সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শিবদুত্যি রায় শংকর দা ছেলে

আজ প্রায় চল্লিশ বছর পর কথা হলো তার সাথে আমার। সেই রিষড়ার পঞ্চানন তলার মন্দির এর প্রয়াত শংকর রায়দার ছেলে শিবদ্যুতির সাথে। সেই ওদের ঠাকুর বাড়ীর সাথে ডিরেক্ট যোগাযোগ ছিলো সেই সময়ে। আর শ্রী শ্রী বড়দার সাথে তাঁদের একদম ঘরের লোকের সম্পর্ক ছিল। আর তাই আমরা সাধারণ জনগণ হয়ে সাধারণ সৎসঙ্গী হয়ে কিছুটা দূরে দূরেই থাকা দূরে সরে থাকা কিছুটা ভয়ে ভয়েই। তবু সেই আমার বয়স তখন বারো পার করে সবে জীবনের শুরু। সেই মাস্টার মশাই এর কাছে গোপীবল্লভ সাহার কাছে মায়ের জন্য দীক্ষা নিয়ে নেওয়া ছোটো বয়সেই কিছু না বুঝেই। এইভাবেই দেখতে দেখতেই কেটে গেছে আমার জীবনের দিন এতগুলো বছর। 

আজ সবটাই কেমন যেন অতীত। তবু আজ দীর্ঘদিন পরে এই শিবদ্যুতির সাথে যোগাযোগ হলো আমার ফেসবুকের মাধ্যমে। জীবনের এই নানা ঘাত প্রতিঘাতে চলতে ফিরতে কত জীবনের সাথে যে দেখা হয়ে যায়। যোগাযোগ হয়ে যায় কে জানে। এই সাংবাদিকতার পেশার সুবাদে। সেই পঞ্চাননতলার কেন্দ্র আর নবীন পল্লীর কেন্দ্র। সেই গুরুদাস রায় আর শঙ্কর রায় দুজনে তখন এই এলাকার প্রধান কর্তা ব্যক্তি এই সৎসঙ্গের। সেই নাগ দা, পবিত্র দা, কৃষ্ণা দা, সুবোধ দা, অশোক দত্ত, কাজল সরকার আরও কতজন যে ছিলেন এই পশ্চিম রেল পাড়ে। ওপারে রাজকুমার সাউ। ছিলাম আমরাও কোনও রকমে অতি দরিদ্র আর সাধারণ হয়েই। তাই খুব একটা পাত্তা দেয় নি কেউই। আজ অবশ্য ছবিটা উল্টো হয়ে গেছে অনেকটাই। 

সেই কোন্নগর এর মন্দির ঘিরে ঠাকুরের কাজ চলছে জোর কদমে তখন। সেই কেন্দ্রে ঠাকুর পরিবারের সন্তু দার আসা একদিন। সেই জায়গায় তাঁর পা দেওয়া। সেই ভোরবেলাতে তাঁকে কলকাতা থেকে নিয়ে আসা। সেই কত যে হৈ চৈ হুল্লোড় পড়ে গেলো গোটা এলাকায় কি বলি আর আমি আজ। সেই পবিত্র দা মারা গেছেন কিছুদিন আগেই। সেই পঞ্চানন তলার জায়গায় তখন বাঁশবন ছিলো। সন্ধ্যা হলেই তো শিয়াল ডাকতো সেই জায়গায়। সেই টালির ঘরে ঠাকুর এর প্রার্থনা হয় সেখানে। বেশ মজার জীবন ছিলো সেই ছোটো বেলায় কিন্তু আমাদের। সেই হৈ চৈ হুল্লোড় করে ঠাকুর বাড়ী যাওয়া। 

দড়ি টানাটানি একটা ছিলো বটে এই পক্ষ আর ওই পক্ষের মধ্যে। ক্ষমতায় কে থাকবে সেটা নিয়ে কিন্তু ধর্মের জগতে সেটা হওয়া একদম বাঞ্ছনীয় নয় তবুও। সেই মিনু দাস, সেই উত্তম, গোবিন্দ, সুখা, আর শিবু সে তো হারিয়ে গেছে কোথায় কে জানে সব এরা আজ। সেই কার্তিক সাঁতরা কোথায় গেলো কে জানে। তবু তো এই আমার ছোট বেলার জায়গায় নানা স্মৃতির কথা মনে পড়ে গেলো। সেই চল্লিশ বছর আগের সব স্মৃতি। দিনে দিনে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে যে তারাও। তবু আজ সেই শিবদ্যুতির সাথে কথা হয়ে এত কিছু মনে পড়ে গেলো আমার এই বুড়ো বয়সেও। 

