সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমাদের বিখ্যাত সোমশুভ্র মুখার্জী

সেই ৯ টা বেজে ২১ মিনিট থেকে ৯ টা বেজে ১ মিনিটে উঠে আসার গল্পের বন্ধুত্ব আমাদের দুজনের। বহু পুরোনো দিনের কথা সেই সব আজ আর সেই বন্ধুত্ব নেই আমাদের কিছুটা ধূসর হয়েছে। সেই দুজনের মুঠো ফোনে বন্দী হওয়া বহু পুরোনো দিনের ধূসর একটি ছবি খুঁজে পেলাম আমি মোবাইল এর গ্যালারী ঘেঁটে। এক জন কাঠ বেকার লোককে কাজ দিয়ে চাকরী দিয়ে কলকাতা ছেড়ে চলে যাওয়ার শেষ দিনের ছবি এটি সেই ঝিলপাড় এর বাস স্ট্যান্ডে। সেই আমাদের একসাথে ঘুরে বেড়ানো সোনাঝুড়ি হয়ে মা কঙ্কালীতলা হয়ে সন্ধ্যায় কিছুটা বিষণ্ন হয়ে সেই আমার বোলপুরের ভাড়া বাড়ী হয়ে সেই চেনা তাপসদার রিসর্টে রাতে থাকা। 


সেই মোবাইল এর গ্যালারীতে জমে থাকা কিছু ধুলো জমা স্মৃতি আর কিছু ছবি খুঁজে পাওয়া আমার এই রাত দুপুরে হঠাৎ করেই। যে ছবির আজ কোনোও আওয়াজ নেই আর মূল্য নেই আর একদমই। রাস্তার একপাশে পড়ে থাকা ধুলোর মতই সেই মেঠো সম্পর্ক আজ বড় ক্ষয়িষ্ণু হয়ে গেছে কবেই সেই চন্দ্রগ্রহণের একফালি চাঁদের মতই মিস্টি হেসে। তবুও এই তো সব সেদিনের কথা যেনো মনে হয়, সেই হায়দরাবাদ এর জীবন, সেই রাত নটার বুলেটিনে স্পোর্টস এর খবর করা। সেই নটা একুশ থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলা রাত নটার দিকে খুব ধীরে ধীরে। ধীর গতিতে ধীর পদক্ষেপে তাঁর ওপরে ওঠার কাহিনীর সবটাই যে এই বন্ধুর জানা। যেমন আমার জীবনের সব কথা তাঁর জন্য। 

আসলে এই আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় এই সব বিখ্যাত জনদের নিয়ে লিখতে গেলেই আমি কেমন যেনো খেই হারিয়ে ফেলি একটু ঘাবড়ে যাই আর কি। সেই ভরাট গলার স্বর, সেই চেনা আওয়াজ। সেই প্রোমোর জন্য বা বিশেষ রিপোর্টে তার গলা মাস্ট। কত জন যে এই তার কপিতে গলা দেওয়ার অনুরোধ করতো সেই পোদ্দার কোর্টের বা সেই মিডিয়া সিটির অফিসে তার ঠিক নেই। ব্রেকিং এর বানান নিয়ে আলোচনা বা সন্দেহ হলেই তার টেবিলে বল গিয়ে পড়ে অনায়াসেই। আর সেই বলকে মাঠের বাইরে মারতে কষ্ট হয়না তাঁর একদমই। সেই এন্টারটেনমেন্ট এর শর্মিষ্ঠা আর তার এই বানান নিয়ে কত যে আলোচনা হত সেই নিউজ রুমে বেশ দেখার মতই বিষয় ছিলো সেটা একটা সময়।

