সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হায়দ্রাবাদ এর ভাগ্যলতার সেই বাড়ী

হায়দ্রাবাদ এর ভাগ্যলতার একটি বাড়ীর ছবি পেলাম আমি আজ। সৌজন্যে সেই ইটিভির শুভাশীষ। বাড়ির সামনে সুন্দর করে একটা গেট সাজানো। কোনও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে হয়তো। তাই এমন সাজানো গোছানো এই বাড়ির সামনেটায়। প্রথম দেখে একদম চিনতেই পারিনি আমি এই সেই বাড়ী। পরে বোঝা গেলো হ্যাঁ, সেই বাড়ীটা। যে বাড়িতেই আমার হায়দরাবাদ এর সেই পানিশমেন্ট ট্রান্সফার জীবনের কটা মাস কাটিয়েছিলাম আমি।

আজ থেকে প্রায় বারো বছর আগের কথা হবে। এই কলকাতা শহর থেকে ব্যাগ পত্তর গুছিয়ে নিয়ে আমি নিজের চাকরী বাঁচাতে হাজির হয়েছিলাম বর্তমানের তেলেঙ্গানা রাজ্য হলেও আগের সেই বিরিয়ানীর জন্য বিখ্যাত সেই হায়দরাবাদ এর শহরে। সকাল সাড়ে সাতটায় ফলকনুমা এক্সপ্রেস ট্রেন ধরে প্রায় সাতাশ ঘণ্টার ট্রেন জার্নি করে আমি পৌঁছে গেছিলাম নিজামের শহরে। সেই বিশাল রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যের অন্দরে। 

একদম জেলা থেকে কোলকাতায় সাংবাদিক হতে গিয়ে এ এক মহাবিপত্তি ঘটে গেলো আমার জীবনে। সেই বিখ্যাত মিষ্টি হাসির গ্রুপ এডিটর রাজেশ রায়নার দৌলতে এই পানিশমেন্ট ট্রান্সফার আমার। যিনি আবার সেই বিখ্যাত কি বলবো সাংবাদিক না তিনি অন্য কিছু সেই জগদীশ চন্দ্রের ভাবশিষ্য হয়ে হাত জোড় করে ঘুরে বেড়িয়ে খবর না বুঝে, কোনওদিন কোনও খবরের সন্ধান না করেই শুধু লোক ধরে ওপরে উঠে গিয়ে আমাদের শুধু পানিশমেন্ট ট্রান্সফার করে বেড়ান সেই সময়। আর হাসি মুখে রামোজি ফিল্ম সিটিতে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ান সেজে গুজে। সত্যিই কতো যে এমন কাশ্মীরি পন্ডিত মশাই এর উত্থান ঘটে সেই সময় দেশের মাটিতে কে জানে। 

মহাকরণের হানিমুন পর্ব শেষ করে আমার হঠাৎ করেই সেই বিখ্যাত পানিশমেন্ট ট্রান্সফার নিয়ে চলে আসা এই অজানা হায়দরাবাদ শহরে। যে শহরের ভাষা জানিনা আমি। যে শহরের রাস্তা চিনি না আমি। যে শহরের লোকজনকে চিনি না আমি। শুধু ভরসা এই একটাই যে ভাগ্যলতার এই বাড়ীতেই থাকেন আমাদের সবার পুলক দা। আর তাঁর সঙ্গী শুভাশীষ। কলকাতা থেকে কেউ হায়দরাবাদ এলেই যাঁর ঘর অবারিত দ্বার সবার কাছে। যাঁর সাহায্য নিয়ে, যাঁর সুন্দর সুস্বাদু রান্না খেয়ে বেঁচে থাকা যায় ভালোভাবেই। আর শুভাশীষের মতো একজন পরোপকারী ছেলের সাহায্য নিয়ে বেঁচে থাকা যায়। 

