গরীব মানুষের হয়ে লড়াই করা, মেহনতী মানুষের জন্য লড়াই করা, শ্রমিক, কৃষক খেটে খাওয়া মানুষের জন্য লড়াই করা ছিলো এক সময় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের আসল সহজপাঠ। আজ দলবদল করে ফুল বদল করে তাঁর আসল লড়াই এর শত্রু এখন দেশের বিজেপি সরকার। আর তাই নিজের নীতি, আদর্শ, শিরদাঁড়া সোজা রেখে চলা সব কিছুকে ওই কলার খোসার সামনে পা দিয়ে পা পিছলে হড়কে পড়ে গিয়ে একদম সোজা মা মাটি আর মানুষের ঘরে চলে গেলেন তিনি। সেই রক্ত গরম করা বক্তৃতা। সেই ঘাম এর গন্ধ, সেই ঘরে পান্তা খেয়ে মাঠের মানুষের কাছে কাস্তে তারা হাতুড়ি নিয়ে লড়াই করা। যে লড়াই তাঁর জন্মগত অধিকার। যে লড়াই করেই তাঁর বেঁচে থাকা আর বেড়ে ওঠা। যার জন্য তাঁর লাল পার্টির দলে এত কদর ছিল এতদিন।
আসলে রাজনীতির এই বৃত্তে এখন দেওয়া আর নেওয়া। দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে মহামানবের সাগর তীরে এই স্লোগান মুখ্য হয়ে উঠেছে যে। তাই আজ সেই চোয়াল শক্ত করে তৃণমুল এর বিরূদ্ধে লড়াই করা এক যুবকের এই ২০২৬ এ ভোল বদল দেখে আমার কেমন যেন ভয় হয়। তাহলে সত্যিই কী দিনকাল খারাপ খুব। আদর্শ, নীতি, তার সহজ পাঠ এর ধারাপাত বদলে গেলো কী। কে জানে আজকাল আমি খুব ভয় পাই যে এই সব দেখে। রাজনীতিতে শুধু নয় সমাজের সর্বস্তরে তো এই ভাঙন অব্যাহত। যে শ্রোতের বিপরীতে হাঁটতে হাঁটতে একদম একাই হয়ে যাচ্ছি ক্রমেই ধীরে ধীরে আমার আশেপাশে কেউ নেই যে আজ। তবুও যে লাল পার্টির দল এর সমর্থক না হয়েও, কোনো পার্টির লোক আমি নই এঁদের তবু একটু কেমন অন্য ধরনের মনে হত। আজ সেই গোটা ভাবনা ভেঙে পড়লো এই লাল ঝান্ডা ছেড়ে প্রতিকুর এর হাতে তৃণমুলের ঝান্ডা দেখে। এটাই বোধহয় এখনকার দিন এর সাথে সেই ১৯৭৭ এর পার্টির কমরেডদের সাথে একটু ফারাক রয়ে গেছে। এই প্রজন্মের বাম আর অন্য প্রজন্মের বামদের মধ্যে।
আর তাই জ্যোতি বসু, বুদ্ধ বাবু, প্রমোদ দাশগুপ্ত, অনিল বিশ্বাস,অনিল বসু, বিমান বাবু, সুভাষ চক্রবর্তী এমন সব বিরাট বিদগ্ধ নেতাদের হাতে তৈরী দলের এই প্রজন্মের সেই তরুণ তুর্কী নেতা অনায়াসে দল বদল করে বলতে পারে এই লড়াই বিজেপির বিরূদ্ধে লড়াই। এই লড়াই তাঁর নিজের বিরুদ্ধে নিজের লড়াই নয়। যে লড়াই এর মাটিতে দাঁড়িয়ে সে ভোটের লড়াই করলো যাঁর বিরূদ্ধে তাঁর কাছেই ঝান্ডা ধরে আত্মসমর্পণ করলেন তিনি। আসলে ইতিহাস এটাই বলবে এই জয় তৃণমূলের ব্রিগেড এর অভিষেক বন্দোপাধ্যায় এর বিরাট রাজনৈতিক জয়। কিন্তু প্রতিকুর রহমান যাঁকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন দেখতো গ্রামের কৃষক, ক্ষেত মজুর, শ্রমিক যাঁরা ভাবতো এই লোকটা শাসকের বিরূদ্ধে লড়াই করে একদিন ছিনিয়ে আনবে তাঁদের অধিকার। তাঁদের কাছে আপনি কী জবাব দেবেন আপনি প্রতিকূর বাবু। বলতে পারবেন তো এটা আমার একান্ত নিজের ব্যক্তিগত অধিকার। জানিনা আমি তিনি কী বলবেন শুধু এইসব কথাই মনে হয় আমার আজ। নিজের স্বার্থে নিজেকে বদলে নিয়ে নিজের মতো করে বেঁচে থাকা। নাকি অন্যের সেই দরিদ্র শ্রমিক, কৃষক, ক্ষেতমজুর এঁদের স্বার্থ দেখে নিজের দলে সেই 'কর্পোরেট গুণ্ডা দাদার ' বিরূদ্ধে লড়াই করে সেই দলেই টিকে থাকা নিজের নীতি আদর্শকে আঁকড়ে ধরে। কে জানে হয়তো আমিই ভুল, প্রতিকূর ঠিক।
কে ভূল আর কে ঠিক - অভিজিৎ বসু।
একুশ ফেব্রুয়ারি, দু হাজার ছাব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন