সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চারিদিকে উপহার দেওয়ার ভীড়

শীত পড়লে উপহার। দুর্গাপুজো এলে উপহার। ঈদ এলে উপহার। বর্ষাকালে ডিভিসি জল ছাড়লে উপহার। কোন ঋতুতে যে উপহার দেওয়ার বিরতি থাকে সেটাই ঠিক মাথায় আসছে না আমার। খালি উপহার আর উপহার। হাসি হাসি মুখে মন্ত্রী মশাই এর সস্ত্রীক উপহার দেওয়া। ঠিক যেনো উপহার এর ঠেলায় চোখে সর্ষে ফুল দেখার জোগাড় আমাদের এই আমজনতার। সেই উপহার এর পোস্টার সেঁটে জানান দেওয়া কারা উপহার দিচ্ছেন না মাটি আর মানুষের তরফ থেকে। দলের নেত্রী থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে ছবিতে বুঝিয়ে দেওয়া উপহার এর মধ্যে কারা কারা জড়িয়ে আছেন শাড়ির আঁচল এর সবুজ কলকার ভিতর লতায় আর পাতায় বেশ সূক্ষ্ম ভাবে গোপন ভালোবাসা নিয়ে। 


এখন তো শুনছি আবার কলকাতা লন্ডনের উড়ান পরিষেবার উপহার দেওয়ার বিস্তর চেষ্টা চলছে। বর্তমানে জোর কদমে সেই চেষ্টা চলছে সরকারের তরফে। তাহলে তো আর চিন্তা নেই একেবারে পূজোর আগে লন্ডনের সাহেব পাড়ার বাবুরা সোজা চারদিনের দূর্গাপুজো দেখতে ভীড় করবেন কল্লোলিনী তিলোত্তমা এই গর্বের কলকাতার রাস্তায়। আর কোলকাতার বিবিরা সোজা চারদিন পূজো দেখতে টেমসের ধারে ভীড় করবেন সেজে গুজে হাসিমুখে। বেশ ভালো ব্যাপার কিন্তু এটা দু দেশের মেল বন্ধন। দুই নদীর মেল বন্ধন। এটাও কিন্তু একটা বড়ো উপহার। আগে তো আমাদের ছোটো বয়সে সেই কবে দু একটা বিয়ে বাড়ীর নিমন্ত্রণ পেলে উপহার দেয়ার চল ছিল। থালা, বাসন, হাঁড়ি, একটু বড়ো ধরনের উপহার হলে ছোটো সেই লাল বাক্সে সোনার জিনিসের উপহার দেওয়া গম্ভীর মুখে পাত্রীর হাতে। যে ছোটো বাক্সের উপহারে স্ট্যাটাস বেড়ে যেতো অনেকটাই উপহার দাতার। 

আর খুশীর ঈদের দিন যত এগিয়ে আসছে তত কিন্তু উপহার দেওয়ার ধুম বাড়ছে পাড়ায়, মহল্লায়, জেলায়, মহকুমায়, ব্লকে, অঞ্চলে সর্বত্র। বিশেষ করে সংখ্যালঘু দের এলাকায়। পাড়ার কুঁচো নেতা থেকে শুরু করে লালবাতি মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়ানো গম্ভীর মুখে মন্ত্রী সবাই এখন উপহার দিতেই ব্যস্ত বেশ। আর দরিদ্র পরিবার এই উপহার নতুন শাড়ি, কাপড় পেয়ে খুশি তাঁরাও। আর এই উপহার নিয়ে এখন চারিদিকে লোক দেখানো ধুম পড়ে গেছে। উপহার দিয়ে আর যাই হোক মুখ বন্ধের চেষ্টা আর কি।

 তাই বসন্তের বাতাস গায়ে মেখে চারিদিকেই এখন গুটি বসন্তের মতই উপহার দেওয়ার ভীড় কেমন থিকথিক করছৈ। সামনেই যে বছর ঘুরলেই ভোটের লাইন পড়বে আর কিছুদিন বাদেই। তার আগে একটু গরীব মানুষের সেবা করার চেষ্টা মাত্র। উপহার দিয়ে সেবা করে ভোট কিনতে হবে যে, যে কোনোও মূল্যে। যাঁরা উপহার এর লাইনে হাসিমুখে ভীড় করেন তাঁরাও জানেন এই উপহার আসলে গণতন্ত্র রক্ষার উপহার। 

