সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

২৪ ঘন্টার দেবশ্রী

বহুদিন পর ওর সাথে কথা হলো আমার। একসময় ও তিনটে বারোটার শিফটে অফিস এলে তারপর আমি একটু নিচে চা খেতে যেতাম সেই পোদ্দার কোর্টের বিখ্যাত অফিসে। পরে সেই নিয়মটা বহাল ছিল সেক্টর ফাইভের মিডিয়া সিটিতেও। বেশ সুখের, মজার আর আনন্দের তিনজনের সংসার ছিল আর কি আমাদের সেই সময়। আমি, দেবশ্রী, শুভ্রজিৎ আইচ আর তারপরে এলো বিখ্যাত সেই বাংলা সাংবাদিকতার উজ্জ্বল এক নক্ষত্র সেই দীপ এক দাদার হাত ধরে এই বাংলা চ্যানেলের মিডিয়াতে তাঁর শুভ পদার্পণ।

 যে একজন দীপ জ্বেলে যাই সিনেমার পর্দায় অভিনয় করা হিট সফল নায়ক হয়ে উঠল ধীরে ধীরে নিজের কর্মদক্ষতায় আর নিজ গুণে। যাকগে সে গল্প অন্য কোনোদিন। বেশ সুখের মা মাটির আর মানুষের মিলিজুলি সংসার আমাদের এই চারজনের। ঝগড়া ঝাটি নয় বেশ ভালই লাগত কিন্তু সেই সময় স্বর্ণযুগের খবরের চ্যানেল না হলেও সেই ভেঙে পড়া প্রস্তর যুগের জমানায় সেই খবর যেখানে থেমে থাকে না সেই ২৪ ঘন্টা দৌড়ে বেড়ায় যে চ্যানেল সেখানে দৌড়ে, ছুটে গাল খেয়ে, কখনও আবার বাহবা কুড়িয়ে বেরিয়ে কাজ করতে আমাদের এই চারজনের। 

সেই দেবশ্রী গোস্বামীর সাথে কথা হলো আমার বহুদিন পরে আজ। সেই মাঝে ওর সাথে যোগাযোগ করা হয়নি আর এই মিডিয়া জীবন ছেড়ে দিয়ে বেশ কিছুদিন হলো। সেই দেবশ্রী আর স্বপনের সুখের সংসার। ওর ছেলের মোবাইল ফোনে ফোন এলেই ঝাঁপিয়ে পড়া। মা ব্যস্ত আছে বলে ফোন ধরে নেওয়া একবারে জোর করে। আর স্বপনের সেই এক অফিসে ২৪ ঘণ্টার কাজ ছেড়ে প্রতিদিন কাগজের ডেস্কের কাজে চলে যাওয়া গুটি গুটি পায়ে সেই ব্যাগ হাতে নিয়ে। পরে সেখান থেকে আজতকে ডেস্কের কাজে যোগ দেওয়া ওর। এইভাবেই বেশ ভালই দিন কেটে যাচ্ছিল আমাদের সুখের দিন।

দেবশ্রীর একদিন হাসিমুখে চব্বিশ ঘন্টা ছেড়ে রিপাবলিক বাংলা চ্যানেলে চলে যাওয়া। তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে কিছুদিন এই সময় ডিজিটাল এ কাজ করা এইভাবেই তো চলে যাচ্ছিল ওর সুখের জীবন। বেশ হাসিখুশি জীবন যাপন করেই কেটে যাওয়া আমাদের সুখের অ্যাসাইনমেন্টের টেবিল আর সেই টেবিল এর কিছু জীবন এর গল্প। যে সব জীবনে কোনো সময় খবর ধরানো হয়নি বলে কাগজ ছুঁড়ে দেওয়া ছিল। চিৎকার চেঁচামেচি ছিল। কত জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো কাঁচের ঘরে খবর নিয়ে, টিআরপি নিয়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেয়ে কত আলোচনা। কত সাদা কাগজে প্ল্যান প্রোগ্রাম হতো ভোটের আগে নানা বড়ো ইভেন্ট এর আগে। চা, ব্ল্যাক কফি আর মুড়ি মাখা খেতে খেতে।

