সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চেনা নেতার অচেনা ছবি

বেশ সুন্দর ঝাঁ চকচকে দোকান। কাঁচের দরজার সামনে লাগানো সবুজ ফিতে। দরজার সামনে ট্রে নিয়ে দাঁড়িয়ে সুন্দরী মহিলা হাসি হাসি মুখ করে সেজে গুজে। দোকানের সামনে সুবেশা মহিলা আর পুরুষের ভীড় উপচে পড়ছে। গায়ে সুগন্ধি মেখে সবাই অধীর প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন উদ্বিগ্ন মুখে কখন আসবেন তিনি। মাথার ওপর গাঁদা ফুলের সজ্জায় বেশ ভালই লাগছে দোকানটিকে। বিয়ের আসর যে নয় এটা বলা যায় একবাক্যে দেখেই। ইলমবাজার ব্লক এলাকায় যে এলাকা সদ্য বনাঞ্চল এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আদায় করেছে যে ব্লক এই কিছুদিন আগেই সরকার এর কাছ থেকে। সেই জঙ্গলের মাঝে একটি সুন্দর কেক পেস্ট্রির দোকান এর উদ্বোধন ঘিরে এত আয়োজন আর আয়োজন।


 যে আয়োজনে এতটুকু কমতি নেই একদম কোথাও। সেই হুটারের আওয়াজ। সেই পুলিশের ভীড়। আর এই দোকানের উদ্বোধনে বীরভূমের দাপুটে তৃণমূলের সেই বিখ্যাত নেতা অনুব্রত মণ্ডল এর প্রবেশ। যাঁর কথায় এক সময়ে উন্নয়ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে হাসি হাসি মুখ করে শ্যামবাটির মোড়ে। যার কথায় পুলিশের বুক কাঁপে, সেই পুলিশকে বোম মারার নিদান শুনে ঘড়ি দেখে রাত নটার সময়। যাঁর কথায় এই বীরদের জেলায় বাঘে গরুতে সবাই এক ঘাটে জল খায় চুক চুক করে ঝোরার জল পান করে। যাঁর কথায় এখনও বর্গী হানার গল্প শুনে ছোটো ছোটো শিশুরা মায়ের কোলে মুখ লুকিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে ভয়ে ভয়েই মাকে বিরক্ত না করে। 


এই রাজ্যে আর এস এস এর প্রভাব বাড়ছে বলে গোপন রিপোর্ট থাকলেও যাঁর কথায় কেমন হাসি মুখেই বিজেপি আর আর এস এস কেমন যেনো গলে জল হয়ে যায় কাঁচের বোতলে বন্দী নুনের মতই। বগটুই এর সেই মিহিলাল শেখ বিজেপি ত্যাগ করে এই গণহত্যার দিনেই পদ্ম ফুল ছেড়ে মা মাটি মানুষের পতাকা নিজের হাতে ধরে। কবুল করে সে ভুল করেছে যা করেছে অতীতে। আর সেই সময় বীরভূমের বীর সন্তান হাসি মুখে কেক পেস্ট্রির দোকান উদ্বোধন করেন তিনি নিশ্চিন্তে, নির্বিঘ্নে, নিরাপদে, শান্তিতে আর স্বস্তিতে।


 যিনি এখনও বুক বাজিয়ে, বুক চাপড়ে বলতে পারেন সবার সামনে আমার নাম কেষ্ট মণ্ডল। দিদি আমায় খুব ভালোবাসেন। যতই তাঁর মাথায় অক্সিজেন কম সাপ্লাই হোক। আর তাই তিনি কোর কমিটি, কোর টিমকে পাত্তা দেননা একদমই। দলের গোষ্ঠী কোন্দলকে নিরসন করতে তাঁর এক মিনিট কষ্ট করতে হয় না বেগ পেতে হয় না একদম। দলের যে কোনোও অসুবিধা হলেই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন সবার আগে। দলের মন্ত্রীকে সাথে নিয়ে তাই একদম নতুন রূপে ধরা দেওয়া তাঁর। নতুন সোফায় গা এলিয়ে বসে হাসি হাসি মুখে সব কিছুই যেনো কড়া ভাবেই পর্যবেক্ষণ করা। সত্যিই এই ছবি দেখে আমার কিছু লিখতে ইচ্ছা হলো আজ এই রাত দুপুরে। 

