সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

২৪ ঘণ্টার অঞ্জন রায় দা

আজ তাঁর জন্মদিন বলেই এই লেখা নয়। আজ তাঁর বয়স বেড়ে যাওয়া বলেই এই লেখা নয়। আজ সেই মানুষটার বুড়ো হয়ে যাওয়া বলেই এই লেখা নয়। যাঁকে যখন তখন ফোন করে দাদা বলে বিরক্ত করা যায় বলেই এই লেখা নয়। আদ্যন্ত বাম আমলের একজন দাপুটে সাংবাদিক আর চিফ রিপোর্টারকে নিজের মনের কথা, গোপন কথা, নিজের ক্ষোভের কথা, দুঃখের কথা, পাওয়া আর না পাওয়ার কথা, কোনও চাকরীর সুযোগ আছে কি না সেটা জানার কথা বলে ফেলা যায় কিছু সাতপাঁচ না ভেবেই একদম। আর তাই তাঁকে নিয়ে এই লেখা আমার সাদা জীবনের কালো কথায়। আমার আঁকিবুঁকি ব্লগে, কিছু অক্ষরের দাগ কেটে জাল বোনার চেস্টা করা মাত্র। 


আজ তেমনি একজন কলকাতার বিখ্যাত এক সাংবাদিকের জন্মদিন। বাম আমলের সব থেকে ভালো সময়েও যে বেশ হাসি মুখেই পোদ্দার কোর্টের সেই বিখ্যাত ২৪ ঘন্টার অফিস সামলেছেন নিজের হাতে নিজের তালুর মধ্যে নিয়ে। একদম চুপ চাপ কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়েই সব বাঘা বাঘা রিপোর্টারদের সামলে গেছেন। শুধু মাত্র সেই আমলের বিখ্যাত হয়নি তখনও সেই রিপোর্টার কমলাক্ষকে অ্যাসিস্ট্যান্ট করে মাঝে মাঝে খুব প্রয়োজন পড়লে। বেশ সুন্দর সুদর্শন একজন মানুষ। যে কোনও অফিস এর মহিলা মহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা যাঁর এমন একজন ব্যক্তি। আর তাঁর বাড়ী থেকে নিয়ে আসা টিফিন বক্স খুললেই ভীড় জমে যায় সেই বিখ্যাত সাংবাদিক এর টেবিল এর সামনে গোল হয়ে দাদা আজ কি এনেছো বলে। আর দাদার বোনদের দৌড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ভীড় করা টিফিন বক্সের একদম সামনে। আর ভাইদের সেই চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা টিফিন বক্সের সামনে একটু দূরে দাঁড়িয়ে পরোটা বা লুচির গন্ধ শোঁকা। যদি কিছু পাওয়া যায় এই আশায়।

সত্যিই অসাধারণ এই আমাদের সাংবাদিক জীবনের নানা রঙের রঙিন সব জলছবি। যে ছবির পরতে পরতে জড়িয়ে আছে কত মিষ্টি ঘটনা, কত গভীর গোপন ভালোবাসা, কত ভালো লাগা, কত স্মৃতি রোমন্থন এর অনাবিল সুখস্মৃতির স্পর্শ। সেই বিজেপির মুরলীধর লেনের অফিসে বসে তিনজন বিখ্যাত রিপোর্টার এর আড্ডা সুখের বাসর বসা। সেই কোনো বড়ো খবর ব্রেক করে নিউজ রুম দেবার পর সিগারেট ধরিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশ পানে একমনে তাঁর তাকিয়ে থাকা। আর কাছে গিয়ে দাঁড়ালেই বলা অ্যাসাইনমেন্টের লোক বলে তোরা সব বিরাট এক একজন বোদ্ধা হয়ে গেছিস খবরের বিষয় সমূহ নিয়ে। এই খবরটা তোরা সব দেখাচ্ছিলিস না। দেখ আমি এডিটরকে বললাম আর অমনি চললো খবরটা। 

