সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

২৪ ঘন্টার দেবশ্রী

বহুদিন পর ওর সাথে কথা হলো আমার। একসময় ও তিনটে বারোটার শিফটে অফিস এলে তারপর আমি একটু নিচে চা খেতে যেতাম সেই পোদ্দার কোর্টের বিখ্যাত অফিসে। পরে সেই নিয়মটা বহাল ছিল সেক্টর ফাইভের মিডিয়া সিটিতেও। বেশ সুখের, মজার আর আনন্দের তিনজনের সংসার ছিল আর কি আমাদের সেই সময়। আমি, দেবশ্রী, শুভ্রজিৎ আইচ আর তারপরে এলো বিখ্যাত সেই বাংলা সাংবাদিকতার উজ্জ্বল এক নক্ষত্র সেই দীপ এক দাদার হাত ধরে এই বাংলা চ্যানেলের মিডিয়াতে তাঁর শুভ পদার্পণ।

 যে একজন দীপ জ্বেলে যাই সিনেমার পর্দায় অভিনয় করা হিট সফল নায়ক হয়ে উঠল ধীরে ধীরে নিজের কর্মদক্ষতায় আর নিজ গুণে। যাকগে সে গল্প অন্য কোনোদিন। বেশ সুখের মা মাটির আর মানুষের মিলিজুলি সংসার আমাদের এই চারজনের। ঝগড়া ঝাটি নয় বেশ ভালই লাগত কিন্তু সেই সময় স্বর্ণযুগের খবরের চ্যানেল না হলেও সেই ভেঙে পড়া প্রস্তর যুগের জমানায় সেই খবর যেখানে থেমে থাকে না সেই ২৪ ঘন্টা দৌড়ে বেড়ায় যে চ্যানেল সেখানে দৌড়ে, ছুটে গাল খেয়ে, কখনও আবার বাহবা কুড়িয়ে বেরিয়ে কাজ করতে আমাদের এই চারজনের। 

সেই দেবশ্রী গোস্বামীর সাথে কথা হলো আমার বহুদিন পরে আজ। সেই মাঝে ওর সাথে যোগাযোগ করা হয়নি আর এই মিডিয়া জীবন ছেড়ে দিয়ে বেশ কিছুদিন হলো। সেই দেবশ্রী আর স্বপনের সুখের সংসার। ওর ছেলের মোবাইল ফোনে ফোন এলেই ঝাঁপিয়ে পড়া। মা ব্যস্ত আছে বলে ফোন ধরে নেওয়া একবারে জোর করে। আর স্বপনের সেই এক অফিসে ২৪ ঘণ্টার কাজ ছেড়ে প্রতিদিন কাগজের ডেস্কের কাজে চলে যাওয়া গুটি গুটি পায়ে সেই ব্যাগ হাতে নিয়ে। পরে সেখান থেকে আজতকে ডেস্কের কাজে যোগ দেওয়া ওর। এইভাবেই বেশ ভালই দিন কেটে যাচ্ছিল আমাদের সুখের দিন।

দেবশ্রীর একদিন হাসিমুখে চব্বিশ ঘন্টা ছেড়ে রিপাবলিক বাংলা চ্যানেলে চলে যাওয়া। তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে কিছুদিন এই সময় ডিজিটাল এ কাজ করা এইভাবেই তো চলে যাচ্ছিল ওর সুখের জীবন। বেশ হাসিখুশি জীবন যাপন করেই কেটে যাওয়া আমাদের সুখের অ্যাসাইনমেন্টের টেবিল আর সেই টেবিল এর কিছু জীবন এর গল্প। যে সব জীবনে কোনো সময় খবর ধরানো হয়নি বলে কাগজ ছুঁড়ে দেওয়া ছিল। চিৎকার চেঁচামেচি ছিল। কত জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো কাঁচের ঘরে খবর নিয়ে, টিআরপি নিয়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেয়ে কত আলোচনা। কত সাদা কাগজে প্ল্যান প্রোগ্রাম হতো ভোটের আগে নানা বড়ো ইভেন্ট এর আগে। চা, ব্ল্যাক কফি আর মুড়ি মাখা খেতে খেতে।

