সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শুভ জন্মদিন তাপস দা

সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আজ সেই তাপসদার কথা। সেই হায়দরাবাদ এর বাংলা ডেস্ক এর তাপস মহাপাত্র। আমাদের সবার তাপস দা। সেই কবি তাপস মহাপাত্র। সেই ঝরাপাতার লেখক তাপস মহাপাত্র। সেই পোদ্দার কোর্টের অফিসে এসে ধ্রুবর সাথে সিগারেট ধরিয়ে দেখা করতে আসা তাপস দা। সেই রবীন্দ্রসদন থেকে বেরিয়ে রাত দশটার সময় বাস ধরার আগে আমার সাথে রাস্তায় দেখা হওয়া তাপস দা। সেই অভিজিৎ কেমন আছো তুমি বলে হাসি মুখে কুশল জিজ্ঞাসা করা আমাদের তাপস দা। 


আসলে হঠাৎ করেই আলোদির পোস্ট এ দেখলাম তাপসদার জন্মদিনের কথা। কবির শুভ জন্মদিন পালন করছে ফেসবুকের মৃত দেওয়াল। সেই আলো আঁধারির রাতে মৃত দেওয়ালে কেমন জ্বল জ্বল করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা শুকতারার মতই জ্বলে উঠেছে। রাতের অন্ধকারে মাথার ওপর খেলা করে বাঁকা ভাঙা চাঁদ। ভাঙা চাঁদের আলোয় ভেসে যায় এই নিঝুম চরাচর। রাতের অন্ধকারে আচমকা ফিসফিস করে কথা বলে দেওয়ালে আটকে থাকা সাদা, হলুদ,ধূসর পেটমোটা টিকটিকির দল। হঠাৎ করেই ঘড়ির টিকটিক থামিয়ে তারা ডেকে ওঠে টিকটিক। আর আমি ওদের দিকে তাকিয়ে বলি ঠিকঠিক।

আমি তো আর কবি নই। আমি এখন সাংবাদিকও নই। আমি এখন টোটো চালক। তিন চাকার টোটো চালকের এলোমেলো এলেবেলে বিন্দাস জীবন আমার। তাই তাপসদার সম্বন্ধে কিছু লেখার সাহস আমার নেই। সেই হায়দরাবাদ এর বাংলা ডেস্ক। সেই সিদ্ধার্থ সরকারের গুছানো ভরা সংসার। সেই মেপে মেপে পা ফেলে পাঁচ মিনিটের খবর করা একটি বাংলা চ্যানেল। সেই সাতটায় আমার বাংলার খবরের চেনা সুর আর মেঠো গন্ধ। সেই কত সব চেনা টুকরো মুখ এর সারি। সেই সংসারে তাপস দা অন্য এক সৈনিক। ধীরে ধীরে কেমন সব ফিকে হয়ে যাচ্ছে সেই চেনা সংসারের ছবি। 

আসলে জীবন বড়ো দ্রুত ফুরিয়ে যায়। জীবন বড়ো দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলে যায়। ফেসবুকের মৃত নির্জীব দেওয়ালে বড়ো তাড়াতাড়ি জন্মদিন আসে আর যায়, মৃত্যুদিনকে আবাহন জানিয়ে। আর তাই তাপসদার জন্মদিনে আমার মনে হলো আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় কিছু লিখে ফেলি আমি। যে তাপস দা, অন্য এক তাপস দা। যাঁকে আমরা যাই বলে ডাকি আর ভাবি তিনি খুব কাছের মানুষ আমাদের আদলে তিনি তো একজন কবি। যাঁর লেখায় সেই 'ঝরাপাতায়' তিনি লেখেন,' ঝরাপাতা কেন এমন উলকি কাটে পাঁজর বেটোফেন'......

 আসলে কবির সেই পাঁজর এর গভীর গোপন ভালোবাসার স্পর্শ মাখা দাগ আজও যেনো বেঁচে আছে জীবনের এই মায়াময় ছায়াঘেরা পথে। এদিক ওদিক যার ছায়া মেখেই তাঁর হাসি মুখে দিব্যি বেঁচে থাকা। পাওয়া না পাওয়ার পথ চেয়ে নয়। উদাসী স্বপ্ন বোনা দৃষ্টিতে এই অসময়ের বর্ষায় ভিজে কবির স্নাত হওয়া। চাঁদনী রাতের এলোমেলো আলোয়। জানি এর মধ্যে কবিকে ধরতে চাওয়া, তাঁর নাগাল পাওয়া, বা তাঁর কবিতাকে মেলে ধরা যায় না কিছুতেই। অনেক কিছুই লেখা হলো না, অনেকটাই বলা হলো না আমার। থাক না ওই আলো আঁধারির পথেই হাঁটতে হাঁটতে তাপস দা কবিতার লাইন ভাবুন আপনি এই রাতের অন্ধকারে একা একাই। ভালো থাকবেন আপনি দাদা। শুভ জন্মদিন। 

