সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বসন্তে বন্দী দোল

চারিদিক জুড়ে শুধুই লাল, সবুজ, নীল, এর গা ঘষাঘষি করে জড়িয়ে থাকা আর জুড়ে থাকা আর লেপ্টে থাকার এক উৎসব চলছে জোর কদমে।
কাঁচের জানলায় ঠক ঠক করে রোজ ভোরে আসা সেই বুলবুলি পাখিটা।
আনমনে উচাটন হয়ে কাকে খোঁজে ও কে জানে এই বসন্তের হিমেল ভোরে একা একাই চলে আসে সে প্রতিদিন।
সেই বুলবুলিতে ধান খেয়ে যায় গান শুনে ঘুমিয়ে পড়ে শিশু মায়ের কোলে নিশ্চিন্তে, নিরাপদে। 
সেই বুলবুলির ধান খাওয়ার দিন শেষ হয়েছে কবেই।
ফেসবুকের দুনিয়ায় আজ শুধুই চিত্রায়িত রঙের হুল্লোড় আর রংবাজির ছবি ধরা পড়ে চারিদিক জুড়ে। শুধুই দেখনদাড়ির মিষ্টি অন্তরঙ্গ বহিঃপ্রকাশ। 
সেই পলাশের পদাবলী মাখা গান, সেই ঘেঁটু ফুলের গন্ধ, বাঁশ পাতার সরসর আওয়াজ,সেই চাঁদের আলোর মিস্টি নরম রূপ আর চেনা মেয়ের অচেনা রঙিন রূপ দেখে মনটা বড্ড ভালো লাগে যে এই বসন্তের দুপুরেও।
আজ যে রঙিন হবারই দিন। আজ যে রাঙিয়ে নেবার দিন। 
আর তারপরেই তো শুরু হবে যুদ্ধ, একদিকে সেই বিদেশে আকাশপথে চলেছে যুদ্ধ আর একদিকে সেই আবার ক্ষমতায় ফেরার যুদ্ধ দেশের মাটিতে।
দুই যুদ্ধের গা ঘষাঘষি চলে জোর কদমে এই রঙের দিনেও। 
একদিকে পরিবর্তনের ডাক অন্য দিকে এগিয়ে বাংলার ডাক দেওয়ার বার্তা দেওয়া জোর গলায় দু হাত তুলে দুই পক্ষেরই। 
আর তার মাঝেই সাংবাদিক এর দালাল হয়ে যাওয়া নিয়ে কত যে হৈ চৈ হুল্লোড় পড়ে যায়।
সব মিলিয়ে এই দোল, হোলি, এই লাল, সবুজ আর নীলের মিশে যাওয়া যে কয়েকটি ঘণ্টার জন্যই একটি দিনের জন্যেই।‌
তারপর আবার যে কে সেই রং হীন দৌড়ের জীবন। 
যে জীবনে শুধুই দৌড়, দৌড় আর দৌড়ের জীবন।
ক্ষমতায় ফেরার জন্য দৌড়, যুদ্ধে জেতার জন্য দৌড়, বুম ছেড়ে রাজনীতিতে আসার জন্য দৌড়।
আমার যে দৌড়হীন, রং হীন, ভাতাহীন, আনন্দহীন একটা ম্যাদা মারা জীবন। 
পলাশ আর ঘেঁটু যে কবেই উধাও হয়েছে এই জীবন থেকে কে জানে। 
বাঁশের বনে যাওয়া হয় নি বহু দিন ধরে।
খোয়াই এর জনশুন্য হাটে বয়ে যায় সেই বসন্তের কোকিলের বিলাপ।
আজ যে রঙিন হবার দিনেও বড্ড মন খারাপ এই কবির দেশ শান্তির নিকেতনের।
দোল যে কিছুতেই আর রাঙিয়ে দিলো না এই রাঙা মাটির দেশকে। 
সব যে এখন ঘেরাটোপে বন্দী হয়ে গেছে কবেই।
রংহীন এই শান্তিনিকেতনের জীবন।

