সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ইটিভির কোর্ট রিপোর্টার দীপক

সাদা হাফ শার্ট জামা আর সেই ওর কাঁধে একটা ঝোলা ঝুলছে। সাইড ব্যাগ। শান্তিনিকেতনের ঝোলা হবে বোধ হয়। ওর স্থির উজ্জ্বল দুটো চোখ আর গভীর দৃষ্টি। মুখে কাঁচা পাকা দাড়ি। খবরের দুনিয়ায় কাজ করেও একদম কোনো উত্তেজনাহীন একটা ব্যতিক্রমী চরিত্র এই বাংলা মিডিয়াতে। হাজার খবরের চাপেও একটা তাপ উত্তাপহীন একজন সাংবাদিক। যার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার খুব একটা তাড়া নেই যে। আদালত চত্বরে যে কোনো এজলাসে যার অনায়াস স্বচ্ছন্দ গতি। সেই আমার মনে পড়ে আদালতে ওর পকেটের মোবাইল বেজে উঠলে এজলাসে ওর মোবাইল কেড়ে নিল পুলিশ, আর যে হাসতে হাসতে বিচারপতিকে বলতে পারে আমার চাকরি যদি চলে যায় স্যার ,তার দায় থাকবে আপনার কিন্তু। আর এটা শুনে দীপকের পকেট থেকে নিয়ে নেওয়া মোবাইল ফেরত দিয়ে দেয় পুলিশ। এতদিন পরেও এই কথা মনে পড়ে গেলো যে।মহাকরণের সেই প্রেস কর্নার এর এক কোণে বসে যে একমনে জরিপ করে যাচ্ছে সবাইকে কারুর সাথে  বেশি কথা না বলেই। 

হ্যাঁ, এই রাতে আমার সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই বাংলা মিডিয়া থেকে একদম হারিয়ে যাওয়া উধাও হয়ে যাওয়া আজ আমাদের সেই কোর্ট দীপকের কথা। সেই ইটিভির  বিখ্যাত দীপক দাস। সেই বারাসাতের দীপক দাস। রাজ্য প্রথম শব্দ শহীদের নামও যে দীপক। যাকে এই বাংলা টিভি মিডিয়াতে শুধু কোনো ভাবে কোনো বিট না পেয়ে যাকে গ্যারেজ করার জন্য সেই কোর্ট চত্বরে পাঠানো হলো অনেক ভেবে আর চিন্তা করে। যাতে সারাদিন এদিক ওদিক করে কেটে যায় ওর একটা গোটা দিন। আর ওর চাকরিটাও থেকে যায়। আসলে আগেকার দিনের 
বসরা বোধহয় এইভাবেই অফিস এর কর্মীদের সুখ আর দুঃখের কথা ভাবতেন। চাকরি বাঁচিয়ে রেখে দিতেন। এখনকার মতো নয় আর কি।

 অফিসের একটা লোক থাকলো হাইকোর্ট এর চত্বরে পাহাড়া দিতে। আর সুবিধা হলো কিছুটা দীপককে সামলাতে হলো না তাদের। আর দীপকের সুবিধা হলো বেশ ঘুরে বেড়িয়ে হেসে খেলে দিব্যি সারাদিন কাটিয়ে ফিরে আসা গেলো অফিসে ঘেরা টোপে। যেটা সে পছন্দ করত না একদম। বাংলা টিভি চ্যানেলে কোর্ট বিট তখনও এত জনপ্রিয় হয়নি। সেই দীপক সকাল সকাল পার্ক স্ট্রীটের অফিস এসেই ব্যাগ কাঁধে চলে যেতো গঙ্গার ধারের সেই হাইকোর্টের পাড়ায় কোনো ক্যামেরা ছাড়াই। যে হাইকোর্টে তখন সে প্রথম রিপোর্টার হয়ে প্রবেশ করলো এই কোর্ট এলাকায় টিভিতে। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেলো এই হাইকোর্ট পাড়ায়। সেই বিকেল বেলায় ওর হাইকোর্ট এর লম্বা বারান্দায় ধীর পায়ে এই ঘর ওই  ঘর, ঘুরে ঘুরে খবর যোগাড় করতো দীপক। এটাই ছিল ওর সারাদিনের রোজনামচা।


