সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ঝুড়ি

কুমোর-পাড়ার গরুর গাড়ি-
বোঝাই করা কলসি হাঁড়ি।
গাড়ি চালায় বংশীবদন,
সঙ্গে যে যায় ভাগ্নে মদন।
হাট বসেছে শুক্রবারে
বক্সীগঞ্জে পদ্মাপারে।
জিনিসপত্র জুটিয়ে এনে
গ্রামের মানুষ বেচে কেনে।
উচ্ছে বেগুন পটল মুলো,
বেতের বোনা ধামা কুলো,
সর্ষে ছোলা ময়দা আটা,
শীতের র‌্যাপার নক্সাকাটা।
ঝাঁঝরি করা বেড়ি হাতা,
শহর থেকে সস্তা ছাতা।
কলসি-ভরা এখো গুড়ে
মাছি যত বেড়ায় উড়ে।
খড়ের আঁটি নৌকো বেয়ে
আনলো ঘাটে চাষির মেয়ে।
অন্ধ কানাই পথের ‘পরে
গান শুনিয়ে ভিক্ষে করে।
পাড়ার ছেলে স্নানের ঘাটে
জল ছিটিয়ে সাঁতার কাটে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শুক্রবারের হাটে যাবার সৌভাগ্য আমার হয়নি কোনো দিন। কবির লেখায় বেতের বোনা ধামা কুলোও কিনতে পারিনি আমি কোনো দিন। আসলে ঝুড়ি নিয়ে কি করবো আমি সেটাই ভাবার সময় হয়নি কখনো।রান্না ঘরের কোণে অযত্নে পড়ে থাকা ঝুড়িকে উল্টে পাল্টে দেখিনি কোনোদিন আমরা কেউই মনে হয়।

আচ্ছা সেই বংশী বদনের মত যদি হওয়া যেত বেশ মজা হতো তাই না। গুড়ের হাঁড়ি কলসী নিয়ে লাঠি উঁচিয়ে হাট হাট করে এগিয়ে চলা যেত। গ্রামের মেঠো রাস্তা ধরে। ঝুড়ি ভরে বাজার নিয়ে ঘরে ফিরে বাড়ির উঠোনে সব কিছু একসাথে ঢেলে দিয়ে, সুখের সংসারে সবাইকে ডেকে বলা যেত, দেখো দেখো তোমরা সবাই কেমন বাজার এনেছি আমি আজ। 


আর বাড়ির কাকিমা, জেঠিমারা, সব যে যার কাজ ফেলে হাসি মুখে ,ঘর থেকে বেরিয়ে আসতো সবাই। তারপর দরজা থেকে মুখ বাড়িয়ে বলতো বাহ সত্যিই তো বাড়ির ছোটো ছেলেটা বেশ বড় হয়ে গেছে গো আমাদের। আর তারপর নিকানো উঠোনে গড়া গড়ি খেত লাল টুকটুকে টমেটো, যার রং একদম নতুন বিয়ে করা ন কাকিমার ঠোঁটের মতই সুন্দর ছিল।আর সবুজ কামরাঙ্গা আর মেথির সুন্দর গোছা। 

আসলে এই সব ভাবতে বেশ ভালোই লাগে আজকাল আমার। ছোটো ছোটো ঘর, পাশাপাশি গা ঘেঁসে থাকা। একসাথে বাস করা। এক হয়ে মিশে গিয়ে সবাই মিলে সংসারের হাল ধরা। কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাওয়া মাঝ নদীতে ঠিক একা একা নৌকা চালানো নয়। দাঁড় বাওয়া নয়। সবাই মিলে দাঁড় টানা। 


