সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভোট আসছে বঙ্গে

বসন্ত এসেছে সাথে ভোট আসছে। শাসক দলের ড্রপবক্স ভরছে প্রার্থী হতে আবেদন করে। পাড়ায় পাড়ায় নেতারা বেরিয়ে পড়েছেন সবাই হাসি হাসি মুখ করে হাতজোড় করে সেজে গুজে তিনি যে ভাতার লাইনে নয় ভোটের লাইনে আছেন সেটা জানাতে। কেউ রাস্তায় বেড়িয়ে পাড়া বৈঠক করে বলছেন মশা কামড়ায় তাদের মানে মশাদের তো এখানে হাতির মত শুড় যেনো, কী অবস্থা ভাবুন পরিষ্কার হয়না একদম নালা আর নর্দমা। কেউ জেল থেকে বেড়িয়ে গম্ভীর মুখে বলছেন ভোটের আগে ভাতা দেওয়াটা ভালো কাজ কিন্তু কর্মসংস্থান এর দরকার আরও বেশী রাজ্যে। যদিও একসময়ে তিনিই শিল্প মন্ত্রী ছিলেন বটে আর কেউ বলছেন আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দিন কিন্তু আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন ঘরে বসে থাকবেন না আপনারা বিজেপির নতুন সভাপতির গলায় এ এক অন্য কবিতার সুর যেনো। 


আর এর মাঝেই বিধায়কের কাজে কতটা খুশী বলে হাতের মোবাইল ফোনে মেসেজ ভেসে ওঠে আশ্বিনের শারদ প্রাতে সেই মাঝরাতে। বিধায়কের হাসি সুন্দর মুখ। হয়তো ছবি এ আই এর তৈরী করা ছিল সেটাও। ঝকঝকে গ্রাফিক্স এর কার্ড। যাঁকে সামনে দেখলে এতটা সুন্দর ঝকঝকে তকতকে দেখায়না একদম। বেশ এই তিনটি মাস ভালো কাটবে কিন্তু আমাদের। বাসে ভোট, ট্রেনে ভোট, ট্রাম তো উঠেই গেছে কবে। পাড়ার আড্ডা নেই তবু সেখানেও ভোট। চায়ের দোকানে ভোট। বাজারে ভোট। সব জায়গায় ভোট। বসন্ত এসেছে, আমের মুকুল এর মিস্টি গন্ধ, সেই পাতাবাহার গাছের বাহারি ফুলের শোভায় সেজে উঠছে বাড়ীর দেওয়াল নানা রঙে নানা প্রতীকে। ভোট ফর শাসক, বিরোধী বা সেই লাল পার্টির দল আর হাত এর দল এর কম উপস্থিতি নিয়েই ভোট আসছে এই বঙ্গে। যে হাত একটা সময়ে দেশের শক্ত হাত ছিলো আজ সে কেমন নড়বড়ে হয়ে গেছে যেনো কবেই। কংগ্রেস মুক্ত ভারতের ডাকে। 

দুর থেকে আসছে সেই মিলিটারী ফোর্স। ভারী ভারী জুতো পরে হাতে অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ানো তাঁদের একমাত্র কাজ গ্রামে আর শহরে। আর সেই সত্তর বা আশি বছর পার করেও নিরন্তর চেষ্টা ভোটে লড়ার নেতা নামক বিশেষ প্রজাতির মানুষের। যাঁদের দেখা হলেই কেমন বিগলিত হয়ে রাস্তায় নুয়ে পড়তে হয় আমাদের এই গোবেচারা মানুষের। বিশেষ করে শাসক দলের জন প্রতিনিধিদের তো এই ভোটের টিকিট পাওয়ার নিরন্তর চেষ্টা চলে সবার। নাম ঘোষণার আগে তাই নানা তদ্বির তদারক করা একটু কালীঘাট না হয় ক্যামাক স্ট্রিট এর অন্দরে। আগে যদিও বা মুকুল এর দরবারে দোয়া পাতা যেতো আজ সেই ব্যক্তিই নেই। খারাপ কী একটু তদ্বির তদারক আর কিছু বেশি দাদা আর দিদি দিয়ে যদি শাসক দলের টিকিট মিলে যায় তাহলে যে কেল্লা ফতে। একেবারেই ডিয়ার লটারী মিলে যাওয়া যেনো। 