শুভ জন্মদিন তাপস দা - অভিজিৎ বসু।
বাইশে মার্চ দু হাজার পঁচিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলা

আঁকাবাঁকা পথ ধরে আমার এগিয়ে চলা। এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে এগিয়ে চলা। যে জীবনে আবাহন আর বিসর্জন নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই কোনোদিন। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে সুখ আবার দুঃখও। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে নতুন কিছু পাওয়ার আশায় আনন্দে উদ্বেলিত হওয়া। আবার আমার এই সাদা জীবনের কালো কথা বা কালো জীবনের সাদা কথার ছোপ ছোপ দাগ। সেই বাঘের গায়ে ডোরা কাটা দাগ নিয়ে বেঁচে থাকা আমার। একদম নিজের মতো করেই যেখানে কারুর কাছে কোনোভাবেই তাঁর বশ্যতা মেনে নিয়ে নয় যেটা আমি পারলাম না কোনোভাবেই কোনওদিন।  তবুও জীবন যাপন তো করতেই হয় আমাদের। যে জীবনের বাঁশবনের ছায়ায় বসে দেখতে হয় বাঁশপাতার মাঝে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফিঙের নাচন। সেই ঝিরিঝিরি পাতার ফাঁকে মিষ্টি রোদের নরম আলো ছায়ার খেলা। যে খেলা দেখতে আমার বেশ ভালই লাগে আজকাল। যে খেলায় কত চেনা মুখের অচেনা ছবি যে ধরা পরে যায় হঠাৎ করেই কে জানে। আমি সেই ছবির ভীড়ের মাঝে কেমন বেঁহুশ হয়ে নিজেই হারিয়ে যাই এদিক, ওদিক, সেদিক। চেনা অচেনার পথ ধরে বাঁশবনের ছায়া মেখে হারিয়ে যাওয়া সেই জীবন। যে জীবনে সাদা কালো কত কিছুই না থেকে যায় দাগ র...

কুপন

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ একটা কুপনের গল্প। আসলে কি জানেন তো প্রতিদিন তো আমি নানা গল্প খুঁজি। জীবনের মাঝে ছড়িয়ে থাকা, জড়িয়ে থাকা কিছু গল্প। যে গল্প গাছের পাতায় লুকিয়ে থাকা গিরগিটির মত রং বদলায় না। জীবনের মেঠো পথে উজ্জ্বল হয়ে জ্বল জ্বল করে। আর সেই সব অজানা, অচেনা মানুষ যারা পথের মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে তাদের সাথে পরিচয় না থাকলেও যে কেমন করে আপন হয়ে যায় তারা কে জানে। আমার এই আপাত এলোমেলো এলেবেলে জীবনে কেমন করে যে আপন হয়ে যায় তারা কে জানে। আসলে জীবন বোধহয় এমনই। যে চেনা মুখ চেনা মানুষ কেমন অচেনা হয়ে যায় কত দূরে চলে যায়। আর অজানা অচেনা মানুষ কত যে চেনা পথের পথিক হয়ে যায় কে জানে। আসলে সেই শীর্ষেন্দুদার সেই বিখ্যাত লাইন অভিজিৎ, জীবনকে দেখো জীবনই হলো সব থেকে বড় শিক্ষক। আর তাই তো জীবন দেখার নেশায় বুঁদ আমি এই বুড়ো বয়সেও। এবার আসি কুপনের গল্পে। শনিবার আজ তো সেই আমার হাটবার। তাই শুক্রবার রাত কেটে শনিবার এলেই কেমন যেন আনন্দ লাগে আমার। আকাশের নিচে, গাছের নিচে বসে থাকার আনন্দ। বেচাকেনা না হোক একটা বেশ মুক্তির আনন্দ মেলে যে। তাই শনিবার সকাল সকাল ঘুম থেক...

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে তিনি থাকতেন একসময়। বর্তমানে গ্রাম ছেড়ে শহরে সল্টলেকে থাকেন তিনি বর্তমানে। আনন্দবাজার কাগজের প্রথম পাতায় তাঁর লেখা পড়ে আর নানা এক্সক্লুসিভ খবর পড়ে মুগ্ধ হতাম আমি একসময়ে। মনে মনে ভাবতাম যদি একবার এই বিখ্যাত রিপোর্টারকে তাঁকে দেখতে পেতাম একবার। তাহলে যেনো জীবন সার্থক হতো মোর। শুধু দু চোখের দেখা আর কিছুই নয়।  অবশেষে দর্শন হলো তাঁর সাথে আমার মহাকরণের প্রেস কর্নারে। সেই পল্লীডাক প্রেসে কত যে তাঁর নাম শুনতাম সেদিনের কাগজে তাঁর নামে লেখা বের হলেই তাঁর প্রসঙ্গ আসতো। সেই তারকেশ্বরের ফাল্গুনীদার কাছে শুনতাম। সেই টেলিগ্রাফের তারক এর মুখে শুনতাম। আর সেই তাঁকেই নিজের চোখে দেখলাম প্রেস কর্ণারের ভিতর। ইটিভির দীপক এর সাথে বেশ ভালই আলাপ দেখলাম। একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে। একদম সাদামাটা চেহারা। দেখতে খুব যে ঝাঁ চকচকে সেটা নয়। আনন্দবাজার এর ছাপ আছে কিন্তু সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। একবার এই মন্ত্রীর ঘর তো আবার অন্য মন্ত্রীর ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি সবসময়।  আর আমি আমার নিজের জেলার এহেন সাংবাদিককে দেখেই প্রথম দর্শন...

