যার মাথার ঝুড়ি থেকে সবুজ কচি লাউ ডগার মত নরম ভেজা ভালোবাসা উপচে উপচে পড়ছে আমার সারা শরীরে, ছড়িয়ে পড়ছে সেই ভালোবাসার সুখস্পর্শ। 

দুলছে, দুলছে আমার হাঁটার তালে তাল মিলিয়ে তারা মাথা তুলে দুলছে। ছোটো ছোটো ভালোবাসার কনা, ভালোবাসার অনুরণন, আমার সারা শরীরে, মনে, ছড়িয়ে পড়ছে ধীরে ধীরে। আর সেই আমি ফিরে এসেছি আমার ইঞ্চি মাপা ড্রয়িং রুমে, ইঞ্চি মাপা ঘরের ভিতরে। সেই বড়ো ঝুড়িকে মাথায় নিয়ে।

ঝুড়ি - অভিজিৎ বসু।
একুশে জানুয়ারী দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক ও নিজের ফোনে তোলা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...