সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আরামবাগের বন্যা

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই বন্যার কথা। যে বন্যা নিয়ে কত গল্প কত সুখ দুঃখের স্মৃতিই না জড়িয়ে আছে আমার এই দীর্ঘ সাংবাদিক জীবনে। আসলে এই প্রকৃতির যে করাল রূপ যার কাছে মানুষ খুব অসহায়। তবু যেনো অসহায় হয়েও একে অপরকে ধরে, সাহায্য করে বেঁচে থাকার একটা মরিয়া চেষ্টা। যে বন্যার জলে তদারকিতে গিয়ে ভেসে গেলেন হুগলীর খানাকুল এক নম্বর ব্লকের বিডিও সঞ্জয় মুখার্জী। যার খোঁজ মেলেনি প্রায় দেড় দিন। গাছের ডাল ধরে কোনো ভাবে নৌকোয় আটকে বেঁচেছিলেন তিনি। সত্যিই অসাধারন এই সব গল্প কথা। 
 মোবাইলহীন জীবনে এই বন্যা দুর্গত এলাকায় খানাকুলের বিডিওকে হারিয়ে আরামবাগের মহকুমা শাসক গোপীনাথ মুখোপাধ্যায় এর তখন একরকম পাগল পাগল অবস্থা। কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি। একদিকে বিডিওকে খুঁজে না পাওয়া অন্য দিকে রাজনীতির সব মাতব্বর আর কুশীলবদের নানা ভাবে, নানা প্রকারের চাপ দিয়ে সুবিধা আদায় করার অপরিসীম প্রচেষ্টা। যাদের ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে মাথা উঁচু করে চাকরি করা দায়। এই সব নানা ঘটনা নানা গল্প নিয়ে আজ হুগলীর বন্যার কথা।
 বন্যা মানেই তো প্রতিদিন এক নতুন নতুন অভিজ্ঞতা। কখন জল বেড়ে যাবে আর কখন কমবে তার অপেক্ষায় প্রহর গোনা ঘড়ি ধরে। জলে থৈ থৈ ভালবাসার স্পর্শ নিয়ে জলে ভিজে একশা হয়ে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা। জলে ভেসে যাওয়া পরিবারদের নিয়ে তাদেরকে সঠিক ভাবে সাহায্যে করার নামে রাজনীতির ময়দানে ঘুরে বেড়ানো কিছু লোকদের মাতব্বরি আর ক্ষমতার আস্ফালন দেখা। যেখানে জলে ভেসে যাওয়া পরিবারদের সাহায্যর থেকে ক্ষমতা দেখানোই প্রধান উপজীব্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। 
পর পর দুটো বছরের বন্যার কথা আমার আজও মনে পড়ে যায় এই ভরা শ্রাবণে এত বছর পরেও। উনিশ শো নিরানব্বই ও দু হাজার সালের হুগলীর আরামবাগের এই দুটি বন্যার স্মৃতি অনেকটা ঝাপসা হয়ে গেলেও এখনো কিছুটা হলেও জেগে আছে সেই সব কথা ঠিক গঙ্গার মাঝে জেগে ওঠা ধূসর চরের মত। আসলে স্মৃতি খুব একটা বেইমানি করে না, মানুষ বেইমানি করলেও। তাই এই বন্যার জলে ভেসে যায় ঘর বাড়ি, মিশে যায় ধনী গরীব সব পরিবার মিলে মিশে এক হয়ে যায় একটু আশ্রয়ের সন্ধানে। সবাই আস্তানা নেয় এক ছাদের তলায় কোনো রকম ভেদাভেদ না রেখে গ্রামের উঁচু স্কুল বাড়ীতে।