 হ্যাঁ, সেই বিখ্যাত শঙ্খ ঘোষের ছাত্র। সেই যাদবপুরের মেধাবী ছাত্র। সেই দূর্গাপুর এর বাসিন্দা। সেই বাংলা লেখায় যাঁর হাতে মুক্ত ঝরে। সেই বাংলা ভাষার দিনে তাঁকে নিয়ে লিখতে বসা আমার কিছুটা ভয়ে ভয়েই। সেই সোমশুভ্র মুখার্জীর কথা। সেই প্রয়াত অঞ্জন বন্দোপাধ্যায় এর ডিপেনডেবেল সোম। সেই তাঁর শো এর সময় বেশ ভালো বোঝাপড়া ছিলো দুজনের আর সাথে হ্যান্ডস সেই প্রলয়। পরে অবশ্য এই জায়গায় দ্বীপেন্দ্র আসে কিছুটা। তবু সেই ইটিভির পর্দা ছেড়ে স্টার আনন্দ এর পর্দা হয়ে, ২৪ এর সোনালী দিন হয়ে, সেই রিপাবলিক এর জমানায় কাজ করে সেই এন কে বাংলার চ্যানেলের দায়িত্ব নিয়ে গৌহাটি গিয়ে কাজ করা তাঁর। সেই মজা করে বলা আমার জিকো আর প্লাতিনির জুটি আমরা। সেই জুটি যদিও অনেক আগেই ভেঙে গেছে কবেই হাসতে হাসতেই। 

আসলে জীবন তো এমনই ভাঙা আর গড়া। একপাড় ভাঙে আর অন্য পাড় গড়ে। সেই সেক্টর ফাইভের ফাঁকা নতুন অফিসে আমাদের অল্প কয়েকজন এর কাজ করা। সেই কাঠের কাজ এর আওয়াজ হচ্ছে। সেই ধীরে ধীরে অফিস তৈরি হয়। ইন্টারভিউ হও‌য়া। সেই সাদা কালো ডায়েরী নিয়ে আমার ঘুরে বেড়ানো দ্রুত গতিতে এদিক ওদিক। কত ভীড় করে সব ইন্টারভিউ দিতে আসা। সেই সব কথা মনে পড়ে যায় আমার আজ। সেই এক বিকেলে বহুদিন পর স্যালারি ক্রেডিটেড হওয়া আমার। কয়েক দিনের টাকা পেয়ে আমি খুবই খুশী। ওর বলা কী টাকা পেলে তুমি। আমার তখন উজ্জ্বল মুখ। সেই চেয়ার, সেই স্টুডিও, সেই নিউজ এর করিডর, সেই কাঁচের ঘর, সেই কত জনের কাজ করতে আসা এই অফিসে। আজ সেদিন এই অফিস এর পাশ দিয়ে হেঁটে গেলাম দেখলাম অফিসটি আর নেই আর। 

মনটা কেমন যেন খারাপ লাগলো আমার। সেই দুপুরে আমাদের দুজনের ঘুরে বেড়ানো সেই একসাথেই খেতে যাওয়া। সেই সব দিনগুলো বেশ ভালোই ছিলো কিন্তু সেই সময় নতুন চ্যানেল আসার আগে। কত উত্তেজনা আর হৈ চৈ হুল্লোড় পড়ে যাওয়া এদিক ওদিক। কলকাতা আর গৌহাটির মেলবন্ধন হয়ে যাওয়া। আর সেই চেয়ারম্যানের কাছে আমায় পৌঁছে দেওয়া। বেশ মজার লোক ছিলেন এই চেয়ারম্যান মিস্টার এন কে তালুকদার। সেই কতজন এর ইন্টারভিউ নেওয়া তাঁর। আমার এদিক ওদিক দৌড়ঝাঁপ করা। বেশ গতিময় একটা জীবন। জং পড়ে যাওয়া জীবনে গতি পেয়ে বেশ ভালোই লাগলো আমার। সত্যিই অসাধারণ ছিলো কিন্তু এই মিডিয়ার জীবন এর শেষ বেলায় আমার কাজ এর জীবনটা। একদম সেই গৌহাটি চলে যাবার আগে সেই সেক্টর ফাইভ এর বাস স্ট্যান্ডে আমরা দুজন মুঠোফোনে বন্দী হলাম আমরা হাসিমুখে। একে অপরকে হাত মিলিয়ে দুজনের দূরে চলে যাওয়া। 

