সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হায়দ্রাবাদ এর ভাগ্যলতার সেই বাড়ী

হায়দ্রাবাদ এর ভাগ্যলতার একটি বাড়ীর ছবি পেলাম আমি আজ। সৌজন্যে সেই ইটিভির শুভাশীষ। বাড়ির সামনে সুন্দর করে একটা গেট সাজানো। কোনও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে হয়তো। তাই এমন সাজানো গোছানো এই বাড়ির সামনেটায়। প্রথম দেখে একদম চিনতেই পারিনি আমি এই সেই বাড়ী। পরে বোঝা গেলো হ্যাঁ, সেই বাড়ীটা। যে বাড়িতেই আমার হায়দরাবাদ এর সেই পানিশমেন্ট ট্রান্সফার জীবনের কটা মাস কাটিয়েছিলাম আমি।

আজ থেকে প্রায় বারো বছর আগের কথা হবে। এই কলকাতা শহর থেকে ব্যাগ পত্তর গুছিয়ে নিয়ে আমি নিজের চাকরী বাঁচাতে হাজির হয়েছিলাম বর্তমানের তেলেঙ্গানা রাজ্য হলেও আগের সেই বিরিয়ানীর জন্য বিখ্যাত সেই হায়দরাবাদ এর শহরে। সকাল সাড়ে সাতটায় ফলকনুমা এক্সপ্রেস ট্রেন ধরে প্রায় সাতাশ ঘণ্টার ট্রেন জার্নি করে আমি পৌঁছে গেছিলাম নিজামের শহরে। সেই বিশাল রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যের অন্দরে। 

একদম জেলা থেকে কোলকাতায় সাংবাদিক হতে গিয়ে এ এক মহাবিপত্তি ঘটে গেলো আমার জীবনে। সেই বিখ্যাত মিষ্টি হাসির গ্রুপ এডিটর রাজেশ রায়নার দৌলতে এই পানিশমেন্ট ট্রান্সফার আমার। যিনি আবার সেই বিখ্যাত কি বলবো সাংবাদিক না তিনি অন্য কিছু সেই জগদীশ চন্দ্রের ভাবশিষ্য হয়ে হাত জোড় করে ঘুরে বেড়িয়ে খবর না বুঝে, কোনওদিন কোনও খবরের সন্ধান না করেই শুধু লোক ধরে ওপরে উঠে গিয়ে আমাদের শুধু পানিশমেন্ট ট্রান্সফার করে বেড়ান সেই সময়। আর হাসি মুখে রামোজি ফিল্ম সিটিতে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ান সেজে গুজে। সত্যিই কতো যে এমন কাশ্মীরি পন্ডিত মশাই এর উত্থান ঘটে সেই সময় দেশের মাটিতে কে জানে। 

মহাকরণের হানিমুন পর্ব শেষ করে আমার হঠাৎ করেই সেই বিখ্যাত পানিশমেন্ট ট্রান্সফার নিয়ে চলে আসা এই অজানা হায়দরাবাদ শহরে। যে শহরের ভাষা জানিনা আমি। যে শহরের রাস্তা চিনি না আমি। যে শহরের লোকজনকে চিনি না আমি। শুধু ভরসা এই একটাই যে ভাগ্যলতার এই বাড়ীতেই থাকেন আমাদের সবার পুলক দা। আর তাঁর সঙ্গী শুভাশীষ। কলকাতা থেকে কেউ হায়দরাবাদ এলেই যাঁর ঘর অবারিত দ্বার সবার কাছে। যাঁর সাহায্য নিয়ে, যাঁর সুন্দর সুস্বাদু রান্না খেয়ে বেঁচে থাকা যায় ভালোভাবেই। আর শুভাশীষের মতো একজন পরোপকারী ছেলের সাহায্য নিয়ে বেঁচে থাকা যায়। 

আর তাই ট্রেন সকালে পৌঁছতেই সোজা কোনও রকমে অটো চালককে বলে বুঝিয়ে অনেক কষ্টে শহরের অচেনা অজানা পথ ধরে সোজা এই বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালাম আমি। বেলা তখন এগারোটা হবে। অচেনা শহরে অচেনা জায়গায়, বন্ধুহীন স্থানে পেয়ে গেলাম বাংলা থেকে এসে দিব্যি সুখেই বেঁচে থাকা পুলক দা আর তাঁর সঙ্গী এই শুভাশীষকে। ব্যাগ পত্তর নিয়ে সোজা তাঁর ঘরে ঢুকে পড়লাম আমি। দুটো বাংলায় কথা বলে ধড়ে প্রাণ পাওয়া গেলো এই এতো ঘণ্টা পর। সত্যিই কি যে দিন গেছে সেই সময়বলে বোঝানো যাবে না।