 জলে ভেসে যাওয়া কলার ভেলা করে একটু ডাঙার সন্ধানে আমরা সবাই তখন এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছি।  সাংবাদিক, গ্রামবাসী সবার সাথে চুপটি করে জলে ভিজে কাতর সেই নিশ্চুপ সেই সাপও কেমন চুপটি করে কলার ভেলায় ভেসে চলেছে আমাদের সাথে সহযাত্রী হয়ে একটু আশ্রয়ের সন্ধানে। সত্যিই জীবনের বাঁচার জন্য কতই না লড়াই এই সাপে আর মানুষের কি অদ্ভুত সহাবস্থান। এই সব কথা মনে পড়লে আমার মনে হয় জীবনের এই সব নানা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়ে থাক। 
আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর আগের সেই আরামবাগ যাত্রা মানেই তো একটা বিভীষিকা। হুগলীর এই মহকুমা যেনো বিছিন্ন একটা দ্বীপ এর মত। তারকেশ্বর অবধি ট্রেন পথ ধরে এগিয়ে গিয়ে দৌড়ে বাস ধরে তারপর আরামবাগ যাওয়া। তারপর সেখান থেকে আমার সেই ক্যামেরাম্যান সুব্রত যশকে সঙ্গী করে ওর গাড়ি চেপে আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট, কামার- পুকুর ঘুরে বেড়ানো খবরের সন্ধানে। সেই বড়ো কালো বিয়ে বাড়ির ক্যামেরা আর সেই ফিতে ওলা ক্যাসেট নিয়ে। আজকের টিভি চ্যানেলে যা সেই আদ্যিকালের ডায়নোসরের যুগের সঙ্গে তুলনা হবে। বলবে ও বাবা তোমরা সেই পুরোনো আমলের সাংবাদিক সব তাই ঠিক এডজাস্ট করতে পারছ না এই জেট গতির যুগে। তাই তো তোমরা সব বাতিলের দলে।
 কিন্তু যাই হোক ছোটো বেলার ঊনিশ শো আটাত্তর সালের সেই বিখ্যাত বন্যায় তখন আমি খুব ছোট আট বছর বয়স আমার। ভোরবেলায় সব ভেসে গেছে কোনো রকমে খাটের ওপর বসে আছি মা, আমি আর বাবা। ভোর বেলায় শ্রীরামপুর থেকে সাঁতরে একমাত্র বোনের খবর নিতে আমার মেজমামা রিষড়াতে এসেছিলেন। কোনো রকমে হারিকেনের আলোয়  দেখলাম মা, মেজমামাকে স্টোভ জ্বেলে চা করে দিলো। একটু গরম চা খেয়ে ফিরে গেলেন মামা নিজের বাড়িতে।  
সেই মোবাইল হীন যুগে এমন বিপদের দিনে খবর নেবার এ ছাড়া আর কি উপায় ছিল।  সত্যিই অসাধারন এই অনুভূতির সম্পর্ক, এক অন্য ধরনের ভালোবাসা একে অপরের প্রতি। কিন্তু এই ভালবাসাই তো কত ফিকে হয়ে গেলো কিছুদিন কিছু বছর পরে। মা মারা গেলেন একবছর আগে, মেজমামাকে বললাম মা আর নেই। না, আর দৌড়ে আসতে পারল না কেউই সেদিন মামার বাড়ির। হয়তো দিন বদলের তালে সময় বদলে যায়। মানুষের সম্পর্ক ধীরে ধীরে বদলে যায়, হয়তো ভালোবাসার ভাটা পড়ে যায়। জোয়ার আসা জীবনের দিনগুলোতে কিছুটা ভাটা পড়ে যায়। আর যে ভাটায় আটকে যায় মজে যাওয়া সম্পর্কের জটিল সব বন্ধন। 
সবে তখন আমি তারকেশ্বর থেকে বাস ধরে নেমে আরামবাগ এসডিও অফিসে পৌঁছে গেলাম। দ্বারকেশ্বর, মুন্ডেশ্বরী, আর দামোদরের জলে ভেসে গেছে খানাকুল এর বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘন ঘন টেলিফোন বাজছে এসডিও সাহেবের ঘরে। সেই ফোন নম্বর আমার আজও মনে আছে 03211 55041, মহকুমা শাসক গোপীনাথ মুখোপাধ্যায় এর তখন দম ফেলার ফুরসত নেই। কোথায় ত্রিপল কত যাবে। কত বস্তা চাল যাবে তার তদারকিতে ব্যস্ত এসডিও অফিসের কর্মীরা।