সেই চেনা নেতার, সেই চেনা মানুষের অচেনা হাসি মুখের ছবি দেখে। যে ছবি বীরভূমের বিখ্যাত পাথুরে মাটিতে একদম বিরল ছবি। যে ছবি দেখে শিশু মায়ের কোলে আর ভয়ে মুখ লুকোবে না, যে ছবি দেখে উন্নয়ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়বে না থমকে। যে ছবি দেখে কবি শঙ্খ ঘোষ কবিতা লিখতে ভুলে যাবেন না। যে ছবি দেখে পুলিশের বুক কাঁপবে না ভয়ে ভয়ে রাত বাড়লেই। চড়াম চড়াম আওয়াজ নেই, গুড় বাতাসা নেই, আর পাঁচন বড়িও নেই। এই ছবি অন্য এক ছবি নরম তুলতুলে মিষ্টি কেকের ছবি। যে ছবির কোনও তুলনাই নেই। 

চেনা নেতার অচেনা ছবি - অভিজিৎ বসু।
 বাইশে মার্চ, দু হাজার পঁচিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হারিয়ে যাওয়া চিঠি

আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় শুধু চিঠি আর চিঠি। হ্যাঁ, সেই সাদা কালো অক্ষরে লেখা নানা ধরনের চিঠির কথা। খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে একদম হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই বয়সেও তিনি বেশ বুকে সাহস নিয়ে আর সহজ সরল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে খোলা চিঠি প্রেরন করেছেন। সত্যিই এই কাজকে অসাধারণ বলতে কিন্তু লজ্জা নেই কোনও।রাজনীতির ময়দানে এই মানুষটাকে যত দেখি ততো যেনো মুগ্ধ হয়ে যাই।  এমন একটা সময়ে তিলোত্তমা খুনে দোষীদের শাস্তি চেয়ে ও জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর কাছে বামফ্রন্টের এই খোলা চিঠি। জানা নেই এই ফ্রন্ট এখনও কতটা সক্রিয় হয়ে ফ্রন্টফুটে ব্যাট করতে সক্ষম এই কঠিন পিচে। তবুও সেই বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু রাহুল দ্রাবিড় বা সুনীল গাভাস্কার এর মত বাউন্সার বল সামলে পত্রবোমা ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে। তিনি জানেন না এর ফল পাল্টা অভিঘাত কি হবে।  আসলে এই খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন করা আর অনশন করা চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ত...

ভোরের গন্ধ

ভেঙে ফেলা আস্ত একটা বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে চোখের আঙিনায়, কেমন দাঁত মুখ বের করে ছন্নছাড়া হয়ে, অতীতকে সযত্নে জড়িয়ে, আঁকড়ে। বাড়ির গাড়ি বারান্দার নিচে জমে থাকা সাইকেলের চাকায়, সুতো জড়িয়ে থাকার মতো কত মানুষের জীবন জড়িয়ে ছিল, এই পুরোনো বাড়িতে। বাড়ির শ্যাওলা পড়া দেওয়ালে সেই জীবনের সোঁদা গন্ধ, ঘাম এর দাগ এখনো লেগে আছে এদিক ওদিক। খুঁজলে হয়তো মিলবে আরও দু চার আনার স্মৃতির অকেজো সব তামাটে পরশ পাথর। আসলে মাটি উপড়ে,স্মৃতির উত্তাপ কে মুছে দিয়ে নতুন করে বিচিত্র সব রোজগারির, অপচেষ্টা আর কি। যে লাভের, লোভের, চেষ্টার গলায় লাগাম আর পরাবে কে। দুর থেকে জানলা দিয়ে দেখি শুকনো কলাপাতার ওই ম্রিয়মান নিষ্ফলা হাসি। বট ফলের আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা, যজ্ঞি ডুমুর গাছের পাতায় পিছলে পড়া স্মৃতির নরম উত্তাপ। যে উত্তাপে আজও জারিত হই আমি অনায়াসেই প্রতিদিন সকাল হলেই। ভোরের বেলায় পাখির ডাক শুনে ঘুম জড়ানো চোখে ওদের মন কেমন করা কথা শুনতে পাই না আর। বোধহয় ওরাও বুঝে গেছে তাদের গলায় লাগাম পড়েছে এবার আচমকাই। তাই পথ ভুলে তারাও আসেনা আর কিছুতেই  এদিক পানে। পশ্চিমী হাওয়া ঠেল...