বাংলা বন্ধের আগে যদিও বন্ধ রাজনীতিতে কিছুটা ভাটা পড়লো এই ঘাসফুলের জমানায়। কি করে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি খবর হবে তার পরিকল্পনা হতো অফিসের দাদাদের নিয়ে আর ছোটো বড়ো মেজো সেজো কর্তাদের নিয়ে গম্ভীর মুখে। আমরা যেখানে সব রাজাদের মাঝে বোড়ের দল কেমন চুপটি করে বসে থাকতাম মাসের শেষে দুটো টাকা বেতন পাবো বলে। যে বেতনের টাকায় আমার সংসার চলত, যে বেতনের টাকায় দেবশ্রী তার নিজের জন্যে না হলেও ওর বাচ্চার জন্য খরচ করতে পারতো একটু হাসি মুখে। সেই বেতন পেয়ে শুভ্রজিৎ আইচ যাকে আমি ফ ব বলতাম সেই গল্প পরে একদিন বলবো সেই মাটি আর আইচ এর সংসার চলতো বেশ ভালোভাবেই হিসেব করে। 

পরে সেই দীপ এসে সেই সুখের সংসারে একদিন যোগ দিলো আনন্দে আত্মহারা হয়ে দাদাদের হাত ধরে কলার তুলে। আর সেই ইডেন এর মাঠে খেলার খবর পেলেই কেমন কাঁচের ঘরে এডিটরের কাছে প্রবেশ করে হাসি মুখে ভি আই পি বক্সের টিকিট জোগাড় করে হাসি মুখে অ্যাসাইনমেন্টের ডেস্কে ফিরে আসতো মুখে হাসি নিয়ে আর বুক ফুলিয়ে। বেশ ভালই লাগত আমার ওকে দেখে। মনে মনে ভাবতাম এই ছেলে লম্বা রেসের ঘোড়া অনেকদূর যাবে কিন্তু একদিন। সেটাই আজ হয়েছে দুর থেকে দেখতে পাই ওকে। 

সেই দেবশ্রী আজ ফোন করলো কথা হলো। যে সেই ওর ট্রেন একটু লেট হলেই যে আমায় ফোন করে বলতো দাদা আমি আসছি তুমি একটু দেখো দাদা। আমি বলতাম নো চিন্তা। উল্টোডাঙ্গা থেকে দুপুরে অটো না পেয়ে হাঁফাতে হাঁফাতে এসে দৌড়ে অফিস ঢুকতো কিছুটা লজ্জা পেয়ে। আর অফিসের নানা কোণে বসে থাকা নানা মাপের দাদারা সেটা দেখে ওকে জরিপ করতো কড়া নজরে চশমার ফাঁক থেকে। সত্যিই ঠিক যেনো একটা জেলখানার বন্দী তার কুঠুরিতে প্রবেশ করতে একটু লেট করেছে আর কী। এতে খুব যে পিছিয়ে পড়তো চ্যানেল টিআরপিতে সেটা কিন্তু নয়। ওই নজরদারির মধ্যে দিয়েই সেই সব নানা মাপের খবরের কর্তাদের বেঁচে থাকার চেষ্টা করা আর কী এই দ্রুত গতিতে ছুটে চলা খবরের দুনিয়ার জীবনে। মোটা মাস মাইনে, বছরের শেষে মোটা ইনসেনটিভ, আরও কত কী যে জুটে যেতো তাঁদের কে জানে।

সত্যিই অসাধারণ এই মিডিয়া জীবন বলতে আর ইচ্ছা হয় না আমার কিছুতেই। এই দীর্ঘ সময়ে দীর্ঘদিনের ঘেরাটোপে বন্দী জীবন যে খুব ভালো ছিল সেটাও নয় কিন্তু একদমই। শুধু একটা জীবনে কিছুটা স্থায়িত্ব ছিল সেই সময়ে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছিল, পকেট থেকে বের করে দু দশ টাকার চা খাওয়া যেত আর খাওয়ানো যেতো কাউকে কাউকে। এখন যেমন সেটার জন্য আমার মেয়ের কাছে হাত পেতে বলতে হয় পাঁচ টাকা হবে চা খাবো একটু। মেয়ে বেশ কঠিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে আমায়। ওর ব্যাগ থেকে মিষ্টি হেসে টাকা বের করে দিয়ে বলে এই নাও তুমি। খালি চা খাওয়া আর ঘুরে বেড়ানো সাইকেল করে। 

সত্যিই আজ দেবশ্রীর সাথে ফোনে যোগাযোগ হয়ে মনটা কেমন বড়ো ভালো হয়ে গেলো আমার। কেমন যেনো সেই স্মৃতির ঝাঁপি থেকে বেরিয়ে এলো নানা ধরনের সব ঘটনার মিষ্টি মধুর সুন্দর কিছু ছবি। সেই অনুতোষ এর দ্রুত পায়ে গজগজ করতে করতে বুলেটিনের জন্য পিসিআর এর দিকে চলে যাওয়া খুব রেগে গিয়ে, কিন্তু বুলেটিন শেষ করে সেই রাগ কমিয়ে আবার কথা বলা হাসি মুখে অ্যাসাইনমেন্টের লোক দের সাথে কাছে এসে। কারণ একটা খবর একটু দিতে দেরী হয়েছে আমাদের তাই রাগ ওর আর সেই খবর বুলেটিনের শেষে দেখিয়ে দিয়ে রাগ কমিয়ে হেসে বলা যা টেনশন হয় না দেখালে তো আবার কেনো দেখানো গেলনা বলে কথা হবে। তোমরা কিছু মনে কোরো না কিন্তু। আর একটু দূরে বসে তিন্নির মিটিমিটি হাসি। সত্যিই বড্ড মিস করি আমি দিনগুলো। 


সেই বিখ্যাত অর্পিতা, কোয়েল, সঞ্চিতা, মিমি, অনুসুয়া, কতজন যে ছিল সেই সময় সব বিখ্যাত সুন্দর মুখের সমাহার। যাঁদের সাথে একসাথে কাজ করেছি বলে কিছুটা গর্ব হয় আজ আমার। সেই দিব্যেন্দু আর শুভ্রাংশু, সেই ভাস্কর দা। সেই ডেস্কের প্রদীপ, সোমনাথ আরও কতজন যে ছিল সেই সময়। সেই দেবরাজ, সেই বিখ্যাত সৌম্য সিনহা, দেবশ্রীর বর স্বপন, প্রবাল আর কুশল। সেই ব্রেকিং লেখা অজয় দা, জয়ন্ত আর সেই বেঁটে করে কি নাম বেশ পড়ে সিএন নিউজে দেখলাম তাঁকে ব্রেকিং লিখতে বসে আছেন তিনি বিরাটির অফিসে। নামটা মনে পড়লে লিখবো আমি কারুর থেকে জেনে নিয়ে। খুব সম্ভবত কৃষ্ণদা হবেন মনে হয় তিনি। 

সেই রিসেপশন এর গম্ভীর মুখের মেয়েটি। সেই লেস্টার। সেই ফ্যাসিলিটির দেবু, দীপক, সুজিত এর সুখের সংসার। সেই রাইডার দেবু আর জয়। সেই হাসি মুখের অফিসের সর্ব সমস্যার সমাধানে ব্যস্ত ঠাণ্ডা মাথার মুন্না, টাকার হিসেব সামলানো মহাদেব আর ওমং ঝুনঝুন ওয়ালার ঘর। সেই ছবি কাটার লুপ আর বাইট কাটার সেই বিখ্যাত সোমনাথ কর যিনি অজয় করের নাতি তার সুখের অক্ষত হাসির সংসার। যে সংসারে মার্চ মাস এলে অন্য জায়গার লোকদের বুক দুরুদুরু হলেও ওদের কিছুই হতো না। সেই নরেন, সৌরভ , রতন, অনিল দা, শীর্ষেন্দু আরও কতজন যে ছিল সেই সময়। আর সেই মলয় দা, আর টেকনিকাল এর লোকজন ছিল সব সেই বিখ্যাত সিতাংশু। সেই সাউন্ড এর অভিজিৎ দা। আর ক্যামেরা রুমের দেবু দা। আকবর দা। আরও কতজন যে ছিল সেই সময়। বেশ ভালো লাগতো কিন্তু এদের সাথে দল বেঁধে একসাথে কাজ করতে সেই সময় হৈ হৈ করে। 

কতজন এর সেই সুখের আর হাসিমুখের চেনা সংসার।যে সংসার গুলো কেমন অনিশ্চিত হয়ে গেলো ধীরে ধীরে। যে সুখের মিডিয়ার সংসার আর নেই বর্তমানে এই মা মাটি আর মানুষের আমলে। দেবশ্রী এখন মিডিয়ার কাজে তেমন উৎসাহ পায়না আর একদমই। সেই সব এক দাদাদের প্রণাম করে আর পায়ে ধরে ঘুরে বেড়ানো আর ভালো লাগে না ওর একদম। তাই অন্য কাজে যোগ দিয়ে বেশ ভালই আছে ও বর্তমানে। 

সেই চেনা দাদাদের অচেনা ছবি দেখে ও বোধহয় কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছে আসলে কিছুই যে সেই এতদিন একসাথে কাজ করেও ঠিক ছিল না কোনও সম্পর্কই। গড়ে ওঠেনি মিষ্টি মধুর সম্পর্ক কোনওদিন। কেমন দূরের সহকর্মী হয়েই বেঁচে থাকা আর কী ওর, আমার সবার। অফিস এর ঘেরাটোপে বন্দী সম্পর্ক স্থাপন হয়না কোনোদিন, সেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে না কোনোভাবেই কোনওদিন আর কোনসময়। 

শুধু ওই পাঁচ টাকার চা আর দশ টাকার মুড়িতেই আটকে থাকে একফালি বাঁকা চাঁদের হাসির মতোই সেই সব নকল কাঁচের চুড়ি পড়া সম্পর্ক। তবু এসবের মাঝেও ওর ফোন আমায় বেশ আনন্দ দিলো আজ। বেশ ভালো কিছু পুরোনো দিনের স্মৃতি কথা মনে করিয়ে দিলো ওর এই ফোন। 

আর তাই আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগে আমি লিখে ফেললাম আমি কিছু ফেলে আসা দিনের কথা। সেই আমার মিডিয়ার জীবনের কথা। যা একদিন আনন্দের জোয়ারে ভেসে যাওয়া ছিল, অর্থের অভাবে সংসার চালানোর চিন্তা ভাবনা ছিলোনা সেই বাংলা মিডিয়া কেমন করে যেন বদলে গেলো। সেই মিডিয়ার চেনা মানুষ গুলোও কেমন করে যেন কর্পোরেট স্টাইলে বদলে গেলো। শুধু তার মাঝেই দেবশ্রীর ফোন কিছু কথা আমায় মনে করিয়ে দিলো আমাদের ফেলে আসা দিনের মিষ্টি মধুর সম্পর্কের কথা। ভালো থেকো তুমি দেবশ্রী। 

২৪ ঘণ্টার দেবশ্রী - অভিজিৎ বসু।
বারো ফেব্রুয়ারী, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ওই খানে মা পুকুর পাড়ে

ওইখানে মা পুকুর-পাড়ে জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে হোথায় হবে বনবাসী,           কেউ কোত্থাও নেই। ওইখানে ঝাউতলা জুড়ে বাঁধব তোমার ছোট্ট কুঁড়ে, শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে           থাকব দুজনেই। বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে- আসবে না কেউ তোমার কাছে, দিনরাত্তির কোমর বেঁধে           থাকব পাহারাতে। রাক্ষসেরা ঝোপে-ঝাড়ে মারবে উঁকি আড়ে আড়ে, দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি           ধনুক নিয়ে হাতে। .......রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টুপ টুপ বৃষ্টির দুপুরে এই কবিতার লাইন গুলো দেখে। মনে পড়ে গেলো মার কথা। বাইরে একটানা বৃষ্টির একটা অদ্ভুত আওয়াজ। কখনো কখনো বেশ জোরে, কোনো সময় একটু কম। মাথার মধ্যে কেমন ঝিম ঝিম করছে এই বৃষ্টির টানা আওয়াজ শুনে।  একটানা আওয়াজে কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব। গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে ভিজে একদম চুপ চুপে হয়ে গেছে। পাতার ডগা থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে নিচে।গাছের পাতাগুলোর অসময়ে স্নান করে ওদের আবার শরীর খারাপ না হয়।  জানলার ধারে সারাদিন ধরে যে পায়রা গুলো বসে থাকতো আর বক বকম করতো।...