চারিদিকে উপহার দেওয়ার ভীড় - অভিজিৎ বসু।
২৬ মার্চ, দু হাজার পঁচিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো থাকবেন শঙ্খ শুভ্র বাবু

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক পুলিশ অফিসার এর কথা বলবো। বহুদিন পর আজ যার সাথে আচমকাই কথা হলো আমার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের লেখার মাধ্যমে বহু দিন, বহু কাল পরে। আচ্ছা আপনি কি সত্যিই টোটো চালান। তাঁর সরাসরি প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে আমি বললাম, না।  আসলে সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার বহু বছর আগে এস ডি পি ও শ্রীরামপুর হিসেবে কাজ করতেন আমার নিজের হুগলী জেলায় নিজের শহরে শ্রীরামপুরে। যে জেলায় আমিও একসময় দাপিয়ে ঘুরে কাজ করেছি একসময় এই জেলার সাংবাদিক হিসেবে। যদিও সেই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে বেঁচে থাকার অভ্যাস আমার নেই একদমই। সেটা কোনো কালেই ছিল না। যেহেতু আজ বহুদিন পর তাঁর সাথে একটু যোগাযোগ হলো তাই তাঁর কথা লিখতে ইচ্ছা হলো আমার। সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার হলেন শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী। একদম হিরো স্টাইল এর পুলিশ অফিসার। মারকুটে এই পুলিশ অফিসার। মস্তানদের ধরে রাস্তায় ফ্যাশন প্যারেড করানো সেই বিখ্যাত পুলিশ অফিসার শঙ্খশুভ্র বাবু। যে কারণে হুগলী জেলায় মস্তান আর ডনদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে খবরের কাগজের পাতায় প্রতিদিন খবরে থাকতেন তিনি সেই সময়।  যার সময় খবর...

বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দোপাধ্যায়

এই বাংলার রাজনীতি। বিরোধী দল। বিরোধী দল নেতা। সেই আমলে সিপিএমের দোর্দণ্ড প্রতাপ দাপট। সেই দাপটেও একা কুম্ভ রক্ষা করে নকল বুঁদি গড়।‌ আর একটা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এর সন্ধান পাওয়া। যিনি সেই দলের ক্রাইসিসে, দলের দুর্দিনে যখন খুব খারাপ অবস্হা। আশংকাজনক অবস্থায় দল যখন এ পজিটিভ রক্তের এর অভাবে ভুগছে রক্তল্পতায়। দৌড় ঝাঁপ করছে, এদিক ওদিক ঘুরছে সেই অবস্থায় কেমন একাই সব সামলে দিয়েছেন তিনি দলকে নানা বিপদ থেকে উৎরে দিয়েছেন হাসিমুখেই। কাউকে কিছু টের না পেতে দিয়ে।  আর আবার তিনিই যখন সারারাত জেগে গোবিন্দপুর বস্তি আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হচ্ছে সবাই যখন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে রাত জাগছেন আর গলা ছেড়ে কেউ কেউ গান ধরছেন দিদিকে খুশী করতে। সেই সময় দিব্যি তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আর সত্যিই রাত জেগে অন্দোলন হচ্ছে কী না সত্যি না মিথ্যে কথা সেটা দেখতে বর্তমান তৃণমুলের এক বর্ষীয়ান সাংসদের স্ত্রী যিনি আজ আর বেঁচে নেই তিনি দেখতে ছুটে এসেছিলেন তাঁর অধ্যাপক স্বামীকে সেই রাতে গোবিন্দপুর বস্তির এলাকায়। আর এতো ঘটনা ঘটলেও তিনি ফোন বন্ধ করে গভীর নিদ্রায...

ঝড়

ভালোবাসার ভীড়ে ভরে উঠবে শহর থেকে গ্রাম। থিক থিকে ভীড়ে উড়বে ধুলোর কনা চারিদিকে। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যাবে শরীর, মন, প্রাণ। ধুলোর ঝড়ে হারিয়ে যাবে মনের মানুষ। হারিয়ে যায় গোটা জীবন।  জীবনের ছায়া মায়া মাখা পথে একা ঘুরে বেড়াই আমি। ভালোবাসার ভীড়ে আত্মাদের সাথে গা ঢাকা দিয়ে,  লুকিয়ে হাঁটি একা, একা। দেখি অন্ধকারের পথ জুড়ে শুধুই, ভালবাসার অভিনয় করা মানুষের ভীড়। মসৃণ রাস্তায় সরীসৃপের মত এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়ায় তারা সন্তর্পনে। পায়ে পা মেলাই ধুলোর ঝড় গায়ে মেখে আনমনে,  ধুলি ধুসরিত হয়ে।  ঠিক যেনো ছাতিমের ডালে বসা ছাতারের মত। ঘোলা চোখের ধুলো মাখা দৃষ্টিতে, দুর পানে তাকিয়ে দেখি।  সূর্যের মিঠে আলোয়, ধুলোর কনা গায়ে মেখে  গোপন অভিসারে মত্ত প্রজাপতির দল। অভিনয়ের অভিসার নয়,  সত্যিই কারের ভালোবাসার অভিসার। ধুলোর ঝড়ে ঢেকে যায় আমার শরীর,মন, প্রাণ। ঝড় - অভিজিৎ বসু।