এই কোর্টের গল্প তো অনেক পরের গল্প। দীপকের বিখ্যাত গল্প হলো ইটিভির চেয়ারম্যান রামোজি রাও কলকাতায় এসেছেন মিটিং করতে দু হাজার সাল হবে। সবার সাথে হবে চেয়ারম্যান এর সাক্ষাৎ আর মিটিং। সেই মিটিং নিয়ে বেশ উত্তেজনা আর টেনশন সবার মধ্যে। নতুন ইটিভি বাংলা চ্যানেলের সব কর্তা ব্যক্তিরা উপস্থিত কলকাতায়। সবার মুখে চাপা টেনশন। ঘন ঘন লুকিয়ে সিগারেট খেয়ে টেনশন চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা বসদের। সেই তাজবেঙ্গল এর ঝাঁ চকচকে হোটেলে সুন্দর পিচ্ছিল মেঝেতে আমি, আর আমাদের সব নতুন সাংবাদিকরা ঘুরে বেড়াচ্ছি আর অবাক চোখে দেখছি  আমি সেই বিখ্যাত তাজ বেঙ্গল হোটেলের রূপ মুগ্ধ হয়ে। কত খাবার,কত সুন্দর সুন্দর ফুল, কি সুন্দর সাজানো আছে সব। ঠিক যেনো স্বর্গের ইন্দ্রপুরী বোধহয় এমন হয় যেভাবে সাজানো গোছানো থাকে। যেখানে এই সব দৃশ্য দেখা যায়। আগে তো কোনোদিন এই জায়গায় আমি আসিনি তাই অবাক চোখে তিনহাজার তিনশো একচল্লিশ টাকা বেতনের সাংবাদিক এর তাজবেঙ্গল দর্শন। 

সাদা জামা, প্যান্ট পরে রামোজি রাও হলঘরে মিটিং রুমে ঢুকলেন একদম ঘড়ির সময় ধরে। আমরা সব উঠে দাঁড়িয়ে পড়লাম চেয়ারম্যান স্যার কে দেখে। আশীষ দা, অম্বরিশ দা, শুভাশীষ দা, সেই এস আর রামানুজন ডিরেক্টর নিউজ টুডের সবাই হাজির। এক এক করে পরিচয় পর্ব হলো সবার সাথে। যে যার কথা বলবে চ্যানেল এর কাজ নিয়ে। দীপক এর পালা এলো, সেই চেয়ারম্যান এর কাছে বলতে উঠে ওর বলে দেওয়া কোনো পরিকল্পনা নেই সেটার জন্য রিপোর্টারদের কাজের অসুবিধা হয় কলকাতায়। এইটুকু দীপকের ইংরিজিতে কথা শুনেই আশীষদার মাথায় তখন বাজ পড়েছে। কালো ফ্রেমের চশমার ফাঁক দিয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখছেন আশিষ দা। কি বলবেন সবার সামনে ভেবে পাচ্ছেন না তিনি। 

চেয়ারম্যান এক মনে শুনে যাচ্ছেন সব কথা আর দীপক অকুতোভয় হয়ে বলে যাচ্ছে গড় গড় করে। স্যার স্যার করে। কোনো রকম ভয় ভীতি নেই ওর। তারপর ওকে বুঝিয়ে সেই মিটিং রুম থেকে ওকে বের করে এনে সেই তীর্থঙ্কর বসু, এখন যে বিখ্যাত মিডিয়া ম্যানেজার বাংলার একনম্বর চ্যানেলের, যে নিজের কেরামতিতে অনেক ওপরে উঠে গেছে আজ। আর আমি দুজন মিলে ওকে আলিপুর থেকে একটা হলুদ ট্যাক্সি করে একপ্রকার জোর করে নিয়ে এলাম তিন নম্বর চৌরঙ্গী স্কোয়ারের সেই ইটিভির পুরোনো অফিসে। তখনও গাড়িতে বসেও দীপক বলে যাচ্ছে আরও একটু বলার ছিল তার চেয়ারম্যান স্যারকে। কিন্তু কিছুই যে বলা হলো না তার। আমি বললাম অনেক বলেছিস তুই আর দরকার নেই ভাই। কিন্তু দীপক নাছোড়বান্দা আর একটু বলতে পারলে ভালো হতো বুঝলি। এই বলে আমার দিকে তাকালো দীপক। খুব সম্ভবত সেই ট্যাক্সি তে তরুণকান্তি দাস ও ছিলেন। যিনি বর্তমান থেকে জেলার বস হয়ে এসেছিলেন ই টিভিতে। যে আমার ইটিভির কাজ পেতে সাহায্য করেন সব থেকে বেশি। 

