সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

২৪ ঘন্টার দেবশ্রী

বহুদিন পর ওর সাথে কথা হলো আমার। একসময় ও তিনটে বারোটার শিফটে অফিস এলে তারপর আমি একটু নিচে চা খেতে যেতাম সেই পোদ্দার কোর্টের বিখ্যাত অফিসে। পরে সেই নিয়মটা বহাল ছিল সেক্টর ফাইভের মিডিয়া সিটিতেও। বেশ সুখের, মজার আর আনন্দের তিনজনের সংসার ছিল আর কি আমাদের সেই সময়। আমি, দেবশ্রী, শুভ্রজিৎ আইচ আর তারপরে এলো বিখ্যাত সেই বাংলা সাংবাদিকতার উজ্জ্বল এক নক্ষত্র সেই দীপ এক দাদার হাত ধরে এই বাংলা চ্যানেলের মিডিয়াতে তাঁর শুভ পদার্পণ।

 যে একজন দীপ জ্বেলে যাই সিনেমার পর্দায় অভিনয় করা হিট সফল নায়ক হয়ে উঠল ধীরে ধীরে নিজের কর্মদক্ষতায় আর নিজ গুণে। যাকগে সে গল্প অন্য কোনোদিন। বেশ সুখের মা মাটির আর মানুষের মিলিজুলি সংসার আমাদের এই চারজনের। ঝগড়া ঝাটি নয় বেশ ভালই লাগত কিন্তু সেই সময় স্বর্ণযুগের খবরের চ্যানেল না হলেও সেই ভেঙে পড়া প্রস্তর যুগের জমানায় সেই খবর যেখানে থেমে থাকে না সেই ২৪ ঘন্টা দৌড়ে বেড়ায় যে চ্যানেল সেখানে দৌড়ে, ছুটে গাল খেয়ে, কখনও আবার বাহবা কুড়িয়ে বেরিয়ে কাজ করতে আমাদের এই চারজনের। 

সেই দেবশ্রী গোস্বামীর সাথে কথা হলো আমার বহুদিন পরে আজ। সেই মাঝে ওর সাথে যোগাযোগ করা হয়নি আর এই মিডিয়া জীবন ছেড়ে দিয়ে বেশ কিছুদিন হলো। সেই দেবশ্রী আর স্বপনের সুখের সংসার। ওর ছেলের মোবাইল ফোনে ফোন এলেই ঝাঁপিয়ে পড়া। মা ব্যস্ত আছে বলে ফোন ধরে নেওয়া একবারে জোর করে। আর স্বপনের সেই এক অফিসে ২৪ ঘণ্টার কাজ ছেড়ে প্রতিদিন কাগজের ডেস্কের কাজে চলে যাওয়া গুটি গুটি পায়ে সেই ব্যাগ হাতে নিয়ে। পরে সেখান থেকে আজতকে ডেস্কের কাজে যোগ দেওয়া ওর। এইভাবেই বেশ ভালই দিন কেটে যাচ্ছিল আমাদের সুখের দিন।

দেবশ্রীর একদিন হাসিমুখে চব্বিশ ঘন্টা ছেড়ে রিপাবলিক বাংলা চ্যানেলে চলে যাওয়া। তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে কিছুদিন এই সময় ডিজিটাল এ কাজ করা এইভাবেই তো চলে যাচ্ছিল ওর সুখের জীবন। বেশ হাসিখুশি জীবন যাপন করেই কেটে যাওয়া আমাদের সুখের অ্যাসাইনমেন্টের টেবিল আর সেই টেবিল এর কিছু জীবন এর গল্প। যে সব জীবনে কোনো সময় খবর ধরানো হয়নি বলে কাগজ ছুঁড়ে দেওয়া ছিল। চিৎকার চেঁচামেচি ছিল। কত জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো কাঁচের ঘরে খবর নিয়ে, টিআরপি নিয়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেয়ে কত আলোচনা। কত সাদা কাগজে প্ল্যান প্রোগ্রাম হতো ভোটের আগে নানা বড়ো ইভেন্ট এর আগে। চা, ব্ল্যাক কফি আর মুড়ি মাখা খেতে খেতে।

বাংলা বন্ধের আগে যদিও বন্ধ রাজনীতিতে কিছুটা ভাটা পড়লো এই ঘাসফুলের জমানায়। কি করে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি খবর হবে তার পরিকল্পনা হতো অফিসের দাদাদের নিয়ে আর ছোটো বড়ো মেজো সেজো কর্তাদের নিয়ে গম্ভীর মুখে। আমরা যেখানে সব রাজাদের মাঝে বোড়ের দল কেমন চুপটি করে বসে থাকতাম মাসের শেষে দুটো টাকা বেতন পাবো বলে। যে বেতনের টাকায় আমার সংসার চলত, যে বেতনের টাকায় দেবশ্রী তার নিজের জন্যে না হলেও ওর বাচ্চার জন্য খরচ করতে পারতো একটু হাসি মুখে। সেই বেতন পেয়ে শুভ্রজিৎ আইচ যাকে আমি ফ ব বলতাম সেই গল্প পরে একদিন বলবো সেই মাটি আর আইচ এর সংসার চলতো বেশ ভালোভাবেই হিসেব করে। 

পরে সেই দীপ এসে সেই সুখের সংসারে একদিন যোগ দিলো আনন্দে আত্মহারা হয়ে দাদাদের হাত ধরে কলার তুলে। আর সেই ইডেন এর মাঠে খেলার খবর পেলেই কেমন কাঁচের ঘরে এডিটরের কাছে প্রবেশ করে হাসি মুখে ভি আই পি বক্সের টিকিট জোগাড় করে হাসি মুখে অ্যাসাইনমেন্টের ডেস্কে ফিরে আসতো মুখে হাসি নিয়ে আর বুক ফুলিয়ে। বেশ ভালই লাগত আমার ওকে দেখে। মনে মনে ভাবতাম এই ছেলে লম্বা রেসের ঘোড়া অনেকদূর যাবে কিন্তু একদিন। সেটাই আজ হয়েছে দুর থেকে দেখতে পাই ওকে। 

সেই দেবশ্রী আজ ফোন করলো কথা হলো। যে সেই ওর ট্রেন একটু লেট হলেই যে আমায় ফোন করে বলতো দাদা আমি আসছি তুমি একটু দেখো দাদা। আমি বলতাম নো চিন্তা। উল্টোডাঙ্গা থেকে দুপুরে অটো না পেয়ে হাঁফাতে হাঁফাতে এসে দৌড়ে অফিস ঢুকতো কিছুটা লজ্জা পেয়ে। আর অফিসের নানা কোণে বসে থাকা নানা মাপের দাদারা সেটা দেখে ওকে জরিপ করতো কড়া নজরে চশমার ফাঁক থেকে। সত্যিই ঠিক যেনো একটা জেলখানার বন্দী তার কুঠুরিতে প্রবেশ করতে একটু লেট করেছে আর কী। এতে খুব যে পিছিয়ে পড়তো চ্যানেল টিআরপিতে সেটা কিন্তু নয়। ওই নজরদারির মধ্যে দিয়েই সেই সব নানা মাপের খবরের কর্তাদের বেঁচে থাকার চেষ্টা করা আর কী এই দ্রুত গতিতে ছুটে চলা খবরের দুনিয়ার জীবনে। মোটা মাস মাইনে, বছরের শেষে মোটা ইনসেনটিভ, আরও কত কী যে জুটে যেতো তাঁদের কে জানে।

সত্যিই অসাধারণ এই মিডিয়া জীবন বলতে আর ইচ্ছা হয় না আমার কিছুতেই। এই দীর্ঘ সময়ে দীর্ঘদিনের ঘেরাটোপে বন্দী জীবন যে খুব ভালো ছিল সেটাও নয় কিন্তু একদমই। শুধু একটা জীবনে কিছুটা স্থায়িত্ব ছিল সেই সময়ে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছিল, পকেট থেকে বের করে দু দশ টাকার চা খাওয়া যেত আর খাওয়ানো যেতো কাউকে কাউকে। এখন যেমন সেটার জন্য আমার মেয়ের কাছে হাত পেতে বলতে হয় পাঁচ টাকা হবে চা খাবো একটু। মেয়ে বেশ কঠিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে আমায়। ওর ব্যাগ থেকে মিষ্টি হেসে টাকা বের করে দিয়ে বলে এই নাও তুমি। খালি চা খাওয়া আর ঘুরে বেড়ানো সাইকেল করে। 

সত্যিই আজ দেবশ্রীর সাথে ফোনে যোগাযোগ হয়ে মনটা কেমন বড়ো ভালো হয়ে গেলো আমার। কেমন যেনো সেই স্মৃতির ঝাঁপি থেকে বেরিয়ে এলো নানা ধরনের সব ঘটনার মিষ্টি মধুর সুন্দর কিছু ছবি। সেই অনুতোষ এর দ্রুত পায়ে গজগজ করতে করতে বুলেটিনের জন্য পিসিআর এর দিকে চলে যাওয়া খুব রেগে গিয়ে, কিন্তু বুলেটিন শেষ করে সেই রাগ কমিয়ে আবার কথা বলা হাসি মুখে অ্যাসাইনমেন্টের লোক দের সাথে কাছে এসে। কারণ একটা খবর একটু দিতে দেরী হয়েছে আমাদের তাই রাগ ওর আর সেই খবর বুলেটিনের শেষে দেখিয়ে দিয়ে রাগ কমিয়ে হেসে বলা যা টেনশন হয় না দেখালে তো আবার কেনো দেখানো গেলনা বলে কথা হবে। তোমরা কিছু মনে কোরো না কিন্তু। আর একটু দূরে বসে তিন্নির মিটিমিটি হাসি। সত্যিই বড্ড মিস করি আমি দিনগুলো। 


সেই বিখ্যাত অর্পিতা, কোয়েল, সঞ্চিতা, মিমি, অনুসুয়া, কতজন যে ছিল সেই সময় সব বিখ্যাত সুন্দর মুখের সমাহার। যাঁদের সাথে একসাথে কাজ করেছি বলে কিছুটা গর্ব হয় আজ আমার। সেই দিব্যেন্দু আর শুভ্রাংশু, সেই ভাস্কর দা। সেই ডেস্কের প্রদীপ, সোমনাথ আরও কতজন যে ছিল সেই সময়। সেই দেবরাজ, সেই বিখ্যাত সৌম্য সিনহা, দেবশ্রীর বর স্বপন, প্রবাল আর কুশল। সেই ব্রেকিং লেখা অজয় দা, জয়ন্ত আর সেই বেঁটে করে কি নাম বেশ পড়ে সিএন নিউজে দেখলাম তাঁকে ব্রেকিং লিখতে বসে আছেন তিনি বিরাটির অফিসে। নামটা মনে পড়লে লিখবো আমি কারুর থেকে জেনে নিয়ে। খুব সম্ভবত কৃষ্ণদা হবেন মনে হয় তিনি। 

সেই রিসেপশন এর গম্ভীর মুখের মেয়েটি। সেই লেস্টার। সেই ফ্যাসিলিটির দেবু, দীপক, সুজিত এর সুখের সংসার। সেই রাইডার দেবু আর জয়। সেই হাসি মুখের অফিসের সর্ব সমস্যার সমাধানে ব্যস্ত ঠাণ্ডা মাথার মুন্না, টাকার হিসেব সামলানো মহাদেব আর ওমং ঝুনঝুন ওয়ালার ঘর। সেই ছবি কাটার লুপ আর বাইট কাটার সেই বিখ্যাত সোমনাথ কর যিনি অজয় করের নাতি তার সুখের অক্ষত হাসির সংসার। যে সংসারে মার্চ মাস এলে অন্য জায়গার লোকদের বুক দুরুদুরু হলেও ওদের কিছুই হতো না। সেই নরেন, সৌরভ , রতন, অনিল দা, শীর্ষেন্দু আরও কতজন যে ছিল সেই সময়। আর সেই মলয় দা, আর টেকনিকাল এর লোকজন ছিল সব সেই বিখ্যাত সিতাংশু। সেই সাউন্ড এর অভিজিৎ দা। আর ক্যামেরা রুমের দেবু দা। আকবর দা। আরও কতজন যে ছিল সেই সময়। বেশ ভালো লাগতো কিন্তু এদের সাথে দল বেঁধে একসাথে কাজ করতে সেই সময় হৈ হৈ করে। 