আসলে এই পাঁচ বছরে একবার এই গণ্ডি পার হলেই জনগণের কাছে পরীক্ষায় পাশ করলেই যে কেল্লা মাত একেবারেই। সম্মান, সেবা, জনগণের মসীহা হয়ে ওঠা, প্রশাসনের কর্তাদের নয়নের মণি হয়ে ওঠা। সাথে উপরি পাওনা সরকারি বেতন, নানা ভাতা আর কি চাই বলুন তো একটা মানুষের জীবনে। একেবারেই দুধে ভাতে থাকা বা শাঁসে জলে থাকা। পাঁচ বছর জন প্রতিনিধি হতে পারলেই কেল্লা ফতে বছর বছর পেনশন মিলবে। আর তাই সরকার পক্ষের বিধায়ক হতে ড্রপবক্সে উপচে পড়েছে নানা ধরনের বায়োডাটার ভারে। বিজেপির ড্রপবক্স একটু হাল্কা হলেও তৃণমূলের ড্রপবক্সে আর জায়গা নেই যে এটাই স্বাভাবিক ঘটনা। সব কাট্যাগরির লোক জনগণের সেবা করতেই তো এই ভোটের বাজারে চলে আসা হাতজোড় করে। আমি তোমাদেরই লোক বলে। ভোট এলেই আমি তোমাদের লোক। 


সব মিলিয়ে ভোট আসছে। ভাতা আসছে। ফর্ম ভরছে। প্রতিশ্রুতি আসছে। রাজ্যে ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। কর্মসংস্থান কম হচ্ছে। ভাতার আবেদন এর লাইন ঠিক করতে সকাল থেকেই পাড়ায় পাড়ায় ভীড় জমছে। এক পক্ষের কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা দিদির হয়ে গলা ফাটাচ্ছে। অন্যদিকে সব মোদীর হয়ে গান গাইছে। অল্প কিছু ফেসবুকের পর্দায় লাল পার্টির হয়ে কথা বলছেন। আর সেই হাত এর হয়ে খুব বেশী আওয়াজ নেই যে এই ভোটের ভরা বসন্ত মৌসুমেও। এটাই তো স্বাভাবিক ঘটনা এই বঙ্গের ভোট যুদ্ধে। 


পরপর তিনবার ভোটে জিতে অনেকটাই কনফিডেন্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তাঁদের সাথে আছে শুধুই ভান্ডার আর ভান্ডার। তাহলে আর চিন্তা কী। বাংলার বঞ্চনা, কেন্দ্রের এই বঞ্চনা, সব উন্নয়নের টাকা আটকে দেওয়া। মোদীর বিরুদ্ধে একটাই প্রতিবাদের মুখ হয়ে ওঠা দিদির সরকারের।‌ যে সরকার মা মাটি আর মানুষের কথা বলে বারবার। যে সরকার মানুষের পাশে থাকে ৩৬৫ দিন। ভোটের সময় তাঁদের গৃহ সম্পর্ক অভিযান করতে হয় না কিছুতেই। বেশ ভালই লাগে আমার এইসব দেখে। 


একদম ভোট যুদ্ধের দামামা বেজেছে। ডিজিট্যাল যোদ্ধারা সব বাজারে নেমে পড়েছেন কোমর বেঁধে। মোবাইল ফোনে চলে আসছে কার কাজে কত খুশী আপনারা বলুন। আর কেউ সেখানে মন্তব্য করছেন পাগল নাকি আমি এখানে মন্তব্য করে আমি মরি আর কী। তারমানে ডিজিট্যাল যোদ্ধারা ভীড় করলেও শাসকের বিরুদ্ধে কথা বলতে সেই লাল পার্টির আমলে যে ভয় পেতে হত এই আমলেও সেই এক অবস্থা। হয়তো একটু হেরফের হবে। তাহলে কোথায় গনতন্ত্র আসলে সবটাই যে ঠুনকো খেলনা আর বাটী। 