বাংলা বন্ধের আগে যদিও বন্ধ রাজনীতিতে কিছুটা ভাটা পড়লো এই ঘাসফুলের জমানায়। কি করে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি খবর হবে তার পরিকল্পনা হতো অফিসের দাদাদের নিয়ে আর ছোটো বড়ো মেজো সেজো কর্তাদের নিয়ে গম্ভীর মুখে। আমরা যেখানে সব রাজাদের মাঝে বোড়ের দল কেমন চুপটি করে বসে থাকতাম মাসের শেষে দুটো টাকা বেতন পাবো বলে। যে বেতনের টাকায় আমার সংসার চলত, যে বেতনের টাকায় দেবশ্রী তার নিজের জন্যে না হলেও ওর বাচ্চার জন্য খরচ করতে পারতো একটু হাসি মুখে। সেই বেতন পেয়ে শুভ্রজিৎ আইচ যাকে আমি ফ ব বলতাম সেই গল্প পরে একদিন বলবো সেই মাটি আর আইচ এর সংসার চলতো বেশ ভালোভাবেই হিসেব করে। 

পরে সেই দীপ এসে সেই সুখের সংসারে একদিন যোগ দিলো আনন্দে আত্মহারা হয়ে দাদাদের হাত ধরে কলার তুলে। আর সেই ইডেন এর মাঠে খেলার খবর পেলেই কেমন কাঁচের ঘরে এডিটরের কাছে প্রবেশ করে হাসি মুখে ভি আই পি বক্সের টিকিট জোগাড় করে হাসি মুখে অ্যাসাইনমেন্টের ডেস্কে ফিরে আসতো মুখে হাসি নিয়ে আর বুক ফুলিয়ে। বেশ ভালই লাগত আমার ওকে দেখে। মনে মনে ভাবতাম এই ছেলে লম্বা রেসের ঘোড়া অনেকদূর যাবে কিন্তু একদিন। সেটাই আজ হয়েছে দুর থেকে দেখতে পাই ওকে। 

সেই দেবশ্রী আজ ফোন করলো কথা হলো। যে সেই ওর ট্রেন একটু লেট হলেই যে আমায় ফোন করে বলতো দাদা আমি আসছি তুমি একটু দেখো দাদা। আমি বলতাম নো চিন্তা। উল্টোডাঙ্গা থেকে দুপুরে অটো না পেয়ে হাঁফাতে হাঁফাতে এসে দৌড়ে অফিস ঢুকতো কিছুটা লজ্জা পেয়ে। আর অফিসের নানা কোণে বসে থাকা নানা মাপের দাদারা সেটা দেখে ওকে জরিপ করতো কড়া নজরে চশমার ফাঁক থেকে। সত্যিই ঠিক যেনো একটা জেলখানার বন্দী তার কুঠুরিতে প্রবেশ করতে একটু লেট করেছে আর কী। এতে খুব যে পিছিয়ে পড়তো চ্যানেল টিআরপিতে সেটা কিন্তু নয়। ওই নজরদারির মধ্যে দিয়েই সেই সব নানা মাপের খবরের কর্তাদের বেঁচে থাকার চেষ্টা করা আর কী এই দ্রুত গতিতে ছুটে চলা খবরের দুনিয়ার জীবনে। মোটা মাস মাইনে, বছরের শেষে মোটা ইনসেনটিভ, আরও কত কী যে জুটে যেতো তাঁদের কে জানে।

সত্যিই অসাধারণ এই মিডিয়া জীবন বলতে আর ইচ্ছা হয় না আমার কিছুতেই। এই দীর্ঘ সময়ে দীর্ঘদিনের ঘেরাটোপে বন্দী জীবন যে খুব ভালো ছিল সেটাও নয় কিন্তু একদমই। শুধু একটা জীবনে কিছুটা স্থায়িত্ব ছিল সেই সময়ে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছিল, পকেট থেকে বের করে দু দশ টাকার চা খাওয়া যেত আর খাওয়ানো যেতো কাউকে কাউকে। এখন যেমন সেটার জন্য আমার মেয়ের কাছে হাত পেতে বলতে হয় পাঁচ টাকা হবে চা খাবো একটু। মেয়ে বেশ কঠিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে আমায়। ওর ব্যাগ থেকে মিষ্টি হেসে টাকা বের করে দিয়ে বলে এই নাও তুমি। খালি চা খাওয়া আর ঘুরে বেড়ানো সাইকেল করে। 