 আর সেই সময় দাদা বলে একবার ডাকলেই হলো। একবার দাদা বলে ডাকলেই কিন্তু কোনও রাগ নেই, প্রতিহিংসা নেই, তোদের দেখে নেবো বলে গাল দেওয়া নেই, একদম দাদার রাগ কিন্তু গলে জল হয়ে গেছে ততক্ষণে। হ্যাঁ, সেটাই হলো আমাদের সবার প্রিয় অঞ্জন রায় দা। সেই ২৪ ঘণ্টার অঞ্জন দা। সেই প্রিয় ২৪ ঘন্টা ছেড়ে টিভি নাইন এর চ্যানেলে অঞ্জন বন্দোপাধ্যায় এর হাত ধরে চলে যাওয়া অঞ্জন রায়দা। সেই বর্তমানে কলকাতা টিভি চ্যানেলের অঞ্জন দা। সেই বিজেপি বিটের বিখ্যাত সাংবাদিক দিলীপ ঘোষ এর খুব কাছের সাংবাদিক অঞ্জন দা। সেই অরূপ দত্ত, দীপক ঘোষ আর অঞ্জন রায় দা। কলকাতা বিজেপি বিটে যাঁদের ব্রহ্মা, বিষ্ণু আর মহেশ্বর বলে জানে সবাই। সেই আমাদের সবার প্রিয় অঞ্জন রায় দা।

আজ সেই অঞ্জন রায়দার জন্মদিন। সেই বাবুর বাবার জন্মদিন। সেই চেনা একজন মানুষ যাঁকে তাঁর সাথে খুব বেশিদিন কাজ না করলেও আমার ঘরের কথা, সংসারের কথা বলে ফেলা যায় কিছু সাতপাঁচ না ভেবেই। কি ভাববেন সেটা মনে না করেই। আজ কাল এমন মানুষ যে দিন দিন কমছে খুব এই বাংলা মিডিয়ায়। চারিদিক জুড়ে মাতব্বর সাংবাদিক মানুষদের ভীড় আর তাদের পদধ্বনি। তাদের সবার হাতে চাবুক নিয়ে রিং মাস্টার এর মতো ঘুরে বেড়ানো আর দেখে নেওয়ার চেষ্টা। 

এই সব নানা অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ ছবির মাঝে তবু সেই অভীক দত্ত, অঞ্জন বন্দোপাধ্যায়, আর অরিন্দম চক্রবর্তীর আস্থার, ভরসার সেই বিখ্যাত সাংবাদিক মানুষের জন্মদিনে আমার শুভেচ্ছা ও ভালবাসা ও প্রণাম। দাদা ভালো থাকবেন আপনি। এই ভাবেই হাসিমুখে কাজ করে যান আপনি। আপনার রাজনৈতিক আদর্শকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকুন নিজেকে বদলে না ফেলে। আর আমাদের মতো চুনো পুঁটি মাছদের তাচ্ছিল্য না করে যে কোনও দরকার হলে ফোনে বলুন হ্যাঁ, বল কি হলো। সেটা রাত বারোটা বা তারপরে। এটাই বা আজকাল আর কে বলে এই স্বার্থ সঙ্কুল পৃথিবীতে। শুভ জন্মদিন দাদা। ভালো থাকবেন আপনি।

২৪ ঘণ্টার অঞ্জন রায় দা - অভিজিৎ বসু।
বিশে জানুয়ারী, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো থাকবেন শঙ্খ শুভ্র বাবু