 আসলে এই জড়িয়ে ধরে বেঁচে থাকার মধ্য একটা বেশ আমোদ ফুর্তি টান ছিল একে ওপরের মধ্যে। সেই যে বছর প্রবল জ্বর হলো ছোটো কাকার, সেই বার জেঠিমা তো সারা রাত জেগে কত জল পটি দিলো ছোটো কাকার কপালে। বললো ছোটো তুই একটু ঘুমও আমি জেগে আছি। আর পাশের ঘরের নতুন বিয়ে হওয়া ন কাকিমা তো নতুন কেনা বার্লি গুলে এনে কাকাকে খাইয়ে দিল পরম যত্নে ভালোবেসে। নতুন পড়া কাপড়ের আঁচল দিয়ে মুখ মুছিয়ে দিল। যে, ন কাকা অফিস যাবার সময় নতুন বউকে না দেখে অফিস বের হতো না কোনো দিন। সেই ন কাকাও কেমন দরজায় মুখ বাড়িয়ে বলে গেলো ছোটো তাড়া তাড়ি খেয়ে নে। সুস্থ হতে হবে তোকে।না হলে এসব সামলাবে কে।

 উঠোনে ছড়িয়ে পড়া বাজারের মতই ভালোবাসা জড়িয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা ছিল সবার মধ্যে। এঘরের বিবাদ,বিপদে পাশের ঘরের মানুষ গুলো কেমন ঝাঁপিয়ে পড়ে তার সমাধান করার চেষ্টা করতো। কি করে যে সব,বদলে গেলো কে জানে। পরম মমতায় যত্নে ঝুড়ি ভরে রাখা হতো সেই সব বাজার। সেই সব দিন গুলো সত্যিই আলাদা ছিল একদম।


আমিও তাই কদিন ধরেই ভাবছিলাম,সেই ঝুড়ি নিয়ে যদি সত্যিই কোনো ভাবে এই ছোটো ঘরে ফিরতে পারি আমি একা একা‌ কেমন হয় তাহলে। যে ঘরে কাকিমা, জেঠিমা, দিদা, মামী আজ কেউই আর নেই আমার। যে ঘর ছেড়ে সবাই দূরে, বহু দূরে চলে গেছে অনেক দিন আগেই। যে ঘর বড়ো ছোটো। যে ঘরে বড়ো উঠোন নেই, দালান নেই, লাল মেঝে নেই। শ্যাওলা পড়া বাথরুম নেই।


যে ঘরের ইঞ্চি মাপা ড্রয়িং রুম , ইঞ্চি মাপা ঘর আর এক চিলতে বারান্দা আছে। মুখ বাড়িয়ে অনেক কষ্টে দুপুর বেলায় একটু রোদ এসে উঁকি মরে সেই বারা- ন্দায়। যে রোদকে গায়ে জোর করে মেখে কেমন আহা কী সুন্দর বলে আমরা তিন জন এ ওর মুখের দিকে তাকাই অপলক নয়নে। আমাদের বোবা দৃষ্টি ঘরের সুন্দর রং করা পাঁচিলের ওপর ধাক্কা মারে আচমকা। আমরা সবাই কেমন চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকি ইঞ্চি মাপা ঘরে একে অপরের কাছে খুব কাছে। 


যাই হোক যেমন ভাবা তেমনি কাজ। অনেক খুঁজে ঝুড়ি কিনতে বের হলাম আমি। আসলে এই ঝুড়ির মধ্যে থেকে আমি অনেক কিছু ফিরে পেতে চাইলাম। দর দাম করে ঝুড়িও পেলাম ঠিক মনের মতই। ঠিক সেই পুরোনো দালান ওলা একান্নবর্তী পরিবারের সেই ঝুড়ির মতই। মনটা বড়ো ভালো হয়ে গেলো আমার শীতের সন্ধ্যায়।আসলে পুরোনো বন্ধুর সাথে দেখা হলে যেমন ভালো লাগে তেমনি ভাবেই ভালো লাগলো বেশ এই ঝুড়ি কিনতে পেরে।


 সত্যিই তো ঘর ছোটো হোক, ইঞ্চি মাপা ড্রয়িং রুম হোক,আর এক চিলতে বারান্দা হোক।ঝুড়ি তো বড়ো হয়েছে আমার। আর কি চাই। বেশ দরদাম করে মনের আনন্দে আত্মহারা হয়ে ঝুড়ি মাথায় নিয়ে ঘরে ফিরলাম আমি শীতের সন্ধ্যায়।