আমাদের সেই ইটিভির প্রথম দিকে ও বোধহয় জেলা ডেস্ক এর কিছু কাজ করত দীপক। সেই রাতের আমার বাংলা বুলেটিন এর পরে ফেলে দেওয়া খবর নিয়ে সকাল সাতটার খবর তৈরি করে ঘরে ফিরত দীপক। পড়ে দীপক ধীরে ধীরে আদালত এর দিকে পা বাড়ায়। তাকে ওই জায়গায় কাজ দিয়ে অফিসও কিছুটা চাপ মুক্ত হয়, কারণ দীপককে অফিসে রেখে চাপে পড়তে চায়না অফিসের বসরা। যাই হোক কিন্তু এই বাংলা টিভি মিডিয়াতে হাইকোর্ট বিট এর প্রথম যে রিপোর্টার কাজ শুরু করেছে তার নাম হলো দীপক দাস। যে সারাদিন ঘুরে ঘুরে নানা মামলার খবর জোগাড় করে এনে সন্ধ্যা বেলায় সেই কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে অফিস ফিরে আসতো। তারপর সেই কম্পিউটার এ বসে  এক কাপ চা নিয়ে সেই খবর লেখা আর তারপর ব্যাগ ঝুলিয়ে ঘরে ফিরে যাওয়া সেই বারাসাতে। ওর মা অসুস্থ ছিলেন দীর্ঘদিন। সারাজীবন মা বাবাকে নিয়ে একাই জীবন কাটিয়ে দিলো দীপক। বোন এর বিয়ে দিল। ভাগ্নীর ডাক্তারি পড়াশোনার দায়িত্ব পালন করলো। এই ভাবেই গোটা জীবনটা কাটিয়ে দিলো সে।


 ধর্ম আর সেবা নিয়ে আর অন্য চিন্তা করে কাটিয়ে দিলো সাংবাদিক হয়েও অন্য একটা বিশেষ জীবন নিয়ে। বেশ একটা সুন্দর জীবনের দর্শন আঁকড়ে ধরে বেঁচে রইলো দীপক হেসে আর খেলে। যেটা আমরা ভাবতেই পারলাম না কোনোদিন। দু দিন আগে দীপক আমায় একটা নিজের ছবি পাঠাল কেরল এর এক মন্দির থেকে। ওর ছবি দেখে কত কিছুই যে মনে পড়ে গেলো আমার। কেরলের আয়াপ্পা মন্দির সেখানে লক্ষ্মী আরাধনায় একহাজার প্রদীপ জ্বেলে বিশেষ অনুষ্ঠান হয় প্রতি বছর। সেই অনুষ্ঠানে হাজির আমাদের সেই দীপক দাস। একদম বদলে গেছে ওর চেহারা। মুখের চেনা সেই দাড়ি নেই। মাথায় টুপি। বেশ একটা সুন্দর সাধক এর মুখের অবয়বের ছায়া দেখা গেছে যেনো ওর মুখে। সত্যিই কত মানুষ যে কি করে একটা গোটা জীবন কাটিয়ে দেয় কে জানে। 

সেই মহাকরণের অংশুদা, লাহিড়ী দা, তরুণ দা, শ্যামল দা, দীপক, কুন্ডু দা, রূপম দা, আরও কত যে সব ছিল পুরোনো লোকজন সব নাম মনে পড়ে না আর আজকাল আমার। সেই মির্জা গালিব স্ট্রীট এর সান্ধ্য অফিস। রাত নটার খবরের জন্য রিপোর্টারদের হুড়োহুড়ি ভি স্যাট রুমে। সেই মণীশ কুমার আর বেঁটে অমিতাভর চিরকালীন দ্বন্দ। সেই একাউন্টস এর পিয়ালির বর সন্দীপ, ইন্দ্রনীল আর আশীষ এর সুখের সংসার। কত যে পুরোনো স্মৃতি এই হেমন্তের ভোর বেলায় শিশিরে সিক্ত হয়ে ভেসে ওঠে কে জানে।