সত্যিই তো সেই দেখা হওয়া আমাদের তারপর কথা হয়েছে অনেক কাজের সূত্রে ফোনে। দেখা আর হয়নি আর। তারপর আমার সেই এনকে বাংলার কাজ ছেড়ে আবার বেকার হয়ে যাওয়া। শুধু মাত্র এই মুঠো ফোনে বন্দী কিছু ছবি আমার মোবাইলে থেকে যাওয়া। আজ বহুদিন পরে মনে হলো আমার এক সময়ের বন্ধু সোম এর কথা। সেই কত যে চেনা মুখ চেনা স্মৃতি ঝাপটা মারে আজ এই রাতদুপুরে। আমি আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় সেই সোম এর কথাই লিখে ফেললাম আমি। ভালো থেকো তুমি। দাদা টোটো চালকের লেখা ভুল হলে ক্ষমা করে দিও। আজকের এই বিশেষ ভাষার দিনে আমার এই লেখা। শুধুই স্মৃতির সরণী বেয়ে আলপথ ধরে হেঁটে চলা। ভালো থেকো তুমি। 

আমাদের বিখ্যাত সোমশুভ্র মুখার্জী- অভিজিৎ বসু।
একুশ ফেব্রুয়ারি দু হাজার ছাব্বিশ।
ছবি সৌজন্য নিজের মোবাইল ক্যামেরায় তোলা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রামকিঙ্কর বেইজ এর জন্মদিন

রামকিঙ্কর বেইজ এর জন্মদিন - রামকিঙ্কর বেইজ ২৫ মে ১৯০৬ সালে আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেন বাঁকুড়ার যুগীপাড়ায়। তিনি ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি ভাস্কর। তিনি আধুনিক ভারতীয় ভাস্কর্যকলার অন্যতম অগ্রপথিক ছিলেন। রামকিঙ্কর ছিলেন প্রথম ভারতীয় শিল্পী যিনি আধুনিক পাশ্চাত্য শিল্প অধ্যয়ন করে সেই শৈলী নিজের ভাস্কর্যে প্রয়োগ করেন।  রামকিঙ্কর পোস্টার, থিয়েটারের সিন ,এমনকি পুতুল তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। চরম দারিদ্রের সাথে লড়াই করেছেন তিনি। বিশিষ্ট সাংবাদিক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের নজরে পড়েন তিনি। তাকে নিয়ে আসা হয় শান্তিনিকেতনের কলাভবনে। ১৯ বছরের রামকিঙ্করের কাজ দেখে মুগ্ধ হন নন্দলাল বসু। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে নন্দলালের ছাত্র হয়ে রামকিঙ্কর ঢুকলেন শান্তিনিকেতনের কলাভবনে থাকলেন একটানা ৪৬ বছর। অবসর নেন ভাস্কর্য বিভাগের প্রধান হয়ে। রামকিঙ্করের ভাস্কর্য গুলি আকৃতিতে বেশ বড়। তিনি চোখের সামনে যা দেখেন তাই হয় মডেল। তার উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্য হল সাঁওতাল রমণী, সাঁওতাল পরিবার ,গান্ধীজি ইত্যাদি। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তি বানিয়েছিলেন। তাকে ভারতীয় শিল্পে আধুনিকতার জনক ও অ...

