সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হ্যাপি ভ্যালেন্টাইনস ডে

আজ শুধুই ভালোবাসার একটা দিন। ঝগড়া ভুলে ভালো থাকার একটা দিন। ভালোবাসা ঠিক যেনো একটা গুহা প্রথমে যেনো নিকষ কালো অন্ধকার একটি গুহা। যার মধ্য কোনোও আলোর রেখা নেই, কোনোও আলোকবর্তিকা নেই একদমই। অন্ধকার হাতড়ে হাতড়ে দুজন দুজনের একসাথে থাকার চেষ্টা করা মাত্র। 


প্রথমে কিছুটা অস্বস্তি আর ভয় ঘিরে ধরে একে অপরকে। একে অপরকে চিনে নেওয়ার চেষ্টা করা একটু কাছ থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে দূরের মানুষকে কাছ থেকে দেখা। কিন্তু একটু অপেক্ষা করলে ধৈর্য্য ধরলে তার লুকোনো সৌর্ন্দয্য আবিষ্কার করা যায়। ভালোবাসার একটা গভীর গোপন অপার সৌন্দর্য আছে। যে অপার সৌন্দর্যের সন্ধান পেলে এই পানসে একঘেয়ে জীবন বেশ ভালই লাগে কিন্তু। এটা নিখুঁত পথ খোঁজার বিষয় নয়, বরং একসাথে দুজনের সেই পথ চলার একটা বিষয়। যে পথ ধরে এগিয়ে চলি আমরা দুজনে ঝড় ঝাপটা সামলে। একসাথে, একপথে, মিলেমিশে, হাতে হাত ধরে, খানাখন্দ পেরিয়ে দুজন দুজনের হাত ধরে। 

সত্যিই আজ সেই একসাথে পথ চলা দুটি মানুষের কথা। যে মানুষ দুটো হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়, একে অপরকে দোষারোপ করে, ঝগড়া করে, জীবন নিয়ে কাটাছেঁড়া করে, হাসি কান্না যন্ত্রণা সহ্য করে বেঁচে থাকে, আবার ভালোওবাসে তারাই একে অপরকে। আবার চেষ্টা করে একসাথে মিলেমিশে চলার। অন্ধকার গুহার ভিতর থেকে valentines day র বার্তা দেয় তারাই। এই ভালোবাসার গুহার গভীর থেকে, যেখানে উষ্ণতা ও বিস্ময় তাদের ঘিরে রাখে, আর আমরা সকল বন্ধুদের জন্য পাঠাই এই বার্তা, আমরা একে অপরের মাঝে আশ্রয়, সাহসিকতা ও অপার স্নেহের প্রতিধ্বনি পেয়েছি, তেমনই আমরা আশা করব আমাদের বন্ধুরাও তাদের ভালোবাসার মানুষটির মাঝে তা খুঁজে পাবে ঠিক এইভাবেই।

অজানা পথকে ভয় না পেয়ে—বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। সবার জীবনে আসুক সেই গভীর ভালোবাসা, যা তোমাদের পথ আলোকিত করবে, যে তোমার পাশে দাঁড়াবে প্রতিটি বাঁক ও চ্যালেঞ্জে প্রতিটি মুহূর্তে। ভালোবাসা শুধু কিছু মাত্র মানুষের জন্য নয়—যে খোঁজে, তার জন্য তা সর্বদাই অপেক্ষা করে চুপটি করে ঠিক ঘাপটি মেরে।

ভালোবাসা তো একটা অনুভূতির অনুরণন। যে অনুরণন আমাদের দুজনকে ঘিরে রাখে হাজারও মানুষের ভীড়ে পথ হারিয়ে যাতে না যায় আমাদের সেদিকে নজর রেখে। আর তাই এই ছায়াঘেরা মায়াময় পথে দুজন হেঁটে যাই আমরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে, আঁকড়ে ধরে। একে অপরের পরিপূরক হয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি আমরা। মনে মনে আমরা দুজনেই বলি এই ভালোবাসার বালি ঝড় ওঠা দিনে, এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হতো তুমি বলতো। 

আসলে আজকাল এই বুড়ো বয়সে পথ শেষ হবার বড়োই ভয়, হাত ছেড়ে যাবার বড়োই ভয়। একে অপরের কাঁধে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে এই আশ্রয় চলে যাওয়ার ভয় গ্রাস করে যেনো রাতের অন্ধকারে। একসাথে যে ধূলিধুসর পথ কাটিয়ে এলাম আমরা এতদিন, এতগুলো বছর। যে পথের ধারে লাল পলাশের পদাবলী দেখে মুগ্ধ হলাম। টলটলে দীঘির কালো জলে হলুদ সবুজ প্রজাপতির ওড়া দেখে আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠলাম, তৃপ্ত হলাম। খোয়াই এর জ্যোৎস্না মাখা রাতে ঘুম ভেঙে উঠে একে অপরকে নতুন করে আবিষ্কার করলাম, কৃতার্থ হলাম।

শীতের ভোরে তখন সবুজ ধানের ক্ষেতের মাঝে তখন সাদা বকের কুয়াশা মাখা পথ পেরিয়ে ডানা মেলে উড়ে যাওয়া। হলুদ সর্ষে ফুলের ক্ষেতে তখন বসন্তবৌরীর লুকোচুরি খেলা আর ফিঙের নাচন দেখে মনটা বড়ো ভালো হয়ে যায় আমাদের। এই ভালোবাসার বালি ঝড়ে হারিয়ে যাওয়ার দিনে শুধুই চারিদিকে নিকষ কালো অন্ধকার এর মাঝে ভালোবাসার নিঃশব্দ স্পর্শ আর তার টুং টাং অনুরণন। যে অনুরণন আমাদের বাঁচিয়ে রাখে আগামীদিনেও।

যার মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকি আমরা। অন্ধকার পথ পেরিয়ে দূরে অনেক দূরের আলোকবর্ষের ভালোবাসার নিনড় সম্পর্কের বন্ধনে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে নিয়ে একে অপরকে জড়িয়ে, আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা। একে অপরকে নিয়ে বেঁধে থাকা আর বেঁধে রাখা, এটাই যে আজকের এই ভালোবাসার দিনের মূল মন্ত্র। হ্যাপি ভ্যালেন্টাইনস ডে।

হ্যাপি ভ্যালেন্টাইনস ডে - অভিজিৎ বসু।
চৌদ্দ ফেব্রুয়ারী দু হাজার পঁচিশ।
ছবি নিজের ক্যামেরায় তোলা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...