সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মুকুলদা ভালো থাকবেন

ভোররাতে মোবাইল এর মাধ্যমে জানতে পারলাম তিনি আর নেই। সেই বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য সেই মুকুল রায় দীর্ঘ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর তিনি মারা গেলেন। সেই খবর পেলাম এই ভোরবেলায় মোবাইল ঘাঁটতে ঘাঁটতেই। বাংলায় এর মধ্যে সেই তাঁর চলে যাবার খবর দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। একটা ইতিহাস এর শেষ হলো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের আন্দোলন। মমতা আর মুকুল রায় এর জুটি। তারপর সেটা ভেঙে যাওয়া। আর এই বাংলায় সেই একজন এর ক্ষমতার উচ্চ শিখরে পৌঁছে যাওয়া শুধুই নিজের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করে। 


জেলার প্রতিটা কোণে তাঁর নিজের লোক তৈরি করে সিপিএমের সাথে টক্কর দেওয়ার সেই কারিগর আজ আর নেই। সেই রেলমন্ত্রী মুকুল রায়। সেই মুখে হাসি লেগে আছে তাঁর। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী। সেই ভীড় উপচে পড়ছে তাঁর গাড়ীর সামনে। আর শেষের কটি দিন খুব কষ্টে কাটলো তাঁর। ২০২৬ এর নির্বাচনের আগেই তাঁর চলে যাওয়া। তৃণমুল না বিজেপি বিধানসভায় যখন এই নিয়ে দড়ি টানাটানি হচ্ছে। তখন তাঁর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পড়ে থাকা বেঘোরে। 

আজ কত স্মৃতি, কত ছবি, কত ঘটনা মনে পড়ে যায় সেই সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়ের কথা যা আমার সাংবাদিকতার অন্য একটা ভালো সময়। বাংলার রাজনীতিতে মুকুল রায় একটি নাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই গোটা রাজনৈতিক জীবনে যিনি ছায়ার মত ছিলেন অনেকটা অংশ জুড়ে। আজ সেই ছায়া, কায়া, সব মায়া কাটিয়ে সব কিছুই শেষ হলো। বাংলার রাজনীতিতে একটা অধ্যায় এর শেষ। আমার দু বছর আগের লেখাই তুলে দিলাম আমার পেজে। 

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক হারিয়ে যাওয়া নেতার কথা। ভোটের বাজারে সেই নেতার কদর ছিল অনেক। যার জন্যে আজকের শাসক দলের এত রমরমা অবস্থা। এর জন্য কিছুটা হলেও তাঁর অবদান আছে বলা যায়। কিন্তু ভোটের এত হৈ হুল্লোড়-এর মাঝে একা একা কেমন আছেন সেই বাংলা রাজনীতির অন্যতম কারিগর মুকুল রায়। 

এই বাংলার রাজনীতির চানক্য কে আমার বেশ ভালই লাগত। সাংবাদিকতার সুবাদে এই মানুষটার কাছে যাবার সুযোগ হয়েছিলো আমারও। কি ক্ষমতা, কি দাপট নিয়ে রাজ্যের প্রতি গ্রাম, শহরে, পাড়ায়, মহল্লায় তাঁর নিজের লোক তৈরি করেছিলেন নিজের দক্ষতায় আর ক্ষুরধার বুদ্ধিতে। বর্তমান শাসক দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড বলে কথা।

 ক্ষমতার শীর্ষে বসে তিনি এই ভোটের বাজারে জম জমাট হয়ে থাকতো তাঁর ঘর, বাড়ী, অফিস সব ভীড়ে ভীড় থিক থিক করতো লোকজন। তাঁর আশপাশে ভেনো মাছির মত লোকের ভিড় উপচে পড়তো। তাঁর কাছে যাবার উপায় ছিল না। আজ সেই সেকেন্ড ইন কম্যান্ড কোথায় হারিয়ে গেছেন কে জানে। নিজের ঘরে অসুস্থ্ হয়ে বসে আছেন তিনি দীর্ঘদিন। হয়তো সব খবর পেয়েও চুপ করে বসে আছেন তিনি জানলার দিকে তাকিয়ে। কিছুই করার নেই তাঁর আজ। 

আমার আজও মনে আছে সিঙ্গুরে ক্যাম্প করে জাতীয় সড়কের উপর দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ওপর রাস্তা আটকে আন্দোলন চলছে। সিঙ্গুর জমি বাঁচানোর আন্দোলন।রাস্তা আটকে ক্যাম্প করে পাহাড়া দেবার সময় সবার প্রথম যে ক্যাম্প হয়েছিল সেটার পাহাড়ায় থাকতেন এই মুকুল রায়। 