 সেই মহাকরণের প্রেস কর্ণারে পূজোর আগে মামার সাথে দীপকের ভাগ্নীর কলকাতা এসে বসে থাকা। সন্ধ্যায় কাজ সেরে ভাগ্নীকে নিয়ে ওর জামা কিনতে যাওয়া পার্কস্ট্রীট। আর রাতে ফেরার সময় বারাসাত স্টেশনে নেমে সমীরন পাল সেই ইটিভির সাংবাদিক এর সাথে সুখদুঃখের গল্প করে ঘরে ফেরা। এইতো দীপকের রোজনামচা। বর্তমানে সমীরন পাল এবিপিতে কর্মরত বড়ো মাপের এখনও ছুটে বেড়ানো দৌড়ে চলা এক বিখ্যাত সাংবাদিক।আমার মত  টোটো চালিয়ে ঘুরে বেড়ানো জীবন নয় কারুর। 

হয়তো দীপক খুব বড় মাপের সাংবাদিক হতে পারে নি কোনোদিন। কিন্তু আদালত চত্বরে ওর যে এই ঘোরা ফেরা, ওর যে যোগাযোগ সেটা যদি এই ইটিভির অল্প কয়েক ঘণ্টার চ্যানেল না হয়ে চব্বিশ ঘণ্টার চ্যানেল হতো তাহলে বোধহয় দীপক বুঝিয়ে দিত হাইকোর্ট বিটে কাজ করা রিপোর্টার এর দম কত আছে ওর। কিন্তু দীপক সেই দৌড়ে যে সামিল হতে রাজি নয় কিছুতেই। যাই হোক বাংলা মিডিয়াতে সহবত শেখাতে আর অফিস এর বাবুরা এই আদালত কেই বেছে নেয়। তাই দীপককে গঙ্গার হাওয়া খেতে হাইকোর্ট পাঠানো হয়। আর সে তার বিন্দাস এলোমেলো এলেবেলে জীবন নিয়ে হাইকোর্টে বিচারপতিদের সাথে যোগাযোগ আর সুসম্পর্ক রেখে ভালো ভালো খবর করে দিব্যি কাটিয়ে দেয় ওর সাংবাদিক জীবন না দৌড়ে কারুর সাথে না প্রতিযোগিতা করেই। 

আবার সেই বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক ধ্রুবজ্যোতি প্রামাণিককে সহবত শেখাতে আর শিক্ষা দিতে হাইকোর্টের আর গঙ্গার হাওয়া খেতে পাঠিয়ে দেয় তার এক নম্বর চ্যানেলের সেই সবার স্বপ্নের সেই বিখ্যাত অফিস এর বাবুরা। সেও দিব্যি গঙ্গার হাওয়া খেয়ে আদালতের খবর করে, বাংলা টিভি চ্যানেলে যে গুরুত্ব পূর্ণ বিট হতে পারে এই আদালত সেটা প্রমাণ করে দিয়ে সে দিল্লী আর মুম্বাই পৌঁছে গেছে আজ । অনেক অনেক ওপরে উঠে গেছে সে এই আদালতের সিঁড়ি বেয়ে গড় গড় করে।

 কিন্তু দীপক সেই সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে পারেনি বা চায়নি উঠতে নিজেই। ওর যে জীবনের দর্শনটা একটু আলাদা। কিন্তু বাংলা টিভি মিডিয়াতে আদালতকে একটা খবরের জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে কিন্তু এই আমাদের হারিয়ে যাওয়া দীপক দাস। যে সেই রাতে ট্রেন ধরে ঝুলতে বারাসাত ফিরে যেতো হাসি মুখে। আবার পরদিন অফিস চলে আসতো ঘড়ির সময় ধরে। আসলে ওর সেই কেরলের মন্দিরের আর ওর ছবি দেখে এত কিছু মনে পড়ে গেলো আমার। 