সত্যিই আজ দেবশ্রীর সাথে ফোনে যোগাযোগ হয়ে মনটা কেমন বড়ো ভালো হয়ে গেলো আমার। কেমন যেনো সেই স্মৃতির ঝাঁপি থেকে বেরিয়ে এলো নানা ধরনের সব ঘটনার মিষ্টি মধুর সুন্দর কিছু ছবি। সেই অনুতোষ এর দ্রুত পায়ে গজগজ করতে করতে বুলেটিনের জন্য পিসিআর এর দিকে চলে যাওয়া খুব রেগে গিয়ে, কিন্তু বুলেটিন শেষ করে সেই রাগ কমিয়ে আবার কথা বলা হাসি মুখে অ্যাসাইনমেন্টের লোক দের সাথে কাছে এসে। কারণ একটা খবর একটু দিতে দেরী হয়েছে আমাদের তাই রাগ ওর আর সেই খবর বুলেটিনের শেষে দেখিয়ে দিয়ে রাগ কমিয়ে হেসে বলা যা টেনশন হয় না দেখালে তো আবার কেনো দেখানো গেলনা বলে কথা হবে। তোমরা কিছু মনে কোরো না কিন্তু। আর একটু দূরে বসে তিন্নির মিটিমিটি হাসি। সত্যিই বড্ড মিস করি আমি দিনগুলো। 


সেই বিখ্যাত অর্পিতা, কোয়েল, সঞ্চিতা, মিমি, অনুসুয়া, কতজন যে ছিল সেই সময় সব বিখ্যাত সুন্দর মুখের সমাহার। যাঁদের সাথে একসাথে কাজ করেছি বলে কিছুটা গর্ব হয় আজ আমার। সেই দিব্যেন্দু আর শুভ্রাংশু, সেই ভাস্কর দা। সেই ডেস্কের প্রদীপ, সোমনাথ আরও কতজন যে ছিল সেই সময়। সেই দেবরাজ, সেই বিখ্যাত সৌম্য সিনহা, দেবশ্রীর বর স্বপন, প্রবাল আর কুশল। সেই ব্রেকিং লেখা অজয় দা, জয়ন্ত আর সেই বেঁটে করে কি নাম বেশ পড়ে সিএন নিউজে দেখলাম তাঁকে ব্রেকিং লিখতে বসে আছেন তিনি বিরাটির অফিসে। নামটা মনে পড়লে লিখবো আমি কারুর থেকে জেনে নিয়ে। খুব সম্ভবত কৃষ্ণদা হবেন মনে হয় তিনি। 

সেই রিসেপশন এর গম্ভীর মুখের মেয়েটি। সেই লেস্টার। সেই ফ্যাসিলিটির দেবু, দীপক, সুজিত এর সুখের সংসার। সেই রাইডার দেবু আর জয়। সেই হাসি মুখের অফিসের সর্ব সমস্যার সমাধানে ব্যস্ত ঠাণ্ডা মাথার মুন্না, টাকার হিসেব সামলানো মহাদেব আর ওমং ঝুনঝুন ওয়ালার ঘর। সেই ছবি কাটার লুপ আর বাইট কাটার সেই বিখ্যাত সোমনাথ কর যিনি অজয় করের নাতি তার সুখের অক্ষত হাসির সংসার। যে সংসারে মার্চ মাস এলে অন্য জায়গার লোকদের বুক দুরুদুরু হলেও ওদের কিছুই হতো না। সেই নরেন, সৌরভ , রতন, অনিল দা, শীর্ষেন্দু আরও কতজন যে ছিল সেই সময়। আর সেই মলয় দা, আর টেকনিকাল এর লোকজন ছিল সব সেই বিখ্যাত সিতাংশু। সেই সাউন্ড এর অভিজিৎ দা। আর ক্যামেরা রুমের দেবু দা। আকবর দা। আরও কতজন যে ছিল সেই সময়। বেশ ভালো লাগতো কিন্তু এদের সাথে দল বেঁধে একসাথে কাজ করতে সেই সময় হৈ হৈ করে। 