কতজন এর সেই সুখের আর হাসিমুখের চেনা সংসার।যে সংসার গুলো কেমন অনিশ্চিত হয়ে গেলো ধীরে ধীরে। যে সুখের মিডিয়ার সংসার আর নেই বর্তমানে এই মা মাটি আর মানুষের আমলে। দেবশ্রী এখন মিডিয়ার কাজে তেমন উৎসাহ পায়না আর একদমই। সেই সব এক দাদাদের প্রণাম করে আর পায়ে ধরে ঘুরে বেড়ানো আর ভালো লাগে না ওর একদম। তাই অন্য কাজে যোগ দিয়ে বেশ ভালই আছে ও বর্তমানে। 

সেই চেনা দাদাদের অচেনা ছবি দেখে ও বোধহয় কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছে আসলে কিছুই যে সেই এতদিন একসাথে কাজ করেও ঠিক ছিল না কোনও সম্পর্কই। গড়ে ওঠেনি মিষ্টি মধুর সম্পর্ক কোনওদিন। কেমন দূরের সহকর্মী হয়েই বেঁচে থাকা আর কী ওর, আমার সবার। অফিস এর ঘেরাটোপে বন্দী সম্পর্ক স্থাপন হয়না কোনোদিন, সেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে না কোনোভাবেই কোনওদিন আর কোনসময়। 

শুধু ওই পাঁচ টাকার চা আর দশ টাকার মুড়িতেই আটকে থাকে একফালি বাঁকা চাঁদের হাসির মতোই সেই সব নকল কাঁচের চুড়ি পড়া সম্পর্ক। তবু এসবের মাঝেও ওর ফোন আমায় বেশ আনন্দ দিলো আজ। বেশ ভালো কিছু পুরোনো দিনের স্মৃতি কথা মনে করিয়ে দিলো ওর এই ফোন। 

আর তাই আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগে আমি লিখে ফেললাম আমি কিছু ফেলে আসা দিনের কথা। সেই আমার মিডিয়ার জীবনের কথা। যা একদিন আনন্দের জোয়ারে ভেসে যাওয়া ছিল, অর্থের অভাবে সংসার চালানোর চিন্তা ভাবনা ছিলোনা সেই বাংলা মিডিয়া কেমন করে যেন বদলে গেলো। সেই মিডিয়ার চেনা মানুষ গুলোও কেমন করে যেন কর্পোরেট স্টাইলে বদলে গেলো। শুধু তার মাঝেই দেবশ্রীর ফোন কিছু কথা আমায় মনে করিয়ে দিলো আমাদের ফেলে আসা দিনের মিষ্টি মধুর সম্পর্কের কথা। ভালো থেকো তুমি দেবশ্রী। 

২৪ ঘণ্টার দেবশ্রী - অভিজিৎ বসু।
বারো ফেব্রুয়ারী, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হারিয়ে যাওয়া চিঠি

আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় শুধু চিঠি আর চিঠি। হ্যাঁ, সেই সাদা কালো অক্ষরে লেখা নানা ধরনের চিঠির কথা। খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে একদম হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই বয়সেও তিনি বেশ বুকে সাহস নিয়ে আর সহজ সরল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে খোলা চিঠি প্রেরন করেছেন। সত্যিই এই কাজকে অসাধারণ বলতে কিন্তু লজ্জা নেই কোনও।রাজনীতির ময়দানে এই মানুষটাকে যত দেখি ততো যেনো মুগ্ধ হয়ে যাই।  এমন একটা সময়ে তিলোত্তমা খুনে দোষীদের শাস্তি চেয়ে ও জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর কাছে বামফ্রন্টের এই খোলা চিঠি। জানা নেই এই ফ্রন্ট এখনও কতটা সক্রিয় হয়ে ফ্রন্টফুটে ব্যাট করতে সক্ষম এই কঠিন পিচে। তবুও সেই বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু রাহুল দ্রাবিড় বা সুনীল গাভাস্কার এর মত বাউন্সার বল সামলে পত্রবোমা ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে। তিনি জানেন না এর ফল পাল্টা অভিঘাত কি হবে।  আসলে এই খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন করা আর অনশন করা চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ত...