এইসব চোখে পড়ে যায় আমার রাত জেগে। দূরে কোথাও গাছের আড়ালে বসে কোকিল চিল চিৎকার করে। জানান দেয় এই রাত তোমার আমার। সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে ফেসবুকের বান্ধবীর ছবি দেখে মনে মনে কত যে কিছুই কল্পনা করি আমি এই বুড়ো বয়সেও। আর সব কিছুর মাঝে ভোট আসে ভোট যায়। এক সময়ে সাংবাদিক ছিলাম বলে মনে পড়ে আমার। কত ছোট থেকেই সেই শুনে যাওয়া বৈজ্ঞানিক রিগিং। যার জোরে গ্রামে শহরে ৩৪ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকা লালেদের। আর আজ সেই লালের ঘরে কামান দেগে ঘর ছাড়েন স্বপ্ন দেখা এক যুবক। যিনি কত টাকায় বিক্রী হলেন জিজ্ঞাসা করলে বলেন খুব বেশি নয় দু হাজার কোটি ভাবা যায়। 

আর এই সব এর মাঝে কিছু কাজ হয় আর কিছু কাজ হয়না এলাকায় এলাকায়। কেউ বলেন ফেসবুকে পোস্ট করে আমি তোমাদেরই লোক। সত্যিই অসাধারণ কিন্তু এই আমাদের লোক হয়ে যাওয়া এই কটি দিনের জন্য ভোটের বাজারে। তারপর সব কেমন ধীরে ধীরেই বদলে যাওয়া স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া। আর জিতে যাওয়া নেতার দিন দিন ফুলে ফেঁপে ঢোল হয়ে ওঠা। আসলে কিছুই নয় ভোট যে বড় বালাই।

 আজানের সুর কানে আসে আমার ভোরবেলায়। দুরে মা শীতলা মায়ের মন্দিরে ঘণ্টা বাজে। এই বাংলায় আমরা কিন্তু পাঁচ বছর অন্তর শাসক দলকে পরীক্ষায় ফেলতে জানিনা একদমই। আর তাই বোধহয় অনেক টাই নিশ্চিন্ত এই বাংলার মা মাটির আর মানুষের সরকার। যাঁরা জানেন ভাতায় আর ভান্ডারে তাঁরা যে করেই হোক ভোটের গণ্ডি এইবারেও পার হয়ে যাবেন তাঁরা। এইবারেও চতুর্থ বারের জন্য ফের মানুষের পাশে থাকার জন্যে শাসক পক্ষ তাঁরা অনেকটা বেশী বদ্ধপরিকর তাই বিরোধীদের থেকেও তাঁরা বেশী কনফিডেন্ট।

ভোট আসছে বঙ্গে - অভিজিৎ বসু।
২৫ ফেব্রুয়ারি দু হাজার ছাব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জায়গার বড়ই অভাব

এই পৃথিবীতে জায়গার বড়ই অভাব। এই ধূ ধু করছে ফাঁকা জায়গা। যেখানে আপনি স্বচ্ছন্দে ঘুরতে পারেন, বেড়াতে পারেন। হেঁটে চলে আনন্দে মশগুল হয়ে গল্প করতে পারেন। এমনকি খোস গল্পও করতে পারেন। খেলতে পারেন। বসতে পারেন। লিখতে পারেন। সবকিছুই করতে পারেন।  আবার কিছুক্ষণের মধ্যে সেই জায়গা আর আপনার জন্যে বরাদ্দ নেই। আপনি জেনে গেলেন ওই ফাঁকা জায়গা আর আপনার নেই। যা একটু আগেও কয়েক ঘণ্টা আগেও আপনার ছিল সেটা এখন অন্য কারুর হয়ে গেছে। যে জায়গায় আপনি দিব্যি হেঁটে চলে ঘুরে বেড়িয়ে হাসতে হাসতে সময় কাটিয়েছেন সেটা আর আপনার নেই। অন্য কারুর দখলে চলে গেছে। বেশ ভালই ব্যাপারটা কিন্তু।  যদিও জীবনে কারুর কিছুই স্থায়ী জায়গা নয়। গোটা জীবন যখন স্থায়ী নয় তখন আর এত জায়গা নিয়ে ভাবনা চিন্তা কেনো। স্পেস বিষয়টি বেশ মজার। এই আপনার কাছে অন্য একজনের জন্য স্পেস আছে। আবার পরক্ষনেই সেই স্পেস নেই। এই জায়গা থাকা আর পরক্ষণেই জায়গা চলে যাওয়া বেশ মজার কিন্তু কি বলেন। হঠাৎ মনে হলো এটা। কেনো যে এমন হয় জীবনে কে জানে।  যদিও আমি বরাবর ফাঁকা জায়গায় পছন্দ করি। কার...