কতজন এর সেই সুখের আর হাসিমুখের চেনা সংসার।যে সংসার গুলো কেমন অনিশ্চিত হয়ে গেলো ধীরে ধীরে। যে সুখের মিডিয়ার সংসার আর নেই বর্তমানে এই মা মাটি আর মানুষের আমলে। দেবশ্রী এখন মিডিয়ার কাজে তেমন উৎসাহ পায়না আর একদমই। সেই সব এক দাদাদের প্রণাম করে আর পায়ে ধরে ঘুরে বেড়ানো আর ভালো লাগে না ওর একদম। তাই অন্য কাজে যোগ দিয়ে বেশ ভালই আছে ও বর্তমানে। 

সেই চেনা দাদাদের অচেনা ছবি দেখে ও বোধহয় কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছে আসলে কিছুই যে সেই এতদিন একসাথে কাজ করেও ঠিক ছিল না কোনও সম্পর্কই। গড়ে ওঠেনি মিষ্টি মধুর সম্পর্ক কোনওদিন। কেমন দূরের সহকর্মী হয়েই বেঁচে থাকা আর কী ওর, আমার সবার। অফিস এর ঘেরাটোপে বন্দী সম্পর্ক স্থাপন হয়না কোনোদিন, সেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে না কোনোভাবেই কোনওদিন আর কোনসময়। 

শুধু ওই পাঁচ টাকার চা আর দশ টাকার মুড়িতেই আটকে থাকে একফালি বাঁকা চাঁদের হাসির মতোই সেই সব নকল কাঁচের চুড়ি পড়া সম্পর্ক। তবু এসবের মাঝেও ওর ফোন আমায় বেশ আনন্দ দিলো আজ। বেশ ভালো কিছু পুরোনো দিনের স্মৃতি কথা মনে করিয়ে দিলো ওর এই ফোন। 

আর তাই আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগে আমি লিখে ফেললাম আমি কিছু ফেলে আসা দিনের কথা। সেই আমার মিডিয়ার জীবনের কথা। যা একদিন আনন্দের জোয়ারে ভেসে যাওয়া ছিল, অর্থের অভাবে সংসার চালানোর চিন্তা ভাবনা ছিলোনা সেই বাংলা মিডিয়া কেমন করে যেন বদলে গেলো। সেই মিডিয়ার চেনা মানুষ গুলোও কেমন করে যেন কর্পোরেট স্টাইলে বদলে গেলো। শুধু তার মাঝেই দেবশ্রীর ফোন কিছু কথা আমায় মনে করিয়ে দিলো আমাদের ফেলে আসা দিনের মিষ্টি মধুর সম্পর্কের কথা। ভালো থেকো তুমি দেবশ্রী। 

২৪ ঘণ্টার দেবশ্রী - অভিজিৎ বসু।
বারো ফেব্রুয়ারী, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অচেনা মাঠে জেতা এক মানুষের গল্প

আসলে হেরে যাওয়া মানুষের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতে বেশ এই শীতের নিশুতি রাতে আমার ভালই লাগে। লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে ঠিক যেনো সেই ডিয়ার লটারীতে কোটি টাকা মিলবে এই স্বপ্ন দেখা আর কি। আমিও যে তার ব্যাতিক্রম নই। আর হারতে হারতে খেলার মাঠ থেকে পড়ে গিয়েও আবার উঠে হাত পা ঝেড়ে ফেলে এগিয়ে যেতে যেতে নতুন করে স্বপ্ন দেখা এক মানুষের লড়াই করা দেখতেও বেশ মন্দ লাগে না আমার কিন্তু। স্বপ্ন দেখা যে মানুষের নেশা। কেউ কেউ তো হাসি ঠাট্টা করে তামাশা করে বলে দুর বাংলার মাটি ছেড়ে, দীঘার সমুদ্রের নোনা জল ছেড়ে আরব সাগরের জলে পা ভিজিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এটা আবার কি সাংবাদিকতা নাকি। জ্যোতি বসুর বিখ্যাত উক্তির মত এমন তো কতই হয় আর কতই দেখলাম। আসলে বাংলা হলো সংষ্কৃতির পীঠস্থান, বাংলা হলো সাংবাদিকতার পীঠস্থান।  যেখানে একসময়ের লাল মাটি আর বর্তমানের সবুজ মাটিতে খবরের সোনার ফসল ফলে হাসতে হাসতে। সেই বাংলার মাটি ছেড়ে ওই দুর্ভিক্ষের রাজ্য কালাহান্ডির ওড়িশা আর মুম্বাই এর আরব সাগরের জল তো নোনা কবেই লিখেছেন সাহিত্যিক সমরেশ বসু। সেই জলে জলকেলি করে এক নম্বর হয়ে এত লাফালাফির কি আছে ভাই। সিনেমা...