বেশ ভালো মনে আনন্দে ফুর ফুরে মেজাজে ঘরে ফিরছি সস্তার ঝুড়ি কিনে মাথায় করে। আরে রাস্তায় তো মহা বিপদ ঝুড়ি মাথায় লোক দেখে রাস্তার চার পেয়েগুলো কেমন হৈ হৈ করে তেড়ে উঠলো আমায় দেখে। ওদের কথায়, আরে এ আবার কে এলো রে পাড়াতে। কেমন চেনা লোকটা কে, ওদের অচেনা লাগলো মনে হয় তাই এমন চিল চিৎকার জুড়ল ওরা। একদম রাস্তার ধারে চুপ চাপ বসে থাকা সারমেয় গুলো একযোগে দল বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়লো আমার ওপর। আমি তো মাথায় ঝুড়ি নিয়ে বেশ ফুর ফুরে মেজাজে ফিরে আসছিলাম। সবটাই কেমন গেলো চটকে। 


একটা পুরনো দিনের টাটকা স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে ফিরছিলাম আমি। সেই ভোর বেলায় মামার বাড়িতে, বজরা মামা এই ভাবে ঝুড়ি মাথায় করে ক্ষেতের ফসল তুলে এনে উঠোনে ঢেলে দিয়ে বলতো কর্তা আরো মাঠে তোলা আছে ওগুলো নিয়ে আসি মাঠ থেকে। কর্তা চুপ করে খড়ম পরে কাঠের চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে থাকতেন সাদা চাদর গায়ে দিয়ে। আর দিদা ছোটো সাদা প্লেট করে লাল সেদ্ধ আগুনে পোড়া বেল মাখা দিয়ে যেত চিনি দিয়ে। কর্তা বসে খেতেন সেটা চামচ দিয়ে একটু একটু করে। শীতের রোদ লুটো পুটি খেত উঠোনে কর্তার পয়ের সামনে। আর সেই রোদে শুয়ে লালু আড় মোড়া ভাঙতো।


 আমরা সব ভীড় করতাম বজরা মামা আর কি আনে দেখার জন্য উঠোনের মাঝে ভীড় করে দাঁড়াতাম সবাই। পুকুর থেকে জাল ফেলে বড়ো মাছ তুলে উঠোনে ঢেলে দিয়ে যেত সোনা চাচা। জ্যান্ত বড়ো মাছটা তখন শীতের নরম রোদে আছাড়ি পিছাড়ি খেত ল্যাজ ঝাপটে। কর্তা সব কিছু আসার পর দিদাকে বলতেন ওদেরকে সব দিয়ে দিও একটু করে। দিদা বলতেন এই তোরা দাঁড়িয়ে যাস সব চলে যাস না। মুড়ি তরকারি খেয়ে টিফিন করে তারপর যাস তোরা আর বাজার নিয়ে যাস ঘরের জন্য।

 কী আষ্টেপৃষ্টে, জড়িয়ে ধরে রাখা জীবন ছিল সব সেই সময়। একদম অন্যরকম ভালোবাসা লুকিয়ে রেখে, সবাই মিলে বেঁচে থাকার নিরন্তর চেষ্টা ছিল। আসলে বোধ হয় জীবনের এই বড়ো-ছোটো, ধনী- দরিদ্র, উঁচু- নিচু, স্ট্যাটাস আপডেট ওলা আর স্ট্যাটাস হীন, ধান্দাবাজ স্বার্থপর আর পরোপকারী আত্ম স্বার্থহীন , শুধুই নিজের জন্য বেঁচে থাকার চেষ্টা করা আর নীরবে নিভৃতে চুপ করে দাঁড়িয়ে অন্যের কথা ভেবে আকুলি বিকুলি করা এসবের মধ্য বেশ একটা ফারাক থাকলেও গভীর গোপন ভালোবাসা লুকিয়ে আছে যে। 

যে ভালবাসা ওই কঠিন কঠোর মানুষটার কাছে আমরা দেখতাম সবাই। দাদুভাই কে প্রতিদিন দুধের বাটির শেষ সরটা আমায় দাদু দিতে ভুলতেন না তিনি কোনো দিনই। ঠিক যেমন করে বজরা মামাদের বাজার দেবার কথা মনে করিয়ে দিতেন তিনি। এটাই বোধ হয় স্বাভাবিক জীবনের নিয়ম। যে নিয়মকে ভেঙে চুরে আমরা নিজেরাই সব ইঞ্চি মাপা জীবনে ঢুকে গেছি একে একে নিজের ইচ্ছায়। 