সুসমীর ও আমি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ আমার কলেজের বন্ধু সুসমীর এর কথা। ওর ভালো নাম সমীর ঘোষ। ওর বাড়ী শ্রীরামপুরে। আমার সাথে ওর আলাপ শ্রীরামপুর কলেজে পড়ার সময়। সেটা আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর আগের কথা হবে। আসলে কলেজের বেঞ্চিতে বসে ওর গলার গান শুনে মুগ্ধ হয়েছি আমরা সবাই। ছেলে মেয়ে সবাই ওর গানের ভক্ত হয়ে গেলাম একদিন ওর গান শুনেই। মেয়েরা তো ওর ফ্যান হয়ে গেলো ওর গানের জন্য।  পরে আমাদের কলেজ জীবন শেষ করে আমরা এদিক ওদিক টুকটাক কাগজে লেখার জগতে দুজনেই প্রবেশ করেছি আমরা। একদিন খুব সম্ভবত বর্তমান কাগজে বিজ্ঞানের পাতায় দেখলাম সুসমীর দাস নামে এক জনের লেখা বেরিয়েছে।সেই সময় বিজ্ঞানের পাতা দেখতেন বর্তমানের রূপকুমার বসু। আমার সাথেও পড়ে রূপদার আলাপ হয়েছিল এই লেখার সূত্রেই।  মনে পড়ে প্রতি লেখায় পঞ্চাশ টাকা দিত বর্তমান‌ কাগজ সেই সময়। সমীর তখন বিজ্ঞান নিয়ে লিখছে, আকাশবাণী তে নানা অনুষ্ঠান করছে। এরপর তারা নিউজ ডেস্ক এর কাজে যোগদান করে সে। দীর্ঘ দিন তারা নিউজ এর কাজ করেছে সে। এই হলো সুসমীর এর জীবনের রেখাচিত্র।  কিন্তু আমার সাদা জীবনের এমন এক সাদা মানুষের ...

ভূত চতুর্দশীর সেই রাত

জীবনে আলো নেই, এদিকে ঘরে টুনি লাইট লাগাচ্ছি আর স্টাইল করে ছবি তুলছি। সত্যিই কত বিচিত্র আয়োজন আর বিচিত্র জীবন। ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যার আলোকজ্বল এই অমলিন, ঝাপসা, ম্রিয়মান এই ছবিটা ধরা থাকলো আমার জীবনের টাইমলাইনের ফেসবুকের পাতায় আলতো করে।  ঘরের দুয়ারে বাতি দিয়ে অন্ধকারের রাজ্যে চলে যাওয়া। আর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া আমার আত্মীয়দের পথ দেখালাম আমি। হ্যাঁ, যে পথ ধরে আমাদের ছেড়ে যাওয়া মানুষজন এসেছিলেন তাঁরা সেই মহালয়ার পুণ্য প্রভাতে। তাঁদের তর্পণ করে স্বাগত জানিছিলাম আমরা সবাই। এতদিন ধরে এই উৎসবের আনন্দে আলোকমালায় কেমন ঘুরে বেড়ালেন তাঁরা খুশি মনে। আজকের রাত তাঁদের আবার সেই ফিরে যাওয়ার রাত। যে রাতে ঘুম আসেনা কিছুতেই। যে রাতের অন্ধকারে কত কিছুই যে ঘটে যায়।   যাঁরা এতদিন এই পৃথিবীর টানে, আপনজনদের টানে পৃথিবীর কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই তাঁরাই আজ আমাদের ছেড়ে প্রিয়জনদের সবাইকে ছেড়ে ধীরে ধীরে চলে যাবেন দূরে,অনেক দূরে। আর আমরা তখন ঘরের দুয়ারে, উঠোনে তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালিয়ে সেই তাঁদের যাত্রাপথকে সুগম করবো আলোক সজ্জা দিয়ে। এটাই হলো ভূত চতুর্দশীর সেই আল...

