সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হ্যাপি বার্থডে সোমা

আজ সাদা জীবনের কালো কথায় আমার জীবনের আঁকাবাঁকা রাস্তায় আর আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আজ এক অন্য জীবনের গল্প। যে কঠিন সংগ্রামের জীবন অবিচ্ছেদ্য হয়ে জড়িয়ে আছে আমার সাথে বহুদিন ধরে, বহু বছর ধরে, সেই কবে থেকেই। নানা চড়াই আর উৎরাই পার করে, নানা ঝড় ঝাপটা সামলে নিয়ে আমার পাগলামো আর বোকামি সহ্য করে টোটো চালকের সাথে একসাথে বাস করা তার। 


চুপ করে, মুখে কুলুপ এঁটে একসাথে বাস করা দুজনের আমাদের, এক ছাদের তলায়, এক আকাশের নিচে। কখনও ফাগুনের আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে। আবার কোনো সময় শীতের হালকা কুয়াশা মাখা সকালে লেপের ওম গায়ে মেখে বেঁচে থাকা আমাদের একে অপরকে আঁকড়ে ধরে জড়িয়ে ধরে। আবার সেই বর্ষার বৃষ্টিভেজা পথে এক ছাতার তলায় হাসিমুখে রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়ে বেঁচে থাকা। টক, ঝাল, মিষ্টি এই জীবনকে আশ্লেষে আঁকড়ে ধরে, জড়িয়ে ধরে বেঁচে থাকা আমাদের দুজনের। 

যে জীবন বড়ো মায়ার, যে জীবন বড়ো ভালোবাসার, যে জীবন বড়ো আদরের, যে জীবন ঝগড়ার, যে জীবন বড়ো ভরসার একে অপরের কাছে। একজন অন্যজনের কাছে কেমন যেনো একে ওপরের পরিপূরক হয়ে বেঁচে থাকার। আজ সেই আমার সংসারের সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয় যার দ্বারা, যাকে ঘিরে আমার জীবন, বুটার জীবন, আবর্তিত হয় দিন রাত সব সময়। যাকে ছাড়া একমুহুর্ত আমাদের চলে না সেই সোমার আজ জন্মদিন। 

আর তাই আমার সাদা জীবনের কালো কথায় একটু ভালো ভালো কথায় লিখে ফেললাম আমি সেই আমার ঘরের সোমার কথা। বাইরের সোমা কলেজ জীবনের সোমা তো কবেই হারিয়ে গেছে। দুজনের হাজারও মত বিরোধ আর গণ্ডগোলের মাঝেও কেমন যেন সেই একে অপরকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে থাকা। সমুদ্রের তীরে বসে দু হাত তুলে হাসিমুখে ওর ভেসে থাকা। সেই নীল সাগরের তীরে ছোট্টো বুটার হাত ধরে ওর বেঁচে থাকা। সেই সমুদ্রের দোলায় দুলে দুলে ভেসে থাকা। 

সেই রোদে, জলে, ঝড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, গ্রামে গঞ্জে ঘুরে বেড়িয়ে সংসার বাঁচাতে কষ্ট করে ওর বেঁচে থাকা হাসি মুখে সব কিছুই সহ্য করে মান অপমান অভিমান সব। সত্যিই ভাগ্যিস আমি এই সোমাকে পেয়েছিলাম খুঁজে একদিন সেই অন্ধকার রাস্তায়। সেই ধর্মতলার মোড়ে, সেই আমার টালির ঘরের মাঝে, সেই অন্ধকার ছায়াপথ মাড়িয়ে গঙ্গার তীরে। সেই লোকাল ট্রেনের কামরায়। সেই কোপাই নদীর ধারে। সেই খোয়াই এর জোছনা মাখা রাস্তায়। সেই শ্যামবাটীর রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা উন্নয়ন এর মতোই হাসি হাসি মুখে। যাকে ছাড়া আমার পরিবার অচল। যাকে ছাড়া আমার ঘর, বাহির সবটাই অচল। আজ তার জন্মদিন। 

ভুলেই গিয়েছিলাম আমি ফেসবুকের পর্দায় সকাল থেকেই ভেসে উঠছে তার এই জন্মদিনের সংবাদ। যে সংবাদ আমার আগেই জানা উচিত ছিল। আমার মেয়ের কথায় কি করে এই মালটাকে যে মা তুমি বিয়ে করলে। ওর মুখটা দেখেছো তুমি একবার। সত্যিই তো সেটাই তো আসল কথা। তবুও কেমন করে যে কেটে গেলো দু যুগ প্রায় চব্বিশটি বছর। এইভাবেই ঝগড়া করে জীবন কাটিয়ে দিলাম আমরা দুজন হাতে হাত ধরেই। 