ইকড়া গ্রামের শ্রীকান্ত

এই শ্রীকান্ত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত চরিত্র শ্রীকান্ত নয়। এই শ্রীকান্ত হলো বীরভূমের ইকড়া গ্রামের শ্রীকান্ত চ্যাটার্জী। সেই যখন বোলপুর থেকে সিউড়ি যাবার পথে গড়গড়িয়া বাস স্টপেজ আসে তখন ওকে ফোন করে ফেলি আমি সব সময়। আর ও হাজার ব্যস্ততা আর কাজের মাঝে ফোন ধরে বলে দাদা বলুন কোথায় যাচ্ছেন, চলে আসুন দাদা আমাদের বাড়ী। কোথায় চললেন দাদা আপনি।  এই শ্রীকান্ত চাষ করে, এই শ্রীকান্ত পূজো করে, এই শ্রীকান্ত গ্রামে গ্রামে ঘুরে গ্রামের মানুষের বাড়ী জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে, এই শ্রীকান্ত আবার পাড়ার ক্লাবে সবাই মিলে হাসিমুখে নাটক করে। এই শ্রীকান্ত যে কোনও মানুষের বিপদে আপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর এই শ্রীকান্ত আমায় বলেছে বুড়ো বয়সে আমায় গ্রামে ফাঁকা নিরিবিলিতে একটা থাকার ব্যবস্থা করে দেবে। যেটা কেউ বলতেই পারে না খুব সহজে। রক্তের সম্পর্ক হলেও নয় সেখানে ও তো আমার কোনও সম্পর্কের বন্ধনে বাঁধা নয়। এমন নানা কাজে কর্মে হাসিমুখে কাজ করে ও। যদিও আমি গ্রামে থাকতে হয়তো পারবো না তবুও ও বলে তো আমায় এটাই অনেক বড়ো ব্যাপার।  আসলে কিছু কিছু মানুষের সাথে ...

নিঃশব্দে ক্ষমতার পালাবদল

সাদা জীবনের কালো কথায় এক লড়াই করা এক অতি সাধারণ পরিবারের মেয়ের অনমনীয় জেদ আর লড়াই এর গল্প কথা। যে জেদ আর সাহসকে সম্বল করে সেই কবে ছোটো বেলা থেকে লড়াই করছে সেই মেয়েটি। যে বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরোনো স্মৃতিময় কিছু সাদা কালো ছবি দেখে মনে পড়ে গেলো অনেক পুরোনো দিনের কথা। অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে,অনেক মার খেয়ে বাংলার একমাত্র লড়াকু নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই সিপিএম এর 34 বছরের জমানা উঠে যায় এই বাংলা থেকে। যা একসময় মনে হয়েছিল এমন আর হবে না কোনো দিন। এত লড়াই আন্দোলন করেও সেই পুরোনো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেখে মনে পড়ে যায় কত কী। আর সেই ছবির মাঝে লুকিয়ে আছে এমন এক ছবি যে ছবির মধ্যে লুকিয়ে আছে এই সারা জীবনের জন্য লড়াই করা জীবনকে বাজি রেখে বেঁচে থাকার নানা গল্পকথা আর মিথ। কিন্তু সেই বাজিগর নিজের হাতেই তার নিজের আপন মানুষের কাছে তুলে দিলেন ক্ষমতার চাবি কাঠি খুব সহজেই সবার সামনে।  সবাইকে সাক্ষী রেখেই নিঃশব্দে পালা বদল হয়ে গেলো তৃণমূল দলের ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের প্রধান যোদ্ধার। 29 জন নতুন সংসদের স...