নিজেদেরকে বদলাতে বদলাতে, ছোটো বারান্দায় এক কোণে চুপ করে একা একা চায়ের কাপ নিয়ে বসে থেকেছি আনমনে মাথার ওপর এক চিলতে আকাশকে বুকে আগলে নিয়ে। আর ভেবেছি সত্যিই কি অসাধারণ অনুভূতি আমাদের, একদম ঠিক ফিতে মাপা অনুভূতি আর ভালোবাসা যার কোনো অংশীদার নেই। শুধু একা আমি তার অংশীদার আর কেউ নয় এর ভাগীদার। 


যে অংশীদারিত্ব নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই। বন্ধু মহলে, অফিস মহলে ইঞ্চি মাপা নয়, একদম ফুট,গজ মাপা গর্ব আমাদের। যে গর্বের প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে একে অপরের সঙ্গে অজানা অচেনা মানুষ হয়ে লড়াই করার বৃথা চেষ্টা করা। সে বন্ধু, শত্রু, সহকর্মী, সহমর্মী যেই হোক না কেনো। 


আসলে এটাই বোধ হয় আমরা। সত্যিই তো এই ভাবেই বেঁচে থাকা কি খুব দরকার। ঝুড়ি মাথায় নিয়ে ঘরে ফিরছি আমি। কনকনে ঠাণ্ডা গায়ে নিয়ে আমি হাঁটছি ঝুড়ি মাথায় করে একা একা। আশে পাশে কেউ নেই। আমার ফাঁকা ঝুড়ি যেনো ভরে যাচ্ছে ধীরে ধীরে অতি সন্তর্পনে। ফিরে আসছে আমার হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা, বুকের মাঝে লুকিয়ে থাকা মায়া, মমতা আর সহমর্মিতা আর সহানুভূতির ঢেউ ধাক্কা মারছে ঝুড়ির ধারে। ঠিক সমুদ্রের তীরে নোনা ঢেউ এর মত।

একটু একটু করে ভারী হয়ে যাচ্ছে আমার খালি ঝুড়িটা। আমি হাঁটছি, আর হাঁটছি। এক দম একা একা হেঁটে চলেছি টল মল পায়ে। চিৎকার করা কুকুর গুলো কেমন করে যেনো চুপ করে গেল হঠাৎ। তাহলে ওরাও কি চিনতে পারলো অবশেষে আমায়, কে জানে, হয়তো তাই পেরেছে তাই অমন চুপ মেরে গেছে ওরা।

ওরা বোধ হয় বুঝতে পারলো আমি শুধু দু পেয়ে আত্মসর্বস্ব একটা জীবমাত্র নই। যে শুধুই ভালবাসার অভিনয় করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে নিরন্তর সারাটা জীবন,তেমন মানুষ নয় আমি। যার মাথার ঝুড়ি থেকে সবুজ কচি লাউ ডগার মত নরম ভেজা ভালোবাসা উপচে উপচে পড়ছে আমার সারা শরীরে, ছড়িয়ে পড়ছে সেই ভালোবাসার সুখস্পর্শ। 

দুলছে, দুলছে আমার হাঁটার তালে তাল মিলিয়ে তারা মাথা তুলে দুলছে। ছোটো ছোটো ভালোবাসার কনা, ভালোবাসার অনুরণন, আমার সারা শরীরে, মনে, ছড়িয়ে পড়ছে ধীরে ধীরে। আর সেই আমি ফিরে এসেছি আমার ইঞ্চি মাপা ড্রয়িং রুমে, ইঞ্চি মাপা ঘরের ভিতরে। সেই বড়ো ঝুড়িকে মাথায় নিয়ে।

ঝুড়ি - অভিজিৎ বসু।
একুশে জানুয়ারী দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক ও নিজের ফোনে তোলা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো থাকবেন শঙ্খ শুভ্র বাবু