 গাছে ঘেরা অফিসে তখন চরম ব্যস্ততা। আর সেই কাজে নাক গলিয়ে আরামবাগের দাপুটে সাংসদ অনিল বসুর প্রতিনিধি মোজাম্মেল হোসেন কোন গ্রাম কত চাল ও ত্রিপল পাবে তার হিসেব করতে ব্যস্ত। মানে হলো এটাই ত্রাণ বিলিতেও লাল পার্টির নেতাদের সংকীর্ণ স্বার্থের রাজনীতি। যে রাজনীতির ময়দানে এই ভাবেই তারা কাটিয়ে দিয়েছে চৌত্রিশ বছর। এই ভাবেই তো দাপুটে সেই সাংসদ অনিল বসু গোটা দেশে হৈ চৈ ফেলে দিয়ে ছিলেন তার ভোটের ফল প্রকাশের পর।এটাই তো ছিল লাল দুর্গ আরামবাগ।
 যেখানে স্থানীয় প্রশাসন ভোটের সময় যে ভোট কেন্দ্র চিহ্নিত করে অদৃশ্য অঙ্গুলি হেলনে সেই  চিহ্নিত কেন্দ্র বদলে যায়, উবে যায়। এটাই তো রাজনীতির স্বাভাবিক নিয়ম। সেখানে চাল আর ত্রিপল উবে যাবে নিঃসাড়ে। এই গ্রামের বদলে অন্য গ্রামে যাবে ভোট কেন্দ্র সেটাই তো স্বাভাবিক ঘটনা। রাজনীতির চাপে কত কিছুই যে ঘটে যায় কে জানে। জলের ধারায় সে সব কিছুতেই ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায় না।
যাই হোক এসডিও সাহেবের উদ্যোগে ত্রিপল এর সেই গাড়ি করে বন্যা পরিস্থিতি দেখতে গ্রামে যাবার ব্যবস্থা হলো আমাদের। আমরা উঠে পড়লাম সেই ট্রাক্টর এর উপর। শহর ছেড়ে গ্রামের উদ্দেশে চলল ট্রাক্টর। সেই কালো ত্রিপল এর ওপর আধবসা হয়ে আমরা বেশ কয়েকজন। তার মধ্য একজন বিখ্যাত ফটোগ্রাফার ছিলেন আনন্দবাজার পত্রিকার অশোক মজুমদার। ছিল জেলার সাংবাদিক গৌতম বন্দোপাধ্যায়। সেই অশোক মজুমদার যিনি এখন মুখ্য মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ফটোগ্রাফার। 
কিন্তু একি অবস্থা মায়াপুর মোড়ে এসে হাজির হয়ে বুঝতে পারলাম দ্রুত গতিতে জল বাড়ছে হু হু করে। চেনা সেই মায়াপুর মোড় যেনো দ্রুত অচেনা হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। আমাদের সেই ত্রিপল বোঝাই ট্রাক্টর এর গতি কমতে শুরু করলো জলের তোড়ে। কোথায় রাস্তা আর কোথায় মাঠ সব মিলে মিশে একাকার যে। এযে মুন্ডেশ্বরীর জলে সব ভেসে গিয়ে সমুদ্র হয়ে গেছে। তার মাঝেই কত জল ছাড়া হলো ডিভিসি থেকে সেটা নিয়ে চূড়ান্ত ব্যস্ততা এসডিও অফিসে। ঘন ঘন ডিএম সাহেবের ফোন ধরে দুর্গাপুর থেকে ছাড়া জল এসে পৌঁছল কি না তার জবাব দিতেই মহকুমা শাসক এর গলদঘর্ম অবস্থা। 
আর আমরা তখন সেই ত্রিপল বোঝাই ট্রাক্টর এর ওপর দাঁড়িয়ে শুধু জল আর জলের ছবি দেখতে দেখতে এগোতে থাকলাম। একি দেখছি যেনো জন্ম জন্মান্তরেও ভুলিব না সেই লাইন মনে পড়ে গেলো। ড্রাইভার এর পথ ঘাট চেনা বলে রক্ষে না হলে যে গাড়ি কোথায় আটকে যাবে কে জানে। চেনা গ্রাম, চেনা জনপদ সব জলের ধারায় বৃষ্টির ধারায় ভেসে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও সেই জলের ধারে মশারী নিয়ে বা অন্য কোনো মাছ ধরার জিনিস নিয়ে চরম আনন্দে চলছে মাছ ধরার আনন্দ। ঘর নেই, রান্নাঘর নেই, সব ভেসে গেছে কিন্তু মাছ ধরা আছে। 
