সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আরামবাগের বন্যা

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই বন্যার কথা। যে বন্যা নিয়ে কত গল্প কত সুখ দুঃখের স্মৃতিই না জড়িয়ে আছে আমার এই দীর্ঘ সাংবাদিক জীবনে। আসলে এই প্রকৃতির যে করাল রূপ যার কাছে মানুষ খুব অসহায়। তবু যেনো অসহায় হয়েও একে অপরকে ধরে, সাহায্য করে বেঁচে থাকার একটা মরিয়া চেষ্টা। যে বন্যার জলে তদারকিতে গিয়ে ভেসে গেলেন হুগলীর খানাকুল এক নম্বর ব্লকের বিডিও সঞ্জয় মুখার্জী। যার খোঁজ মেলেনি প্রায় দেড় দিন। গাছের ডাল ধরে কোনো ভাবে নৌকোয় আটকে বেঁচেছিলেন তিনি। সত্যিই অসাধারন এই সব গল্প কথা। 
 মোবাইলহীন জীবনে এই বন্যা দুর্গত এলাকায় খানাকুলের বিডিওকে হারিয়ে আরামবাগের মহকুমা শাসক গোপীনাথ মুখোপাধ্যায় এর তখন একরকম পাগল পাগল অবস্থা। কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি। একদিকে বিডিওকে খুঁজে না পাওয়া অন্য দিকে রাজনীতির সব মাতব্বর আর কুশীলবদের নানা ভাবে, নানা প্রকারের চাপ দিয়ে সুবিধা আদায় করার অপরিসীম প্রচেষ্টা। যাদের ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে মাথা উঁচু করে চাকরি করা দায়। এই সব নানা ঘটনা নানা গল্প নিয়ে আজ হুগলীর বন্যার কথা।
 বন্যা মানেই তো প্রতিদিন এক নতুন নতুন অভিজ্ঞতা। কখন জল বেড়ে যাবে আর কখন কমবে তার অপেক্ষায় প্রহর গোনা ঘড়ি ধরে। জলে থৈ থৈ ভালবাসার স্পর্শ নিয়ে জলে ভিজে একশা হয়ে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা। জলে ভেসে যাওয়া পরিবারদের নিয়ে তাদেরকে সঠিক ভাবে সাহায্যে করার নামে রাজনীতির ময়দানে ঘুরে বেড়ানো কিছু লোকদের মাতব্বরি আর ক্ষমতার আস্ফালন দেখা। যেখানে জলে ভেসে যাওয়া পরিবারদের সাহায্যর থেকে ক্ষমতা দেখানোই প্রধান উপজীব্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। 
পর পর দুটো বছরের বন্যার কথা আমার আজও মনে পড়ে যায় এই ভরা শ্রাবণে এত বছর পরেও। উনিশ শো নিরানব্বই ও দু হাজার সালের হুগলীর আরামবাগের এই দুটি বন্যার স্মৃতি অনেকটা ঝাপসা হয়ে গেলেও এখনো কিছুটা হলেও জেগে আছে সেই সব কথা ঠিক গঙ্গার মাঝে জেগে ওঠা ধূসর চরের মত। আসলে স্মৃতি খুব একটা বেইমানি করে না, মানুষ বেইমানি করলেও। তাই এই বন্যার জলে ভেসে যায় ঘর বাড়ি, মিশে যায় ধনী গরীব সব পরিবার মিলে মিশে এক হয়ে যায় একটু আশ্রয়ের সন্ধানে। সবাই আস্তানা নেয় এক ছাদের তলায় কোনো রকম ভেদাভেদ না রেখে গ্রামের উঁচু স্কুল বাড়ীতে।
 জলে ভেসে যাওয়া কলার ভেলা করে একটু ডাঙার সন্ধানে আমরা সবাই তখন এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছি।  সাংবাদিক, গ্রামবাসী সবার সাথে চুপটি করে জলে ভিজে কাতর সেই নিশ্চুপ সেই সাপও কেমন চুপটি করে কলার ভেলায় ভেসে চলেছে আমাদের সাথে সহযাত্রী হয়ে একটু আশ্রয়ের সন্ধানে। সত্যিই জীবনের বাঁচার জন্য কতই না লড়াই এই সাপে আর মানুষের কি অদ্ভুত সহাবস্থান। এই সব কথা মনে পড়লে আমার মনে হয় জীবনের এই সব নানা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়ে থাক। 
আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর আগের সেই আরামবাগ যাত্রা মানেই তো একটা বিভীষিকা। হুগলীর এই মহকুমা যেনো বিছিন্ন একটা দ্বীপ এর মত। তারকেশ্বর অবধি ট্রেন পথ ধরে এগিয়ে গিয়ে দৌড়ে বাস ধরে তারপর আরামবাগ যাওয়া। তারপর সেখান থেকে আমার সেই ক্যামেরাম্যান সুব্রত যশকে সঙ্গী করে ওর গাড়ি চেপে আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট, কামার- পুকুর ঘুরে বেড়ানো খবরের সন্ধানে। সেই বড়ো কালো বিয়ে বাড়ির ক্যামেরা আর সেই ফিতে ওলা ক্যাসেট নিয়ে। আজকের টিভি চ্যানেলে যা সেই আদ্যিকালের ডায়নোসরের যুগের সঙ্গে তুলনা হবে। বলবে ও বাবা তোমরা সেই পুরোনো আমলের সাংবাদিক সব তাই ঠিক এডজাস্ট করতে পারছ না এই জেট গতির যুগে। তাই তো তোমরা সব বাতিলের দলে।
 কিন্তু যাই হোক ছোটো বেলার ঊনিশ শো আটাত্তর সালের সেই বিখ্যাত বন্যায় তখন আমি খুব ছোট আট বছর বয়স আমার। ভোরবেলায় সব ভেসে গেছে কোনো রকমে খাটের ওপর বসে আছি মা, আমি আর বাবা। ভোর বেলায় শ্রীরামপুর থেকে সাঁতরে একমাত্র বোনের খবর নিতে আমার মেজমামা রিষড়াতে এসেছিলেন। কোনো রকমে হারিকেনের আলোয়  দেখলাম মা, মেজমামাকে স্টোভ জ্বেলে চা করে দিলো। একটু গরম চা খেয়ে ফিরে গেলেন মামা নিজের বাড়িতে।  
সেই মোবাইল হীন যুগে এমন বিপদের দিনে খবর নেবার এ ছাড়া আর কি উপায় ছিল।  সত্যিই অসাধারন এই অনুভূতির সম্পর্ক, এক অন্য ধরনের ভালোবাসা একে অপরের প্রতি। কিন্তু এই ভালবাসাই তো কত ফিকে হয়ে গেলো কিছুদিন কিছু বছর পরে। মা মারা গেলেন একবছর আগে, মেজমামাকে বললাম মা আর নেই। না, আর দৌড়ে আসতে পারল না কেউই সেদিন মামার বাড়ির। হয়তো দিন বদলের তালে সময় বদলে যায়। মানুষের সম্পর্ক ধীরে ধীরে বদলে যায়, হয়তো ভালোবাসার ভাটা পড়ে যায়। জোয়ার আসা জীবনের দিনগুলোতে কিছুটা ভাটা পড়ে যায়। আর যে ভাটায় আটকে যায় মজে যাওয়া সম্পর্কের জটিল সব বন্ধন। 
সবে তখন আমি তারকেশ্বর থেকে বাস ধরে নেমে আরামবাগ এসডিও অফিসে পৌঁছে গেলাম। দ্বারকেশ্বর, মুন্ডেশ্বরী, আর দামোদরের জলে ভেসে গেছে খানাকুল এর বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘন ঘন টেলিফোন বাজছে এসডিও সাহেবের ঘরে। সেই ফোন নম্বর আমার আজও মনে আছে 03211 55041, মহকুমা শাসক গোপীনাথ মুখোপাধ্যায় এর তখন দম ফেলার ফুরসত নেই। কোথায় ত্রিপল কত যাবে। কত বস্তা চাল যাবে তার তদারকিতে ব্যস্ত এসডিও অফিসের কর্মীরা।
 গাছে ঘেরা অফিসে তখন চরম ব্যস্ততা। আর সেই কাজে নাক গলিয়ে আরামবাগের দাপুটে সাংসদ অনিল বসুর প্রতিনিধি মোজাম্মেল হোসেন কোন গ্রাম কত চাল ও ত্রিপল পাবে তার হিসেব করতে ব্যস্ত। মানে হলো এটাই ত্রাণ বিলিতেও লাল পার্টির নেতাদের সংকীর্ণ স্বার্থের রাজনীতি। যে রাজনীতির ময়দানে এই ভাবেই তারা কাটিয়ে দিয়েছে চৌত্রিশ বছর। এই ভাবেই তো দাপুটে সেই সাংসদ অনিল বসু গোটা দেশে হৈ চৈ ফেলে দিয়ে ছিলেন তার ভোটের ফল প্রকাশের পর।এটাই তো ছিল লাল দুর্গ আরামবাগ।