সেই ধর্মের পরিমন্ডলে আমাদের বেড়ে ওঠা। কোনো অসৎ কাজ করতে গিয়ে একটু হলেও থমকে যাওয়া। সেই ওর কথায় তুমি আর এই কাজ করোনা মিডিয়ার কাজ। আমি বললাম না করিনা। ওর ছেলের জার্মান চলে যাওয়া। সেই উচ্চ শিক্ষা নিয়ে বিদেশে থেকে যাওয়া। আমি বললাম আমার মেয়ের জাপান এর ভাষা পড়ে কর্মসূত্রে ব্যাঙ্গালোরে চলে যাওয়া। একদিন সেই পঞ্চানন তলায় যেতে বললো আমায়। সেই ছবিতে দেখলাম চেহারা কিছুটা খারাপ হয়েছে। তবু ফোনে যোগাযোগ হলো। কথা বলা হলো সেই সব পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ে গেলো আমার। আজ অনেকে নেই তবু তো সেই এই আমার পুরোনো ছোটবেলার জায়গার বদল হয়নি কোনোও। 

একটা জায়গায় আমাদের গাঁটছড়া বাঁধা আছে বলে সেই এতদিন পরেও কেমন করে যেনো কথা হয়ে গেলো কোনো দ্বিধা দ্বন্দ ছেড়ে একদম ফ্রী হয়ে কে কী ভাববে সেটা না ভেবেই। রক্তের সম্পর্ক গড়ে না উঠলেও এটাই বোধহয় এই সংঘের একটা সু নীতি। সেই জার্মান এর রাস্তায় ঠাকুরের প্রচার করা, সেই বিদেশের মাটিতে তাঁর প্রচার হওয়া এটা দেখে বেশ ভালই লাগে। ওর ছেলের ছবি দেখে ভালো লাগে বেশ।

 সত্যিই অসাধারণ কিন্তু এই জীবন এর জার্নি। আমরা সাধারন ভাবে কষ্টে দিন কাটিয়ে দিলেও আমাদের পরের প্রজন্ম তো একটু ভালো করে আছে তারা সব। এটাই যে অনেক বড় পাওয়া আমাদের এই জীবনে। সেই সাদা পোশাকে ওকে দেখা। আর ওর চেহারা দেখে আমার বেশ দেখে খারাপ লাগা বেশ। আসলে আমরাও যে সব বুড়ো হচ্ছি ধীরে ধীরে এটা ভাবলেই যে কেমন লাগে আমার। তবু সবটাই তো মেনে নিতে হয় আমাদেরও । লড়াই ছেড়ে যুদ্ধ ছেড়ে হাসি মুখে বেঁচে থাকতে হয় সবাইকেই। ভালো থেকো তুমি। ঠাকুরকে ভরসা করেই তো আমাদের বেঁচে থাকা এই দুনিয়ায়। সাদা জীবনের কালো কথায় আমার আঁকিবুঁকি ব্লগের পাতায় সেই কথা লিখে ফেললাম আমি আজ। ভালো থেকো তুমি। 

শঙ্কর রায়দার ছেলে শিবদ্যুতি - অভিজিৎ বসু।
আঠারো ফেব্রুয়ারি দু হাজার ছাব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ঝরে পড়া কুয়াশা

ঝরে পড়া কুয়াশার মাঝে, টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ে অবিরাম।  কালো মেঘের আড়ালে, মুখ লুকিয়ে শীতার্ত রবি,একটু উষ্ণতা খোঁজে। শুধুই একটু উষ্ণতা। বুকের মাঝে মুখ লুকিয়ে, মুখ ঘষে যে চাঁদ পানা শিশুটা। সেও তো নরম বুকের ওম নিয়ে, উষ্ণতাই খোঁজে একটু।  আর ওই যে একফালি রোদ্দুর, ঝলমলে হাসি নিয়ে, যে প্রচেতার হাত ধরে, ভালোবাসি বলেছিল। সেও তো উষ্ণতায়, সিক্ত হতে চায়  বার বার।  আর উষ্ণতারই খোঁজে আলগোছে,  টুপ করে খসে পরে লাল পলাশ,  শুকনো ঘাসের ওপর। সাদা প্রজাপতির রেনু মাখা চুম্বনে, লজ্জায় রাঙা হয় সে। শীতের শেষে উষ্ণতার খোঁজে। লাল পলাশের স্পর্শে, ঘুম ভাঙ্গে বসন্তের। অভিজিৎ বসু। 03.02.2024

