সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

দৌড়হীন জীবন

আমার সাত সকালে ঘুম ভেঙে উঠে দৌড়ে যাওয়ার কোনো তাড়া নেই। ট্রেন ধরারও কোনো তাড়া নেই। অফিস যাওয়ার কোনোও তাড়া নেই। প্লেনে করে অফিস ট্যুরে যাওয়ার তাড়া নেই। বাজারে যাওয়ার তাড়া নেই। এটা বেশ ভালই লাগে আমার। এই দৌড়হীন জীবন। যদিও এরজন্য ঘরে আর বাইরে লোকের কম কথা শুনতে হয় না আমায় উঠতে বসতে দিনরাত। 

সকালে উঠেই শুধুই দৌড়, দৌড় আর দৌড়। কোনি সিনেমার দৃশ্যে অভিনয় করা মেয়েটির সেই দাঁতে দাঁত চেপে শুধুই দৌড়। যে করেই হোক আমাকে জিততে হবে। যে কোনোও মূল্য প্রমাণ করতে হবে আমি পারছি এই দৌড়ের খেলায় অন্যদের সাথে সমান তালে তাল মিলিয়ে। কেনো জানি না ভুল করেই দু একজন আজ জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেলেছেন আমায় ভুল করে হয়তো। সেই শুভেচ্ছা দেখে মনে হলো আরে আমার তো কোনো তাড়াহুড়ো নেই তাহলে আর এতো শুভেচ্ছা কেনো। 

এই দ্রুতগামী বন্দেভারতের মতো রেল লাইন ধরা জীবনে কোনো ব্যস্ততাও নেই আর আজ আমার। যে রেললাইনে অনেক আগেই ঘাস,পাতা, জঙ্গল হয়ে গেছে। যে ঝোপঝাড় আর জঙ্গলে ফড়িং উড়ে বেড়ায় আনমনে একা একাই কেমন নিশ্চিন্তে। সেও জানে হঠাৎ করেই দুদ্দাড় করে এই পথে কেউ আর চলে আসবে না বন্ধ এই রেলপথ ধরে কেউই। এমনকি দু একটা মালগাড়িও নয়। এই তাড়াহুড়ো দৌড়হীন জীবনের কথা শুনে আমার বন্ধু ভজন বেশ হেসে বলে তোর তো কোনোও তাড়াই নেই রে। সত্যিই হয়তো একটু আত্মসম্মানে বেঁধে আমার ওর কথা শুনে। যদিও এরজন্য আমি কিছুই মনে করি না আর ওর এই কথা শুনে। আমার যে কোনোও তাড়া নেই আর এই জীবনে।

তবুও সবকিছুর মাঝেই সীমাবদ্ধ এই বহু মানুষ এর দৌড় দেওয়া। জীবনের মাঝে শুধুই নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা, একে অপরকে হারিয়ে দিয়ে উল্লসিত হওয়া। আর নানা ভাবে ছবিতে পরিস্ফুট হওয়া। হাসি মুখে উজ্জ্বল হয়ে ভেসে যাওয়া। আর চেনা সম্পর্কের মানুষকে হঠাৎ করেই একদিন ভুলে যাওয়া। এটাই তো আসল জীবনের রেখাচিত্র। যে রেখাচিত্রে নানা চিত্রায়িত রূপের উজ্জ্বল ছবি। আর ছবির মানুষগুলো আমার এই এলোমেলো, এলেবেলে জীবনে বিন্দাস হয়ে ঘুরে বেড়ায় আমার আশেপাশে হাসিমুখে। 

আর আমি মাঠের ধারে একা দাঁড়িয়ে থাকি চুপ করে। লাল পলাশের হাসি মাখা ফুল এর পড়ে থাকা একা একাই। কেমন যেনো একা একাই আলগোছে ওদের বেঁচে থাকা। এই বসন্তের বাতাস গায়ে মেখে দৌড়হীন নিশ্চিন্তের জীবন কাটিয়ে দেওয়া। যে জীবনে কোনোও তাড়াহুড়ো নেই। যে জীবনে জড়িয়ে আছে বসন্তের মৃদু মন্দ বাতাস, যে জীবনে জড়িয়ে আছে ভোরের কোকিলের আকুল ডাক, যে জীবনে জড়িয়ে আছে প্রেমের মিষ্টি মধুর স্মৃতির হাতছানি, যে জীবনে জড়িয়ে আছে ফাগুনের আগুন মাখা ভালোবাসা। যে ভালবাসা নিয়েই বেঁচে থাকা। জড়িয়ে থাকা। আঁকড়ে থাকা। সেটাই যে জীবনের শেষ কথা। 

দৌড়হীন জীবন - অভিজিৎ বসু।
পয়লা মার্চ, দু হাজার পঁচিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যা দেখি…প্রতিদিন মনে পড়ে কত… স্মৃতির পথ ধরে হাঁটি… লিখি…

বদলে যাওয়ার তালিকায় সবাই

ভেবেছিলাম আট থেকে আশির এই নিজেকে বদলে নেওয়ার দলে ও নাম লেখাবে না একদম কিছুতেই। গুরুগম্ভীর আর সেই অর্থপূর্ণ ভাব বিনিময় করে বেঁচে থাকা আর উচ্চপদে কর্মরত এই ব্যক্তি কী আর নিজেকে খোলস ছেড়ে বদলে নেবে হঠাৎ করেই। কেমন দেখতে লাগে এই নতুন চেহারায় ,সেটা দেখার বাসনা হবে তাঁর। কিন্তু না আমি দেখলাম এই বদলে নেওয়ার আর নিজেকে একটু উল্টেপাল্টে দেখে নেবার লোভ বড়ো ছোঁয়াচে। ঠিক বসন্তের বাতাসে উড়ে বেড়ানো পলাশের শুকনো হাসির মতই।   জানি আমায় কেউ কেউ বলবেন আবার ওকে নিয়ে লেখা। এই লেখা কত নম্বর ভাই। এই ছবি দেখে আর লেখার কি দরকার বাবা তোমার। তিনকাল গিয়ে এককাল ঠেকেছে তোমার। ওকে তেল দিয়ে আর লাভ নেই,চাকরির আশা নেই আর কোনোও তোমার। যেমন আছো তুমি তেমনি থাকো বাবা এই টোটো চালকের বেশ ধরে ঘুরে বেড়িয়ে এই এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস জীবন নিয়ে। আর কতবার এই মুর্শিদাবাদের ভেঙে পড়া সাম্রাজ্যের এক ব্যক্তিকে নিয়ে বার বার লিখবে আর তাঁকে প্রজেক্ট করবে তুমি এইবার তো থামো বাবা। একটু এই শেষ বেলায় হিসেব করে মেপে পা ফেলো মাঠে। না হলে যে গর্তে পড়ে বেঘোরে হাত পা ভাঙবে তোমার। আমি মনে মনে এই সব শুনে অস্ফুটে ...

হাসনুহানার হাতছানি

দেওয়াল জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা, নানা রঙের প্রলেপ। চারিদিকে শুধুই উজ্জ্বল নানা রঙের হাতছানি। ক্যানভাসে ফুটে ওঠা, নানা রঙের ছোপ ছোপ দাগ। হাজারো রঙের মাঝে রঙহীন বিবর্ণ একা আমি। হলদে ঘাসের ওপর শিশির ভেজা ভোরের হাতছানি এড়িয়ে। লাল পলাশের হাতছানি এড়িয়ে, সন্তর্পনে ঘুরে বেড়াই আমি, একা, একা। চাঁদনী রাতের আকাশে, হালকা মেঘের আড়ালে আবডালে, লুকিয়ে থাকা সব অপ্সরীর দল ঘুরে বেড়ায় সেজেগুজে। অন্ধকারের বুক চিরে জেগে ওঠা দুর আকাশে, ওই সপ্তর্ষি মন্ডলের ডাক শুনে। কেমন যেনো থমকে দাঁড়িয়ে যায়, ল্যাম্প পোস্টের ওই কালো ছায়া। হাসি মাখা রঙিন সব মুখ দেখে থমকে দাঁড়িয়ে যাই বিবর্ণ আমি, একদম একা। দিনের আলো ছেড়ে, ভীড় এড়িয়ে অন্ধকারে মুখ লুকোই আমি। পলাশ ফুলের গন্ধ এড়িয়ে, ছুটে যাই হাসনুহানার কাছে। অভিমানে মুখ লুকিয়ে সে বলে, এত দেরি করে এলে কেনো তুমি রঙিন হতে আমার কাছে। আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকি নত মুখে, হাসনুহানার গন্ধ বুকে নিয়ে। লাল পলাশের হাতছানি এড়িয়ে, হাসনুহানার কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে, রঙিন হয়ে যাই আমি। হাসনু হানার হাতছানি - অভিজিৎ বসু। ছাব্বিশ মার্চ, দু হাজার চব্বিশ।

