সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বসন্ত এসেছে মোর দ্বারে

একে তো ফাগুন মাস কি জানি কি হয়। ফাগুনের আগুনে পুড়তে মন চায় এই বুড়ো বয়সেও আমার ঘরের লোকের গাল শুনেও। শান্তিনিকেতনে বসন্ত আসতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। আজি বসন্ত এসেছে জাগ্রত মোর দ্বারে। এই গানের কথাই মনে পড়ে যায় আমার এই সময়ে।


 হ্যাঁ, সেটাই দেখা যাচ্ছে ধীরে ধীরে। বসন্ত জাগ্রত হচ্ছে ধীরে ধীরে আড়মোড়া ভেঙে। শীতের সকালে ভেজা কুয়াশার পথ পেরিয়ে বসন্ত আসছে গুটি গুটি পায়ে। শীতের হিম শীতল পরশ কাটিয়ে বসন্ত আসছে ঘরে বাইরে সর্বত্রই। আকাশে বাতাসে সেই বসন্তের রঙিন প্রলেপ পড়তে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। যে প্রলেপে কাবু আমরা সবাই। 

পাতা ঝরা নিম গাছের ডালে বসে কবুতরের মন খারাপের বিধুর ডাকে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে উঠেছে যেনো। সত্যিই ওরাও বোধহয় ছাদের আলসেতে বসে বুঝতে পেরেছে এসেছে বসন্তের ডাক। যে ডাকে সাড়া দিয়ে ওরাও কেমন কাবু হয়ে গেছে যেনো ঠিক আমার মতোই। 

যদিও ইতিমধ্যেই কবিগুরুর রবি ঠাকুরের আপন দেশে বসন্তের উৎসবের আয়োজন করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। কবির প্রাণের এই শান্তির শহরে এইবারও হবে না বসন্ত উৎসব। যেটা হবে নমঃ নমঃ করে সেই বসন্ত উৎসবে যোগ দিতে পারবে না বহিরাগত কেউই। কারণ বিশ্বভারতী আজ আর সেই পুরোনো দিনের মতো নেই। সে আজ হেরিটেজ তকমা নিয়ে বেঁচে আছে সবার মাঝে মাথা উঁচিয়ে বিশ্বজনীন হয়ে তার প্রিয় সর্বজনীন তকমা ছেড়ে হাসি মুখে।

 বসন্তের রঙিন তিলোত্তমায় সেজে উঠেছে চারিদিক। তার মাঝে বসন্ত জাগ্রত দ্বারে এই গানটা কেমন যেনো কানে ঠেকছে বারবার আমার। সত্যিই তো যখন এই গান এর সৃষ্টি হলো তখন বোধহয় এমন ঘটনা ঘটেনি এই শান্তিনিকেতনে। তখনও বোধহয় এই নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে যায়নি বসন্তের রঙিন উৎসব, অনুষ্ঠান, নাচ গান আনন্দ আর নানা মানুষের উচ্ছাস। বন্ধ হয়ে যায়নি হৃদয়ের দরজা। আপন পর ভুলে একে অপরকে জড়িয়ে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার মুহূর্তকে আটকে দেওয়া হয়নি একেবারেই। আজ যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা এই বিখ্যাত গান, কবিতা,আর কথা।

 আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।        

তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে      

কোরো না বিড়ম্বিত তারে॥

আজি খুলিয়ো হৃদয়দল খুলিয়ো,  

আজি ভুলিয়ো আপন-পর ভুলিয়ো,

এই সংগীতমুখরিত গগনে          

তব গন্ধ তরঙ্গিয়া তুলিয়ো।        

এই বাহির ভুবনে দিশা হারায়ে    

দিয়ো ছড়ায়ে মাধুরী ভারে ভারে।  

অতি নিবিড় বেদনা বনমাঝে রে  

আজি পল্লবে পল্লবে বাজে রে।      

দূরে গগনে কাহার পথ চাহিয়া  

আজি ব্যাকুল বসুন্ধরা সাজে রে।  

মোর পরানে দখিনবায়ু লাগিছে--  

কারে দ্বারে দ্বারে কর হানি মাগিছে।

এই সৌরভবিহ্বলা রজনী        

কার চরণে ধরণীতলে জাগিছে।  

ওগো সুন্দর, বল্লভ, কান্ত,        

তব গম্ভীর আহ্বান কারে॥      

গীতাঞ্জলী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

বসন্ত এসেছে মোর দ্বারে - অভিজিৎ বসু।
ষোলো ফেব্রুয়ারী দু হাজার পঁচিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যা দেখি…প্রতিদিন মনে পড়ে কত… স্মৃতির পথ ধরে হাঁটি… লিখি…