সেই রাস্তার পাশ থেকে মাছ কিনে নিয়ে এসেছিলাম আমি একবার দিদির বাড়ী আরামবাগে। নিজে মাছ না খেলেও সেই মাছ নিয়ে আসার আনন্দ কিন্তু একটা আলাদা অভিজ্ঞতা ছিল। আরামবাগ গেলে আমার এই অচেনা অজানা দিদির বাড়ী কি করে যে নিজের বাড়ির মত আস্তানা হয়ে গেলো কে জানে। গ্রামের ঘর বাড়ি বন্যায় ভেসে গেলেও আমার ঘর ঠিক ছিল এই সবের মাঝেও। সারাদিন জলে ভিজে কাজ সেরে সন্ধ্যায় সেই শুক্লাদির বাড়ী এসে রাত্রি যাপন করতে বেশ মজা হতো। রিমা, দিশা, দিদি, সিমি, মেজদি, গৌতম দা  তখন বাইরে ডিউটিতে গেছেন। বন্যার জলে তখন সেই দিদির স্কুল বন্ধ। সারাদিন কাজের পর অন্য একটা অভিজ্ঞতা। যে দিদির সাথে সেই বন্যার দিনের সম্পর্ক আমার আজও রয়ে গেছে। আসলে সেই দিদির সাথে আমায় দেখা করিয়ে দিয়েছিল বর্তমান কাগজের সন্দীপন্দা। সেই গল্প অন্য একদিন।
 আজ শুধুই বন্যার কথা। এরপর সেই ট্রাক্টর থেকে নেমে গেলো ত্রিপল। রাস্তার পাশের অস্থায়ী ছাউনী তে তখন কচি একরত্তি দুধের শিশুর চিল চিৎকার। পেটের টানে। লজ্জা শরম কোনো ভাবে লুকিয়ে রাস্তার পাশে ঘর পাতা মা আড়াল করে ছেলেকে বুকের দুধ খাওয়াতে ব্যস্ত। বিচিত্র সব জলের ওপর নানা রঙের ছবি। এসবের মাঝেও কে ত্রান পাবে কত পাবে সেটা নিয়ে নেতাদের নানা মাতব্বরি। সত্যিই অসাধারন এই রাজার নীতি। না হলে কি আর এই সব রাজারা এই ভাবে কাটিয়ে দিতে পারত নিজেদের স্বার্থের জীবন শুধু একটু ক্ষমতা দেখিয়ে।
কিন্তু এসবের মাঝেও ঘর দুয়ার সব ভেসে গেছে বন্যার জলে। বাড়ির পেছনে নৌকো বা ডিঙ্গি বাঁধা আছে। এই বাড়ী থেকে বেরিয়ে দূরের বাড়িতে চলে যাওয়া নির্দ্ধিধায়। খাওয়া দাওয়া করা যেনো সবাই এই বিপদের দিনে একে অপরের পরম আত্মীয় স্বজন হয়ে গেছে। এই ভাবেই জড়িয়ে আঁকড়ে থাকার চেষ্টা একে অপরের সাথে। এ যেনো আমাদের শহরের ফ্ল্যাট বাড়ির শিক্ষা নয়। বিপদে পড়েছে জেনেও হাসি মুখে মুখ ঘুরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে চলে যাওয়া নয়। গ্রামের বন্যা একের সাথে অন্যর নিগূঢ় সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ করে দেয়। যে সম্পর্কে গরীব বড়লোকের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সবাই মিলে একসাথে সেই সময় প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করে বাঁচার চেষ্টা করে। যেখানে কোনো কৃত্রিমতা থাকে না। একে অপরের হাত ধরে টেনে রেখে চলতে শেখায়।
 সত্যিই অসাধারন এই বন্যার ভয়াল রূপ কেমন করে যে মানুষদের এই ভাবে একে অপরকে জড়িয়ে নিয়ে বেঁচে থাকার শিক্ষা দেয় সেটাই তো জীবনের সেরা উপহার। জলে ভেসে যাওয়া মানুষগুলো কেমন করে যেনো একটু একটু করে সবাই একে অপরের পরম আত্মীয় হয়ে যায়। বোধ হয় জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে এমন শিক্ষা লাভ করে তারা। 