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক পুলিশ অফিসার এর কথা বলবো। বহুদিন পর আজ যার সাথে আচমকাই কথা হলো আমার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের লেখার মাধ্যমে বহু দিন, বহু কাল পরে। আচ্ছা আপনি কি সত্যিই টোটো চালান। তাঁর সরাসরি প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে আমি বললাম, না।  আসলে সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার বহু বছর আগে এস ডি পি ও শ্রীরামপুর হিসেবে কাজ করতেন আমার নিজের হুগলী জেলায় নিজের শহরে শ্রীরামপুরে। যে জেলায় আমিও একসময় দাপিয়ে ঘুরে কাজ করেছি একসময় এই জেলার সাংবাদিক হিসেবে। যদিও সেই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে বেঁচে থাকার অভ্যাস আমার নেই একদমই। সেটা কোনো কালেই ছিল না। যেহেতু আজ বহুদিন পর তাঁর সাথে একটু যোগাযোগ হলো তাই তাঁর কথা লিখতে ইচ্ছা হলো আমার। সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার হলেন শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী। একদম হিরো স্টাইল এর পুলিশ অফিসার। মারকুটে এই পুলিশ অফিসার। মস্তানদের ধরে রাস্তায় ফ্যাশন প্যারেড করানো সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার শঙ্খশুভ্র বাবু। যে কারণে হুগলী জেলায় মস্তান আর ডনদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে খবরের কাগজের পাতায় প্রতিদিন খবরে থাকতেন তিনি সেই সময়।  যার সময় খবর...

বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দোপাধ্যায়

এই বাংলার রাজনীতি। বিরোধী দল। বিরোধী দল নেতা। সেই আমলে সিপিএমের দোর্দণ্ড প্রতাপ দাপট। সেই দাপটেও একা কুম্ভ রক্ষা করে নকল বুঁদি গড়।‌ আর একটা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এর সন্ধান পাওয়া। যিনি সেই দলের ক্রাইসিসে, দলের দুর্দিনে যখন খুব খারাপ অবস্হা। আশংকাজনক অবস্থায় দল যখন এ পজিটিভ রক্তের এর অভাবে ভুগছে রক্তল্পতায়। দৌড় ঝাঁপ করছে, এদিক ওদিক ঘুরছে সেই অবস্থায় কেমন একাই সব সামলে দিয়েছেন তিনি দলকে নানা বিপদ থেকে উৎরে দিয়েছেন হাসিমুখেই। কাউকে কিছু টের না পেতে দিয়ে।  আর আবার তিনিই যখন সারারাত জেগে গোবিন্দপুর বস্তি আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হচ্ছে সবাই যখন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে রাত জাগছেন আর গলা ছেড়ে কেউ কেউ গান ধরছেন দিদিকে খুশী করতে। সেই সময় দিব্যি তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আর সত্যিই রাত জেগে অন্দোলন হচ্ছে কী না সত্যি না মিথ্যে কথা সেটা দেখতে বর্তমান তৃণমুলের এক বর্ষীয়ান সাংসদের স্ত্রী যিনি আজ আর বেঁচে নেই তিনি দেখতে ছুটে এসেছিলেন তাঁর অধ্যাপক স্বামীকে সেই রাতে গোবিন্দপুর বস্তির এলাকায়। আর এতো ঘটনা ঘটলেও তিনি ফোন বন্ধ করে গভীর নিদ্রায...

ঝড়

ভালোবাসার ভীড়ে ভরে উঠবে শহর থেকে গ্রাম। থিক থিকে ভীড়ে উড়বে ধুলোর কনা চারিদিকে। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যাবে শরীর, মন, প্রাণ। ধুলোর ঝড়ে হারিয়ে যাবে মনের মানুষ। হারিয়ে যায় গোটা জীবন।  জীবনের ছায়া মায়া মাখা পথে একা ঘুরে বেড়াই আমি। ভালোবাসার ভীড়ে আত্মাদের সাথে গা ঢাকা দিয়ে,  লুকিয়ে হাঁটি একা, একা। দেখি অন্ধকারের পথ জুড়ে শুধুই, ভালবাসার অভিনয় করা মানুষের ভীড়। মসৃণ রাস্তায় সরীসৃপের মত এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ায় তারা সন্তর্পনে। পায়ে পা মেলাই ধুলোর ঝড় গায়ে মেখে আনমনে,  ধুলি ধুসরিত হয়ে।  ঠিক যেনো ছাতিমের ডালে বসা ছাতারের মত। ঘোলা চোখের ধুলো মাখা দৃষ্টিতে, দুর পানে তাকিয়ে দেখি।  সূর্যের মিঠে আলোয়, ধুলোর কনা গায়ে মেখে  গোপন অভিসারে মত্ত প্রজাপতির দল। অভিনয়ের অভিসার নয়,  সত্যিই কারের ভালোবাসার অভিসার। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যায় আমার শরীর,মন, প্রাণ। ঝড় - অভিজিৎ বসু।