সেই বাড়ীর একটি ছবি আজ‌ শুভাশীষ এর সৌজন্যে পেলাম আমার মোবাইল ফোনে। যে বাড়ীতে পা দিয়ে আজ থেকে প্রায় একযুগ আগে নিজের পানিশমেন্ট ট্রান্সফার এর জীবনে আশ্রয় নিয়েছিলাম আমি। সেই বাড়ীর ছবি দেখে, সেই বারান্দা দেখে, সেই রাস্তা দেখে কেমন যেন স্মৃতির সরণী বেয়ে আচ্ছন্ন হয়ে গেলাম আমি। সত্যিই এই বাংলার সব দামাল ছেলেরা আর মেয়েরা পেটের জন্য কাজের জন্যে তো ছুটে এসেছে এই শহরেই। শুধুই নিজেদের চাকরী বাঁচাতে আর সংসার বাঁচাতে। 

সেই বিখ্যাত ধ্রুব, দুই অমিতাভ ভট্টশালী আর সেনগুপ্ত সেই কুকুর নিয়ে থাকা সুদীপ্ত, সেই জাগরণ দা, শাশ্বতী দি, বিখ্যাত জটাশঙ্কর লাহিড়ী, সেই মিষ্টি হাসি মুখের অনন্যা, সেই বিখ্যাত কাকলী গোস্বামী, সেই অয়ন ভট্টাচার্য, সেই আরামবাগের বিশ্বজিৎ, সেই পার্থ, আর সেই চিত্তরঞ্জন এর বিখ্যাত সাংবাদিক শুভ্রাংশু আরও কতজন যে এই শহরে ছুটে এসেছে পেটের টানে তার শেষ নেই। হয়তো সব নাম লেখা হলো না আমার। 

সেই বিদেশ চলে যাওয়া বিদিশা আর মধুরাকা। সেই পুনেতে বাস করা দেবলীনা, সবাই তো এক সময়ে এই শহরেই থাকতো তারা চাকরী করত। সেই আমার পরিচিত সুদীপ্ত আর পান্ডুয়ার মেয়ে রুনা। সেই চন্দননগরের সঞ্চিতা। আমাদের রিপোর্টার সুদীপ্তর বৌ। সেই হিন্দমোটরের বিভাস। সেই আরামবাগের জয়ন্ত। সেই আমার ন্যাশনাল ডেস্ক এর বস স্যার শুভাকর।আর সেই বিখ্যাত কৌশিক গিরি সে কোথায় গেল কে জানে। আর সেই সন্ধ্যা হলেই এর বাড়ী ওর বাড়ী গম্ভীর মুখে বন্ধু খুঁজতে ঘুরে বেড়ানো দরজায় ঠক ঠক করে টোকা মারা বিখ্যাত সাংবাদিক সুবীর চক্রবর্তী। যাঁর কাছে অনেক কিছুই শেখার আছে আমাদের এই প্রজন্মের এর আর আমাদের মত বাতিলের দলে চলে যাওয়া মিডিয়ার লোকদের। শুধু কি করে টিকে থাকতে হয় এই পেশায় সেটা।

এই একটা তিনতলা বাড়ির কথা লিখতে বসে এতো কিছুই লিখে ফেললাম আমি। সত্যিই তো এই বাড়ির তিনতলার সেই এক কামরার ঘর। প্রথমে চার হাজার টাকা ভাড়া দিতে হতো আমায়। পুলকদার ঘরে ভাত খেয়ে বাড়ীর মালিককে যদিও মালকিন সব ছিলেন এই বাড়ীর। তাঁর হাতে টাকা দিয়ে ঘরের দরজা খুলে ঢুকে পড়া। সেই আমি আর শুভাশিস এর বিছানা কিনে আনা। গ্যাস এর ব্যবস্থা করে দেওয়া। বাড়ীর নিচের সেই মুদি দোকান থেকে বালতি মগ কিনে নেওয়া। ঠিক যেনো নতুন বিয়ে করে নতুন শহরে গিয়ে নতুন করে সংসার পাতা। 

যে সংসার টিকবে না জেনেও, যে সংসার একদিন ভেঙে যাবে জেনেও নীরব কর্মী হয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা। সে কথা থাক আজ শুধুই সেই বাড়ীর কথা। সেই আমার পাশের ঘরে বাস করা উর্দু ডেস্কের জম্মু শহর থেকে আসা একজন। নাম মনে নেই আজ তাঁর। সেই বাড়ির নিচের মিষ্টির দোকান থেকে ভাত খাবার আগে কালো মিষ্টি আর টক দই কিনে আনা। একসাথে তিনজনে পেট ভরে ভাত খেয়ে বাস ধরে অফিস যাওয়া। আর সেই ভাত অফিসে নিয়ে গিয়ে পুলক দা আর আমি একসাথে রাতে ভাত খেয়ে অফিস সেরে রাতে একটার পর ঘরে ফেরা। সে একটা দিন গেছে আমাদের এই হায়দরাবাদ এর কঠিন কঠোর আনন্দের জীবন।