আর তাই ট্রেন সকালে পৌঁছতেই সোজা কোনও রকমে অটো চালককে বলে বুঝিয়ে অনেক কষ্টে শহরের অচেনা অজানা পথ ধরে সোজা এই বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালাম আমি। বেলা তখন এগারোটা হবে। অচেনা শহরে অচেনা জায়গায়, বন্ধুহীন স্থানে পেয়ে গেলাম বাংলা থেকে এসে দিব্যি সুখেই বেঁচে থাকা পুলক দা আর তাঁর সঙ্গী এই শুভাশীষকে। ব্যাগ পত্তর নিয়ে সোজা তাঁর ঘরে ঢুকে পড়লাম আমি। দুটো বাংলায় কথা বলে ধড়ে প্রাণ পাওয়া গেলো এই এতো ঘণ্টা পর। সত্যিই কি যে দিন গেছে সেই সময়বলে বোঝানো যাবে না।

সেই বাড়ীর একটি ছবি আজ‌ শুভাশীষ এর সৌজন্যে পেলাম আমার মোবাইল ফোনে। যে বাড়ীতে পা দিয়ে আজ থেকে প্রায় একযুগ আগে নিজের পানিশমেন্ট ট্রান্সফার এর জীবনে আশ্রয় নিয়েছিলাম আমি। সেই বাড়ীর ছবি দেখে, সেই বারান্দা দেখে, সেই রাস্তা দেখে কেমন যেন স্মৃতির সরণী বেয়ে আচ্ছন্ন হয়ে গেলাম আমি। সত্যিই এই বাংলার সব দামাল ছেলেরা আর মেয়েরা পেটের জন্য কাজের জন্যে তো ছুটে এসেছে এই শহরেই। শুধুই নিজেদের চাকরী বাঁচাতে আর সংসার বাঁচাতে। 

সেই বিখ্যাত ধ্রুব, দুই অমিতাভ ভট্টশালী আর সেনগুপ্ত সেই কুকুর নিয়ে থাকা সুদীপ্ত, সেই জাগরণ দা, শাশ্বতী দি, বিখ্যাত জটাশঙ্কর লাহিড়ী, সেই মিষ্টি হাসি মুখের অনন্যা, সেই বিখ্যাত কাকলী গোস্বামী, সেই অয়ন ভট্টাচার্য, সেই আরামবাগের বিশ্বজিৎ, সেই পার্থ, আর সেই চিত্তরঞ্জন এর বিখ্যাত সাংবাদিক শুভ্রাংশু আরও কতজন যে এই শহরে ছুটে এসেছে পেটের টানে তার শেষ নেই। হয়তো সব নাম লেখা হলো না আমার। 

সেই বিদেশ চলে যাওয়া বিদিশা আর মধুরাকা। সেই পুনেতে বাস করা দেবলীনা, সবাই তো এক সময়ে এই শহরেই থাকতো তারা চাকরী করত। সেই আমার পরিচিত সুদীপ্ত আর পান্ডুয়ার মেয়ে রুনা। সেই চন্দননগরের সঞ্চিতা। আমাদের রিপোর্টার সুদীপ্তর বৌ। সেই হিন্দমোটরের বিভাস। সেই আরামবাগের জয়ন্ত। সেই আমার ন্যাশনাল ডেস্ক এর বস স্যার শুভাকর।আর সেই বিখ্যাত কৌশিক গিরি সে কোথায় গেল কে জানে। আর সেই সন্ধ্যা হলেই এর বাড়ী ওর বাড়ী গম্ভীর মুখে বন্ধু খুঁজতে ঘুরে বেড়ানো দরজায় ঠক ঠক করে টোকা মারা বিখ্যাত সাংবাদিক সুবীর চক্রবর্তী। যাঁর কাছে অনেক কিছুই শেখার আছে আমাদের এই প্রজন্মের এর আর আমাদের মত বাতিলের দলে চলে যাওয়া মিডিয়ার লোকদের। শুধু কি করে টিকে থাকতে হয় এই পেশায় সেটা।