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক পুলিশ অফিসার এর কথা বলবো। বহুদিন পর আজ যার সাথে আচমকাই কথা হলো আমার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের লেখার মাধ্যমে বহু দিন, বহু কাল পরে। আচ্ছা আপনি কি সত্যিই টোটো চালান। তাঁর সরাসরি প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে আমি বললাম, না।  আসলে সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার বহু বছর আগে এস ডি পি ও শ্রীরামপুর হিসেবে কাজ করতেন আমার নিজের হুগলী জেলায় নিজের শহরে শ্রীরামপুরে। যে জেলায় আমিও একসময় দাপিয়ে ঘুরে কাজ করেছি একসময় এই জেলার সাংবাদিক হিসেবে। যদিও সেই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে বেঁচে থাকার অভ্যাস আমার নেই একদমই। সেটা কোনো কালেই ছিল না। যেহেতু আজ বহুদিন পর তাঁর সাথে একটু যোগাযোগ হলো তাই তাঁর কথা লিখতে ইচ্ছা হলো আমার। সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার হলেন শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী। একদম হিরো স্টাইল এর পুলিশ অফিসার। মারকুটে এই পুলিশ অফিসার। মস্তানদের ধরে রাস্তায় ফ্যাশন প্যারেড করানো সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার শঙ্খশুভ্র বাবু। যে কারণে হুগলী জেলায় মস্তান আর ডনদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে খবরের কাগজের পাতায় প্রতিদিন খবরে থাকতেন তিনি সেই সময়।  যার সময় খবর...

বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দোপাধ্যায়

এই বাংলার রাজনীতি। বিরোধী দল। বিরোধী দল নেতা। সেই আমলে সিপিএমের দোর্দণ্ড প্রতাপ দাপট। সেই দাপটেও একা কুম্ভ রক্ষা করে নকল বুঁদি গড়।‌ আর একটা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এর সন্ধান পাওয়া। যিনি সেই দলের ক্রাইসিসে, দলের দুর্দিনে যখন খুব খারাপ অবস্হা। আশংকাজনক অবস্থায় দল যখন এ পজিটিভ রক্তের এর অভাবে ভুগছে রক্তল্পতায়। দৌড় ঝাঁপ করছে, এদিক ওদিক ঘুরছে সেই অবস্থায় কেমন একাই সব সামলে দিয়েছেন তিনি দলকে নানা বিপদ থেকে উৎরে দিয়েছেন হাসিমুখেই। কাউকে কিছু টের না পেতে দিয়ে।  আর আবার তিনিই যখন সারারাত জেগে গোবিন্দপুর বস্তি আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হচ্ছে সবাই যখন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে রাত জাগছেন আর গলা ছেড়ে কেউ কেউ গান ধরছেন দিদিকে খুশী করতে। সেই সময় দিব্যি তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আর সত্যিই রাত জেগে অন্দোলন হচ্ছে কী না সত্যি না মিথ্যে কথা সেটা দেখতে বর্তমান তৃণমুলের এক বর্ষীয়ান সাংসদের স্ত্রী যিনি আজ আর বেঁচে নেই তিনি দেখতে ছুটে এসেছিলেন তাঁর অধ্যাপক স্বামীকে সেই রাতে গোবিন্দপুর বস্তির এলাকায়। আর এতো ঘটনা ঘটলেও তিনি ফোন বন্ধ করে গভীর নিদ্রায...

ঝড়

ভালোবাসার ভীড়ে ভরে উঠবে শহর থেকে গ্রাম। থিক থিকে ভীড়ে উড়বে ধুলোর কনা চারিদিকে। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যাবে শরীর, মন, প্রাণ। ধুলোর ঝড়ে হারিয়ে যাবে মনের মানুষ। হারিয়ে যায় গোটা জীবন।  জীবনের ছায়া মায়া মাখা পথে একা ঘুরে বেড়াই আমি। ভালোবাসার ভীড়ে আত্মাদের সাথে গা ঢাকা দিয়ে,  লুকিয়ে হাঁটি একা, একা। দেখি অন্ধকারের পথ জুড়ে শুধুই, ভালবাসার অভিনয় করা মানুষের ভীড়। মসৃণ রাস্তায় সরীসৃপের মত এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ায় তারা সন্তর্পনে। পায়ে পা মেলাই ধুলোর ঝড় গায়ে মেখে আনমনে,  ধুলি ধুসরিত হয়ে।  ঠিক যেনো ছাতিমের ডালে বসা ছাতারের মত। ঘোলা চোখের ধুলো মাখা দৃষ্টিতে, দুর পানে তাকিয়ে দেখি।  সূর্যের মিঠে আলোয়, ধুলোর কনা গায়ে মেখে  গোপন অভিসারে মত্ত প্রজাপতির দল। অভিনয়ের অভিসার নয়,  সত্যিই কারের ভালোবাসার অভিসার। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যায় আমার শরীর,মন, প্রাণ। ঝড় - অভিজিৎ বসু।