সারাদিন খবর করে রাতের বেলায় ঘরে ফেরার সময় রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে জিজ্ঞাসা করতেন কি রে খেয়ে যা তোরা সারাদিন কিছু খাওয়া হয়নি তো তোদের কারুর। রাস্তায় তখন খিচুড়ি খাওয়া শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যো পাধ্যায় নিজের হাতে খাবার পরিবেশন করছেন সবাইকে। সারাদিন আন্দোলন কর্মসূচি সেরে একটু খাবার ব্যবস্থা করা আর কি।

আসলে মুকুল রায় একদম মাটির গন্ধ মাখা একজন মানুষ। যিনি হাতের মুঠোয় সব কিছুকে বেঁধে রাখতে পারতেন নিজের কারিশমায। নাম ধরে ধরে ছোটো, বড়ো, মেজো, সেজো সব নেতাকে চিনতেন তিনি। জানতেন কোন এলাকায় কাকে দিয়ে কোন কাজটা হবে। আর কাকে দিয়ে হবে না কাজ। সেই সাদা পাঞ্জাবি পরা চানক্য এই ভোটের বাজারে আর নেই। একদম উধাও হয়ে গেছেন তিনি। বলা যায় বেপাত্তা হয়ে গেছেন তিনি।

 সে শরীর, মন যাই হোক এই ভাবে বসে যাওয়া কি কষ্টের বলুন তো। আশপাশে হুটারের আওয়াজ নেই। পুলিশের স্যালুট নেই। তাঁকে ঘিরে কোনো ভীড় উপচে পড়ছে না আর। তিনি একা একা বসে আছেন ঘরের চার দেয়ালের ভেতর। সত্যিই তো জীবনের এই সব শেষ হয়ে যাওয়া, শিকড় উপড়ে নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা এটা যেনো কেমনতর। বেশ যন্ত্রণার, কষ্টের।

জেলায় যতবার এসেছেন তিনি রাজনৈতিক দলের খুনের ঘটনায় আমায় ফোনে বলতেন কোথায় আছিস রে তুই। চলে আয় আমি খানাকুল যাবো। দলের মধ্য একটা অসম প্রতিযোগিতা হতো এই সব খুন হওয়া সমর্থকদের বাড়ী গিয়ে কে আগে পাশে দাঁড়াবেন তা নিয়ে। আর সেই প্রতিযোগিতায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় আর মুকুল রায় দুজনেই দৌড়ে সামিল হতেন কে আগে যাবেন তার প্রতিযোগিতা ছিল দেখার মত। আমরা সাংবাদিকরা সেটা নিয়ে কম মজা করিনি।

কিন্তু মুকুল রায় এর এই অভিজ্ঞতা, দলের ওপর নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার, সব মিলিয়ে তিনি দলের সব কিছু কন্ট্রোল করতেন নিজের রিমোট কন্ট্রোলে। সে টিকিট বিলি করা হোক। দলের নির্বাচনে কোন স্ট্র্যাটেজি কাজে লাগানো হবে সেটা নিয়ে তার কথাই ছিল শেষ কথা। এই ভাবেই তিনি নিজের হাতে সব কিছু সামলে গেছেন। 

আর আজ এই হৈ চৈ হুল্লোড়ের মাঝে একদম একা একা ঘরে বসে আছেন সেই রাজনীতির কিং মেকার মুকুল রায়। এটাই জীবনের আসল প্রাপ্তি। যে এক সময় হটাৎ করে ক্ষমতার মসনদে বসে ছড়ি ঘোরাচ্ছে সেই আজ কেমন একঘরে হয়ে অন্ধকারে তলিয়ে গেছেন একা একা চুপি চুপি। বাম রাজনীতির চাণক্য যদি হন অনিল বিশ্বাস। তাহলে বিরোধী রাজনীতির চাণক্য অবশ্যই মুকুল রায়।

জীবনের সাধারণ আম জনতার এই অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু উচ্চ শিখরে আরোহণ করা রাজনীতির ময়দানের এই সব কুশীলবদের সেটা আছে। জীবন তো এমনই। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে মুকুল রায় এর বিজেপিতে চলে যাওয়া। তার পর আবার তৃণমূলে ফিরে আসা। এটাও বোধহয় ভালো চোখে নেয়নি সাধারণ মানুষ। 

 বিজেপিও এই নেতাকে দলে পেয়েও কাজে লাগাতে পারে নি বা হয়তো চায় নি তারা এই চানক্য কে কাজে লাগাতে। যদি এই নেতা নিজের দক্ষতায় দিল্লির দরবারে হাজির হয়ে যায় নিজের ক্ষমতার জোরে। তাই তাঁকে আটকাতে নানা ছক কষা শুরু হয় যায় প্রথম থেকেই। কিছুটা হলেও পরে বোধ হয় এটা নিয়ে কিছুটা আফসোস তাঁর ছিল। পুরোনো দলে তৃণমূলে ফিরে এলেও আগের সেই জায়গা বিশ্বাস যোগ্যতা আর পাননি তিনি কোনো দিন।


 সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতির চাণক্য আজ একদম একা হয়েই বেঁচে আছেন। যেখানে ভোটের বাদ্যি নেই। যেখানে হাজার মানুষের ভিড় নেই। হুটারের আওয়াজ নেই। সবুজ-গেরুয়া আবিরের কোনো হাতছানি নেই। শুধু দিন যাপন আছে। দিন রাত্রি আছে। আর একা একা ঘরে বসে পুরোনো দিনের স্মৃতি জড়িয়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা আছে। ভালো থাকবেন মুকুলদা আপনি। একা একাই ভালো থাকবেন আপনি, সব সময়। বিদায় মুকুল দা। বিদায়। 

মুকুলদা ভালো থাকবেন - অভিজিৎ বসু।
এগারই এপ্রিল, দু হাজার চব্বিশ।
২৩ ফেব্রুয়ারী দু হাজার ছাব্বিশ। 
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমাদের সবার ক্যান্টিন বৌদি

আজ সেই পোদ্দার কোর্টের ক্যান্টিন বৌদির কথা। যাঁর রান্না খেতে ভীড় জমে যেত পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। সেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। যাঁর হাতের রান্না গরম ভাত, ডাল আর গোল গোল কড়কড়ে আলু ভাজা খেয়ে আমি অফিসে কাজ করতে শুরু করতাম নিশ্চিন্তে। সেই সকালে টিফিন আর চা থেকে শুরু করে দুপুরে নানা ভালো ভালো পদের আয়োজন করতেন তিনি। সেই বর্ষার সময় ইলিশ মাছের রকমারি পদ করে খেতে দেওয়া আমাদের ক্যান্টিন বৌদির। যদিও আমি নিরামিষ আহার করি সব সময় সারা জীবন।  আর বিকেল হলেই গরম লুচি আর আলুর দম বা আলুর তরকারি সহযোগে টিফিন খেতে দেওয়া এক প্লেট করে। সেই এডিটর থেকে অফিসের সাধারণ কর্মী সবাই ক্যান্টিন বৌদির এই রান্না খেয়ে সাধু সাধু করতে ভুলতেন না কিন্তু কেউই। কোথা থেকে এলেন কার হাত ধরে এলেন কে জানে। কিন্তু মিডিয়ার অফিসে এমন রান্নাবান্না চলছে। টেবিলে টেবিলে গরম খাবার পৌঁছে যাচ্ছে। বেশ ভালই লাগত কিন্তু আমার সেই সময়ে। বিরাটিতে বাড়ী বা ভাড়া থাকতেন সেই সময় তিনি। সেই প্রাচীন আমলে বলাই ঠিক বোধহয় পুষ্পদির হাতের রান্না খেয়ে আর টানা নয় ঘন্টা ডিউটি করেই তো আমাদের দিন কোথা থেকে যে কেটে যেতো এই পোদ...