এই একটা তিনতলা বাড়ির কথা লিখতে বসে এতো কিছুই লিখে ফেললাম আমি। সত্যিই তো এই বাড়ির তিনতলার সেই এক কামরার ঘর। প্রথমে চার হাজার টাকা ভাড়া দিতে হতো আমায়। পুলকদার ঘরে ভাত খেয়ে বাড়ীর মালিককে যদিও মালকিন সব ছিলেন এই বাড়ীর। তাঁর হাতে টাকা দিয়ে ঘরের দরজা খুলে ঢুকে পড়া। সেই আমি আর শুভাশিস এর বিছানা কিনে আনা। গ্যাস এর ব্যবস্থা করে দেওয়া। বাড়ীর নিচের সেই মুদি দোকান থেকে বালতি মগ কিনে নেওয়া। ঠিক যেনো নতুন বিয়ে করে নতুন শহরে গিয়ে নতুন করে সংসার পাতা। 

যে সংসার টিকবে না জেনেও, যে সংসার একদিন ভেঙে যাবে জেনেও নীরব কর্মী হয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা। সে কথা থাক আজ শুধুই সেই বাড়ীর কথা। সেই আমার পাশের ঘরে বাস করা উর্দু ডেস্কের জম্মু শহর থেকে আসা একজন। নাম মনে নেই আজ তাঁর। সেই বাড়ির নিচের মিষ্টির দোকান থেকে ভাত খাবার আগে কালো মিষ্টি আর টক দই কিনে আনা। একসাথে তিনজনে পেট ভরে ভাত খেয়ে বাস ধরে অফিস যাওয়া। আর সেই ভাত অফিসে নিয়ে গিয়ে পুলক দা আর আমি একসাথে রাতে ভাত খেয়ে অফিস সেরে রাতে একটার পর ঘরে ফেরা। সে একটা দিন গেছে আমাদের এই হায়দরাবাদ এর কঠিন কঠোর আনন্দের জীবন।

 কতো যে চেষ্টা করেছি আমি আমার এই চাকরি বাঁচাতে,পরিবারকে বাঁচাতে। কিন্তু না পারিনি আমি আমার পরিবার আর চাকরি বাঁচাতে। আমার অপরাধ কি সেটা না জেনেও যে একদিন আমায় পানিশমেন্ট দিলো সেই বিখ্যাত গ্রুপ এডিটর রাজেশ রায়না। শুনলাম আমি আজ আর তাঁর নিজের চাকরি নেই। শুনলাম কিছুদিন আগেই তাঁকে আর পানিশমেন্ট ট্রান্সফার দেওয়া হয়নি একেবারেই ছুটি কাটাতে বলে দেওয়া হয়েছে। এত বড় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকেও কেমন করে তাঁর কাজ চলে গেলো ভেবেই অবাক লাগে আমার। 

আসলে জীবন বোধহয় এমন করেই ঘূর্ণাবর্তে ঘুরতে ঘুরতে চলে নিজের আপন ছন্দে আর আপন খেয়ালে। এর জন্য আমাদের আড়ম্বরপূর্ণ ক্ষমতায় আমরা সেই সবকিছুকে নিজের মত করেই বদলে নিতে পারিনা। ভাবি সবটাই আমরা নিজের মতো করেই চালাবো সেটা আর হয়না। আমাদের সবার অলক্ষ্যে একজন সুতো নাড়েন। আর মনে মনে তিনি হাসেন। আর বলেন যে যতো ক্ষমতাশালী আর বলশালী হোক আসল ক্ষমতা তো শুধুই তাঁর হাতেই। 