যার সাথে আমিও দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি এই সাংবাদিক জীবনে। যে শুধু এটা বুঝেছিল জীবন মানে শুধুই দৌড়ে একে অপরকে টপকে ওপরে উঠে যাওয়া নয়। আর শুধু ছুটে বেড়ানো নয়। জীবন, জীবনের ভাবনা দর্শন উদ্দেশ্য তো আরও অন্য কিছুর জন্য বাঁচা। যে ভাবনার মাঝে চিন্তার মাঝে কামারপুকুরের মঠের সেই সন্ধ্যার আরতি, ঘন্টা ধ্বনি, মন্ত্র পাঠ লুকিয়ে থাকে। সেই ভাবনার মধ্য কেরলের মন্দির এর সেই প্রদীপ প্রজ্বলনের সেই সন্ধ্যার অনুভূতি হাতছানি দেয়। যাকে আঁকড়ে দীপক বেশ দিব্যি সুখেই হাসি মুখে আজ বেঁচে আছে। ওর মতো জীবনের এই দর্শন নিয়ে যদি আমিও বাঁচতে পারতাম। তাহলে কি ভালো যে লাগতো আমার। 

ইটিভির কোর্ট রিপোর্টার দীপক - অভিজিৎ বসু।
বিশে অক্টোবর, দু হাজার চব্বিশ।
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভোটের সকাল

ঘুম ভাঙলো বেলায় ভোটের দিনের ঘুম বলে কথা। একদম ঠিক কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে আমার বিছানায় শুয়ে এই পাশ আর ওই পাশ করা। ভোর বেলায় দু চোখে জ্বালা নিয়ে বিছানায় এলাম সারারাত বউকে ছেড়ে মোবাইলকে আঁকড়ে ধরে রাত্রি যাপন আমার। সেই রিলের নেশা, মোবাইল জুড়ে নানা রকম এর ছবির নেশায় বুঁদ আচ্ছন্ন আমি। সেই মোবাইল এর রাজ্য ছেড়ে ঘুম এর দেশে চলে যাওয়া আমার ভোর এর আলো গায়ে মেখে।  বাইরে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। মেঘের আড়ালে সুয্যি মামা মুখ লুকিয়েছেন আজ ভোটের দিনে কিছুটা লজ্জায়। বাইরে সব কেমন চুপচাপ যেনো। মাথার ওপর হালকা করে ফ্যান চলছে। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। আমি বিছানায় শুয়ে চাদরটা মুড়ি দিয়ে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। পাশের ফ্ল্যাটের ঘরে সব কলকল করে ফিরে এলো ভোট দিয়ে যেনো যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরে আসা ওদের। চারদিকেই ভোট দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে আজ।  ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে শ্রীরামপুর এর ফোন কলকাতার সোনারপুরের এক আত্মীয়কে ভোট হয়ে গেছে তাঁর। বৃষ্টি টিপটিপ আর ঝির ঝির হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে। আর হ্যাঁ পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে দর্শনা ভোট দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের বাড়ী গেছে...

ফুল্লরা আদি শক্তির পীঠস্থান

ফুল্লরা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার লাভপুর শহরের কাছে একটি মন্দির কেন্দ্রিক জনপদ। এটি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি হিন্দু তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র।বীরভূমের এই লাভপুরের ফুল্লরা মন্দির লোকবিশ্বাস অনুসারে, ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটটি পড়েছিল। এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন সেই ত্রেতা যুগে। ফুল্লরা ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে কথিত আছে। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায় সুলতান মাহমুদ গজনভির ভারত আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কনৌজ থেকে বিতারিত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মণরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন। তাঁদের কয়েকজনকে দেবী ফুল্লরার পুজোর জন্য নিজের জন্মভূমি সিদ্ধলগ্রাম বা শিতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মণ রাজের মহা সন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট। যাতায়াত-সহ অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় ওই পুজারীরা ফুল্লরা মন্দির সংলগ্ন বাকুল, ফ...

বিখ্যাত পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত দা

সেই কলকাতা শহরে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা যে বাংলার বিখ্যাত এক সাংবাদিক প্রথম কাগজে লিখে হৈচৈ ফেলে দিলেন।সেই সুজেট জর্ডান ২০১২ সালে গণধর্ষণের শিকার হন যিনি। ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে সন্ধ্যায়, জর্ডান পার্ক স্ট্রিটের একটি নাইটক্লাবে প্রথমবারের মতো পাঁচজন যুবকের (কাদের খান, মোঃ আলী, নাসির খান, রুমান খান এবং সুমিত বাজাজ) সাথে দেখা করে , যারা তাকে যাওয়ার সময় বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাঁচজন তাকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ করে এবং পরে কলকাতা ক্লাবের বিপরীতে এক্সাইড ক্রসিংয়ের কাছে ফেলে দেয়। ভোর ৩.৩০ টার দিকে, সে বেহালায় তার বাসভবনে একটি ট্যাক্সিতে ওঠে ।  যদিও মিডিয়া এবং পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর নাম গোপন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল, যেমনটি ভারতে প্রচলিত , পরে তিনি জনসমক্ষে ৩৭ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ করেন, যাতে অন্যান্য জীবিতদের কথা বলতে উৎসাহিত করা যায়। আরে এই খবর সবার প্রথম তাঁর কাগজের প্রথম পাতায় লিখে যে সাংবাদিক হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিলেন সেই বিখ্যাত দাপুটে পুলিশ রিপোর্টার জয়ন্ত মজুমদার এর কথা আজ আমার সাদা জীবনের কা...

সেই ২৪ ঘণ্টার ইন্টার্ন রোশনী

'এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলোনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো।'.....  শক্তি চট্টোপাধ্যায়  এই কবিতার লাইন লিখে পোস্ট করেছিল ও একদিন। সেই কতদিন আগের সেই পোস্ট ফিরে এলো হঠাৎ করেই আজ ফেসবুকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো কারুর জন্য। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সেই পোদ্দার কোর্টের ২৪ ঘণ্টার অফিসে। ইন্টার্নশিপ করতে এলো ও একঝাঁক উজ্জ্বল ছেলেমেয়ের সাথে।  সেই ওর মিষ্টি হাসি। মিষ্টি ব্যবহার। সুন্দর ঝাঁ চকচকে একটা মিডিয়ার জীবন তৈরি করতে আসা ওর। সেই ২৪ ঘণ্টার বাংলার সেই আমলে বিখ্যাত দু নম্বর চ্যানেলে কাজ শিখে সার্টিফিকেট নিয়ে কাজের দরজা খুলে রাখা। আর জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। আর তার জন্য বিনা বেতনে কাজ শিখতে আসা এই নানা বাংলা মিডিয়ায় ইন্টার্নদের। আর কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়ে যাওয়া সেই হাউসের নানা সাংবাদিক এর সাথে।  কেমন একটা স্বপ্নের জগতে বিচরণ করা যেনো। হাত বাড়ালে স...

চেনা পথের পথিক

সাদা জীবনের কালো কথায় আজ সেই সেক্টর ফাইভ এর চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুঁজে বেড়ানো আমার গন্তব্যের নতুন ঠিকানা। সত্যিই কতদিন পর যে এই কলকাতা দেখলাম আমি গ্রাম থেকে এসে। সেক্টর ফাইভ এর সেই চেনা পথ, চেনা ফুটপাথ দেখলাম কত দিন পরে। সেই চেনা রাস্তা ধরে এগোলাম কত দিন পর। সেই কলেজ মোড়, ওয়েবেল মোড়, সেই চা, মুড়ি, ভাতের সারি সারি চেনা দোকান পাট লোকজন সব ঠিক আছে যে যার নিজের মতই ছুটে বেড়াচ্ছে তারা।  সেই বহু দিন অফিস করা সব চেনা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো সত্যিই কংক্রিটের এই বিশাল এক একটি বাড়ির মাঝে ঠাণ্ডা কাচ ঘেরা সুন্দর সুন্দর সব অফিস। সেখানে কাজের ব্যস্ততা অনেক। সেজে গুজে সব সুন্দর সুন্দর মানুষ জন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা যেনো সবাই অন্য গ্রহের মানুষ ওরা। নিজেকে বড় বেমানান লাগলো আমার সেখানে। কেমন যেনো বিসদৃশ আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার ইন্টারভিউ এর স্থান। প্রখর রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি তবু চেনা রাস্তা পার হয়ে অচেনা অজানা জায়গায় হাজির হয়ে সেই নতুন ঠিকানার আমার বাড়ি খোঁজার নিরন্তর মরিয়া চেষ্টা। ঠিক যেনো কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মতই এদিক ওদ...