যা দেখি…প্রতিদিন মনে পড়ে কত… স্মৃতির পথ ধরে হাঁটি… লিখি…

দাঁড়িয়ে পড়া ট্রেন

লাল সিগন্যালে দাঁড়িয়ে গেছে ট্রেন। স্টেশনের পাশে ফাঁকা আদিগন্ত সবুজ মাঠ। সোনাঝুরি গাছের পাতায় তির তিরে লাজুক কাঁপন। হালকা মিঠে হাওয়ার ঝাপটা আমার গায়ে লাগছে ট্রেনের জানলা দিয়ে। পশ্চিমে তখন ঢলে পড়েছে গনগনে লাল সূর্য। একটু আগেই নদী পেরিয়ে তরতর করে যে ট্রেন হুইশেল দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল দুদ্দার করে নিজের লক্ষ্যে, সেই ট্রেন এখন স্থবির। এদিক ওদিক সবাই কেমন চুপ করে বসে বা দাঁড়িয়ে প্রতীক্ষা করছে সবাই, কখন ছাড়বে ট্রেন।  আর তার মাঝে ট্রেনের কামরায় বাউল এর ভাব তত্ত্বের গান, মানুষ মরলে বিচার হবে কার। বড়ো সত্যিই কথা বলল যে ওই বাউল। দূরে আদিগন্ত সবুজ মাঠের শেষ প্রান্তে কেমন কালো মেঘের চূড়োয় সূর্যের সোনা রংয়ের আভা ছড়িয়ে পড়ছে চুপি চুপি। ঠিক যেনো ভালবাসার অনুরাগে রঞ্জিত প্রথম প্রেমের ছটা লেগেছে মেঘের চূড়োয় এদিক থেকে ওদিক। ঘরে ফেরা আনমনা পাখির ডানায় সেই লজ্জার লাল আভার মাখামাখি। অনেকক্ষণ হলো আমার যে ট্রেন যেখানে যাবার কথা ছিল সে আর যাচ্ছে না কিছুতেই। ট্রেন থেকে নেমে পড়লাম আমি। স্টেশনের বোর্ডে লেখা নোয়াদার ঢাল। দূরে তাকিয়ে দেখলাম লাল সিগন্যাল জ্বল জ্বল কর...

হারিয়ে যাওয়া চিঠি

আজ আমার সাদা জীবনের কালো কথায় শুধু চিঠি আর চিঠি। হ্যাঁ, সেই সাদা কালো অক্ষরে লেখা নানা ধরনের চিঠির কথা। খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে একদম হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই বয়সেও তিনি বেশ বুকে সাহস নিয়ে আর সহজ সরল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে খোলা চিঠি প্রেরন করেছেন। সত্যিই এই কাজকে অসাধারণ বলতে কিন্তু লজ্জা নেই কোনও।রাজনীতির ময়দানে এই মানুষটাকে যত দেখি ততো যেনো মুগ্ধ হয়ে যাই।  এমন একটা সময়ে তিলোত্তমা খুনে দোষীদের শাস্তি চেয়ে ও জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর কাছে বামফ্রন্টের এই খোলা চিঠি। জানা নেই এই ফ্রন্ট এখনও কতটা সক্রিয় হয়ে ফ্রন্টফুটে ব্যাট করতে সক্ষম এই কঠিন পিচে। তবুও সেই বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু রাহুল দ্রাবিড় বা সুনীল গাভাস্কার এর মত বাউন্সার বল সামলে পত্রবোমা ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দিকে। তিনি জানেন না এর ফল পাল্টা অভিঘাত কি হবে।  আসলে এই খোলা মাঠে খোলা চিঠি ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন করা আর অনশন করা চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ত...

শরৎচন্দ্রের জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য

আমি সমস্তই দেখিলাম, সমস্ত বুঝিলাম। যে গোপনেই আসিয়াছিল তাকে গোপনেই যাইতে দিলাম। কিন্তু এই নির্জন নিশীথে সে যে তাহার কতখানি আমার কাছে ফেলিয়া রাখিয়া গেল তাহা কিছুই জানিতে পারিল না।  শ্রীকান্ত উপন্যাসের সেই বিখ্যাত লাইন। সেই রাজলক্ষী আর শ্রীকান্তের গভীর গোপন ভালোবাসার মন দেওয়া নেওয়ার কথা। যা আমাদের কাছে বাংলা কথা সাহিত্যে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে চিরকাল।  হ্যাঁ আজ সেই কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর জন্মদিন। যাঁকে বাংলা সাহিত্যের অপরাজেয় কথাশিল্পী বলা হয়। হুগলী জেলার সেই ছোটো গ্রাম দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি আঠারশো ছিয়াত্তর সালে। এক অতি গরীব পরিবারে তাঁর জন্ম হয়। অর্থের অভাবে যাঁর স্কুলের পড়া করা হয়নি একদিন। পরে যদিও তাঁর মামা পাঁচকড়ি বন্দোপাধ্যায় তাঁকে স্কুলে ভর্তি করে দেন ও তাঁকে পড়ার সুযোগ করে দেন। স্কুল তো পাশ করা হলো কোনোভাবে কিন্তু কলেজের গণ্ডী পার হবেন কি করে।  কিন্তু সেই সময় মনীন্দ্রনাথের মা কুসুমকামিনী দেবী নিজের দুই ছেলেকে টিউশন পড়াতে হবে এই বলে তাঁর কলেজের পড়ার প্রতি মাসের বেতন দেবার ব্যবস্থা করে দিলেন। ক...