সেই বাড়ির সামনে আবার একবার আমার এই বুড়ো বয়সে এসে বড়ো যেতে ইচ্ছা হয় আমার। সেই বাড়ির সামনের রাস্তায় একবার হাঁটতে ইচ্ছা হয় আমার। সেই বাড়ীর পাশের চার্চে সকাল বেলায় প্রার্থনা শুনতে ইচ্ছা হয়। সেই চায়ের দোকানে বসে বড়া আর চা খেতে ইচ্ছা হয়। সেই সোমবার হলেই রামোজি রাও এর ক্যান্টিন এর মোটা রুটি ভাজি আর হালুয়া খেতে ইচ্ছা হয় আমার। সেই পাহাড়ের কোল ঘেঁষে হেঁটে বেড়াতে বড়ো সাধ হয়। সেই সন্ধ্যায় সাংভিদের মন্দির এর সামনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার আওয়াজ শুনতে বড়ো ইচ্ছা হয়। আর শনিবার হলেই সিদ্ধার্থ সরকারের বাড়ী বসে আড্ডা দিতে বড়ো ইচ্ছা হয়। আর রাত হলেই বৌদির হাতে ডাল আর আলু সেদ্ধ মাখা দিয়ে গরম ভাত খেয়ে ঘরে ফিরতে ইচ্ছা হয় অটো ধরে গভীর রাতে।

 সত্যিই একটা দাঁড়িয়ে থাকা তিনতলা বাড়ির এই ছবির গায়ে জড়িয়ে আছে আমার জীবন। আমার বারো বছর আগের ফেলে আসা জীবনের নানা গভীর গোপন যন্ত্রণার আঁধার মাখা দিন আর রাতের কথা। আমার গভীর গোপন ভালোবাসার সম্পর্কের কথা। আমার আকুতি আর আর্তি নিয়ে ঘরে ফেরার আবেদনের কথা। আমার ফেলে আসা সংবাদিক সত্তা আর সেই জীবনের কথা। 

যে জীবনটাকে আমি আজও এতো বছর অতিক্রান্ত হলেও বড়ই ভালবাসি। আমার হারিয়ে যাওয়া খবরের জীবন। যে জীবনটা এই বাড়ীটার গায়ে কেমন করে যেনো জড়িয়ে ধরে আজও বেঁচে আছে। সেই পুলকদা, সেই শুভাশীষ, সেই আমি সবাই যে যার মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আজও বেঁচে আছি। আর হায়দ্রাবাদ এর সেই ভাগ্যলতার মোড় থেকে একটু দূরেই সেই রাস্তার ওপর মাথা তুলে শ্বাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই তিনতলার বাড়ীটা। একবুক টাটকা বাতাস আর অমলিন কিছু স্মৃতি ঝলমল রোদ্দুর নিয়ে। 

যে রোদ্দুরের লুটোপুটি আলো গায়ে মেখে আমার এই বুড়ো বয়সেও বেঁচে থাকতে বড়ই সাধ হয়। আর মনে হয় একবার যদি ফিরে যাওয়া যেত সেই পুরোনো দিনগুলোয় কি ভালো যে লাগতো আমার কে জানে। শুভাশীষ তোমায় ধন্যবাদ জানাই। শুধু এই ছবিটা তুমি দিলে বলেই তো আমি স্মৃতির উত্তাপ গায়ে মেখে এই শীতের রাতে একটু ওম নিয়ে বাঁচতে পারলাম। 

হায়দ্রাবাদের ভাগ্যলতার সেই বাড়ী - অভিজিৎ বসু।
বিশ জানুয়ারী দু হাজার পঁচিশ।
ছবি সৌজন্য শুভাশীষ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ্যাপি বার্থডে রনজিৎ দা