কৌশিকী অমাবস্যার রাত

আজ কৌশিকী অমাবস্যা। বিশ্বাস অনুযায়ী এই তিথিতে বিশেষ পুজোয় অংশ গ্রহণ করে দ্বারকা নদীতে স্নান করলে নাকি জীবনের সব পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।আর এদিন সঠিক ভাবে যদি তন্ত্র ক্রিয়া করা যায় তাহলে জীবনের সব বাধা বিপত্তি কেটে যায় খুব সহজেই।  কথিত আছে এই দিনেই তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যা দিনে সাধক বাম্যাক্ষ্যাপা সিদ্ধিলাভ করেন। যে জন্য এইদিনে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভীড় উপচে পড়ে মা তারার মন্দিরে। ভক্তরা এই বিশেষ দিনে মাকে পূজো দিয়ে তাঁদের মনোস্কামনা পূরণ করতে চান। কথিত আছে সাধক বামাক্ষ্যাপা বারোশ চুয়াত্তর বঙ্গাব্দে তারাপীঠ মহাশ্মশানে শ্বেতশিমুল বৃক্ষের তলায় তিনি সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। ধ্যানমগ্ন বামাক্ষ্যাপা এদিন মা তারার দর্শন পান বলেও শোনা যায়।  এইদিনে, এই তিথিতে কৌশিকী রূপে মা তারা বিশেষ সন্ধিক্ষণে শুম্ভ আর নিশুম্ভ নামের অসুরদের দমন করেন। সেই নামে এই কৌশিকী অমাবস্যা নামটি এসেছে। এই অমাবস্যা অন্য যে কোনো দিনের থেকে একটু আলাদা। কারণ এই দিনটি বিশেষ একটি দিন আর বিশেষ একটি তিথি। শোনা যায় এইদিনেই নাকি খুলে যায় স্বর্গ আর নরকের দ্বার একসাথে। সাধক এই দিনে ...

জয় মা মঙ্গলচন্ডী

মা মঙ্গলচণ্ডী, যাঁহার নাম মধুর ও মনোহর, যাঁহার হস্তে বর ও অভয় মুদ্রা, যিনি দ্বিভুজা ও গৌরবর্ণা, যিনি রক্তপদ্মাসনে উপবিষ্টা ও মুকুট দ্বারা উজ্জ্বলরূপে ভূষিতা, যিনি রক্তবর্ণ কৌষেয় (চেলির) বস্ত্র পরিধান করিয়া আছেন, যিনি সহাস্যবদনা, সুন্দরাননা ও নবযৌবনা, যিনি সুন্দরাঙ্গী ও মধুর লাবণ্যযুক্তা, তিনিই হলেন দেবী মঙ্গলচণ্ডী। বিশ্বের মূল স্বরূপা প্রকৃতিদেবীর মুখ হ’তে মঙ্গলচণ্ডী দেবী উৎপন্না হয়েছেন। তিনি সৃষ্টিকার্য্যে মঙ্গলরূপা এবং সংহারকার্য্যে কোপরূপিণী, এইজন্য পণ্ডিতগণ তাঁকে মঙ্গলচণ্ডী বলিয়া অভিহিত করেন।” “দক্ষ অর্থে চণ্ডী এবং কল্যাণ অর্থে মঙ্গল। মঙ্গলকর বস্তুর মধ্যে দক্ষ বলে তিনি মঙ্গলচণ্ডী নামে প্রসিদ্ধ। প্রতি মঙ্গলবারে তাঁহার পূজা বিধেয়। মনু বংশীয় মঙ্গল রাজা নিরন্তর তাঁহার পূজা করিতেন।” জৈষ্ঠ্যমাসের প্রতি মঙ্গলবারে মা চণ্ডীর আরাধনা করা হয় বলে এই ব্রতের নাম মঙ্গলচণ্ডী ব্রত। জীবনে শ্রেষ্ঠ মাঙ্গল্যের প্রতিষ্ঠার জন্যই এ ব্রতের অনুষ্ঠান। মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের নানা রূপ আছে। কুমারীরা যে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের আচরণ করে, তা অতি সহজ ও সংক্ষিপ্ত। দেবী অপ্রাকৃত মহিমার প্রশস্তিগীতি ব্রতের ছড়ায় এস...