হ্যাপি বার্থডে টু ইউ

আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আমি তো অনেক সাংবাদিককে নিয়েই লিখি আমি। অনেকে বলেন কী বা হবে এই টোটো চালকের লেখা লিখে বলুন আপনারা এইসব আর কি বা পড়ে। কতজন এর সাথেই তো কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার এই দীর্ঘ ৩৫ বছরে। তবে এই অঙ্গীরা ব্যানার্জীর জন্মদিন গেলো সদ্য সদ্য। তাঁকে নিয়ে লিখতে গেলে একটু ভয়ই হয় বটে। যদি কিছু ভাবেন তিনি আর তাঁর সাথে জেলার সাংবাদিক হিসেবে কাজের সুযোগ ঘটেনি বলে। এক সময়ে সেই মুম্বাইয়ের এর তাজ হোটেলে জঙ্গী আক্রমণের সময়ে টিভির পর্দায় দেখেছি আমরা তাঁকে। সেই খুব সম্ভবতঃ ২৪ ঘণ্টার পর্দায় দেখেছি তাঁকে। কী দাপটে কাজ করেছেন তিনি সেই সময়।  সে এক ভয়ঙ্কর কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর এই সাংবাদিকতার জীবনে। আরও অনেক বড় বড় ঘটনার সাক্ষী সে। কলকাতাতে প্রয়াত অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিমে কাজ করেছে সে ক্রাইম বিটে সে বেশ বিখ্যাত দাপুটে রিপোর্টার ছিলেন তিনি সেই সময়ে। দিল্লী আর কলকাতা তে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। এই দিন কয়েক আগেই দেখলাম বহু দিনের পর দেশে এসেছেন তিনি দুবাই থেকে। বেনারস ভ্রমণে। টুক টাক কথা হলো যে তাঁর সাথে ফেসবুকের দুন...

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে তিনি থাকতেন একসময়। বর্তমানে গ্রাম ছেড়ে শহরে সল্টলেকে থাকেন তিনি বর্তমানে। আনন্দবাজার কাগজের প্রথম পাতায় তাঁর লেখা পড়ে আর নানা এক্সক্লুসিভ খবর পড়ে মুগ্ধ হতাম আমি একসময়ে। মনে মনে ভাবতাম যদি একবার এই বিখ্যাত রিপোর্টারকে তাঁকে দেখতে পেতাম একবার। তাহলে যেনো জীবন সার্থক হতো মোর। শুধু দু চোখের দেখা আর কিছুই নয়।  অবশেষে দর্শন হলো তাঁর সাথে আমার মহাকরণের প্রেস কর্নারে। সেই পল্লীডাক প্রেসে কত যে তাঁর নাম শুনতাম সেদিনের কাগজে তাঁর নামে লেখা বের হলেই তাঁর প্রসঙ্গ আসতো। সেই তারকেশ্বরের ফাল্গুনীদার কাছে শুনতাম। সেই টেলিগ্রাফের তারক এর মুখে শুনতাম। আর সেই তাঁকেই নিজের চোখে দেখলাম প্রেস কর্ণারের ভিতর। ইটিভির দীপক এর সাথে বেশ ভালই আলাপ দেখলাম। একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে। একদম সাদামাটা চেহারা। দেখতে খুব যে ঝাঁ চকচকে সেটা নয়। আনন্দবাজার এর ছাপ আছে কিন্তু সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। একবার এই মন্ত্রীর ঘর তো আবার অন্য মন্ত্রীর ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি সবসময়।  আর আমি আমার নিজের জেলার এহেন সাংবাদিককে দেখেই প্রথম দর্শন...