আমার মোবাইলে নম্বরটা আজও সেভ করা আছে রনজিৎ মদন দা নামেই। কবে, কোথায় ওর সাথে দেখা হয়েছিল আজ আর সেটা স্মরণে নেই আমার। হয়তো সেই ২৪ চৌরঙ্গী রোডের অফিসে বা ভবানীপুরের সেই বিখ্যাত অফিসে দেখা হয়েছিল একদিন। ডাকাবুকো কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র তখন প্রিয়রঞ্জন‌ দাসমুন্সীর লোক। একদম ফর্সা গায়ের রং। চোখে রোদ চশমা, সাদা প্যান্ট সাদা জুতো পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক আর ওদিক। আর সেই কিছু দরকার পড়লেই রনজিৎ রনজিৎ বলে ডাক দিচ্ছেন তিনি দরকারে আর অদরকারে।  রনজিৎ হলো মদনদার সেই পুরোনো দিনের একমাত্র সঙ্গী আর ছিল সেই স্বপন মাইতি বর্তমানে তিনি আর বেঁচে নেই। এস এস কে এম এ গেলেই স্বপনদা কে দেখতাম আমরা। কিন্তু সেই জাদুঘর এর ফুটপাথ ধরে বিকেলের কাগজ বের হলে পট পরিবর্তন আর অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়ে চলে যেতাম আমরা দুজন। বর্তমানে একজন তৃণমূলের মুখপাত্র অনেক বড় মাপের সাংবাদিক ও রাজনীতির লোক। দলের অন্দরে অনেক দূর অবধি তাঁর হাত বিস্তৃত। অন্যদিকে আর একজন ৩৫ বছর এই বাংলা মিডিয়াতে কাজ করে এখন বাতিলের দলে টোটো চালক হয়ে গেছে আর কি।  যাক সেই রনজিৎ এর আজ জন্মদিন। মনে পড়ে গেলো আমার...

ইটিভি ও অম্বরীষ‌ দা।

সাদা জীবনের কালো কথায় এমন একজনের কথা লিখবো আজ যার কথা অনেক আগেই লেখা উচিত ছিল আমার। ইটিভির কর্ণধার রামোজি রাও এর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির কথা লেখার সময় যার কথা আমার এক লাইন হলেও লেখা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যা আমায় মনে করিয়ে দিলেন একজন প্রাক্তন ইটিভির সহকর্মী। তার কথা শুনে মনে হলো ঠিক তো চেয়ারম্যান স্যার কে হারিয়ে আমরা সবাই ইটিভির কর্মীরা মিলিত হলাম এক নিমেষে এক ছাতার তলায়। কিন্তু যার জন্য আমরা সবাই তাঁর কাছে এই ইটিভির কোম্পানি তে কাজ এর সুযোগ পাই তাঁর কথা উল্লেখ করা দরকার ছিল বোধ হয়। কিন্তু আমি লিখি নি বা হয়তো ভুলে গেছিলাম সেই মানুষটার কথা বলতে। সেই ব্যক্তির কথাই আজ বলবো কিছুটা। না হলে সেটা ঠিক কাজ হবে না কিছুতেই।  যে মানুষটার জন্য আমরা প্রায় সবাই এই ভাবে সব একসাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কেউ পশ্চিমবাংলায় কাজ করেছি আবার কেউ কেউ হায়দরাবাদ এর সেই পাঁচিল ঘেরা রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যে কাজ করেছি। কিন্তু বাংলা মিডিয়ার সেই ছোট্টো চারা গাছের যে বীজ রামোজি রাও বপন করেছিলেন সেই সময় আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। এই মানুষটার হাত ধরেই লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল স...

বিশ্ব সাইকেল দিবস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস এর কথা। এই দু চাকার যানকে নিয়ে যে কত অম্ল মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে সবার জীবনেই তা বলে শেষ করা যাবে না বোধ হয়। আর আজ সেই সাইকেল উদযাপনের একটি আন্তর্জাতিক দিন। এই বিশ্ব সাইকেল দিবস প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় এই দিনটি।  ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে সাইকেলের দীর্ঘ জীবনকাল এবং বহু কাজে ব্যবহৃত হওয়ার প্রশংসা করা হয়। সঙ্গে প্রায় দুই শতক কাল এর সাধারণ,কম খরচ, বিশ্বাসযোগ্যতা, এবং পরিবেশের জন্য উপযুক্ত যানবাহনের মাধ্যম হিসাবে সাইকেলের উল্লেখ করা হয়েছিল। সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মূলতঃ এই দিবস উদ্‌যাপন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়েই। বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ তাই সবার কাছেই জানা একটা বিষয়। কিন্তু যে সাইকেল নিয়ে এত কথা সেই লাল টুকটুকে সাইকেল পেয়েছিলাম আমি স্কুল জীবনে ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠে। সময়টা যত দুর মনে পরে শীতকাল ডিসেম্বর মাস। মেজমামা আমায়...