অচেনা মাঠে জেতা এক মানুষের গল্প

আসলে হেরে যাওয়া মানুষের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতে বেশ এই শীতের নিশুতি রাতে আমার ভালই লাগে। লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে ঠিক যেনো সেই ডিয়ার লটারীতে কোটি টাকা মিলবে এই স্বপ্ন দেখা আর কি। আমিও যে তার ব্যাতিক্রম নই। আর হারতে হারতে খেলার মাঠ থেকে পড়ে গিয়েও আবার উঠে হাত পা ঝেড়ে ফেলে এগিয়ে যেতে যেতে নতুন করে স্বপ্ন দেখা এক মানুষের লড়াই করা দেখতেও বেশ মন্দ লাগে না আমার কিন্তু। স্বপ্ন দেখা যে মানুষের নেশা। কেউ কেউ তো হাসি ঠাট্টা করে তামাশা করে বলে দুর বাংলার মাটি ছেড়ে, দীঘার সমুদ্রের নোনা জল ছেড়ে আরব সাগরের জলে পা ভিজিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এটা আবার কি সাংবাদিকতা নাকি। জ্যোতি বসুর বিখ্যাত উক্তির মত এমন তো কতই হয় আর কতই দেখলাম। আসলে বাংলা হলো সংষ্কৃতির পীঠস্থান, বাংলা হলো সাংবাদিকতার পীঠস্থান।  যেখানে একসময়ের লাল মাটি আর বর্তমানের সবুজ মাটিতে খবরের সোনার ফসল ফলে হাসতে হাসতে। সেই বাংলার মাটি ছেড়ে ওই দুর্ভিক্ষের রাজ্য কালাহান্ডির ওড়িশা আর মুম্বাই এর আরব সাগরের জল তো নোনা কবেই লিখেছেন সাহিত্যিক সমরেশ বসু। সেই জলে জলকেলি করে এক নম্বর হয়ে এত লাফালাফির কি আছে ভাই। সিনেমা...

দ্রোহ আর বিদ্রোহের ঘেরা টোপে বন্দী কার্নিভাল

একটা শব্দ ইদানিং বেশ হাটে মাঠে ঘাটে সব জায়গায় ঘুরছে দ্রোহ। বিশেষ্য পদের এই শব্দ দ্রোহ হলো অনিষ্টাচারণ, অপকার, শত্রুতা, কলহ, আর বিরুদ্ধতা,পরাভব,অভিভব। এমন নানা শব্দবন্ধের মোড়কে আবদ্ধ হলো এই দ্রোহ। যে দ্রোহের ঘেরাটোপে বন্দী হয়েছে উৎসব, বন্দী হয়েছে কার্নিভাল, বন্দী হয়েছে আমাদের রাজনৈতিক সংঘাত। যে সংঘাত অনিবার্য ভাবেই সৃষ্টি করেছে নানা আন্দোলন আর সেই আন্দোলনের পাল্টা জবাব দেওয়া।  আসলে এর মধ্যেই যে লুকিয়ে আছে সুক্ষ্ম রাজনীতির মারপ্যাঁচ। যে রাজনীতির বৃত্তে নানা ভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে আন্দোলনকারী চিকিৎসক থেকে শুরু করে বাম, ডান, লাল, সবুজ আর গেরুয়া দল সবাই। সবটাই যে রাজনীতির হিসেব আর নিকেশের ঘেরাটোপে বন্দী। সে দ্রোহ হোক বা বিদ্রোহ হোক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে,শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে, আমরণ অনশন কর্মসূচি থেকে নানা আন্দোলন করে চিকিৎসকরা বুঝিয়ে দিতে চান যে তারা যে করেই হোক জয়লাভ করতে চান এই আন্দোলনে। যে আন্দোলন একমাত্র তাদেরই তৈরি করা আন্দোলন।  কিন্তু সেই আন্দোলনের মাঝে কলকাতায় হলো জোড়া কার্নিভাল। একটি পূজোর জমজমাট কার্নিভাল। র...