বসন্তে বন্দী দোল - অভিজিৎ বসু।
চার মার্চ দু হাজার ছাব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শুভ জন্মদিন মহুয়া সাঁতরা

আজ সকালে দেখলাম অনেকেই তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। আমিও তাই কিছুটা বুকে বল নিয়ে লিখতে বসলাম তাঁকে নিয়ে। সেই নন্দীগ্রামের অন্ধকার রাস্তায় রাতের কলকাতা টিভির বুলেটিনে লাইভ দিচ্ছেন তিনি একা দাঁড়িয়ে। রাত নটা বা দশটার সময় হয়তো সেই বুলেটিন হচ্ছে। হুগলী জেলার রিপোর্টার হিসেবে সেই সব দেখতাম আর মনে মনে ভাবতাম সত্যিই এলেম আছে বটে তাঁর। বেশ দাপুটে কাজ করা একজন সাংবাদিক। যিনি সেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যে ঢুকে পড়ে একের পর এক ছবি করছেন, খবর করছেন, হাসি মুখে লাইভ দিচ্ছেন, আবার স্টুডিওতে বসে শো করছেন। বিভিন্ন চ্যানেলে কর্মরত রিপোর্টার হিসেবে। ঠিক যেনো বাংলার বরখা দত্ত স্টাইলে।  আমি কোনোও দিন তাঁর সাথে কাজ করিনি কোনো চ্যানেলে। কোনোদিন সুযোগ হয়নি আলাপ করার সৌভাগ্য হয়নি আমার কথা বলারও। শুধু দুর থেকে একজন টিভি মিডিয়ার জেলার কর্মী হিসেবে দেখে মনে হতো সত্যিই অসাধারণ এই মিডিয়ার জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন তিনি বেশ দাপটের সঙ্গেই। কিন্তু বেশি হৈ চৈ হুল্লোড় করে নয়। আজকালকার মত লোককে দেখিয়ে নয়। বাংলা টিভি মিডিয়ার এই দ্রুত বদলে যাওয়ার যুগে সেই নন্দীগ্রাম আর সিঙ্গুর...

সেই বাড়ীর আমগাছ

কিছু ছবি আর কিছু মুহূর্ত জীবনের সবচেয়ে সাদা জীবনের কালো কথাকে মনে করিয়ে দেয় আমায়। জীবনের মেঠো পথে আঁকিবুঁকি দাগ কেটে যায় সে জলছবির মতই। যে দাগ সেই দূরের আকাশে চাঁদের নরম আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে গ্যালাক্সির পথ পেরিয়ে হাজার হাজার আলোকবর্ষের দূরত্ব পার করে এই ধূলিধুসর পাগলামি করা জীবনে এসে পৌঁছে যায় আচম্বিতে। আজকাল এই বসন্তের একটা অদ্ভুত মায়াময় গন্ধ বয় যেনো চারিদিকে। ওই যে কী একটা গান আছে না, ধীরে ধীরে ধীরে বয়, সে যে উতল হাওয়া। যে উতল হাওয়ায় বনানীতে যে মিস্টি গন্ধ বয় বেশ নাকে লাগে আমার এই বুড়ো বয়সেও বসন্তের উতল হাওয়া। বহুদিনের পর বাড়ী যাওয়া আমার। আসলে এই ফাঁকা মা হীন বাড়ীতে যেতে আর ভালো লাগে না একদমই আমার। আজকাল তাই ঘর ছেড়ে দূরে থাকা আমার। সেই মায়াময় ভালবাসা আর দু চোখের প্রশ্রয়ে বড় হয়ে যাওয়ার স্মৃতির মাটির গন্ধ আজ কেমন পানসে লাগে আমার এতদিন পড়ে ঘরে ঢুকেই। সেই অগোছালো কাঠের চৌকি, সেই ফাঁকা ঘর। সেই শুধুই ছবি আর ছবির ভীড় চারিদিক জুড়েই তাকিয়ে আছে আমার দিকে যেনো কেউ। কার নির্বাক চাওনি আমায় গিলে খেতে চায় যেনো। আর বাড়ি গেলেই আমি এই মায়ের প্...