বদলে যাওয়ার তালিকায় সবাই

ভেবেছিলাম আট থেকে আশির এই নিজেকে বদলে নেওয়ার দলে ও নাম লেখাবে না একদম কিছুতেই। গুরুগম্ভীর আর সেই অর্থপূর্ণ ভাব বিনিময় করে বেঁচে থাকা আর উচ্চপদে কর্মরত এই ব্যক্তি কী আর নিজেকে খোলস ছেড়ে বদলে নেবে হঠাৎ করেই। কেমন দেখতে লাগে এই নতুন চেহারায় ,সেটা দেখার বাসনা হবে তাঁর। কিন্তু না আমি দেখলাম এই বদলে নেওয়ার আর নিজেকে একটু উল্টেপাল্টে দেখে নেবার লোভ বড়ো ছোঁয়াচে। ঠিক বসন্তের বাতাসে উড়ে বেড়ানো পলাশের শুকনো হাসির মতই।   জানি আমায় কেউ কেউ বলবেন আবার ওকে নিয়ে লেখা। এই লেখা কত নম্বর ভাই। এই ছবি দেখে আর লেখার কি দরকার বাবা তোমার। তিনকাল গিয়ে এককাল ঠেকেছে তোমার। ওকে তেল দিয়ে আর লাভ নেই,চাকরির আশা নেই আর কোনোও তোমার। যেমন আছো তুমি তেমনি থাকো বাবা এই টোটো চালকের বেশ ধরে ঘুরে বেড়িয়ে এই এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস জীবন নিয়ে। আর কতবার এই মুর্শিদাবাদের ভেঙে পড়া সাম্রাজ্যের এক ব্যক্তিকে নিয়ে বার বার লিখবে আর তাঁকে প্রজেক্ট করবে তুমি এইবার তো থামো বাবা। একটু এই শেষ বেলায় হিসেব করে মেপে পা ফেলো মাঠে। না হলে যে গর্তে পড়ে বেঘোরে হাত পা ভাঙবে তোমার। আমি মনে মনে এই সব শুনে অস্ফুটে ...

আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলা

আঁকাবাঁকা পথ ধরে আমার এগিয়ে চলা। এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে এগিয়ে চলা। যে জীবনে আবাহন আর বিসর্জন নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই কোনোদিন। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে সুখ আবার দুঃখও। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে নতুন কিছু পাওয়ার আশায় আনন্দে উদ্বেলিত হওয়া। আবার আমার এই সাদা জীবনের কালো কথা বা কালো জীবনের সাদা কথার ছোপ ছোপ দাগ। সেই বাঘের গায়ে ডোরা কাটা দাগ নিয়ে বেঁচে থাকা আমার। একদম নিজের মতো করেই যেখানে কারুর কাছে কোনোভাবেই তাঁর বশ্যতা মেনে নিয়ে নয় যেটা আমি পারলাম না কোনোভাবেই কোনওদিন।  তবুও জীবন যাপন তো করতেই হয় আমাদের। যে জীবনের বাঁশবনের ছায়ায় বসে দেখতে হয় বাঁশপাতার মাঝে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফিঙের নাচন। সেই ঝিরিঝিরি পাতার ফাঁকে মিষ্টি রোদের নরম আলো ছায়ার খেলা। যে খেলা দেখতে আমার বেশ ভালই লাগে আজকাল। যে খেলায় কত চেনা মুখের অচেনা ছবি যে ধরা পরে যায় হঠাৎ করেই কে জানে। আমি সেই ছবির ভীড়ের মাঝে কেমন বেঁহুশ হয়ে নিজেই হারিয়ে যাই এদিক, ওদিক, সেদিক। চেনা অচেনার পথ ধরে বাঁশবনের ছায়া মেখে হারিয়ে যাওয়া সেই জীবন। যে জীবনে সাদা কালো কত কিছুই না থেকে যায় দাগ র...