ফাল্গুনী দা ও আমি

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ এক বর্ণময় সাংবাদিকের কথা। যে বিখ্যাত সাংবাদিক খবরের কাগজ, টিভি চ্যানেলে সব জায়গায় দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করেছেন হুগলী জেলায়। ইংরাজি মাধ্যমের কাগজে লিখে বেশ নাম করেছেন তিনি। যার তারকেশ্বর এর নতুন ফ্ল্যাটের দরজায় বড়ো করে দরজায় লেখা আছে পিতলের নেমপ্লেটে জার্নালিস্ট। বহুদিন আগে গিয়ে দেখেছিলাম সেটা দরজায় লেখা। শুনেছি প্রতিদিন সেই নেম প্লেট পরিষ্কার করেন তিনি নিজে খুব যত্ন করেই।  সেই বর্ণময়, একদম রঙিন উজ্জ্বল সাংবাদিক হলেন আমাদের সবার সেই ফাল্গুনীদা। ফাল্গুনী বন্দোপাধ্যায়। তারকেশ্বর মন্দির পাড়ার সবার সেই অতি আদরের বিখ্যাত বুচুন বন্দোপাধ্যায়। যার এই নাম শ্রীরামপুরের পল্লীডাক পত্রিকার বিখ্যাত দাপুটে জাঁদরেল সাংবাদিক বঙ্গলোক কাগজে লিখেছিলেন একবার একটি  নিজের লেখা রিপোর্টে। যেখানে মন্দির পাড়ায় হৈ চৈ পড়ে গেছিল সেই রিপোর্ট পড়ে মন্দির পাড়ার সর্বত্রই। আর কি যে উত্তেজনা সেদিন দেখেছিলাম আমরা শুধু একটাই কথা পি এম এটা কি ঠিক হলো রে। হ্যাঁ প্রবীর দাকে পি এম নামেই ডাকতো ফাল্গুনী দা।  সে যাই হোক সাদা জীবনের একদম সাদা সোজা সাপটা কথার হাসিখুশি ...

হ্যাপি বার্থডে সৌম্যাদিত্য

বাংলা মিডিয়ার টিভির পর্দায় এমন সুন্দর ঝকঝকে পুরুষের মুখ বেশ কম দেখতে পাওয়া যায় আজকাল। বাংলার এক নম্বর চ্যানেলের সেই উত্তম কুমার এরপর আর সেই অর্থে সুন্দর সুপুরুষ মুখের অ্যাঙ্কর আর কই পাওয়া যায়। সেই হায়দরাবাদে গিয়ে কত বছর আগে ওকে বাস থেকে নেমে ভাগ্যলতায় ব্যাগ কাঁধে হেঁটে যেতে দেখলাম আপনমনে চলেছে সে সন্ধ্যা বেলায়। একটু ঘাড় কাত করে মৃদু হাসি। এইটুকু যা আলস্য আলাপ আর কি আমাদের। তবু আজ ওর জন্মদিনের দিন সেই আবছা ফিকে স্মৃতি রোমন্থন করতে খারাপ লাগে না আমার এত বছর পরেও।  সেই ভাগ্যলতার মোড়, সেই চেনা এলাকা, সেই রাস্তার পাশের একটা তিনতলা বাড়ী। সেই পুলকদার সেই বাড়ীতে বাস করা। কলকাতা থেকে কেউ গেলেই পুলকদার শরণাপন্ন হওয়া আমাদের লোকাল গার্জেন হিসেবে। বেশ ভালই দিনযাপন ছিল সেই বিদেশ বিভুঁইয়ে আমাদের সবার সেই কর্মময় এই জীবন। যে জীবনে কর্ম ছিল কিন্তু ঘর ছেড়ে কর্ম করতে হতো আমাদের। আজকাল তো ঘর আছে কিন্তু কর্মই নেই এই বাংলায় আর। আসলে একদম উলট পুরান আর কি। সেই পুরোনো দিনের কথাগুলো মনে পড়লে বেশ ভালোই লাগে আজকাল এই বুড়ো বয়সে আমার। খুব বিশেষ একসাথে কাজ করা হয়নি ...