জীবনের সবচেয়ে এই কঠিন দিনে কেমন করে যে সব মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় কে জানে। আজ বহুদিন পর, সকাল বেলায় জীবনের ফেলে আসা দিনের সেই সব জলে ভেজা স্মৃতির পাতায়, জল ফড়িং উড়ে এসে বসলো বহুদিন পর। যার ডানায় বৃষ্টির ছোঁয়া লেগে আছে। কেমন চুপটি করে সে বসে আছে। যে আনমনে আমায় মনে করিয়ে দিলো নানা ঘটনা, নানা কথা।
মোবাইলহীন জীবনের মাঝেও কত গভীর ভালোবাসা যে লুকিয়ে ছিল একসময়। যার কোনও ছবি নেই আমার কাছে। কিন্তু সেই পঁচিশ বছর আগের আমার হারিয়ে যাওয়া সাংবাদিক জীবনের কিছু ছবি আজ আমায় আবার ভিজিয়ে দিল এতদিন পরেও। আঁকাবাঁকা অক্ষরে জলে ভেজা রাস্তায় আঁকিবুঁকি অক্ষরে আমার ব্লগে কিছু কথা লিখে ফেললাম আমি।
 সবটাই তো সাদা জীবনের জলে ভেজা মেঠো রাস্তার কথা। যে রাস্তায় জোনাকির আলো আছে, যে রাস্তায় গভীর ভালোবাসা আছে, একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার প্রাণপণ চেষ্টা আছে, যে রাস্তায় সেই বেহুলা লখিন্দরের মত কলার ভেলায় ভেসে যাওয়া আছে। আজ এতদিন পর মনে হয় যদি আবার অমন করে ভেসে যেতে পারতাম আবার কি ভালই যে হতো। 

আরামবাগের বন্যা - অভিজিৎ বসু।
সাতাশে জুলাই, দু হাজার চব্বিশ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হ্যাপি বার্থডে রনজিৎ দা

আমার মোবাইলে নম্বরটা আজও সেভ করা আছে রনজিৎ মদন দা নামেই। কবে, কোথায় ওর সাথে দেখা হয়েছিল আজ আর সেটা স্মরণে নেই আমার। হয়তো সেই ২৪ চৌরঙ্গী রোডের অফিসে বা ভবানীপুরের সেই বিখ্যাত অফিসে দেখা হয়েছিল একদিন। ডাকাবুকো কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র তখন প্রিয়রঞ্জন‌ দাসমুন্সীর লোক। একদম ফর্সা গায়ের রং। চোখে রোদ চশমা, সাদা প্যান্ট সাদা জুতো পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এদিক আর ওদিক। আর সেই কিছু দরকার পড়লেই রনজিৎ রনজিৎ বলে ডাক দিচ্ছেন তিনি দরকারে আর অদরকারে।  রনজিৎ হলো মদনদার সেই পুরোনো দিনের একমাত্র সঙ্গী আর ছিল সেই স্বপন মাইতি বর্তমানে তিনি আর বেঁচে নেই। এস এস কে এম এ গেলেই স্বপনদা কে দেখতাম আমরা। কিন্তু সেই জাদুঘর এর ফুটপাথ ধরে বিকেলের কাগজ বের হলে পট পরিবর্তন আর অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়ে চলে যেতাম আমরা দুজন। বর্তমানে একজন তৃণমূলের মুখপাত্র অনেক বড় মাপের সাংবাদিক ও রাজনীতির লোক। দলের অন্দরে অনেক দূর অবধি তাঁর হাত বিস্তৃত। অন্যদিকে আর একজন ৩৫ বছর এই বাংলা মিডিয়াতে কাজ করে এখন বাতিলের দলে টোটো চালক হয়ে গেছে আর কি।  যাক সেই রনজিৎ এর আজ জন্মদিন। মনে পড়ে গেলো আমার...

ইটিভি ও অম্বরীষ‌ দা।