যে জীবনে একজন সব কিছুই পারে আর অন্যজন কিছুই পারে না। এই পারা আর না পারার মাঝেই লুকিয়ে থাকে গভীর গোপন ভালোবাসা। যে ভালবাসা নিয়েই আজ ওর জন্মদিনে আমার গোলাপ হীন শুকনো শুভেচ্ছা। ভালো থেকো তুমি সোমা। সুস্থ থেকো তুমি সোমা। হ্যাপি বার্থডে সোমা। মাথা ঠাণ্ডা করে আমরা কাটিয়ে দি এই জীবন। যে জীবনে হাসি কান্না সবকিছুই আছে আমাদের দুজনকে ঘিরে। ভালো থেকো তুমি সোমা। 

হ্যাপি বার্থডে সোমা - অভিজিৎ বসু।
সতেরো মার্চ দু হাজার পঁচিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে তিনি থাকতেন একসময়। বর্তমানে গ্রাম ছেড়ে শহরে সল্টলেকে থাকেন তিনি বর্তমানে। আনন্দবাজার কাগজের প্রথম পাতায় তাঁর লেখা পড়ে আর নানা এক্সক্লুসিভ খবর পড়ে মুগ্ধ হতাম আমি একসময়ে। মনে মনে ভাবতাম যদি একবার এই বিখ্যাত রিপোর্টারকে তাঁকে দেখতে পেতাম একবার। তাহলে যেনো জীবন সার্থক হতো মোর। শুধু দু চোখের দেখা আর কিছুই নয়।  অবশেষে দর্শন হলো তাঁর সাথে আমার মহাকরণের প্রেস কর্নারে। সেই পল্লীডাক প্রেসে কত যে তাঁর নাম শুনতাম সেদিনের কাগজে তাঁর নামে লেখা বের হলেই তাঁর প্রসঙ্গ আসতো। সেই তারকেশ্বরের ফাল্গুনীদার কাছে শুনতাম। সেই টেলিগ্রাফের তারক এর মুখে শুনতাম। আর সেই তাঁকেই নিজের চোখে দেখলাম প্রেস কর্ণারের ভিতর। ইটিভির দীপক এর সাথে বেশ ভালই আলাপ দেখলাম। একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে। একদম সাদামাটা চেহারা। দেখতে খুব যে ঝাঁ চকচকে সেটা নয়। আনন্দবাজার এর ছাপ আছে কিন্তু সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। একবার এই মন্ত্রীর ঘর তো আবার অন্য মন্ত্রীর ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি সবসময়।  আর আমি আমার নিজের জেলার এহেন সাংবাদিককে দেখেই প্রথম দর্শন...

অচেনা মাঠে জেতা এক মানুষের গল্প

আসলে হেরে যাওয়া মানুষের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতে বেশ এই শীতের নিশুতি রাতে আমার ভালই লাগে। লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে ঠিক যেনো সেই ডিয়ার লটারীতে কোটি টাকা মিলবে এই স্বপ্ন দেখা আর কি। আমিও যে তার ব্যাতিক্রম নই। আর হারতে হারতে খেলার মাঠ থেকে পড়ে গিয়েও আবার উঠে হাত পা ঝেড়ে ফেলে এগিয়ে যেতে যেতে নতুন করে স্বপ্ন দেখা এক মানুষের লড়াই করা দেখতেও বেশ মন্দ লাগে না আমার কিন্তু। স্বপ্ন দেখা যে মানুষের নেশা। কেউ কেউ তো হাসি ঠাট্টা করে তামাশা করে বলে দুর বাংলার মাটি ছেড়ে, দীঘার সমুদ্রের নোনা জল ছেড়ে আরব সাগরের জলে পা ভিজিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এটা আবার কি সাংবাদিকতা নাকি। জ্যোতি বসুর বিখ্যাত উক্তির মত এমন তো কতই হয় আর কতই দেখলাম। আসলে বাংলা হলো সংষ্কৃতির পীঠস্থান, বাংলা হলো সাংবাদিকতার পীঠস্থান।  যেখানে একসময়ের লাল মাটি আর বর্তমানের সবুজ মাটিতে খবরের সোনার ফসল ফলে হাসতে হাসতে। সেই বাংলার মাটি ছেড়ে ওই দুর্ভিক্ষের রাজ্য কালাহান্ডির ওড়িশা আর মুম্বাই এর আরব সাগরের জল তো নোনা কবেই লিখেছেন সাহিত্যিক সমরেশ বসু। সেই জলে জলকেলি করে এক নম্বর হয়ে এত লাফালাফির কি আছে ভাই। সিনেমা...