জয় মা মঙ্গলচন্ডী

মা মঙ্গলচণ্ডী, যাঁহার নাম মধুর ও মনোহর, যাঁহার হস্তে বর ও অভয় মুদ্রা, যিনি দ্বিভুজা ও গৌরবর্ণা, যিনি রক্তপদ্মাসনে উপবিষ্টা ও মুকুট দ্বারা উজ্জ্বলরূপে ভূষিতা, যিনি রক্তবর্ণ কৌষেয় (চেলির) বস্ত্র পরিধান করিয়া আছেন, যিনি সহাস্যবদনা, সুন্দরাননা ও নবযৌবনা, যিনি সুন্দরাঙ্গী ও মধুর লাবণ্যযুক্তা, তিনিই হলেন দেবী মঙ্গলচণ্ডী। বিশ্বের মূল স্বরূপা প্রকৃতিদেবীর মুখ হ’তে মঙ্গলচণ্ডী দেবী উৎপন্না হয়েছেন। তিনি সৃষ্টিকার্য্যে মঙ্গলরূপা এবং সংহারকার্য্যে কোপরূপিণী, এইজন্য পণ্ডিতগণ তাঁকে মঙ্গলচণ্ডী বলিয়া অভিহিত করেন।” “দক্ষ অর্থে চণ্ডী এবং কল্যাণ অর্থে মঙ্গল। মঙ্গলকর বস্তুর মধ্যে দক্ষ বলে তিনি মঙ্গলচণ্ডী নামে প্রসিদ্ধ। প্রতি মঙ্গলবারে তাঁহার পূজা বিধেয়। মনু বংশীয় মঙ্গল রাজা নিরন্তর তাঁহার পূজা করিতেন।” জৈষ্ঠ্যমাসের প্রতি মঙ্গলবারে মা চণ্ডীর আরাধনা করা হয় বলে এই ব্রতের নাম মঙ্গলচণ্ডী ব্রত। জীবনে শ্রেষ্ঠ মাঙ্গল্যের প্রতিষ্ঠার জন্যই এ ব্রতের অনুষ্ঠান। মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের নানা রূপ আছে। কুমারীরা যে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের আচরণ করে, তা অতি সহজ ও সংক্ষিপ্ত। দেবী অপ্রাকৃত মহিমার প্রশস্তিগীতি ব্রতের ছড়ায় এস...

সজল গ্রাম হলো মহুলী

গ্রামের নাম মহুলী। বোলপুর থেকে মেরে কেটে পাঁচ কিলোমিটার হবে। সিয়ান গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এই গ্রাম। এমন মিস্টি নামের গ্রাম শুনে ইচ্ছা হলো কিছু লেখার। কিন্তু কি লিখবো। গ্রামের কথা আর নতুন করে লেখার কি আছে। এই সুজলা সুফল শস্য শ্যামলা গ্রাম তো সব এক রকমের। তাহলে মহুলী গ্রাম যা আবার বের গ্রামও তাই। আবার ইকড়াও একই ধরনের গ্রাম।   সেই সবুজ মাঠ। সুন্দর মন ভালো করা ক্ষেত। আলু বোনা হয়েছে মাঠে। সর্ষে ক্ষেতের হাসি মাখা মুখ। কেমন পুকুরের কালো টলটলে জল। সবই তো এক রকম ফারাক আর কোথায়। আর এই মহুলী গ্রামে মাত্র একশো ঘরের আদিবাসীর বাস। তারা সবাই চারটে পাড়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে এদিক ওদিক জড়াজড়ি করে বাস করছে মংলা, টুসুরাণী, রতন হাঁসদা, কালু সোরেন থেকে শুরু করে আরও অনেকেই। তাহলে নতুনত্ব তো কিছুই নেই। এই সব দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের জীবনে কোনও নতুনত্ব আর কোনো বিশেষত্ব নেই। গ্রামের মিঠে বাতাস গায়ে মেখে, শীতের উত্তুরে হাওয়ায় কাঁপন অনুভব করেই দিন কাটে এদের।  কিন্তু আজ যেন দুপুর থেকেই কেমন সাজ সাজ রব মহুলী গ্রামের বাসিন্দাদের। গ্রামের মাঠের ধারে যেতে...