হ্যাপি বার্থডে টু ইউ

আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আমি তো অনেক সাংবাদিককে নিয়েই লিখি আমি। অনেকে বলেন কী বা হবে এই টোটো চালকের লেখা লিখে বলুন আপনারা এইসব আর কি বা পড়ে। কতজন এর সাথেই তো কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার এই দীর্ঘ ৩৫ বছরে। তবে এই অঙ্গীরা ব্যানার্জীর জন্মদিন গেলো সদ্য সদ্য। তাঁকে নিয়ে লিখতে গেলে একটু ভয়ই হয় বটে। যদি কিছু ভাবেন তিনি আর তাঁর সাথে জেলার সাংবাদিক হিসেবে কাজের সুযোগ ঘটেনি বলে। এক সময়ে সেই মুম্বাইয়ের এর তাজ হোটেলে জঙ্গী আক্রমণের সময়ে টিভির পর্দায় দেখেছি আমরা তাঁকে। সেই খুব সম্ভবতঃ ২৪ ঘণ্টার পর্দায় দেখেছি তাঁকে। কী দাপটে কাজ করেছেন তিনি সেই সময়।  সে এক ভয়ঙ্কর কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর এই সাংবাদিকতার জীবনে। আরও অনেক বড় বড় ঘটনার সাক্ষী সে। কলকাতাতে প্রয়াত অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিমে কাজ করেছে সে ক্রাইম বিটে সে বেশ বিখ্যাত দাপুটে রিপোর্টার ছিলেন তিনি সেই সময়ে। দিল্লী আর কলকাতা তে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। এই দিন কয়েক আগেই দেখলাম বহু দিনের পর দেশে এসেছেন তিনি দুবাই থেকে। বেনারস ভ্রমণে। টুক টাক কথা হলো যে তাঁর সাথে ফেসবুকের দুন...

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে তিনি থাকতেন একসময়। বর্তমানে গ্রাম ছেড়ে শহরে সল্টলেকে থাকেন তিনি বর্তমানে। আনন্দবাজার কাগজের প্রথম পাতায় তাঁর লেখা পড়ে আর নানা এক্সক্লুসিভ খবর পড়ে মুগ্ধ হতাম আমি একসময়ে। মনে মনে ভাবতাম যদি একবার এই বিখ্যাত রিপোর্টারকে তাঁকে দেখতে পেতাম একবার। তাহলে যেনো জীবন সার্থক হতো মোর। শুধু দু চোখের দেখা আর কিছুই নয়।  অবশেষে দর্শন হলো তাঁর সাথে আমার মহাকরণের প্রেস কর্নারে। সেই পল্লীডাক প্রেসে কত যে তাঁর নাম শুনতাম সেদিনের কাগজে তাঁর নামে লেখা বের হলেই তাঁর প্রসঙ্গ আসতো। সেই তারকেশ্বরের ফাল্গুনীদার কাছে শুনতাম। সেই টেলিগ্রাফের তারক এর মুখে শুনতাম। আর সেই তাঁকেই নিজের চোখে দেখলাম প্রেস কর্ণারের ভিতর। ইটিভির দীপক এর সাথে বেশ ভালই আলাপ দেখলাম। একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে। একদম সাদামাটা চেহারা। দেখতে খুব যে ঝাঁ চকচকে সেটা নয়। আনন্দবাজার এর ছাপ আছে কিন্তু সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। একবার এই মন্ত্রীর ঘর তো আবার অন্য মন্ত্রীর ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি সবসময়।  আর আমি আমার নিজের জেলার এহেন সাংবাদিককে দেখেই প্রথম দর্শন...