সজল গ্রাম হলো মহুলী

গ্রামের নাম মহুলী। বোলপুর থেকে মেরে কেটে পাঁচ কিলোমিটার হবে। সিয়ান গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এই গ্রাম। এমন মিস্টি নামের গ্রাম শুনে ইচ্ছা হলো কিছু লেখার। কিন্তু কি লিখবো। গ্রামের কথা আর নতুন করে লেখার কি আছে। এই সুজলা সুফল শস্য শ্যামলা গ্রাম তো সব এক রকমের। তাহলে মহুলী গ্রাম যা আবার বের গ্রামও তাই। আবার ইকড়াও একই ধরনের গ্রাম।   সেই সবুজ মাঠ। সুন্দর মন ভালো করা ক্ষেত। আলু বোনা হয়েছে মাঠে। সর্ষে ক্ষেতের হাসি মাখা মুখ। কেমন পুকুরের কালো টলটলে জল। সবই তো এক রকম ফারাক আর কোথায়। আর এই মহুলী গ্রামে মাত্র একশো ঘরের আদিবাসীর বাস। তারা সবাই চারটে পাড়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে এদিক ওদিক জড়াজড়ি করে বাস করছে মংলা, টুসুরাণী, রতন হাঁসদা, কালু সোরেন থেকে শুরু করে আরও অনেকেই। তাহলে নতুনত্ব তো কিছুই নেই। এই সব দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের জীবনে কোনও নতুনত্ব আর কোনো বিশেষত্ব নেই। গ্রামের মিঠে বাতাস গায়ে মেখে, শীতের উত্তুরে হাওয়ায় কাঁপন অনুভব করেই দিন কাটে এদের।  কিন্তু আজ যেন দুপুর থেকেই কেমন সাজ সাজ রব মহুলী গ্রামের বাসিন্দাদের। গ্রামের মাঠের ধারে যেতে...

ইটিভির পিনাকপাণি ঘোষ

কিছু মানুষ কত কাছে থেকেও পাশাপাশি এক জায়গায় বাস করেও একসাথে একসময় কাজ করেও যে কত দূরে রয়ে যান নিজের হাসিমুখ নিয়ে আর সেই চেনা ছন্দ নিয়ে সত্যিই বেশ ভালো মজার ব্যাপার কিন্তু এটা জীবনের মেঠো পথে। সেই ইটিভির বিখ্যাত সাংবাদিক হয়ে ঘুরে ঘুরে স্ট্রীট ফুডের ছবি তোলা আর নানা খবর করে খাওয়া দাওয়ার এপিসোড করে একসময়ে বিখ্যাত সাংবাদিক হয়ে যাওয়া ইটিভি নিউজে। আর আমাদের জেলায় বসে সেইসব হাঁ করে দেখা আর কেমন মনের ভেতর অস্থিরতা তৈরি হওয়া। একেই বলে কলকাতার রাজপথের সাংবাদিক বলে কথা।  সেই যে বার রাষ্ট্রপতি এলেন জয়কৃষ্ণ লাইব্রেরী প্রাঙ্গণে সেই অনুষ্ঠানের বিশেষ কার্ড জোগাড় করে দেওয়ার অনুরোধ করা ইটিভির চাকরি করার সুবাদে। কোনো রকমে সেই কার্ড জোগাড় করে এনে দেওয়া তাঁকে আর তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য। আর সেই একদিন দুপুর বেলায় খুব সম্ভবত করোনা শেষ পর্বে বালিঘাট স্টেশন থেকে অফিস যাওয়ার সময় এসি পঞ্চাশ এর বাস এর ভিতরে দেখা হওয়ায় কত গল্প করা দুজন মিলে পুরনো দিনের। আবার উত্তরপাড়ার সেই বিখ্যাত চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে গিয়ে হাসি মুখে দেখা হয়ে যাওয়া রাতের বেলায় কাঁঠালবা...