 কতো যে চেষ্টা করেছি আমি আমার এই চাকরি বাঁচাতে,পরিবারকে বাঁচাতে। কিন্তু না পারিনি আমি আমার পরিবার আর চাকরি বাঁচাতে। আমার অপরাধ কি সেটা না জেনেও যে একদিন আমায় পানিশমেন্ট দিলো সেই বিখ্যাত গ্রুপ এডিটর রাজেশ রায়না। শুনলাম আমি আজ আর তাঁর নিজের চাকরি নেই। শুনলাম কিছুদিন আগেই তাঁকে আর পানিশমেন্ট ট্রান্সফার দেওয়া হয়নি একেবারেই ছুটি কাটাতে বলে দেওয়া হয়েছে। এত বড় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকেও কেমন করে তাঁর কাজ চলে গেলো ভেবেই অবাক লাগে আমার। 

আসলে জীবন বোধহয় এমন করেই ঘূর্ণাবর্তে ঘুরতে ঘুরতে চলে নিজের আপন ছন্দে আর আপন খেয়ালে। এর জন্য আমাদের আড়ম্বরপূর্ণ ক্ষমতায় আমরা সেই সবকিছুকে নিজের মত করেই বদলে নিতে পারিনা। ভাবি সবটাই আমরা নিজের মতো করেই চালাবো সেটা আর হয়না। আমাদের সবার অলক্ষ্যে একজন সুতো নাড়েন। আর মনে মনে তিনি হাসেন। আর বলেন যে যতো ক্ষমতাশালী আর বলশালী হোক আসল ক্ষমতা তো শুধুই তাঁর হাতেই। 

সেই বাড়ির সামনে আবার একবার আমার এই বুড়ো বয়সে এসে বড়ো যেতে ইচ্ছা হয় আমার। সেই বাড়ির সামনের রাস্তায় একবার হাঁটতে ইচ্ছা হয় আমার। সেই বাড়ীর পাশের চার্চে সকাল বেলায় প্রার্থনা শুনতে ইচ্ছা হয়। সেই চায়ের দোকানে বসে বড়া আর চা খেতে ইচ্ছা হয়। সেই সোমবার হলেই রামোজি রাও এর ক্যান্টিন এর মোটা রুটি ভাজি আর হালুয়া খেতে ইচ্ছা হয় আমার। সেই পাহাড়ের কোল ঘেঁষে হেঁটে বেড়াতে বড়ো সাধ হয়। সেই সন্ধ্যায় সাংভিদের মন্দির এর সামনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার আওয়াজ শুনতে বড়ো ইচ্ছা হয়। আর শনিবার হলেই সিদ্ধার্থ সরকারের বাড়ী বসে আড্ডা দিতে বড়ো ইচ্ছা হয়। আর রাত হলেই বৌদির হাতে ডাল আর আলু সেদ্ধ মাখা দিয়ে গরম ভাত খেয়ে ঘরে ফিরতে ইচ্ছা হয় অটো ধরে গভীর রাতে।

 সত্যিই একটা দাঁড়িয়ে থাকা তিনতলা বাড়ির এই ছবির গায়ে জড়িয়ে আছে আমার জীবন। আমার বারো বছর আগের ফেলে আসা জীবনের নানা গভীর গোপন যন্ত্রণার আঁধার মাখা দিন আর রাতের কথা। আমার গভীর গোপন ভালোবাসার সম্পর্কের কথা। আমার আকুতি আর আর্তি নিয়ে ঘরে ফেরার আবেদনের কথা। আমার ফেলে আসা সংবাদিক সত্তা আর সেই জীবনের কথা। 

যে জীবনটাকে আমি আজও এতো বছর অতিক্রান্ত হলেও বড়ই ভালবাসি। আমার হারিয়ে যাওয়া খবরের জীবন। যে জীবনটা এই বাড়ীটার গায়ে কেমন করে যেনো জড়িয়ে ধরে আজও বেঁচে আছে। সেই পুলকদা, সেই শুভাশীষ, সেই আমি সবাই যে যার মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আজও বেঁচে আছি। আর হায়দ্রাবাদ এর সেই ভাগ্যলতার মোড় থেকে একটু দূরেই সেই রাস্তার ওপর মাথা তুলে শ্বাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই তিনতলার বাড়ীটা। একবুক টাটকা বাতাস আর অমলিন কিছু স্মৃতি ঝলমল রোদ্দুর নিয়ে। 

যে রোদ্দুরের লুটোপুটি আলো গায়ে মেখে আমার এই বুড়ো বয়সেও বেঁচে থাকতে বড়ই সাধ হয়। আর মনে হয় একবার যদি ফিরে যাওয়া যেত সেই পুরোনো দিনগুলোয় কি ভালো যে লাগতো আমার কে জানে। শুভাশীষ তোমায় ধন্যবাদ জানাই। শুধু এই ছবিটা তুমি দিলে বলেই তো আমি স্মৃতির উত্তাপ গায়ে মেখে এই শীতের রাতে একটু ওম নিয়ে বাঁচতে পারলাম। 

হায়দ্রাবাদের ভাগ্যলতার সেই বাড়ী - অভিজিৎ বসু।
বিশ জানুয়ারী দু হাজার পঁচিশ।
ছবি সৌজন্য শুভাশীষ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...