কুণাল ঘোষের বার্তা ও টোটো চালকের কিছু কথা

কুণাল দার সাথে কাজ করিনি আমি কোনোদিন। বাংলা সংবাদের জগতে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত সাংবাদিক আছেন। যাঁদের নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে এই বাংলার মিডিয়ায়। আজ সেই কুণাল ঘোষ সংবাদ প্রতিদিন কাগজ থেকে কনসাল্টিং এডিটর পোস্ট থেকে সরে গেলেন। একদিকে তাঁর বিধায়ক হয়ে যাওয়া সরকার এর বদল হয়ে যাওয়া। আর তাই তিনি প্রতিদিন কাগজের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন তেমন এক বার্তা দিলেন তিনি নিজেই।  কুণাল ঘোষ এর সাথে আমার আলাপ বিশেষ নেই। সেই মহাকরণে করিডর দিয়ে তিনি হেঁটে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের দিকে। তাঁর আগে পিছে সংবাদ মাধ্যমের কাজ করা রিপোর্টারদের ভীড় তাঁকে ঘিরে ভীড় করে আছেন আমিও দূরে আছি দাঁড়িয়ে। সেই বহু বছর আগে হাফ শার্ট পরে বিকেলের দিকে মদন মিত্রের অফিসে আসতেন। ২৪ চৌরঙ্গী রোড এর অফিসে ধর্মতলার কাছে। সান্ধ্য প্রতিদিন কাগজ পকেটে নিয়ে। রণজিৎ থাকতো সেই সময়। সেই সব দিন এর কথা মনে পড়ে যায় আজ আমার। সেই কঠিন বাম আমলে তাঁকে কাজ ছেড়ে চলে যেতে হয়নি একদমই। আর আজ সরকার বদলের সাথে সাথেই দিকে দিকে কাজ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেছে যে চারিদিক জুড়েই এই বাংলার মিডিয়ায়।  ইটিভির কাজের স...

রক্তাক্ত আমি

অর্থহীন, শব্দহীন,জীবনের অপমান বড়ই যন্ত্রণার। জীবনের অনুরণনে অপমানের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, শুনতে শুনতে ধীর পায়ে এগিয়ে চলা। ছিপখান ডিঙ্গি নৌকা বেয়ে নিজের মত করে অন্তরীণ হয়ে ভেসে বেড়ানো, এদিক থেকে ওদিক পানে। শঙ্খচিলের ডানায় তখন, রামধনুর সাত রঙ এর স্বপ্নের ঘুম জড়ানো ভোরের আস্তরণ। শালিকের ভেজা পায়ে, জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দের বাঙময় অব্যক্ত ধাক্কা। যে ধাক্কায় দ্বিখণ্ডিত হয় জীবনের অর্থ, অনর্থ, সৃষ্টি, অনাসৃষ্টি, সুখ, অসুখ,ভালোবাসা, ঘৃণা আরও কত কি।  চোখ খুলে দেখি বদলে গেছে, জীবনের উপল উপত্যকার ঢেউ খেলানো রাস্তার, সোজাসাপ্টা সেই বহু চেনা গলিপথ। যে গলিপথের চেনা রাস্তায় হাঁটতে নেমে রক্তাক্ত হই আমি বার বার। তবু রাতের আঁধার গায়ে মেখে রক্তাক্ত আমি ঘুরে, বেড়াই এদিক থেকে ওদিক। হাতড়ে খুঁজে বেড়াই রামধনুর রং মাখা ভোর। রক্তাক্ত আমি - অভিজিৎ বসু। ষোলো জুন, দু হাজার চব্বিশ।