দ্রোহ আর বিদ্রোহের ঘেরা টোপে বন্দী কার্নিভাল

একটা শব্দ ইদানিং বেশ হাটে মাঠে ঘাটে সব জায়গায় ঘুরছে দ্রোহ। বিশেষ্য পদের এই শব্দ দ্রোহ হলো অনিষ্টাচারণ, অপকার, শত্রুতা, কলহ, আর বিরুদ্ধতা,পরাভব,অভিভব। এমন নানা শব্দবন্ধের মোড়কে আবদ্ধ হলো এই দ্রোহ। যে দ্রোহের ঘেরাটোপে বন্দী হয়েছে উৎসব, বন্দী হয়েছে কার্নিভাল, বন্দী হয়েছে আমাদের রাজনৈতিক সংঘাত। যে সংঘাত অনিবার্য ভাবেই সৃষ্টি করেছে নানা আন্দোলন আর সেই আন্দোলনের পাল্টা জবাব দেওয়া।  আসলে এর মধ্যেই যে লুকিয়ে আছে সুক্ষ্ম রাজনীতির মারপ্যাঁচ। যে রাজনীতির বৃত্তে নানা ভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে আন্দোলনকারী চিকিৎসক থেকে শুরু করে বাম, ডান, লাল, সবুজ আর গেরুয়া দল সবাই। সবটাই যে রাজনীতির হিসেব আর নিকেশের ঘেরাটোপে বন্দী। সে দ্রোহ হোক বা বিদ্রোহ হোক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে,শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে, আমরণ অনশন কর্মসূচি থেকে নানা আন্দোলন করে চিকিৎসকরা বুঝিয়ে দিতে চান যে তারা যে করেই হোক জয়লাভ করতে চান এই আন্দোলনে। যে আন্দোলন একমাত্র তাদেরই তৈরি করা আন্দোলন।  কিন্তু সেই আন্দোলনের মাঝে কলকাতায় হলো জোড়া কার্নিভাল। একটি পূজোর জমজমাট কার্নিভাল। র...

বর্ধমানের রিপোর্টার সানি

সানির কথা আমার মনেই ছিল না একদম। সত্যিই বলতে কি মনে থাকার কথাও নয়। আমি বর্ধমান যাবো কিন্তু সানিকে আর বলিনি সেকথা তাই। হঠাৎ করেই গাড়িতে যেতে যেতে একটা ফোন এলো আমার কাছে দাদা তুমি বর্ধমান জামালপুরে আসছো আর আমায় জানালে না একবার। কে? দাদা আমি মহম্মদ খান বলছি বর্ধমান থেকে। মনে পড়ে গেলো ওর কথা।  হ্যাঁ, সত্যিই তো সেই এন কে টিভির গোড়ার দিকে লোক নিয়োগ চলছে জেলায় আর কলকাতায় জোর কদমে। সেই জেলায় জেলায় রিপোর্টার নেওয়া হবে। বর্ধমানে কাকে নেবো ফোন করলাম ২৪ ঘণ্টার পার্থ আর অরূপকে। ওরা দুজনেই বললো দাদা সানিকে নাও ভালো ছেলে। আমাদের সাথে থাকে। কথায় কথায় জানলাম জামালপুরে বাড়ী ওর। কিন্তু বর্ধমানে ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করে। কাজ হলে বর্ধমান থেকেই করবে কাজ। কিছুটা নিমরাজি ছিলাম আমি। পরে ওকে নিলাম সেই গৌহাটির বাংলা চ্যানেলে এন কে বাংলা টিভিতে।  যাকগে কি আর হবে যখন পার্থ আর অরূপ বলছে হয়ে যাবে নিশ্চয়ই। এই ভরসায় সানিকে রিপোর্টার করে নিলাম আমি বর্ধমানের। সেই রোগা পাতলা চেহারা মহম্মদ খান যার নাম সেই সানি বর্ধমানের রিপোর্টার হয়ে গেলো। একটু সন্দেহ ছিল পারবে তো কাজটা ক...

আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলা

আঁকাবাঁকা পথ ধরে আমার এগিয়ে চলা। এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে এগিয়ে চলা। যে জীবনে আবাহন আর বিসর্জন নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই কোনোদিন। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে সুখ আবার দুঃখও। যে জীবনে জড়িয়ে থাকে নতুন কিছু পাওয়ার আশায় আনন্দে উদ্বেলিত হওয়া। আবার আমার এই সাদা জীবনের কালো কথা বা কালো জীবনের সাদা কথার ছোপ ছোপ দাগ। সেই বাঘের গায়ে ডোরা কাটা দাগ নিয়ে বেঁচে থাকা আমার। একদম নিজের মতো করেই যেখানে কারুর কাছে কোনোভাবেই তাঁর বশ্যতা মেনে নিয়ে নয় যেটা আমি পারলাম না কোনোভাবেই কোনওদিন।  তবুও জীবন যাপন তো করতেই হয় আমাদের। যে জীবনের বাঁশবনের ছায়ায় বসে দেখতে হয় বাঁশপাতার মাঝে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফিঙের নাচন। সেই ঝিরিঝিরি পাতার ফাঁকে মিষ্টি রোদের নরম আলো ছায়ার খেলা। যে খেলা দেখতে আমার বেশ ভালই লাগে আজকাল। যে খেলায় কত চেনা মুখের অচেনা ছবি যে ধরা পরে যায় হঠাৎ করেই কে জানে। আমি সেই ছবির ভীড়ের মাঝে কেমন বেঁহুশ হয়ে নিজেই হারিয়ে যাই এদিক, ওদিক, সেদিক। চেনা অচেনার পথ ধরে বাঁশবনের ছায়া মেখে হারিয়ে যাওয়া সেই জীবন। যে জীবনে সাদা কালো কত কিছুই না থেকে যায় দাগ র...