দ্রোহ আর বিদ্রোহের ঘেরা টোপে বন্দী কার্নিভাল

একটা শব্দ ইদানিং বেশ হাটে মাঠে ঘাটে সব জায়গায় ঘুরছে দ্রোহ। বিশেষ্য পদের এই শব্দ দ্রোহ হলো অনিষ্টাচারণ, অপকার, শত্রুতা, কলহ, আর বিরুদ্ধতা,পরাভব,অভিভব। এমন নানা শব্দবন্ধের মোড়কে আবদ্ধ হলো এই দ্রোহ। যে দ্রোহের ঘেরাটোপে বন্দী হয়েছে উৎসব, বন্দী হয়েছে কার্নিভাল, বন্দী হয়েছে আমাদের রাজনৈতিক সংঘাত। যে সংঘাত অনিবার্য ভাবেই সৃষ্টি করেছে নানা আন্দোলন আর সেই আন্দোলনের পাল্টা জবাব দেওয়া।  আসলে এর মধ্যেই যে লুকিয়ে আছে সুক্ষ্ম রাজনীতির মারপ্যাঁচ। যে রাজনীতির বৃত্তে নানা ভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে আন্দোলনকারী চিকিৎসক থেকে শুরু করে বাম, ডান, লাল, সবুজ আর গেরুয়া দল সবাই। সবটাই যে রাজনীতির হিসেব আর নিকেশের ঘেরাটোপে বন্দী। সে দ্রোহ হোক বা বিদ্রোহ হোক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে,শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে, আমরণ অনশন কর্মসূচি থেকে নানা আন্দোলন করে চিকিৎসকরা বুঝিয়ে দিতে চান যে তারা যে করেই হোক জয়লাভ করতে চান এই আন্দোলনে। যে আন্দোলন একমাত্র তাদেরই তৈরি করা আন্দোলন।  কিন্তু সেই আন্দোলনের মাঝে কলকাতায় হলো জোড়া কার্নিভাল। একটি পূজোর জমজমাট কার্নিভাল। র...

উত্তরপাড়ার রামঘাটের গোপাল দা

এটা সেই উত্তরপাড়ার রামঘাটের প্রতিবন্ধীদের নিয়ে স্কুল চালানো একটি ভগ্নপ্রায় বাড়ী আর সেই পরিচিত গোপালদার চেনা অফিস। যে অফিসে সন্ধ্যা হলেই সাইকেল চালিয়ে চলে আসতেন আমাদের সবার প্রিয় গোপাল দা। হ্যাঁ, সেই উত্তরপাড়ার গোপাল চ্যাটার্জী। আমাদের হুগলী জেলার ছোটো কুচোকাচা সাংবাদিক দের ছোটো ছোটো খবর দেওয়া গোপাল দা। সেই প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সীর হাত ধরে কংগ্রেস করা সেই গোপাল চট্টোপাধ্যায়। যখন লাল পার্টির দাপটে বিরোধী দল করা বেশ কষ্টের ছিল সেই আমলে গোপাল দা বুক চিতিয়ে হাত কংগ্রেস করতে ভয় পেতেন না একদমই। সেই বর্তমানে বিখ্যাত তখন ওহ লাভলি নেতা মদন মিত্র এত বিখ্যাত ছিলেন না সেই সময়ে সেই আমলে। সেই মদন মিত্র আসতেন এই রামঘাটের অফিসে বেশ সুন্দর করে সেজেগুজে মাথাভর্তি চুলে চিরুনি অভিযান করে। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সেই বাড়ির সামনে তখন কত ভীড় জমে যেতো মদন দা এলেই। সাদা ঘের ওলা বেলবটস প্যান্ট আর টকটকে লাল টাইট গেঞ্জি পড়ে এখনকার মত এত বিখ্যাত না হয়েও চোখে রঙিন চশমা না পরেও সাংবাদিকদের হাসিমুখে সামলে দিতেন তিনি। বলতেন গঙ্গার ধারের এই জায়গাটা গোপাল বেশ সুন্দর জায়গা কিন্তু তোর জন্য ক...