 যেখানে স্থানীয় প্রশাসন ভোটের সময় যে ভোট কেন্দ্র চিহ্নিত করে অদৃশ্য অঙ্গুলি হেলনে সেই  চিহ্নিত কেন্দ্র বদলে যায়, উবে যায়। এটাই তো রাজনীতির স্বাভাবিক নিয়ম। সেখানে চাল আর ত্রিপল উবে যাবে নিঃসাড়ে। এই গ্রামের বদলে অন্য গ্রামে যাবে ভোট কেন্দ্র সেটাই তো স্বাভাবিক ঘটনা। রাজনীতির চাপে কত কিছুই যে ঘটে যায় কে জানে। জলের ধারায় সে সব কিছুতেই ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায় না।
যাই হোক এসডিও সাহেবের উদ্যোগে ত্রিপল এর সেই গাড়ি করে বন্যা পরিস্থিতি দেখতে গ্রামে যাবার ব্যবস্থা হলো আমাদের। আমরা উঠে পড়লাম সেই ট্রাক্টর এর উপর। শহর ছেড়ে গ্রামের উদ্দেশে চলল ট্রাক্টর। সেই কালো ত্রিপল এর ওপর আধবসা হয়ে আমরা বেশ কয়েকজন। তার মধ্য একজন বিখ্যাত ফটোগ্রাফার ছিলেন আনন্দবাজার পত্রিকার অশোক মজুমদার। ছিল জেলার সাংবাদিক গৌতম বন্দোপাধ্যায়। সেই অশোক মজুমদার যিনি এখন মুখ্য মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ফটোগ্রাফার। 
কিন্তু একি অবস্থা মায়াপুর মোড়ে এসে হাজির হয়ে বুঝতে পারলাম দ্রুত গতিতে জল বাড়ছে হু হু করে। চেনা সেই মায়াপুর মোড় যেনো দ্রুত অচেনা হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। আমাদের সেই ত্রিপল বোঝাই ট্রাক্টর এর গতি কমতে শুরু করলো জলের তোড়ে। কোথায় রাস্তা আর কোথায় মাঠ সব মিলে মিশে একাকার যে। এযে মুন্ডেশ্বরীর জলে সব ভেসে গিয়ে সমুদ্র হয়ে গেছে। তার মাঝেই কত জল ছাড়া হলো ডিভিসি থেকে সেটা নিয়ে চূড়ান্ত ব্যস্ততা এসডিও অফিসে। ঘন ঘন ডিএম সাহেবের ফোন ধরে দুর্গাপুর থেকে ছাড়া জল এসে পৌঁছল কি না তার জবাব দিতেই মহকুমা শাসক এর গলদঘর্ম অবস্থা। 
আর আমরা তখন সেই ত্রিপল বোঝাই ট্রাক্টর এর ওপর দাঁড়িয়ে শুধু জল আর জলের ছবি দেখতে দেখতে এগোতে থাকলাম। একি দেখছি যেনো জন্ম জন্মান্তরেও ভুলিব না সেই লাইন মনে পড়ে গেলো। ড্রাইভার এর পথ ঘাট চেনা বলে রক্ষে না হলে যে গাড়ি কোথায় আটকে যাবে কে জানে। চেনা গ্রাম, চেনা জনপদ সব জলের ধারায় বৃষ্টির ধারায় ভেসে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও সেই জলের ধারে মশারী নিয়ে বা অন্য কোনো মাছ ধরার জিনিস নিয়ে চরম আনন্দে চলছে মাছ ধরার আনন্দ। ঘর নেই, রান্নাঘর নেই, সব ভেসে গেছে কিন্তু মাছ ধরা আছে। 
সেই রাস্তার পাশ থেকে মাছ কিনে নিয়ে এসেছিলাম আমি একবার দিদির বাড়ী আরামবাগে। নিজে মাছ না খেলেও সেই মাছ নিয়ে আসার আনন্দ কিন্তু একটা আলাদা অভিজ্ঞতা ছিল। আরামবাগ গেলে আমার এই অচেনা অজানা দিদির বাড়ী কি করে যে নিজের বাড়ির মত আস্তানা হয়ে গেলো কে জানে। গ্রামের ঘর বাড়ি বন্যায় ভেসে গেলেও আমার ঘর ঠিক ছিল এই সবের মাঝেও। সারাদিন জলে ভিজে কাজ সেরে সন্ধ্যায় সেই শুক্লাদির বাড়ী এসে রাত্রি যাপন করতে বেশ মজা হতো। রিমা, দিশা, দিদি, সিমি, মেজদি, গৌতম দা  তখন বাইরে ডিউটিতে গেছেন। বন্যার জলে তখন সেই দিদির স্কুল বন্ধ। সারাদিন কাজের পর অন্য একটা অভিজ্ঞতা। যে দিদির সাথে সেই বন্যার দিনের সম্পর্ক আমার আজও রয়ে গেছে। আসলে সেই দিদির সাথে আমায় দেখা করিয়ে দিয়েছিল বর্তমান কাগজের সন্দীপন্দা। সেই গল্প অন্য একদিন।