জয় মা মঙ্গলচন্ডী

মা মঙ্গলচণ্ডী, যাঁহার নাম মধুর ও মনোহর, যাঁহার হস্তে বর ও অভয় মুদ্রা, যিনি দ্বিভুজা ও গৌরবর্ণা, যিনি রক্তপদ্মাসনে উপবিষ্টা ও মুকুট দ্বারা উজ্জ্বলরূপে ভূষিতা, যিনি রক্তবর্ণ কৌষেয় (চেলির) বস্ত্র পরিধান করিয়া আছেন, যিনি সহাস্যবদনা, সুন্দরাননা ও নবযৌবনা, যিনি সুন্দরাঙ্গী ও মধুর লাবণ্যযুক্তা, তিনিই হলেন দেবী মঙ্গলচণ্ডী। বিশ্বের মূল স্বরূপা প্রকৃতিদেবীর মুখ হ’তে মঙ্গলচণ্ডী দেবী উৎপন্না হয়েছেন। তিনি সৃষ্টিকার্য্যে মঙ্গলরূপা এবং সংহারকার্য্যে কোপরূপিণী, এইজন্য পণ্ডিতগণ তাঁকে মঙ্গলচণ্ডী বলিয়া অভিহিত করেন।” “দক্ষ অর্থে চণ্ডী এবং কল্যাণ অর্থে মঙ্গল। মঙ্গলকর বস্তুর মধ্যে দক্ষ বলে তিনি মঙ্গলচণ্ডী নামে প্রসিদ্ধ। প্রতি মঙ্গলবারে তাঁহার পূজা বিধেয়। মনু বংশীয় মঙ্গল রাজা নিরন্তর তাঁহার পূজা করিতেন।” জৈষ্ঠ্যমাসের প্রতি মঙ্গলবারে মা চণ্ডীর আরাধনা করা হয় বলে এই ব্রতের নাম মঙ্গলচণ্ডী ব্রত। জীবনে শ্রেষ্ঠ মাঙ্গল্যের প্রতিষ্ঠার জন্যই এ ব্রতের অনুষ্ঠান। মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের নানা রূপ আছে। কুমারীরা যে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের আচরণ করে, তা অতি সহজ ও সংক্ষিপ্ত। দেবী অপ্রাকৃত মহিমার প্রশস্তিগীতি ব্রতের ছড়ায় এস...

কুড়ি থালা দশ টাকা আর রসিক মুলুর জীবন

নাম মুলু হাঁসদা। বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানার চরিচা গ্রাম পঞ্চায়েত এর চর ইচ্ছা রঘুবরপুরের বাসিন্দা মুলু। আজ মুলুর জীবন কথা। গ্রামের নামটা ভারী অদ্ভুত। চর ইচ্ছা রঘুবরপুর। যে গ্রাম অন্য পাঁচটা গ্রামের মতই।সাদামাটা এই গ্রামে দারিদ্র্য, অপুষ্টি আর কর্মহীন জীবনের জলছবি সুস্পষ্ট। আর সেই গ্রামের মহিলারা নিজেদের সংসার রক্ষা করতে গাছের পাতাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। গাছের পাতা মুলুদের জীবনের জিয়ন কাঠি। যে জিয়ন কাঠিতে তারা ভোর হতেই পেটের টানে চলে যায় জঙ্গলে। খস খস শব্দ করে পায় হেঁটে তারা পাতা তোলে। গাছ থেকে টুপ টাপ করে ঝড়ে পড়া পাতাকে একটা একটা করে নিজের শাড়ির আঁচলে ভরে নেয়। তার পর সব পাতাকে বস্তায় ভরে ঘরে ফেরে।  ঠিক যেভাবে তারা পুকুরে নেমে শামুক গেঁড়ি আর গুগলি তোলে। যে ভাবে তাদের উদর পূর্তি হবে বলে। আর এই পাতাও যে তাদের পেট ভরায়। একটা একটা পাতাকে নিজের সন্তানের মতো আলগোছে ছুঁয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায় মুলু, বলে তোরা না থাকলে কি করতাম কে জানে। মাথার ওপর শাল সেগুনের বিশাল আকারের গাছগুলো চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে আর তারা চুপ করে শোনে মুলুর কথা।  একে অপ...