সাদা জীবনের কালো কথায় এমন একজনের কথা লিখবো আজ যার কথা অনেক আগেই লেখা উচিত ছিল আমার। ইটিভির কর্ণধার রামোজি রাও এর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির কথা লেখার সময় যার কথা আমার এক লাইন হলেও লেখা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যা আমায় মনে করিয়ে দিলেন একজন প্রাক্তন ইটিভির সহকর্মী। তার কথা শুনে মনে হলো ঠিক তো চেয়ারম্যান স্যার কে হারিয়ে আমরা সবাই ইটিভির কর্মীরা মিলিত হলাম এক নিমেষে এক ছাতার তলায়। কিন্তু যার জন্য আমরা সবাই তাঁর কাছে এই ইটিভির কোম্পানি তে কাজ এর সুযোগ পাই তাঁর কথা উল্লেখ করা দরকার ছিল বোধ হয়। কিন্তু আমি লিখি নি বা হয়তো ভুলে গেছিলাম সেই মানুষটার কথা বলতে। সেই ব্যক্তির কথাই আজ বলবো কিছুটা। না হলে সেটা ঠিক কাজ হবে না কিছুতেই।  যে মানুষটার জন্য আমরা প্রায় সবাই এই ভাবে সব একসাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কেউ পশ্চিমবাংলায় কাজ করেছি আবার কেউ কেউ হায়দরাবাদ এর সেই পাঁচিল ঘেরা রামোজি রাও এর সাম্রাজ্যে কাজ করেছি। কিন্তু বাংলা মিডিয়ার সেই ছোট্টো চারা গাছের যে বীজ রামোজি রাও বপন করেছিলেন সেই সময় আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। এই মানুষটার হাত ধরেই লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল স...

দিদির নিদান

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ চুরি না করার নিদান। সেই ছোটো বেলায় পড়েছিলাম বইতে মাসীর সাবধান বাণী। চুরি করে কি অবস্থা হলো। শেষে মাসীর কান কামড়ে দিল বালক। মাসীর সাবধান বাণী না শুনে। আজ এই এক ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আমার সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো হঠাৎ করেই। আচ্ছা সত্যিই কি এই কড়া নিদান দিয়ে চুরি রোখা যায়। কথায় বলে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। মুখ্যমন্ত্রীর একদম সোজা সাপটা এই বর্জ নির্ঘোষ কথা শুনে আমার এমন মনে হলো আজ। যে কথার উত্তর দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই কারুর।  সে দলের যে নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, বা পুরসভার চেয়ারম্যান হোক। চুপ করে বসে হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ উত্তর দিলেই বিপদ বাড়বে বই কমবে না। একদম সোজা সাপটা তীরবিদ্ধ আক্রমন এর সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকা। করে খাবার জায়গা নয় তৃণমূল দল। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নিজের পেট ভর্তি করার জন্য রাজনীতি আর নয়, অনেক হয়েছে।  সত্যিই তো রাজনীতির আঙিনায় এই সব কিছুকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। কত কষ্ট করে মাটি তৈরি করে, জল দিয়ে এই ছোটো দুটি জোড়...