ভোরের গন্ধ

ভেঙে ফেলা আস্ত একটা বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে চোখের আঙিনায়, কেমন দাঁত মুখ বের করে ছন্নছাড়া হয়ে, অতীতকে সযত্নে জড়িয়ে, আঁকড়ে। বাড়ির গাড়ি বারান্দার নিচে জমে থাকা সাইকেলের চাকায়, সুতো জড়িয়ে থাকার মতো কত মানুষের জীবন জড়িয়ে ছিল, এই পুরোনো বাড়িতে। বাড়ির শ্যাওলা পড়া দেওয়ালে সেই জীবনের সোঁদা গন্ধ, ঘাম এর দাগ এখনো লেগে আছে এদিক ওদিক। খুঁজলে হয়তো মিলবে আরও দু চার আনার স্মৃতির অকেজো সব তামাটে পরশ পাথর। আসলে মাটি উপড়ে,স্মৃতির উত্তাপ কে মুছে দিয়ে নতুন করে বিচিত্র সব রোজগারির, অপচেষ্টা আর কি। যে লাভের, লোভের, চেষ্টার গলায় লাগাম আর পরাবে কে। দুর থেকে জানলা দিয়ে দেখি শুকনো কলাপাতার ওই ম্রিয়মান নিষ্ফলা হাসি। বট ফলের আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা, যজ্ঞি ডুমুর গাছের পাতায় পিছলে পড়া স্মৃতির নরম উত্তাপ। যে উত্তাপে আজও জারিত হই আমি অনায়াসেই প্রতিদিন সকাল হলেই। ভোরের বেলায় পাখির ডাক শুনে ঘুম জড়ানো চোখে ওদের মন কেমন করা কথা শুনতে পাই না আর। বোধহয় ওরাও বুঝে গেছে তাদের গলায় লাগাম পড়েছে এবার আচমকাই। তাই পথ ভুলে তারাও আসেনা আর কিছুতেই  এদিক পানে। পশ্চিমী হাওয়া ঠেল...

ইটিভির বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য

কত দিন ধরেই তো খুঁজে বেড়াচ্ছি আমি বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যকে। সেই কোথায় যে হারিয়ে গেলো কে জানে সেই বিখ্যাত সাংবাদিকটি। সেই কেমন হাসিখুশি জীবন নিয়েও হাজারও বড়ো অ্যাসাইনমেন্টে গিয়েও কত কুল থাকা যায় সেটা আমি বিশ্বজিৎদাকে দেখে শিখলাম আর কী। সেটা সেই জঙ্গলে মাওবাদী নেতাদের সাথে কথা বলতে যাওয়া হোক বা তাঁদের কোনোও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার নেওয়া হোক। কিম্বা আলিমুদ্দিন স্ট্রীট এর অফিসে গিয়ে বিমান বসুর সাথে একান্তে কথা বলা হোক। কিম্বা অনিল বিশ্বাসের মুখোমুখি হয়ে কথা বলা হোক। কিম্বা সেই মূখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বন্যাদুর্গত এলাকা আরামবাগ মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতি দেখতে হাজির হয়েছেন। খুব সম্ভবত বিশ্বজিৎ দা হাজির আকাশ বাংলা চ্যানেল থেকে সেই সময়। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কথা বলছেন গ্রামের মানুষদের সঙ্গে একটু দূরে। রিপোর্টার আর ক্যামেরাম্যানকে আটকে দিয়েছে পুলিশ। যাতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমরা কেউ যেতে না পারি। আমি উত্তেজিত কিন্তু আমার পাশে দাঁড়িয়ে একদম নির্বিকার হাসিমুখ বিশ্বজিৎদার কথা ছাড় তো, আমাদের যেতে না দিলে আমরা কি করবো। প্রচার হবে না ওদেরই। একটু পরেই সেটা বুঝত...