হ্যাপি বার্থডে টু ইউ

আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় আমি তো অনেক সাংবাদিককে নিয়েই লিখি আমি। অনেকে বলেন কী বা হবে এই টোটো চালকের লেখা লিখে বলুন আপনারা এইসব আর কি বা পড়ে। কতজন এর সাথেই তো কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার এই দীর্ঘ ৩৫ বছরে। তবে এই অঙ্গীরা ব্যানার্জীর জন্মদিন গেলো সদ্য সদ্য। তাঁকে নিয়ে লিখতে গেলে একটু ভয়ই হয় বটে। যদি কিছু ভাবেন তিনি আর তাঁর সাথে জেলার সাংবাদিক হিসেবে কাজের সুযোগ ঘটেনি বলে। এক সময়ে সেই মুম্বাইয়ের এর তাজ হোটেলে জঙ্গী আক্রমণের সময়ে টিভির পর্দায় দেখেছি আমরা তাঁকে। সেই খুব সম্ভবতঃ ২৪ ঘণ্টার পর্দায় দেখেছি তাঁকে। কী দাপটে কাজ করেছেন তিনি সেই সময়।  সে এক ভয়ঙ্কর কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর এই সাংবাদিকতার জীবনে। আরও অনেক বড় বড় ঘটনার সাক্ষী সে। কলকাতাতে প্রয়াত অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিমে কাজ করেছে সে ক্রাইম বিটে সে বেশ বিখ্যাত দাপুটে রিপোর্টার ছিলেন তিনি সেই সময়ে। দিল্লী আর কলকাতা তে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। এই দিন কয়েক আগেই দেখলাম বহু দিনের পর দেশে এসেছেন তিনি দুবাই থেকে। বেনারস ভ্রমণে। টুক টাক কথা হলো যে তাঁর সাথে ফেসবুকের দুন...

অবসর ঘোষণা শ্যামলেন্দু মিত্রের

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে তিনি থাকতেন একসময়। বর্তমানে গ্রাম ছেড়ে শহরে সল্টলেকে থাকেন তিনি বর্তমানে। আনন্দবাজার কাগজের প্রথম পাতায় তাঁর লেখা পড়ে আর নানা এক্সক্লুসিভ খবর পড়ে মুগ্ধ হতাম আমি একসময়ে। মনে মনে ভাবতাম যদি একবার এই বিখ্যাত রিপোর্টারকে তাঁকে দেখতে পেতাম একবার। তাহলে যেনো জীবন সার্থক হতো মোর। শুধু দু চোখের দেখা আর কিছুই নয়।  অবশেষে দর্শন হলো তাঁর সাথে আমার মহাকরণের প্রেস কর্নারে। সেই পল্লীডাক প্রেসে কত যে তাঁর নাম শুনতাম সেদিনের কাগজে তাঁর নামে লেখা বের হলেই তাঁর প্রসঙ্গ আসতো। সেই তারকেশ্বরের ফাল্গুনীদার কাছে শুনতাম। সেই টেলিগ্রাফের তারক এর মুখে শুনতাম। আর সেই তাঁকেই নিজের চোখে দেখলাম প্রেস কর্ণারের ভিতর। ইটিভির দীপক এর সাথে বেশ ভালই আলাপ দেখলাম। একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট পড়ে। একদম সাদামাটা চেহারা। দেখতে খুব যে ঝাঁ চকচকে সেটা নয়। আনন্দবাজার এর ছাপ আছে কিন্তু সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই একদম। একবার এই মন্ত্রীর ঘর তো আবার অন্য মন্ত্রীর ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি সবসময়।  আর আমি আমার নিজের জেলার এহেন সাংবাদিককে দেখেই প্রথম দর্শন...