হতাশার জীবন ও তিতাসের গল্প

শিবুদাই একমাত্র ভরসা। আপনার জীবনের হাজার সমস্যার সমাধান করতে পারবেন পাড়ার শিবুদা। আপনার হতাশার জীবন। আপনার সন্দেহের জীবন। আপনার মোবাইল ফোনের আসক্তির জীবন। বউ এর কাছে গাল খাওয়ার জীবন, প্রেমিকার কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠার চমকপ্রদ সুন্দর মসৃণ তেল চকচকে জীবন, শুধুই দৌড়ে বেড়ানো আর ছুটে বেড়ানোর জীবন। যে জীবনে শুধুই পিছিয়ে যাওয়া নয় একদম সঠিক ভাবে সঠিক পথ ধরে এগিয়ে যাওয়া আর কি।  আর সেই সব কিছুর পরেও যদি কাজ না হয় , হতাশা না কাটে, সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে অর্থ মূল্য ফেরত দেওয়ার সদর্পে ঘোষণা। রাস্তায় পুরোনো দেওয়ালে, ট্রেনের কামরায়,বন্ধ সিনেমার টিকিট কাউন্টারের গায়ে, রেলের টিকিট কাটার সেই ছোট্টো ঘুলঘুলির মাঝে কেমন ঝুলে থাকে এই সব কিছুই বাঁকা চাঁদের নরম আলো গায়ে মেখে চুপটি করে কিছুটা একা একাই।  চোখে পড়ে যায় আমার আপনার সবার। আর ঠিক তখনই বুকের মাঝে চেপে বসে হতাশার খানাখন্দে ভরা সংসার আর তার ক্যাঁচড় কোঁচড় মৃদু আওয়াজ। চোখের সামনে ঝুলে থাকা বিজ্ঞাপন দেখে মনে মনে শিবুদাকে খুঁজি আমি আকুল হয়ে। যে আমার জীবনের সব সমস্যার সমাধান করতে পারে এ...

ফিরে এলো সেই গ্রাম

সবুজ গ্রাম, সবুজ বাংলা,বেশ চোখের দৃষ্টিতে আরাম এনে দেয় আমাদের। শহুরে জীবনের ছোঁয়া ছেড়ে গ্রামের সহজ সরল অনাড়ম্বর জীবনের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে গভীর ভালোবাসা, মমত্ব বোধ। চেনা মানুষদের থেকেও অচেনা অজানা মানুষরা কত অল্প সময়ে কাছের মানুষ হয়ে ওঠে। আসলে শহুরে স্বার্থপর জীবনের মোরাম রাস্তায় দিন যাপন করে ক্লান্ত আমি, শেষ জীবনে তাই গ্রামেই ফিরতে চাই আমি। মিশতে চাই সহজ সরল করে গ্রামের মানুষের সাথে।  যে মানুষদের সাথে জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়ে। কর্ম জীবনের বহু বছর কাটিয়েও তাদের বুঝে উঠতে পারলাম না, ঠিক করে চিনতে পারলাম না আজও। সেই সব মানুষদের থেকে দূরে, অনেক দূরে সরে গিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে চাই। যে স্বপ্ন দেখে আচমকা মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে উঠে বসতে হবে না আর আমায়। বেশ সুখ নিদ্রা দিয়ে সকালে ঘুম থেকে আড়মোড়া ভেঙে উঠে আলু ক্ষেত দেখা যাবে মাথা ঘুরিয়ে। মাঠের মাঝে সর্ষে ফুল এর মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে থাকা দেখে সকাল গড়িয়ে দুপুর হবে। আদিগন্ত বিস্তৃত ধানের সবুজ ক্ষেতকে দেখে ভালবেসে সন্ধ্যার মেঘমালাকে বুকে চেপে রেখে আবার ঘুমোতে যাওয়ার কথা ভাবতে পারবো আমি নিশ...