কুড়ি থালা দশ টাকা আর রসিক মুলুর জীবন

নাম মুলু হাঁসদা। বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানার চরিচা গ্রাম পঞ্চায়েত এর চর ইচ্ছা রঘুবরপুরের বাসিন্দা মুলু। আজ মুলুর জীবন কথা। গ্রামের নামটা ভারী অদ্ভুত। চর ইচ্ছা রঘুবরপুর। যে গ্রাম অন্য পাঁচটা গ্রামের মতই।সাদামাটা এই গ্রামে দারিদ্র্য, অপুষ্টি আর কর্মহীন জীবনের জলছবি সুস্পষ্ট। আর সেই গ্রামের মহিলারা নিজেদের সংসার রক্ষা করতে গাছের পাতাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। গাছের পাতা মুলুদের জীবনের জিয়ন কাঠি। যে জিয়ন কাঠিতে তারা ভোর হতেই পেটের টানে চলে যায় জঙ্গলে। খস খস শব্দ করে পায় হেঁটে তারা পাতা তোলে। গাছ থেকে টুপ টাপ করে ঝড়ে পড়া পাতাকে একটা একটা করে নিজের শাড়ির আঁচলে ভরে নেয়। তার পর সব পাতাকে বস্তায় ভরে ঘরে ফেরে।  ঠিক যেভাবে তারা পুকুরে নেমে শামুক গেঁড়ি আর গুগলি তোলে। যে ভাবে তাদের উদর পূর্তি হবে বলে। আর এই পাতাও যে তাদের পেট ভরায়। একটা একটা পাতাকে নিজের সন্তানের মতো আলগোছে ছুঁয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায় মুলু, বলে তোরা না থাকলে কি করতাম কে জানে। মাথার ওপর শাল সেগুনের বিশাল আকারের গাছগুলো চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে আর তারা চুপ করে শোনে মুলুর কথা।  একে অপ...

আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলা

আঁকাবাঁকা পথ ধরে আমার এগিয়ে চলা। এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে এগিয়ে চলা। যে জীবনে আবাহন আর বিসর্জন নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই কোনোদিন। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে সুখ আবার দুঃখও। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে নতুন কিছু পাওয়ার আশায় আনন্দে উদ্বেলিত হওয়া। আবার আমার এই সাদা জীবনের কালো কথা বা কালো জীবনের সাদা কথার ছোপ ছোপ দাগ। সেই বাঘের গায়ে ডোরা কাটা দাগ নিয়ে বেঁচে থাকা আমার। একদম নিজের মতো করেই যেখানে কারুর কাছে কোনোভাবেই তাঁর বশ্যতা মেনে নিয়ে নয় যেটা আমি পারলাম না কোনোভাবেই কোনওদিন।  তবুও জীবন যাপন তো করতেই হয় আমাদের। যে জীবনের বাঁশবনের ছায়ায় বসে দেখতে হয় বাঁশপাতার মাঝে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফিঙের নাচন। সেই ঝিরিঝিরি পাতার ফাঁকে মিষ্টি রোদের নরম আলো ছায়ার খেলা। যে খেলা দেখতে আমার বেশ ভালই লাগে আজকাল। যে খেলায় কত চেনা মুখের অচেনা ছবি যে ধরা পরে যায় হঠাৎ করেই কে জানে। আমি সেই ছবির ভীড়ের মাঝে কেমন বেঁহুশ হয়ে নিজেই হারিয়ে যাই এদিক, ওদিক, সেদিক। চেনা অচেনার পথ ধরে বাঁশবনের ছায়া মেখে হারিয়ে যাওয়া সেই জীবন। যে জীবনে সাদা কালো কত কিছুই না থেকে যায় দাগ র...