হাসনুহানার হাতছানি

দেওয়াল জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা, নানা রঙের প্রলেপ। চারিদিকে শুধুই উজ্জ্বল নানা রঙের হাতছানি। ক্যানভাসে ফুটে ওঠা, নানা রঙের ছোপ ছোপ দাগ। হাজারো রঙের মাঝে রঙহীন বিবর্ণ একা আমি। হলদে ঘাসের ওপর শিশির ভেজা ভোরের হাতছানি এড়িয়ে। লাল পলাশের হাতছানি এড়িয়ে, সন্তর্পনে ঘুরে বেড়াই আমি, একা, একা। চাঁদনী রাতের আকাশে, হালকা মেঘের আড়ালে আবডালে, লুকিয়ে থাকা সব অপ্সরীর দল ঘুরে বেড়ায় সেজেগুজে। অন্ধকারের বুক চিরে জেগে ওঠা দুর আকাশে, ওই সপ্তর্ষি মন্ডলের ডাক শুনে। কেমন যেনো থমকে দাঁড়িয়ে যায়, ল্যাম্প পোস্টের ওই কালো ছায়া। হাসি মাখা রঙিন সব মুখ দেখে থমকে দাঁড়িয়ে যাই বিবর্ণ আমি, একদম একা। দিনের আলো ছেড়ে, ভীড় এড়িয়ে অন্ধকারে মুখ লুকোই আমি। পলাশ ফুলের গন্ধ এড়িয়ে, ছুটে যাই হাসনুহানার কাছে। অভিমানে মুখ লুকিয়ে সে বলে, এত দেরি করে এলে কেনো তুমি রঙিন হতে আমার কাছে। আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকি নত মুখে, হাসনুহানার গন্ধ বুকে নিয়ে। লাল পলাশের হাতছানি এড়িয়ে, হাসনুহানার কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে, রঙিন হয়ে যাই আমি। হাসনু হানার হাতছানি - অভিজিৎ বসু। ছাব্বিশ মার্চ, দু হাজার চব্বিশ।

জয় মা মঙ্গলচন্ডী

মা মঙ্গলচণ্ডী, যাঁহার নাম মধুর ও মনোহর, যাঁহার হস্তে বর ও অভয় মুদ্রা, যিনি দ্বিভুজা ও গৌরবর্ণা, যিনি রক্তপদ্মাসনে উপবিষ্টা ও মুকুট দ্বারা উজ্জ্বলরূপে ভূষিতা, যিনি রক্তবর্ণ কৌষেয় (চেলির) বস্ত্র পরিধান করিয়া আছেন, যিনি সহাস্যবদনা, সুন্দরাননা ও নবযৌবনা, যিনি সুন্দরাঙ্গী ও মধুর লাবণ্যযুক্তা, তিনিই হলেন দেবী মঙ্গলচণ্ডী। বিশ্বের মূল স্বরূপা প্রকৃতিদেবীর মুখ হ’তে মঙ্গলচণ্ডী দেবী উৎপন্না হয়েছেন। তিনি সৃষ্টিকার্য্যে মঙ্গলরূপা এবং সংহারকার্য্যে কোপরূপিণী, এইজন্য পণ্ডিতগণ তাঁকে মঙ্গলচণ্ডী বলিয়া অভিহিত করেন।” “দক্ষ অর্থে চণ্ডী এবং কল্যাণ অর্থে মঙ্গল। মঙ্গলকর বস্তুর মধ্যে দক্ষ বলে তিনি মঙ্গলচণ্ডী নামে প্রসিদ্ধ। প্রতি মঙ্গলবারে তাঁহার পূজা বিধেয়। মনু বংশীয় মঙ্গল রাজা নিরন্তর তাঁহার পূজা করিতেন।” জৈষ্ঠ্যমাসের প্রতি মঙ্গলবারে মা চণ্ডীর আরাধনা করা হয় বলে এই ব্রতের নাম মঙ্গলচণ্ডী ব্রত। জীবনে শ্রেষ্ঠ মাঙ্গল্যের প্রতিষ্ঠার জন্যই এ ব্রতের অনুষ্ঠান। মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের নানা রূপ আছে। কুমারীরা যে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের আচরণ করে, তা অতি সহজ ও সংক্ষিপ্ত। দেবী অপ্রাকৃত মহিমার প্রশস্তিগীতি ব্রতের ছড়ায় এস...