বিশ্ব সাইকেল দিবস

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস এর কথা। এই দু চাকার যানকে নিয়ে যে কত অম্ল মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে সবার জীবনেই তা বলে শেষ করা যাবে না বোধ হয়। আর আজ সেই সাইকেল উদযাপনের একটি আন্তর্জাতিক দিন। এই বিশ্ব সাইকেল দিবস প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় এই দিনটি।  ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে সাইকেলের দীর্ঘ জীবনকাল এবং বহু কাজে ব্যবহৃত হওয়ার প্রশংসা করা হয়। সঙ্গে প্রায় দুই শতক কাল এর সাধারণ,কম খরচ, বিশ্বাসযোগ্যতা, এবং পরিবেশের জন্য উপযুক্ত যানবাহনের মাধ্যম হিসাবে সাইকেলের উল্লেখ করা হয়েছিল। সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মূলতঃ এই দিবস উদ্‌যাপন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়েই। বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ তাই সবার কাছেই জানা একটা বিষয়। কিন্তু যে সাইকেল নিয়ে এত কথা সেই লাল টুকটুকে সাইকেল পেয়েছিলাম আমি স্কুল জীবনে ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠে। সময়টা যত দুর মনে পরে শীতকাল ডিসেম্বর মাস। মেজমামা আমায়...

ইটিভির রবি দা

কিছু কিছু মানুষের হাসি মাখা মুখটা মনে পড়লেই কেমন মনটা ভালো হয়ে যায় যেনো এই পৌষের কুয়াশা মাখা সকাল বেলায়। কতদিন যে সামনাসামনি দেখা হয়নি তার সাথে। কতদিন যে একসাথে পথ হাঁটা হয়নি আর। কতদিন যে গলা শোনা হয়নি তার। কি রে কি খবর তোর। এই বলেই পিঠের ওপর হাতটা নিয়ে চাপড়ে দেওয়া। ভাবটা এমন ভয় নেই কোনও তোর কাজ করে যা তুই।  হ্যাঁ, যে প্রথম আমায় ভোটের সময় ইটিভির জেলা থেকে কলকাতায় ডিউটির সময় কলকাতা অফিসে সারাদিন বসিয়ে না রেখে কলকাতা শহরে প্রথম লাইভ করার সুযোগ করে দেয়। সেই হায়দরাবাদ থেকে আসা বড়ো ওবি ভ্যান দিয়ে বলে যা লাইভ করে আয় তুই। যদিও ভোটের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব পালন করা আশপাশের কর্তা ব্যক্তিরা সেটা শুনে খুব একটা খুশি হয়নি সেই দিন। কারণ হয়তো আমি দেখতে খারাপ বলে। কিন্তু কিছু বলতেও পারেনি তার মুখের ওপর। সেই দক্ষিণ কলকাতায় তথাগত রায়কে নিজে বলে দিয়ে এক ভোটকেন্দ্র থেকে লাইভ করানো। সালটা ২০০২ হবে বোধহয় খুব সম্ভবত।  সেই জেনারেটর দিয়ে ওবি চলা। রাস্তায় কালীঘাট থানার পুলিশের এসে বলা গাড়ি দাঁড় করানো যাবে না এইভাবে। আর তার মাঝেই ধুতি...