দিদির নিদান

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ চুরি না করার নিদান। সেই ছোটো বেলায় পড়েছিলাম বইতে মাসীর সাবধান বাণী। চুরি করে কি অবস্থা হলো। শেষে মাসীর কান কামড়ে দিল বালক। মাসীর সাবধান বাণী না শুনে। আজ এই এক ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আমার সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো হঠাৎ করেই। আচ্ছা সত্যিই কি এই কড়া নিদান দিয়ে চুরি রোখা যায়। কথায় বলে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। মুখ্যমন্ত্রীর একদম সোজা সাপটা এই বর্জ নির্ঘোষ কথা শুনে আমার এমন মনে হলো আজ। যে কথার উত্তর দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই কারুর।  সে দলের যে নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, বা পুরসভার চেয়ারম্যান হোক। চুপ করে বসে হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ উত্তর দিলেই বিপদ বাড়বে বই কমবে না। একদম সোজা সাপটা তীরবিদ্ধ আক্রমন এর সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা। করে খাবার জায়গা নয় তৃণমূল দল। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নিজের পেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতি আর নয়, অনেক হয়েছে।  সত্যিই তো রাজনীতির আঙিনায় এই সব কিছুকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। কত কষ্ট করে মাটি তৈরি করে, জল দিয়ে এই ছোটো দুটি জোড়...

আমাদের চেনা বিখ্যাত ঝিলম

বাংলা মিডিয়ার নানাজনের সাথে দীর্ঘ সময়ে আমার কাজে অকাজে নানা সাংবাদিকের সাথে আলাপ থাকলেও। এই সাংবাদিকের সাথে ঠিক যেনো রোদ আর বৃষ্টির টক ঝাল মিষ্টি সম্পর্ক। এই হাসিঠাট্টা মশকরা করা দুজনের, আবার এই সিরিয়াস হয়ে গিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে যাওয়া একে অপরের সাথে। এই নানা বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য তাঁর সাথে আলোচনা হওয়া দুই সহজ পুরোনো বন্ধুর মতো। আবার যেনো খুব ক্ষুদ্র কোনো কারনেই মতান্তর আর মনান্তর হয়ে যাওয়া কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই ব্লগ লেখার কথা আমায় বহুদিন আগেই ও বলেছিল একদিন। আজ সেই ব্লগ লেখার পাগলামো কিছুটা তো তাঁর অনুপ্রেরণায় এটা অস্বীকার করা যায় না আজও কিন্তু । যেটা নিয়ে তাঁর সাথে আমার কথাও হয়েছে বহুবার।  বাংলা মিডিয়ার এই শিক্ষিত পড়াশোনা করে সাংবাদিক হতে আসা, এই রিপোর্টার ইন্টারভিউ বোর্ডে পরীক্ষকের জ্ঞান অনুসন্ধানে ব্যাপৃত হতেও পিছপা হয় না কিছুতেই। কোনও পরোয়া না করে আর ভয় না পেয়ে। সে হায়দরাবাদ এর বিখ্যাত বিরিয়ানী এলাকার বস হোক, কিম্বা কাগজের দাপুটে দাড়িওলা বস হোক। বা যে কেউ বস হোক। আসলে এটাই ওর চিরকালের নেচার। যার থেকে আজও বোধহয় বের ...