ইটিভির বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য

কত দিন ধরেই তো খুঁজে বেড়াচ্ছি আমি বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যকে। সেই কোথায় যে হারিয়ে গেলো কে জানে সেই বিখ্যাত সাংবাদিকটি। সেই কেমন হাসিখুশি জীবন নিয়েও হাজারও বড়ো অ্যাসাইনমেন্টে গিয়েও কত কুল থাকা যায় সেটা আমি বিশ্বজিৎদাকে দেখে শিখলাম আর কী। সেটা সেই জঙ্গলে মাওবাদী নেতাদের সাথে কথা বলতে যাওয়া হোক বা তাঁদের কোনোও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার নেওয়া হোক। কিম্বা আলিমুদ্দিন স্ট্রীট এর অফিসে গিয়ে বিমান বসুর সাথে একান্তে কথা বলা হোক। কিম্বা অনিল বিশ্বাসের মুখোমুখি হয়ে কথা বলা হোক। কিম্বা সেই মূখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বন্যাদুর্গত এলাকা আরামবাগ মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতি দেখতে হাজির হয়েছেন। খুব সম্ভবত বিশ্বজিৎ দা হাজির আকাশ বাংলা চ্যানেল থেকে সেই সময়। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কথা বলছেন গ্রামের মানুষদের সঙ্গে একটু দূরে। রিপোর্টার আর ক্যামেরাম্যানকে আটকে দিয়েছে পুলিশ। যাতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমরা কেউ যেতে না পারি। আমি উত্তেজিত কিন্তু আমার পাশে দাঁড়িয়ে একদম নির্বিকার হাসিমুখ বিশ্বজিৎদার কথা ছাড় তো, আমাদের যেতে না দিলে আমরা কি করবো। প্রচার হবে না ওদেরই। একটু পরেই সেটা বুঝত...

কুড়ি থালা দশ টাকা আর রসিক মুলুর জীবন

নাম মুলু হাঁসদা। বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানার চরিচা গ্রাম পঞ্চায়েত এর চর ইচ্ছা রঘুবরপুরের বাসিন্দা মুলু। আজ মুলুর জীবন কথা। গ্রামের নামটা ভারী অদ্ভুত। চর ইচ্ছা রঘুবরপুর। যে গ্রাম অন্য পাঁচটা গ্রামের মতই।সাদামাটা এই গ্রামে দারিদ্র্য, অপুষ্টি আর কর্মহীন জীবনের জলছবি সুস্পষ্ট। আর সেই গ্রামের মহিলারা নিজেদের সংসার রক্ষা করতে গাছের পাতাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। গাছের পাতা মুলুদের জীবনের জিয়ন কাঠি। যে জিয়ন কাঠিতে তারা ভোর হতেই পেটের টানে চলে যায় জঙ্গলে। খস খস শব্দ করে পায় হেঁটে তারা পাতা তোলে। গাছ থেকে টুপ টাপ করে ঝড়ে পড়া পাতাকে একটা একটা করে নিজের শাড়ির আঁচলে ভরে নেয়। তার পর সব পাতাকে বস্তায় ভরে ঘরে ফেরে।  ঠিক যেভাবে তারা পুকুরে নেমে শামুক গেঁড়ি আর গুগলি তোলে। যে ভাবে তাদের উদর পূর্তি হবে বলে। আর এই পাতাও যে তাদের পেট ভরায়। একটা একটা পাতাকে নিজের সন্তানের মতো আলগোছে ছুঁয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায় মুলু, বলে তোরা না থাকলে কি করতাম কে জানে। মাথার ওপর শাল সেগুনের বিশাল আকারের গাছগুলো চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে আর তারা চুপ করে শোনে মুলুর কথা।  একে অপ...

আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলা

আঁকাবাঁকা পথ ধরে আমার এগিয়ে চলা। এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে এগিয়ে চলা। যে জীবনে আবাহন আর বিসর্জন নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই কোনোদিন। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে সুখ আবার দুঃখও। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে নতুন কিছু পাওয়ার আশায় আনন্দে উদ্বেলিত হওয়া। আবার আমার এই সাদা জীবনের কালো কথা বা কালো জীবনের সাদা কথার ছোপ ছোপ দাগ। সেই বাঘের গায়ে ডোরা কাটা দাগ নিয়ে বেঁচে থাকা আমার। একদম নিজের মতো করেই যেখানে কারুর কাছে কোনোভাবেই তাঁর বশ্যতা মেনে নিয়ে নয় যেটা আমি পারলাম না কোনোভাবেই কোনওদিন।  তবুও জীবন যাপন তো করতেই হয় আমাদের। যে জীবনের বাঁশবনের ছায়ায় বসে দেখতে হয় বাঁশপাতার মাঝে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফিঙের নাচন। সেই ঝিরিঝিরি পাতার ফাঁকে মিষ্টি রোদের নরম আলো ছায়ার খেলা। যে খেলা দেখতে আমার বেশ ভালই লাগে আজকাল। যে খেলায় কত চেনা মুখের অচেনা ছবি যে ধরা পরে যায় হঠাৎ করেই কে জানে। আমি সেই ছবির ভীড়ের মাঝে কেমন বেঁহুশ হয়ে নিজেই হারিয়ে যাই এদিক, ওদিক, সেদিক। চেনা অচেনার পথ ধরে বাঁশবনের ছায়া মেখে হারিয়ে যাওয়া সেই জীবন। যে জীবনে সাদা কালো কত কিছুই না থেকে যায় দাগ র...