টিনের নৌকো দর্শন

কদিন আগেই শ্রীরামপুরে ক্ষেত্র শা এর মেলায় গিয়ে ঘুরতে ঘুরতে সেই ছোটবেলার টিনের ভটভটি নৌকা না দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেছিলো আমার বেশ। সেকথা আমি লিখেছি আমার আগের লেখায়। হারিয়ে গেছে সেই ছোটবেলার স্মৃতি এই গলিপথে সেই ছবির কথা লিখে বেশ মন খারাপ হয়েছিলো আমার। কিন্তু আমার লেখা পড়ে সেই উত্তম বাবু, উত্তম সাহা এই ক্ষেত্র মোহন সাহা বাড়ীর একজন প্রতিনিধি মেলার অন্যতম আয়োজক তিনি সেই টিনের নৌকা দেখতে পেয়ে আমায় মোবাইল ফোনে তার ছবি তুলে পাঠিয়ে দেন। বলেন আপনার সেই টিনের নৌকো এসেছে মেলায় পাওয়া যাচ্ছে।  এই কথা শুনে আবার আমার মেলায় যাওয়া। ওনার কথা মত সেই নৌকোকে খুঁজে পাওয়া। মাটির উপর একটি গামলায় জলের উপর ভেসে বেড়াচ্ছে সে আপন মনে। সেই চেনা আওয়াজ আর সেই চেনা স্মৃতির ঝাপটা গায়ে মেখে নিলাম আমি আলতো করে চাঁদনী রাতের সন্ধ্যা বেলায়। ছবি তুলে নিলাম আমি। দাম করলাম কত। দোকানদার বললেন গম্ভীর গলায় পঞ্চাশ টাকা তো বটেই। কম হবে না দাম একদম। শুনে একটু থমকে গেলাম আমি আর আমার শৈশব। আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে কত আর দাম ছিলো এই টিনের ভুটভুটি নৌকোর। পাঁচ টাকা হবে কী নাকি আ...

স্বপ্নের সওদাগর ভালো থাকবেন

আজ আর সাদা জীবনের কালো কথা নয়। সাদা জীবনের এক স্বপ্নের সওদাগরের রঙিন স্বপ্ন দেখার কথা, স্বপ্ন বেচার কথা। যে স্বপ্নের সওদাগর আজ আমাদের সকলকে ছেড়ে চলে গেলেন দূরে অনেক দূরে, স্বপ্নের দেশে, স্বপ্নের রাজ্যে। চির ঘুমে। হ্যাঁ সকাল বেলায় নিয়ম মেনেই ঘুম থেকে উঠে মোবাইলের পর্দায় ভেসে এলো সেই মন খারাপ এর খবর। বুদ্ধবাবু আর নেই। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে আছড়ে পড়ল সেই খবর চারিদিকে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল এই খবর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে। নিজের সেই পরিচিত পাম এভিনিউ এর ছোট্ট ঘর ছেড়ে পাড়ি জমালেন তিনি স্বপ্নের রাজ্যে। যে রাজ্যে হয়তো আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস সঞ্চয় করবেন তিনি। একটু একটু করে সেই সাহসের ডানায় ভর করে আবার এগিয়ে যাবেন সেই পরিচিত মুষ্টিবদ্ধ হাত নিয়ে। মুখের কঠিন বলি রেখায় ফুটে উঠবে সেই চির পরিচিত তাঁর মৃদু হাসি। আসলে আমরা এই মানুষ যে বড়ো স্বপ্ন দেখতে ভালবাসি। সে যেমন স্বপ্নই হোক। ভালোবাসার স্বপ্ন, ভালো রাখার স্বপ্ন, ভালো থাকার স্বপ্ন। দু চোখের তারায় যে আলো ঝিকিমিকি করে আমাদের এই গভীর  অন্ধকার রাতেও। যে স্বপ্নের মায়াজা...