 আজ শুধুই বন্যার কথা। এরপর সেই ট্রাক্টর থেকে নেমে গেলো ত্রিপল। রাস্তার পাশের অস্থায়ী ছাউনী তে তখন কচি একরত্তি দুধের শিশুর চিল চিৎকার। পেটের টানে। লজ্জা শরম কোনো ভাবে লুকিয়ে রাস্তার পাশে ঘর পাতা মা আড়াল করে ছেলেকে বুকের দুধ খাওয়াতে ব্যস্ত। বিচিত্র সব জলের ওপর নানা রঙের ছবি। এসবের মাঝেও কে ত্রান পাবে কত পাবে সেটা নিয়ে নেতাদের নানা মাতব্বরি। সত্যিই অসাধারন এই রাজার নীতি। না হলে কি আর এই সব রাজারা এই ভাবে কাটিয়ে দিতে পারত নিজেদের স্বার্থের জীবন শুধু একটু ক্ষমতা দেখিয়ে।
কিন্তু এসবের মাঝেও ঘর দুয়ার সব ভেসে গেছে বন্যার জলে। বাড়ির পেছনে নৌকো বা ডিঙ্গি বাঁধা আছে। এই বাড়ী থেকে বেরিয়ে দূরের বাড়িতে চলে যাওয়া নির্দ্ধিধায়। খাওয়া দাওয়া করা যেনো সবাই এই বিপদের দিনে একে অপরের পরম আত্মীয় স্বজন হয়ে গেছে। এই ভাবেই জড়িয়ে আঁকড়ে থাকার চেষ্টা একে অপরের সাথে। এ যেনো আমাদের শহরের ফ্ল্যাট বাড়ির শিক্ষা নয়। বিপদে পড়েছে জেনেও হাসি মুখে মুখ ঘুরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে চলে যাওয়া নয়। গ্রামের বন্যা একের সাথে অন্যর নিগূঢ় সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ করে দেয়। যে সম্পর্কে গরীব বড়লোকের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সবাই মিলে একসাথে সেই সময় প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করে বাঁচার চেষ্টা করে। যেখানে কোনো কৃত্রিমতা থাকে না। একে অপরের হাত ধরে টেনে রেখে চলতে শেখায়।
 সত্যিই অসাধারন এই বন্যার ভয়াল রূপ কেমন করে যে মানুষদের এই ভাবে একে অপরকে জড়িয়ে নিয়ে বেঁচে থাকার শিক্ষা দেয় সেটাই তো জীবনের সেরা উপহার। জলে ভেসে যাওয়া মানুষগুলো কেমন করে যেনো একটু একটু করে সবাই একে অপরের পরম আত্মীয় হয়ে যায়। বোধ হয় জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে এমন শিক্ষা লাভ করে তারা। 
জীবনের সবচেয়ে এই কঠিন দিনে কেমন করে যে সব মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় কে জানে। আজ বহুদিন পর, সকাল বেলায় জীবনের ফেলে আসা দিনের সেই সব জলে ভেজা স্মৃতির পাতায়, জল ফড়িং উড়ে এসে বসলো বহুদিন পর। যার ডানায় বৃষ্টির ছোঁয়া লেগে আছে। কেমন চুপটি করে সে বসে আছে। যে আনমনে আমায় মনে করিয়ে দিলো নানা ঘটনা, নানা কথা।
মোবাইলহীন জীবনের মাঝেও কত গভীর ভালোবাসা যে লুকিয়ে ছিল একসময়। যার কোনও ছবি নেই আমার কাছে। কিন্তু সেই পঁচিশ বছর আগের আমার হারিয়ে যাওয়া সাংবাদিক জীবনের কিছু ছবি আজ আমায় আবার ভিজিয়ে দিল এতদিন পরেও। আঁকাবাঁকা অক্ষরে জলে ভেজা রাস্তায় আঁকিবুঁকি অক্ষরে আমার ব্লগে কিছু কথা লিখে ফেললাম আমি।
 সবটাই তো সাদা জীবনের জলে ভেজা মেঠো রাস্তার কথা। যে রাস্তায় জোনাকির আলো আছে, যে রাস্তায় গভীর ভালোবাসা আছে, একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার প্রাণপণ চেষ্টা আছে, যে রাস্তায় সেই বেহুলা লখিন্দরের মত কলার ভেলায় ভেসে যাওয়া আছে। আজ এতদিন পর মনে হয় যদি আবার অমন করে ভেসে যেতে পারতাম আবার কি ভালই যে হতো। 

আরামবাগের বন্যা - অভিজিৎ বসু।
সাতাশে জুলাই, দু হাজার চব্বিশ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...