অ্যাকোরিয়াম

ফাঁকা ঘরের মধ্যে শুন্য অ্যাকোরিয়াম। জলহীন। মাছহীন। জীবনহীন। উচ্ছাসহীন। অনিন্দ্য অনবদ্য আনন্দহীন একটা পড়ে থাকা ছোট্টো অ্যাকোরিয়াম। শুকনো খটখটে কিছু নকল গাছপালা ঘেরা একটা নকল জগৎ। যে জগৎ এর সবটাই কেমন নকল যেনো আসল শুধু ওর উপস্থিতিটাই। নকল ভালবাসাহীন একটা মায়া আর মমতাহীন একটা জগৎ। যে জগতের বাসিন্দারা হারিয়ে গেছে বহুদিন আগেই আমার এই আঁকিবুঁকিময় জীবন থেকে।  বছর কয়েক আগেও কত সুন্দর নানা রংয়ের জীবন ঘুরে বেড়াতো এই আমার সাজানো চৌকো বাক্সের ভিতর। তারা সবাই খেলা করতো। একে অপরের পিছনে লাগতো। এ ওকে ঠোঁট দিয়ে ঠোকর মারতো। দৌড়ে বেড়াতো। তারা ওপর নীচ করতো। ঘুরে বেড়াতো। লেজ নাড়তো। আর রাতের বেলায় নীল নরম আলোর স্পর্শ গায়ে মেখে আনন্দে বেঁচে থাকতো, তারা জলের বুদবুদ গায়ে মেখে স্নান করে। একে অপরের সাথে গা ঘষাঘষি করে দিব্যি বেঁচে থাকতো তারা। হেসে, খেলে, ঘুরে বেড়িয়ে, ছুটে চলে আবার কখনও ক্লান্ত হয়ে। রাতের খাবার দিলেই তারা সবাই কেমন আনন্দে ঝাঁপিয়ে পড়তে ভালবাসত খাবার খেতে। আর যে ঝাঁপিয়ে পড়া দেখে মন ভালো হতো আমার। আজ সব কেমন যেন শূন্য হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে ঝাঁপিয়ে পড়ার আ...

ইটিভির সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

কদিন আগেই ভোটের ডিউটি করতে এসে বোলপুরে ফোন করেছিল আমায়। কিছুদিন আগেই নিউজ এইট্টিন এর অফিসে চাকরি করার সময় কথা হয়েছিল আমার আর ওর মোবাইল ফোনে। মহাকরণে সেই পুরোনো সময়ে দুজনের মধ্যে দেখা হলে হাসি মুখেই কথা হতো আমার। সেই ইটিভির সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়। সেই সুদীপ্ত আর সঞ্চিতার জুটি। সেই ওর হাসি মুখের কথা কি হলো কাকা, কি খবর গো। কিছু খবর আছে নাকি। এমন টুকটাক কথা, কম যোগাযোগ দিয়েই চলছিল আমাদের সম্পর্ক।  তবু আজ মনে পড়লো আমার সেই সুদীপ্তর কথা। একটু কাঠখোট্টা। মুখে আমার মত অত খারাপ নয় একটু মধু কম দিয়ে কথা বলে ও। একটু চুপচাপ থাকা সাংবাদিক সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়। নদীয়ার কৃষ্ণনগরে কাজ করা সুদীপ্ত। সেই ইটিভির পুরোনো আমলের লোক সুদীপ্ত। হায়দরাবাদ ডেস্ক থেকে কলকাতায় এসেছিল মনে হয়। আজকাল বুড়ো হয়ে কিছুই মনে আসে না আমার। সেই সঞ্চিতার হায়দরাবাদ এ কাজ করা। ওদের পরিচয়, প্রেম, বিয়ে। জীবন তো এই ভাবেই জড়িয়ে যায় একে অপরের সাথে। সেই সঞ্চিতার বাবা আর মায়ের আমার সাথে হুগলী জেলায় কাজ করতাম সেই সময় কথা হতো কত। সেই তেলিনীপাড়ায় জগদ্ধাত্রী পূজোর সময় অঞ্জলি দিতে যাওয়া। জ...